জমঈয়তে আহলে হাদীস হুগলী

  • Home
  • India
  • KOLKATA
  • জমঈয়তে আহলে হাদীস হুগলী

জমঈয়তে আহলে হাদীস হুগলী জমঈয়তে আহলে হাদীস হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ,ভারত

27/01/2026

SIR ফিতনাহ: আমাদের করণীয়
মোঃ তাজাম্মুল হক সালাফী
​إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ، مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ
مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، أَمَّا بَعْدُ فَأَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
​ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ

​ভূমিকা: আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে মানুষকে হিদায়াত তথা সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার এবং আখেরাতের শাস্তির ভয় দেখানোর জন্য যেমন নাবী ও রসূলদেরকে প্রেরণ করেছেন তেমনী তাদেরকে শাস্তিও প্রদান করেছেন। নাবী ও রসূলদের ইতিহাস ও অবাধ্য জাতির শাস্তির ঘটনাক্রম আজও দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। সেখান থেকেই আমাদেরকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
​শাস্তি মূলতঃ দুই প্রকার:
ক) সম্পূর্ণ বিনাশ বা ধ্বংস: বিগত ছয়টি জাতি আদ, সামুদ, কওমে নূহ, কওমে ফেরাউন, আসহাবে আয়কাহ এবং কওমে লুতকে তাদের সীমাহীন পাপের কারণে তাদেরকে সমূলে বিনাশ করা হয়েছিল। তারা খালিক অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার হক নষ্ট করেছিল এবং মাখলুক অর্থাৎ বান্দারও হক নষ্ট করেছিল। সর্বোপরি তাদের সংশোধনের জন্য তাদের নিকটে আগত নাবী ও রসূলগণকে অস্বীকার করেছিল।
খ) সম্পূর্ণ বিনাশ নয় কিন্তু সাময়িক শাস্তি প্রদান: আল্লাহ তাআলা তাঁর অবাধ্য বান্দাদেরকে এই পৃথিবীতে কিছু কিছু শাস্তি দেন যেন তারা সঠিক পথে ফিরে আসে। যেমন মহামারী, বন্যা, খরা, মানসিক ও সামাজিক বিপর্যয়, পরাজয় ও সংঘাত, নিয়ামত হারানো, রোগ ও মহামারী, একের পর এক দুশ্চিন্তা, বরকত নষ্ট হওয়া, মতবিরোধ, হৃদয়ের কাঠিন্য, প্রার্থনা কবুল না হওয়া এবং ব্যাপক ধ্বংস ও বিপর্যয়। এই ধরণের শাস্তিতে আক্রান্ত জাতি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয় না। এই শাস্তিগুলো মানবজাতির জন্য একটি শিক্ষা ও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। এগুলো চূড়ান্ত শাস্তি নয়, বরং পরকালের পূর্বে একটি পরীক্ষা বা সতর্কবার্তা।
​বর্তমানে সারা বিশ্বে নানান ধরণের বিপর্যয় এখন মানুষের নিত্য সঙ্গী। কয়েক বছর পূর্বে কোভিড নামের মহামারি সারা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। ফিলহাল পশ্চিমবাংলার মুসলিমদের সামনে এস আই আর (SIR) নামের এক আতঙ্ক হাজির। যা শিক্ষিত অশিক্ষিত সবার ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সকলেই ভীষণভাবে আতঙ্কিত ও সন্ত্রস্ত্র। বক্ষমান প্রবন্ধে বিপর্যয়ের সময়ে আমাদের করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করা হবে, ইন শা আল্লাহ।
​সম্পূর্ণ বিনাশ নয় এমন দুনিয়াবী আযাবের কারণঃ
​১) কৃতকর্ম অর্থাৎ পাপের শাস্তি: আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ (30)
"তোমাদের উপর যে বিপদ আসে, তা তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল এবং তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন।" (সূরা শুরাঃ ৩০)
​২) হিদায়াতের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য শাস্তি প্রদান: আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে হিদায়াতের পথে ফিরিয়ে আনার জন্যে এবং তাঁদের ঈমানকে মজবুত করার জন্য কখনো কখনো দুনিয়াতেও কিছু কিছু শাস্তি দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ (41)
"মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও সমুদ্রে ফাসাদ প্রকাশ পায়। যার ফলে আল্লাহ তাদের কিছু কিছু কৃতকর্মের স্বাদ তাদেরকে আস্বাদন করান, যাতে তারা তাওবা করে বা ফিরে আসে।" (সূরা রুমঃ ৪১)
​ভাবার্থ: অত্র আয়াত দুটি থেকে বোঝা যায় যে, মানুষের পাপ কর্মের কারণে আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদেরকে পার্থিব জগতে কিছু কিছু শাস্তি দেন যেন বান্দা পাপ কর্ম পরিত্যাগ করে পুনরায় আল্লাহর পথে ফিরে আসে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে।
​৩) বান্দাদের ঈমান পরীক্ষা করা জন্য শাস্তি: আল্লাহ তাআলা বলেন:
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ (35)
ক) প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং আমি তোমাদেরকে ভালো ও মন্দ দ্বারা পরীক্ষা করব এবং আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। (সূরা আম্বিয়া: ৩৫)
​وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ * الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ * أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ
খ) আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির ক্ষতির মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা, তাদেরকে যখন বিপদ আক্রান্ত করে, তখন বলে: নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। তাদের উপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত। (সূরা বাক্কারা-১৫৫-১৫৭)
​وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى أُمَمٍ مِنْ قَبْلِكَ فَأَخَذْنَاهُمْ بِالْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ لَعَلَّهُمْ يَتَضَرَّعُونَ [الأنعام: 42]
গ) আর আমরা তোমার পূর্ববর্তী জাতিগুলোর কাছেও রসূল পাঠিয়েছিলাম এবং তাদেরকে দুঃখ-কষ্ট ও দুর্দশা দিয়ে পাকড়াও করেছিলাম, যাতে তারা বিনয়ী হয়। (সূরা আল-আনআমঃ ৪২)
​أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ (2) وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ (3)
ঘ) মানুষ কি মনে করে যে, 'আমরা ঈমান এনেছি'- এই কথা বলার পরেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না? অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদেরও অবশ্যই পরীক্ষা করেছি। আল্লাহ অবশ্যই স্পষ্ট করতে চান- কারা সত্যবাদী এবং কারা মিথ্যাবাদী। (সূরা আনকাবুতঃ ২-৩)
​৪) পাপের প্রায়শ্চিত্ত এবং মর্যাদার উন্নতির জন্য।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ قَالَ: «مَا يُصِيبُ المُسْلِمَ، مِنْ نَصَبٍ وَلَا وَصَبٍ، وَلَا هُمْ وَلَا حُزْنٍ وَلَا أَذًى وَلَا غَمَ، حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا، إِلَّا كَفَرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ» رواه البخاري.
ক) আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নাবী করীম স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেন: "কোনো মুসলমানের উপর কোনো ক্লান্তি, অসুস্থতা, উদ্বেগ, দুঃখ, কষ্ট বা বিপদ আপতিত হলে, এমনকি কাঁটার আঘাত লাগলেও, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার কিছু গুনাহ ক্ষমা করে দেন।" (বুখারী-৫৬৪১)
​عَنْ أَنَسِ بْنِ মَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " إِنَّ اللَّهَ قَالَ: إِذَا ابْتَلَيْتُ عَبْدِي بِحَبِيبَتَيْهِ فَصَبَرَ، عَوَّضْتُهُ مِنْهُمَا الجَنَّةَ رواه البخاري.
খ) আনাস ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী করীম স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: আল্লাহ বলেছেন: 'যদি আমরা আমার বান্দাকে তার দুটি প্রিয় বস্তুর (তার চোখ দুটির) ক্ষতি দিয়ে পরীক্ষা করি এবং সে ধৈর্য ধারণ করে, তবে আমরা তাকে জান্নাতের মাধ্যমে এর প্রতিদান দেবো।' (বুখারী: ৫৬৫৩)
​قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ، إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ، وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ، إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ، فَكَانَ خَيْرًا لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ، صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ رواه مسلم.
গ) আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেন: মুমিনের অবস্থা কতই না চমৎকার! তার সমস্ত কাজই কল্যাণকর, আর এমনটি মুমিন ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে হয় না। যদি সে সুখ ও সমৃদ্ধি লাভ করে, তবে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, আর এটা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি সে দুঃখ-কষ্ট ও বিপদে পতিত হয়, তবে সে ধৈর্য ধারণ করে, আর এটাও তার জন্য কল্যাণকর।" (মুসলিমঃ ২৯৯৯)
​عَنْ أَنَسٍ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِهِ الخَيْرَ عَجَّلَ لَهُ العُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا، وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِهِ الشَّرَّ أَمْسَكَ عَنْهُ بِذَنْبِهِ حَتَّى يُوَافِيَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
ঘ) আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বলেছেন: যখন আল্লাহ তাঁর কোনো বান্দার জন্য কল্যাণ চান, তখন তিনি দুনিয়াতেই তার শাস্তি ত্বরান্বিত করেন। আর যখন আল্লাহ তাঁর কোনো বান্দার জন্য অকল্যাণ চান, তখন তিনি তার পাপের শাস্তি কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থগিত রাখেন।" (তিরমিযী-২৩৯৬, হাসান স্বহীহ-আলবানী)
​عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: «عِظَمُ الْجَزَاءِ مَعَ عِظَمِ الْبَلَاءِ، وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ قَوْمًا ابْتَلَاهُمْ، فَمَنْ رَضِيَ فَلَهُ الرّضا، وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السُّخْطُ
ঙ) আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম) বলেছেন: বিপদ যত বড় পুরুস্কার তত বড়। নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন কোনো জাতিকে ভালোবাসেন, তখন তিনি তাদের পরীক্ষা করেন। সুতরাং যে ব্যক্তি পরীক্ষায় সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য রয়েছে সন্তুষ্টি, আর যে অসন্তুষ্ট হয়, তার জন্য রয়েছে অসন্তুষ্টি।” (ইবনু মাজাহ-৪০৩১, হাসান-আলবানী)
​عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذا اشْتَكَى الْمُؤْمِنُ أَخْلَصَهُ اللَّهُ كَمَا يُخَلَّصُ الْكِيرُ خَبثَ الحَديدِ
চ) আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নাবী করীম স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেন: যখন কোনো মুমিন অসুস্থ হয়, তখন আল্লাহ তাকে পাপ থেকে এমনভাবে পবিত্র করেন, যেমন হাপর লোহা থেকে ময়লা দূর করে তাকে বিশুদ্ধ করে। (আদাবুল মুফরাদ-৪৯৭, স্বহীহা-১২৫৭)
​عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا يَتَمَنَّى أَحَدُكُمُ المَوْতَ إِمَّا مُحْسِنًا فَلَعَلَّهُ يَزْدَادُ، وَإِمَّا مُسِينًا فَلَعَلَّهُ يَسْتَعْتِبُ رواه البخاري.
ছ) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম) বলেছেন: " তোমাদের কেউ যেন (বিপদের কারণে) মৃত্যুর কামনা না করে। যদি সে সৎকর্মশীল হয়, তবে হয়ত সে আরও নেক আমল করার সুযোগ পাবে, আর যদি সে পাপী হয়, তবে হয়ত সে তওবা করার সুযোগ পাবে।" (বুখারী-৭২৩৫)
​৫) ঈমানের কোয়ালিটি অনুযায়ী পরীক্ষা কঠোর হয় অর্থাৎ যার যত ঈমান বেশি মজবুত তার পরীক্ষা তত বেশি কঠিন।
আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেন—
عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصٍ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءً؟
قَالَ: «الْأَنْبِيَاءُ، ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ، يُبْتَلَى الْعَبْدُ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ، فَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ صُلْبًا، اشْتَدَّ بَلَاؤُهُ، وَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ رِقَةً، ابْتُلِيَ عَلَى حَسَبٍ دِينِهِ، فَمَا يَبْرَحُ الْبَلَاءُ بِالْعَبْدِ، حَتَّى يَتْرُكَهُ يَمْشِي عَلَى الْأَرْضِ، وَمَا عَلَيْهِ مِنْ خَطِيئَةٍ
সা'দ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "হে আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম, মানুষের মাঝে কারা সবচেয়ে বেশি বালা-মুসীবতে নিপতিত হন? জবাবে তিনি বলেন, " নাবীগণ আলাইহিমুস সালাম। তারপর যিনি উত্তম ব্যক্তি। তারপর যিনি উত্তম ব্যক্তি। বান্দাকে তার দ্বীন অনুপাতে পরীক্ষা করা হয়। আল্লাহর বান্দাদের বিপদাপদ লেগেই থাকে, এভাবে এক পর্যায়ে এমন হয় যে, সে যমিনে হাঁটে, তার উপর একটি পাপও অবশিষ্ট থাকে না।” (ইবনু মাজাহ-৪০২৩, স্বহীহ-আলবানী)
​৬) আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামের যে দুআটি গৃহীত হয়নি:
سَأَلْتُ رَبِّي ثَلَاثًا، فَأَعْطَانِي ثِنْتَيْنِ وَمَنَعَنِي وَاحِدَةً، سَأَلْتُ رَبِّي : أَنْ لَا يُهْلِكَ أُمَّتِي بِالسَّنَةِ فَأَعْطَانِيهَا، وَسَأَلْتُهُ أَنْ لَا يُهْلِكَ أُمَّتِي بِالْغَرَقِ فَأَعْطَانِيهَا، وَسَأَلْتُهُ أَنْ لَا يَجْعেলَ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ فَمَنَعَنِيهَا
"আমরা আমার রবের কাছে তিনটি জিনিস চেয়েছিলাম, এবং তিনি আমাকে দুটি দান করেছেন ও একটি দেননি। আমি আমার রবের কাছে চেয়েছিলাম যে, তিনি যেন আমার জাতিকে দুর্ভিক্ষ দ্বারা ধ্বংস না করেন, এবং তিনি আমাকে তা দান করেছেন। আমি তাঁর কাছে চেয়েছিলাম যে, তিনি যেন আমার জাতিকে ডুবিয়ে ধ্বংস না করেন, এবং তিনি আমাকে তাও দান করেছেন। আর আমি তাঁর কাছে চেয়েছিলাম যে, তিনি যেন তাদের নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ না ঘটান, কিন্তু তিনি আমাকে তা থেকে বঞ্চিত করেছেন।" (মুসলিমঃ ২৮৯০)
​والثالثة هي ألا يجعل بأسهم بينهم، أي: ألا يقع بينهم فرقةً وقتال تُهلكهم وتُضعফهم، والبأس الحروب والفتن، «فمنعنيها» لم يُجبه الله عز وجل في تلك الدعوة؛ لكونها مخالفة لقضائه المُبْرَم ومشيئته التي لا يُسأَلُ عنها،
"তৃতীয় অনুরোধটি ছিল যে, তিনি যেন তাদের মধ্যে কোনো সংঘাত সৃষ্টি না করেন, অর্থাৎ তাদের মধ্যে এমন কোনো বিভেদ বা বিবাদ যেন না ঘটে যা তাদের ধ্বংস ও দুর্বল করে দেবে। এখানে 'সংঘাত' বলতে আপস যুদ্ধ এবং কলহকে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু তিনি আমার এই প্রার্থনা মঞ্জুর করেননি,” অর্থাৎ সর্বশক্তিমান আল্লাহ সেই প্রার্থনার উত্তর দেননি, কারণ তা তাঁর অপরিবর্তনীয় বিধান এবং ইচ্ছার পরিপন্থী ছিল, যে বিষয়ে প্রশ্ন করার অনুমতি নেই।
বোঝা গেল যে, মুসলিমদের আপস ঝগড়া বিবাদ পাপের কারণে লেগেই থাকবে। যার পরিণামে তারা বহুমুখী বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।
​শাস্তির ধরণ: আল্লাহ তাআলা বলেন-
​১) আকাশের শাস্তি, যমীনের শাস্তি, পারস্পারিক দ্বন্দ্বঃ
قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِنْ فَوْقِكُمْ أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ انْظُرْ كَيْفَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ لَعَلَّهُمْ يَفْقَهُونَ (65)
বলো, "তিনি তোমাদের উপর থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নীচ থেকে তোমাদের উপর শাস্তি পাঠাতে সক্ষম, অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দিতে এবং তোমাদেরকে একে অপরের সংঘাতের স্বাদ আস্বাদন করাতে সক্ষম।” দেখো, আমি কিভাবে নিদর্শনগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করি, যাতে তারা বুঝতে পারে। (আল আনআম: ৬৫)
​২) শত্রুরা একে অপরকে মুসলিমদেরকে হত্যা করার জন্য আহ্বান করবে:
عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُوشِكُ الْأُمَمُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الْأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا» ، فَقَالَ قَائِلٌ: وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ؟
قَالَ: «بَلْ أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ، وَلَكِنَّكُمْ غُثَاءٌ كَغْثَاءِ السَّيْلِ، وَلَيَنْزَعَنَّ اللَّهُ مِنْ صُدُورِ عَدُوَكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ، وَلَيَقْذِفَنَّ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهْنَ ، فَقَالَ قَائِلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا الْوَهْنُ؟
قَالَ: «حُبُّ الدُّنْيَا، وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ»
সাওবান রাযিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেনঃ খাদ্য গ্রহণকারীরা যেভাবে খাবারের পাত্রের চতুর্দিকে একত্র হয়, অচিরেই বিজাতিরা তোমাদের বিরুদ্ধে সেভাবেই একত্রিত হবে। এক ব্যক্তি বললো, সেদিন আমাদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণ কি এরূপ হবে? তিনি বললেনঃ তোমরা বরং সেদিন সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে কিন্তু তোমরা হবে প্লাবনের স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মতো। আর আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের পক্ষ থেকে আতঙ্ক দূর করে দিবেন, তিনি তোমাদের অন্তরে আল-অহান বা ভীরুতা ভরে দিবেন। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! 'আল-অহন' কি? তিনি বললেনঃ দুনিয়ার মোহ এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা। (আবু দাঊদ-৪২৯৭, স্বহীহ-আলবানী)
​৩) যালিম রাজা বাদশাহর নিযক্তিকরণের মাধ্যমে শাস্তি:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: أَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: " يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ خَمْسٌ إِذَا ابْتُلِيتُمْ بهِنَّ، وَأَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ تُدْرِكُوهُنَّ لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ، حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا، إِلَّا فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ، وَالْأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلَافِهِمُ الَّذِينَ مَضَوْا، وَلَمْ يَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ، إِلَّا أُخِذُوا بِالسِّنِينَ، وَشِدَّةِ الْمَنُونَةِ، وَجَوْرٍ السُّلْطَانِ عَلَيْهِمْ، وَلَمْ يَمْنَعُوا زَكَاةَ أَمْوَالِهِمْ، إِلَّا مُنِعُوا الْقَطْرَ مِنَ السَّمَاءِ، وَلَوْلَا الْبَهَائِمُ لَمْ يُمْطَرُوا، وَلَمْ يَنْقُضُوا عَهْدَ اللَّهِ، وَعَهْدَ رَسُولِهِ، إِلَّا سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ، فَأَخَذُوا بَعْضَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ، وَمَا لَمْ تَحْكُمْ أَئِمَّتُهُمْ بِكِتَابِ اللَّهِ، وَيَتَخَيَّرُوا مِمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ، إِلَّا جَعَلَ اللَّهُ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ
আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বলেনঃ হে মুহাজিরগণ! তোমরা পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। তবে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন তোমরা তার সম্মুখীন না হও। যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী আকারে প্লেগরোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকেদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। যখন কোনো জাতি ওযন ও পরিমাপে কারচুপি করে, তখন তাদের উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, শাসকের তরফ থেকে অত্যাচার কঠিন বিপদ-মুসীবত এবং যখন যাকাত আদায় করে না তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়। যদি ভূ-পৃষ্ঠে চতুস্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকতো তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হতো না। যখন কোনো জাতি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখন আল্লাহ তাদের উপর তাদের বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতাশীন করেন এবং সে তাদের সহায়-সম্পদ কেড়ে নেয়। যখন তোমাদের শাসকবর্গ আল্লাহর কিতাব মোতাবেক মীমাংসা করে না এবং আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানকে গ্রহণ করে না, তখন আল্লাহ তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেন। (ইবনু মাজাহ-৪০১৯)
​৪) ব্যাপক আযাব বা শাস্তি: যখন পাপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে, তখন আযাব ও শাস্তি মুমিন ও কাফির সবাইকে গ্রাস করবে।
عَنْ زَيْنَبَ بِئْتِ جَحْشٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُنَّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، دَخَلَ عَلَيْهَا فَرْعًا يَقُولُ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرَ قَدِ اقْتَرَبَ، فُتِحَ اليَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ মִثْلُ هَذِهِ» وَحَلَّقَ بِإِصْبَعِهِ الْإِبْهَامِ وَالَّتِي تَلِيهَا، قَالَتْ زَيْنَبُ بِئْتُ جَحْشِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ : أَتَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ؟
قَالَ: «نَعَمْ إِذَا كَثُرَ الخَبَثُ
যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, একদা নাবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় তাঁর কাছে আসলেন এবং বলতে লাগলেন, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আরবের লোকদের জন্য সেই অনিষ্ঠের কারণে ধ্বংস অনিবার্য যা নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর এ পরিমাণ খুলে (ছিদ্র হয়ে) গেছে। এ কথার বলার সময় তিনি তাঁর বৃদ্ধাংগুলির অগ্রভাগকে তাঁর সাথের শাহাদাতে আঙ্গুলের অগ্রভাগের সাথে মিলিয়ে গোলাকৃতি করে ছিদ্রের পরিমাণ দেখান। যায়নাব বিনতে জাহাশ রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তখন আমরা বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে নেক ও পুণ্যবান লোকজন বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ যখন পাপাচার অধিক মাত্রায় বেড়ে যাবে (তখন অল্প সংখ্যক নেক লোকের বিদ্যমানেই মানুষের ধ্বংস নেমে আসবে)।
​আল্লাহর অনুমিত ব্যতীত শাস্তি ও বিপর্যয় আসে নাঃ
আল্লাহ তাআলা বলেন—
مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ (11)
ক) আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদ আসে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখে, তিনি তার হৃদয়কে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। (সূরা তাগাবুন- ১১)
​আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কেউ বিপদ ও বিপর্যয় অপসারণ করতেও পারবে না:
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلْ أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ أَرَادَنِيَ اللَّهُ بِضُرٍ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِهِ أَوْ أَرَادَنِي بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ قُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكَّلُونَ (38)
ক) আর যদি তুমি তাদের জিজ্ঞাসা করো, "আসমান ও যমিন কে সৃষ্টি করেছেন?" তারা নিশ্চয়ই বলবে, "আল্লাহ।" বলো, "তোমরা কি তাদের কথা ভেবে দেখেছ, যাদেরকে তোমরা আল্লাহ ছাড়া ডাকো? আল্লাহ যদি আমার কোনো ক্ষতি করতে চান, তবে তারা কি তাঁর ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি যদি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চান, তবে তারা কি তাঁর অনুগ্রহকে আটকে রাখতে পারবে?" বলো, "আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট; তাঁর উপরই ভরসাকারীরা ভরসা করে।" (সূরা যুমার-৩৮)
​وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِنْ يَمْسَسْكَ بِخَيْرٍ فَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (17)
খ) যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো কষ্ট দেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই; এবং যদি তিনি তোমার প্রতি কোনো কল্যাণ সাধন করেন, তবে তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। (সূরা আলআনআম: ১৭)
​আযাবে এলাহি থেকে মুক্তির উপায়: মনে রাখবেন আযাবে এলাহি বা আল্লাহর শাস্তির দুটি দিক।
এক) আভ্যন্তরীণ দিক: আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও ক্রোধ। যা মূলতঃ পাপের কারণেই হয়।
দুই) বাহ্যিক দিক: যালিম বাদশাহ, অত্যাচারী শাসক, পক্ষপাত মূলক বিচার, মানসিক দুশ্চিন্ত ইত্যাদি।
​এক) আভ্যন্তরীণ শাস্তি থেকে বাঁচার উপায়:
ক) আন্তরিকভাবে তাওবা ও ইসতিগফার করতে হবে যেমন ইউনুস আলাইহিস সালামের ক্বওম করেছিলেন: শাস্তি নির্ধারিত হওয়ার পর কেবলমাত্র ইউনুস আলাইহিস সম্প্রদায়ের উপর থেকে শাস্তি অপসারিত হয়েছিল। কারণ তারা সকলে আন্তরিকভাবে তাওবা করেছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন—
فَلَوْلَا كَانَتْ قَرْيَةٌ آمَنَتْ فَنَفَعَهَا إِيمَانُهَا إِلَّا قَوْمَ يُونُسَ لَمَّا آمَنُوا كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَتَّعْنَاهُمْ إلَى حِينٍ (98)
"ইউনুসের সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য কোনো জনপদবাসী কি রয়েছে (শাস্তি প্রত্যক্ষ করার পর) যাদের ঈমান উপকারে এসেছে? যখন ইউনুসের সম্প্রদায় ঈমান আনল, তখন আমরা পার্থিব জগতের শাস্তি তাদের উপর থেকে অপসারিত করে দিলাম এবং তাদেরকে কিছু কালের জন্য বসবাসের অবকাশ দিলাম।" (সূরা ইউনুসঃ ৯৮)
শাস্তি ঘোষিত হওয়ার পর কোনো সম্প্রদায়ই প্রকৃতপক্ষে ঈমান আনেনি। তাই তাদেরকে অবকাশ দেওয়া হয়নি। কিন্তু ইউনুস আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় শাস্তি প্রত্যক্ষ করার পর তারা ভীষণ ভয় পেয়ে যায়, তারা আল্লাহ ও তাঁর নাবী ইউনুস আলাইহিস সালামের প্রতি ঈমান আনে, তারা আল্লাহর নিকটে কাকুতি মিনতি করতে থাকে, তারা নিজেদের ছোট ছোট শিশু এবং গবাদি পশুকে নিয়ে উন্মুক্ত ময়দানে হাজির হয় এবং আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে, তাই আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেন এবং কিছু দিনের জন্য তাদেরকে অবকাশ দেন (ইবনু কাসীর)।
​খ) ইউনুস আলাইহিস সালামের দুআ বেশি বেশি পড়তে হবে: ইউনুস আলাইহিস তাঁর সম্প্রদায়ের উপর রাগ করে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পথিমধ্যে নৌকা বিপর্যয় ঘটলে তাঁকে নদীতে নিক্ষেপ করা হয়। একটি বৃহৎ মাছ তাঁকে গ্রাস করে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِذْ أَبَقَ إِلَى الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ (140) فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِينَ (141) فَالْتَقَمَهُ الْحُوتُ وَهُوَ مُلِيمٌ (142) فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ (143) لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ (144) فَنَبَذْنَاهُ بِالْعَرَاءِ وَهُوَ سَقِيمٌ (145) وَأَنْبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةً مِنْ يَقْطِينٍ (146)
"যখন সে বোঝাই করা জাহাজটির দিকে পালিয়ে গেল (১৪০), তখন তারা লটারি করল এবং সে তাদের মধ্যে পড়ল যারা হেরে গিয়েছিল (১৪১)। অতঃপর একটি তিমি তাকে গিলে ফেলল, যখন সে ছিল তিরস্কারযোগ্য (১৪২)। আর যদি সে আল্লাহর তাসবিহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত, (১৪৩) তবে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত মাছের পেটের ভেতরেই থাকত (১৪৪)। অতঃপর আমরা তাকে একটি জনশূন্য তীরে নিক্ষেপ করলাম এবং সে ছিল অসুস্থ (১৪৫)। আমরা তার উপর একটি লতা জাতীয় (লাউ) গাছ উৎপন্ন করলাম (১৪৬)" - (সূরা স্বাফফাত)
তিনি মাছের পেটে নিজের ভুলের জন্য আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَذَا النُّونِ إِذْ ذَهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ أَنْ لَنْ نَقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادَى فِي الظُّلُمَاتِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ (87) فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمَ وَكَذَلِكَ تُنْجِي الْمُؤْمِنِينَ (88)
"ইউনুসের কথা স্মরণ করুন, যখন তিনি রাগান্বিত হয়ে चले গিয়েছিলেন এবং ভেবেছিলেন যে আমরা তাঁর উপর ক্ষমতাবান হব না। অতঃপর সে (মাছের পেটের) অন্ধকারের মধ্যে থেকে দুআ করেছিলেনঃ লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনুত মিনায যালিমীন। অর্থঃ আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই; আপনি পবিত্র! নিশ্চয় আমরা যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছি।" অতঃপর আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দিলাম। আর এভাবেই আমরা মুমিনদেরকে রক্ষা করি। (সূরা আম্বিয়া: ৮৭-৮৮)
​গ) নীচের দুআটি বেশি বেশি পড়তে থাকুন
উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহ ও নি'মাল ওয়াকীল।
অর্থঃ আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ، «قَالَهَا إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ حِينَ أُلْقِيَ فِي النَّارِ ، وَقَالَهَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ» حِينَ قَالُوا : {إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا، وَقَالُوا : حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الوَكِيل) [آل عمران: 173]
ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন " হাসবুনাল্লাহ ও নি'মাল ওয়াকীল অর্থাৎ আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।" ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এই কথাটি বলেছিলেন যখন তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এবং মুহাম্মদ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম দুআটি বলেছিলেন যখন তাঁকে বলা হয়েছিল: নিশ্চয়ই লোকেরা আপনার বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে, তাই তাদের ভয় করুন। কিন্তু এতে মুমিনদের ঈমান আরও বেড়ে গিয়েছিল।" এবং তারা বলেছিল," হাসবুনাল্লাহ ও নি'মাল ওয়াকীল অর্থাৎ আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।" (বুখারী-৪৫৬৩) এই দুআটি সূরা আলে ইমরানের ১৭৩ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
​ঘ) নীচের দুআটি গভীর বিশ্বাসের সঙ্গে নিয়মিত পড়তে থাকুন। আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম কোনো সম্প্রদায়ের জন্য ভয় পেলে নীচের দুআটি পড়তেন।
اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফী নুহুরিহিম অ নাউযুবিকা মিন শুরুরিহিম।
অর্থঃ হে আল্লাহ, আমরা তাদের বিরুদ্ধে আপনাকে সোপর্দ করছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (আবু দাঊদ-১৫৩৭, স্বহীহ আলবানী)
​ঙ) ধৈর্যধারণ ও স্বলাতের মাধ্যমে আল্লাহর নিকটে সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ (45)
"ধৈর্য ও স্বলাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো, আর নিশ্চয়ই স্বলাত বিনীত ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।" (সূরা বাক্বারা-৪৫)
হে মুসলিম ভ্রাতৃবৃন্দ! আপনারা নিয়মিত স্বলাত আদায়া করুন, রাতে তাহাজ্জুদের স্বলাত সম্পাদন করুন এবং আল্লাহর নিকটে সাহায্য চান ও দুআ করতে থাকুন ইন শা আল্লাহ বিপদ দূর করবেন।
​চ) যালিম বাদশাহর ভয়ে নীচের দুআটিও পড়তে পারেন।
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، كُنْ لِي جَارًا مِنْ فُلَانِ بْنِ فُلَانِ وَأَحْزَابِهِ مِنْ خَلَائِقِكَ، أَنْ يَفْرُطَ عَلَيَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ، أَوْ يَطْغَى عَزَّ جَارُكَ، وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বিস সামাওয়াতিস সাবয়ে অ রাব্বিল আরশির আযীম, কুন লী জারান মিন ফুলানিবনি ফুলানিন, অ আজযাবিহি মিন খালায়েক্কাকা, আই ইয়াফরুতা আলাইয়া আহাদুম মিনহুম আও ইয়াতগা, আযযা ও জাল্লা সানাউকা অলা ইলাহা ইল্লা আনতা।
অর্থঃ হে আল্লাহ, সপ্ত আকাশের রব এবং মহান আরশের অধিপতি, অমুকের পুত্র অমুক (অত্যাচারী ব্যক্তির নাম নিতে পারেন বা মনে মনে কল্পনাও করতে পারেন) এবং আপনার সৃষ্টির মধ্যে তার অনুসারীদের থেকে আমাকে রক্ষা করুন, যাতে তাদের কেউ আমার উপর অত্যাচার করতে না পারে। আপনার সুরক্ষা অতি পবিত্র, এবং আপনার প্রশংসা অতি মহান, আর আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। (আদাবুল মুফরাদ-৭০৭, স্বহীহ-আলবানী)
​দুই) বাহ্যিক কারণ: যালিম বাদশাহ, অত্যাচারী শাসক, পক্ষপাত মূলক বিচার, মানসিক দুশ্চিন্ত ইত্যাদি থেকে বাঁচার উপায়
এস আই আর (SIR) বিপর্যয় একটি বাহ্যিক দিক। যাতে মানসিক অত্যাচার শুরু হয়েছে, শারিরীক অত্যাচারের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। সুতরাং আসন্নে এস আই আরেরর বিপর্যয় ও শাস্তি থেকে বাঁচতে হলে আভ্যন্তরীণ কারণ আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও ক্রোধ যেমন থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে হবে তেমনী বাহ্যিক সমস্যারও শারয়ী পদ্ধতিতে মুকাবিলা করতে হবে। আর এটার নামই তায়াক্কুল আলাল্লাহ বা আল্লাহর প্রতি ভরসা।
​ক) প্রয়োজনীয় কাগজ প্রস্তুত করতে হবে এবং যা যা আপনার নিকটে আছে তা জমা করতে হবে।
খ) আইনী লড়াই: প্রয়োজনে আইনী লড়ায়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা পথ প্রশস্ত করবেন। যখন ফেরাউন এসেছিল, তখন মূসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ প্রেরণ করেছিলেন।
গ) শরিআত লংঘিত যেন না হয় এমন পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় প্রতিবাদও করা যেতে সেক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন খুবই জরুরী। কেননা আপনার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকেও অশান্ত করার বহু চক্রান্ত কাজ করছে। আন্দোলন করার নামে সরকারী সম্পত্তি নষ্ট করবেন না, রাস্তাঘাট ও রেল অবরোধ করে জনগণকে কষ্ট দিবেন না এবং অফিস আদালাত ভাঙ্গচুরও করবেন না।
​মুমিনের মুসিবত ও আখেরাতে প্রাপ্তি: মনে রাখতে হবে যে, দুনিয়ার মুসিবত ও শাস্তি আখেরাতের তুলনায় কিছুই না। আখেরাতের শাস্তি অনেক বেশি কঠিন ও স্থায়ী।
​১) আল্লাহ তাআলা সূরা ক্বালামে বাগানওয়ালাদের বাগান ধ্বংসের বিবরণের পর বলেন—
كَذَلِكَ الْعَذَابُ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ (33)
"শাস্তি এমনই হয়ে থাকে, আর পরকালের শাস্তি তো আরও কঠিন, যদি তারা তা জানত।" (সূরা ক্বালাম- ৩৩)
​২) যে কোনো ধরণের শাস্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসলে মনে করতে হবে যে, আমাদের পাপের কারণে আযাব এসেছে। তাই তাওবা করতে হবে, সবর করতে হবে এবং ঈমানের উপর অবিচল থাকতে হবে। তাহলে দুনিয়াবী আযাবের পরিবর্তে আখেরাতে উত্তম পুরস্কার পাওয়া যাবে ইন শা আল্লাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَالَّذِينَ هَاجَرُوا فِي اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا لَنُبَوَنَنَّهُمْ فِي الدُّنْイَا حَسَنَةً وَلَأَجْرُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ (41) الَّذِينَ صَبَرُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ (42)
"আর যারা নির্যাতিত হওয়ার পর আল্লাহর জন্য হিজরত করেছে, আমরা অবশ্যই তাদেরকে এই দুনিয়ায় উত্তম বাসস্থান দান করব এবং আখিরাতের পুরস্কার তো আরও বেশি উত্তম যদি তারা তা জানত (৪১)। যারা ধৈর্যধারণকারী এবং যারা তাদের রবের উপর ভরসা রাখে (৪২)।" (সূরা নাহল)
​৩) আল্লাহর রসূল স্বল্লাল্লাহ আলাইহি অসাল্লাম বলেন—
يُؤْتَى بِأَنْعَمِ أَهْلِ الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيُصْبَغُ فِي النَّارِ صَبْغَةً، ثُمَّ يُقَالُ: يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ خَيْرًا قَطَّ؟
هَلْ مَرَّ بِكَ نَعِيمٌ قَطُّ ؟ فَيَقُولُ: لَا ، وَاللهِ يَا رَبِّ وَيُؤْتَى بِأَشَدِ النَّاسِ بُوسًا فِي الدُّنْيَا، مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فَيُصْبَغُ صَبْغَةً فِي الْجَنَّةِ، فَيُقَالُ لهُ: يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ بُوسًا قَطَّ؟
هَلْ مَرَّ بِكَ شِدَّةً قَطَّ؟ فَيَقُولُ: لَا ، وَاللَّهِ يَا رَبِّ مَا মَرَّ بِي بُؤْسٌ قَطُّ، وَلَا رَأَيْتُ شدَّةً قَط
"জাহান্নামের উপযোগী-দুনিয়ায় সর্বাধিক সচ্ছল ও ধন-সম্পদের অধিকার লোককে ক্বিয়ামতের দিন উপস্থিত করা হবে। এরপর তাকে জাহান্নামের আগুনে একবার ঢোকানো হবে এবং বলা হবে, হে আদম সন্তান! দুনিয়াতে আরাম-আয়েশ কখনো তুমি ভোগ করেছে কি? কখনো তুমি স্বাচ্ছদ্য অবস্থায় দিন অতিবাহিত করেছে কি? সে বলবে, আল্লাহর শপথ হে আমার রব না, কখনো করিনি। এরপর জান্নাতের উপযোগী দুনিয়ায় সর্বাধিক দুরাবস্থা সম্পন্ন লোককে আনা হবে। এরপর তাকে জান্নাতে একবার ঢোকানো হবে এবং জিজ্ঞেস করা হবে, হে আদম সন্তান! কখনো তুমি কষ্টে দিনাতিপাত করেছে কি? হৃদয় বিদারক এবং ভয়াবহ অবস্থায় দিনাতিপাত করেছে কি? সে বলবে, আল্লাহর কসম, হে আমার রব ! কখনো আমরা কষ্টের সাথে দিনাতিপাত করিনি এবং দুঃখ কখনো দেখিনি।" (মুসলিম-২৮০৭)
​৪) পরীক্ষা ও কষ্ট যত বেশি

Address

Sinet Jame Mosjid, Dadpur, Chuchura-Dhaniyakhali Road, Hooghly
Kolkata
JAMIYATEAHLEHADEESHOOGHLY,

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when জমঈয়তে আহলে হাদীস হুগলী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to জমঈয়তে আহলে হাদীস হুগলী:

Share