21/05/2026
Cockroach Janata Party– ফাঁদে পা দেবেন না, আরশোলা থেকে সতর্ক এবং সচেতন থাকুন—:
গত দিন দুয়েক আগে একটা গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে এসেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানের ইমরান খানের সরকার ফেলে দেওয়ার পেছনে আমেরিকার CIA এর সম্পূর্ণ ভূমিকা ছিল, এবং পুরো বিষয়টা গভীরে ঢুকলে বোঝা যায় এই চক্র ভারতকে টুকরো করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আমি সেই বিষয়ে একটা পোস্ট লেখার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম এমন সময় cockroach Janata Party এর বিষয়টা সামনে আসে। এটার বিষয়ে একটু পড়াশুনো করতেই বুঝলাম ভারতীয় দেশবিরোধীদেরকে দোসর করে এও সেই আমেরিকার CIA এর মস্তিষ্কপ্রসূত ভারতের বিরুদ্ধে মারাত্মক একটা চক্রান্ত। সমস্ত বিষয়টার গভীরে গিয়ে বুঝলাম যে ভয়ংকর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে আমাদের প্রিয় দেশের বিরুদ্ধে সেটার বিষয়ে আগে জনসাধারণকে সচেতন করা ভীষণ প্রয়োজন। সে কারণে আমি পাকিস্তান ছেড়ে সচেতন করার জন্য cockroach Janata Party এর বিষয়ে পোস্ট করতে বসলাম। আগেই বলছি দেশের স্বার্থে দশের স্বার্থে এমনকি নিজেদের স্বার্থে এই পোস্টটা যতটা সম্ভব শেয়ার করুন।
সাম্প্রতিককালে দেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এবং তার সাথে cockroach Janata Party এর গঠনের যোগসূত্র এর বিষয়ে আগে একটু বলি।
চলতি বছরের অর্থাৎ 2026 সালের চৌঠা মে পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ফলাফল প্রকাশ হয়। আর এই ফলাফল পরে যারা এই দেশটাকে টুকরো শুক্র করার স্বপ্ন দেখে— তাদের সেই স্বপ্নে ঠান্ডা জল ঢেলে দেয়।
তার দু একদিন পরে ৬ই অথবা ৭ই মে, কল্যাণ ব্যানার্জি সাংবাদিকদের ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় বলেন সিস্টেমে একেবারে ঘুন ধরে গেছে, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য যুব সমাজকে রাস্তায় নামতে হবে, আন্দোলন করতেই হবে।
৯ই মে অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লিতে একটা প্রেস কনফারেন্সে বলেন যদি নেপাল আর বাংলাদেশের যুবসমাজ রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে ক্ষমতা পরিবর্তন করতে পারে তাহলে ভারতের যুব সমাজ কেন পারবে না –তারাও সেটাই করুক।
১২ ই মে প্রশান্তভূষণ এর একটা বয়ান আসে, তার সাথে কপিল সিম্পল কল্যাণ ব্যানার্জি সহ আরো অনেকে ছিলেন, সেখানে তিনি বলেন— লাঠি চলুক গুলি চলুক অশান্তি হোক, দশ বিশ জনের প্রাণনাশ হতে পারে কিন্তু গণতন্ত্র রক্ষার জন্য এবার ভারতের যুব সমাজকে রাস্তায় নামতে হবে।
তারপরে কোন মামলার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে চিফ জাস্টিস অফ ইন্ডিয়া—- আরশোলার উদাহরণ টানেন, যেটা ভীষণই শুরুতে কটু হয়তো ছিল কিন্তু পরে তিনি আবার এই বিষয়ে জাস্টিফিকেশন ও দেন।
আর ১৩ই মে সামাজিক মাধ্যমে cockroach Janata Party গঠন করা হয়। বলা হচ্ছে এটা নাকি সিস্টেমের বিরুদ্ধে ভারতের যুবসমাজের আন্দোলন এবং চার পাঁচ দিনের মধ্যেই এই পার্টি সদস্য সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে যায়। এবার প্রশ্ন হল যদি চিফ জাস্টিস অফ ইন্ডিয়া কাউকে আরশোলা বলে থাকেন তাহলে তারা তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে কিন্তু এরা দেশের সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে, কেন?? কার স্বার্থে??
এরপরে ১৮ই মে নরওয়েতে হেলে লিং নামক এক সাংবাদিক মোদীজি কে জয়েন্ট প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করে বসে এবং মোদিজি উত্তর দেননি বলে সামাজিক মাধ্যমে হাওয়া গরম করার চেষ্টা করে। অথচ সেই জয়েন্ট প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করার কোন ব্যাপারই ছিল না আর সেই টিকটকার সাংবাদিক সেটা জানতো। মোদিজীর বিরুদ্ধে নরওয়েতে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে সেই মহিলা টিকটক আর সাংবাদিক রাতারাতি ভারতে বিরোধীদের দ্বারা ভাইরাল হয়ে যায়। সেই বিষয়টা দিয়েও প্রধানমন্ত্রী বিরোধী গরম বক্তৃতা দিয়ে দেশকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা চলে। পরের দিন অর্থাৎ ১৯ শে মে ধ্রুব রাঠী একটা টুইট করে মোদিজীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলে যে—যেখানেই মোদীজি যান না কেন তাকে চরম অসম্মান-অপমান করতে হবে, ওনাকে ঘেরাও করে প্রয়োজনে ওনাকে পেটানো দরকার তাহলে আক্ষরিক অর্থে ক্রান্তি হতে পারবে। ভেবে দেখতে হবে কি ভয়ংকর পরিকল্পনা এগুলো।
এবারে ৪ তারিখ থেকে যদি ১৯ তারিখ পর্যন্ত দেখা যায় প্রত্যেক দিনের ঘটনায় অথবা প্রত্যেকের বয়ানে একটা কথা পরিষ্কার যে জেন জি অর্থাৎ ভারতের যুবসমাজকে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে হিংসার মাধ্যমে এই সরকারকে ফেলে দেওয়ার জন্য উস্কানি মূলক কথাবার্তা বলা হয়েছে। উপরোক্ত যে বয়ান অথবা ঘটনাগুলোর তারিখ বললাম সেখানে একটু এদিক ওদিক হতেই পারে কিন্তু এভাবেই যুব সমাজকে উস্কানি দেওয়া হয়েছে দেশকে অস্থির করার জন্য এবং হঠাৎ করে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী এবং গৃহমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চরম অসম্মানজনক (গদ্দার) ভাষায় কথাবার্তা বলছেন, তিনি এমন ভাষার প্রয়োগ করছেন যেগুলোতে ভারতের যুব সমাজের আক্রোশ বাড়বে তারা কোনরকম চিন্তাভাবনা না করে অশান্তির মাধ্যমে দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করবে। স্বাধীন ভারতে হয়তো এটাই প্রথমবার যে কোন বিরোধী নেতা ১০০ টা ভোটে হেরে গিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে প্রকাশ্যে দেশের সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী এবং গৃহমন্ত্রীর প্রতি এই ভাষা ব্যবহার করছেন। সেই ২০১৪ সাল থেকে ভোট চুরি, ইভিএম হ্যাক আরো কত অভিযোগ এনেও ভারতের জনসাধারণের মনে এরা দাগ কাটতে পারেননি, স্বাধীনতা পরবর্তী ছাপান্ন বছরে এনাদের সরকার যেভাবে দেশের সর্বনাশ করেছে তাতে যে ভারতের জনগণ এদের ওপর একেবারেই খুশি নয়—নির্বাচনে এদের ক্রমাগত হার সেটাই বলে দিচ্ছে।
এবার কারা কি উদ্দেশ্যে এই cockroach Janata Party এর গঠন করলো সেটা জানা ভীষণ জরুরী না হলে এরা কতটা ভয়ংকর সেটা বোঝা যাবে না। অভিজিৎ দীপকে– ইনি আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয়গুলো অথবা আইটি সেল হ্যান্ডেল করত। হুরিয়াতের মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী দল তৈরি করে কাশ্মীরকে ভারত থেকে আলাদা করা উস্কানি দেওয়ার কারণে পুনে নিবাসী এই অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে এফআইআরও রয়েছে। আবার ইনি এনআরসি এবং সিএ এর ঘরোতরো বিরোধী। আম আদমি পার্টির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখে ইনি আপাতত আমেরিকাতে কেটে পড়েছে পড়াশোনার নামে এবং এনজিওর সঙ্গে যুক্ত আর একটা কথা অবশ্যই বলতে হবে এ হল মনীষ সিসোডিয়ার খাস ব্যক্তি। দ্বিতীয়জনের নাম হল অর্পিত শর্মা –এর বাবা আম আদমি পার্টির হয়ে ভোট নির্বাচন লড়েছেন এবং ভারপ্রাপ্ত ভোট সংখ্যা হল ১৪০০। ইনি তো নিজের বাবাকে ভোটে জেতানোর জন্য কিছু করতে পারেনি সোশ্যাল মিডিয়াতে ২০১৯ এর ভোট জিতে দেশ উদ্ধার করতে এসেছে নাকি। তৃতীয় জন হল মেঘনাদ্স—ইনি মেঘনাদের মতই মেঘের আড়াল থেকেই কাজকর্ম করতে পছন্দ করে মানে ইউটিউবার নাকি সাংবাদিক নাকি যাই হোক—ইনি আবার দিল্লিতে নির্বাচনও লড়েছিল এবং নাকি একশটা ভোট পেয়েছে। পাঞ্জাবের ভোটে বিশেষ কিছু করতে পারবে না বুঝে ফান্ড করে কেজরিওয়াল এই বি টিম নামিয়েছে। এর আগে কেজরিওয়াল জার্মানের কুকুরটাকে ময়দানে নামিয়ে ছিল তাতে তো কোন লাভ হলো না। সে কারণে এবারে আরশোলার দলকে যুদ্ধ জেতার জন্য ময়দানে নামিয়েছে। তাছাড়াও cockroach Janata Party এর সমর্থনে আরো কিছু আরশোলা যেমন এক আজাদের কীর্তি আর তার মিত্র ওড়িয়া কাকিমা আর জার্মান থেকে কুকুরটা গলা ফাটাচ্ছে। আন্না হাজারের আন্দোলন কব্জা করে রাজনৈতিক দল বানানোর অভিজ্ঞতা তার আগেই রয়েছে। এবারেও তিনি ভেবেছে এই পার্টিটাকে নিজের দলের স্বার্থে ব্যবহার করবে কিন্তু তিনি জানেনা এখানে ভারতের থেকে বেশি পাকিস্তান বাংলাদেশ আর UAE মত দেশগুলোর লোকজন জয়েন করছে।
এবার এই যে এদের কমবেশি দেড় কোটি সদস্য হয়েছে যদি ঠিক করে দেখা যায় এদের সদস্য অথবা ফলোয়ারের বেশিরভাগ সংখ্যাটাই হল বাংলাদেশ পাকিস্তান আর UAE এর সেটা তো ঠিক আছে। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার যেটা হল এরা একটা ফর্ম ফিলাপের মধ্যে দিয়ে সদস্য পদ দিচ্ছে। Dipanwita Kar আর ভারতের “বেকার অলস” যুবসমাজ আবেগী হয়ে সেখানে গিয়ে রীতিমতো নিজেদের ডকুমেন্ট আপলোড করে করে সদস্যপদ নিচ্ছে। কেউ এটা ভেবে দেখছে না যে অভিজিৎ দ্বীপকে এই মুহূর্তে আমেরিকায় বসে রয়েছে, সে একটা এনজিওর সাথে যুক্ত আর এই ডকুমেন্ট সমস্ত আমেরিকার হাতে সরাসরি চলে যাচ্ছে। ডেটা সিকিউরিটির ব্যাপারে যারা সঞ্চার সাথী অ্যাপ নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করে সেই তারাই আবার শখ করে নিজেদের ডেটা আমেরিকা তথা একটা Unregistered organisation এর হাতে কিভাবে তুলে দিচ্ছে?? এদের কি কোন ধারণা আছে এদের এই ডেটা আমেরিকা তথা cockroach Janata Party কত খারাপ ভাবে ব্যবহার করতে পারে তাছাড়া অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে!! তাছাড়া এই পার্টি ডেটা কিভাবে ইউজ করবে তার কোন রুলস এন্ড রেগুলেশন ও বলেনি। এই Unregistered organisation আমেরিকা থেকে অপারেট করা হচ্ছে, ভারতের রুল এন্ড রেগুলেশনশ ও ওখানে এপ্লাই হবে না আর আমেরিকা ওই ব্যাপারে কোন সাহায্য করবে না, অতএব ডকুমেন্ট দিয়ে cockroach Janata Party পার্টির সদস্য পদ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এমনিতেও নামেই যারা আরশোলা তাদের চিন্তা-ভাবনাও খুব স্বাভাবিকভাবে আরশোলার মতই হবে।
যাইহোক এদের সম্পর্কে এত কিছু লেখার একটাই উদ্দেশ্য সতর্ক থাকুন, সচেতন থাকুন কোনরকম ডিপস্টেট তথা বিরোধীদের যারা ডিপস্টেট এর হাতের পুতুল তাদের ফাঁদে পা দেবেন না। ভারতের জনগণের সামনে এদের নগ্নরূপ উন্মোচিত হওয়ার কারণে সৎভাবে স্বচ্ছভাবে এরা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে না পেরে এই নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে। সবাই জানে কৃষক আন্দোলন, শাহিন বাগ, লাদাখ এ সমস্ত ডিপ স্টেট এর কার্যকলাপ ছিল। এমনিতেও এতদিন পশ্চিমবঙ্গ আলাদা করার ষড়যন্ত্র চলছিল, ওদিকে সেভেন সিষ্টারেও আগুন লাগানোর কাজ চলছে আবার তামিলনাড়ুও সনাতন বিনাশ করার সেই পথে হাঁটছে আর অরবিন্দ কেজরিওয়াল তো কবে থেকে সেই পাঞ্জাবকে আলাদা করে নতুন রাষ্ট্র বানানোর স্বপ্নে বিভোর। মানে "ফাদার" আর "চাদর" এই দুই ধর্মের থাবা ক্রমশ গভীরভাবে ভারতের বুকে বসছে আর এই সব কিছু আমেরিকার CIA এর ফান্ডের মাধ্যমে হচ্ছে। অতএব কোথাও ভিড় দেখলেই যে আপনাকে সেই ভিড়ের অংশ হতে হবে তার কোন মানে নেই। ভিড়তন্ত্র থেকে দূরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন, নিজেদের পরিবার এবং দেশকে সুরক্ষিত রাখুন 🙏।
🖋️ দীপান্বিতা কর
Cockroach Janata Party এর ফাঁদে যাতে কেউ পা না দেয় সে কারণে এই পোস্টে একটা লাইক এবং যথাসম্ভব কপি পেস্ট না করে শেয়ার করতে পারেন —--ধন্যবাদান্তে 🙏।
゚ ゚