27/06/2023
#বিশ্বের_দুই_বোকা_প্রেসিডেন্টের_গল্প
প্রথম জন আলসানে ওয়াতারা, পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোষ্টের প্রেসিডেন্ট।
আলসানে ওয়াতারা একবার মনস্থির করলেন তিনি পবিত্র হজ্জ পালন করবেন।
রাষ্ট্র বলল, প্রেসিডেন্ট হজ্জে যাবেন খরচপাতি সব রাষ্ট্র দেবে।
প্রেসিডেন্ট বেঁকে বসলেন। বললেন রাষ্ট্রীয় খরচে তিনি হজ্জে যাবেন না।
সৌদি আ্যরাবিয়া বললো, তুমি আমাদের অতিথি। আমাদের আতিথেয়তা গ্রহণ করো।
প্রেসিডেন্ট ওয়াতারা তাতেও সম্মত হলন না। বললেন, সম্পূর্ণ নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে একেবারে সাধারণ মানুষের মতো সাধারণ মানুষের সঙ্গে থেকে আমি হজ্জ পালন করব এবং তাই করলেন।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পবিত্র নগরী মক্কার রাজপথে খানেকা'বার সম্মুখে মহামান্য প্রসিডেন্ট সাধারণ হাজিদের সঙ্গে শুয়ে আছেন।
×××××××××××××××××××××××××××××××××××××××
দ্বিতীয় জন দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির বিন মহম্মদ।
বেশ কয়েক বছর আগের কথা, মাহাথিরের হার্টে ব্লকেজ ধরা পড়ে। ডাক্তাররা বললেন, এনজিওগ্রাম করে হার্টে রিং পড়াতে হবে।
মাহাথির বললেন, পরাও।
ডাক্তার বললেন, হার্টে রিং পড়ানোর জন্য বিদেশে যেতে হবে। কারণ তখন হার্টে রিং পড়ানোর মতো হাসপাতাল মালয়েশিয়ায় ছিলো না।
বেঁকে বসলেন মাহাথির। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন না। বললেন, আমি নাহয় চিকিৎসার জন্য বিদেশ গেলাম, কিন্তু দেশবাসী? ওদের কি হবে?
দেশে হাসপাতাল বানাও।
ডাক্তারের জবাব, সময় লাগবে।
মাহাথিরের স্পষ্ট উচ্চারণ, বানাও হাসপাতাল। মৃত্যুর ঝুঁকি নিতে আমি প্রস্তুত।
তারপর হাসপাতাল বানিয়ে যন্ত্রপাতি আনতে আনতে প্রায় দুবছর সময় লেগে গেল। মাহাথিরের হৃদয়ে সফলভাবে রিং পড়ানো হলো। দু বছর মরণের ঝুঁকি নিয়ে অপেক্ষা করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির বিন মহম্মদ।
ভেবে দেখুন এরা কতটা বোকা। কোথায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিশাল বাহিনী নিয়ে রাজকীয় অতিথি হয়ে জমজমাট হজ্জ করবেন, ঘনঘন চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন, তা না। দীনহীন ফকিরের মতো হজ্জ পালন আর হাসপাতাল বানানোর জন্য দুবছর অপেক্ষা? বোকা নাহলে কেউ এরকম করে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে? আমাদের দেশের নেতানেত্রীদের থেকে এদের কিছু শেখা উচিৎ।
সংগৃহীত।