Sri Bhaktipatra "শ্রীভক্তিপত্ৰ"

Sri Bhaktipatra "শ্রীভক্তিপত্ৰ" 'Gaudiya Mission' is a missionary organization for preaching the process of pure devotion.

✨হরে কৃষ্ণ ✨গৃহে বসে ভগবৎ সঙ্গ করুন ! গৌড়ীয় মিশন বাগবাজার হইতে প্রকাশিত পারমার্থিক মাসিক পত্রিকা 'শ্রীভক্তিপত্র' - পড়ুন ...
11/02/2026

✨হরে কৃষ্ণ ✨

গৃহে বসে ভগবৎ সঙ্গ করুন !
গৌড়ীয় মিশন বাগবাজার হইতে প্রকাশিত পারমার্থিক মাসিক পত্রিকা 'শ্রীভক্তিপত্র' - পড়ুন ও পড়ান

প্রতি মাসে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে আজই গ্রাহক হোন 'ভক্তিপত্র'। পাঠকদের সুবিধার্থে আমরা নিয়ে এসেছি আকর্ষণীয় বার্ষিক ট্রান্সপোর্টেশন রেট অফার!

🚚কলকাতা(পৌরসভা এলাকা - ৭০০০০১ থেকে ৭০০১৬৩): মাত্র ২৪০ টাকা (বার্ষিক)
🚚ক্লাস্টার (পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, আন্দামান ও নিকোবর, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা): ২৯০ টাকা (বার্ষিক)
🚚ভারতের বাকি অংশ: ৩৫০ টাকা (বার্ষিক)

এখনই গ্রাহক হোন এবং আপনার ভক্তিকে উন্নত করুন ! 🙌

আরও জানতে যোগাযোগ করুনঃ 9330731195 / 9051041654

#ভক্তি #দর্শন #আধ্যাত্মিকতা #ভক্তিপত্র

24/11/2025

গৌড়ীয় মিশন পরাবিদ্যপীঠ রিসার্চ ইনস্টিটিউশন - এর তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন কোর্স-এ ভর্তি চলছে।

আমাদের কোর্স সমূহ ---

🌷 সংস্কৃত শিক্ষা-

🌼ক্লাসের সময়:- সোমবার ও বুধবার বিকেল ৫টা (অফলাইন)
এবং শনিবার রাত ৮টা ও রবিবার রাত ৭টা (অনলাইন)

🌼প্রশিক্ষক:- অধ্যাপক ডঃ সুব্রত মন্ডল ( সহকারী অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়) এবং অধ্যাপক ডঃ ঈশ্বর আখুলী (সহকারী অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, শ্রীচৈতন্য কলেজ, হাবড়া)

🌷স্তোত্র পাঠ বিধি

🌼ক্লাসের সময়:- প্রতি রবিবার বিকাল ৪টা এবং মঙ্গলবার বিকাল ৫টা (অফলাইন)
প্রতি বুধবার ও শুক্রবার রাত ৭টা ৩০মিনট (অনলাইন)

🌼প্রশিক্ষক:- জয়দেব দে (সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, সংস্কৃত বিভাগ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়)

🌷মৃদঙ্গ বা শ্রীখোল বাদন শিক্ষা

🌼ক্লাসের সময়:- মঙ্গলবার ও রবিবার, রাত ৮টা (অনলাইন)
🌼শুক্রবার বিকেল ৫টা এবং রবিবার, সকাল ১১টা (অফলাইন)

🌼প্রশিক্ষক:- বিখ্যাত মৃদঙ্গ বাদক ডঃ হরেকৃষ্ণ হালদার (অধ্যাপক, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়) এবং শ্রী রানার হালদার ( স্নাতকোত্তর, বাদ্যযন্ত্র বিভাগ, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, India CCRT Scholarship প্রাপ্ত)



🌷আবৃত্তি ও সঞ্চালনা পদ্ধতি শিক্ষা-

🌼ক্লাসের সময়:- বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা (অফলাইন) এবং রাত ৮টা (অনলাইন)

🌼 প্রশিক্ষক:- শিবাজী চৌধুরী {T.V, FM, পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্র (EZCC) রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, বাণীচক্র, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর (পঃ বঃ সরকার) - এর সঞ্চালক ও আবৃত্তি শিল্পী}

🖊️প্রতি কোর্সের সময়সীমা ছয়মাস।

🖊️ অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলীর দ্বারা ক্লাসের সুব্যবস্থা।

🖊️কোর্স শেষে পরীক্ষা ও প্রশংসাপত্রের সুব্যবস্থা।

ইচ্ছুক প্রার্থীরা নীচের নাম্বারে যোগাযোগ করুন

যোগাযোগ :- 7439184151 / 9051041654

ইমেল:- [email protected]

!! আসন সংখ্যা সীমিত !!

নিবেদক :- গৌড়ীয় মিশন পরাবিদ্যাপীঠ রিসার্চ ইনস্টিটিউশন(বাগবাজার, কলকাতা-৩)

Closing Ceremony of the 150th Advent Anniversary of Srila PrabhupadThe grand closing ceremony of the 150th Advent Annive...
27/02/2025

Closing Ceremony of the 150th Advent Anniversary of Srila Prabhupad

The grand closing ceremony of the 150th Advent Anniversary of Srila Prabhupad, which has been commemorated over the past three years (2022-2025), is set to take place on 28th February 2025. This historic event marks the culmination of a series of spiritual, cultural, and devotional programs held in honour of Srila Bhakti Siddhanta Saraswati Goswami Prabhupad.

We are honoured to announce that the Chief Guest for this auspicious occasion will be Sri Jagdeep Dhankhar, the Vice President of India. His esteemed presence, along with C. V. Anand Bose, Governor of West Bengal, and Suresh Gopi, Minister of State for Petroleum and Natural Gas of India, will grace the ceremony, adding to the significance of this grand celebration.

To ensure that devotees and well-wishers from around the world can participate, the entire event will be broadcast live on our official Facebook and YouTube channel – Gaudiya Mission.

We invite you all to stay connected, join us virtually, and immerse yourself in the divine vibrations of this momentous occasion. Don't miss this opportunity to be part of history!

🔴 Live Streaming:
📍 YouTube: www.youtube.com/c/GaudiyaMission
📍 Facebook: www.facebook.com/GAUDIYAMISSION

Stay tuned and celebrate with us! 🙏✨

বিরহ বার্তাবর্তমান সময়ে শুদ্ধ-ভক্তির একমাত্র প্রতিষ্ঠান-স্বরূপ শ্রীগৌড়ীয়মঠ ও মিশনের অন্যতম প্রচারক শ্রীপাদ ভক্তিহারী হরি...
31/01/2025

বিরহ বার্তা
বর্তমান সময়ে শুদ্ধ-ভক্তির একমাত্র প্রতিষ্ঠান-স্বরূপ শ্রীগৌড়ীয়মঠ ও মিশনের অন্যতম প্রচারক শ্রীপাদ ভক্তিহারী হরিজন মহারাজের আকস্মিক প্রয়াণে আমরা সকলেই মর্মাহত।
তাঁর শান্ত-সরল স্বভাবগুণে মুগ্ধ, গাম্ভীর্যময় সুসিদ্ধান্তপূর্ণ হরিকথা শ্রবণে এবং পারমার্থিক ক্লাসে যুক্ত অনুগত সকল শিষ্য-শিষ্যাগণের প্রতি সান্ত্বনাদানের ভাষা আমার কাছে নাই। তাঁর মত একজন হরিকথা প্রচারপ্রিয়, একনিষ্ঠ সেবককে হারিয়ে মিশন যেন একটি স্তম্ভহারা হলো। নিজ হাতে গড়ে তোলা এক মণিকে আমি হারালাম। মিশনের এই ক্ষতি অপূরণীয়। আমরা সকলেই তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শুদ্ধভজনে নিযুক্ত থেকে মহারাজের আত্মার প্রসন্নতা লাভে সহযোগী হবো। তাঁর নিত্যধামে সেবালাভের পথ প্রশস্ত হোক-হরি-গুরু-বৈষ্ণব চরণে এই প্রার্থনা করি।
(কলমে : শ্রীল গুরুদেব)

💫উৎপন্না একাদশীর ব্রতোপবাস (মুম্বাই, দিল্লী, বৃন্দাবন, রাধাকুণ্ড, কুরুক্ষেত্র, এলাহাবাদ, লক্ষ্ণৌ, বেনারস, মুগলসরাই, ব্যা...
24/11/2024

💫উৎপন্না একাদশীর ব্রতোপবাস
(মুম্বাই, দিল্লী, বৃন্দাবন, রাধাকুণ্ড, কুরুক্ষেত্র, এলাহাবাদ, লক্ষ্ণৌ, বেনারস, মুগলসরাই, ব্যাঙ্গালোর আদি অঞ্চলে)

👉🏽 ২৬ নভেম্বর ২০২৪, মঙ্গলবার

💫ব্যঞ্জুলি মহাদ্বাদশীর ব্রতোপবাস
(পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, উড়িষ্যা, বাংলাদেশ আদি অঞ্চলে)

👉🏽২৭ নভেম্বর ২০২৪, বুধবার

📌পারণ ::

☀️উৎপন্না একাদশীর ব্রতের পারণ ২৭ নভেম্বর দি ১০।২৬ মিঃ গতে।
☀️ব্যঞ্জুলি মহাদ্বাদশীর পারণ ২৮ নভেম্বর প্রাতঃ ৬।০ মিঃ গতে ৬।২৩ মিঃ মধ্যে।

(এখন দেখে নেওয়া যাক একাদশীতে কোন পাঁচ প্রকার রবিশস্য গ্রহণ নিষিদ্ধ:
১। ধান জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন চাল, মুড়ি, চিড়া, সুজি, পায়েস, খিচুড়ি, চালের পিঠা, খই ইত্যাদি
২। গম জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন আটা, ময়দা, সুজি, বেকারির রুটি, সব রকম বিস্কুট, হরলিকস ইত্যাদি।
৩। যব বা ভূট্টা জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন ছাতু, খই, রুটি ইত্যাদি।
৪। ডাল জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন মুগ, মাসকলাই, খেসারি, মুসুরী, ছোলা, অড়হর, মটরশুঁটি, বরবটি ও সিম ইত্যাদি।
৫। সরষের তেল, সয়াবিন তেল, তিল তেল ইত্যাদি। উপরোক্ত পঞ্চ রবিশস্য যে কোনও একটি একাদশীতে গ্রহণ করলে ব্রত নষ্ট হয়।)

💫 উৎপন্না একাদশী মাহাত্ম্য -
অদ্য শ্রীকৃষ্ণের ষোড়শোপচারে পূজা। নৈবেদ্য—শালি তঙুলের অন্ন,ব্যাঞ্জন , পায়স, পিঠাপানা, চাট্‌নী, খিচুড়ী, লুচি, লাড্ডু, দধি, দুগ্ধ ও ছানা প্রভৃতি।বিবিধ ফলমূলাদি, বিবিধ সুগন্ধি পুষ্পমাল্যাদি অৰ্পণ। মধ্যাহ্নকালে ভোগপ্রদান; আরতি সংকীৰ্ত্তন অন্তে দণ্ডবৎ প্রণাম ও স্তব অতঃপর ভক্ত সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণলীলাদি শ্রবণ।

অথ কথারম্ভ স্তব-
নমো বিজ্ঞানরূপায় পরমানন্দরূপিণে।
কৃষ্ণায় গোপীনাথায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।।

আনন্দ বৃন্দাবন চম্পু-
একদা পৌর্ণমাসীর সন্ধ্যাকালে বৃহৎ আঙ্গিনা মধ্যে মা যশোদা বালক কৃষ্ণকে কোলে নিয়ে মাতৃ (জা) বর্গ ও অন্যান্য পূজ্য গোপীদিগের সঙ্গে উপবেশন করলেন। পরস্পর কৃষ্ণ বিষয়ক কথা বলতে লাগলেন ও বালককে লালন করতে লাগলেন। এমন সময় পূর্বদিকে মা যশোদা নবোদিত শুভ্রবর্ণ চন্দ্রমণ্ডলকে দেখিয়ে গোপালের প্রতি বলতে লাগলেন—বাপধন নীলমণি ভাল মাখনের গোল্লা খাবে?

গোপাল—মা ! কৈ মাখনের গোল্লা? যশোদা মা উদিত চন্দ্ৰকে দেখিয়ে |ফলেন—বৎস কৃষ্ণ ঐ দর্শন কর।
কৃষ্ণ—মা ! আমি ঐ মাখন গোল্লা খাব। আমায় দাও।
যশোদা—একটু অপেক্ষা কর দেব। কিছুক্ষণ পরে কৃষ্ণ বললেন কি মা আমাকে মাখন দাও। যশোদা মা গৃহ হ তে ধনিষ্ঠানাম্নী গোপীর দ্বারা আনীত মাখনের স্বর্ণবাটিটী গোপালের সামনে দিলেন।
গোপাল—এ মাখন নয়। ঐ মাখন খাব। এ বলে কাঁদতে আরম্ভ করলেন।
বলতে লাগলেন ঐ মাখন খাব। গোপীগণ—ওটাত মাখন নয় চাঁদ।
গোপাল—আমি চাঁদ খাব ।
গোপীগণ—বাপধন কৃষ্ণ ! চাঁদ খেতে নেই।
গোপাল–কেন?
গোপীগণ—ওর মধ্যে বিষ আছে।
কৃষ্ণ—ওর মধ্যে বিষ কি করে এল?
গোপীগণ—যখন সমুদ্রমন্থন হয়েছিল সেই সময় বিষ, অমৃত ও চন্দ্রদেব একসঙ্গে উৎপন্ন হয়েছিল। সেইজন্য দেবতাগণ ও অসুরগণ কেহই চন্দ্রকে নিল না।
গোপাল—আমি চন্দ্রকে নেব ও খাব। এই বলে জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন।
গোপীগণ একখানি স্বর্ণ থালি আনলেন এবং এক ঘটি জল দ্বারা উহা পূর্ণ করলেন, গোপালের সামনে দিয়ে বল্লেন—বাপধন কৃষ্ণ ! তুমি নিজ হাতে চাঁদ ধরে খাও।
গোপাল থালিখানির মধ্যে চন্দ্র নিরীক্ষণ করতে লাগলেন। অনন্তর দুই হস্ত দ্বারা জলের মধ্যে উহাকে ধরবার জন্য চেষ্টা করতে লাগলেন। না পেয়ে আবার কাঁদতে শুরু করলেন।
সর্ব্বজ্ঞ, বিভু ভগবানের এরূপ নিতান্ত শিশুবৎ অসর্ব্বজ্ঞের লীলা দেখে দেবতাগণ বিস্ময়ান্বিত হলেন। গোপীগণ একখানি দর্পণ-আরশি আনলেন এবং গোপালের সামনে ধরে বলতে লাগলেন—গোপাল ! আর একটি চাঁদ তোমাকে দিচ্ছি। ও চাঁদ সে চাঁদকে দেখে ভয়ে আকাশে চলে গেছে। গোপীগণ দর্পণ মধ্যে গোপালের শ্রীমুখচন্দ্রের ছবি দেখালেন, গোপাল বিস্ময়ভাবে তা দেখতে লাগলেন।

গোপীগণ গাহিলেন—“কোটি চাঁদ বল কোথায় লাগে। গোপালের ঐ বরুন চাঁদের আগে, কোটি চাঁদ বল কোথায় লাগে।” গোপাল যশোদার স্তন পান করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লেন। শিশু লীলাচ্ছলে গোকুলে অপূর্ব শৈশবলীলা করতঃ বিহার করতে লাগলেন।

কীৰ্ত্তন—
ব’ল হরি হরি,
মুকুন্দ মুরারি,
রাম কৃষ্ণ হয়গ্রীব।।
নৃসিংহ বামন,
শ্রীমধুসূদন,
ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্যাম।
পূতনা-ঘাতন,
কৈটভ-শাতন,
জয় দাশরথি রাম।।
যশোদা-দুলাল,
গোবিন্দ গোপাল,
বৃন্দাবন-পুরন্দর।
গোপীপ্রিয়-জন,
রাধিকা-রমণ,
ভুবন-সুন্দর-বর।।
রাবনান্তকর ,
মাখন-তস্কর,
গোপীজন-বস্ত্রধারী।
ব্রজের রাখাল,
গোপবৃন্দপাল,
চিত্তহারী বংশীধারী।।
যোগীন্দ্ৰ-বন্দন,
শ্রীনন্দ নন্দন,
ব্রজজন-ভয়হারী।
নবীন নীরদ,
রূপ মনোহর,
মোহনবংশীবিহারী
যশোদা-নন্দন,
কংস-নিসূদন,
নিকুঞ্জরাস-বিলাসী।
কদম্ব কানন,
রাসপরায়ণ,
বৃন্দাবিপিন-নিবাসী।।
আনন্দ-বৰ্দ্ধন,
প্রেম-নিকেতন,
ফুলশরযোজক কাম।
গোপাঙ্গনাগণ,
চিত্ত-বিনোদন,
সমস্ত-গুণগণ-ধাম।।
যামুন-জীবন,
কেলিপরায়ণ,
মানসচন্দ্র-চকোর।
নাম-সুধারস,
গাও কৃষ্ণ-যশ,
রাখ বচন মন মোর।।
—(শ্রীল ঠাকুর ভক্তিবিনোদ)

শ্রীহরিবাসরে যারা ভক্তিভরে ভগবানের অপূর্ব শৈশব লীলার কথা শ্রবণ করবেন, তাদের যাবতীয় কামনা সিদ্ধি হবে এবং তারা ভগবানের শ্রীচরণে স্থান পাবেন।

ইতি উৎপন্না একাদশী বাসরে শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলামাধুরী সমাপ্ত।

💫 ব্যঞ্জুলী মহাদ্বাদশীর মাহাত্ম্য -

উন্মীলনী ব্যঞ্জুলী চ ত্রিস্পৃশা পক্ষবর্ধিনী ।
জয়া চ বিজয়া চৈব জয়ন্তী পাপনাশিনী ।।
দ্বাদশ্যোষ্টৌ মহাপুণ্যাঃ সর্বাপাপহরা দ্বিজ।
তিথিযোগেন জায়ন্তে চতস্রশ্চাপরাস্তথা।
নক্ষত্রযোগাচ্চ বলাৎ পাপং প্রশময়ন্তি তাঃ।।
(হঃ ভঃ বিঃ ১৩।২৬৫-৬৬ ব্রহ্ম বৈবর্ত্ত পুরাণ বাক্য)
ব্রহ্ম বৈবর্ত্ত পুরাণে সুতশৌনক সংবাদে যথা—হে দ্বিজ! উন্মীলনী, ব্যঙ্গুলী, ত্রিস্পৃশা, পক্ষবর্ধিনী, জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী-এই অষ্টদ্বাদশী মহাপুণ্যস্বরূপা ও নিখিল পাপনাশী। এই অষ্ট মহাদ্বাদশীর মধ্যে তিথিযোগে চারিটি ও নক্ষত্রযোগে অবশিষ্ট চারিটি হয়। এই সকল দ্বাদশী পাতকরাশি বিনাশিনী ।
পক্ষবর্ধিনী দ্বাদশী নিরূপণ—যে দ্বাদশীর পরে পূর্ণিমা বা অমাবস্যা ৬০ দণ্ড ভোগের পর পরের দিন কিঞ্চিৎ বৃদ্ধি হয়, তার পূর্বের দ্বাদশীকে পক্ষবর্ধিনী বলা হয়। একাদশীকে বৰ্জ্জনপূর্বক এই দ্বাদশীতে উপবাস করাই উচিত।

উত্থান একাদশীর ব্রতোপবাস 🌻  ১২ নভেম্বর ২০২৪, মঙ্গলবার 🌻🌼সায়ংকালে শ্রীহরির উত্থান 🌼নিয়ম সেবা ও আকাশ দীপদান সমাপ্ত 🌼 চাতুর...
11/11/2024

উত্থান একাদশীর ব্রতোপবাস

🌻 ১২ নভেম্বর ২০২৪, মঙ্গলবার 🌻

🌼সায়ংকালে শ্রীহরির উত্থান
🌼নিয়ম সেবা ও আকাশ দীপদান সমাপ্ত
🌼 চাতুর্মাস্য ব্রত সমাপ্ত

পরের দিন দি ৯:৩০মিঃ মধ্যে একাদশী ব্রতের পারণ

[একাদশীতে কী কী খাওয়া উচিত নয়

১। ধান জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন চাল, মুড়ি, চিড়া, সুজি, পায়েস, খিচুড়ি, চালের পিঠা, খই ইত্যাদি
২। গম জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন আটা, ময়দা, সুজি, বেকারির রুটি, সব রকম বিস্কুট, হরলিকস ইত্যাদি।
৩। যব বা ভূট্টা জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন ছাতু, খই, রুটি ইত্যাদি।
৪। ডাল জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন মুগ, মাসকলাই, খেসারি, মুসুরী, ছোলা, অড়হর, মটরশুঁটি, বরবটি ও সিম ইত্যাদি।
৫। সরষের তেল, সয়াবিন তেল, তিল তেল ইত্যাদি। উপরোক্ত পঞ্চ রবিশস্য যে কোনও একটি একাদশীতে গ্রহণ করলে ব্রত নষ্ট হয়।]

শ্রীদামোদরের ষোড়শোপচারে পূজা। পঞ্চমৃতে স্নান। নৈবেদ্য-পায়স,ক্ষীর,লাড্ডু, সর, পুলি, পিঠা, পানা, উত্তম-অন্ন, বিবিধ ব্যঞ্জন, বিবিধ মিষ্টি ও বিবিধ সৌগন্ধ পুষ্পাদি অর্পণ করবে।

এখানে শ্রীদামোদরদেবকে গোলাপফুল, বকুল, অশোকপত্র, শমীপত্র, তুলসীপত্র, মালা, চাঁপাফুল, কেতকী ও কদম্ব প্রভৃতি পুষ্প অর্পণ মহামাহাত্ম্যযুক্ত হয়। মধ্যাহ্নকালে ভোগপ্রদান, আরতি সংকীর্ত্তন, পরিক্রমণ, স্তব ও দণ্ডবৎ। অনন্তর দামোদর দেবের মহিমা শ্রবণ।

কথারম্ভ স্তব —

বালং নবীনশতপত্র বিশালনেত্রং
বিম্বাধরং সজলমেঘরুচিরং মনোজ্ঞম্।
মন্দাস্মিতং মধুর-সুন্দরাননং
শ্রীনন্দনন্দামহং মনসা নমামি।।
স্তনং পিবন্তং জননীমুখাম্বুজং
বিলোক্যমন্দাস্মিতমুজ্জ্বলাঙ্গম্।
স্পৃশন্তমন্যস্তনমুঙ্গুলাভি
বন্দে যশোদাঙ্কগতং মুকুন্দম্।।
শ্রীমদ্ভাগবত শুক পরীক্ষিৎ সংবাদ--
শ্ৰীশুক উবাচ—
কালেন ব্রজতাল্পেন গোকুলে রামকেশবৌ।
জানুভ্যাং সহপাণিভ্যাং রিঙ্গমাণৌ বিজহ্র্রতুঃ।।

—(ভাঃ ১০(৮।২১)

শ্রী শুকদেব বললেন -

হে রাজন ! শ্রীকৃষ্ণের অদ্ভুত শৈশব লীলার কথা শ্রবণ করুন। ভক্তবৎসল ভগবান ভক্তের ভক্তিতে ঋণী হয়ে ভক্তের কোলে শিশুরূপে ক্রীড়া করছেন। শিশুলীলার সহায়ক হলেন শ্রীবলরাম। যশোদার অঙ্গনে বাল্যলীলাচ্ছলে বলরামের সঙ্গে হামাগুড়ি দিয়ে ভ্রমণ করছেন। সর্ব্বজ্ঞ হয়েও অসর্ব্বজ্ঞের ন্যায় লীলা। কটিতটে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিঙ্কিণীর শব্দে মুগ্ধ হয়ে চারিদিকে দৃষ্টিপাত বিবিধ মিষ্টি করছেন—এ মধুর শব্দ কোথা হতে আসছে। সামনে যে গোপ-নারীকে | দেখছেন মা বলে তাঁকে জড়িয়ে ধরছেন। কখনও নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে | ভ্রমবশতঃ তাঁকে ধরবার জন্য ক্রন্দন করছেন। তা দেখে গোপ গোপীগণ আনন্দে হাস্য করছেন।

শিশুলীলাকারী হরি কখনও রোদন, কখনও হাস্য, কখনও নৃত্যগীত করছেন। নন্দের ভবন আনন্দময়। আবার কখনও কখনও যশোদার ক্রোড়ে স্তন পান করছেন, ক্রোড়ে নৃত্য করছেন, মা-মা আধ আধ বাক্য উচ্চারণ করছেন। মা যখন ভূতলে রাখছেন, যশোদার চরণোপরি মস্তক লুণ্ঠন করছেন। কি অপূর্ব্ব ভগবানের বাল্যলীলা মাধুরী !

মা কোনদিবস স্বর্ণবাটিতে কিছু লাড্ডু শিশুকে দিলেন। শিশু সে বাটি হাতে করে বাইরের বারান্দাতে বসে খাচ্ছেন আর কাক শালিক বানরগণকে একটু একটু করে খাওয়াচ্ছেন। আর চারিদিকে দৃষ্টিপাত করছেন। এমন সময় একটি কাক শিশুর বাটি থেকে মাখন রুটি নিয়ে গেল। বালক তা দেখে কেঁদে ধরাতলে লুটিয়ে পড়লেন। দূর হ’তে মা বালকের ক্রন্দন ধ্বনি শুনে তাড়াতাড়ি তথায় এলেন এবং বালককে কোলে নিয়ে বলতে লাগলেন বাপ নীলমণি। বল কি হয়েছে? কেন ভূতলে পড়ে কান্না করছ?

বালক বললেন—মা কাকে রুটি নিয়ে গেছে। মা বললেন—তাতে কি হয়েছে, তোমাকে আবার রুটি দেব। বাপধন নীলমণি। ওরা ত’ তোমার বাবার রাজ্যে থাকে, পাখী জাতি, খেতে না দিলে ওরা কোথায় খাবে? গোপাল এ কথা শুনে সুখী হলেন, সেদিন থেকে আদর করে সকলকে খাওয়াতে লাগলেন।

নগরের অপরাপর শিশুগণ প্রতিদিন নন্দভবনে এসে গোপালের সঙ্গে খেলতে লাগলেন। কোনদিন গৃহ বারান্দায়, কোনদিন রাস্তা পাশে খেলেন। একদিন বালু দিয়ে মন্দির নির্মাণ খেলা করছেন। গোপাল বালু দিয়ে একটি মন্দির নির্মাণ করে সখাদিগের প্রতি বললেন—আমি কত সুন্দর মন্দির। নির্মাণ করেছি। এমন সময় এক চঞ্চল শিশু মন্দিরটি ভেঙে দিয়ে পালাল। তা দেখে গোপাল কেঁদে ধরাতলে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন—বললেন আমার মন্দির ভেঙে দিল। তখন গোপীগণ ছুটে এলেন এবং কোলে তুলে নিলেন, বললেন কাঁদছ কেন? আবার তুমি একটি মন্দির তৈয়ারী কর; এবার আমরা পাহারা দিব। যিনি ভ্রু-ভঙ্গিতে বিশ্ব সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় করে থাকেন, তার এ কি বিচিত্র শিশুলীলা !

দীপাবলীদিবস মা যশোদা দাসী গোপীগণকে অন্যান্য কাৰ্য্যে লাগিয়ে স্বয়ং দামোদরের জন্য দধিমন্থন দুধ জ্বালাতে লাগলেন। শিশু প্রাতঃ নিদ্রা ভাঙার পর শয্যা মধ্যে মাকে না দেখে মা ! মা !! বলে কাঁদতে লাগলেন। মা দূর থেকে 'গোপাল এখানে এস, এখানে এস’ বলে আহ্বান করতে লাগলেন। বালক করকমলে নেত্রদ্বয় মার্জ্জন করতে করতে কাছে এলেন এবং মন্থনদণ্ডী ধরলেন, মা তৎক্ষণাৎ মন্থন বন্ধ করলেন এবং সে স্থানে বসলেন ও বালককে স্তনপান করাতে আরম্ভ করলেন। অন্যগৃহ মধ্যে দুধ জাল হচ্ছে। দুধ উথলিয়ে পড়ছে দেখে তাড়াতাড়ি মা গোপালকে বসিয়ে রেখে দুধের স্থানে এলেন। বালকের মনে ক্রোধ হল। আমাকে খেতে না দিয়ে মা কেন চলে গেল।

অনন্তর ক্রোধাবেশে একটিনুড়ি দিয়ে দধির ভাণ্ডটীর তলদেশ ভেঙে দিলেন। সব দধিতে ঘর ভরে গেল। বালক হাস্য করলেন আবার ভয় করতে লাগলেন। আজ মা আমাকে নিশ্চয় মারবেন। গোপাল গৃহান্তরে প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন গৃহমধ্যে শিকোপরি মাখন দধি ঝুলছে চঞ্চল বালক একটি উদুখল টেনে এনে উপুড় করে, তার উপর বসলেন এবং দধিমাখন বের করে জানলার ফাঁক দিয়ে বানর ও কাককে খাওয়াতে লাগলেন। মা জানালা দিয়ে কিছুক্ষণ এ লীলা দেখে মনে মনে বললেন—শিশু বড় হলে খুব দানী-মানী হবে। প্রাতেঃ নিজের ক্ষুধার প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে অন্য জীবের কিরূপ সেবা করছে। তারপর মা বললেন— গোপাল এঘরে কি করছ? শিশু মাকে দেখে ভয়ে উদুখল থেকে লাফ দিয়ে পালাতে চেষ্টা করতে লাগলেন। মা গৃহদ্বার বন্ধ করে দিলেন। বালকের পিছে পিছে ছুটতে লাগলেন। শুকদেব গোস্বামী বললেন—শুন পরীক্ষিৎ, যোগীগণ যাঁকে ধ্যানযোগে দর্শন পায় না। ভক্ত তাঁকে ‘আমার পুত্র’-জ্ঞানে ধরবার জন্য পিছে পিছে ছুটছেন। ভক্ত-ভগবানের কলহ হলে ভগবান পরাজিত হন। যশোদা মা দৌড়ে দৌড়ে পিছন থেকে কৃষ্ণকে ধরে ফেললেন। মায়ের হাতে লাঠি দেখে বালক জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন। মা বললেন কাঁদছ কেন? গোপাল বললেন তুমি লাঠি দিয়ে আমাকে মারবে?

মা—লাঠির এত ভয় ত’ চুরি কর কেন?
গোপাল—আমি চুরি করি না।
যশোদা—কে চুরি করে?
গোপাল—ওদের ঈশ্বর।
যশোদা—তুমি কি ঈশ্বর? পাকাচোর।
গোপাল—আমি চোর নহি, তোমার ঠাকুরদাদা চোর।
যশোদা—কথায় পারা যায় না। এই বলে লাঠি ফেলে দিয়ে দড়ি হাতে করে বললেন—আজ তোমাকে বেঁধে রাখব।
গোপাল—মা! আমাকে বেঁধ না, আমি আর পরের ঘরে যাব না;মাখন চুরি করব না।

মা -তোমার কথা শুনব না। আজ তোমাকে বাঁধবই। মা এ কথা বলে বাঁধবার জন্য পূর্ণ উদ্যম করলেন। যতবার বাঁধতে যান, দড়ি আঁটে না; দু’ অঙ্গুলি কম হয়। শরীর ঘর্মে ঘর্মময় মাথার কেশবন্ধন এলিয়ে পড়ল হাত লাল হয়ে গেছে। তথাপি বাঁধবার পূর্ণ চেষ্টা। ভগবান মনে মনে বললেন আমি চিরকাল ভক্তের কাছে পরাজয় স্বীকার করি। অতএব মাকে আর কষ্ট দেই কেন ? পরাজয় স্বীকার করি।
দৃষ্ট্বা পরিশ্রমং কৃষ্ণঃ কৃপায়াসিত স্ববন্ধনে।

ভক্তশ্রম ও ভগবানের কৃপা দুই একত্র হল। ভগবান্ বন্ধন স্বীকার করলেন। যশোদার জয় জয়কার হল। মা সহাস্যবদনে বালককে কোলে নিলেন এবং অঞ্চলের দ্বারা ধূলি-ধূসরিত অঙ্গখানি মুছিয়ে দিলেন এবং কোলে বসিয়ে স্তন পান করাতে লাগলেন।
এদিন থেকে গোপালের এক নাম হল দামোদর।

গোদা শব্দের অর্থ—বড় ভাল। গোদাদামোদর অর্থ বড় ভাল দামোদর। গোপীগণ এ নামে তাঁকে আহ্বান করতেন, ভাল দামোদর। জয় জয় গোদাদামোদর দেব কী জয়।

প্রবোধিনী বাসরেতে হরির সাক্ষাতে।
বন্ধনলীলাদি শুনে একান্ত ভাবেতে।।
সর্ব্বপাপ ক্ষয় হয় শুদ্ধ হয় মন।
অস্তে গোবিন্দের পদ পায় সেইজন।।
গুরু পুরীপাদপদ্ম হৃদি করি আশ।
করিল কীর্ত্তন ইহা হরিজন দাস।।

ইতি প্রবোধিনী একাদশী শ্রীহরিবাসরে দামোদরদেবের মাহাত্ম্য সমাপ্ত।


Hare Krishna 🙏🏻💫Purchase the limited edition 150 rupee commemorative coin, released in honour of the 150th Birth Anniver...
06/11/2024

Hare Krishna 🙏🏻

💫Purchase the limited edition 150 rupee commemorative coin, released in honour of the 150th Birth Anniversary of Srila Bhakti Siddhanta Saraswati Goswami Prabhupad.

👉🏽The available types include folder frames, photo frames, and Asrelic stand frames

Contact for Purchase : 8617528955 (Surabandhu Das)

Today's divine darsan at Kolkata bhagbazar gaudiya math 🙏🙏 hare Krishna 🙏🙏🙏
05/04/2024

Today's divine darsan at Kolkata bhagbazar gaudiya math 🙏🙏 hare Krishna 🙏🙏🙏

একাদশী তালিকা ও বৈষ্ণবীয় তিথিসমূহ ২০২৪All Ekadashi and Vaishnav Tithi's List 2024 (January to December)
27/03/2024

একাদশী তালিকা ও বৈষ্ণবীয় তিথিসমূহ ২০২৪

All Ekadashi and Vaishnav Tithi's List 2024 (January to December)

🌼ফাল্গুন শুক্লপক্ষীয় 'আমলকী' একাদশীর ব্রতোপবাস 👉🏻 ২০ই মার্চ ২০২৪, বুধবার [পরের দিন দি ৯।০১ মিঃ গতে ৯।৪২ মিঃ মধ্যে একাদশ...
19/03/2024

🌼ফাল্গুন শুক্লপক্ষীয় 'আমলকী' একাদশীর ব্রতোপবাস

👉🏻 ২০ই মার্চ ২০২৪, বুধবার

[পরের দিন দি ৯।০১ মিঃ গতে ৯।৪২ মিঃ মধ্যে একাদশী ব্রতের পারণ ]

[একাদশীতে কী কী করা এবং খাওয়া উচিত নয়]

১। ধান জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন চাল, মুড়ি, চিড়া, সুজি, পায়েস, খিচুড়ি, চালের পিঠা, খই ইত্যাদি

২। গম জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন আটা, ময়দা, সুজি, বেকারির রুটি, সব রকম বিস্কুট, হরলিকস ইত্যাদি।

৩। যব বা ভূট্টা জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন ছাতু, খই, রুটি ইত্যাদি।

৪। ডাল জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন মুগ, মাসকলাই, খেসারি, মুসুরী, ছোলা, অড়হর, মটরশুঁটি, বরবটি ও সিম ইত্যাদি।

৫। সরষের তেল, সয়াবিন তেল, তিল তেল ইত্যাদি। উপরোক্ত পঞ্চ রবিশস্য যে কোনও একটি একাদশীতে গ্রহণ করলে ব্রত নষ্ট হয়।

অদ্য শ্রীবিষ্ণুর দশ বা ষোড়শোপচারে পূজা। “ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়” মন্ত্রে—আসন, পাদ্য, অর্ঘ্য, আচমন পঞ্চামৃতে বিষ্ণুকে স্নান করাবে।
নৈবেদ্য—শালি তণ্ডুলের অন্ন, ব্যঞ্জন, পায়স, ক্ষীর, দধি, দুগ্ধ, বিবিধ মিষ্ট, বিবিধ ফল মূলাদি অর্পণ ও বিবিধ সৌগন্ধ পুষ্পের মাল্যাদি সমর্পণ করবে।
দ্বিপ্রহরে ভোগারতি, নামসঙ্কীর্ত্তন, পরিক্রমা, নৃত্য-গীত, স্তব ও দণ্ডবতাদি করবে। অতঃপর ভক্তসঙ্গে শ্রীবিষ্ণুর বামনাবতার কথা শ্রবণ করবে।
স্তব—বিষ্ণবে বাসুদেবায় হরয়ে কেশবায় চ।
জনাৰ্দ্দনায় কৃষ্ণায় নমো ভূয়ো নমো নমঃ।।
ভবিষ্যন্নরকঘ্নয় নমঃ কংসবিঘাতিনে।
অরিষ্টকেশীচাণুর দেবারি ক্ষয়িণে নমঃ।।
কথারম্ভ—শ্রীবামনপুরাণ। পুলস্ত ও নারদ সংবাদ —
শ্রীনারদমুনি জিজ্ঞাসা করলেন—হে মুনিশ্রেষ্ঠ! ধুন্দু দৈত্য বধের জন্য শ্রীবিষ্ণু বামনরূপ ধরেছিলেন, সেই আখ্যানটি বিস্তৃতরূপে শুনতে ইচ্ছা করি।
পুলস্ত্য মুনি বললেন– হে নারদ! এ আখ্যান তুমি সমাহিত চিত্তে শ্রবণ। কর। কশ্যপ মুনির ঔরসে ‘দনু’ নাম্নী পত্নীগর্ভে ধুন্দু নামক এক অসুর পুত্র জন্মগ্রহণ করে। হিরণ্যকশিপু ও হিরণ্যাক্ষ কশ্যপের ঔরসে দিতির গর্ভে জন্মগ্রহণ করে। ধুন্দু তাদের ছোট ছিল। উভয়ের পরম সৌহৃদ্য ভাব ছিল। ধুন্দু দ্বিতীয় হিরণ্যকশিপুর ন্যায় ছিল। সে দিগ্বিজয়কালে দেবতাগণকে যুদ্ধে পরাস্ত করেছিল। চিরদিন দেবতাদের সঙ্গে তার ছিল বৈরীভাব। ধুন্দু শঙ্করের আরাধনা করে অজেয় হয়েছিল। দেবতাগণ ধুন্দুর কাছে পরাজিত হয়ে সত্যলোক আশ্রয় করেন। সেখানে দৈত্যগণ যেতে পারে না। তখন ঐ সত্যলোকে যাবার জন্য ভয়ঙ্কর মহাযজ্ঞের আয়োজন করল। দৈত্যগুরু শুক্রাচার্য্য যাবতীয় বিধি ব্যবস্থা করলেন, শুভক্ষণে মহাযজ্ঞের কার্য আরম্ভ হল। ভৃগুবংশীয় যাবতীয় ব্রাহ্মণগণ সেই মহাযজ্ঞে দীক্ষিত হলেন। যাবৎকাল যজ্ঞ সমাপ্ত না হবে তাবৎকাল ঐ ব্রাহ্মণগণ যজ্ঞ সদনে অবস্থান করবেন। যজ্ঞে ভোজের খুব আয়োজন। দান দক্ষিণা অতিথি সেবা বিরাট ব্যাপার। ধুন্দুর যজ্ঞস্থান হল দেবিকা নদীর তটে।
যথাকালে দিগ্বিজয় করবার জন্য যজ্ঞীর অশ্ব ছাড়ল। সঙ্গে সহস্র সহস্র দৈত্য অশ্বরক্ষার জন্য চলতে লাগল ।
মহাযজ্ঞকুণ্ডে এককালে সহস্র সহস্র ব্রাহ্মণ আহুতি প্রদান করছেন। যজ্ঞের ধূয়ায় স্বর্গলোক পৰ্য্যস্ত আচ্ছন্ন হল। সর্ব্বত্রই কেবল ধূয়া ধূয়াময়। সত্যলোকে বসে দেবগণ ধুন্দু দৈত্যের যজ্ঞের ধূয়া দর্শন করে পরম ভীত হয়ে পড়লেন। দৈত্য নিশ্চয় যজ্ঞবলে সত্যলোক আক্রমণ করবে।
দেবতাগণ নিরুপায় ভাবে, নিরুপায়ের উপায় শ্রীহরির শরণ গ্রহণ করলেন-- হে দেব! হে জনার্জন। হে পদ্মনাভ! হে বরদ প্রভো! আপনি ব্যতীত দেবতাগণের শরণ্য আর কেহই নাই। অধুনা ধুন্দু দৈত্য শঙ্করের বরে বলীয়ান্ হয়ে সমস্ত দেবতাগণকে পরাভূত করে ত্রিলোকের আধিপত্য করছে। বর্তমান সময়ে সে সত্যলোকে আগত দেবতাগণের বিনাশ কামনা করে বৃহৎ যজ্ঞানুষ্ঠান করছে। হে বিপদভঞ্জন মধুসুদন ! এ সময় দেবতাগণকে আপনি যদি রক্ষা না করেন, তবে দেবতাগণের কোন উপায় নাই।
ভগবান্ আকাশ বাণীতে তাঁদের অভয় প্রদান করলেন। অতঃপর তিনি বামন মূর্তি ধারণ করলেন।
“তত কৃত্বা স ভগবান্ বমনং রূপমিশ্বরঃ।"
- (বামন পুরাণ ৭৮ অঃ)
ভগবান্ বামন মুর্তি ধরে দেবিকা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে কাষ্ঠের ন্যায় একবার ডুবেন একবার ভাসেন, এরূপ ভাবে নদীতে হাবুডুবু খেতে খেতে যজ্ঞস্থলীর ঘাটে এসে লাগলেন। তখন নিরালম্ব ভাবে খুব জোরে জোরে করুণস্বরে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন – হে মহারাজ! হে মহারাজ! হে ব্ৰাহ্মণগণ আমাকে বাঁচান । আমাকে বাঁচান। বামনদেবের এ আর্দ্ররোদন শুনে চারিদিকে দৃষ্টিপাত করতে করতে নদী মধ্যে বামনকে দর্শন করলেন, সে হাবুডুবু খাচ্ছে আর বাঁচাও! বাঁচাও! চিৎকার করছে। বামনের আর্তনাদে ব্রাহ্মণ ও রাজা দুঃখিত হয়ে শীঘ্র তাঁকে ধরাধরি করে নদী হতে তুললেন। তখন বামন কম্পিত শরীরে কাঁদতে লাগলেন। তা দেখে দৈত্যপতি ধুন্দুর এবং ব্রাহ্মণগণের মনে খুব দয়ার উদ্রেক হল।
তখন দৈত্যপতি বলতে লাগলে – হে বামন! কেহ কি তোমায় জলে ফেলে দিল ? না তুমি পড়ে গিয়েছ? বামনদেব বলতে লাগলেন—হে দৈত্যপতি ! আমি বরুণ গোত্রোৎপন্ন ব্রাহ্মণ কুমার। পিতার নাম — প্রভাস। তিনি সর্ব্বশাস্ত্র বিশারদ পণ্ডিত ছিলেন। আমরা দু'ভাই, পিতার মৃত্যুর পর বড় ভাই আমার যাবতীয় সম্পত্তি অধিকার করল এবং অত্যাচার করতে লাগল। ভাইকে বললাম আপসে জমি, জমা ও সোনা ভাগ হউক। তা শুনে ভাই বললে — তুমি জমি, জমা ও সোনার কোন ভাগই পাবে না, কারণ কানা, খোঁড়া, অন্ধ, হিজড়ে, বামন ও পাগলে সম্পত্তির অধিকার পায় না। ভাইয়ের সঙ্গে খুব ঝগড়া হল। বড় ভাই তখন খুব রেগে আমাকে নদী মধ্যে ফেলে দিল। বললে—তুই মরে যা। তদবধি বৎসরেক কাল নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছি। আমার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হাত ও পায়ে কিছুই ধরতে পারি না। আজ আমাকে আপনারা উদ্ধার করলেন, বাঁচালেন। আপনাদের ন্যায় আর ত’ কোন বন্ধু জগতে দেখছি না। বলতে লাগলেন হে বটু ব্রাহ্মণ ! তুমি ইচ্ছানুরূপ বর প্রার্থনা কর। আমার অদেয় কিছুই নাই। জমি, গৃহ, স্বর্ণ, বিবিধ ভোজ্য দ্রব্য, মঠ, গৃহ যা ইচ্ছা কর তাই দিব।
বামনদেব বল্লেন—মহারাজ । আপনি মহাদানী সবকিছু দিতে পারেন। আমি ঐ সমস্ত দান নিতে অযোগ্য কারণ আমি দুর্বল, অন্যে জোর করে ঐ সমস্ত বস্তু কেড়ে নেবে। তজ্জন্য ঐ সমস্ত বস্তু চাই না। মহারাজ আমার পায়ের তিনপদ ভূমি দিলেই যথেষ্ট। অধিক রক্ষা করবার শক্তি আমার নেই।
বামনদেবের কথা শ্রবণে দৈত্যপতি খুব হাস্য করলেন। দৈত্যপতি ধুন্দু দানে প্রতিশ্রুতি দিলেন । অনন্তর দান করবার জন্য আচমন পূৰ্ব্বক হস্তে জল ধারণ করলেন—একপদে জল প্রদান করলেন তখন ঐ পদের মধ্যে পাতাল হতে ভূলোক পৰ্য্যস্ত ভূমি, সাগর, নদ, নদী, পাহাড়, রত্ন-খনি, দৈত্য, দানব ও নর সব দেখলেন।
দ্বিতীয়ে জল দিলেন, উহাতে স্বর্গের সহিত জনঃ, তপঃ ও সত্যলোক পর্যন্ত দর্শন করলেন। ধুন্দুর তিলমাত্র স্থান আর নাই। এবার বামন বিরাট রূপ ধরে বলতে লাগলেন—রে দৈত্যপতি ! তুই তিনপদ ভূমি দিতে চেয়েছিলি, তোর তিনপদ ভূমি কোথায় ?
তখন ভগবান্ মহাক্রোধভরে মেরু পর্ব্বতের ন্যায় শরীর ধারণ পূর্ব্বক দৈত্যপতির পৃষ্ঠোপরি পড়লেন। তৎকালে বিরাট রূপধারী ভগবানের শরীরের ভারে ধুন্দু ত্রিশ হাজার যোজন ভূমির নিম্নে গর্তের মধ্যে প্রবেশ করল।
“ত্রিংশদ্যোজন সাহস্ৰী ভূখেগর্তা দৃঢ়ীকৃতা।”
---(বামনপুরাণ ৭৮ অঃ)
বিরাট রূপধারী ভগবান বামন বিষ্ণুর চাপে দৈত্যপতি ধুন্দু প্রাণ ত্যাগ করল। প্রবল বায়ু প্রবাহিত করে গণ্ড বালু দ্বারা পূর্ণ করল এবং যজ্ঞ বিধ্বংস করল।
ভগবান্ শরণাগত—রক্ষাকারী দেবতাগণকে এভাবে অভয় দান করলেন। দেবতাগণ সানন্দে ভগবানের উপর পুষ্পবৃষ্টি, দুন্দুভি ধ্বনি এবং বহু স্তব- স্তুতি করতে লাগলেন।
ভক্ত রক্ষাকারী ভগবান এরূপে তিনবার বামন লীলা করেছেন, এটি প্রথমবার। এরপর হিরণ্যকশিপুর প্রপৌত্র বলির জন্য এবং ভ্রাতা ইন্দ্রের ভ্রম দূর করবার জন্য আরও দু'বার এসেছেন। হরির অবতার অসংখ্য। শ্রীহরিবাসরে যারা শ্রদ্ধান্বিত চিত্তে ভগবানের এ লীলাবতারের কথা শ্রবণ করবেন ভগবান্ তাদের প্রতি সদয় হয়ে সৰ্ব্বাভীষ্ট প্রদান করবেন।
ইতি শ্রীহরিবাসরে আমলকী একাদশী ব্রতকথা সমাপ্ত।

🌼 ফাল্গুন কৃষ্ণপক্ষীয়া 'বিজয়া একাদশীর' ব্রতোপবাস (শ্রীল ঈশ্বরপুরীপাদের তিরোভাব তিথি) 👉🏻 ৭ই মার্চ ২০২৪, বৃহস্পতিবার পরের...
06/03/2024

🌼 ফাল্গুন কৃষ্ণপক্ষীয়া 'বিজয়া একাদশীর' ব্রতোপবাস
(শ্রীল ঈশ্বরপুরীপাদের তিরোভাব তিথি)

👉🏻 ৭ই মার্চ ২০২৪, বৃহস্পতিবার
পরের দিন দি ৯।৫০ মিঃ মধ্যে একাদশী ব্রতের পারণ।

[একাদশীতে কী কী করা এবং খাওয়া উচিত নয়]

১। ধান জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন চাল, মুড়ি, চিড়া, সুজি, পায়েস, খিচুড়ি, চালের পিঠা, খই ইত্যাদি

২। গম জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন আটা, ময়দা, সুজি, বেকারির রুটি, সব রকম বিস্কুট, হরলিকস ইত্যাদি।

৩। যব বা ভূট্টা জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন ছাতু, খই, রুটি ইত্যাদি।

৪। ডাল জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন মুগ, মাসকলাই, খেসারি, মুসুরী, ছোলা, অড়হর, মটরশুঁটি, বরবটি ও সিম ইত্যাদি।

৫। সরষের তেল, সয়াবিন তেল, তিল তেল ইত্যাদি। উপরোক্ত পঞ্চ রবিশস্য যে কোনও একটি একাদশীতে গ্রহণ করলে ব্রত নষ্ট হয়।]

অদ্য পুণ্ডরীকাক্ষ শ্রীবিষ্ণুর দশ বা ষোড়শোপচারে পূজা। একাদশীবাসরে হবিষ্ণুর পঞ্চামৃতে স্নান। “ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়” মন্ত্রে—আসন, অর্ঘ্য ও আচমনাদি প্রদান করবে।

নৈবেদ্য—পায়স, ক্ষীর, অন্ন, ব্যঞ্জন, মিষ্টি, দধি, দুগ্ধ, বিবিধ ফল, বিবিধ সৌগন্ধপুষ্প অপর্ণীয়। দ্বিপ্রহরে ভোগারতি নাম সঙ্কীর্ত্তন, নৃত্য, গীত, পরিক্রমা, স্তব পাঠ ও দণ্ডবৎ করবে। অতঃপর সৎসঙ্গে পুণ্ড্ররীক শ্রীবিষ্ণুর মহিমা শ্রবণ করবে।

স্তব—
শ্রীজগন্নাথ নীলাদ্রিশিরোমুকুট রত্ন হে।
দারুব্রহ্মন্ ঘনশ্যাম প্রসীদ পুরুষোত্তম।।
প্রফুল্ল-পুণ্ডরীকাক্ষ লবণান্ধিতটামৃত।
গুটিকোদর মাং পাহি নানাভোগ-পুরন্দর।।

(শ্রীস্কন্দপুরাণান্তর্গত উৎকল খণ্ড-উদ্ধৃত। শ্রীকৃষ্ণলীলা স্তব)

মালবদেশে অবস্তীনগরীতে শ্রীইন্দ্রদ্যুম্ন নামে সূর্য্যবংশীয় এক পরম বিষ্ণুভক্ত রাজা ছিলেন। তিনি ভগবদ্ দর্শন-উৎকণ্ঠায় সতত বিভোর থাকতেন। এক সময় উৎকল পুরুষোত্তমক্ষেত্র হতে এক তৈথিক ব্রাহ্মণ তাঁর গৃহে অতিথি হন, কয়েকদিন ঐ ব্রাহ্মণ ভক্ত রাজার গৃহে পরম সুখে দিন যাপন করেন। ব্রাহ্মণ প্রসঙ্গক্রমে পুরুষোত্তম মাহাত্ম্য শ্রীনীলমাধবের কথা বর্ণনা করেন; মহারাজ তাঁর দর্শনোৎকণ্ঠায় কালবিলম্ব না করে সেই ব্রাহ্মণ এবং নিজ পুরোহিত ব্রাহ্মণকে তথা পরিবারবর্গসহ পুরুষোত্তম ক্ষেত্রাভিমুখে যাত্রা করলেন। পথে স্থানে স্থানে যাগযজ্ঞাদি করতে

ক্রমে পুরুষোত্তমক্ষেত্র নীলাচল গিরির সন্নিধানে উপস্থিত হলেন। ঐ ধামে প্রবেশের পথে তিনি এক নৃসিংহ মন্দির স্থাপন করে সব্ববিঘ্ন দুর ও মনোবাঞ্ছিত কার্যসিদ্ধির জন্য মহাপূজা করলেন এবং একটি সরোবর খনন করলেন। ঐ সরোবরের নাম হল ইন্দ্রদ্যুম্ন সরোবর। অদ্যাপি সরোবরটি দর্শন হয়।

পুরীর প্রবেশ দ্বারে একটি বসতবাটি নির্মাণ করলেন। ঐ বাটিকার নাম গুণ্ডিচা বাটিকা। রাণীর নাম ছিল গুণ্ডিচাদেবী। অদ্যাপি ঐ বাটিতে জগন্নাথদেব রথযাত্রায় বহির্গত হয়ে পনের দিবস নিবাস করেন।

অতঃপর মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন নিজ পুরোহিত বিদ্যাপতিকে নীলমাধবের খোঁজে পাঠালেন। তিনি বহু খোঁজ করে কিছুদিন পরে সন্ধান পেয়ে রাজার নিকট ফিরে এলেন, মহারাজ খুব খুশি হলেন। শুভদিনে পুরোহিত ব্রাহ্মাণদিগের সঙ্গে তাঁর দর্শনে যাত্রা করলেন, এমন সময় দৈবক্রমে মহাঝড়ের উদয় হল। কেবল ধূলিবর্ষা। নীলগিরি ধূলিতে আচ্ছন্ন হল। নীলমাধব অদৃশ্য হলেন। রাজার আর দর্শন হল না। তখন মহারাজ ও রাণী দুঃখে অনশন ব্রত করতে লাগলেন। সেইকালে আকাশবাণী হল—হে রাজন! তুমি নীলগিরির উপর মন্দির নির্মাণ কর, তথায় দারুব্রহ্মরূপে আমার দর্শন পাবে।

অতঃপর মহারাজ নীলগিরির উপর বিশাল মন্দির নির্মাণ করলেন। এখন দারুব্রহ্মকিভাবে প্রকট হবেন, ভাবতেভাবতে ব্রতাচারণ পূর্ব্বক ভগবানের নিকট প্রার্থনা করতে লাগলেন। ভগবদ্ প্রেরণায় এমন সময় শ্রীনারদমুনি তথায় আগমন করলেন। মহারাজ নারদমুনিকে মহাসমাদরে স্বাগত করতঃ উত্তমাসনে সভা মধ্যে বসালেন এবং পাদপুজাদি করবার পর করজোড়ে বললেন— হে ভগবন্! আমার প্রতি কি আদেশ বলুন।

নারদমুনি বলতে লাগলেন-হে রাজন! শ্রবণ কর। জ্যৈষ্ঠী পূর্ণিমাতে ভগবান্দারব্রহ্মরূপে সমুদ্রের মধ্য দিয়ে ভেসে আসবেন। আপনি মহাপুজাদি করে এ মন্দিরে তাঁকে স্থাপন করবেন, মূর্ত্তি নির্মাণ হলে, পিতা পরমেষ্ঠি

ব্রহ্মা স্বয়ং এসে শ্রীবিগ্রহের প্রতিষ্ঠা করবেন। মহারাজ এ কথা শ্রবণে পরম হৃষ্ট হলেন। তিনি জ্যৈষ্ঠী পূর্ণিমা তিথির দিকে চেয়ে রইলেন।

অতঃপর জ্যৈষ্ঠী পূর্ণিমাতে মহারাজ যাবতীয় পুরোহিত, বাদক, গায়ন সকলকে নিয়ে চক্রতীর্থের সন্নিধানে দণ্ডায়মান রইলেন। এমন সময়, মহাজ্যোতির্ময়রূপে দশদিক্ উজ্জ্বল করতে করতে সেই দারুব্রহ্মকে ভেসে আসতে দেখলেন। তৎকালে মহারাজ মহানন্দে বেদধ্বনি ও সঙ্কীর্ত্তন মহারোল হরিধ্বনিতে দশদিক্ মুখরিত করতে লাগলেন।

অনন্তর দেখতে দেখতে দারুব্রহ্ম তীরে পৌঁছিলেন, মহারাজ দণ্ডবৎ প্রণাম পূৰ্ব্বক মহামহা বলিষ্ঠ লোকগণ দ্বারা তুলে নববস্ত্র পেতে তাতে দারুব্রহ্মত্রয়কে স্থাপন করলেন। নীলবর্ণের বস্ত্রোপরি বলরামকে, পীতবর্ণের বস্ত্রোপরি সুভদ্রাদেবীকে ও বিদ্যুৎত্বর্ণের বস্ত্রোপরি শ্রীকৃষ্ণকে উপবেশন করালেন। তারপর অভিষেকপূজাদি করতঃ দারুত্রয়কে রথে করে মন্দিরে আনয়ন করলেন। এবার মহারাজ মূর্তি নির্মাণ বিষয়ে ভাবতে লাগলেন। বহু ছুতার মিস্ত্রী এনে দেখালেন, কিন্তু কেহই ঐ দারুবৃক্ষ দিয়ে মূর্ত্তি নির্মাণ করতে রাজি হলেন না। রাজা-রাণী খুব চিন্তান্বিত হলেন। কে মূর্তি নির্মাণ করবেন? এমন সময় এক বৃদ্ধ ছুতার মিস্ত্রী তথায় এলেন। তিনি বললেন, মূর্ত্তি

নির্মাণ করতে পারবেন। এ কাজ তিনি একাকিই করবেন।

মহারাজ বললেন—কতদিন লাগবে? মিস্ত্রী বললে—একুশ দিন লাগবে।

রাজা বললেন—বেশ কথা, আপনি কাজ আরম্ভ করুন, আপনাকে যথাযথ বেতন দেওয়া হবে। মিস্ত্রী বললে—ভগবানের কাজে বেতন গ্রহণ করি না।

অতঃপর তিনি মূর্তি নির্মাণ করবার জন্য মন্দির অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন, সঙ্গে কাহাকেও নিলেন না। মন্দিরের দরজা বন্ধ হল। দশ বারদিন পর্যন্ত কাজের শব্দ পাওয়া গেল তারপর আর কোন শব্দ শোনা গেল না। সকলে

বিচার করলেন বুড়ো ছুতার বিনা ভোজনে নিশ্চয় নির্মাণ কার্য্য করতে সক্ষম নহেন, অথবা প্রাণহানি হল না কি? নানা প্রকার সন্দেহ করতঃ রাজারাণী বড়ই কাতর হয়ে পড়লেন। পরিশেষে রাজারাণীর ইচ্ছায় চতুদর্শ দিবসে মন্দিরের দরজা খোলা হল। কিন্তু দেখলেন সেই বুড়া ছুতার মিস্ত্রী তথায় নাই। আশ্চর্য্য ব্যাপার? মূর্ত্তিগুলি অসম্পূর্ণ তৈয়ারী, পূর্ণ নির্মাণ হয়নি। রাজা রাণী বড়ই ব্যাকুল হলেন। প্রধান মন্ত্রী বললেন—বুড়ো ছুতার মিস্ত্রী আর কেহই নন, স্বয়ং জগন্নাথ।

রাজা-রাণী দুঃখে প্রাণত্যাগ করতে সংকল্প করলেন। সে রাত্রে স্বপ্নে স্বয়ং জগন্নাথ দর্শন দিয়ে বলতে লাগলেন—হে রাজন! খেদ পরিহার কর। আমি প্রাকৃত হস্ত-পদাদি রহিত হলেও নিত্য অপ্রাকৃত বিগ্রহবান্। ভক্তগণ প্রেম চক্ষে তা দর্শন পান। হে রাজন! আমার হস্ত পদাদি দর্শন করতে ইচ্ছা করলে স্বর্ণ বা রৌপ্য নির্মিত হস্ত-পদাদি দ্বারা সুশোভিত করতে পার।

অনন্তর শ্রীজগন্নাথ রাজার নিকট স্বীয় সেবা পূজা যাত্রাদির নিয়ম-নীতি প্রভৃতি সম্বন্ধে বলে অন্তর্ধান হন। অদ্যাপি সেই বিধি-অনুসারে জগন্নাথের সেবাপূজাদি এবং রথযাত্রা, স্নানযাত্রা ও চন্দনযাত্রাদি হয়ে থাকে।

তারপর সেই মূর্ত্তি প্রতিষ্ঠাকালে ব্রহ্মাকে আমন্ত্রণ করলেন। ব্রহ্মা শিবাদি সমস্ত দেবতাগণ স্বহস্তে সেই মূৰ্ত্তি প্রতিষ্ঠা উৎসব অনুষ্ঠান করলেন। সেই মহামহাভিষেক উৎসবে দ্যুলোক, ভূলোক ও স্বর্গলোক আনন্দে ভরে উঠল।

ভগবান্ মর্ত্য ধামে দারুব্রহ্মরূপে বৈকুণ্ঠধামের সহিত সমগ্র জীবজগতকে দর্শন দিলেন। নীলাচল ক্ষেত্র সাক্ষাৎ বৈকুণ্ঠধাম। ভগবান চতুর্ভুজরূপে নিত্য বিদ্যমান। যাঁরা একবার এ দিব্যধামে এসে পূজা, পরিক্রমা ও উৎসবাদি দর্শন করবেন, তারা অবশ্যই মুক্তিপদ প্রাপ্ত হবেন। সমস্ত শাস্ত্রে এ দিব্যধামের মহিমা কীৰ্ত্তিত হয়েছে।

ব্রহ্মা অভিষেকানন্তর এ স্তব করেন
তির্য অনুষ্যবিবুধাদিষু জীবযোনি
স্বাত্মেচ্ছয়াত্মকৃতসেতুপরীঙ্গয় যায়।
রেমে নিরস্ত বিষয়োপ্যরুদ্ধ দেহ
স্তস্মৈ নমো ভগবতে পুরুষোত্তমায়।।

যুদ্ধ বললেন—হে পুরুষোত্তম! আপনি আপনার ধর্মসেতু রক্ষার জন্য সূত্য, তির্যাক্, ঋষি ও দেবাদি যোনিতে অবতীর্ণ হয়ে জগৎবাসীকে কৃপা করেন। আপনাকে বার বার নমস্কার করি। যাঁরা শ্রীহরিবাসরে পুণ্ডরীক বিষ্ণুর মহিমা শ্রবণ করবেন তাঁরা মুক্তি পদ প্রাপ্ত হবেন।

ইতি শ্রীহরিবাসরে বিজয়া একাদশী তিথি বাসরে পুণ্ডরীক বিষ্ণুর কথা সমাপ্ত।

Address

Kaliprosad Chakraborty Street
Kolkata
700003

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sri Bhaktipatra "শ্রীভক্তিপত্ৰ" posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Sri Bhaktipatra "শ্রীভক্তিপত্ৰ":

Share