Bharat Sevashram Sangha

Bharat Sevashram Sangha The Official Facebook Comunity Page of BHARAT SEVASHRAM SANGHA It was founded in 1917 by Acharya Srimat Swami Pranavanandaji Maharaj.

Bharat Sevashram Sangha (Bengali: ভারত সেবাশ্রম সংঘ) is a Hindu charitable non-governmental organisation in [India]. The Sangha has hundreds of ashrams in India and other countries including the United Kingdom, United States, Guyana, Canada, and Bangladesh. It has initiated several missions to African countries, Malaysia, and Indonesia; monks from the Sangha have accompanied United Nations delegat

ions to Syria and Lebanon. Activities

Bharat Sevashram Sangha centre in New Delhi
The Sangha has responded to natural calamities in Andhra Pradesh and Orissa states, the Bengal famine of 1943, the Bhopal disaster, the 2001 Gujarat earthquake, and the 2004 Indian Ocean tsunami. At times of political unrest such as the Partition of India, the Sangha has set up refugee camps and war evacuee camps in the border areas. It has organised several projects to help impoverished Indian tribal people. One such project involved providing schooling for children of the Sabar tribe and providing them with housing and healthcare.It also hosts courses to train youths in information technology to enable them to find jobs which require IT skills. Following the 2004 Indian Ocean earthquake, the Sangha's monks proposed to set up a school for orphans at a cost of Rs. 4250,000s, an orphanage at Rs.6020,000, and 200 houses at Rs.30 millions on the Andaman and Nicobar Islands.In Tamil Nadu state, where the tsunami killed more than 7,000 in the districts of Cuddalore, Nagapattinam and Chennai, the Sangha was one of the first to begin massive relief operations by building nearly 200 new houses at Sonankuppam village in Cuddaloer. Fishing boats and nets were also distributed to locals who had lost everything to the sea. The Sangha actively provides shelter, food, medical treatment and public safety services to pilgrims at various places of worship and religious fairs in India, such as the Kumbha Mela. It operates free hospitals at Barajuri and Kolkata, mobile dispensary and medical units in sixty-four locations, a free residence for patients and their families in Navi Mumbai, and four hospitals and homes for leprosy patients. A 500-bed hospital at Joka, Kolkata was inaugurated in 2010 by the Indian Finance Minister as an example of private-public partnerships in healthcare.

জাতিভেদ প্রথাকে হাতিয়ার করে হিন্দু সমাজকে টুকরো করার যে বিষবৃক্ষ তৈরি করা হয়েছিল, তার মূলে কুঠারাঘাত করতে আবির্ভূত হলেন ...
14/08/2026

জাতিভেদ প্রথাকে হাতিয়ার করে হিন্দু সমাজকে টুকরো করার যে বিষবৃক্ষ তৈরি করা হয়েছিল, তার মূলে কুঠারাঘাত করতে আবির্ভূত হলেন যুগপুরুষ স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ । যিনি ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন সনাতনী হিন্দু বাদে বাকি ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীরা সঙ্ঘবদ্ধ ও সুরক্ষিত। কিন্তু ভারতের হিন্দু জনগণ অরক্ষিত, বিচ্ছিন্ন, ছিন্নভিন্ন, বিবাদমান,দুর্বল। হিন্দুদের জ্ঞানচক্ষু খুলে দেওয়ার তাগিদে স্বামী প্রণবানন্দ বলিষ্ঠ কন্ঠে বলেছিলেন-

“যে যা, তাকে তাই বলে ডাকলে সে সাড়া দেয়।মুসলমানকে মুসলমান বলে ডাক দেওয়া হচ্ছে, তাই সে সাড়া দিচ্ছে। খ্রিষ্টানকে খ্রিষ্টান বলে ডাক দেবার লোক আছে, তাই সে ডাকে সাড়া দিচ্ছে, নিজেদের অস্তিত্বও সেভাবে অনুভব করছে। কিন্তু হিন্দুকে হিন্দু বলে ডাক দেবার লোক নেই। গত একশো বছর ধরে কেউ ডাক দিয়েছে-‘ব্রাহ্ম’ বলে, কেউ ডেকেছে ‘আর্য্য’ বলে, কেউ ডেকেছে ‘ভারতীয় জাতি’ বলে, কোন পক্ষ তাকে আখ্যা দিয়ে রেখেছে অমুসলমান। বিরাট ভারতীয় জাতটা অসাড়, অবশ হয়ে আত্মভোলা হয়ে ঘুমিয়ে রয়েছে।আজ সময় এসেছে হিন্দুকে হিন্দু বলে ডাক দেবার।”

স্বামী প্রণবানন্দ দ্ব্যর্থহীণ ভাষায় বলেছেন-

“ প্রত্যেক হিন্দু পরিবারকে শাস্ত্র, সদাচার ও হিন্দু ধর্মের অনুশাসন মেনে চলতে হবে প্রতিদিন নিয়মিত ভাবে,ব্যক্তিগত ও সমবেত ভাবে সকলকে নিয়ে ভগবানের উপাসনা ও কীর্তনাদি করতে হবে। হিন্দুত্বের আদর্শে জীবন যাপন করে প্রত্যেককে মনে প্রাণে, আচরণে ব্যবহারে, আহারে বিহারে,পোশাকে পরিচ্ছদে,বাক্যলাপে ও চিন্তা ভাবনা প্রভৃতিতে খাঁটি হিন্দু হতে হবে এবং হিন্দুত্বকে রক্ষার জন্য কঠোর প্রতিজ্ঞা গ্রহন করতে হবে।”

সংহতি চেতনা জাগাবার জন্যে স্বামী প্রণবানন্দ বলেছিলেন –“হিন্দুর বিদ্যা বুদ্ধি, অর্থ ও সামর্থ আছে, কিন্তু নেই সংহতি শক্তি। এই সংহতি চেতনা জাগিয়ে দিলে হিন্দু আবার জাগ্রত হবে”।

শ্রী শ্রী আচার্য্যদেব বলেছিলেন, ” আমি হিন্দুকে হিন্দু হিন্দু জপ করাব, তবেই তাদের মধ্যে মহাশক্তির সঞ্চার হবে।”
হিন্দু ধর্মের জাগরণের লক্ষ্যে স্বামী প্রণবানন্দ তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত চেষ্টা করে গেছেন। এবং বহুবিধ কর্মধারার প্রবর্তন করে গেছেন। স্বামী প্রণবানন্দ স্থাপন করলেন হিন্দু মিলন মন্দির। গ্রামে গ্রামান্তরে হিন্দুদের সামাজিক মিলন ক্ষেত্র। শ্রী শ্রী গুরু মহারাজ বললেন – “আমার মন্দির, কোনও ইট পাথরের মন্দির নয়। ইট পাথর গেঁথে গেঁথে লোকে মন্দির করে,আমি হিন্দুসমাজের খণ্ডবিখণ্ড অঙ্গগুলো, ছিন্নবিছিন্ন অংশগুলিকে গেঁথে বিরাট হিন্দুমিলন মন্দির তৈরি করব। আমার মিলন মন্দির হচ্ছে-হিন্দুর সার্বজনীন মিলনক্ষেত্র।”

" হিন্দু, তুমি কি জানো না তুমি শক্তির পূজক, শক্তির উপাসক? তোমার সেই শক্তি-সাধনা কোথায়? শিবের হাতে ত্রিশূল, তাহা দেখিয়া ত...
13/08/2026

" হিন্দু, তুমি কি জানো না তুমি শক্তির পূজক, শক্তির উপাসক? তোমার সেই শক্তি-সাধনা কোথায়? শিবের হাতে ত্রিশূল, তাহা দেখিয়া তুমি কি চিন্তা করিবে? শ্রীকৃষ্ণের হাতে সুদর্শন, তাহা দেখিয়া তুমি কি ভাবনা ভাবিবে? কালীর হাতে রক্তাক্ত খড়গ, দুর্গার হাতে দশ-প্রহরণ, তাহা দেখিয়া তুমি কি শিক্ষা লাভ করিবে? এই মহাশক্তির সাধনা করিয়া মানুষ দুর্ব্বল হইতে পারে কি? একবার ধীর স্থির হইয়া চিন্তা কর। "
--যুগাচার্য্য স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ।

।।স্বামী প্রণবানন্দ : মহাযোগী ও মহাবিপ্লবী।।"ভোলা, ও ভোলা, ওঠ।"রাত্র গভীর। মহাযোগী ডাকিতেছেন অনুজ ভোলাকে। কিশোর ভোলা ঘুম...
13/08/2026

।।স্বামী প্রণবানন্দ : মহাযোগী ও মহাবিপ্লবী।।

"ভোলা, ও ভোলা, ওঠ।"
রাত্র গভীর। মহাযোগী ডাকিতেছেন অনুজ ভোলাকে। কিশোর ভোলা ঘুমে ভুলিয়া আছে, কিন্তু মহাযোগীর দুই চক্ষে ঘুম কোথায়? গ্রামের মানুষ জানে ইনি একজন অধ্যাত্মমার্গের মানুষ। সাধন-ভজন করেন, ধ্যান-সমাধিতে মগ্ন থাকেন, ব্রহ্মচর্য পালন করেন, নিরামিষ খান ইত্যাদি। কিন্তু এই মানুষটির অন্তরের গভীরে যে অন্তহীন ব্যথা বিদ্যমান, সে কথা জানে কয়জনে। মহাযোগীর ধ্যান-ভজন- তপস্যা তাহার নিজের ব্যক্তিগত মুক্তির জন্য নহে। তিনি চাহেন ভারতের মহামুক্তি। সহস্র বৎসরের পরাধীন ভারত আজ দুর্দশার চরম শিখরে। সমগ্র দেশে মহাজাগরণ, মহামিলন, মহাসমন্বয়ের মহাপ্লাবন আনিতে হইবে। তবেই দেশের মহামুক্তির লক্ষ্যের সম্পূর্তি সম্ভব। কিন্তু কি সেই পথ, যে পথে চূড়ান্ত সিদ্ধির অমৃত ফল লভ্য? সেই পথ, সেই যুগসূত্র আবিষ্কারেই তো মহাযোগী নিত্য শ্মশানে গিয়ে যোগসাধনায় মগ্ন হন, আর তাঁহার অনুজ প্রিয় ভ্রাতা ভোলা ত্রিশূল হস্তে লইয়া পাহারা দেয় যাহাতে কোন পথচারী দাদার যোগবিঘ্ন না ঘটায়।

ভোলা উঠিল। মুহূর্ত্তে তন্দ্রার অবেশ জয় করিয়া জানিতে চাহিল— এখন শ্মশানে যাইবার সময় হইয়াছে কিনা। মহাযোগী উত্তরে বলিলেন যে, আজ আর শ্মশানে যাওয়া হইবে না, এই ভারতবর্ষই তো এক মহাশ্মশান। স্বতন্ত্র শ্মশানের প্রয়োজন কি? চুপি চুপি বলিলেন— “দত্ত মশায়কে তাহার বাড়ী হইতে ডাকিয়া আনিতে পারিস। তবে সাবধান, গুপ্ত পথে কৌশলে যাইতে হইবে। এই বাড়ী পুলিশ ঘেরাও করিয়াছে।"

বুদ্ধিমান ভোলা প্রস্তুত। দাদার আদেশ ও আশীর্বাদ পাইলে সে কিনা করিতে পারে। পুলিশ বাড়ীর এক স্থানে ঘাঁটি বাঁধিয়া যখন নিরুবির মনে খৈনি টিপিতেছে তখন ভোলা ভূঁইয়া বাড়ীর বিশাল আমবাগানের নিভৃত পথ দিয়া উধাও। পল্লীর বাস্তু তো আর প্রাচীরে পরিবেষ্টিত নয়, সব পথই প্রায় উন্মুক্ত।
মহাযোগীর বিশ্বস্ত সহচর নিশিকান্ত দত্ত পুলিশ ঘেরাও এর বার্তা শুনিলেন। তাহার বুঝিতে বাকী রহিল না যে এই কাজ চৌকিদার বিশ্বনাথ শীলের। সাধুর বাড়ীর (ভূঁইয়া বাড়ী) পার্শ্বেই তাহার ঘর। বিশ্বনাথ জানে—বিপ্লবী পূর্ণদাস ও সন্তোষ দত্ত এবং তাহাদের সাঙ্গ-পাঙ্গদের সহিত সাধুর ঘনিষ্ঠতা বিদ্যমান। তাহারা প্রায়ই রাত্রে সাধুর কাছে আসে। কখনো কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাইয়া যায়। বিশ্বনাথের বিশ্বাস, আশে পাশে যত স্বদেশী ডাকাতি হয় তাহার সহিত সাধু লিপ্ত আছে। মহাযোগীর ঘনিষ্ঠ সেবকরূপে দত্ত মহাশয় কিন্তু জানেন বিপ্লবীরা সাধুর কাছে দেশসেবার অমিত প্রেরণা পায়, আর পায় নির্মূল চরিত্র গঠনের উপদেশ ও সাধনসঙ্কেত। বিপ্লবীরা সাধুর অতি প্রিয় পাত্র। অনেক সময় প্রশংসামুখর সাধু বলেন—“বিপ্লবী ছেলেরা এক একটি দেব-শিশু।” তবে দত্ত মহাশয়ের ইহাও জানা আছে যে, তখনো পর্যন্ত ভূঁইয়া বাড়ীর ধানের গোলায় বিপ্লবীদের দুইটি পিস্তল, সাতটি সুতীক্ষ্ণ তরবাল, একটি হাতবোমা এবং কিছু ছোরা ও বর্ণা লুক্কায়িত আছে। বিশ্বনাথ চৌকিদার আড়াকাঠি বটে, কিন্তু গোয়েন্দা পুলিশও মাধুর পিছনে লাগিয়াছিল। ঠিক কায়দা মত তাহারা আসিয়া পড়িয়াছে। সম্মুখে গুরুতর বিপদ। কিন্তু উপায়? সাধুর উপায় সাধু নিজেই জানেন। দত্ত মহাশয় তো আজ্ঞাবহ মাত্র।

ভূঁইয়া বাড়ীর সেই গুপ্ত বাগান পথে ভোলা ও দত্ত মহাশয় আসিয়া উপস্থিত। বাগানের সংলগ্ন একখানি দোতালা টিনের ঘর। তাহার পশ্চাৎ দ্বার দিয়া উভয়ে ঐ গৃহে অনুপ্রবিষ্ট। পুলিশের সুতীক্ষ দৃষ্টি প্রধানতঃ পাকা দালানের প্রতি যাহার বৈঠকখানায় মহাযোগী অবস্থান করেন। ঐখানে যাইয়া সাধুর সহিত সাক্ষাৎ করিতে হইবে। কার্যটি কঠিন কিন্তু উপস্থিত বুদ্ধির দ্বারা তাহা না করিলেও নয়। দত্ত মহাশয় সদর উঠানে পা বাড়াইতেই পুলিশ বাধা দিল। দত্ত মহাশয় বলিলেন— "কেন বাধা দিতেছেন। আমরা তো এই বাড়ীরই লোক। এই টিনের ঘরটায় শুই। এখন কোঠা ঘরে যাওয়ার প্রয়োজন হইয়াছে যাইবো না।" পুলিশ আর আপত্তি করিল না।

দত্ত মহাশয়কে দেখিয়া মহাযোগী প্রসন্ন। শলাপরামর্শ চলিল অতি সাবধানে ও সঙ্গোপনে, কি উপায়ে ঐ অস্ত্রশস্ত্রগুলি সরানো যায়। দত্ত মহাশয়ের প্রস্তাব, যে ভাবে গোপন পথে তিনি আসিয়া পৌঁছিয়াছেন, ঐ উপায়ে ঐগুলি বাড়ীর বাহিরে অন্যত্র সরাইয়া ফেলা। কিন্তু তীক্ষ্ণধী ও দূরদর্শী মহাযোগী সেই প্রস্তাব অনুমোদন করিলেন না। কেন না, তাহাতে বিপদের আশু সম্ভাবনা। এই দালানেরই এমন একটি নিরাপদ স্থান নির্বাচন করিতে হইবে যেখানে কিছু থাকিতে পারে বলিয়া সহসা পুলিশের সন্দেহ হইবে না। সেই স্থানটি কোথায়? সেই প্রাচীন আমলের কোঠা ঘর। সুপ্রশস্ত তাহার প্রাচীর। গৃহাভ্যন্তরে ছাদের নীচে কারুকার্যখচিত সুন্দর কার্ণিস । যোগিবরের আদেশ—" ঐ কার্ণিসের ফাঁকে ফাঁকে সব জিনিসগুলি সামলাইয়া রাখুন।” যেমন আদেশ তেমনি কার্য্য। কাৰ্য্যটি বেশ পছন্দসই হইয়াছে। বাকীটা ভাগ্য। কি আর করা যাইবে। এই পরিস্থিতিতে ইহাপেক্ষা অধিক তো আর করণীয় কিছু নাই। কিন্তু সমস্যা বাঁধিল হাতবোমাটি নিয়া। ৩টি কার্ণিসে রাখিলে গড়াইয়া পড়িবার ভয়। ফলে হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গিবে, হাতে-নাতে ধরা পড়িয়া যাইতে হইবে। উপায় ?

সাহস এবং উপস্থিত বুদ্ধিতে ভোলাই কি কম? হাজার হউক, দাদার ভাই তো। প্রত্যুৎপন্নমতি ভোলা বলিল “ওটা যথা সময়ে আমি সরাইব।”

ভোর হইল। সমৃদ্ধিশালী বিশাল বাজিতপুর পল্লীর মাটিতে নবোদিত সূর্যের রক্তিম আলোক ছড়াইয়া পড়িল। তরুণ অরুণের এই বিপ্লবী রক্তরাঙ্গা রূপ স্বাধীনতাকামী সাহসী সৈনিকগণকে নিত্য উদ্বুদ্ধ করে। ভোরের পাখীর উৎফুর কলকাকলী তাহাদের ঘুমন্ত চেতনাকে জাগাইয়া দিয়া যেন আশার সঞ্চার করে— ভারতের মহামুক্তি আসন্ন। এই ঘোর অমানিশা কাটিয়া যাইবে, অচিরেই আসিবে নবীন সুপ্রভাত। মহাযোগীর শ্রীকণ্ঠেও তো এই আশ্বাসবাণীই ধ্বনিত হয়।

ভোর হইতেই ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার স্বকর্তব্য সাধনে মনোযোগী। তিনি গ্রামের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ডাকাইয়া আনিলেন সাক্ষীস্বরূপ। নিয়মানুসারে সাক্ষীদিগকে আহবান করিলেন— পুলিশের দেহতল্লাসীর জন্য। মামলা সাজাইতে পুলিশ নিজেই তো আপত্তিকর দ্রব্য সংগ্রহ করিয়া আনিতে পারে। নিয়মমাফিক এই সকল প্রাথমিক কাৰ্য্য সমাধা করিয়া অতঃপর পুলিশ গৃহাভ্যন্তরে প্রবিষ্ট। দালান ঘর তোলপাড়। বাক্স, পেটারা, আলমারি, ধানের গোলা, পুটলি-পোঁটলা সকল কিছুই তছনছ করা হইতে থাকিল। ঠিক এই অবসরেই ভোলা পরিকল্পিত কার্যসাধনে তৎপর।

বোমাটিকে রাত্রেই সে রান্না ঘরের ঠাণ্ডা উনুনের ছাই-এর ভিতর কৌশলে রাখিয়া আসিয়াছিল। এক্ষণে রান্না ঘর হইতে একটি ডুলা (মৎস্যাধার) বাহির করিল। শীতের দিন। গায়ে চাদর জড়ানো আছে। ভোলা বাহিরে প্রহরারত পুলিশের সম্মুখে ঐ ডুলাটি নিয়া ইতস্তত ঘুরিতে ফিরিতে লাগিল। ডুলাটি কখনো চাদরের নীচে নেয়, কখনো বাহির করে। ডুলাটি উল্টাইয়া পাল্টাইয়া একটু যেন খেলা করে। উদ্দেশ্য—দেখুক ডুলাটি শূন্য, উহাতে কিছুই নাই। কিন্তু ইতোমধ্যেই কখন ভোলা রান্না ঘরে পুনঃ প্রবেশ করিয়াছে, তাজা বোমাটিকে ডুলায় পুরিয়াছে এবং পুলিশকে ফুলিশ বানাইয়া এক ফাকে বাহিরে চম্পট দিয়াছে। ক্ষণকালে পর ভোলার অন্তর্ধান অসতর্ক পুলিশ টের পাইল। "লেড়কা বাবু কাঁহা গিয়া ” —বলিয়া যথারীতি হাঁকিল। দত্ত মহাশয় বুঝাইলেন- "বাবু তো বাজার মে গিয়া বাজারমে নাহি জানেসে হামলোক কেয়া খায়েঙ্গে।” ভাগ্যক্রমে লাল পাগড়ীধারী আর দিরুক্তি করিল না। ভুঁইমালী বাড়ীর সঙ্কীর্ণ বনপথ দিয়া ভোলা এক পুষ্করিণীর তীরে উপস্থিত। ভোলা ধুইবার অছিলায় বোমাটিকে জলে বিসর্জন দিয়া সে নিশ্চিন্ত। কৃতকাৰ্য্য ভোলা অবশ্য পরে বাজারে গিয়াছিল এবং যথারীতি মাছ নিয়াও ঘরে ফিরিয়াছিল। কিন্তু ততক্ষণে অপারেশন শেষ। বিফলমনোরথ পুলিশ চলিয়া গিয়াছে। গৃহের বিক্ষিপ্ত মালপত্র ঘরের গৃহিণীরা গুছাইতেছেন। কার্ণিস পর্যান্ত পুলিশের নজর যায় নাই। তাহাদের নিজেদের বুদ্ধির ভুলেই হউক বা মহাযোগীর সম্মোহিনী মায়াশক্তির প্রভাবেই হউক, পুলিশ বঞ্চিত। কিছু আপত্তিকর জিনিস উদ্ধার করিতে না পারিলেও তাহারা একটি পরম ধন অপহরণ করিয়া লইয়া গিয়াছে। মহাযোগী ব্রহ্মাচারী বিনোদ পুলিশের হস্তে বন্দী। তাহাকে মাদারীপুর লইয়া যাওয়া হইয়াছে। কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট কেস না থাকায় তিন দিবস পর তাঁহাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ব্রহ্মচারীর অগ্রজ যামিনী ভূঁইয়া তাহাকে ছাড়াইয়া লইয়া আসেন। এই ঘটনার স্বল্পকাল পরেই ইংরেজ সরকার ফরিদপুর ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করেন। পূর্ণ দাস, সন্তোষ দত্ত হইতে আরম্ভ করিয়া দোষী-নির্দোষ নির্বিশেষে বহু যুবককে গ্রেফতার করিয়া ফরিদপুর জেলে আটক রাখা হয়। মহাযোগী ব্রহ্মচারী বিনোদও বন্দী হইলেন। যেহেতু তিনি ছিলেন অসীম শারীরিক শক্তিদার, আর বিপ্লবীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধে যুক্ত। সুতরাং, গুরুতর সন্দেহভাজন। ইহা ইং ১৯১৪ সালের কথা। ব্রহ্মচারীর বয়স তখন আঠারো বৎসর তিন মাস ফরিদপুর জেলে ছিলেন। মাদারীপুরের লব্ধ প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী মথুরা নাথ দাস ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট Donavan সাহেবকে বলেন— "আপনারা ব্রহ্মচারী বিনোদকে ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার করিয়া ভুল করিয়াছেন। আমি শৈশব কাল হইতে তাহাকে জানি। হিংসা ও সন্ত্রাস করার মানুষ তিনি নহেন। ঈশ্বরসাধনা ও আর্তের সেবাই তাহার জীবনের লক্ষ্য।" অতঃপর তাঁহাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কিছুকাল পর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের হস্তক্ষেপে ইংরেজ সরকার সমগ্র ষড়যন্ত্র মামলাটিই প্রত্যাহার করিয়া নিলে সকল বন্দীই মুক্তি লাভ করে।
বিনোদ ব্রহ্মচারীর বন্দীজীবনের অবসরবহুল দিনগুলি ধ্যানজপেই অতিবাহিত হইত। জেল কর্তৃপক্ষ তাহার সৌম্য শান্ত ও ধ্যাননিষ্ঠ মূর্ত্তির জ্যোতির্ময় প্রভায় মুগ্ধ ছিলেন এবং জেলের ভিতরেও নিরামিষ ভোজনের ব্যবস্থা করিয়া দিয়াছিলেন। একবার তাহার মনে হইয়াছিল— “আমার এত শক্তি, আর ইহারা আমাকে পশুর ন্যায় পিঞ্জরাবদ্ধ করিয়া রাখিয়াছে। যোগবলে পলাইব।” কিন্তু না, তাহা হয় না। যোগীর যোগশক্তি তুচ্ছ কার্য্যে আবিধেও। তাহাতে তপঃক্ষয় হয়। জেলকর্তৃপক্ষ তাহার শারীরিক শক্তির পরিচয় দেখিতে চাহিলে তিনি শেলের একটি গরাদ অনায়াসে বাঁকাইয়া দিয়াছিলেন। একবার জেলের ভিতর বন্দী ও পুলিশে কোনও বিষয় নিয়া উত্তেজনাকর বচসা হয়। বিপুল বলশালী সন্তোষ দত্ত ক্রোধে পুলিশকে মারিতে যান। ব্যাপারটা দুঃখজনক পরিণতিতে পৌছাইবে বুঝিয়া ব্রহ্মচারীজী তৎক্ষণাৎ সন্তোষ বাবুকে পিছন হইতে কোমরে পাঁজা করিয়া ধরিয়া ফেলেন। সন্তোষ বাবু আর নড়িতে পারেন না এবং ব্যাপারটাও আর অধিক দূর অগ্রসর হইবার সুযোগ পায় না। পরবর্তীকালে সন্তোষ বাবু একদা কথাপ্রসঙ্গে আমাদের নিকট স্বীকার করেন— “আমার চেয়ে ব্রহ্মচারীজীর শারীরিক শক্তি ছিল অনেক বেশী।"

এই মহাযোগী ব্রহ্মচারী বিনোদই উত্তরকালে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য্য স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ। তিনি একদা বিপ্লবীদের বন্ধু ও আশ্রয়দাতা ছিলেন, কিন্তু স্বয়ং রাজনৈতিক বিপ্লবকর্মে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়াইয়া পড়েন নাই। তাঁহার বিপ্লবের পন্থা ছিল স্বতন্ত্র। এই ভারতবর্ষ-আধ্যাত্মিকতার পুণ্য লীলাভূমি। ভারতের মহামুক্তি আসিবে আত্মিক জাগরণের ভিতর দিয়া। এই আত্মিক জাগরণের মাধ্যমেই ভারতের যথার্থ শক্তি, সংহতি, সমৃদ্ধি ও মুক্তি। তৎপ্রতিষ্ঠিত ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের বহুধা কর্মযজ্ঞের ভিতর দিয়া আচার্য্য এর সেই অতীষ্ট মহাজাগরণ, মহামিলন, মহাসমন্বয় ও মহামুক্তির যুগোচিত সাধনা আজও অব্যাহত গতিতে চলিতেছে। এই অধ্যাত্ম বিপ্লব চলিতেই থাকিবে যত দিন না লক্ষ্যের সম্পূর্তি সাধন ঘটে।
তথ্যসূত্র- "প্রণবানন্দ শত রূপে,শত মুখে -১"
"স্বামী নিৰ্ম্মলানন্দ

" কামনা বাসনার  তাড়নায় মন প্রতিনিয়ত বিষয় হইতে বিষয়ান্তর পরিভ্রমন করিয়া পরিশ্রান্ত হইতেছে । দৈনন্দিন কর্মের অবসানে ...
12/08/2026

" কামনা বাসনার তাড়নায় মন প্রতিনিয়ত বিষয় হইতে বিষয়ান্তর পরিভ্রমন করিয়া পরিশ্রান্ত হইতেছে । দৈনন্দিন কর্মের অবসানে একান্ত স্থানে বসিয়া শ্রান্ত ক্লান্ত মনকে চতুর্দিক হইতে আহরণ করিয়া আনিয়া যদি কিছু সময়ের জন্য ও ভগবৎচ্চিন্তায় নিবিষ্ট রাখা যায় , তবে সর্ব প্রকার শ্রান্তি ক্লান্তি বিদূরিত হইয়া অপূর্ব শান্তি ও অপরিসীম শক্তি লাভ হইতে পারে। "
--আচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ।

"দেশ সেবা, সমাজের কল্যাণ- সব কিছুর মূলে এই হৃদয়বত্তা - পরদুঃখানুভূতি । যেখানে ইহার অভাব, সেখানে শুধু হৈ চৈ, হট্টোগোল, কা...
10/08/2026

"দেশ সেবা, সমাজের কল্যাণ- সব কিছুর মূলে এই হৃদয়বত্তা - পরদুঃখানুভূতি । যেখানে ইহার অভাব, সেখানে শুধু হৈ চৈ, হট্টোগোল, কাজের কাজ কিছুই নয় । মানুষ যদি অপরের দুঃখ-দুর্দ্দশা, অভাব-অভিযোগ প্রাণে প্রাণে অনুভব করিতে না পারে, অপরের ব্যাথা-বেদনায় চঞ্চল অস্থির হইয়া না উঠে তবে সে কি করিয়া জাতির সেবা, সমাজের কল্যাণ করিবে ?"
--যুগাচার্য্য স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ।
(ছাত্র যুবকদের উদ্দেশ্যে)

09/08/2026

স্বামী প্রণবানন্দজীর অলৌকিক লীলা, পর্ব:- ৮
" চোর ধরা " ।

" হিন্দুধর্মের উদার মতবাদ সকলকে বুঝিয়ে দিয়ে সমাজের Mentality তৈরী করা প্রয়োজন। হিন্দু কোন ধৰ্ম্মকে অস্বীকার করে না। সাকা...
08/08/2026

" হিন্দুধর্মের উদার মতবাদ সকলকে বুঝিয়ে দিয়ে সমাজের Mentality তৈরী করা প্রয়োজন। হিন্দু কোন ধৰ্ম্মকে অস্বীকার করে না। সাকার-নিরাকার, দ্বৈতাদ্বৈত, শাক্তবৈষ্ণব, সকল মত-পথেরই যেমন মর্য্যাদা আছে হিন্দুধর্ম্মে, তেমনি স্বধর্মে নিষ্ঠা রেখেও হিন্দু অন্য ধর্মকে শ্রদ্ধার চক্ষে দেখে থাকে। গীর্জার পাশ দিয়ে গেলে সেখানে জোড় হাতে প্রণাম করতে হিন্দুর কুণ্ঠাবোধ হয় না। মসজিদে দরগায় তো সে অহরহ; সিন্নি মানত করে। আমিও তো বলি, যীশু একজন মহাপুরুষ, মহম্মদ ঈশ্বরপ্রেরিত, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি প্রদর্শন অনুচিত নয়। কিন্তু এতেই কি কেউ খ্রিস্টান বা মুসলমান হয়ে যাবে? কোন হিন্দু যদি ভুলবশতঃ বা প্রলোভনে পড়ে দুই-চারদিন গীর্জা বা মসজিদের উপাসনায় গিয়েই থাকে তবে কি হিন্দু সমাজের দ্বার তার জন্য চিররুদ্ধ থাকবে?
দরিদ্র, নিরক্ষর, অসহায়, উপেক্ষিত হিন্দুর ভিতরে ব্যাপক হিন্দুধর্ম্মের প্রচার-প্রতিষ্ঠা আবশ্যক। তারা যদি হিন্দুত্বের চেতনায় যথার্থ উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠে, তবে এ সমস্যার (ধর্মান্তর সমস্যার) আত্যন্তিক প্রতিকার সম্ভব। এ দেশে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়িত হচ্ছে, সহস্র সহস্র ধর্মযাজক কাজ করছে, কিন্তু হিন্দুধর্ম প্রচারের উপযুক্ত আয়োজন কই? কয়টি টাকা ব্যয়িত হচ্ছে? কয়জন প্রচারক কাজ করছে?”
--- যুগাচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ।
প্রতিষ্ঠাতা : ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ ও শ্রী শ্রী প্রণব মঠ।

"ধ্যানের একটা মস্ত বড় মাদকতা আছে । ইহার শক্তি অতুলনীয় । যতই ধ্যান করা যায়, ততই ধ্যান করিবার আকাঙ্খা বৃদ্ধি পায়, চিত্ত শু...
08/08/2026

"ধ্যানের একটা মস্ত বড় মাদকতা আছে । ইহার শক্তি অতুলনীয় । যতই ধ্যান করা যায়, ততই ধ্যান করিবার আকাঙ্খা বৃদ্ধি পায়, চিত্ত শুদ্ধ হয়, ভিতরের কলুষ কালিমা সমস্ত ধুইয়া মুছিয়া যায় । ধ্যানের দ্বারা মনের একাগ্রতা বৃদ্ধি হয়, অন্তর নিষ্পাপ নিষ্কলঙ্ক হইয়া উঠে । এজগতে ধ্যানই প্রকৃত আনন্দ । তাই সাধু-মহাপুরুষগণ যখনই একাকী থাকেন, তখন ভগবানের ধ্যান করেন, ধ্যান করিতে করিতে তন্ময় হইয়া ভগবদ্ রাজ্যে ডুবিয়া যান । তখন আর তাঁহাদের বহির্জগতের জ্ঞান থাকে না, এই জগতের কোন কিছু তাঁহারা জানিতে শুনিতে দেখিতে পান না । তখন দেহবোধ পর্যন্ত লোপ পায়, কোন প্রকার দুঃখকষ্ট, ক্ষুদাপিপাসা তাঁহাদের স্পর্শ করিতে , কাতর করিতে পারে না । ভিতরে সর্ব্বদা একটা নিরবচ্ছিন্ন আনন্দের ধারা বহিতে থাকে । বস্তুতঃ ধ্যানে যদি এত আনন্দ না থাকিত, ধর্ম্মরাজ্যেও এত আনন্দ থাকিত না । এই ধ্যানের জন্যই সাধু-সন্ন্যাসীরা নির্জ্জনে----লোকজনের যাতায়াত শূন্য গভীর অরণ্যে, গুহা-গহ্বরে সমস্ত জীবন কাটাইয়া দেন । তাঁহারা যে আনন্দ পান , সেই আনন্দের এক কনাও যদি সাধারন লোক পায়, তবে ধন্য হইয়া যায় । বিষয়ের আনন্দ, ভোগসুখের আনন্দ, সেই আনন্দের তুলনায় নিতান্ত তুচ্ছ, অকিঞ্চিৎ কর বলিয়া মনে হয় । সেই জন্য তাঁহারা পার্থিব ভোগ-সম্ভারকে কাকবিষ্ঠাবৎ পরিত্যাগ করিয়া পরমপিতার ধ্যানে ডুবিয়া থাকেন ।"
------- শ্রীভগবান আচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ ।।
প্রতিষ্ঠাতা: ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ ও শ্রীশ্রী প্রণব মঠ।

07/08/2026

Flood Relief Work in Assam by Bharat Sevashram Sangha .

Flood Relief Work in Assam by Bharat Sevashram Sangha .
06/08/2026

Flood Relief Work in Assam by Bharat Sevashram Sangha .

Address

Bharat Sevashram Sangha, 211, Rashbehari Avenue
Kolkata
700019

Opening Hours

Monday 6am - 8pm
Tuesday 6am - 8pm
Wednesday 6am - 8pm
Thursday 6am - 8pm
Friday 6am - 8pm
Saturday 6am - 8pm
Sunday 6am - 8pm

Telephone

+913324405178

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bharat Sevashram Sangha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Bharat Sevashram Sangha:

Shortcuts

Share