13/08/2026
।।স্বামী প্রণবানন্দ : মহাযোগী ও মহাবিপ্লবী।।
"ভোলা, ও ভোলা, ওঠ।"
রাত্র গভীর। মহাযোগী ডাকিতেছেন অনুজ ভোলাকে। কিশোর ভোলা ঘুমে ভুলিয়া আছে, কিন্তু মহাযোগীর দুই চক্ষে ঘুম কোথায়? গ্রামের মানুষ জানে ইনি একজন অধ্যাত্মমার্গের মানুষ। সাধন-ভজন করেন, ধ্যান-সমাধিতে মগ্ন থাকেন, ব্রহ্মচর্য পালন করেন, নিরামিষ খান ইত্যাদি। কিন্তু এই মানুষটির অন্তরের গভীরে যে অন্তহীন ব্যথা বিদ্যমান, সে কথা জানে কয়জনে। মহাযোগীর ধ্যান-ভজন- তপস্যা তাহার নিজের ব্যক্তিগত মুক্তির জন্য নহে। তিনি চাহেন ভারতের মহামুক্তি। সহস্র বৎসরের পরাধীন ভারত আজ দুর্দশার চরম শিখরে। সমগ্র দেশে মহাজাগরণ, মহামিলন, মহাসমন্বয়ের মহাপ্লাবন আনিতে হইবে। তবেই দেশের মহামুক্তির লক্ষ্যের সম্পূর্তি সম্ভব। কিন্তু কি সেই পথ, যে পথে চূড়ান্ত সিদ্ধির অমৃত ফল লভ্য? সেই পথ, সেই যুগসূত্র আবিষ্কারেই তো মহাযোগী নিত্য শ্মশানে গিয়ে যোগসাধনায় মগ্ন হন, আর তাঁহার অনুজ প্রিয় ভ্রাতা ভোলা ত্রিশূল হস্তে লইয়া পাহারা দেয় যাহাতে কোন পথচারী দাদার যোগবিঘ্ন না ঘটায়।
ভোলা উঠিল। মুহূর্ত্তে তন্দ্রার অবেশ জয় করিয়া জানিতে চাহিল— এখন শ্মশানে যাইবার সময় হইয়াছে কিনা। মহাযোগী উত্তরে বলিলেন যে, আজ আর শ্মশানে যাওয়া হইবে না, এই ভারতবর্ষই তো এক মহাশ্মশান। স্বতন্ত্র শ্মশানের প্রয়োজন কি? চুপি চুপি বলিলেন— “দত্ত মশায়কে তাহার বাড়ী হইতে ডাকিয়া আনিতে পারিস। তবে সাবধান, গুপ্ত পথে কৌশলে যাইতে হইবে। এই বাড়ী পুলিশ ঘেরাও করিয়াছে।"
বুদ্ধিমান ভোলা প্রস্তুত। দাদার আদেশ ও আশীর্বাদ পাইলে সে কিনা করিতে পারে। পুলিশ বাড়ীর এক স্থানে ঘাঁটি বাঁধিয়া যখন নিরুবির মনে খৈনি টিপিতেছে তখন ভোলা ভূঁইয়া বাড়ীর বিশাল আমবাগানের নিভৃত পথ দিয়া উধাও। পল্লীর বাস্তু তো আর প্রাচীরে পরিবেষ্টিত নয়, সব পথই প্রায় উন্মুক্ত।
মহাযোগীর বিশ্বস্ত সহচর নিশিকান্ত দত্ত পুলিশ ঘেরাও এর বার্তা শুনিলেন। তাহার বুঝিতে বাকী রহিল না যে এই কাজ চৌকিদার বিশ্বনাথ শীলের। সাধুর বাড়ীর (ভূঁইয়া বাড়ী) পার্শ্বেই তাহার ঘর। বিশ্বনাথ জানে—বিপ্লবী পূর্ণদাস ও সন্তোষ দত্ত এবং তাহাদের সাঙ্গ-পাঙ্গদের সহিত সাধুর ঘনিষ্ঠতা বিদ্যমান। তাহারা প্রায়ই রাত্রে সাধুর কাছে আসে। কখনো কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাইয়া যায়। বিশ্বনাথের বিশ্বাস, আশে পাশে যত স্বদেশী ডাকাতি হয় তাহার সহিত সাধু লিপ্ত আছে। মহাযোগীর ঘনিষ্ঠ সেবকরূপে দত্ত মহাশয় কিন্তু জানেন বিপ্লবীরা সাধুর কাছে দেশসেবার অমিত প্রেরণা পায়, আর পায় নির্মূল চরিত্র গঠনের উপদেশ ও সাধনসঙ্কেত। বিপ্লবীরা সাধুর অতি প্রিয় পাত্র। অনেক সময় প্রশংসামুখর সাধু বলেন—“বিপ্লবী ছেলেরা এক একটি দেব-শিশু।” তবে দত্ত মহাশয়ের ইহাও জানা আছে যে, তখনো পর্যন্ত ভূঁইয়া বাড়ীর ধানের গোলায় বিপ্লবীদের দুইটি পিস্তল, সাতটি সুতীক্ষ্ণ তরবাল, একটি হাতবোমা এবং কিছু ছোরা ও বর্ণা লুক্কায়িত আছে। বিশ্বনাথ চৌকিদার আড়াকাঠি বটে, কিন্তু গোয়েন্দা পুলিশও মাধুর পিছনে লাগিয়াছিল। ঠিক কায়দা মত তাহারা আসিয়া পড়িয়াছে। সম্মুখে গুরুতর বিপদ। কিন্তু উপায়? সাধুর উপায় সাধু নিজেই জানেন। দত্ত মহাশয় তো আজ্ঞাবহ মাত্র।
ভূঁইয়া বাড়ীর সেই গুপ্ত বাগান পথে ভোলা ও দত্ত মহাশয় আসিয়া উপস্থিত। বাগানের সংলগ্ন একখানি দোতালা টিনের ঘর। তাহার পশ্চাৎ দ্বার দিয়া উভয়ে ঐ গৃহে অনুপ্রবিষ্ট। পুলিশের সুতীক্ষ দৃষ্টি প্রধানতঃ পাকা দালানের প্রতি যাহার বৈঠকখানায় মহাযোগী অবস্থান করেন। ঐখানে যাইয়া সাধুর সহিত সাক্ষাৎ করিতে হইবে। কার্যটি কঠিন কিন্তু উপস্থিত বুদ্ধির দ্বারা তাহা না করিলেও নয়। দত্ত মহাশয় সদর উঠানে পা বাড়াইতেই পুলিশ বাধা দিল। দত্ত মহাশয় বলিলেন— "কেন বাধা দিতেছেন। আমরা তো এই বাড়ীরই লোক। এই টিনের ঘরটায় শুই। এখন কোঠা ঘরে যাওয়ার প্রয়োজন হইয়াছে যাইবো না।" পুলিশ আর আপত্তি করিল না।
দত্ত মহাশয়কে দেখিয়া মহাযোগী প্রসন্ন। শলাপরামর্শ চলিল অতি সাবধানে ও সঙ্গোপনে, কি উপায়ে ঐ অস্ত্রশস্ত্রগুলি সরানো যায়। দত্ত মহাশয়ের প্রস্তাব, যে ভাবে গোপন পথে তিনি আসিয়া পৌঁছিয়াছেন, ঐ উপায়ে ঐগুলি বাড়ীর বাহিরে অন্যত্র সরাইয়া ফেলা। কিন্তু তীক্ষ্ণধী ও দূরদর্শী মহাযোগী সেই প্রস্তাব অনুমোদন করিলেন না। কেন না, তাহাতে বিপদের আশু সম্ভাবনা। এই দালানেরই এমন একটি নিরাপদ স্থান নির্বাচন করিতে হইবে যেখানে কিছু থাকিতে পারে বলিয়া সহসা পুলিশের সন্দেহ হইবে না। সেই স্থানটি কোথায়? সেই প্রাচীন আমলের কোঠা ঘর। সুপ্রশস্ত তাহার প্রাচীর। গৃহাভ্যন্তরে ছাদের নীচে কারুকার্যখচিত সুন্দর কার্ণিস । যোগিবরের আদেশ—" ঐ কার্ণিসের ফাঁকে ফাঁকে সব জিনিসগুলি সামলাইয়া রাখুন।” যেমন আদেশ তেমনি কার্য্য। কাৰ্য্যটি বেশ পছন্দসই হইয়াছে। বাকীটা ভাগ্য। কি আর করা যাইবে। এই পরিস্থিতিতে ইহাপেক্ষা অধিক তো আর করণীয় কিছু নাই। কিন্তু সমস্যা বাঁধিল হাতবোমাটি নিয়া। ৩টি কার্ণিসে রাখিলে গড়াইয়া পড়িবার ভয়। ফলে হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গিবে, হাতে-নাতে ধরা পড়িয়া যাইতে হইবে। উপায় ?
সাহস এবং উপস্থিত বুদ্ধিতে ভোলাই কি কম? হাজার হউক, দাদার ভাই তো। প্রত্যুৎপন্নমতি ভোলা বলিল “ওটা যথা সময়ে আমি সরাইব।”
ভোর হইল। সমৃদ্ধিশালী বিশাল বাজিতপুর পল্লীর মাটিতে নবোদিত সূর্যের রক্তিম আলোক ছড়াইয়া পড়িল। তরুণ অরুণের এই বিপ্লবী রক্তরাঙ্গা রূপ স্বাধীনতাকামী সাহসী সৈনিকগণকে নিত্য উদ্বুদ্ধ করে। ভোরের পাখীর উৎফুর কলকাকলী তাহাদের ঘুমন্ত চেতনাকে জাগাইয়া দিয়া যেন আশার সঞ্চার করে— ভারতের মহামুক্তি আসন্ন। এই ঘোর অমানিশা কাটিয়া যাইবে, অচিরেই আসিবে নবীন সুপ্রভাত। মহাযোগীর শ্রীকণ্ঠেও তো এই আশ্বাসবাণীই ধ্বনিত হয়।
ভোর হইতেই ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার স্বকর্তব্য সাধনে মনোযোগী। তিনি গ্রামের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ডাকাইয়া আনিলেন সাক্ষীস্বরূপ। নিয়মানুসারে সাক্ষীদিগকে আহবান করিলেন— পুলিশের দেহতল্লাসীর জন্য। মামলা সাজাইতে পুলিশ নিজেই তো আপত্তিকর দ্রব্য সংগ্রহ করিয়া আনিতে পারে। নিয়মমাফিক এই সকল প্রাথমিক কাৰ্য্য সমাধা করিয়া অতঃপর পুলিশ গৃহাভ্যন্তরে প্রবিষ্ট। দালান ঘর তোলপাড়। বাক্স, পেটারা, আলমারি, ধানের গোলা, পুটলি-পোঁটলা সকল কিছুই তছনছ করা হইতে থাকিল। ঠিক এই অবসরেই ভোলা পরিকল্পিত কার্যসাধনে তৎপর।
বোমাটিকে রাত্রেই সে রান্না ঘরের ঠাণ্ডা উনুনের ছাই-এর ভিতর কৌশলে রাখিয়া আসিয়াছিল। এক্ষণে রান্না ঘর হইতে একটি ডুলা (মৎস্যাধার) বাহির করিল। শীতের দিন। গায়ে চাদর জড়ানো আছে। ভোলা বাহিরে প্রহরারত পুলিশের সম্মুখে ঐ ডুলাটি নিয়া ইতস্তত ঘুরিতে ফিরিতে লাগিল। ডুলাটি কখনো চাদরের নীচে নেয়, কখনো বাহির করে। ডুলাটি উল্টাইয়া পাল্টাইয়া একটু যেন খেলা করে। উদ্দেশ্য—দেখুক ডুলাটি শূন্য, উহাতে কিছুই নাই। কিন্তু ইতোমধ্যেই কখন ভোলা রান্না ঘরে পুনঃ প্রবেশ করিয়াছে, তাজা বোমাটিকে ডুলায় পুরিয়াছে এবং পুলিশকে ফুলিশ বানাইয়া এক ফাকে বাহিরে চম্পট দিয়াছে। ক্ষণকালে পর ভোলার অন্তর্ধান অসতর্ক পুলিশ টের পাইল। "লেড়কা বাবু কাঁহা গিয়া ” —বলিয়া যথারীতি হাঁকিল। দত্ত মহাশয় বুঝাইলেন- "বাবু তো বাজার মে গিয়া বাজারমে নাহি জানেসে হামলোক কেয়া খায়েঙ্গে।” ভাগ্যক্রমে লাল পাগড়ীধারী আর দিরুক্তি করিল না। ভুঁইমালী বাড়ীর সঙ্কীর্ণ বনপথ দিয়া ভোলা এক পুষ্করিণীর তীরে উপস্থিত। ভোলা ধুইবার অছিলায় বোমাটিকে জলে বিসর্জন দিয়া সে নিশ্চিন্ত। কৃতকাৰ্য্য ভোলা অবশ্য পরে বাজারে গিয়াছিল এবং যথারীতি মাছ নিয়াও ঘরে ফিরিয়াছিল। কিন্তু ততক্ষণে অপারেশন শেষ। বিফলমনোরথ পুলিশ চলিয়া গিয়াছে। গৃহের বিক্ষিপ্ত মালপত্র ঘরের গৃহিণীরা গুছাইতেছেন। কার্ণিস পর্যান্ত পুলিশের নজর যায় নাই। তাহাদের নিজেদের বুদ্ধির ভুলেই হউক বা মহাযোগীর সম্মোহিনী মায়াশক্তির প্রভাবেই হউক, পুলিশ বঞ্চিত। কিছু আপত্তিকর জিনিস উদ্ধার করিতে না পারিলেও তাহারা একটি পরম ধন অপহরণ করিয়া লইয়া গিয়াছে। মহাযোগী ব্রহ্মাচারী বিনোদ পুলিশের হস্তে বন্দী। তাহাকে মাদারীপুর লইয়া যাওয়া হইয়াছে। কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট কেস না থাকায় তিন দিবস পর তাঁহাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ব্রহ্মচারীর অগ্রজ যামিনী ভূঁইয়া তাহাকে ছাড়াইয়া লইয়া আসেন। এই ঘটনার স্বল্পকাল পরেই ইংরেজ সরকার ফরিদপুর ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করেন। পূর্ণ দাস, সন্তোষ দত্ত হইতে আরম্ভ করিয়া দোষী-নির্দোষ নির্বিশেষে বহু যুবককে গ্রেফতার করিয়া ফরিদপুর জেলে আটক রাখা হয়। মহাযোগী ব্রহ্মচারী বিনোদও বন্দী হইলেন। যেহেতু তিনি ছিলেন অসীম শারীরিক শক্তিদার, আর বিপ্লবীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধে যুক্ত। সুতরাং, গুরুতর সন্দেহভাজন। ইহা ইং ১৯১৪ সালের কথা। ব্রহ্মচারীর বয়স তখন আঠারো বৎসর তিন মাস ফরিদপুর জেলে ছিলেন। মাদারীপুরের লব্ধ প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী মথুরা নাথ দাস ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট Donavan সাহেবকে বলেন— "আপনারা ব্রহ্মচারী বিনোদকে ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার করিয়া ভুল করিয়াছেন। আমি শৈশব কাল হইতে তাহাকে জানি। হিংসা ও সন্ত্রাস করার মানুষ তিনি নহেন। ঈশ্বরসাধনা ও আর্তের সেবাই তাহার জীবনের লক্ষ্য।" অতঃপর তাঁহাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কিছুকাল পর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের হস্তক্ষেপে ইংরেজ সরকার সমগ্র ষড়যন্ত্র মামলাটিই প্রত্যাহার করিয়া নিলে সকল বন্দীই মুক্তি লাভ করে।
বিনোদ ব্রহ্মচারীর বন্দীজীবনের অবসরবহুল দিনগুলি ধ্যানজপেই অতিবাহিত হইত। জেল কর্তৃপক্ষ তাহার সৌম্য শান্ত ও ধ্যাননিষ্ঠ মূর্ত্তির জ্যোতির্ময় প্রভায় মুগ্ধ ছিলেন এবং জেলের ভিতরেও নিরামিষ ভোজনের ব্যবস্থা করিয়া দিয়াছিলেন। একবার তাহার মনে হইয়াছিল— “আমার এত শক্তি, আর ইহারা আমাকে পশুর ন্যায় পিঞ্জরাবদ্ধ করিয়া রাখিয়াছে। যোগবলে পলাইব।” কিন্তু না, তাহা হয় না। যোগীর যোগশক্তি তুচ্ছ কার্য্যে আবিধেও। তাহাতে তপঃক্ষয় হয়। জেলকর্তৃপক্ষ তাহার শারীরিক শক্তির পরিচয় দেখিতে চাহিলে তিনি শেলের একটি গরাদ অনায়াসে বাঁকাইয়া দিয়াছিলেন। একবার জেলের ভিতর বন্দী ও পুলিশে কোনও বিষয় নিয়া উত্তেজনাকর বচসা হয়। বিপুল বলশালী সন্তোষ দত্ত ক্রোধে পুলিশকে মারিতে যান। ব্যাপারটা দুঃখজনক পরিণতিতে পৌছাইবে বুঝিয়া ব্রহ্মচারীজী তৎক্ষণাৎ সন্তোষ বাবুকে পিছন হইতে কোমরে পাঁজা করিয়া ধরিয়া ফেলেন। সন্তোষ বাবু আর নড়িতে পারেন না এবং ব্যাপারটাও আর অধিক দূর অগ্রসর হইবার সুযোগ পায় না। পরবর্তীকালে সন্তোষ বাবু একদা কথাপ্রসঙ্গে আমাদের নিকট স্বীকার করেন— “আমার চেয়ে ব্রহ্মচারীজীর শারীরিক শক্তি ছিল অনেক বেশী।"
এই মহাযোগী ব্রহ্মচারী বিনোদই উত্তরকালে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য্য স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ। তিনি একদা বিপ্লবীদের বন্ধু ও আশ্রয়দাতা ছিলেন, কিন্তু স্বয়ং রাজনৈতিক বিপ্লবকর্মে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়াইয়া পড়েন নাই। তাঁহার বিপ্লবের পন্থা ছিল স্বতন্ত্র। এই ভারতবর্ষ-আধ্যাত্মিকতার পুণ্য লীলাভূমি। ভারতের মহামুক্তি আসিবে আত্মিক জাগরণের ভিতর দিয়া। এই আত্মিক জাগরণের মাধ্যমেই ভারতের যথার্থ শক্তি, সংহতি, সমৃদ্ধি ও মুক্তি। তৎপ্রতিষ্ঠিত ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের বহুধা কর্মযজ্ঞের ভিতর দিয়া আচার্য্য এর সেই অতীষ্ট মহাজাগরণ, মহামিলন, মহাসমন্বয় ও মহামুক্তির যুগোচিত সাধনা আজও অব্যাহত গতিতে চলিতেছে। এই অধ্যাত্ম বিপ্লব চলিতেই থাকিবে যত দিন না লক্ষ্যের সম্পূর্তি সাধন ঘটে।
তথ্যসূত্র- "প্রণবানন্দ শত রূপে,শত মুখে -১"
"স্বামী নিৰ্ম্মলানন্দ