ShreeGuru Ashraya

ShreeGuru Ashraya Shree Guru Ashraya is based purely on the ideal of our Gurudeb Paribrajakacharya Sri Sri 108 Durgaprasanna Paramhansa Dev.

10/12/2022

অপরাজিত মানিক

মৃত সন্তান জন্ম দেয়ায় মানিকের স্ত্রী ডলির অনুভূতি : "বাঁচা গেছে বাবা, আমি হিসেব করেছি বাড়ি ফিরে মাসখানেক বিশ্রাম করে রাঁধুনি বিদায় দেব। অনেক খরচ বাঁচবে।"

বড় একটি ভাই ছিল মানিক বন্দোপাধ্যায়ের। যখন শুনেছেন ভাই গল্প লেখে, রাজনীতি করে, টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেন। মৃত্যুর আগে যখন চরম অর্থকষ্টে দিন যায় , বড়ভাইয়ের কাছে টাকা ধার চাওয়াতে উত্তর পেয়েছেন, "আত্মীয় হোক বা অনাত্মীয়, আমি কাউকে টাকা ধার দিই না।"

তবু সাহিত্য দিয়ে পেট চালানোর জেদ ছাড়েননি একরোখা মানিক। একবার পূর্বাশা পত্রিকায় চাকরির আবেদন করলেন। যখন শুনেছেন বন্ধুও একই পদে প্রত্যাশী, সম্পাদককে লিখলেন, "আমি অবগত আছি পরিমল গোস্বামী এই পদটির জন্য আবেদন করিবেন। আমার চেয়েও তাহার চাকুরির প্রয়োজন বেশি। মহাশয় যদি ইতিমধ্যে তাহার সম্পর্কে অনুকূল বিবেচনা করিয়া থাকেন, তবে অনুগ্রহপূর্বক আমার এই আবেদন প্রত্যাহার করা হইল বলিয়া ধরিয়া লইবেন।’’

সরকারি চাকরিও ছেড়ে দেন, ভালো লাগেনি বলে৷ আদতে মার্কস-ফ্রয়েডের বিষম ভূত চেপেছিল তাঁর মাথায়। মধ্যবিত্তের যুদ্ধ লিখতে গিয়ে নিজের জীবনের সাথেই মহাযুদ্ধ করা হয়ে গেছে গোটা জীবনে।

অথচ গণিতে বিএসসি তুখোড় ছাত্র প্রবোধ কুমারের সাহিত্যিক হওয়ার কথা ছিল না। একবার ক্যান্টিনে এসে এক বন্ধু বলল, " পত্রিকায় লেখা দিয়েছি, ছাপায়নি। নামী কেউ না হলে ছাপায় না। " তর্কাতর্কি করতে গিয়ে লেখা ছাপানোর চ্যালেঞ্জে নামলেন। সেই চ্যালেঞ্জই বাংলা সাহিত্যকে পাইয়ে দিল চালচুলোহীন মৃগীরোগী এক সাহিত্যিককে।

পদ্মানদীর মাঝি লিখেছিলেন জীবনের মোটামুটি ৬ ঘন্টার অভিজ্ঞতা থেকে, তখন তিনি কিশোর। একবার বাড়ি থেকে হারিয়ে গেছেন, অনেক খুঁজে পাওয়া গেল নদীপারের জেলেদের নৌকায়। তাদের কাছে দুবেলা ভাত খেয়ে গল্প করে কাটিয়েছিলেন মানিক।

"প্রাগৈতিহাসিক" গল্পের শেষ লাইন কটা নিজেকেই উৎসর্গ করেছিলেন কি তিনি?

শেষবেলা যখন শয্যাশায়ী, তখন বাড়িওয়ালা বাড়ি ভাড়া না দেবার দায়ে মামলা ঠুকে দিয়েছেন। সে মামলা লড়ে ওঠার আগেই, বাড়ি ভাড়া না দিয়ে ৩ ডিসেম্বর মানিক ফেরত যান ওপারে।

সুভাষ মুখার্জি তাঁর স্ত্রী কে বলেছিলেন, "একটা টেলিফোন তো করবেন , বৌদি। " ডলি ম্লান হাসিতে উত্তর দেন,ফোন করলেও যে পাঁচ আনা পয়সা লাগে ভাই।"

মরার পর শত শত দেশনেতা এসে পায়ে মাথা ঠুকেছেন, হাজার হাজার মানুষ ফুলের তোড়া নিয়ে শব দেখতে এসেছেন। অথচ মৃত্যুর আগের দিনও ছিল কা কারোর খোঁজ। বিস্ময়কর হলেও, জীবনে একটাও পুরষ্কার -সম্মাননা পাননি আমাদের পদ্মানদীর মাঝি!

মরে গিয়ে প্রথমবার বেঁচে গেছেন মানিক বন্দোপাধ্যায়। আজকে ৩ ডিসেম্বর। প্রজন্মের অনেক "স্যার" লেখক এসেছে, আরো আসবে। কিন্তু এমন মৃগীরোগী ছন্নছাড়া জেদী মানিক একটাই, কেবল একটাই।

আপনাকে ভালোবাসি, মানিক।

©শাফায়াত স্বচ্ছ

10/12/2022

৮ঐ ডিসেম্বর, ১৯৩০ সাল; সকাল বেলা...🌿

— আর মাংস দেবো দীনেশ?
— সেকি! এখনো তো শুরুই করিনি..।
— তোমাকে দেব, বাদল?
— আপনি দিতে থাকুন! সময় হলে আমিই মানা করবো।
— পারবিনে বাদল, পারবিনে! তেরে ওঠেন দীনেশ, আমার সঙ্গে টেক্কা দিয়ে কোনো লাভ নেই। হেরে ভুত হয়ে যাবি।

হাসি মুখে মাংস দিয়ে অন্তরালে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন নিকুঞ্জবাবু পার্কস্ট্রিটের গোপন আস্তানায়। খাবার শেষ করে সাহেব সেজে চললেন বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্ত। মৃত্যু যেন এদের কাছে নিত্য খেলা। অথচ কতই বা বয়স তাদের ১৮ কি ২০..💫💜

রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে সেদিন ট্যাক্সিটা থেমেছিল সোয়া বারোটায়।নেমে এসেছিলেন তিনি যুবক।সবার পোশাক টুপি,কোটি ,টাই, ট্রাউজার। প্রহরীদের কারো মনে নূন্যতম সন্দেহ হয়নি। সপ্রতিভ ভঙ্গিতে আর প্রত্যয়ী পদক্ষেপে বিনয়-বাদল-দীনেশ সোজা লেফটেন্যান্ট কর্ণেল সিম্পসনের সামনে। সিম্পসন শুধু মুখটা তুলতে পেরেছিল । তিন মূর্তির রিভলবারের একঝাঁক গুলি ঝাঁঝরা করে দিল লেফটেন্যান্ট কর্ণেল সিম্পসনের শরীর। ইংরেজি ক্যালণ্ডারে সেদিন ছিল আজকের মত ৮ ডিসেম্বর। ইতিহাসের অমর ত্রয়ী বিনয়,বাদল, দীনেশের রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের বীরগাথা ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে আছে।

বিপ্লবীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলার আই জি কারা কর্নেল নরম্যান সিম্পসনকে হত্যা করা হবে তাঁর নিজের অফিস রাইটার্স বিল্ডিংয়ে৷ অপারেশন সিম্পসন এর দিন স্থির হয়েছিল ৮ডিসেম্বর। ওদিকে ঢাকার তৎকালীন ইনস্পেকটর অফ পুলিশ মিস্টার লোম্যান কে, প্রকাশ্যে খুন করে ডাক্তারির ছাত্র বিপ্লবী বিনয় বসু ঢাকা থেকে কলকাতায় এসে আত্মগোপন করতে রসময় শূরের সঙ্গে এলেন বিপ্লবী রাজেন গুহের মেটিয়াবুরুজের পাহাড়পুর রোডে কলুটোলা পল্লীর বাড়ি। সেইসময় তাঁর স্ত্রী সরযূবালা দেবী সদ্যোজাত শিশুকে নিয়ে আঁতুরঘরে আছেন।

বিপ্লবী বিনয় বসু তাদের বাড়িতে আসতেই তিনি তথাকথিত সামাজিক ও সংস্কারগত বাধাকে হেলায় উড়িয়ে দিলেন,নিজের ছেড়ে আসা আঁতুরঘর নিখুঁত ভাবে ধোয়ামোছা করে,স্নান করে চলে এসেছেন নিজেদের শোবার ঘরে,বিনয়ের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল তাঁর ছেড়ে আসা সুন্দর করে ধোয়ামোছা আঁতুরঘর৷

মেটিয়াবুরুজের ওই গোপণ আস্তানায় একমাত্র যেতেন বিপ্লবী রসময় শূর৷ রাজেন গুহের স্ত্রী বিনয়কে দিয়েছিলেন নিরাপদ,নিশ্চিন্ত আশ্রয়৷সকালে রাজেন গুহ বেরিয়ে যেতেন ওয়ার্কশপে,বৌদির সঙ্গে গল্পগুজবে কাটত বিনয়ের কলকাতায় আত্মগোপনের দিনগুলি৷ সিল্কের একটা লাল রঙের লুঙ্গি প্রায় তিনি পরতেন,তবে খুব রঙ উঠত লুঙ্গিটার,বিনয়ের পেটে কোমরে সেই লাল রঙ লেগে থাকত,একেবারে ঘরে বসে থাকায় মেদের আনাগোনা শরীরে। রাজেন গুহের ছেলেমেয়েরা তাঁর নাম দিয়েছিল 'লাল ভুঁড়ি কাকু'৷

বিনয়ের স্বভাবে অহেতুক চঞ্চলতা ছিল না,রাতে দু'চারবার অবশ্য উঠতে হত,কারণ পুলিশ তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছে,সরকার দশ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে৷ সকালে ঘুম ভাঙতো একটু দেরীতে,বৌদি কাজকর্ম সেরে একটু বেলা হলেই চা তৈরি করে নিয়ে এসে বিনয়ের মশারি উঠিয়ে ডাকতেন 'ঠাকুরপো এবার ওঠ,চা খাও'৷বৌদির আদর, যত্নে বিনয় ছিলেন পরম নিশ্চিন্তে৷

রাজেন গুহের বাড়ি থেকে রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের আগের মুহূর্তে বিনয়ের মুখে মিষ্টি হাসি,বিমল জ্যোতি,আর চোখে সুদূরের স্বপ্ন৷পরম মমতায় বৌদি খাইয়ে দিলেন প্রিয় ঠাকুরপোকে,বৌদির চোখ ঝাপসা,চেষ্টা করেও চোখের জল থামাতে পারছেন না,বিনয় প্রণাম করল বৌদিকে,ছোট ভাইপো, ভাইঝিকে জানাল নিবিড় স্নেহ,রওনা হল সন্মুখের পথে,বৌদি সরযূ দেবীর অঝোর কান্না,রাজেন গুহ বললেন 'হাসিমুখে বীরকে বিদায় দাও,তবেই তো তোমার দেশজননীর সেবা সার্থক হবে৷

বিনয় বীরদর্পে এগিয়ে গেল,পাইপ রোড তাঁর আপাতত গন্তব্য,সঙ্গে রসময় শূর৷তাঁরা পাইপ রোডে পৌঁছনোর কয়েক মিনিটের মধ্যে বাদল-দীনেশকে নিয়ে হাজির হলেন বিপ্লবী নিকুঞ্জ সেন৷তিন যুবক উঠে বসলেন একটি ট্যাক্সিতে,রওনা দিল ট্যাক্সি,গন্তব্য রাইটার্স বিল্ডিং,বেলা সাড়ে বারোটা থেকে পৌনে একটা যখন ব্রিটিশদের রাইটার্স বিল্ডিং কার্যত তিন অসম সাহসী বাঙালি তরুণের নিয়ন্ত্রণে। স্তব্ধ বারান্দায় বীর ত্রয়ীর কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে 'বন্দে মাতরম'। ইংরেজদের প্রশাসনিক ভরকেন্দ্র মুখরিত হচ্ছে ভারতবাসীর জাতীয়তাবাদী স্লোগানে। পুলিশ কিংকর্তব্যবিমূঢ় কি করবে বুঝতে পারছে না।তারা যে স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি রাইটার্স বিল্ডিংয়ে এভাবে হামলা করতে পারে দেশের বীরশ্রেষ্ঠ বিপ্লবীরা..🌸🌿

🇮🇳 জয়হিন্দ 🇮🇳

কলমে ✒️ অরুণাভ সেন

© এক যে ছিলো নেতা

| ে_ছিলো_নেতা |

📌 Facebook এর পাশাপাশি আমরা পথচলা শুরু করেছি YouTube এও.. আমাদের কাজ ভালো লাগলে আমাদের channel টি Subscribe করে পাশে থাকবেন.. এই রইলো link 👇 https://appopener.com/yt/19zgtp0em

08/12/2022
আজ শ্রীগুরু আশ্রয়ে বাৎসরিক উৎসব
08/12/2022

আজ শ্রীগুরু আশ্রয়ে বাৎসরিক উৎসব

11/10/2022

সম্প্রতি নোবেল কর্তৃপক্ষ একটা তালিকা প্রকাশ করেছে। আর ৫০ বছর আগের সেই তালিকায়, জ্বলজ্বল করছে বাঙালি কথাসাহিত্যিক শ্রী তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের নাম..♥️

সেই তালিকা কীসের?

জানলে আমার মতো হয়তো আপনারাও খানিকটা চমকে যাবেন। ১৯৭১ সালের সেই তালিকা, আদতে সেই বছর সাহিত্যে নোবেলের জন্য মনোনীত হওয়া সাহিত্যিকদের। গোটা বিশ্বের তাবড় তাবড় সাহিত্যিকদের পাশাপাশি সেবছর বাংলা থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন শ্রী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনি জিততে পারেননি, সেবছর সাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কারটি জিতে নিয়েছিলেন চিলির বিখ্যাত কবি — পাবলো নেরুদা। আজ্ঞে হ্যাঁ; সেবছর তারাশঙ্করবাবুর প্রতিযোগী ছিলেন -- পাবলো নেরুদা, গ্রাহাম গ্রীন, গুন্টার গ্রাস, আর্থার মিলার, জেমস বল্ডউইনের মতো বাঘা বাঘা লোকজন।

অথচ একসময় এই মানুষটার লেখা কেউ ছাপতে চায়নি। 'চৈতালি ঘুর্ণি' লেখার পর নিজের টাকায় সেই বই ছেপেছিলেন। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে কেউ সেই বই কেনেনি। জ্বরে শয্যাশায়ী মেয়ের চিকিৎসার জন্য আত্মীয়দের কাছে টাকা ধার চেয়ে পাননি। কে জানতো, সেদিন আত্মীয়ের বাড়ি থেকে মাথা নীচু করে ফিরে আসা ওই মানুষটাই একদিন নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হবে‌ন। কে জানতো, একদিন এই মানুষটার হাত থেকেই জন্ম নেবে গণদেবতা, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, আরোগ্য নিকেতন।

এই বইগুলো না পড়ে থাকলে আজই কিনে আনুন। পড়তে শুরু করুন। কারণ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কে পড়া দরকার। ভীষণভাবে পড়া দরকার..🌸🌿

কলমে ✒️ অভীক রায়

© এক যে ছিলো নেতা

| ে_ছিলো_নেতা |

07/10/2022

আমার কথা যাহাদের শ্রীগুরু বাক্যে শ্রদ্ধা ও একনিষ্ঠা নাই তাহাদের কাছে প্রকাশ করিও না। তাহা হইলে তাহাদের ক্ষতী হইবে। কারণ গুরু বাক্যে অশ্রদ্ধা করিলে পাপ হয় গুরুতর সুতরাং সাবধান কাহার ক্ষতী করিও না।

07/10/2022

শিষ্য দুরেই থাকুক আর কাছেই থাকুক তাহারা কখনও গুরুর সকল দৃষ্টির অন্তরাল হয় না। গুরুকে এক স্থানে সীমাবদ্ধ করিয়া রাখিও না গুরু অখন্ডমন্ডলা কারে চরাচর ব্যাপ্ত।যখন সর্ব্বত্র গুরুর বিকাশ উপলব্ধি করিতে পারিবে তখনই গুরু লাভ বা গুরু দর্শন হইবে।
সাধু সঙ্গ জ্ঞান লাভের জন্য যদি মায়া মোহেই আবদ্ধ রইলে তবে সাধু সঙ্গে কি লাভ।

07/10/2022
01/04/2020

Address

ShreeGuru Ashraya ( Kali Mandir ) AB/295 , Sector/1 Bidhan Nagar Kolkata/
Kolkata
700064

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ShreeGuru Ashraya posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share