।।শ্রীশ্রী রামঠাকুর মানবসেবা সংগঠন।।

  • Home
  • India
  • KOLKATA
  • ।।শ্রীশ্রী রামঠাকুর মানবসেবা সংগঠন।।

।।শ্রীশ্রী রামঠাকুর মানবসেবা সংগঠন।। ।।জয় রাম জয় গোবিন্দ।।

দয়া করে আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক, ফলো এবং শেয়ার করুন।

ধন্যবাদ।

🙏🌼।।জয় রাম, জয় গোবিন্দ।।🌼🙏
20/04/2026

🙏🌼।।জয় রাম, জয় গোবিন্দ।।🌼🙏

ঘরে বইস্যা মানুষ সব পাইতে পারে, হরিদাস বাবু ও ঠাকুরমহাশয় খোঁশগল্পে মগ্ন, হঠাৎ ঠাকুরমহাশয় বলে উঠলেন, "আচ্ছা হরিদাসবাবু, আ...
03/04/2026

ঘরে বইস্যা মানুষ সব পাইতে পারে,

হরিদাস বাবু ও ঠাকুরমহাশয় খোঁশগল্পে মগ্ন, হঠাৎ ঠাকুরমহাশয় বলে উঠলেন, "আচ্ছা হরিদাসবাবু, আপনে যে বাড়িতে প্রতিদিন ভোগ দ্যান তা তো খাইতে কষ্ট হয় না, কিন্তু সেদিন এমন গরমই দিছেন, আমার তো মুখ পুইড়্যা যায়।" হরিদাসবাবু প্রতিদিন যে ভোগ দিতেন তাকে শীতল করবার জন্য তার সহধর্মিণী একপাশে বসে পাখা সঞ্চালন করতেন এবং শীতল হইলেই হরিদাসবাবু তা নিবেদন করতেন ঠাকুরের পটের সামনে। সুতরাং এমন তো কোনও দিনই হতে পারে না। কিছু পরেই হরিদাসবাবুর স্মরণ হল গত পৌষমাসে তার বাসনা হয়েছিল ঠাকুরমহাশয়কে পুষ্পান্ন ভোগ নিবেদন করার। তদনুযায়ী তিনি তার সহধর্মিণীকে বলে রেখেছিলেন যে হাঁড়িসুদ্ধু যেন পুষ্পান্ন উনুন থেকে নামিয়ে ভোগের ঘরে আনেন এবং থালায় বেড়ে দেন, আর প্রতিদিনের মত যেন পাখার বাতাস না করেন। কারণ "ঠাণ্ডি পোলাও" স্বাদযুক্ত হয় না। নিজে খেতে যেখানে অসুবিধে বোধ করেন তিনি উপকরণ কী করে ঠাকুরকে নিবেদন করেন? সে কারণেই এ ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু তার ফল যে এত বিষময় হয়ে উঠতে পারে সে বিবেচনা তখন তার ছিল না।

উত্তপ্ত পুষ্পান্ন গ্রহনে ঠাকুরমহাশয়ের যে অসুবিধে ঘটেছিল তাহার জন্য বেদনাবোধও তিনি সাময়িকভাবে ভুলে গিয়েছিলেন। কাহারও কাহারও মুখে তিনি শুনেছিলেন, ঠাকুরমহাশয় পটে সর্বক্ষণ প্রকট। আজ তিনি নিঃসংশয়ে উপলব্ধি করলেন ঠাকুরমহাশয়ের পট শুধু কাঁচ-কাঠ-কাগজেরই কারবার নয়--ঠাকুর যে পটে নিত্য বিরাজমান এটা তিনি সত্যসত্যই উপলব্ধি করলেন। তখন অকপটে ঠাকুরমহাশয়ের কাছে স্বীকার করলেন উষ্ণ-পুষ্পান্ন নিবেদনের কথা এবং স্বীকার করলেন, ঐ উষ্ণ-পুষ্পান্ন গ্রহন করতে তাঁর যে ক্লেশ হয়েছিল সেটাও ভুলে গিয়েছেন, কারণ আজ তিনি সত্যসত্যই বুঝলেন, পটে আর দেহে ঠাকুরের কোন প্রভেদ নেই, এই আনন্দে। পার্কের ভিতরেই ঠাকুরমহাশয়ের চরণে লুটিয়ে পড়লেন তিনি। ঠাকুরমহাশয় তাকে পাশে বসালেন। ঠাকুরমহাশয় বলতে লাগলেন, "এইখানে ঐখানে ঘুইরা কোন লাভ হয়না হরিদাসবাবু--ওরে শিবাবায়ু কয়। ঘরে বইস্যাই মানুষ সব পাইতে পারেন।"

আচার্য্য মহাশয় বুঝতে পারলেন, এক বছর ধরে ঠাকুরমহাশয়কে দেখতে না পাওয়ার জন্য যে ছটপট করেছেন, সেখানে কতবড় ভুল ছিল। ভুল করেছেন তিনি এখানে ওখানে ঠাকুরের ঠিকানা সংগ্রহ করার জন্য সবরকমের প্রচেষ্টা করে। আরও ভুল করেছেন তিনি ঢাকা থেকে কলকাতায় এসে ঠাকুর দর্শন করতে যে ব্যর্থ হয়েছিলেন সেটা ভেবে। কারণ এখন তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছেন তার নিজ গৃহে রক্ষিত ঠাকুরমহাশয়ের পটেই তো ঠাকুর চির-বিদ্যমান।

।।জয় রাম, জয় গোবিন্দ।।

শ্রীশ্রীরাম ঠাকুরের জীবন অসংখ্য অলৌকিক ও রহস্যময় ঘটনায় ঘেরা। তাঁর ভক্তদের অভিজ্ঞতায় শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথের এমন অনেক লীলা ব...
13/03/2026

শ্রীশ্রীরাম ঠাকুরের জীবন অসংখ্য অলৌকিক ও রহস্যময় ঘটনায় ঘেরা। তাঁর ভক্তদের অভিজ্ঞতায় শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথের এমন অনেক লীলা বর্ণিত আছে যা যুক্তি-তর্কের অতীত। তাঁর জীবনের অন্যতম একটি প্রভাবশালী অলৌকিক ঘটনা নিচে বর্ণনা করা হলো:

মৃতবৎসা মায়ের সন্তান রক্ষা ও যুগপৎ অবস্থান
একবার এক ভক্ত নারী শ্রীশ্রী ঠাকুরের কাছে এসে অঝোরে কাঁদতে লাগলেন। তাঁর দুঃখ ছিল এই যে, তাঁর কোনো সন্তানই জন্ম নেওয়ার পর বাঁচে না। শ্রীশ্রী ঠাকুর তাকে অভয় দিয়ে একটি বিশেষ নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন, পরের বার সন্তান জন্মাবার সময় যেন তাঁকে স্মরণ করা হয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট
সেই নারী যখন পুনরায় গর্ভবতী হলেন এবং প্রসববেদনা শুরু হলো, তখন অবস্থা অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ল। চিকিৎসকরা আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তে ওই নারী ও তাঁর পরিবার কেবল শ্রীশ্রী ঠাকুরের নাম জপ করতে লাগলেন।

অলৌকিক আবির্ভাব
ভক্তদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঠিক সেই সংকটকালীন মুহূর্তে দেখা গেল শ্রীশ্রী ঠাকুর সশরীরে সেই গৃহের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি গম্ভীর স্বরে অভয় দিলেন এবং ঘরের ভেতর থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ শোনা গেল। আশ্চর্যের বিষয় হলো:

যুগপৎ অবস্থান: যে সময়ে শ্রীশ্রী ঠাকুরকে সেই ভক্তের বাড়িতে দেখা গিয়েছিল, ঠিক সেই একই সময়ে তিনি শত মাইল দূরে অন্য একটি শহরে অনেক ভক্তের মাঝখানে বসে ধর্মপ্রসঙ্গ করছিলেন।

অদৃশ্য হওয়া: প্রসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার সংবাদ পাওয়া মাত্রই বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা ঠাকুর হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে যান। কেউ তাঁকে চলে যেতে দেখেনি, অথচ মুহূর্ত আগেও তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

কেন এই ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ?
এই ঘটনাটি শ্রীশ্রী রাম ঠাকুরের 'কৈবল্য লীলা'র একটি বড় উদাহরণ।

ত্রিকালজ্ঞতা: তিনি স্থান ও কালের ঊর্ধ্বে ছিলেন।

কায়ব্যূহ: তিনি একই সময়ে একাধিক স্থানে ভিন্ন ভিন্ন রূপে অবস্থান করতে পারতেন।

শক্তির প্রয়োগ: তিনি কখনো অলৌকিকতা প্রদর্শনের জন্য কিছু করতেন না, কেবল আর্তের ডাকে সাড়া দিতেই তাঁর এই বিভূতি প্রকাশ পেত।

শ্রীশ্রী ঠাকুর সব সময় বলতেন, "নাম করো, নামেই সব হবে।" তিনি নিজেকে ভগবান হিসেবে প্রচার না করে সাধারণ মানুষের মতো থেকে পর্দার আড়াল থেকেই ভক্তদের রক্ষা করতেন।

II জয় রাম, জয় গোবিন্দ ll

সংসার ভ্রমিতে ভব-ক্ষয়োম্মুখ যবে।সাধুসঙ্গসংঘটন ভাগ্যক্রমে হ'বে ৷৷সাধুসঙ্গফলে কৃষ্ণে সর্বেশ্বরেশ্বরে।ভবোদয় হয় ভাই জীবের...
14/01/2026

সংসার ভ্রমিতে ভব-ক্ষয়োম্মুখ যবে।
সাধুসঙ্গসংঘটন ভাগ্যক্রমে হ'বে ৷৷
সাধুসঙ্গফলে কৃষ্ণে সর্বেশ্বরেশ্বরে।
ভবোদয় হয় ভাই জীবের অন্তরে ॥
-----------------------------
শ্রীশ্রীঠাকুরের পরম ভক্ত ফণীবাবু স্বয়ং ঠাকুরের কাছ থেকে আরাধ্য নাম পাবার কিছুদিন পর এক গভীর রাত্রে হঠাৎ একটা শব্দে ঘুম থেকে জেগে ঘরের কোণে রাখা হারিকেন ল্যাম্পের আলো বাড়িয়ে দেখলেন, তাঁর স্ত্রীর গলা থেকে একটা ঘড়ঘড় শব্দ বেরুচ্ছে। তিনি স্ত্রীর খাটের কাছে গিয়ে জোরে জোরে ডেকে তাঁর ঘুম ভাঙ্গান। ফণীবাবুর স্ত্রী তখন ঘুম থেকে উঠে বললেন, “ঠাকুর আমাকে নাম দিয়ে উপদেশ দিচ্ছিলেন আর তখন তুমি আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে সব নষ্ট করে দিলে।” তাছাড়া ঠাকুরও চলে গেলেন। এই বলে তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। ফণীবাবু তখন বললেন, “তুমি কাঁদছ কেন? ঠাকুর কৃপা করে স্বয়ং এসে তোমাকে নাম দিয়েছেন এর চেয়ে সৌভাগ্য আর কি হতে পারে? কি নাম দিয়েছেন বল, আমি কাগজে লিখে রাখি। নতুবা ভুলে যেতে পার।” ফণীবাবুর স্ত্রী নাম বললে তিনি তা কাগজে লিখে রাখেন আর মনেমনে ঠিক করেন এই নাম দিয়েই তিনি ঠাকুরকে পরীক্ষা করবেন। এর বেশ কিছুদিন পর একদিন ঠাকুর ফণীবাবুর বাড়িতে
আসলে তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে ঠাকুর ঘরে প্রবেশ করে দরজার খিল এঁটে দিলেন।

ফণীবাবুর স্ত্রী ঠাকুরের শ্রীপাদপদ্মে প্রণামপূর্বক হাত জোড় করে বললেন, “আমি নাম চাই”। ঠাকুর তখন নাম উচ্চারণ করতে শুরু করলেন। ফণীবাবুর স্ত্রীও একই সাথে নাম উচ্চারণ করলেন। ফণীবাবু কাগজে পূর্বলিখিত নামের সাথে মিলিয়ে দেখলেন একই নাম। নাম দেয়া শেষ করে ঠাকুর ফণীবাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন, এই নাম উনি স্বপ্নে পেয়েছিলেন। নাম দেবার পর উপদেশ দেওয়ার সময় আপনি উনার ঘুম ভেঙ্গে দেন, উনি খুব কান্নাকাটি করেছিলেন কি?

আমাকেও পরীক্ষা করে নেওয়া ভাল। তাহলে আর সংশয় থাকে না। সংশয়ের নিরসন হওয়া ভাল। গুরুর উপর সংশয় থাকলে ইহকাল পরকাল দুইই যায়। শুনেন, গুরুদর্শন সর্বকালে, সর্ব অবস্থায় সত্য। অতীন্দ্রিয় অবস্থা না হলে ভগবদ্দর্শন লাভ হয় না। গাঢ় ঘুম হলে কে থাকে? তখন যিনি থাকেন তিনি ইন্দ্রিয়াতীত, তিনি প্রাণ, তিনি ভগবান, তিনিই গুরু। অতএব গুরু দর্শন শয়নে, স্বপনে, জনমে, মরণে সর্ব অবস্থায় মহাসত্য। এতে সংশয় রাখবেন না। এই বলে ঠাকুর নীরব হলেন।

🔯🌸।।জয় রাম, জয় গোবিন্দ।।🌸🔯

সত্যপীরবেশী শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণের চিত্রপট সৃষ্টির ইতিকথাঃ বাংলার বুকে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ঘোষিত হওয়ার কিছুদিন আগের কথা। ঘরে ঘ...
28/12/2025

সত্যপীরবেশী শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণের চিত্রপট সৃষ্টির ইতিকথাঃ

বাংলার বুকে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ঘোষিত হওয়ার কিছুদিন আগের কথা। ঘরে ঘরে খাদ্যাভাব। রাস্তায় রাস্তায় ক্ষুধার্ত মানুষের মিছিল। --১৯৪১ খ্রীষ্টাব্দ, শ্রীশ্রীরামঠাকুর গোপনে আছেন, ভক্তপ্রবর মাধব মজুমদার মশাইয়ের কলকাতার বাড়িতে। - একদিন ঠাকুর মাধব মজুমদারের সহধর্মিনীকে বললেন, "মা আপনার পরনের সায়ার মত আমারে একটা পেটিকোট বানাইয়া দেন, একটু যেন বড় সড় হয়"। এই বলে তিনি নিজের পায়ের কাছে হাত এনে কতটা ঝুল হবে তা বুঝিয়ে দিলেন। - দিন দুয়েকের মধ্যেই মজুমদার মহোদয়া নূতন কাপড়ের এক সায়া বানিয়ে ঠাকুরের হাতে দিলেন।
- এক ছুটির সকালে, ডঃ যতীন্দ্র মোহন দাশগুপ্ত ও পূর্ণ গাঙ্গুলী মশাই দুজনেই সস্ত্রীক এলেন মাধব বাবুর বাড়িতে। এসে দেখেন শ্রীশ্রীরামঠাকুর শ্রীমুখ সাদা গোঁফ - দাড়িতে ভরা। তিনি সায়া পড়ে বিছানায় বসে আছেন। তাঁকে একটু রোগা লাগছে, তবে এই বেশে বেশ সুন্দর দেখাচ্ছে। ডাক্তারবাবু যথারীতি ঠাকুরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করে সবার সাথে এসে বসলেন। ডাক্তার গৃহিনী তখন চুপি চুপি তাঁকে বললেন, "এই বেশে ঠাকুরের একটা ছবি তুলে রাখলে কেমন হয়?" - ডাক্তারবাবু ও পূৰ্ণবাবুর ব্যবস্থাপনায় কিছুক্ষন পরেই, আলোকচিত্রী শিল্পী (ফটোগ্রাফার) এলেন, ঠাকুরের ছবি তুলতে। - সবাই দেখেন ঠাকুর তাঁর গায়ে, পরনের সায়ার ওপর বেশ বড় এক সাদা চাদর জড়িয়ে নিয়েছেন। - ফটোগ্রাফার ভদ্রলোক, ঘরের কোণে রাখা হাতল দেওয়া কাঠের চেয়ারটা ঘরের যেখানে ভালো আলো আসে সেখানে রেখে শ্রীশ্রীঠাকুরকে অনুরোধ করলেন তাতে বসতে। - দেখা গেল নির্লিপ্ত এক বিশেষ ভঙ্গিমায় ঠাকুর চেয়ারে বসে আছেন। এবার ফটোগ্রাফার ভদ্রলোক ঠাকুরের অনুমতি নিয়ে ছবি তুলে নিলেন।
কিছুদিন পরের কথা। ওনারা ছবি নিয়ে মাধব বাবুর বাড়ি এলেন। ঠাকুরকে দেখান হলো সেই দিনের তোলা ছবি। ছবি দেখে শ্রীশ্রীরামঠাকুর বলেন, "ইনি সত্যপীর - সত্যনারায়ণ। সিন্নী দিয়া সকল কামনা বাসনা এনারেই জানাইবেন, কৈবল্যনাথের কাছে কিছুই প্রার্থনা করিতে নাই।"

🔯🌸।। জয় রাম,জয় গোবিন্দ।।🌸🔯

তখন শীতকাল । প্রচণ্ড শীতের কোপে মানুষ জড়সড়। ফরিদপুর জেলার কনেশ্বর গ্রামের হেমচন্দ্র সরকারের সঙ্গে রামঠাকুর চলেছেন নোয়...
25/12/2025

তখন শীতকাল । প্রচণ্ড শীতের কোপে মানুষ জড়সড়। ফরিদপুর জেলার কনেশ্বর গ্রামের হেমচন্দ্র সরকারের সঙ্গে রামঠাকুর চলেছেন নোয়াখালি থেকে চট্টগ্রামে। তাঁর যাতে শীতে কষ্ট না হয় সেইজন্য তিনি ঠাকুরের অন্যতম ভক্ত নোয়াখালির প্রখ্যাত সরকারী উকিল শ্রীশুভময় দত্তের কাছ থেকে একটা মহামূল্যবান কম্বল এনেছিলেন। ট্রেনে উঠে ঠাকুর সেই কম্বলখান। গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়লেন। গাড়ির দরজা জানলা বন্ধ, কিন্তু মাঝে মাঝে জানলার ফাঁক দিয়ে ঠাণ্ডা আসায় শীতের প্রকোপ প্রবলতর হল। রামঠাকুর শুয়ে আছেন।হেমবাবু মাঝে মাঝে কম্বলটা দিয়ে ভাল করে ঠাকুরকে ঢেকে দিচ্ছেন। ট্রেন চৌমুহানীতে এলে ঠাকুর উঠে বসলেন। হেমবাবু তাঁর দিকে তাকাতেই তিনি বললেন, 'কোথায় এসেছি তাই দেখার জন্য উঠলাম ।'ট্রেন ছাড়ে ছাড়ে, এমন সময় এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক ব্যস্তভাবে উঠে এলেন গাড়িতে । পরনে সামান্য একটা জামা। শীতে সমস্ত শরীর তার কাঁপছে।ঠাকুর ভদ্রলোককে ঐ অবস্থায় দেখে বড় অধীর হয়ে পড়লেন । বললেন, 'এদিকে আসুন, আমার এই পাশের জায়গায় বসুন।' ভদ্রলোক ঠাকুরের পাশে এসে বসতেই গায়ের কম্বলটা খুলে তার গায়ে জড়িয়ে দিয়ে বললেন, 'আরাম করে বসুন, ভারী গরম।' হেমবাবু কম্বলের দিকে তাকাচ্ছেন আর ভাবছেন কম্বলের ভবিষ্যতের কথা। কম্বলটা প্রায় যাবারই পথে। শুভময়বাবুই বা কি বলবেন। এতসব ভাবছেন আর ঠাকুরের দিকে বার বার তাকাচ্ছেন। ঠাকুর মুখটা একটু কাঁচুমাচু করছেন। হেমবাবু বড়ই অস্বস্তি বোধ করলেন। যদি কম্বলটা চলে যায় তাহলে ঠাকুরের কি হবে ? আব তো দ্বিতীয় কিছু নেই যা তিনি গায় দেবেন ।ট্রেন এসে লাকশাম জংশনে থামলে ভদ্রলোক কম্বলটা গায় দিয়েই উঠে দাড়ালেন ।রামঠাকুর একটু ভীত সন্ত্রস্ত কণ্ঠে হেমবাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন, 'কম্বলটা উনি নিয়ে যান, ওটা না হলে ওর বড় কষ্ট হবে। পরে হেমবাবুর মুখের দিকে চেয়ে বললেন, 'আমি জানি আপনি অনেক কিছু 'ভাবছেন— শুভময়বাবুকে বুঝিয়ে বললেই হবে।' ভদ্রলোক লাকশাম জংশনে কম্বলটা গায়ে জড়িয়ে নেমে গেলেন। এমন দয়াল প্রেমময় এ দুনিয়ায় কজন মেলে।চেনা নেই, জানা নেই, প্রচণ্ড শীতে অপরের দেওয়া কম্বল বিনা দ্বিধায় দিয়ে তিনি পরমানন্দ লাভ করলেন। নিজে যে এই প্রচণ্ড শীতে সারা রাত কষ্ট পাবেন সে চিন্তাও একবার করলেন না। আমাদের প্রাণ আর ঠাকুরের প্রাণে কত তফাৎ।

আমাদের প্রাণ বলে, কষ্ট পাক, আর ঠাকুরের প্রাণ কাঁদে অপরের কষ্ট দেখে ।
দুই প্রাণই প্রাণ ।এক প্রাণ হাসে আর এক প্রাণ কাঁদে ।এক প্রাণ নিষ্প্রাণ আর এক প্রাণ প্রাণবন্ত ।

তাই রামঠাকুর আজ আশ্রয়দাতা আর আমরা আশ্রয়প্রার্থী।

🔯🌸।। জয় রাম, জয় গোবিন্দ।।🌸🔯

শ্রাবণ মাস - বর্ষাকাল। অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টি পড়িতেছে। রাস্তাঘাট জলে পরিপূর্ণ - জনমানবহীন। ঐদিন প্রাতে মাতা ঠাকুরাণী বলি...
22/12/2025

শ্রাবণ মাস - বর্ষাকাল। অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টি পড়িতেছে। রাস্তাঘাট জলে পরিপূর্ণ - জনমানবহীন। ঐদিন প্রাতে মাতা ঠাকুরাণী বলিয়াছিলেন যে ঘরে চাউল নাই। ভাবলাম হাতে একটি ও পয়সা নাই, কোথায় টাকা পাই, কোথায়ই বা চাউল পাই, ধারই বা এই মাসের শেষে কে দিবে? তারপর ভাবিতে লাগিলাম "আমি চিন্তা করি কেন? ঠাকুরের উপর নির্ভর করিয়া থাকি তিনি যাহা হয় ব্যবস্থা করিবেন।" এইভাবে মন স্থির করিতে চেষ্টা করিলাম। এমন সময় কিছুদিন পূর্ব্বেকার একটি ঘটনা মনে পড়িয়া গেল।

ঠাকুর তখন ফেণী কলেজের প্রফেসর শ্রীযুক্ত প্রমথনাথ চক্রবর্ত্তী মহাশয়ের বাসায় আছেন। আমি তথায় সর্ব্বদা ঠাকুরের সঙ্গে আছি। তিন চারদিন বাড়ী যাই না; ভাবিলাম, মাতা ঠাকুরাণী বাজার খরচের কি ব্যবস্থা করিতেছেন একবার গিয়া দেখিয়া আসি।" বাড়ী পৌঁছিবা মাত্রই মা বলিলেন "বাজার খরচা বাবদ কিছু দিয়া যাস, দুই দিন যাবত বাজার করি না।" আমি হাঁ বা না উত্তর না করিয়া সুযোগ বুঝিয়া সরিয়া পরিলাম, কারণ আমার হাতে তখন একটি পয়সাও নাই। প্রমথদার বাড়ীতে ফিরিয়া ঠাকুরকে প্রণাম করিলাম। প্রণাম করিতেই আমার দিকে তাকাইয়া ঠাকুর বালিশের তলায় হাত দিলেন ও সেখান হইতে কয়েকটি টাকা বাহির করিয়া আমার হাতে দিয়া বলিলেন, "যান, মাকে এই টাকা কয়টা দিয়া আসেন" ঠাকুর যে অন্তর্যামী এবং তাঁহার অজানা যে কিছুই নাই তাহা অনুভব করিতে করিতে আমি বাড়ি যাইয়া মাকে টাকা দিয়া আসিলাম।

উক্ত ঘটনা মনে পড়িতেই চাউলের চিন্তা কিছুটা প্রশমিত হইল। হঠাৎ বাহির হইতে একটা শব্দ আসিল, "বাবু, চাউল রাখবেন?" বাহিরে তখন অবিরাম ধারায় বৃষ্টি পড়িতেছে। ভাবিলাম, "ভুল শুনিতেছি না তো"; কিন্তু আবার সেই ডাক - "বাবু, চাউল রাখবেন?" - কৌতুহল পরবশ হইয়া উত্তর করিলাম, "কে? বাড়ীর ভিতরে এস।" - চাউলের ভাঁড় লইয়া বাড়ীর ভিতরে আসিল জনৈক বৃদ্ধ - বয়স অনুমান ৬০/৬৫ বত্সর হইবে। আমি তাহাকে বলিলাম "আমার আতপ চাউলের প্রয়োজন।" সে বলিল, "আতপ চাউলই আনিয়াছি।" সঙ্গে সঙ্গেই সে মোড়ানো কলাপাতা খুলিয়া ফেলিল। বৃদ্ধকে বলিলাম, চাউল আমার পছন্দ হইয়াছে - এখন মাসের শেষ আমার হাতে টাকা নাই। ইংরাজী মাসের দুই তিন তারিখের আগে দিতে পারিব না, আমাকে বাকিতে দিতে হইবে।" সে বলিল "আমি আপনাকে চিনি। এখন টাকা না দিলেও চলবে - মাসকাবারে দিবেন।" সেই মুহূর্তেই চাউলের সমস্যা এইভাবে সমাধান হওয়ায় আমি একেবারে অভিভূত হইয়া পড়িলাম। শ্রীশ্রী ঠাকুর যে সর্ব্বদাই সঙ্গে সঙ্গে আছেন এবং আমাদিগকে রক্ষা করিতেছেন তাহা বুঝিতে আর বাকি রহিল না।

🌸🔯।।জয় রাম, জয় গোবিন্দ।।🔯🌸

হিমালয় দেবদেবতার লীলাক্ষেত্র। সাধক-সাধিকার সাধনক্ষেত্র এমন নিভৃত স্থান পৃথিবীতে আর কোথাও আছে কিনা সন্দেহ! হিমালয় শুধু ...
20/12/2025

হিমালয় দেবদেবতার লীলাক্ষেত্র। সাধক-সাধিকার সাধনক্ষেত্র এমন নিভৃত স্থান পৃথিবীতে আর কোথাও আছে কিনা সন্দেহ! হিমালয় শুধু পাহাড় নয়—সারা ভারতবর্ষের সাধন ও সিদ্ধপীঠ। যুগে যুগে কালে কালে কত ন। মহাপুরুষ এখানে এসে নীরব সাধনার দ্বারা ঈশ্বর দর্শন করেছেন। সাধন মার্গের উচ্চশীর্ষে উঠেছেন তা ভারতবর্ষের ধর্মপ্রবণ মানুষ কিছু কিছু অবশ্যই জানেন ।
-
গুরুদেবের কৃপায় রামঠাকুর হিমালয়ের অনেক কিছু দর্শন করে ধন্য হয়েছেন । কত দুর্লভ জিনিস তিনি দেখেছেন তার কোন হিসাব নেই। হিমালয়ের দুর্গম গিরিবর্থে – যেখানে কোন মানুষ যাতায়াত করতে পারে না, কোন জীবজন্তু যেখানে বিচরণ করে না, কোন পাখিও যেখানে সচরাচর দৃষ্ট হয় না সেখানে গিয়ে রামঠাকুর দেখেছেন কত সাধু যোগী কতকাল থেকে ধ্যানস্থ হয়ে আছেন । প্রস্তরবৎ, দেহে কোন প্রাণ আছে কিনা বোঝা যায় না। দুই চক্ষু মুদিত, প্রশস্ত দেহী।
রামঠাকুর পাহাড় থেকে পত্রপুষ্প সংগ্রহ করে এনে তাঁদের দেবতা জ্ঞানে পূজা করেছেনে । ফলমূল যতটুকু পেরেছেন তাই দিয়ে ভোগ নিবেদন করেছেন। সে ভোগ তাঁরা গ্রহণ করেছেন।

রামঠাকুর বিদায়কালে তাঁদের ভক্তিভরে প্রণাম করলেন। তাঁরাও হাত তুলে শ্রী শ্রী রামঠাকুরকে আশীর্বাদ করেছেন ।

🔯🌸।।জয় রাম, জয় গোবিন্দ।।🌸🔯

🌼 শ্রীশ্রী রামঠাকুর: জন্ম, জীবন ও লীলাকথাবেদবাণী–সমন্বিত আধ্যাত্মিক জীবনীজয় রাম। জয় গোবিন্দ।✨ ১. জন্ম ও শৈশব১৮৬০ সালের...
29/11/2025

🌼 শ্রীশ্রী রামঠাকুর: জন্ম, জীবন ও লীলাকথা
বেদবাণী–সমন্বিত আধ্যাত্মিক জীবনী

জয় রাম। জয় গোবিন্দ।

✨ ১. জন্ম ও শৈশব

১৮৬০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, ফরিদপুর জেলার ডিঙ্গামানিক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শ্রীশ্রী রামঠাকুর।
পিতা: শ্রীরাধামাধব চক্রবর্তী
মাতা: শ্রীমতি কমলাদেবী

পাঁচ ভাই–বোনের মধ্যে যমজ রাম ও লক্ষ্মণ ছিলেন অকৃতদার।
ছেলেবেলায় পাঠশালার বাংলা শেখার মধ্য দিয়েই তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু।
পিতার তন্ত্র–সাধনার প্রভাবে ছোটবেলা থেকেই রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণচর্চায় গভীর মনোযোগী ছিলেন তিনি।
তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল অসাধারণ।

✨ ২. গুরুদেব ও দুই মৃত্যু—আত্মজাগরণের শুরু

রামঠাকুরের পিতার গুরুদেব ছিলেন শ্রীমৃত্যুঞ্জয় ন্যায়পঞ্চানন—
যিনি ছোট রামকে গভীর স্নেহ করতেন।

মাত্র আট বছর বয়সে পিতার মৃত্যু, এবং কয়েক দিনের মধ্যে গুরুদেবের মৃত্যুও একইসঙ্গে তাঁকে নাড়া দেয় গভীরভাবে।
জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন তখন থেকেই তাঁর মানসপটে ঘুরতে থাকে।

কোনও এক অক্ষয় তৃতীয়ায়, স্বপ্নে গুরুদেব তাঁকে সিদ্ধ নাম প্রদান করেন।
এই স্বপ্নই তাঁর জীবনে এনে দেয় এক নতুন আধ্যাত্মিক অধ্যায়।

✨ ৩. গৃহত্যাগ ও অজানার সন্ধান

১৮৭২ সালে, মাত্র কিশোর বয়সে, সকলের অজান্তে তিনি গৃহত্যাগ করেন।
বন-জঙ্গল-নদী-পর্বত পেরিয়ে পৌঁছালেন আসামের কামাক্ষ্যা মন্দিরে।

সেখানেই একদিন গভীর জপের সময় তিনি গম্ভীর কণ্ঠে শুনতে পেলেন—
“রাম… রাম…”
যা ছিল তাঁর স্বপ্ন–গুরুদেবের দেওয়া সিদ্ধ নামেরই ডাক।

বাইরে এসে দেখলেন—
জটাধারী, দীপ্তিমান, এক দীর্ঘাঙ্গী মহাপুরুষ দাঁড়িয়ে।
তাঁকেই গুরুরূপে বরণ করেন রামঠাকুর।
এরপর শুরু হয় গুরুর সঙ্গে অজানার পথে দীর্ঘ যাত্রা।

✨ ৪. হিমালয়ে তপস্যা ও অষ্টসিদ্ধি অর্জন

গুরুর নির্দেশে গভীর অরণ্য, পাহাড়, নিরালা তপোবনে তিনি বহু বছর তপস্যা করেন।

হিমালয়ের কৌশিকাশ্রম, বশিষ্ঠাশ্রমসহ বহু অজানা স্থানে তিনি
অষ্টসিদ্ধি অর্জন করেন—
এবং ঋষিদের সেবা–পূজা করে শুদ্ধ সাধনায় দীপ্ত হন।

গুরুদেব তাঁকে পরে নির্দেশ দেন—
“লোকালয়ে ফিরে মানবসেবা কর।”

✨ ৫. মাতৃসেবা ও গার্হস্থ্যজীবনে পরম ত্যাগ

গুরুর আদেশ শিরোধার্য করে তিনি
একসময় নোয়াখালির একজন ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে পাচক হিসাবে কাজ নেন।

তাঁর হাতের রান্না সকলেই পেতেন,
কিন্তু তিনি নিজে খেতেন না—
মাত্র কিছু দুধ ও ফলাহারেই থাকতেন সুস্থ-সবল।

ইঞ্জিনিয়ার শীঘ্রই বুঝতে পারেন—
এ মানুষ কোনও সাধারণ পাচক নন;
এক মহাপুরুষ।

✨ ৬. ফেণী শহরে সেবা—সমাজবিপ্লবের এক নীরব অধ্যায়

এরপর তিনি সরকারি কর্মে ফেণী শহরে থাকেন।
সেখানে কর্মসূত্রে থাকা বহু অসহায় মহিলাকে
নিজ হাতে রান্না করে খাইয়ে সেবা করতেন—
মা–বোন জ্ঞানে।

অসুস্থ হলে সেবাযত্নে তিনি ছিলেন আপনজনের মতো।

তৎকালীন সমাজে বর্ণ-ছোঁয়াছুঁয়ির কুসংস্কারের ভীষণ সময়ে
এক অকৃতদার ব্রাহ্মণ যুবকের এই মানবসেবা
ছিল সত্যিকারের সমাজবিপ্লব।

কবি নবীনচন্দ্র সেন লিখেছিলেন—

“পরসেবায় ছিল তাঁর পরমানন্দ।”

✨ ৭. যোগশক্তির দীপ্তি ও মানবমুক্তির দিশা

জীবনের অর্ধেক সময় তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে গভীর যোগসাধনায় কাটান।
বাকি ৪০ বছর কাটান লোকালয়ে—
মানবমুক্তির দিশা নিয়ে।

তিনি বলতেন—

“আমি আপনাদের জন্য চাইখ্যা ‘নাম’ আনছি।”

তাঁর কাছে শুচি–অশুচি, জাতি–বর্ণের কোনও ভেদ ছিল না।
ভক্তির সত্যকে তিনি ব্যাখ্যা করতেন নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে।

✨ ৮. নাম–তত্ত্ব ও কৈবল্য মুক্তির উপদেশ

তিনি বলতেন—

“শান্ত হইলেই শান্তি পাওয়া যায়।”
“দীক্ষা হল—দেখা। নিজের জিনিস নিজেকে জানাইয়া দেওয়া।”

নামই একমাত্র সম্বল—
যা যে কোনও স্থানে, যে কোনও সময়ে, যে কোনও অবস্থায় করা যায়।

নাম করলে—
অভাব দূর হয়, ঋণমুক্তি হয়, আর জন্ম–মৃত্যুর গতাগতি শেষ হয়।
ইহাই কৈবল্য মুক্তি।

✨ ৯. কৈবল্যধাম: তাঁর নির্দেশে গড়া তীর্থ

১৯৩০: চট্টগ্রামে কৈবল্যধাম

১৯৪২: কলকাতার যাদবপুরে কৈবল্যধাম

১৯৪৩: তাঁর জন্মভিটা ডিঙ্গামানিকে সত্যনারায়ণ সেবা মন্দির

মোহান্ত পরম্পরা মারফত তিনি নাম বিতরণের পদ্ধতি স্থাপন করে যান।

✨ ১০. গান্ধীজীর প্রয়াণ ও মহাপুরুষের দর্শন

১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি, গান্ধীজি গুলিবিদ্ধ হয়ে “হে রাম” বলে দেহত্যাগ করেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে চৌমুহনীতে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—

“মহাত্মা গান্ধী চইল্যা গেলেন। গান্ধীর আর জন্ম হইবো না।”

✨ ১১. মহাপ্রয়াণ

১৯৪৯ সালের ১ মে, অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্য লগ্নে
অগণিত ভক্তকে অশ্রুস্নাত রেখে ৯০ বছর বয়সে
তিনি অনন্তলোকে গমন করেন।

রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ডঃ যতীন্দ্রমোহন দাশগুপ্তকে—

“সমুদ্রেরও কূল আছে, কিন্তু তোমার ঠাকুরের কোনও কূলকিনারা নেই।”

🌼 ১২. উপসংহার

শ্রীশ্রী রামঠাকুর ছিলেন—
একযোগে মহাগুরু, সমাজসেবক, যোগী, নিরপেক্ষ শক্তির আধার,
এবং জন্মজন্মান্তরের মা-বাবা-বন্ধু।

আজও তাঁর চিরন্তন বাণী—

“শান্ত হইলেই শান্তি পাওয়া যায়।”
“নামই একমাত্র পথ।”

🙏🕉 জয় রাম। জয় গোবিন্দ। 🕉🙏

08/11/2025

ঠাকুর স্নেহাদর করিতে করিতে বলিতে লাগিলেন, ‘আমি রাগ দেখাই, রাগ করি না৷ ফোঁস করি, কামড় দেই না৷ আমার রাগ তরঙ্গহীন৷ তাতে চিত্তে ঢেউ খেলে না, কোন রকম দাগ কাটে না৷ দাগ কাটে না বইলাই আমার ক্রোধ সাময়িক ও অস্থায়ী৷ ক্রোধ আমারে পায় না, প্রয়োজন বোধে আমিই ক্রোধেরে পাইয়া থাকি৷ স্বভাবেই থাকি, স্বভাবের অভাব হয় না৷ তোমারে ক্রোধ দেখাইছি, এখন আর স্মরণেও নাই৷ গরম জল ফুরাইয়া গেছে সরল ভাবে জানালেই হইত, তা না কইরা তুমি দ্বৈতবুদ্ধির আশ্রয় নিলা কেন? সরলতার আশ্রয়ে থাকা নিরাপদ৷ শিশুর সরলতাই একমাত্র আশ্রয়৷ সেইখানে মন, বুদ্ধির ক্রিয়া নাই৷ সেইজন্য শিশুর মধ্যে ভগবান বিরাজ করেন৷ শিশুর মত সরল হইতে পারলে ভগবানরে পাওয়া যায়৷ আমি বাঞ্ছা করি তুমি শিশুর মত সরল হও৷ সরলতা আমি ভালবাসি৷ শুধু সরলতা দিয়া আমারে পাওয়া যায়, সাধ্যসাধনে মিলে না৷ তোমার শোধনের প্রয়োজন হইয়া পড়ছিল৷ আমার স্বভাব ভাল নয় বইলা কেহ আমারে ভালবাসে না৷ তোমরা না দেখলে আমারে দেখব কে? যামু কই? – এই বলিয়া ঠাকুর নীরব হইতেই আমি শ্রীপাদপদ্মে প্রনাম করিলাম৷

(শ্রীফণীন্দ্রকুমার মালাকার লিখিত রামভাই স্মরণে)

On behalf of Ram Thakur Manav Seva Sanghathan, I extend our warmest greetings and best wishes to everyone. With the bles...
25/09/2025

On behalf of Ram Thakur Manav Seva Sanghathan, I extend our warmest greetings and best wishes to everyone. With the blessings of Sri Sri Ram Thakur and the goodwill of all our well-wishers, our Facebook community has now grown to nearly 11,000 members.

Looking ahead, we aspire to strengthen our efforts through this organization to serve humanity and foster unity. Guided by the path shown by Sri Sri Ram Thakur, we are committed to advancing together and working more effectively for the welfare of all.

We sincerely thank each one of you for your continuous support and encouragement, and we look forward to your continued presence by our side.

-----------------------------------------------------------------------------

রাম ঠাকুর মানব সেবা সংঘঠনের পক্ষ থেকে আপনাদের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

শ্রীশ্রী রাম ঠাকুরের আশীর্বাদ এবং আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতার ফলে আজ আমাদের ফেসবুক পরিবারে প্রায় ১১,০০০ সদস্য যুক্ত হয়েছেন।

আগামী দিনে এই সংঘঠনের মাধ্যমে মানবতার কল্যাণে কাজ করার এবং পরস্পরের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার আমাদের রয়েছে। শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর প্রদর্শিত পথে আমরা সবাই একসাথে এগিয়ে চলব, যাতে আরও সুন্দরভাবে সমাজ ও মানবকল্যাণের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারি।

আপনাদের নিরন্তর সমর্থন ও উৎসাহের জন্য আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতেও আপনাদের পাশে পাবো বলে প্রত্যাশা করছি।

।।জয় রাম, জয় গোবিন্দ।।

🙏🙏🙏

Address

Kolkata
700099

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ।।শ্রীশ্রী রামঠাকুর মানবসেবা সংগঠন।। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to ।।শ্রীশ্রী রামঠাকুর মানবসেবা সংগঠন।।:

Share