25/06/2024
*গঙ্গা সাগরে যীশু পূজা*
প্রাগৈতিহাসিক পূণ্য ভূমি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ ব দ্বীপ অঞ্চল গঙ্গা সাগর আইল্যান্ড। নেটওয়ার্ক দুনিয়ার বদান্যতায় ভৌগলিক অবস্থান নিয়ে কিছু না লিখে বরণ সরাসরি কি অসম্ভব মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস,ধর্মীয় জীবন চরিত সে বিষয় আলোকপাত করতে চাই।
গত ইং ২৩.৬.২৪.রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাত জায়গাতে ব্যারাকপুর ডায়োসিসের বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী মহোদয়ের পরিচালনায় উপাসনা অনুষ্ঠিত হয়। সঙ্গে ছিলেন ডায়োসিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেভা: ডেভিড রায় ও ডায়োসিসান সম্পাদক শ্রী সুকল্যান হালদার ও কাকদ্বীপ সেন্ট স্টিফেন্স স্কুলের সম্পাদক ও স্থানীয় পুরোহিত রেভাঃ পবিত্র ঘোষ মহাশয় এবং সুন্দরবন এলাকার তথা ভুমিপুত্র রেভারেন্ট মদন মোহন গড়াই সহ
প্রচারক নির্মল মান্না, থিওলজিয়ান সূরজ মান্না ও একাধিক অন্যান্য প্রচারক শুভানু্ধায়ী বৃন্দ। নূতন সংযোজিত ফেলোসিপ মন্ডলী গুলো হল সাগরের ১) রুদ্রনগর ২) হরিণ বাড়ি ৩) বিষ্ণুপুর ৪) দক্ষিণ হারাধনপুর ৫) বিষ্ণুপুর উওর পাড়া ৬) বিদ্যাপীঠ ৭) সুমতি নগর।
উক্ত স্থানগুলি কচুবেড়িয়া ও গঙ্গা সাগর আইল্যান্ডের মাঝামাঝি বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত। একদিনে সাত জায়গাতে উপাসনা না অন্য ধরনের অভিনবত্ব প্রচার! ধারাবাহিকতার বাইরে বিশপের বাউল কীর্তন গানে, গানের ভুবন ভরিয়ে মন মহিনী স্থানীয়দের উদ্দিপনা, ভক্ত বিশ্বাসীবর্গের সার্বিক উদ্যোগ সত্যিই ভাবনাতীত
অসাধারণ। প্রত্যেকের বাড়ি মধ্যে তুলসী মণ্ডপ, গলায় তুলসীর মালা
আর সুমধুর কন্ঠে গাইছে *"একবার যীশু নাম বলরে, বলরে"!*
*যীশু নাম মহা নাম মধু মাখা নাম ...* সেই সঙ্গে বিশপের কীর্তন। এ কি লহময়। নিজে চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। এ আমরা কোথায় আছি! এটা কি গঙ্গা সাগর না অন্য কোন *নূতন জেরুসালেম!* সারা বিশ্ব পরিচিত যে নামে খ্যাত আজকের নিজ চোখে এ কি অসম্ভব ভক্তিপূর্ণ বিশ্বাস চাক্ষুষ করছি।প্রত্যেক হাউস ফেলোসিপ ঢোকার মুখেই জল গামছায় পা ধোয়ানীর মধ্যে দিয়ে সাবেকিয়ানা সন্মান, শ্রদ্ধাভক্তি সমাদর,অতিথিবরণে কপালে তিন জায়গায় চন্দন ফোটা, সতি সত্যিই অভূতপূর্ব অভিনন্দন যোগ্য। মা শিশুদের আতিথেওতায় উপস্থিত আমাদেরও তাদের প্রতি শ্রদ্ধায় শীর নত হয়ে যায়। বাড়ির ভিতর অসংখ্য মুদ্রাংকিত দেব দেবীর ছবি। গলায় তুলসীর মালা,উঠোনে তুলসী মন্দির ও বাড়ির কোণে পিতৃ কুলের কাষ্ঠ নির্মিত স্মৃতিশৌধ আর মুখে মুখে যীশু বন্দনা। তাইতো মুখ্য প্রচারক বিশপ আবেগ তাড়িত হয়ে উঠলেন-- বললেন যীশু নাম। কাগজে লিখো না কাগজ ছিড়ে যাবে,পাথরে লিখো না পাথর খোয়ে যাবে, *মনেতে লিখো নাম সে নাম রয়ে যাবে, সে নাম যীশু নাম।* নদী আর সাগরের সংযোগ স্থলই হল *গঙ্গা সাগর*। আর হিন্দু খৃস্টান মিলনেই মনে হয় যীশুর জেরুসালেম। রাম রহিম অ্যান্টনির পার্থক্য তো বুঝলাম। *আমরা সব যীশুর দলেতে*
কেন আবার রহিম নাম টা এল।
সেটা চাক্ষুষ করার এ আরাক অভিব্যাক্তি, সেজন্য রহিম নামক সাক্ষাৎ কর্মবীর যোদ্ধা ফটিকবেড়িয়া জন সেবা সংঘের কর্ণধার মাস্টার ঢোলা হাটের জনাব সিরাজুল বৈদ্য। মুখ্য প্রচারক তার থিওলজিক্যাল মর্মার্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শতাধিক মহিলা ও বাবাদের উদ্দেশ্য বিশপ বলেন খোদাবান (ইষা নবী) খৃষ্টান অক্ষর, খুদাতালার বাণী পয়গম্বরদের মাধ্যমে দোয়া করব(প্রার্থনা করব), ইষানবী কিয়ামাত কালে( শেষ বিচারে যীশু),খোদার সৃষ্টি(ঈশ্বরের পরম সৃষ্টি) ইসা নবী নামে(যীশুখ্রীষ্টের নামে) মনে রাখবেন হাদিসে (পবিত্র বাইবেল শাস্ত্রে লেখা আছে) প্রথমে ওজু করুন (হাত পা ধুয়ে সূচী শুদ্ধ হন) কেয়ামত তক(শেষ বিচারের জন্য) তৈরী হউন। পৃথিবীতে অন্যান্য অনেক ধর্মের মধ্য তিনটি ধর্ম আছে- *যিহুদী,মুসলমান ও খৃষ্টান।* এরা একই সৃষ্টিকর্তাকে তিন ধর্মই বিশ্বাস করে। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন নামে ভিন্ন ভিন্ন পথে তিনিই হচ্ছে ইসা নবী @ *প্রভু যীশু খৃষ্ট।* অতএব আসুন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই আর হানাহানি নয়।
*Christ without any one*
যীশুর পথেই হোক সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির সম্পর্কে মানবতার সাগর, গঙ্গা সাগরের সংযোগ হয়ে উঠুক মানুষের সেবাব্রত সংযোগের মিলন ক্ষেত্র *গঙ্গা সাগরে যীশু পুজো।*
সংবাদ: *সঞ্জিত সানি*
রাজ্য সম্পাদক
*বঙ্গীয় খৃস্টিয় পরিষেবা,BCP.*