Tollygunge Mahaprabhu Mandir

Tollygunge Mahaprabhu Mandir Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Tollygunge Mahaprabhu Mandir, Religious organisation, Izazatulla Lane, KOLKATA.

-: 'ভূত চতুর্দশী' ও কিছু কথা :- কার্ত্তিকমাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি 'ভূত চতুর্দশী' নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে কালীপুজ...
03/11/2021

-: 'ভূত চতুর্দশী' ও কিছু কথা :-

কার্ত্তিকমাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি 'ভূত চতুর্দশী' নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে কালীপুজো ও ভ্রাতৃদ্বিতীয়া এসবের পাশাপাশি ধনতেরস্ (ত্রয়োদশী তিথি), ছট্ পূজা, ভূত চতুর্দশীও পালনীয় দিন হিসেবে গণ্য হয়েছে।

দীপাবলির যে পাঁচদিন মুখ্যতঃ উৎসব পালিত হয়, তার প্রথম দিনটি ধনতেরস্, দ্বিতীয় দিন ভূত চতুর্দশী এবং এরপরের দিনই দীপাবলির মুখ্য উৎসবটি হয়ে থাকে। কথিত আছে, বিজয়া দশমীর দিন শ্রীরাম লঙ্কাবিজয় করার পর কার্ত্তিকমাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে অযোধ্যায় ফিরে এসেছিলেন। তাই মহানন্দবশতঃ অযোধ্যাবাসী তাদের প্রিয় রাজকুমারের ফিরে আসার আনন্দে এই দিনটিতে সারা অযোধ্যাতে প্রদীপ জ্বালিয়ে আলোকিত করেছিলেন। সেই থেকেই এই দিনে 'দীপাবলি-উৎসব' শুরু। এই দিন পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্র কালীপূজা হয়। কিন্তু, দীপাবলির সাথে কালীপূজার সম্পর্ক নেই। যেহেতু সেইদিনই অমাবস্যা থাকে, তাই অমাবস্যায় কালীপূজা হয়।

যাই হোক, ফিরে আসা যাক মূল প্রসঙ্গে।
হিন্দুধর্মের প্রতিটি উৎসবেরই অনেক গূঢ়তর মাহাত্ম্য থাকে, 'ভূত চতুর্দশী'- এই দিনটিও তার ব্যতিক্রম নয়। এই দিনের মাহাত্ম্যও অনেক বেশি। "মূলতঃ অশুভ শক্তিসমূহের বিরুদ্ধে মনোবলকে দৃঢ় রেখে লড়াইপূর্বক শুভশক্তির জাগরণ তথা বিজয় ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা"- এটি ভূত চতুর্দশীর মূল গূঢ়-মাহাত্ম্য।

'ভূত চতুর্দশী' নামের দ্বারাই বোঝা যায়, ভূত,প্রেত, আত্মা, কালো জাদুবিদ্যা ইত্যাদির সাথে দিনটি ওতঃপ্রোতভাবে জড়িত। ভূত চতুর্দশীর রাতেই প্রত্যেক পরিবারের ১৪ টি মৃত পূর্বপুরুষের আত্মাগণ তাদের নিজেদের জীবিত উত্তরপুরুষ-বংশধরদের সাথে দেখা করতে আসেন। এছাড়াও বিভিন্ন আত্মারা তাদের প্রিয় ব্যক্তিদেরও দেখতে আসেন, এটাও মান্যতা।

আসলে 'ভূত' বলতে 'যা অতীত'-এই অর্থও বোঝানো হয়। তাই আমাদের অতীত পুরুষগণ অর্থাৎ আমাদের গত পূর্বপুরুষকেও সেদিন আমরা স্মরণ করি এবং তাদের উদ্দেশ্যে সারা বাড়িতে ১৪ টি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে ঈশ্বর ও আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে থাকি। ভূত চতুর্দশীর রাতটিতে আসুরিক তথা ঋণাত্মক শক্তিসমূহ অধিক শক্তিশালী হয়। তাই আসুরিক শক্তি তথা ঋণাত্মক আত্মাদের দূরে রাখতেও সারা বাড়ি প্রদীপের আলোয় আলোকিত করা হয়। এছাড়া 'চতুর্দশী তিথি'-টি হল কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশতম দিন, তাই এই 'চতুর্দশপ্রদীপ প্রজ্বলন' তার তাৎপর্য্যও বহন করে। তেল বা ঘি দ্বারা মাটির প্রদীপ জ্বালালে তা মানব শরীরের পক্ষে উপকারী এবং তার দ্বারা গৃহে প্রবাহিত বায়ু পরিশোধিত হয়ে জীবানুমুক্ত হয়- এর বৈজ্ঞানিক সত্যতাও রয়েছে।

'রূপচতুর্দশী' নামেও এই দিনটিকে জানা যায়। এই নামটি মৃত্যুর দেবতা যমরাজের সাথে সম্পর্কিত। এই দিন সন্ধ্যায় যমরাজের জন্যও বহু বাড়িতে বাড়ির দক্ষিণদিকে একটি প্রদীপ জ্বালানো হয়ে থাকে। বলা হয়, এই দিন যমরাজের উদ্দেশ্যে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখলে নরকের ভয় বা অকালমৃত্যুর ভয় কাটে।

পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার পাশাপাশি ভূত চতুর্দশীতে ভেষজগুণযুক্ত ১৪ টি শাকমিশ্রিত ব্যঞ্জন খাওয়া হয়ে থাকে, যা বিশেষ পুষ্টিযুক্ত। আসলে এটি শীতের প্রারম্ভে আমাদের শরীরের জন্য বিশেষ রোগ-প্রতিরোধকের কাজ করে থাকে। অনেকের মতে, ভূত চতুর্দশীর আগের দিন অর্থাৎ 'ধনতেরস্' (ত্রয়োদশী তিথি) হলো 'ধন্বন্তরী' নামক আয়ুর্বেদজ্ঞ-এর জন্মতিথি, যিনি কাশীর রাজা ছিলেন। তাঁর জন্মতিথি ত্রয়োদশী তিথির একেবারে শেষ লগ্নে, চতুর্দশীর শুরুতেই। তাই তাঁকে সন্মান জানিয়েই ও আয়ুর্বেদকে স্মরণ করেই ১৪ টি শাকমিশ্রিত ব্যঞ্জন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খাওয়া হয়ে থাকে, শীতকালের প্রারম্ভের পরিবর্তিত আবহাওয়া থেকে সুস্থ থাকবার জন্যই। তাই এই ত্রয়োদশী দিনটিকে তাঁর নামানুসারেই 'ধন্বন্তরী তেরস্' বা 'ধন্তেরস্' বলা হয়। এছাড়াও এই দিনের সাথে ধন ক্রয় বা লাভেরও একটি সম্পর্ক আছে। যদিও অনেকের বিশ্বাস, এই দিনে সোনা-রূপা ইত্যাদি ক্রয় বা লাভ করলে অথবা মহালক্ষ্মী পুজো বা কুবেরের পুজো করলে গৃহস্থের ধন-ঐশ্বর্য্য ও শ্রী বৃদ্ধি হয়। তাই এই ত্রয়োদশী দিনটিকে হিন্দিতে 'ধনতেরস্' নামেও অভিহিত করা হয়। তাই দেশের বিবিধ প্রান্তের (বিশেষতঃ উত্তরভারত ) বহু মানুষ এই দিনে সোনা, রূপা ইত্যাদি ধনসম্পদ ক্রয় করে থাকেন এবং বিবিধ পূজাপাঠও করে থাকেন।

পুরাণ মতে, ভূত-চতুর্দশীর দিনই শ্রীকৃষ্ণ নরকাসুরকে বধ করেন। তাই এই দিনটি 'নরক চতুর্দশী' নামেও খ্যাত। নরকাসুর ষোলো হাজার একশোজন কন্যাকে বন্দিনী করে রেখেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ মাকালীর সহায়তায় নরকাসুরকে বধ করে তাদের মুক্ত করেন। এই কন্যাদের পিতা-স্বামীরা তাদের আর নিজের করে মেনে না নিলে, তারা লোকলজ্জায় আত্মহত্যা করতে উদ্যত হয়, তখন শ্রীকৃষ্ণ সকলকে পত্নীরূপে বরণ করে তাদের যোগ্য সন্মান দিয়েছিলেন।

আবার, মা চামুণ্ডা এই দিনেই প্রবল হওয়া আসুরিক শক্তি ও ঋণাত্মক প্রেত-আত্মাদের দূরীভূত করে থাকেন মহাকালীরূপে। এছাড়া, বছরের অন্যান্য কৃষ্ণচতুর্দশীর থেকে এই চতুর্দশী বেশি অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। তাই একে 'কালীচতুর্দশী' -ও বলা হয়। এই নামটি মাকালীর মহত্ব বা কালোতম দিন- এই দুই অর্থেই হয়ে থাকতে পারে বলেই মনে হচ্ছে।

তাছাড়া, দিবালীর আগের দিনই যেহেতু অনেকে এই দিনেও প্রদীপ জ্বালায়, বাজি পোড়ায়, তাই দেশের কোনো কোনো জায়গায় (মূলতঃ উত্তরভারতে) একে 'ছোটী দিবালী'-ও বলে।

গ্রামের দিকে এই দিনটিতে খুবই সাবধানে সকলে বাড়ির ভিতরেই বসবাস করেন, মনে একটি মৃদু ভয় রেখে। কারন মান্যতা আছে, এইদিন সমস্ত ঋণাত্মক শক্তি জাগরিত হয়। তান্ত্রিক সিদ্ধিও এই দিনেই অধিক ফলপ্রসূ হয়ে থাকে, এই দিন তাই দেবী কালীর পুজো করে তাতে নরবলির প্রথা এক সময় ছিল, তান্ত্রিক সিদ্ধিকে সফল করবার জন্য। প্রত্যন্ত গ্রামে বহু পূর্বে শিশুদের এই সিদ্ধিলাভের আশায় বলিপ্রদান করা হতো। নরবলির মধ্যে শিশুবলি উৎকৃষ্ট - এই অন্ধবিশ্বাস ছিল। তাই প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে শিশুদের এই দিন বাড়িতেই রাখা হতো, বেরোতে দেওয়া হতো না। যাই হোক, এই ক্রূরতম অন্ধবিশ্বাস আপাতত প্রশাসন বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে, আগামীতেও এটি বন্ধ থাকুক এই বিষয়ে তারা তৎপর। প্রশাসনের চাপে এখন নরবলি বন্ধ হওয়ায় তা ছাগবলির মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। এর দ্বারা মনস্কামনা পূরণ হয় এটি সিদ্ধতান্ত্রিকদের মত। কালোজাদুবিদ্যাও এই দিনেই অধিক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে বলেও মত ।

বহু শ্মশানে ও গৃহস্থে এইদিন কালীপুজোও হয়ে থাকে। মাকালীকে সুগন্ধজাতীয় দ্রব্য (যেমন- চন্দন,পুষ্প ইত্যাদি) দিয়ে পূজা দিলে আশীর্বাদ প্রাপ্ত হওয়া যায়। সকল প্রকার বিঘ্নসমূহকেই বিনাশ বা দূরীভূত করে শুভ শক্তির প্রকাশের আশায় মাতৃশক্তির আরাধনা করা হয়। এই দিন দেবীর পূজার মাধ্যমে মনের আলস্য, ঈর্ষা, দ্বেষ, মোহ ইত্যাদি সকল প্রকার ঋণাত্মক ভাব ত্যাগ করে মনে ভক্তিভাব আনার চেষ্টা করা হয়ে থাকে।

©️ লেখক.
শ্রী অমিত লাল ঠাকুর,
মালদা.. #ছবি_সংগৃহীত

হে কৃষ্ণ করুণা সিন্ধু, দীনবন্ধু জগৎপতে।গোপেশ গোপীকাকান্ত রাধাকান্ত নমস্তুতে।হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে ...
30/08/2021

হে কৃষ্ণ করুণা সিন্ধু, দীনবন্ধু জগৎপতে।
গোপেশ গোপীকাকান্ত রাধাকান্ত নমস্তুতে।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।
আমাদের মন্দিরের এই বৎসরের জন্মাষ্টমী উৎসব।

অম্বুবাচীঅম্বুবাচী হিন্দুধর্মের বাৎসরিক উৎসব। লোকবিশ্বাস মতে আষাঢ় মাসে মৃগ শিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে পৃথিবী বা ধর...
22/06/2021

অম্বুবাচী
অম্বুবাচী হিন্দুধর্মের বাৎসরিক উৎসব। লোকবিশ্বাস মতে আষাঢ় মাসে মৃগ শিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে পৃথিবী বা ধরিত্রী মা ঋতুময়ী হয়। এই সময়টিতে অম্বুবাচী পালন করা হয়। আজ দুপুর 2 টো বেজে 6 মিনিটে লাগছে। নিবৃত্তি হবে শুক্রবার রাত 2 টো বেজে 29 মিনিটে।

প্রবাদ

বাঙলা প্রবাদে রয়েছে ‘কিসের বার কিসের তিথি, আষাঢ়ের সাত তারিখ অম্বুবাচী।’ এদিন থেকেই হয় অম্বুবাচী শুরু। জ্যোতিষ শাস্ত্রে বলা হয়েছে, সূর্য যে বারের যে সময়ে মিথুন রাশিতে গমন করেন, তার পরবর্তী সেই বারের সেই কালে অম্বুবাচী হয়। অর্থাৎ, পৃথিবী এই সময়ে ঋতুমতী হন।

নিয়ম

অম্বুবাচীর তিন দিন পর্যন্ত কোনো ধরনের মাংগলিক কার্য করা যায়না। চতুর্থ দিন থেকে মঙ্গলিক কাজে কোনো বাধা থাকেনা। অম্বুবাচীর সময় হাল ধরা, গৃহ প্রবেশ, বিবাহ ইত্যাদি শুভ কাজ করা নিষিদ্ধ থাকে ও এই সময়ে মঠ-মন্দিরের প্রবেশদ্বার বন্ধ থাকে।

৭ থেকে ১১ আষাঢ় (নিরয়ণ পঞ্জিকা মতে) চার দিন গ্রাম-বাংলার মহিলারা এই অনুষ্ঠান পালন করেন। চাষ বাসের কাজ এই সময় বন্ধ থাকে। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে পিঠা-পায়েস বানাবার রীতি আছে। এই অনুষ্ঠানে বিধবা মহিলারা তিন দিন ধরে ব্রত রাখে। অম্বুবাচীর আগের দিন রান্না করা খাবার তারা তিন দিন ধরে খান। ঐ তিন দিন তারা কোন গরম খাবার খান না। এই তিন দিন কামরুপ কামাখ্যায় পূজা হয়। সমস্ত দেবী মন্দির বন্ধ থাকে। কামরুপ কামাহ্মায় মন্দিরের গরভ গৃহ থেকে লাল রং এর তরল (ভক্ত রা বলে মা এর রজস্রাবের রক্ত) বের হয়।

আসামে উৎযাপন

অসমের কামাখ্যা মন্দিরে এই উপলক্ষ্যে দেবীর ঋতুকাল সমাগত মনে করে উৎসব পালন করা হয়। সূর্যের দক্ষিণায়নের দিন থেকে তিন দিন অর্থাৎ আষাঢ়ের ৭ তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এই পার্বণের পালন কাল।

ওড়িশায় উৎযাপন

ওড়িশায় এই পার্বণকে সরাসরি ‘রজ উৎসব’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
অম্বুবাচী হিন্দুধর্মের বাৎসরিক উৎসব। অম্বুবাচীকে বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় অমাবতি ও বলে। হিন্দুদের শাস্ত্রে পৃথিবীকে মা বলা হয়ে থাকে। বেদেও একই রকমই তাকে মা রূপে বর্ণনা করা হয়েছে, আবার পৌরানিক যুগেও পৃথিবীকে ধরিত্রী মাতা বলা সম্বোধন করা হয়েছে। আষাঢ মাসে মৃগ শিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে পৃথিবী বা ধরিত্রী মা ঋতুময়ী হয়। সেই সময়টিতে অম্বুবাচী পালন করা হয়। অর্থাৎ এই প্রচলিত আচারের পিছনে দেখা যাচ্ছে পৃথিবী আমাদের মা এই বিশ্বাস রয়েছে৷

তার কারণ পৃথিবীতেই তো মানুষের জন্ম ,শুধু মানুষ বলে নয় ফুল, পাখী ,প্রকৃতি এক কথায় সকলেই তো পৃথিবীর সন্তান। মহাজাগতিক ধারায় পৃথিবী যখন সূর্যের মিথুন রাশিস্থ আদ্রা নক্ষত্রে অবস্থান করে সেদিন থেকে বর্ষাকাল শুরু ধরা হয়। পাশাপাশি আমরা জানি মেয়েদের ঋতুকাল বা রজঃস্বলা হয় এবং একজন নারী তারপরই সন্তান ধারনে সক্ষম হয় ।ঠিক তেমনি প্রতিবছর অম্বুবাচীর এই তিনদিনকে পৃথিবীর ঋতুকাল হিসেবে ধরা হয়।

ধর্মীয় আচার হলেও এরসঙ্গে প্রাচীন কৃষি ব্যবস্থা জড়িয়ে থাকায় এটির একটি সামাজিক প্রভাবও রয়েছে। ফলে অম্বুবাচী’ একটি কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠানও। এর অর্থ ধরিত্রীর ঊর্বরাকাল।দেখা যায় এই তিন দিন জমিতে কোনও রকম চাষ করা হয় না যাতে বর্ষায় সিক্তা পৃথিবী নতুন বছরে নতুন ফসল উত্পাদনের উপযোগী হয়ে ওঠে। উর্ব্বরতা কেন্দ্রিক কৃষিধারায় নারী এবং ধরিত্রী সমার্থক বলে গণ্য করা হয় । সেই ধ্যান ধারণা থেকেই আষাঢ় মাসের শুরুতে পৃথিবী বা মাতা বসুমতি যখন বর্ষার নতুন জলে সিক্ত হয়ে ওঠে তখন তাকে ঋতুমতি নারী রূপে গন্য করা হয়৷

তখন শুরু হয় অম্বু (জল) বাচী (সংরক্ষন) প্রবৃত্তি ঠিক তিন দিন পরে সেটা শেষ হয়, সেটা হল অম্ববুচি নিবৃত্তি । প্রাচীন কাল থেকেই এই নিবৃত্তির পরই ফের জমিতে চাষ আবাদ করত কৃষকেরা।প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী ঋতুকালে তো মেয়েরা অশুচি থাকে। একই ভাবে পৃথিবীও এই অম্বুবাচী বা অমাবতির তিন দিন অশুচি থাকে বলে ধরে নিয়ে চাষিরা আর মাঠে যান না হাল টানতে। এখন ও বিভিন্ন জায়গায় এ নিয়ম রক্ষা হয়।

ভারতের বিভিন্ন জায়গাতে এই অম্বুবাচী রজঃ উৎসব নামেও পালিত হয়। আবার এ সময় যারা ব্রহ্মচর্য পালন করেন যেমন: ব্রহ্মচারী ,সাধু ,সন্ন্যাসী ,যোগীপুরুষ ,বিধবা মহিলা কোনও ভাবেই আমিষ খাদ্য গ্রহণ করেন না নিরামিষ খেয়ে থাকেন৷ যেহেতু এরা কেউই অশুচি পৃথিবীর উপর আগুনের রান্না করা কিছু খান না। বিভিন্ন ফলমূল খেয়ে এই তিন দিন কাটান। এই কারণে এখনও পরিবারে বয়স্ক বিধবা মহিলাদের তিনদিন ধরে অম্বুবাচী উপলক্ষ্যে ব্রত পালন করতে দেখা যায়৷ কোনও কোনও ক্ষেত্রে অম্বুবাচী পড়ার আগে রান্না করে রাখা হয় পরের তিনদিন খাওয়ার জন্য, যেহেতু অম্বুবাচী শুরু হয়ে গেলে রন্ধনের নিমিত্তে আগুণ জ্বালানো বারণ৷

এই প্রচলিত বিশ্বাসের ফলে অম্বুবাচীর তিন দিন পর্যন্ত কোনো ধরনের মাঙ্গলিক কার্যই করা যায় না। চতুর্থ দিন থেকে মাঙ্গলিক কাজে কোনও বাধা থাকে না। অম্বুবাচীর সময় হাল ধরা, গৃহ প্রবেশ, বিবাহ ইত্যাদি শুভ কাজ করা নিষিদ্ধ থাকে এবং এই সময়ে মঠ-মন্দিরের প্রবেশদ্বার বন্ধ থাকে। সাধারণ দেখা যায় ৭ থেকে ১১ আষাঢ় (নিরয়ণ পঞ্জিকা মতে) চার দিন গ্রাম-বাংলার মহিলারা এই অনুষ্ঠান পালন করেন। অম্বুবাচীর দিন থেকে পরর্বতী তিন দিন পর্যন্ত কামাখ্য দেবীর দুয়ার বন্ধ থাকে৷ কামরুপ কামাহ্মায় মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে লাল রং এর তরল বের হয় যা দেখে ভক্তরা বলে থাকেন মায়ের রজস্রাবের রক্ত বের হচ্ছে ।

অম্বুবাচীর সময় হিন্দু ধর্মীয় লোকেরা শক্তি পূজার স্থানগুলোতে এই সময় অম্বুবাচী মেলার আয়োজন করে থাকে। তবে এদের মধ্যে সবেচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভারতের অসম রাজ্যের গুয়াহাটি শহরের কামাখ্যা দেবীর মন্দিরকে ঘিরে প্রতি বৎসর অম্বুবাচী মেলার আয়োজন করা হয়। অম্বুবাচী শুরুর প্রথম দিন থেকে কামাখ্যা দেবীর দ্বার বন্ধ রাখা হয় ফলে অম্বুবাচীর সময় দেবী দর্শন নিষিদ্ধ থাকে। চতুর্থ দিন দেবীর স্নান ও পূজা সম্পূর্ণ হওয়ার পর কামাখ্যা মাতার দর্শন করার অনুমতি দেওয়া হয়। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের থেকে আসা লক্ষ লক্ষ ভক্তেরা৷ এই সময় কামাখ্যা মন্দিরের চতুর্দিকে বসে কীর্ত্তন চলে৷ মন্দিরের বাইরে প্রদীপ ও ধূপকাঠী জ্বালিয়ে দেবীকে প্রনাম করেন।

অম্বুবাচী নিবৃত্তির দিন পান্ডারা ভক্তদের রক্তবস্ত্র উপহার দেন। দেবী পীঠের এই রক্তবস্ত্র ধারণ করলে মনোস্কামনা পূর্ণ হয় বলে ভক্তেরা বিশ্বাস করেন। এই রক্তবস্ত্র পুরুষেরা ডানহাত বা গলায় ও মহিলারা এই বস্ত্র বামহাত বা গলায় পরিধান করে থাকেন। রক্তবস্ত্র পরিধান করে শশ্মান বা মৃতের ঘরে যাওয়া নিষিদ্ধ। কামাখ্যা ধামের অম্বুবাচী মেলা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সম্প্রীতি রক্ষার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।
সংগৃহীত।

"দশ মহাবিদ্যা "!      আমরা জানি "দশ মহাবিদ্যা" সতীর  দশটি রূপ ৷ কালী , তারা , ষোড়শী , ভুবনেশ্বরী , ভৈরবী , ছিন্নমস্তা , ...
30/05/2021

"দশ মহাবিদ্যা "!
আমরা জানি "দশ মহাবিদ্যা" সতীর দশটি রূপ ৷ কালী , তারা , ষোড়শী , ভুবনেশ্বরী , ভৈরবী , ছিন্নমস্তা , ধূমবতী , বগলা , মাতঙ্গী ও কমলা ৷ দক্ষ প্রজাপতি শিব হীন যজ্ঞের আয়োজন
করলে সতী শিবের কাছে পিতৃগৃহে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ৷ শিব বোঝেন সেখানে গেলে সতীর
অমর্যাদা হবে ৷ এছাড়া যেখানে স্বামীকে ইচ্ছাকৃত
ভাবে নিমন্ত্রণ করা হয়নি সেখানে পতিব্রতা স্ত্রীর না
যাওয়াই উচিত ৷ সতী উত্তরে বলেন যেকোন মেয়ে
যখন খুশি বাবার বাড়ী যেতে পারে ৷ এজন্য নিমন্ত্রণের দরকার নেই ৷ তবু , শিব না বললে সতী তখন নিজের দশটি রূপ যাকে আমরা দশ মহাবিদ্যা বলি দেখান ৷ ক্রুব্ধ সতী শিবের অনুমতি আদায়ের জন্য তৃতীয় নয়ন থেকে আগুন বের করে তা দেখান ৷ "মহা" মানে মহৎ আর "বিদ্যা" হলো প্রকাশ / রূপ/ জ্ঞান /বুদ্ধি ৷ আসলে একই সত্য এভাবে দশটি আলাদা রূপে প্রকাশিত ৷ দশবিদ্যা রূপে দেবী শিবকে দশদিক দিয়ে ঘিরে ফেললে অনিচ্ছাকৃত ভাবে শিব তাঁকে দক্ষযজ্ঞে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেন ৷ মহাবিদ্যাগণ প্রকৃতিগতভাবে তান্ত্রিক ৷গুহ্যাতিগুহ্য তন্ত্রে বলেছে মহাবিদ্যাগণই হলেন বিষ্ণু দশ অবতারের উৎস ৷ ভয়ংকর বা কোমল দেবীর দেবীর সবরূপই বিশ্বজননী হিসাবে পূজা করা হয় ৷একটি মতে মহাবিদ্যার সংখ্যা ২৭ , দুর্গা , কামাখ্যা ও অন্নপূর্ণাকে মহাবিদ্যা বলা হয়েছে ৷ মালিনী বিজয়
গ্রন্থে কালী , নীলা , মহাদুর্গা , ত্বরিতা , ছিন্নমস্তা , বাগবাদিনী , অন্নপূর্ণা , প্রত্যঙ্গিরা , বালা , মাতঙ্গী , কামাখ্যাবাসিনী ও শৈলবাসিনী হলেন মহাবিদ্যা ৷তবে , এখানে আমি প্রচলিত দশমহাবিদ্যাকে তুলে ধরছি ৷
তন্ত্রে দশ মহাবিদ্যার আর্বিভাবকালকে একেকটি রাত্রি বলা হয়েছে ৷ যেমন -কালীর আর্বিভাবকাল
"মহারাত্রি "( ফাল্গুণ মাসের কৃষ্ণা একাদশী) , তারার আর্বিভাব কাল -" ক্রোধরাত্রি" ( চৈত্র মাসের
শুক্লা নবমী), ষোড়শীর -" দিব্যরাত্রি"( জ্যৈষ্ঠ মাসের
শুক্লা দশমী ), ভুবনেশ্বরী -" সিদ্ধ রাত্রি"( চৈত্র মাসের সংক্রান্তি অষ্টমী হলে), ভৈরবী-" কাল রাত্রি"
( দীপান্বিতার দিন চতুর্দশী হলে), ছিন্নমস্তার -" বীর রাত্রি"( মাঘ মাসের মঙ্গলবারে চতুর্দশী যদি কুলনক্ষত্রে যুক্ত হয় ) , ধূমাবতী -" দারুণ রাত্রি"
( বৈশাখের শুক্লা তৃতীয়া ), বগলামুখী -" ঘোররাত্রি"
( অঘ্রান মাসের কৃষ্ণা অষ্টমী) , মাতঙ্গী-" মোহরাত্রি"
( শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী) আর কমলা -" তাররাত্রি"
( মঙ্গলবারের অমাবস্যায় রবি সংক্রমণ ও কুলনক্ষত্র যুক্ত হলে ) ৷ দশ মহাবিদাদ্যার প্রথম তিনটি -" কালী- তারা- ষোড়শী "হলেন সৎ -চিৎ - আনন্দস্বরূপ বিদ্যাশক্তি ৷ পরের তিন জন "ভৈরবী
- ছিন্নমস্তা - ধূমাবতী " হলেন ক্ষুধা , যৌনতা ও মৃত্যুর ভাব ৷ "ছিন্নমস্তা" হলেন বিপরীত রতিরতাতুরা বা পুরুষ , প্রকৃতি কর্তৃক সম্ভুক্ত ৷ অর্থাৎ ভোজ্যকে আমরা ভোগ করছি না সেই আমাদের ভোগ করছে ! ধূমাবতীতে ভোগের শেষে
প্রলয় সংঘটন ৷ সত্বঃ , রজঃ , তমঃ - এই তিনের রূপান্তরেই "বগলামুখী , মাতঙ্গী ও কমলা" র আর্বিভাব ৷ বগলা ভাবটি পূর্ণ সংযমী প্রতিমা ৷ যেখানে সব কামনার প্রত্যাহার ৷
কালী হলেন সর্ব সংহার কারিনী ৷ তন্ত্রে তাঁর বাহন মহাকাল ৷ তিনি শান্ত আবার উগ্র ৷তারা আসলে মহাশূন্য, তন্ত্রে তারা "মহা নীল সরস্বতী " ৷ , ভুবনেশ্বরী হলেন বিশ্বজননী ,পার্থিব শক্তির প্রতীক ৷ ভৈরবী হলেন ভয়ংকরী যিনি প্রলোভন স্বরূপ ৷ যা পরে মানুষকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায় ৷ ছিন্নমস্তা নিজে নিজের মাথা কেটেছেন ৷ আসলে যা আত্মধ্বংস ও পুনরুজ্জীবন বোঝায় ৷ ষোড়শী হলেন বিদ্যা ৷ যাঁকে আদি শঙ্করাচার্য পুজো করেছেন ৷
ধূমাবতী বিধবা মূর্তি ৷ধ্বংসের ভস্মরাশি থেকে বের হওয়া ধোঁয়া ৷ বগলামুখী শত্রুনিষ্ক্রিয় করেন ৷ আমাদের যেসব খারাপ দিক ঈর্ষা , ঘৃণা ও নিষ্ঠুরতার নিয়ন্ত্রা ৷ মাতঙ্গী হলেন কর্তৃত্ব শক্তি ৷
হিন্দু ধর্মেই শুধুমাত্র পরম সত্ত্বারূপে নারীরূপ কল্পিত হয়েছে ৷ যা পৃথিবীর ধর্ম ইতিহাসে একমাত্র ৷ ইনি দিব্য জননী ৷শাক্ত ধর্মের এই বিকাশে ভক্তিবাদের বিকাশ ঘটে ৷ এভাবেই সূচনা হয় সাত স্কন্দের শেষ নয় অধ্যায়ের " দেবী গীতা " বা " দেবী ভাগবত পুরাণ " !

শিব চতুর্দশী আমাদের মন্দির এ।
11/03/2021

শিব চতুর্দশী আমাদের মন্দির এ।

পুর্নাঙ্গ সরস্বতীপূজার বিধি তথা বাণী অর্চনা। চন্ডীতে উল্লেখ আছে, আদ্যাশক্তি মহামায়ার আদিরূপ মহালক্ষ্মী। তারপর মহাকালী এব...
15/02/2021

পুর্নাঙ্গ সরস্বতীপূজার বিধি

তথা বাণী অর্চনা।
চন্ডীতে উল্লেখ আছে, আদ্যাশক্তি মহামায়ার আদিরূপ মহালক্ষ্মী। তারপর মহাকালী এবং মহাসরস্বতী।
আজ চেষ্টা করবো মাতা সরস্বতী সম্পর্কে একটু তুলে ধরার।

দেবনাগরী:- সরস্বতী
লিপ্যন্তর:- সনাতনী জ্ঞানমঞ্জুরী
অন্তর্ভুক্তি:- ত্রিদেবী, জ্ঞানদেবী, সংগীতাজ্ঞ ও শিল্পকলা
আসন:- শ্বেত পদ্মাসন
আবাস:- ব্রহ্মলোক
মন্ত্র:- ॐ শ্রী সরস্বত্যৈ নমঃ
সঙ্গী:- ব্রহ্মা জ্ঞানীরুপে
বাহন:- ময়ূর, হংস
পিতৃতর্পণ:- শুক্লামাঘী তিথি শুক্লাপঞ্চমী(বসন্ত পঞ্চমী)
সমাপন:- তশীতলষষ্ঠী

সরস্বতীর পূজার প্রচলন তথ্য:-

সরস্বতী হলেন জ্ঞান, সংগীত, শিল্পকলা, বুদ্ধি ও বিদ্যার হিন্দু দেবী। তিনি সরস্বতী-লক্ষ্মী-পার্বতী, এই ত্রিদেবীর অন্যতম। এই ত্রিদেবীর কাজ হল ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবকে যথাক্রমে জগৎ, সৃষ্টি, পালন ও ধ্বংস করতে সাহায্য করা। সরস্বতীর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ঋগবেদে। বৈদিক যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত তিনি হিন্দুধর্মের একজন গুরুত্বপূর্ণ দেবী। হিন্দুরা বসন্তপঞ্চমী (মাঘ মাসের শুক্লাপঞ্চমী তিথি) তিথিতে সরস্বতী পূজা করে। এই দিন ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের হাতেখড়ি হয়। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীরাও সরস্বতীর পূজা করেন। জ্ঞান, সংগীত ও শিল্পকলার দেবী হিসেবে ভারতের বাইরে জাপান, ভিয়েতনাম, বালি (ইন্দোনেশিয়া), নেপাল, বাংলাদেশ, গ্রেটব্রিটেন, সাইপ্রাস, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা ও মায়ানমারেও সরস্বতী পূজার প্রচলন আছে।

সরস্বতীর মূর্তি কল্পনা তথ্য:-

ধ্যানমন্ত্রে বর্ণিত মূর্তিকল্পটিতে দেবী সরস্বতীকে শ্বেতবর্ণা, শ্বেত পদ্মে আসীনা, মুক্তার হারে ভুষিতা, পদ্মলোচনা ও বীণা পুস্তক ধারিণী এক দিব্য নারী মূর্তিরূপে কল্পনা করা হয়েছে। তাই ধ্যান মন্ত্রে বলা হয়েছে:-

ওঁ তরুণশ কলমিন্দো র্বিভ্রতী শুভ্রকান্তিঃ কুচভরন মিতাঙ্গী সন্নিষণ্ণা সিতাব্জে।
নিজকর কমলোদ্যল্লেখনী পুস্তকশ্রীঃ সকল বিভবসিদ্ধৈ পাতু বাগ্দেবতা নঃ।।

অনুবাদ:- “চন্দ্রের নূতন কলাধারিণী, শুভ্রকান্তি, কুচভরনমিতাঙ্গী, শ্বেত পদ্মাসনে (উত্তমরূপে) আসীনা, হস্তে ধৃত লেখনী ও পুস্তকের দ্বারা শোভমানা বাগ্‌দেবী সকল বিভবপ্রাপ্তির জন্য আমাদিগকে রক্ষা করুন।”

আবার পদ্মপুরাণে উল্লিখিত সরস্বতীস্তোত্রম্-এ বর্ণিত হয়েছে:-

শ্বেতপদ্মাসনা দেবী শ্বেতপুষ্পোপশোভিতা।
শ্বেতাম্বরধরা নিত্যা শ্বেতগন্ধানুলেপনা।।
শ্বেতাক্ষসূত্রহস্তা চ শ্বেতচন্দনচর্চিতা।
শ্বেতবীণাধরা শুভ্রা শ্বেতালঙ্কারভূষিতা।।

অনুবাদ:- “দেবী সরস্বতী আদ্যন্তবিহীনা, শ্বেতপদ্মে আসীনা, শ্বেতপুষ্পে শোভিতা, শ্বেতবস্ত্র-পরিহিতা এবং শ্বেতগন্ধে অনুলিপ্তা। অধিকন্তু তাঁহার হস্তে শ্বেত রুদ্রাক্ষের মালা; তিনি শ্বেতচন্দনে চর্চিতা, শ্বেতবীণাধারিণী, শুভ্রবর্ণা এবং শ্বেত অলঙ্কারে ভূষিতা।

সরস্বতী মূর্তির প্রকাশ:-

ধ্যান বা স্তোত্রবন্দনায় উল্লেখ না থাকলেও সরস্বতী ক্ষেত্রভেদে দ্বিভূজা অথবা চতুর্ভূজা এবং মরালবাহনা অথবা ময়ূরবাহনা। উত্তর ও দক্ষিণ ভারতে সাধারণত ময়ূরবাহনা চতুর্ভূজা সরস্বতী পূজিত হন। ইনি অক্ষমালা, কমণ্ডলু, বীণা ও বেদ পুস্তকধারিণী। বাংলা তথা পূর্বভারতে সরস্বতী দ্বিভূজা ও রাজহংসের পৃষ্ঠে আসীনা হাতে বীণাধারিণী রুপে পূজিত হন।

শ্রী শ্রী সরস্বতী পুষ্পাঞ্জলী মন্ত্রঃ

ওঁ জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।
নমঃভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ।
বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যা-স্থানেভ্য এব চ।।
এস স-চন্দন পুষ্পবিল্ব পত্রাঞ্জলি সরস্বতৈ নমঃ।।

🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
প্রনাম মন্ত্রঃ

নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে। বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যাংদেহি নমোহস্তুতে।।
জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে। বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।

🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
সরস্বতীর স্তবঃ

শ্বেতপদ্মাসনা দেবী শ্বেত পুষ্পোপশোভিতা। শ্বেতাম্ভরধরা নিত্যা শ্বেতাগন্ধানুলেপনা।। শ্বেতাক্ষসূত্রহস্তা চ শ্বেতচন্দনচর্চ্চিতা। শ্বেতবীণাধরা শুভ্রা শ্বেতালঙ্কারব‌ভূষিতা বন্দিতা সিদ্ধগন্ধর্ব্বৈর্চ্চিতা দেবদানবৈঃ। পূঝিতা মুনিভি: সর্ব্বৈঋষিভিঃ স্তূয়তে সদা।। স্তোত্রেণানেন তাং দেবীং জগদ্ধাত্রীং সরস্বতীম্। যে স্মরতি ত্রিসন্ধ্যায়ং সর্ব্বাং বিদ্যাং লভন্তি তে।।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
শ্রীসরস্বতীস্তোত্রং বৃহস্পতিবিরচিতম্

শ্রীগণেশায় নমঃ ।
বৃহস্পতিরুবাচ
সরস্বতি নমস্যামি চেতনাং হৃদি সংস্থিতাম্ ।
কণ্ঠস্থাং পদ্ময়োনিং ত্বাং হ্রীঙ্কারাং সুপ্রিয়াং সদা ॥ ১॥

মতিদাং বরদাং চৈব সর্বকামফলপ্রদাম্ ।
কেশবস্য প্রিয়াং দেবীং বীণাহস্তাং বরপ্রদাম্ ॥ ২॥

মন্ত্রপ্রিয়াং সদা হৃদ্যাং কুমতিধ্বংসকারিণীম্ ।
স্বপ্রকাশাং নিরালম্বামজ্ঞানতিমিরাপহাম্ ॥ ৩॥

মোক্ষপ্রিয়াং শুভাং নিত্যাং সুভগাং শোভনপ্রিয়াম্ ।
পদ্মোপবিষ্টাং কুণ্ডলিনীং শুক্লবস্ত্রাং মনোহরাম্ ॥ ৪॥

আদিত্যমণ্ডলে লীনাং প্রণমামি জনপ্রিয়াম্ ।
জ্ঞানাকারাং জগদ্দ্বীপাং ভক্তবিঘ্নবিনাশিনীম্ ॥ ৫॥

ইতি সত্যং স্তুতা দেবী বাগীশেন মহাত্মনা ।
আত্মানং দর্শয়ামাস শরদিন্দুসমপ্রভাম্ ॥ ৬॥

শ্রীসরস্বত্যুবাচ
বরং বৃণীষ্ব ভদ্রং ত্বং য়ত্তে মনসি বর্ততে ।
বৃহস্পতিরুবাচ
প্রসন্না য়দি মে দেবি পরং জ্ঞানং প্রয়চ্ছ মে ॥ ৭॥

শ্রীসরস্বত্যুবাচ
দত্তং তী নির্মলং জ্ঞানং কুমতিধ্বংসকারকম্ ।
স্তোত্রেণানেন মাং ভক্ত্যা য়ে স্তুবন্তি সদা নরাঃ ॥ ৮॥

লভন্তে পরমং জ্ঞানং মম তুল্যপরাক্রমাঃ ।
কবিত্বং মত্প্রসাদেন প্রাপ্নুবন্তি মনোগতম্ ॥ ৯॥

ত্রিসন্ধ্যং প্রয়তো ভূত্বা য়স্ত্বিমং পঠতে নরঃ ।
তস্য কণ্ঠে সদা বাসং করিষ্যামি ন সংশয়ঃ ॥ ১০॥

॥ ইতি শ্রীরুদ্রয়ামলে শ্রীবৃহস্পতিবিরচিতং সরস্বতীস্তোত্রম্
সম্পূর্ণম্ ॥

🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
সনাতনী পুরাণে সরস্বতীর প্রকাশ:-

ব্রহ্মা তাঁর কন্যা সরস্বতীর প্রতি দুর্ব্যবহার করলে শিব তাঁকে শরবিদ্ধ করে হত্যা করেন। তখন ব্রহ্মার পত্নী গায়ত্রী কন্যা সরস্বতীকে নিয়ে স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে আনার জন্য গন্ধমাদন পর্বতে তপস্যা শুরু করেন। তাঁদের দীর্ঘ তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে শিব ব্রহ্মার প্রাণ ফিরিয়ে দেন। সেই থেকে শিবের নির্দেশে গায়ত্রী ও সরস্বতীর তপস্যাস্থলে দুটি প্রসিদ্ধ তীর্থ সৃষ্টি হয়। জগতে সকল দেবতা তীর্থ আছে, শুধু ব্রহ্মার তীর্থ নেই – একথা ভেবে ব্রহ্মা পৃথিবীতে নিজের তীর্থ স্থাপনে উদ্যোগী হলেন। তিনি একটি সর্বরত্নময়ী শিলা পৃথিবীতে নিক্ষেপ করলেন। সেটি চমৎকারপুরে এসে পড়ল। ব্রহ্মা সেখানেই নিজের তীর্থ স্থাপন করবেন বলে ভাবলেন। ব্রহ্মার নির্দেশে সরস্বতী পাতাল থেকে উঠে এলেন। ব্রহ্মা তাঁকে বললেন, “তুমি এখানে আমার কাছে সব সময় থাকো। আমি তোমার জলে ত্রিসন্ধ্যা তর্পণ করব।” সরস্বতী ভয় পেয়ে বললেন, “আমি লোকের স্পর্শ ভয় পাই বলে সব সময় পাতালে থাকি। কিন্তু আপনার আদেশ আমি অমান্যও করতে পারি না। আপনি সব দিক বিচার করে একটি ব্যবস্থা করুন।” তখন ব্রহ্মা সরস্বতীর অবস্থানের জন্য একটি হ্রদ খনন করলেন। সরস্বতী সেই হ্রদে অবস্থান করতে লাগলেন। ব্রহ্মা ভয়ংকর সাপেদের সেই হ্রদ ও সরস্বতীর রক্ষক নিযুক্ত করলেন।
(তথ্যসূত্র:- স্কন্ধপুরাণ)

"শুক্ল যজুর্রবেদ" অনুসারে, একসময় ইন্দ্রের শরীরের শক্তি চলে যাওয়ার ফলে তিনি মেষ আকৃতি গ্রহণ করেন। সেসময় ইন্দ্রের চিকিৎসার দায়িত্ব ছিল স্বর্গের অশ্বিনীদ্বয়ের উপর এবং সেবা-শুশ্রুষার ভার ছিল সরস্বতীর হাতে। সংগীত ও নৃত্যপ্রেমী ইন্দ্র সরস্বতীর গানবাজনা ও সেবায় সুস্থ হওয়ার পর তাকে মেষটি দান করেন।
(তথ্যসূত্র:- শুক্ল যজুর্রবেদ)

বাল্মীকি রামায়ণে সরস্বতীর প্রকাশ:-

রামায়ণ রচয়িতা বাল্মীকি যখন ক্রৌঞ্চ হননের শোকে বিহবল হয়ে পড়েছিলেন, সে সময় জ্যোতির্ময়ী সরস্বতী তার ললাটে বিদ্যুৎ রেখার মত প্রকাশিত হয়েছিলেন। (তথ্যসূত্র:- বাল্মীকি রামায়ণ)

সরস+বতী=সরস্বতী অর্থ জ্যোতিময়ী। ঋগ্বেদে এবং যর্জুবেদে অনেকবার ইড়া, ভারতী, সরস্বতীকে একসঙ্গে দেখা যায়। বেদের মন্ত্রগুলো পর্যালোচনায় প্রতীতী জন্মে যে, সরস্বতী মূলত সূর্যাগ্নি। ব্রহ্মা যখন সৃষ্টিকার্য শুরু করেন তখন জ্ঞান সংকটে সৃষ্টিকার্যের ব্যাঘাত ঘটে। তখনই ব্রহ্মা বিষ্ণুর স্মরণাপন্ন হয়, পালনকারী বিষ্ণু সমাধানের পথ না পেয়ে শিবকে স্তব করে। অতঃপর শিব বৈকুণ্ঠে উপস্থিত হয় এবং সৃষ্টিকারী ব্রহ্মাকে বলেন, গায়ত্রী কন্যা (ব্রহ্মা ও ব্রহ্মাপত্নী গায়ত্রী কন্যা) সরস্বতীই আপনার জ্ঞানধারী হবে। তখন ব্রহ্মাদেব সরস্বতীকে প্রকট করলেন। এরপরে বিষ্ণু সরস্বতীকে ময়ূর প্রদান করলেন এবং শিব শ্বেতপদ্ম ও বীণা প্রদান করে, তখন ব্রহ্মা সরস্বতীকে শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষণা করে। পরক্ষণে সরস্বতী ব্রহ্মা বিষ্ণু ও শিবকে বললেন, হে ত্রিদেব আপনারা আমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন "আমি কৃতার্ত" মার্জনা করবেন কিন্তু আমার অস্তিত্ব কি? তখন ব্রহ্মা দেবী সরস্বতীকে সর্বদেবসত্তা, বিষ্ণু সর্বজ্ঞানী, শিব সর্বপূজিত বরে ধন্য করেন। এই ত্রিদেবের বরে সরস্বতী এক বিরাট জোতির্ময় রুপ ধারণ করে, যা সূর্যের ন্যায় আলোকময়; সেইক্ষণ থেকে দেবী সরস্বতী সূর্যাগ্নি নামে খ্যাত। আজ সমগ্র বিশ্বে যে বেদ, পুরাণ, উপনিষদ, বিদ্যা, সংগীত, ও শিল্পকলার প্রকাশ তা দেবী সরস্বতীর কৃপান্নিত জ্ঞানালোকে।
শ্রী সরস্বতী অষ্টোত্তর শত নাম স্তোত্রম
সরস্বতী মহাভদ্রা মহামায়া বরপ্রদা |
শ্রীপ্রদা পদ্মনিলয়া পদ্মাক্ষী পদ্মবক্ত্রগা || 1 ||
শিবানুজা পুস্তকধৃত জ্ঞানমুদ্রা রমা পরা |
কামরূপা মহাবিদ্য়া মহাপাতকনাশিনী || 2 ||
মহাশ্রয়া মালিনী চ মহাভোগা মহাভুজা |
মহাভাগা মহোত্সাহা দিব্য়াঙ্গা সুরবংদিতা || 3 ||
মহাকালী মহাপাশা মহাকারা মহাঙ্কুশা |
সীতা চ বিমলা বিশ্বা বিদ্য়ুন্মালা চ বৈষ্ণবী || 4 ||
চংদ্রিকা চংদ্রবদনা চংদ্রলেখাবিভূষিতা |
সাবিত্রী সুরসা দেবী দিব্য়ালংকারভূষিতা || 5 ||
বাগ্দেবী বসুধা তীব্রা মহাভদ্রা মহাবলা |
ভোগদা ভারতী ভামা গোবিংদা গোমতী শিবা || 6 ||
জটিলা বিংধ্য়বাসা চ বিংধ্য়াচলবিরাজিতা |
চংডিকা বৈষ্ণবী ব্রাহ্মী ব্রহ্মজ্ঞানৈকসাধনা || 7 ||
সৌদামিনী সুধামূর্তিস্সুভদ্রা সুরপূজিতা |
সুবাসিনী সুনাসা চ বিনিদ্রা পদ্মলোচনা || 8 ||
বিদ্য়ারূপা বিশালাক্ষী ব্রহ্মজায়া মহাফলা |
ত্রয়ীমূর্তী ত্রিকালজ্ঞা ত্রিগুণা শাস্ত্ররূপিণী || 9 ||
শুংভাসুরপ্রমথিনী শুভদা চ সর্বাত্মিকা |
রক্তবীজনিহংত্রী চ চামুণ্ডা চাংবিকা তথা || 1০ ||
মুণ্ডকায় প্রহরণা ধূম্রলোচনমর্দনা |
সর্বদেবস্তুতা সৌম্য়া সুরাসুরনমস্কৃতা || 11 ||
কালরাত্রী কলাধারা রূপ সৌভাগ্য়দায়িনী |
বাগ্দেবী চ বরারোহা বারাহী বারিজাসনা || 12 ||
চিত্রাংবরা চিত্রগংধা চিত্রমাল্য়বিভূষিতা |
কাংতা কামপ্রদা বংদ্য়া বিদ্য়াধরা সূপূজিতা || 13 ||
শ্বেতাসনা নীলভুজা চতুর্বর্গফলপ্রদা |
চতুরাননসাম্রাজ্য়া রক্তমধ্য়া নিরংজনা || 14 ||
হংসাসনা নীলজঙ্ঘা ব্রহ্মবিষ্ণুশিবাত্মিকা |
এবং সরস্বতী দেব্য়া নাম্নামষ্টোত্তরশতম || 15 ||
ইতি শ্রী সরস্বত্য়ষ্টোত্ত
রশতনামস্তোত্রম সম্পূর্ণম ||
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
যা কুংদেংদু তুষারহারধবলা য়া শুভ্রবস্ত্রাবৃতা
য়া বীণাবরদংডমংডিতকরা য়া শ্বেতপদ্মাসনা |
য়া ব্রহ্মাচ্য়ুত শংকরপ্রভৃতিভির্
দেবৈস্সদা পূজিতা
সা মাং পাতু সরস্বতী ভগবতী নিশ্শেষজাড্য়াপহা || 1 ||
দোর্ভির্য়ুক্তা চতুর্ভিঃ স্ফটিকমণিনিভৈ রক্ষমালাংদধানা
হস্তেনৈকেন পদ্মং সিতমপিচ শুকং পুস্তকং চাপরেণ |
ভাসা কুংদেংদুশংখস্ফটিকমণিনিভা ভাসমানাসমানা
সা মে বাগ্দেবতেয়ং নিবসতু বদনে সর্বদা সুপ্রসন্না || 2 ||
সুরাসুরৈস্সেবিতপাদপংকজা করে বিরাজত্কমনীয়পুস্তকা |
বিরিংচিপত্নী কমলাসনস্থিতা সরস্বতী নৃত্য়তু বাচি মে সদা || 3 ||
সরস্বতী সরসিজকেসরপ্রভা তপস্বিনী সিতকমলাসনপ্রিয়া |
ঘনস্তনী কমলবিলোললোচনা মনস্বিনী ভবতু বরপ্রসাদিনী || 4 ||
সরস্বতি নমস্তুভ্য়ং বরদে কামরূপিণি |
বিদ্য়ারংভং করিষ্য়ামি সিদ্ধির্ভবতু মে সদা || 5 ||
সরস্বতি নমস্তুভ্য়ং সর্বদেবি নমো নমঃ |
শাংতরূপে শশিধরে সর্বয়োগে নমো নমঃ || 6 ||
নিত্য়ানংদে নিরাধারে নিষ্কলায়ৈ নমো নমঃ |
বিদ্য়াধরে বিশালাক্ষি শুদ্ধজ্ঞানে নমো নমঃ || 7 ||
শুদ্ধস্ফটিকরূপায়ৈ সূক্ষ্মরূপে নমো নমঃ |
শব্দব্রহ্মি চতুর্হস্তে সর্বসিদ্ধ্য়ৈ নমো নমঃ || 8 ||
মুক্তালংকৃত সর্বাংগ্য়ৈ মূলাধারে নমো নমঃ |
মূলমংত্রস্বরূপায়ৈ মূলশক্ত্য়ৈ নমো নমঃ || 9 ||
মনোন্মনি মহাভোগে বাগীশ্বরি নমো নমঃ |
বাগ্ম্য়ৈ বরদহস্তায়ৈ বরদায়ৈ নমো নমঃ || 1০ ||
বেদায়ৈ বেদরূপায়ৈ বেদাংতায়ৈ নমো নমঃ |
গুণদোষবিবর্জিন্য়ৈ গুণদীপ্ত্য়ৈ নমো নমঃ || 11 ||
সর্বজ্ঞানে সদানংদে সর্বরূপে নমো নমঃ |
সংপন্নায়ৈ কুমার্য়ৈ চ সর্বজ্ঞে তে নমো নমঃ || 12 ||
য়োগানার্য় উমাদেব্য়ৈ য়োগানংদে নমো নমঃ |
দিব্য়জ্ঞান ত্রিনেত্রায়ৈ দিব্য়মূর্ত্য়ৈ নমো নমঃ || 13 ||
অর্ধচংদ্রজটাধারি চংদ্রবিংবে নমো নমঃ |
চংদ্রাদিত্য়জটাধারি চংদ্রবিংবে নমো নমঃ || 14 ||
অণুরূপে মহারূপে বিশ্বরূপে নমো নমঃ |
অণিমাদ্য়ষ্টসিদ্ধায়ৈ আনংদায়ৈ নমো নমঃ || 15 ||
জ্ঞান বিজ্ঞান রূপায়ৈ জ্ঞানমূর্তে নমো নমঃ |
নানাশাস্ত্র স্বরূপায়ৈ নানারূপে নমো নমঃ || 16 ||
পদ্মজা পদ্মবংশা চ পদ্মরূপে নমো নমঃ |
পরমেষ্ঠ্য়ৈ পরামূর্ত্য়ৈ নমস্তে পাপনাশিনী || 17 ||
মহাদেব্য়ৈ মহাকাল্য়ৈ মহালক্ষ্ম্য়ৈ নমো নমঃ |
ব্রহ্মবিষ্ণুশিবায়ৈ চ ব্রহ্মনার্য়ৈ নমো নমঃ || 18 ||
কমলাকরপুষ্পা চ কামরূপে নমো নমঃ |
কপালিকর্মদীপ্তায়ৈ কর্মদায়ৈ নমো নমঃ || 19 ||
সায়ং প্রাতঃ পঠেন্নিত্য়ং ষণ্মাসাত্সিদ্ধিরুচ্য়তে |
চোরব্য়াঘ্রভয়ং নাস্তি পঠতাং শৃণ্বতামপি || 2০ ||
ইত্থং সরস্বতী স্তোত্রমগস্ত্য়মুনি বাচকম |
সর্বসিদ্ধিকরং নৄণাং সর্বপাপপ্রণাশনম || 21 ||
চতুর্ভূজা সরস্বতী প্রকরণ-
বিনিয়োগ-
(ওঁ হ্রীং ঐং হ্রীং ওঁ সরস্বত্যৈ নমঃ) অস্য বাগীশ্বরী মন্ত্রস্য কণ্ব ঋষিঃ,ত্রিষ্টুপ্ ছন্দঃ,হংসবাগীশ্বরী দেবতা;ঐং বীজং,হ্রীং শক্তিঃ বাগীশত্বপ্রাপ্ত্যর্থে বিনিয়োগঃ-
করাঙ্গন্যাস -
ঐং হ্রাং অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং(হৃদয়ায়) নমঃ
ঐং হ্রীং তর্জনীভ্যাং(শিরসে) স্বাহা
ঐং হ্রূং মধ্যমাভ্যাং(শিখায়ৈ) বষট্
ঐং হ্রৈং অনামিকাভ্যাং(কব
চায়) হুম্
ঐং হ্রৌং কনিষ্ঠিকাভ্যাং(
নেত্রত্রয়ায়) বৌষট্
ঐং হ্রঃ করতলপৃষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রায় ফট্
মন্ত্রবর্ণন্যাস-
ব্রহ্মরন্ধ্রে-ওঁ নমঃ
ভ্রুমধ্যে-হ্রীং নমঃ
দক্ষকর্ণে-ঐং নমঃ
বামকর্ণে- হ্রীং নমঃ
দক্ষচক্ষু-ওঁ নমঃ
বামচক্ষু-স নমঃ
দক্ষনাসাপুটে-র নমঃ
বামনাসাপুটে- স্ব নমঃ
মুখে-ত্যৈ নমঃ
লিঙ্গে-ন নমঃ
গুহ্যে-মঃ নমঃ
ধ্যান-
বাণীং পূর্ণ-নিশাকরোজ্জ্বল-মুখীং কর্পূরকুন্দপ্রভাং
চন্দ্রার্দ্ধাঙ্কিত-মস্তকাং নিজকরৈঃ সম্বিভ্রতীমাদরাৎ।
বীণামক্ষগুণং সুধাঢ্যকলসং বিদ্যাঞ্চ তুঙ্গস্তনীং
দিব্যৈরাভরণৈবিভূষিত তনুং হংসাধিরূঢাং ভজে।।
অঙ্গাবরণ পূজা-
দেব্যা দক্ষিণে-
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে সংস্কৃতা-বাঙ্ময্যৈ নমঃ
দেব্যা বামে-
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে প্রাকৃতা-বাঙ্ময্যৈ নমঃ
ষড়ঙ্গ পূজা-
ঐং হ্রাং হৃদয়ায় নমঃ,এতে গন্ধপুষ্পে হৃদয়াঙ্গশক্তয়ে নমঃ
ঐং হ্রীং শিরসে স্বাহা,এতে গন্ধপুষ্পে শিরোঙ্গশক্তয়ে নমঃ
ঐং হ্রূং শিখায়ৈ বষট্,এতে গন্ধপুষ্পে শিখাঙ্গশক্তয়ে নমঃ
ঐং হ্রৈং কবচায় হুম্,এতে গন্ধপুষ্পে কবচাঙ্গশক্তয়ে নমঃ
ঐং হ্রৌং নেত্রত্রয়ায় বৌষট্,এতে গন্ধপুষ্পে নেত্রত্রয়াঙ্গ শক্তয়ে নমঃ
ঐং হ্রঃ করতলপৃষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রায় ফট্, এতে গন্ধপুষ্পে অস্ত্রাঙ্গশক্তয়ে নমঃ
অষ্টস্বরদ্বন্দ্ব পূজা-
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে অং আং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ইং ঈং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে উং ঊং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ঋং ঋৃং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ৯ং ৯্৯ং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে এং ঐং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ওং ঔং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে অং অঃ নমঃ।।
অষ্টবর্গ পূজা-
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে অং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে কং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে চং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে টং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে তং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে পং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে যং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে শং নমঃ।।
অষ্টশক্তি পূজা-
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে প্রজ্ঞায়ৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে মেধায়ৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে শ্রুত্যৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে শক্ত্যৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে স্মৃত্যৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে বাগীশ্বর্য্যৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে মত্যৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে স্বস্ত্যৈ নমঃ
ব্রাহ্ম্যাদি অষ্টমাতৃকা পূজা(দলাগ্রে)-
ওঁ আং এতে গন্ধপুষ্পে ব্রাহ্ম্যৈ নমঃ
ওঁ ঈং এতে গন্ধপুষ্পে নারায়ণ্যৈ নমঃ
ওঁ ঊং এতে গন্ধপুষ্পে মাহেশ্বর্য্যৈ নমঃ
ওঁ ঋৃং এতে গন্ধপুষ্পে চামুণ্ডায়ৈ নমঃ
ওঁ ৯৯ং এতে গন্ধপুষ্পে কৌমার্য্যৈ নমঃ
ওঁ ঐং এতে গন্ধপুষ্পে অপরাজিতায়ৈ নমঃ
ওঁ ঔং এতে গন্ধপুষ্পে বারাহ্যৈ নমঃ
ওঁ অং এতে গন্ধপুষ্পে নারসিংহ্যৈ নমঃ
দশদিকপালপূজা(চতুরস্রে)-
ওঁ লাং এতে গন্ধপুষ্পে ইন্দ্রায় নমঃ
ওঁ রাং এতে গন্ধপুষ্পে অগ্নয়ে নমঃ
ওঁ যাং এতে গন্ধপুষ্পে যমায় নমঃ
ওঁ ক্ষাং এতে গন্ধপুষ্পে নিঋতয়ে নমঃ
ওঁ বাং এতে গন্ধপুষ্পে বরুণায় নমঃ
ওঁ যাং এতে গন্ধপুষ্পে বায়বে নমঃ
ওঁ কুং এতে গন্ধপুষ্পে কুবেরায় নমঃ
ওঁ হাং এতে গন্ধপুষ্পে ঈশানায় নমঃ
ওঁ আং এতে গন্ধপুষ্পে ব্রহ্মণে নমঃ
ওঁ হ্রীং এতে গন্ধপুষ্পে অনন্তায় নমঃ
অতঃপর-
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে বজ্রায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে শক্তয়ে নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে দণ্ডয়ে নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে খড়্গায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে পাশায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে অঙ্কুশায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে গদায়ৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে শূলায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে চক্রায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে পদ্মায় নমঃ
অনন্তর কেবল গন্ধপুষ্পে বা পঞ্চোপচারে লেখনী,মস্যাধার,
বীণা,পুস্তক,অক্
ষমালা,সুধাকলস বাদ্যযন্ত্র ও হংসের পূজা।
অতঃপর যথাশক্তি উপচারে কমলালয়া ওনারায়ণের পূজা করবে।
====================
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
দ্বিভূজা সরস্বতী প্রকরণ-
বিনিয়োগ-(বদ বদ বাগ্বাদিনি স্বাহা) অস্য বাগ্বাদিনী মন্ত্রস্য কণ্ব ঋষিঃ,বিরাট্ ছন্দঃ,বাক্ দেবতা;
বাগ্বাদিনী প্রীত্যর্থে বিনিয়োগঃ-
করাঙ্গন্যাস-
বদ অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং(হৃদয়ায়)নমঃ
বদ তর্জনীভ্যাং(শিরসে) স্বাহা
বাগ্ মধ্যমাভ্যাং(শিখায়ৈ) বষট্
বাদিনি অনামিকাভ্যাং(কব
চায়) হুম্
স্বাহা কনিষ্ঠিকাভ্যাং(
নেত্রত্রয়ায়) বৌষট্
বদ বদ বাগ্বাদিনি স্বাহা করতলপৃষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রায় ফট্।
মন্ত্রবর্ণন্যাস-
মস্তকে-ব নমঃ
দক্ষ কর্ণে-দ নমঃ
বাম কর্ণে-ব নমঃ
দক্ষ নয়নে-দ নমঃ
বাম নয়নে- বাগ্ নমঃ
দক্ষনাসাপুটে-বা নমঃ
বামনাসাপুটে-দি নমঃ
মুখে-নি নমঃ
লিঙ্গে- স্বা নমঃ
গুহ্যে- হা নমঃ
ধ্যান-
তরুণ-শকলমিন্দোর্বিভ্রতী শুভ্রকান্তিঃ
কুচভর-নমিতাঙ্গী সন্নিষণ্ণা সিতাব্জে।
নিজ-করকমলোদ্যল্লেখনী-পুস্তক-শ্রীঃ
সকলবিভব-সিদ্ধ্যৈ পাতু বাগ্-দেবতা নঃ।।
পীঠমন্ত্র- হ্সৌঃ বাগ্বাদিনী যোগ পীঠায় নমঃ
অঙ্গাবরণ পূজা-
(কর্ণিকায় দক্ষিণাদিক্রমে)-
ষড়ঙ্গ পূজা-
বদ হৃদয়ায় নমঃ,এতে গন্ধপুষ্পে হৃদয়াঙ্গশক্তয়ে নমঃ
বদ শিরসে স্বাহা,এতে গন্ধপুষ্পেশিরোঙ্গ শক্তয়ে নমঃ
বাগ্ শিখায়ৈ বষট্,এতে গন্ধপুষ্পে শিখাঙ্গ শক্তয়ে নমঃ
বাদিনি কবচায় হুম্, এতে গন্ধপুষ্পে কবচাঙ্গ শক্তয়ে নমঃ
স্বাহা নেত্রত্রয়ায় বৌষট্,এতে গন্ধপুষ্পে নেত্রত্রয়াঙ্গ শক্তয়ে নমঃ
বদ বদ বাগ্বাদিনি স্বাহা করতলপৃষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রায় ফট্,এতে গন্ধপুষ্পে অস্ত্রাঙ্গ শক্তয়ে নমঃ।।
অষ্টস্বরদ্বন্দ্ব পূজা-
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে অং আং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ইং ঈং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে উং ঊং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ঋং ঋৃং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ৯ং ৯্৯ং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে এং ঐং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ওং ঔং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে অং অঃ নমঃ।।
অষ্টবর্গ পূজা-
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে অং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে কং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে চং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে টং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে তং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে পং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে যং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে শং নমঃ।।
যোগাদি অষ্টশক্তি পূজা(কমলদলে দক্ষিণাদি ক্রমে)-
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে যোগায়ৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে সত্যায়ৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে বিমলায়ৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে জ্ঞানায়ৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে বুদ্ধ্যৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে স্মৃত্যৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে মেধায়ৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে প্রজ্ঞায়ৈ নমঃ।।
ব্রাহ্মাদি অষ্টমাতৃকা পূজা(দলাগ্রে)-
ওঁ আং এতে গন্ধপুষ্পে ব্রাহ্ম্যৈ নমঃ
ওঁ ঈং এতে গন্ধপুষ্পে নারায়ণ্যৈ নমঃ
ওঁ ঊং এতে গন্ধপুষ্পে মাহেশ্বর্য্যৈ নমঃ
ওঁ ঋৃং এতে গন্ধপুষ্পে চামুণ্ডায়ৈ নমঃ
ওঁ ৯৯ং এতে গন্ধপুষ্পে কৌমার্য্যৈ নমঃ
ওঁ ঐং এতে গন্ধপুষ্পে অপরাজিতায়ৈ নমঃ
ওঁ ঔং এতে গন্ধপুষ্পে বারাহ্যৈ নমঃ
ওঁ অং এতে গন্ধপুষ্পে নারসিংহ্যৈ নমঃ
দশদিকপালপূজা(চতুরস্রে)-
ওঁ লাং এতে গন্ধপুষ্পে ইন্দ্রায় নমঃ
ওঁ রাং এতে গন্ধপুষ্পে অগ্নয়ে নমঃ
ওঁ যাং এতে গন্ধপুষ্পে যমায় নমঃ
ওঁ ক্ষাং এতে গন্ধপুষ্পে নিঋতয়ে নমঃ
ওঁ বাং এতে গন্ধপুষ্পে বরুণায় নমঃ
ওঁ যাং এতে গন্ধপুষ্পে বায়বে নমঃ
ওঁ কুং এতে গন্ধপুষ্পে কুবেরায় নমঃ
ওঁ হাং এতে গন্ধপুষ্পে ঈশানায় নমঃ
ওঁ আং এতে গন্ধপুষ্পে ব্রহ্মণে নমঃ
ওঁ হ্রীং এতে গন্ধপুষ্পে অনন্তায় নমঃ
অতঃপর-
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে বজ্রায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে শক্তয়ে নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে দণ্ডয়ে নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে খড়্গায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে পাশায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে অঙ্কুশায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে গদায়ৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে শূলায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে চক্রায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে পদ্মায় নমঃ
অনন্তর কেবল গন্ধপুষ্পে বা পঞ্চোপচারে লেখনী,মস্যাধার,
বীণা,পুস্তক,বাদ্যযন্ত্র ও হংসের পূজা।
অতঃপর যথাশক্তি উপচারে কমলালয়া ও নারায়ণ পূজা।
======================
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
বাগীশ্বরী প্রকরণ
-----------
বিনিয়োগ-(বদ বদ বাগ্বাদিনি স্বাহা) অস্য বাগ্বাদিনী মন্ত্রস্য কণ্ব ঋষিঃ,বিরাট ছন্দঃ,বাক্ দেবতা;বাগ্বাদিনী প্রীত্যর্থে বিনিয়োগঃ-
বৃহৎতন্ত্রসারে বাগীশ্বরীযন্ত্র প্রদত্ত হইয়াছে। তদনুসারে হেসৌঃ ( হ , স , ঔ , ঃ ) এই চারিটি বর্ণ প্রথমে কর্ণিকার মধ্যে আঁকিতে হইবে।
কর্ণিকার বাহিরে একটি বৃত্ত আঁকিতে হইবে। বৃত্তের চারদিকে আটটি পদ্মপত্র আঁকিয়া দুই-দুইটি স্বর দ্বারা 'কেশর' ও পত্র মধ্যে আটটি বর্গ
(শ্বাসবর্গের পঞ্চবর্গ ও 'য' 'শ' লার্ণাদিত্রিবর্গ ) অঙ্কন করিতে হইবে। এইগুলির বাহিরে চতুস্কোণ ও চতুর্দ্বার লিখিতে হইবে। চতুঈদ্বারে বং এবং
চতুস্কোণে ঠং লিখিতে হইবে। এইরূপ যন্ত্রের নাম বাগীশ্বরীযন্ত্র।
বাগীশ্বরীযন্ত্র পূজার ক্রমও ইহাতে দেওয়া হইয়াছে। প্রথমে প্রাতঃকৃত্যাদি পীঠন্যাসান্ত কর্ম শেষ করিতে হইবে। তারপর কেশরে, মধ্যে ও চতুর্দিকে
"ওঁ মেধায়ৈ নমঃ" উচ্চারণ করিয়া মেধাদেবীর ন্যাস করিবে। তারপর এইরূপ "ওঁ প্রভায়ৈ নমঃ", "ওঁ বিদ্যায়ৈ নমঃ", "ওঁ শ্রিয়ৈ নমঃ", "ওঁ ধৃত্যৈ নমঃ",
"ওঁ স্মৃত্যৈ নমঃ", "ওঁ বুদ্ধ্যৈ নমঃ" , "ওঁ বিদ্যাশ্বর্যৈ নমঃ" বলিয়া দেবতার ন্যাস করিতে হইবে। তারপর বলিতে হইবে "নমঃ সর্বত্র"।
শারদাতিলক তন্ত্রে বলা হইয়াছে এই মন্ত্রের ঋষি কন্ব , ছন্দ বিরাট্ ও দেবতা বাক্ ।
অতঃপর ঋষ্যাদিন্যাস ও মন্ত্রন্যাস করিবে ।
ঋষ্যাদিন্যাস এইরূপ --
শিরসি কন্বঋষয়ে নমঃ।
মায়াপুটিতশ্চেৎ বৃহস্পতিঋষয়ে নমঃ।
মুখে বিরাট্ ছন্দসে নমঃ।
হৃদি বাগীশ্বর্যৈ দেবতায়ৈ নমঃ।
মন্ত্রন্যাস এইরূপ --
শিরসি বং নমঃ ।
শ্রবণয়োঃ দং নমঃ বং নমঃ ।
চক্ষুষোঃ দং নমঃ বাং নমঃ ।
নাসিকায়োঃ গ্বাং নমঃ দিং নমঃ ।
লিঙ্গে স্বাং নমঃ
গুহ্যে হাং নমঃ
অতঃপর মাতৃকান্যাস --
অস্য মাতৃকামন্ত্রস্য ব্রহ্মঋষির্গায়ত্রীচ্ছন্দো মাতৃকা সরস্বতী দেবতা হলো বীজানি স্বরা শক্তয়ো মাতৃকান্যাসে বিনিয়োগঃ
শিরসি ওঁ ব্রহ্মণে ঋষয়ে নমঃ
মুখে ওঁ গায়ত্রীচ্ছন্দোসে নমঃ
হৃদি ওঁ মাতৃকাসরস্বতৈ দেবতায়ৈ নমঃ
গুহ্যে ওঁ ব্য্যঞ্জনেভ্যো বীজেভ্যো নমঃ
পাদয়োঃ ওঁ স্বরেভ্য শক্তিভ্যো নমঃ
অতঃপর করাঙ্গন্যাস --
বদ অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং(হৃদয়ায়)নমঃ
বদ তর্জনীভ্যাং(শিরসে) স্বাহা
বাগ্ মধ্যমাভ্যাং(শিখায়ৈ) বষট্
বাদিনি অনামিকাভ্যাং(কব
চায়) হুং
স্বাহা কনিষ্ঠিকাভ্যাং(
নেত্রত্রয়ায়) বৌষট্
বদ বদ বাগ্বাদিনি স্বাহা করতলপৃষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রায় ফট্।
মস্তক, কর্ণদ্বয় , চক্ষুদ্বয় , নাসাদ্বয়, মুখ , লিঙ্গ ও গুহ্যে মন্ত্রবর্ণ সকল ন্যাস করিয়া
পূর্ববৎ চতুর্থ পটলোক্ত প্রকারে মাতৃকা প্রকরণোক্ত জাতিযুক্ত অঙ্গ সমুহ ন্যাস করিবে।
"শারদাতিলক ও তন্ত্রসার গ্রন্থে করাঙ্গন্যাসের ও অঙ্গন্যাসের বিবৃতি এইরূপ "
করাঙ্গন্যাস --
অং কং খং গং ঘং ঙং আং অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ
ইং চং ছং জং ঝং ঞং ঈং তর্জনীভ্যাং স্বাহা
উং টং ঠং ডং ঢং ণং ঊং মধ্যমাভ্যাং বষট্
এং তং থং দং ধং নং ঐং অনামিকাভ্যাং হুং
ওঁ পং ফং বং ভং মং ঔং কনিষ্ঠিকাভ্যাং বৌষট্
অং যং রং লং বং শং ষং সং হং লং ক্ষং অঃ অস্ত্রায় ফট্
অঙ্গন্যাস --
অং কং খং গং ঘং ঙং আং হৃদয়ায় নমঃ
ইং চং ছং জং ঝং ঞং ঈং শিরসে স্বাহা
উং টং ঠং ডং ঢং ণং ঊং শিখায়ৈ বষট্
এং তং থং দং ধং নং ঐং কবচায় হুং
ওঁ পং ফং বং ভং মং ঔং নেত্রত্রয়ায় বৌষট্
অং যং রং লং বং শং ষং সং হং লং ক্ষং অঃ অস্ত্রায় ফট্
নিম্নোক্তপ্রকারে মন্ত্রেরন্যাস হইবে --
মন্ত্রবর্ণন্যাস-
মস্তকে-ব নমঃ
দক্ষ কর্ণে-দ নমঃ
বাম কর্ণে-ব নমঃ
দক্ষ নয়নে-দ নমঃ
বাম নয়নে- বাগ্ নমঃ
দক্ষনাসাপুটে-বা নমঃ
বামনাসাপুটে-দি নমঃ
মুখে-নি নমঃ
লিঙ্গে- স্বা নমঃ
গুহ্যে- হা নমঃ
অতঃপর নিম্নলিখিত মন্ত্রে ধ্যানের বিধি --
তরুণ-শকলমিন্দোর্বিভ্রতী শুভ্রকান্তিঃ
কুচভর-নমিতাঙ্গী সন্নিষণ্ণা সিতাব্জে।
নিজ-করকমলোদ্যল্লেখনী-পুস্তক-শ্রীঃ
সকলবিভব-সিদ্ধ্যৈ পাতু বাগ্-দেবতা নঃ।।
মাতৃকা প্রকরণোক্ত পীঠে সুধী সাধক আবাহনাদি শ্লোকমন্ত্রে স্ত্রীলিঙ্গ যোগপূর্বক আবাহনাদি করিয়া বাগীশ্বরী সরস্বতীর অর্চনা করিবে
ইহার পীঠমন্ত্র হইল - হেসৌঃ বাগ্বাদিনী যোগ-পীঠায় নমঃ
কর্ণিকায় দক্ষিণাদিক্রমে প্রথমে আঙ্গাবরণের পূজা যথা এইরূপ
বদ হৃদয়ায় নমঃ,এতে গন্ধপুষ্পে হৃদয়াঙ্গশক্তয়ে নমঃ
বদ শিরসে স্বাহা,এতে গন্ধপুষ্পেশিরোঙ্গ শক্তয়ে নমঃ
বাগ্ শিখায়ৈ বষট্এতে গন্ধপুষ্পে শিখাঙ্গ শক্তয়ে নমঃ
বাদিনি কবচায় হুম্, এতে গন্ধপুষ্পে কবচাঙ্গ শক্তয়ে নমঃ
স্বাহা নেত্রত্রয়ায় বৌষট্,এতে গন্ধপুষ্পে নেত্রত্রয়াঙ্গ শক্তয়ে নমঃ
বদ বদ বাগ্বাদিনি স্বাহা করতলপৃষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রায় ফট্,এতে গন্ধপুষ্পে অস্ত্রাঙ্গ শক্তয়ে নমঃ।।
আটটি স্বরদ্বন্দ্বের দ্বারা দ্বিতীয়াবরণের পূজা যথা এইরূপ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে অং আং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ইং ঈং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে উং ঊং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ঋং ঋং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ৯ং ৯্৯ং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে এং ঐং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ওং ঔং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে অং অঃ নমঃ।।
অষ্টবর্গের দ্বারা তৃতীয়াবরণের পূজা যথা এইরূপ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে কং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে চং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে টং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে তং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে পং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে যং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে শং নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে লং নমঃ।।
দক্ষিণাদিক্রমে চতুর্থাবরণে যোগাদি শক্তির পূজা যথা এইরূপ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে যোগায়ৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে সত্যায়ৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে বিমলায়ৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে জ্ঞানায়ৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে বুদ্ধ্যৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে স্মৃত্যৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে মেধায়ৈ নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে প্রজ্ঞায়ৈ নমঃ।।
দলাগ্রে ব্রাহ্মাদি অষ্টশক্তির পূজা যথা এইরূপ
ওঁ আং এতে গন্ধপুষ্পে ব্রাহ্ম্যৈ নমঃ
ওঁ ঈং এতে গন্ধপুষ্পে নারায়ণ্যৈ নমঃ
ওঁ ঊং এতে গন্ধপুষ্পে মাহেশ্বর্য্যৈ নমঃ
ওঁ ঋং এতে গন্ধপুষ্পে চামুণ্ডায়ৈ নমঃ
ওঁ ৯৯ং এতে গন্ধপুষ্পে কৌমার্য্যৈ নমঃ
ওঁ ঐং এতে গন্ধপুষ্পে অপরাজিতায়ৈ নমঃ
ওঁ ঔং এতে গন্ধপুষ্পে বারাহ্যৈ নমঃ
ওঁ অং এতে গন্ধপুষ্পে নারসিংহ্যৈ নমঃ
বহির্ভাগে চতুরস্রে লোকপালগণের পূজা যথা এইরূপ
ওঁ লাং এতে গন্ধপুষ্পে ইন্দ্রায় নমঃ
ওঁ রাং এতে গন্ধপুষ্পে অগ্নয়ে নমঃ
ওঁ যাং এতে গন্ধপুষ্পে যমায় নমঃ
ওঁ ক্ষাং এতে গন্ধপুষ্পে নিঋতয়ে নমঃ
ওঁ বাং এতে গন্ধপুষ্পে বরুণায় নমঃ
ওঁ যাং এতে গন্ধপুষ্পে বায়বে নমঃ
ওঁ কুং এতে গন্ধপুষ্পে কুবেরায় নমঃ
ওঁ হাং এতে গন্ধপুষ্পে ঈশানায় নমঃ
ওঁ আং এতে গন্ধপুষ্পে ব্রহ্মণে নমঃ
ওঁ হ্রীং এতে গন্ধপুষ্পে অনন্তায় নমঃ
তাহার বহির্ভাগে তাঁহাদের অস্ত্রসমুহের পূজা যথা এইরূপ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে বজ্রায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে শক্তয়ে নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে দণ্ডয়ে নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে খড়্গায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে পাশায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে অঙ্কুশায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে গদায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে শূলায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে চক্রায় নমঃ
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে পদ্মায় নমঃ
অতঃপর পঞ্চোপচারে বীনাযন্ত্র, হংসবাহন , লেখনী ও মষ্যাধারের পূজা কর্তব্য

Address

Izazatulla Lane
Kolkata
700033

Telephone

+919051544321

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tollygunge Mahaprabhu Mandir posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Tollygunge Mahaprabhu Mandir:

Share