Temples with Atanu

Directions Website Contact the place of worship

Temples with Atanu Exploring the World's Most Spectacular Temples!
(1)

বাঁচিয়া থাকিলে বাড়ি ফিরিয়া এই স্থান সম্পর্কে লিখিব।
04/10/2026

বাঁচিয়া থাকিলে বাড়ি ফিরিয়া এই স্থান সম্পর্কে লিখিব।

রবিবাসরীয় আবিষ্কার 😊 কোন দেবতার মূর্তি, বুঝতে পারছেন?
03/10/2026

রবিবাসরীয় আবিষ্কার 😊 কোন দেবতার মূর্তি, বুঝতে পারছেন?

১৮২৪ সালে নৌকাযোগে কলকাতা থেকে ঢাকা যাবার পথে কলকাতার বিশপ হেবার সাহেব নদীয়া জেলার মাজদিয়ার শিবনিবাস গ্রামে এসেছিলেন র...
01/10/2026

১৮২৪ সালে নৌকাযোগে কলকাতা থেকে ঢাকা যাবার পথে কলকাতার বিশপ হেবার সাহেব নদীয়া জেলার মাজদিয়ার শিবনিবাস গ্রামে এসেছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত রাজপ্রাসাদ ও মন্দির দেখতে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত স্মৃতিকথায় তিনি সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছিলেন।জানেন, কি লিখেছিলেন তিনি সেখানে?

নদীয়া জেলার হাঁসখালির নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন। শিয়ালদহ থেকে গেদে লোকাল ধরে বগুলা স্টেশনে নেমে হাঁসখালিতে যাওয়া যায়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থিত হাঁসখালি ও তৎসংলগ্ন কৃষ্ণগঞ্জ, মাজদিয়া, বানপুর নামের জায়গাগুলি আধুনিকতার দৌড়ে এখন পিছিয়ে পড়লেও পুরোনো আমলে এইসব স্থান কিন্তু খুব বিখ্যাত ছিল। মাথাভাঙা, ভৈরব, চূর্ণী নদী তীরবর্তী জনপদগুলিতে তখন অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবারের বসবাস ছিল। নদীপথ যতদিন যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম রূপে পরিচিত ছিল, ততদিন এইসব স্থান নিজেদের খ্যাতি ধরে রাখতে পেরেছিল। কালক্রমে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া়য় ও রেলপথ চালু হয়ে নদীপথের জনপ্রিয়তা ক্রমশ হ্রাস পেতে শুরু করলে এইসব স্থানগুলিও একপর্যায়ে নিজেদের গৌরব হারিয়ে হতশ্রী গন্ডগ্রামে পরিণত হয়।

১৭৫৪ সালে কৃষ্ণনগরে বর্গী আক্রমনের সম্ভাবনা দেখা দিলে, নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র মাজদিয়ার কাছে চূর্ণী নদীর তীরে এক বিশাল রাজপ্রাসাদ ও তিনটি সুউচ্চ মন্দির প্রতিষ্ঠা করে সেখানে রাজধানী সরিয়ে নিয়ে আসেন ও এই স্থানের নামকরন করেন 'শিবনিবাস'। বর্গী আক্রমনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসাবে নির্ম্মিত দূর্গাকৃতি এই রাজপ্রাসাদ অত্যন্ত সুরক্ষিত রূপে গড়ে তোলা হয়েছিল বলে জানতে পারা যায়। সুবিশাল প্রবেশতোরণ, হাতিশাল, ঘোড়াশাল, সৈন্যদের ব্যারাক, মন্দির, সুসজ্জিত উদ্যান-সহ দূর্গের অভ্যন্তরে সবরকম রাজকীয় ব্যবস্থাই ছিল।

১৮২৪ সালে কলকাতার বিশপ হেবার সাহেব শিবনিবাসে ঘুরতে এসে, সেই অভিজ্ঞতার কথা নিজের জার্নালে লিপিবদ্ধ করে যান। সেই লেখা পড়লে আমরা কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারি, শিবনিবাসে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সেই অধুনাবিলুপ্ত রাজপ্রাসাদ ঠিক কেমন ছিল।

বিত্তশালী পরিবারের সন্তান রেজিন্যাল্ড হেবার ১৮২৩ সালে ইংল্যান্ডের চেশায়ার শহর থেকে বিশপের দায়িত্ব নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন। ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হবার উদ্দেশ্যে তিনি ১৮২৪ সালে নদীপথে কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে দিল্লী পর্যন্ত যাত্রা করেন। এই সমগ্র যাত্রাপথের বিবরণ তিনি নিজের জার্নালে নথিভুক্ত করে রেখেছিলেন। ইন্টারেস্টিংলি, তাঁর এই জার্নাল থেকে জানা যায়, কলকাতা থেকে ঢাকা যাবার পথে হেবার সাহেব নদীয়া জেলার চূর্ণী নদী তীরবর্তী শিবনিবাস গ্রামে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজপ্রাসাদ ও মন্দির দেখার জন্য বজরা থেকে নেমেছিলেন। ১৮২৮ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত স্মৃতিকথায় তিনি শিবনিবাসের রাজপ্রাসাদ ও মন্দিরগুলিকে অত্যন্ত সুরম্য ও অতি উত্তম গথিক স্থাপত্যের নিদর্শন বলে বর্ণনা করেছিলেন।

অনেক খোঁজাখুঁজি করে হেবার সাহেবের সেই জার্নালটি আমি যোগাড় করতে পেরেছি, যেখানে তিনি তাঁর শিবনিবাস ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেছেন। মূল লেখাটি ইংরেজি ভাষায় হওয়ায় সবার বোঝার সুবিধার্থে লেখাটি বাংলায় তর্জমা করে দিলাম। আমি কোনও দক্ষ অনুবাদক নই, ভুলভ্রান্তি হতে পারে, অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি মার্জনীয়।

*** হেবার সাহেবের জার্নাল ***
শিবনিবাস, নদীয়া। ১৮২৪ খ্রীষ্টাব্দ।

"নদীতীরের ঘন জঙ্গলের গাছগাছালির উপর দিয়ে কিছুটা দূরত্বে কয়েকটি সুউচ্চ কোণাকৃতি গম্বুজ বিশিষ্ট মন্দির দেখতে পেয়ে, সেগুলি আরও কাছে থেকে দেখবার বাসনায় আমরা তীরে অবতরণ করলাম। জঙ্গলের কাছাকাছি পৌঁছে আমরা দেখলাম সম্পূর্ণ স্থানটিতে কোনও আকর্ষণীয় স্থাপত্যের ভগ্নাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। আমরা নদীতীর ধরে কিছুটা এগোতেই জঙ্গলের ভিতরে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের চেহারা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। এখানে আমরা খুবই বুদ্ধিদীপ্ত চেহারার দুজন বালককে দেখতে পাই, আমাদের জিজ্ঞাসায় তারা বলে, সত্যিই এটাই হল শিবনিবাস। তারা আরও বলে, বহু প্রাচীন এই রাজপ্রাসাদ অনেক বড় ছিল এবং বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত এই প্রাসাদের ভিতর দিয়ে যাতায়াতের সুন্দর রাস্তা ছিল।

আমরা এখানে চারটি মন্দির দেখতে পাই। সুবিশাল না হলেও এগুলি সুদৃশ্য স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত ছিল এবং ছবির মতো সুন্দর।
আমরা প্রথমে যে মন্দিরটিতে যাই সেটি দৃশ্যতই নবীন ছিল, মন্দিরের পূজারী আমাদের বলেন মন্দিরটির বয়স মাত্র সাতান্ন বছর। ইংল্যান্ড হলে আমরা ভেবে নিতাম এটি অন্তত ২০০ বছরের প্রাচীন। আসলে এখানকার জলবায়ুর কারণে নিয়মিত সংস্কার না হলে ভবনগুলিতে অতি দ্রুত প্রাচীনত্বের ছাপ পড়ে যায়। যদিও এই মন্দিরটি খুবই পরিচ্ছন্ন ছিল এবং সুদৃশ্য স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। একটি চৌকোনা গম্বুজকে ঘিরে পিরামিডাকৃতি ছাদসহ গর্ভগৃহের সামনে দশ ফুটের একটি বারান্দা ছিল। বারান্দায় কয়েকটি প্রকোষ্ঠ ছিল যেগুলি মন্দিরের পূজারী আমাদের দৃশ্যতই গর্বিত ভঙ্গিতে দেখিয়ে বললেন, সেগুলি সব "পাক্কা" অর্থাৎ ইঁটের তৈরি এবং "বিলাতি" অর্থাৎ বিদেশী। দক্ষিণমুখী একটি সুদৃশ্য গথিক খিলানের ভিতর দিয়ে প্রবেশ করে ভগবান রামের বিগ্রহের কাছে পৌঁছানো যায়। গর্ভগৃহে ভগবান রাম এবং তাঁর পাশে রয়েছেন সীতাদেবী, তাঁরা একটি প্রস্ফুটিত পদ্মের উপরে বসে রয়েছেন এবং তাঁদের মাথার উপর একটি সোনার প্রলেপ দেওয়া ম্যাড়মেড়ে হয়ে যাওয়া ছাতা রয়েছে।

এখান থেকে আমরা বাকি দুটি অষ্টকোণাকৃতি মন্দির দেখতে গেলাম। দুটি মন্দিরই ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে সমর্পিত এবং গর্ভগৃহে কালো মার্বেল পাথরের তৈরি শিবলিঙ্গ ছাড়া আর কিছুই নেই।
ইতিমধ্যে ভগবান রামের মন্দিরের পূজারী, যে তার প্রাপ্য দক্ষিনা পেয়ে বড়ই সন্তুষ্ট হয়েছিল সে বেশ কয়েকজন স্থানীয় গ্রামবাসীকে নিয়ে জিজ্ঞাসা করতে এল যে আমরা রাজার প্রাসাদ দেখতে ইচ্ছুক কি না। আমি সম্মতি জানাতে তারা আমাদের এক সুদৃশ্য রাজকীয় গথিক খিলানযুক্ত তোরণের ভিতর দিয়ে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল। তোরণটি অযত্নে গজিয়ে ওঠা বড় বড় পাতাযুক্ত বুনো আইভি লতায় সমাচ্ছন্ন হলেও এখনও যথেষ্ট ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং দেখতেও দারুন, অনেকটা মস্কোর ক্রেমলিনের "পবিত্র গেট"-এর মতো। এখানে সম্ভবত নগরীর প্রবেশপথ ছিল। উচ্চ বৃক্ষশ্রেণী সম্বলিত রাস্তার একপাশে ঝোপঝাড় ও আগাছায় পরিপূর্ণ এক সুবৃহৎ অট্টালিকার ভগ্নাবশেষ দেখতে পেলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম এই স্থানটি কে ধ্বংস করেছে এবং উত্তর পেলাম সিরাজদ্দৌলা। এই উত্তর শুনে (যেহেতু এটি নিশ্চিতভাবেই একটি হিন্দু স্থাপত্যের ভগ্নাবশেষ) ভাগ্যক্রমে আমার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নাম মনে পড়ে যায়। এই স্থানে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র বাস করতেন কি না জিজ্ঞাসা করায় একজন কৃষক সম্মতিসূচক মাথা নাড়লেন এবং জানালেন, কৃষ্ণচন্দ্রের বংশধরেরা এখনও এই স্থানের নিকটেই বসবাস করেন।

আমাদের পথপ্রদর্শক এই সময়ে ডানদিকে ঘুরে আমাদের এমন একটি স্থানে নিয়ে গেলেন যা দেখে নিশ্চিতভাবেই বোঝা যায় যে এটি একটি সুবৃহৎ রাজপ্রাসাদের ভগ্নাবশেষ। এই ভগ্ন প্রাসাদের কিছু অংশ দেখে আমার কনওয়ে ক্যাসল্ এবং কিছু অংশ দেখে বোল্টন অ্যাবি'র কথা মনে হচ্ছিল। এখানে কয়েকটি মিনার ছিল যদিও তাদের উচ্চতা খুব বেশি নয়। গথিক খিলানযুক্ত, ছাদবিহীন সুবিশাল বারান্দায় সুদৃশ্য অলঙ্করণ চোখে পড়ে তবে সবকিছুই অত্যন্ত করুণ পরিস্থিতিতে ঘন জঙ্গল, ঝোপঝাড় ও বুনো আইভি লতায় সমাচ্ছন্ন।
এখানে একটি ভগ্ন রাজদরবারের প্রবেশদ্বারের কব্জা থেকে এখনও সেই প্রাচীন ভাঁজ করা দরজা ঝুলে রয়েছে। আমি সবিশেষ বিষ্ময়ে সবকিছু ঘুরে দেখছিলাম। কনওয়ের মতো এখানেও জনমনিষ্যির দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না। ভগ্নস্তুপে দুটো-তিনটে গরু চরে বেড়াচ্ছে, একটি গরু আবার ভগ্নপ্রায় মিনারের উপরে উঠে সেখান থেকে উঁকি দিচ্ছে। একটি ভাঙ্গা কামানের অংশবিশেষ এবং একটি শিলালিপির ভগ্ন টুকরো সামনে ঘাসের উপর পড়ে রয়েছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে একারণে আমাদের চারপাশে শিয়ালের ডাক শুনতে পাচ্ছি, মনে হচ্ছে যেন শিয়ালেরাই এই অঞ্চলের বাস্তবিক রাজা। ইতিমধ্যে নদীতীরে পরিচয় হওয়া সেই দুই বালক আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এল এবং জানাল তারা মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নাতি। তাঁরা উভয়ে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে ফারসি ভাষায় আমাদের সবাইকে তাদের পিতৃভবনে আসবার জন্য আমন্ত্রণ জানালো।

বালকদ্বয়ের কথায় আমি অবশ্যই বিষ্ময় প্রকাশ করিনি, কারণ আমি এই রাজপরিবারকে অনেক শ্রদ্ধা করতাম এবং তাঁদের অতীত সমৃদ্ধির কথা খুব ভালোভাবে অবগত ছিলাম। এই বালকদের পিতা বা মহারাজাকে সম্মান প্রদর্শন করতে পারলে আমি খুব খুশি হতাম। ভেঙ্গে পড়া পাঁচিল ও মিনারের স্তূপীকৃত ইঁটের মধ্যে দিয়ে খাড়াই সিঁড়ি বেয়ে তাঁরা আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল। জায়গাটি অনেকটা রুডল্যান ক্যাসলের ভগ্ন প্রবেশপথের মতো। বালকদ্বয় আমাদের আশ্বস্ত করবার জন্য বলছিল যে, এখানে একসময়ে ভালো রাস্তা ছিল। আমরা একটি ক্ষুদ্র, আসবাবহীন কক্ষের সামনে পৌঁছলাম, যেটি অনেকটা কার্নারভন ক্যাসলের রাণীর শয়ন কক্ষের মতো দেখতে। রাজা ওমিচন্দ্র আমাদের সাদরে অভ্যর্থনা জানালেন। রাজার চেহারা স্থূল ও খর্বাকৃতি, বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর, গায়ের রঙ ফর্সা। তিনি খালি গায়ে শুধুমাত্র ধুতি এবং উপবীত পরেছিলেন। প্রজাদের সঙ্গে তাঁর একমাত্র পার্থক্য ছিল তাঁর কপালের সোনার গুঁড়ো, বিভূতি ও সিঁদুরের প্রলেপ।

আমি স্বীকার করছি, একদা বিত্তশালী ও ক্ষমতাবান রাজপরিবারের বর্তমান গৃহস্বামীর চরম দারিদ্র্যের রূপ আমাকে ভীষনভাবে মর্মাহত করে। তাঁর বৈঠকখানায় রাজকীয় জাঁকজমকের অপ্রতুলতা সত্বেও তাঁকে আমি অনেক সম্মান প্রদর্শন করি। তাঁর পূর্বপুরুষদের মতো তিনি এখনও একজন মহান রাজা একথা ভেবে আমি তাঁকে "মহারাজা" বলে সম্বোধন করায় তিনি যারপরনাই আনন্দিত হন।

ইতিমধ্যে গ্রামে খবর ছড়িয়ে গিয়েছিল যে, একজন "বড়লোক" রাজার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। আন্দাজ একটা নাগাদ আমাদের সেপাইদের দলপতি দস্যুদলের আগমনের বিপদ সঙ্কেত বাজায়। সে বজরার জানালা দিয়ে দেখতে পায় তিনটি কালো মাথা সন্তর্পণে সাঁতরে বজরার কাছাকাছি আসবার চেষ্টা করছে। সে "ডাকাত ডাকাত" বলে চিৎকার করায় আমরা সতর্ক হয়ে যাই এবং সেই দস্যুরা সত্বর উল্টোদিকে ঘুরে পালাতে থাকে। কিছুক্ষনের মধ্যেই তারা সাঁতরে নদীর অপর পাড়ে উঠে পালিয়ে যায়। আমরা এভাবেই ভারতবর্ষের ভালো ও খারাপ মানুষের উদাহরণ পেয়ে যাই।"

*** হেবার সাহেবের বর্ণনা এখানেই সমাপ্ত হয়।।

শিবনিবাসের মন্দির ও রাজপ্রাসাদ সম্পর্কে বিশপ হেবারের মতো বিখ্যাত পর্যটকের এই উচ্চ সুখ্যাতি এবং ইউরোপীয় স্থাপত্যের সঙ্গে সপ্রশংস তুলনা থেকে এটা বেশ স্পষ্ট বোঝা যায় যে শিবনিবাসের মন্দিরগুলি এবং সুবৃহৎ রাজপ্রাসাদটি আসলেই অনেক সুন্দর ছিল। এই রাজপ্রাসাদ এবং মন্দির সমূহের বিশালতা ও অতুলনীয় স্থাপত্য সৌন্দর্য ছিল মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের রুচি, আভিজাত্য ও বৈভবের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, আজকের দিনে শিবনিবাস গ্রামে গেলে কৃষ্ণচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত তিনটি মন্দির ছাড়া সেই "অত্যন্ত সুরম্য ও অতি উত্তম গথিক স্থাপত্যের নিদর্শন" রাজপ্রাসাদের একটি ইঁটের টুকরোও আর খুঁজে পাওয়া যায় না। ১৯৪৭ সালে বাংলা ভাগ হওয়ার পরে শরনার্থীদের চাপে নদীয়া জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলির অবস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। সেই অস্থির সময়ে কৃষ্ণচন্দ্রের ভগ্ন রাজপ্রাসাদের ইঁট-পাথর দিয়েই অনেকে আশেপাশে মাথা গোঁজার ঠাঁই বানিয়ে ফেলেন, রাজবাড়ির জায়গা-জমি প্রায় সবই বেদখল হয়ে যায়। আনফরচুনেটলি, মন্দির তিনটি ছাড়া আজ আর সেখানে কিছুই অবশিষ্ট নেই। কৃষ্ণচন্দ্রের রাজপ্রাসাদ যেখানে ছিল, সেখানে এখন মানকচু, মর্তমান কলা ও উৎকৃষ্ট মানের পটলের চাষ হয় 😢 আমাদের দুর্ভাগ্য যাই হোক্।

** পোস্টের সঙ্গে দেওয়া শিবনিবাসের রাজরাজেশ্বর মন্দিরের পুরোনো ছবিটি আবার হেবার সাহেবের তোলা ভাববেন না যেন। ১৮২৪ সালে ক্যামেরা আবিষ্কার হব-হব করছে, কিন্তু তখনও হয়নি। সঙ্গের ছবিটি আর এক ব্রিটিশ সাহেব, ডেভিড ম্যাকাচ্চনের 'লেট মিডিয়াভ্যাল টেম্পলস্ অফ বেঙ্গল' বই থেকে নেওয়া।

সরল গ্রামবাসীরা এত ইতিহাস-টিতিহাস বোঝেন না। তাঁরা অবাক হন যে, তাঁদের গ্রামের পথের ধারে অবহেলায় পড়ে থাকা পাথরের টুকরো ব...
27/09/2026

সরল গ্রামবাসীরা এত ইতিহাস-টিতিহাস বোঝেন না। তাঁরা অবাক হন যে, তাঁদের গ্রামের পথের ধারে অবহেলায় পড়ে থাকা পাথরের টুকরো বৌদ্ধধর্মের 'ভোটিভ স্তুপ' কিভাবে হতে পারে? আর এই ছেলেটা সেটা জানতেই বা পারল কি করে 😊

গ্রামবাসীরা না জানলেও, পাঠকবন্ধুরা নিশ্চয়ই জানেন ভোটিভ স্তুপ কি জিনিষ। ভোটিভ স্তুপ (Votive Stupa) বা নিবেদন স্তুপ হল বৌদ্ধ স্তুপের ছোট ছোট প্রতিকৃতি। প্রাচীনকালের বৌদ্ধরা নিজেদের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট-বড় ভোটিভ স্তুপ নির্মান করিয়ে সেগুলি বড় কোনও বৌদ্ধস্তুপের আশেপাশে স্থাপন করে ভগবান বুদ্ধের কাছে মানত করত।

ভোটিভ স্তুপের বেসিক গড়ন এরকম গ্যাস সিলিন্ডারের মতোই হত, তবে এর সঙ্গে বিভিন্ন বৌদ্ধ দেবদেবীদের মূর্তি ও সূক্ষ্ম কারুকার্যও থাকত। যে যত বেশি খরচ করত, সে তত বড় সাইজের ও উৎকৃষ্ট অলঙ্করণ সম্বলিত ভোটিভ স্তুপ স্থাপন করত। ভোটিভ স্তুপের সাইজ ও অলঙ্করণ দেখলেই স্থপয়িতার আর্থিক স্বাচ্ছল্য ও সামাজিক পদমর্যাদা আন্দাজ করা যায়। ছবিতে দেখানো ভোটিভ স্তুপটির উল্টোদিকে বৌদ্ধ দেবী 'তারা'-র একটি প্রতিকৃতি খোদিত রয়েছে, যা এদিক থেকে দেখা যাচ্ছে না। এখানে রাস্তার ধারে ভোটিভ স্তুপ পড়ে রয়েছে মানে কনফার্ম এর আশেপাশে বড়সড় কোনও বৌদ্ধস্তুপও ছিল।

কালীক্ষেত্রদীপিকা হইতে জানতে পারা যায়, "পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে, দিল্লীর পাঠান রাজগণের সময়ে কালীঘাটের অনতিদূরে, স্থা...
26/09/2026

কালীক্ষেত্রদীপিকা হইতে জানতে পারা যায়, "পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে, দিল্লীর পাঠান রাজগণের সময়ে কালীঘাটের অনতিদূরে, স্থানে স্থানে মনুষ্যের বাস হইয়াছিল। এ সময় কালীঘাটের চতুঃপার্শ্ব বেত্র, কচুই প্রভৃতি লতা এবং দুশ্ছেদ্য গুল্মাদিময় ভীষন জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। বর্তমান কালীবাটির পূর্বদিকে, ঐ বনের মধ্য দিয়া এক অপ্রশস্ত পথ ছিল। এই পথ বর্তমান কালের 'রসা রোড' বলিয়া সাধারনের নিকট পরিচিত। বন-মধ্যস্থ এই অপ্রশস্ত পথ দিয়া কালী-দর্শনার্থী নাগা ফকির ও সন্ন্যাসীগণ দলবদ্ধভাবে যাতায়াত করিত এবং কালীঘাটের কার্য শেষ করিয়া পদব্রজে গঙ্গাসাগরে 'কপিলাশ্রমে' পৌঁছিত।

কালীঘাটের দক্ষিণ প্রদেশে সাগর সন্নিকটে, ছত্রভোগে, অম্বুলিঙ্গশিব ও সংকেতমাধব বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত ছিল। চৈতন্য ভাগবতেও এই দুই দেবস্থানের নামোল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়। কলিকাতা হইতে পশ্চিমাভিমুখে ধাবিতা যে প্রশস্ত নদী এখন সমুদ্র গমনের প্রধান পথ হইয়াছে, তখন তাহা এত প্রশস্ত ছিল না। এই সংকীর্ণ নদী দিয়া সেই পুরাকালে লোকে তমলুক, হিজলী, উৎকল প্রভৃতি স্থানে নৌকাযোগে যাতায়াত করিত। বর্তমান কালীঘাটের সন্নিকটে, ভাগীরথী ক্রমশঃ ধনুকাকারে বক্র হইয়া উত্তরবাহিনী ছিলেন। বর্তমান কালীকুন্ড-হ্রদ তখন গঙ্গাগর্ভে অতলস্পর্শ 'দহ' বা 'দ' ছিল।

পীঠ-স্থান বলিয়া পরিচিত হইবার বহুকাল পরেও কালীঘাট নির্জন শ্বাপদ-সংকুল অরণ্যগর্ভে, অজ্ঞাত অবস্থায় নিমজ্জিত ছিল। জন-প্রবাদ এই, ভীমকায় ভৈরব ও বামাচারী কাপালিকগণ এই নির্জন বন-প্রদেশস্থ কালীর পর্ণ-মন্দিরের নিকটে জঙ্গল মধ্যে বসিয়া, বীরাচার-সম্মত উপাসনা করিত। নরবলি দিয়া ভগবতীর নৃ-কপালময় খর্পরকে রুধিরস্রোতে পূর্ণ করিত। গম্ভীর নিশীথে তাহাদের কঠোর কন্ঠ-নিঃসৃত ভীষন মন্ত্রনাদে, সেই নির্জন বনস্থলী বিকম্পিত হইয়া উঠিত। তন্ত্রাচার সমন্বিত, উজ্জ্বল হোমাগ্নি-শিখার গর্জনে সেই স্থান ভীম কোলাহল মুখরিত হইয়া উঠিত।"

** এই ছবি দেখিলে আজ কেউ বিশ্বাস করিবে যে কলিকাতার এইসব স্থানেই সেইসব ভীমকায় ভৈরব ও বামাচারী কাপালিকগণ নরবলি দিয়া ভগবতীর নৃ-কপালময় খর্পরকে রুধিরস্রোতে পূর্ণ করিত? 😄

26/09/2026

Qutub Shahi Mosque, Pandua, Maldaha, WB

এই ফলক পড়ে বুঝলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যদি নাইট উপাধি ত্যাগ না করতেন, তবে তাঁর নাম হত Sir Rabindranath Tagore K.C.I.E.প্র...
24/09/2026

এই ফলক পড়ে বুঝলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যদি নাইট উপাধি ত্যাগ না করতেন, তবে তাঁর নাম হত Sir Rabindranath Tagore K.C.I.E.

প্রাচীন মন্দিরের আশেপাশে খুঁজলে এমন কিছু ফ্যাক্টস্ জানতে পারা যায়, যা ভীষন ইন্টারেস্টিং। যেমন ধরুন এই ফলকটি। ভুবনেশ্বরের বিখ্যাত লিঙ্গরাজ মন্দিরের মূল প্রবেশপথটি পূর্বমুখী হলেও, দক্ষিনদিকে আরও একটি প্রবেশপথ রয়েছে, যেটি সবসময় বন্ধই থাকে। এই বন্ধ প্রবেশপথের এক কোনায় প্রোথিত রয়েছে ইংরাজিতে লেখা এই ফলক।

এখানে লেখা আছে, ১৯২৫ সালে স্যার হেনরি হুইলার যখন বিহার ও ওড়িশার গভর্নর ছিলেন, তখন লিঙ্গরাজ মন্দির ও পার্ব্বতী মন্দিরের সংস্কারকার্য শুরু করা হয়েছিল। এই সংস্কারকার্য ১৯২৯ সালে, তৎকালীন বিহার ও ওড়িশার গভর্নর স্যার হিউ স্টিফেনসনের সময়কালে সম্পন্ন হয়।
এই কাজে সর্বমোট খরচ হয়েছে ১,৩৬,০৯৭ টাকা। যার মধ্যে ব্রিটিশ সরকার দিয়েছে ৭৩,৪২৩ টাকা এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে ৬২,৬৭৪ টাকা।

লক্ষ্যনীয় বিষয় হল, স্যার হেনরি হুইলার ও স্যার হিউ স্টিফেনসন, দুজনের নামের পিছনেই K.C.S.I ও K.C.I.E লেখা আছে। এগুলি আসলে ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর নাইটহুড সম্মান। K.C.S.I মানে হল: "নাইট কমান্ডার অফ দ্য মোস্ট এক্সল্টেড অর্ডার অফ দ্য স্টার অফ ইন্ডিয়া" এবং K.C.I.E মানে হল: "নাইট কমান্ডার অফ দ্য মোস্ট এমিনেন্ট অর্ডার অফ দ্য ইন্ডিয়ান এম্পায়ার"।

K.C.S.I বা সিনিয়র অর্ডার নাইট উপাধিটি মূলত ভারতে কর্মরত উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ অফিসারদের দেওয়া হত, এবং K.C.I.E বা জুনিয়র অর্ডার নাইট উপাধি দেওয়া হত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতী ব্যক্তিদের। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যদি নাইট উপাধি ত্যাগ না করতেন, তবে তাঁর নাম হত Rabindranath Tagore K.C.I.E.

লেখাটা এখানেই শেষ করা যেতে পারত, কিন্তু আর একটু না জানালে মনে শান্তি পাচ্ছি না। এই ফলকের নীচের দিকে দেখি খুব ছোট ছোট অক্ষরে লেখা আছে LLEWELYN বা লয়েলিন। ভাবলাম, এই লয়েলিন আবার কি বস্তু! খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলাম "লয়েলিন এন্ড কোম্পানি" হল ব্রিটিশ শাসনকালের বিখ্যাত প্রস্তরফলক নির্মানকারী সংস্থা, যারা সমগ্র এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশাল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রয়োজনানুযায়ী ফলক সরবরাহ করত।

একটা ছোট্ট ফলক, কিন্তু কত কিছু জেনে ফেললাম বলুন তো 😃 এইজন্যই প্রাচীন মন্দির আমি এত পছন্দ করি।

যখন ছোট ছিলাম, দেশি-বিদেশী বিভিন্ন আবিষ্কারকদের কথা বইয়ে পড়ে ভাবতাম, বড় হয়ে কিছু একটা আবিষ্কার করতে হবে। নতুন কিছু, ...
23/09/2026

যখন ছোট ছিলাম, দেশি-বিদেশী বিভিন্ন আবিষ্কারকদের কথা বইয়ে পড়ে ভাবতাম, বড় হয়ে কিছু একটা আবিষ্কার করতে হবে। নতুন কিছু, আক্ষরিক অর্থে আবিষ্কার যাকে বলে। কিন্তু কি আবিষ্কার করব? ততদিনে সবাই তো সবকিছু আবিষ্কার করেই ফেলেছে। আমেরিকা মহাদেশ থেকে আলপিন, কোনও কিছুই বাদ নেই। মহা মুশকিল। আবিষ্কারকদের উপর তখন একটু একটু রাগও হত, পাজি বুড়োগুলো, সবাই কোন আক্কেলে সবকিছু আবিষ্কার করে ফেলল? 😠 ছোটরা তাহলে এখন কি আবিষ্কার করবে?

বেশ কথা, সমস্যা নেই। নতুন কিছু নাই আবিষ্কার করা হল, যা অলরেডি আবিষ্কার হয়ে গিয়েছে সেগুলোকে নিয়েই কিছু অ্যাডভান্স চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে। মা কিছুদিন ধরেই কমপ্লেইন করছিল, বাড়িতে পিঁপড়ে মারার কি একটা লিক্যুইড কিনেছে, সেটায় নাকি কোনও কাজই হচ্ছে না, অনেকবার স্প্রে করার পরেও পিঁপড়েরা যেমন কে তেমন ঘুরে বেড়াচ্ছে। হঠাৎ মাথায় খেলে গেল, ইউরেকা! এই বিষয়ে কিছু আবিষ্কার করে মাকে চমকে দেওয়া যেতে পারে। একটা পোকা-মাকড় মারা বিষাক্ত তেল আবিষ্কার করব। সে এমন ভয়ঙ্কর তেল হবে যে কৌটোর ঢাকনা খুললেই পোকা-মাকড়ের দল বাঁচাও বাঁচাও করে চারিদিকে ছুটে পালাবে।

বাড়িতে আমার গোপন আড্ডায় একটা কেমিক্যাল এক্সপেরিমেন্টের ল্যাব বানিয়ে ফেললাম। আবিষ্কারের সাবজেক্ট ঠিক হয়ে গিয়েছে, ল্যাব রেডি, এবারে দরকার ইনগ্রেডিয়েন্টস্ বা উপকরণ। প্রধান উপকরণ ঠিক করে নিয়েছিলাম কেরোসিন হবে। তার সঙ্গে এটা-ওটা মিশিয়ে তৈরী হবে সেই ভয়ঙ্কর মারন তেল। মায়ের চোখ এড়িয়ে কেরোসিন তেলের ড্রাম থেকে মূল উপকরণ সংগ্রহ করা হল, দিদির সাজের বাক্স থেকে গোপনে নেলপালিশ রিমুভারের শিশি, বাথরুমের তাক থেকে টাটা নিহারের বোতল, বাড়িতে কাঠের কাজ হওয়ায় একটা কৌটোয় অর্ধেক তারপিন তেল বেঁচে ছিল, সেটা, কিছুটা সর্ষের তেল, কিছুটা লুচি ভাজার তেল, ঠাকুমার ঘর থেকে নিলাম বিছে-বোলতায় কামড়ালে ক্ষতস্থানে লাগানোর বিষহরি।

মোটামুটি বাড়িতে লিক্যুইড ফর্মে যা যা ছিল সবকিছু সংগ্রহ করে প্রবল উৎসাহে ল্যাবে সেগুলির মিশ্রন করতে বসলাম। প্রতিটা নতুন উপকরন কেরোসিনে মেশাই আর ভাবি এমন তেজস্ক্রিয় কেমিক্যাল তৈরি হচ্ছে, এইবার নিশ্চয়ই "ছ্যাঁক" করে উঠবে বা ধোঁয়াটোয়া বেরোবে। কিন্তু হতাশার চূড়ান্ত, নব্য আবিষ্কৃত মারন কেমিক্যালে তেজস্ক্রিয়তার লক্ষন বিশেষ দেখা যায় না, এদিকে উপকরনও সব মিশ্রন করা সম্পন্ন হয়েছে, আর কিছু বাকি নেই। ভাবলাম, দেখতে এমন নিস্তেজ মনে হলেও, কেমিক্যাল যে ভয়ঙ্কর বিষাক্ত হয়েছে তাতে তো কোনও সন্দেহ নেই, এর এক ফোঁটা গায়ে পড়লেই পিঁপড়ের দল মরে কাঠ হয়ে যাবে। এবারে প্রাকটিক্যালি পরীক্ষা করে দেখা যাক।

বাড়িতে পিঁপড়ের বাসার অভাব নেই, একটা বাসা টার্গেট করলাম। পিঁপড়ের দলকে বললাম, ভাইসকল, তোমাদের বাসা ভাঙার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু মানবজাতির ইতিহাসের এই আশ্চর্যকর গবেষনার স্বার্থে তোমাদের বলিদান দিতে হচ্ছে, ক্ষমা করে দিও বন্ধুরা আমার। ফিচিক্ ফিচিক্ করে ড্রপার দিয়ে পিঁপড়ের বাসায় ছিটিয়ে দিলাম সদ্য আবিষ্কৃত মারন কেমিক্যাল।

বাসার মাটি গলে গলে পড়ছে, পিঁপড়ের দল বিভ্রান্ত হয়ে ছোটাছুটি করছে, কিন্তু তাদের কাউকে দেখেই যেন মনে হচ্ছে না তারা খুব কষ্ট পাচ্ছে। বরং যেন মনে হচ্ছে সব মহা আনন্দে ছোটাছুটি করছে। মাথাটা গরম হল। মিশ্রনটা ঝাঁকিয়ে নিয়ে তলার দিকের ঘন বিষাক্ত মাল-মশলা ড্রপারে ভরলাম। একটা কেঁদো সাইজের পিঁপড়ে হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যেন যাচ্ছিল, তার ওপরে এক ড্রপ মারন কেমিক্যাল ফেললাম। বেচারা এক ড্রপের চাপেই দেখি চিঁড়েচ্যাপ্টা, হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে আছে। উৎফুল্ল হয়ে ভাবছি এই তো! আবিষ্কার সফল! মা এখন দেখে খুব খুশি হবে, সবাই ধন্যধন্য করবে, কত পুরষ্কার, নোবেল-টোবেল... উফ্!!!

সাফল্যের আনন্দটা মনে মনে সদ্য উপভোগ করতে শুরু করেছি, ইতিমধ্যে দেখি সেই হতচ্ছাড়া পিঁপড়ে কিভাবে যেন মারন কেমিক্যালের ড্রপটা পিঠ থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে, সামনের পা দিয়ে শুঁড়টা পরিষ্কার নিয়ে আবার হন্তদন্ত হয়ে যেদিকে যাচ্ছিল সেদিকেই রওনা দিয়েছে, যেন তার কিছুই হয়নি। চোখের সামনে নোবেলের বুদ্বুদটা ফুট্ করে ফেটে গেল, পিঁপড়েটার উপরে এমন রাগ হল, হাতে বন্দুক থাকলে ব্যাটাকে কনফার্ম গুলি করে মারতাম। মনটা ভেঙে গেল। হাতের মারন কেমিক্যালের পাত্রটা টান মেরে ফেলে দিলাম সামনের কোমর সমান উঁচু ভাঁটফুল গাছের জঙ্গলের মধ্যে। আবিষ্কারক আর বোধহয় হওয়া হল না।

একে মন খারাপ, তাতে দিদি আবার রাত্রিবেলায় ধরে ফেলল যে তার সাজের বাক্স থেকে নেলপালিশ রিমুভার মিসিং। উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমান ছাড়াই আমাকে প্রধান অভিযুক্ত করে সে মায়ের কাছে নালিশ করে এল। মা-ও পক্ষপাতদুষ্ট বিচারকের মত পিঁজরাপোলের আসামীকে ধরে উত্তম-মধ্যম কয়েক ঘা দিয়ে দিলেন। রাতে আপাদমস্তক কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে ফোঁপাতে ফোঁপাতে ভাবলাম, আবিষ্কারকদের জীবনে এমন কত দুঃখ-কষ্ট আসে। ক্ষুদ্রবুদ্ধি মনুষ্য যদি এরকম বড় কিছু ভাবতে পারত, তবে তো সবাই আবিষ্কারক হয়ে যেত। যাক গিয়ে, এবারে এমন কিছু একটা আবিষ্কার করতে হবে, যাতে বাড়ির কোনও জিনিষে হাত দিতে না হয়। আর বড় হয়ে গেলে তো ঐরকম নেলপালিশ রিমুভার এক বাক্স এনে দিদির চোখের সামনে রেখে দেব, একটাও দেব না। তখন ভাই-ভাই করতে এলে...

তো যাইহোক, সে বহুকাল আগের ঘটনা। পোস্টের সঙ্গে দেওয়া ছবির সাথে এই ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষ যোগাযোগও নেই। কিন্তু তবুও আজ হাজার বছরের প্রাচীন এক বিস্মৃত বৌদ্ধ মঠের ধ্বংসস্তূপে ভগবান বুদ্ধের এই মূর্তিটি খুঁজে পেয়ে কেন জানিনা সেই কোন ছোটবেলার কথাই মনে পড়ল। মনে হল, আজ আমি সত্যি সত্যিই এমন কিছু "আবিষ্কার" করেছি, যার খবর এই পৃথিবীর আর কেউ এখনও পর্যন্ত জানে না। একদম রিয়েল আবিষ্কার। যদিও এর মধ্যে আমার বিশেষ কৃতিত্ব নেই, ভগবান নিজেই এখানে পথ দেখিয়ে নিয়ে এসেছেন, আমি তাঁকে অনুসরণ করেছি মাত্র। কিন্তু তাঁর ভরসার পাত্র যে হতে পেরেছি, এটা ভেবেই আমি আনন্দিত। আর তাঁর ভরসার পাত্র হবার জন্য যে নিজস্ব পন্থা আমি অনুসরণ করি, সেটা অবশ্যই আমার নিজের আবিষ্কার। তো সেই হিসাবে আমিও তো একজন আবিষ্কারকই হলাম, না কি? 😊

ওড়িশার মন্দিরের শিলালিপিতে বাংলার মত অক্ষরে লেখা হাজার বছরের প্রাচীন কবিতা ! আমি তো পুরোটা পড়েছি 😃 জানেন কি লেখা রয়েছ...
19/09/2026

ওড়িশার মন্দিরের শিলালিপিতে বাংলার মত অক্ষরে লেখা হাজার বছরের প্রাচীন কবিতা ! আমি তো পুরোটা পড়েছি 😃 জানেন কি লেখা রয়েছে এখানে?

ওড়িশার গঙ্গ রাজবংশের রাজা দ্বিতীয় অনঙ্গভীমদেব দ্বাদশ শতাব্দীতে, অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ৯০০ বছর পূর্ব্বে ওড়িশার কটকের দক্ষিণতম প্রান্তে, প্রাচী নদীর তীরে অবস্থিত নিয়ালি নামক এক গ্রামে ভগবান শিব ও বিষ্ণুর মিলিত রূপ হরিহরের একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন ও মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবতার নাম রাখেন "শোভনেশ্বর"। কলিঙ্গরীতির মন্দিরটি ওড়িশার অন্যান্য মন্দিরের মতোই অসাধারন শিল্পকর্মসমন্বিত, তবে এর মূল আকর্ষন হল একটি শিলালিপি যা মন্দিরের জগমোহনে প্রবেশপথের বাঁদিকের দেওয়ালে প্রোথিত আছে। প্রাচীন ঔড্র-মাগধি হরফে লিখিত লিপিটির কিছু কিছু অক্ষর অবিকল বাংলা অক্ষরের মত দেখতে, যা কষ্টমষ্ট করে হলেও বেশ পড়ে ফেলা যায়। আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে লিপির ২৬ টি লাইনের মধ্যে ৬ টি লাইন ছবির ওপরের দিকে হলুদ তীরচিহ্ন দিয়ে জুম্ করে দেখানো হল। এই ৬ টি লাইন আমরা এখন পড়ে দেখব, আর তার মানেও বোঝার চেষ্টা করব। আপনি রেডি তো? তবে চলুন শুরু করা যাক।

প্রথমেই উল্লেখ করতে চাই, মন্দিরটি রাজা দ্বিতীয় অনঙ্গভীমদেব প্রতিষ্ঠা করলেও, লিপিটি কিন্তু অনঙ্গভীমদেবের নয়। গঙ্গ রাজবংশের সময়কালের একজন সামন্ত রাজা, নাগবংশীয় বৈদ্যনাথ এই লিপিটি মন্দিরগাত্রে প্রোথিত করেছেন। সম্ভবত রাজা বৈদ্যনাথ এই মন্দিরটি সংস্কার ও পরিবর্ধন করেছিলেন। লিপিতে ২৬ লাইনের কবিতায় শোভনেশ্বর শিবমন্দির ও তার প্রতিষ্ঠাতা রাজার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। লিপির অক্ষর প্রাচীন ঔড্র-মাগধি, ভাষা সংস্কৃত। ইতিহাস গবেষক সত্যনারায়ন রাজগুরুর লেখা "ইনস্ক্রিপশনস্ অফ ওড়িশা" বইয়ে শোভনেশ্বর মন্দিরের শিলালিপির সম্পূর্ণ অনুবাদটি পাওয়া যায়।

লিপিতে যা বলা হয়েছে, তার মর্মার্থ হল; উৎকলদেশে নিয়ালি শাসনে স্বয়ংসিদ্ধ ভগবান শিব বিরাজমান; যিনি বিশ্বজুড়ে শোভনেশ্বর নামে পরিচিত। তিনি সকল দেবতার মধ্যমণি। তাঁর পদ্মফুলের ন্যায় চরণযুগলে নীলপদ্মে বসা ভ্রমরেরা ওড়াউড়ি করে। তাঁর পরম ভক্ত মহান রাজা বৈদনাথ এই সুউচ্চ মন্দির ভগবানের শ্রীচরণে সমর্পন করলেন। অনেক পুণ্যকর্মের ফলস্বরূপ নাগবংশীয় রাজা শ্রীজ বৈদ্যনাথের জন্ম হয়। যিনি মন্দার পর্বতের চাইতেও বৃহত্তর হস্তে অসংখ্য যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষিপ্রতার সঙ্গে বিচরন করেন। যদিও সমুদ্র থেকে উদ্ভুত অগ্নি সমুদ্রকে শুকিয়ে দেয়, তবে পরম আশ্চর্য, মহান বৈদ্যনাথের শক্তি ও সামর্থ্যের অগ্নি, তাঁর হাতে নিহত অসংখ্য শত্রুর পত্নীদের অশ্রুবিন্দু দ্বারা সেই সমুদ্রের আয়তন কেবল বৃদ্ধিই করেছে। ভগবান তাঁকে অনন্ত জীবন দান করুন, ইত্যাদি

তো যাইহোক, এবারে আসুন লিপির ৬ লাইন আমরা নিজেরাই পড়ে দেখি, এখানে কি লেখা আছে। লেখাগুলি অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে নিতে হলে আপনাকে ছবিটি জুম্ করে ওপরের দিকে তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো অংশটি দেখতে হবে। এখানে লিপির ১৩ নং লাইন থেকে ১৮ নং লাইন পর্যন্ত আছে।

প্রথম লাইন:
কিম্ মেরুঃ কিম্ হিমাদ্রিঃ কিমু চরমগিরিঃ কিন্নু কৈলাসশৈলঃ কিম্ বিন্ধ্যঃ কিম্ মহেন্দ্রঃ কিমু নিভধরহঃ কিম্ স পূর্বাচলে বা। ইত্যম মর্ষন্তি হর্ষত পথি পথিজনায়ম্ সুদূরা।।

দ্বিতীয় লাইন:
দুদারঃ প্রাসাদঃ সোয়মত্র ত্রিপুরবিজয়িনস্তস্যতেন প্রচক্র।। অস্মিন পুণ্যবৎ বিনির্মিততনৌ প্রবতকরৌর্দানিনা বিশ্বোতর্পায়তা মহোন্নতিভৃতঃ কেবানভূম।।

প্রথম দুই লাইনের বঙ্গানুবাদ:
রাস্তায় চলাচলকারী পথিকেরা দূর থেকে ত্রিভুবনজয়ী ভগবান শিবের এই বিশাল মন্দিরটি দেখে একে মেরু পর্বত, হিমালয়, কৈলাশ, বিন্ধ্যপর্বত, মহেন্দ্রগিরি কিংবা উদয়াচলের সাথে তুলনা করে থাকেন। কিন্তু বিশ্বজয়ী, ধর্মপ্রান ও দানশীল রাজা নির্মিত এই সুউচ্চ মন্দিরের সাথে পৃথিবীর কোনও পর্বতেরই তুলনা করা চলে না।

তৃতীয় লাইন:
মন্ডলা শৈলাঃ কেবলমেব্ তঙ্গিতশিরোভাগাঃ পরম্ খিবিন্তাঃ ত্বেষ্ রোহনপর্বিতো থি ত্বম গমনাভবত্বপুনশ্চন্নতঃ কনক কলশ মৌলিন্যস্তবিম্ম মৃগাঙ্ক স্ফুরতি।।

চতুর্থ লাইন:
রজনীমাধ্য কল্পয়াত্বেষ্ লোকঃ। স্ফটিকঘটিতয়াত্রা সত্কদুর্বাপ্রবালেঃ শিবগৃহমি হ দেবাদাতুমর্চ্চ প্রভ্রুত্তাঃ স্মরণম স্মরণম চিরবিরহিতাম্ পার্ব্বতীমঙ্গদিয়া

মাঝের দুই লাইনের বঙ্গানুবাদ:
রাত্রিবেলায় যখন মন্দিরের পর্বতসম উঁচু চূড়ার সোনালী কলসের গায়ে চাঁদের ছায়া পড়ে, তখন লোকেরা মনে করে দেবতারা যেন সেখানে স্ফটিক, দুর্বাঘাস ও প্রবাল দিয়ে ভগবান শিবের আরাধনায় মগ্ন হয়েছেন। যিনি দেবী পার্ব্বতীর সঙ্গে দীর্ঘ বিরহের কালে ক্রমাগত তাঁকে স্মরণ করে চলেছেন।

পঞ্চম লাইন:
ন্নানারত্ন স্ফুরিতবলয়াম্ লম্বমানালকান্তাম্। রম্যাদস্মাদ্বিতত্ তুহিনমস্তাম সোনুনেতু কৈলাসাদ্রিমভ্রজতি যদি বা বারামেকম্ কদাচিৎ আনন্দে।

ষষ্ঠ লাইন:
কনিকেতনম্ নয়নায়ৌশ্চিত্তোঙ্কুরণমিলন স্ফায়তসান্দ্রসুধেকধামরসনাস্তোত্রক পাত্রম ভুবিঃ সত্যম নাম যদস্থি বিশ্বভুবনে তন্মন্দিরম্ শ্রাম্যতাম্ পন্থনম শ্র।।

শেষ দুই লাইনের বঙ্গানুবাদ:
নানারকম রত্নখচিত অলঙ্কারে শোভিত দেবী পার্ব্বতীর ললাট দীর্ঘ কেশরাশি দ্বারা সুশোভিত। ভগবান শিব তা দেখে ভাবছেন, তিনি কিভাবে এই সুন্দর মন্দির ছেড়ে কৈলাস পর্বতে গিয়ে দেবীর সঙ্গে একান্তে আনন্দময় সময় কাটাতে পারবেন? এটা তো কঠিন ব্যাপার।
এটি এমন এক স্থান যা নয়নের পরম তৃপ্তি ও আনন্দের আধার, অমৃতের একমাত্র ভান্ডার, বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত এবং পথিকদের কাছে শীতলতার মূর্ত প্রতীক।

তো এই হল লিপির ৬ লাইনের অর্থ। এই কয়টি লাইন অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে পড়তে গিয়ে আমার অবস্থা রীতিমতো খারাপ, তবে মোটামুটি পড়তে পেরে খুব আনন্দ পেয়েছি। পড়েটড়ে একটা বিষয় মনে হয়েছে, এই লিপিটি সংস্কৃতে লেখা না হয়ে বাংলায় লেখা হলে ২৬ লাইনের জায়গায় ১০ লাইনেই এখানে যা লেখা আছে তা বোঝানো হয়ে যেত 😁 তবে সংস্কৃত অনেক বেশি শ্রুতিমধুর, বাংলা তার ধারেকাছেও আসবে না। লিপিতে ব্যবহৃত প্রাচীন ঔড্র-মাগধি হরফের সঙ্গে বাংলা হরফের সামঞ্জস্য দেখে বিস্মিত হয়েছি। এই অক্ষর এখনও কোথাও ব্যবহৃত হয় কিনা, জানবার ইচ্ছা রইল, তবে যতদূর সম্ভব এগুলি এখন এক্সটিংক্ট হয়ে গিয়েছে। এই লিপিটি ভাঙা ভাঙা পড়তে পেরে এক্সাইটমেন্ট বেড়ে গিয়েছে। মনে হচ্ছে, যদি পালি ভাষা অল্প অল্প শিখতে পারি, তাহলে এরকম অনেক শিলালিপি নিজেই পড়ে ফেলতে পারব। কারন ওড়িশায় পালি ভাষায় লেখা শিলালিপি অনেক জায়গায় দেখেছি। সেগুলিতে হাত বুলিয়ে আসি, কিন্তু পড়তে পারিনা বলে মনে অনেক দুঃখ হয় 🥲

এক অতি প্রাচীন শিবমন্দিরের ভিতরে রক্ষিত পার্শ্ব দেবদেবীদের মূর্তি। ওপরের দিক থেকে ক্লক ওয়াইজ দেখলে, এখানে ভগবান গণেশ, ব...
17/09/2026

এক অতি প্রাচীন শিবমন্দিরের ভিতরে রক্ষিত পার্শ্ব দেবদেবীদের মূর্তি। ওপরের দিক থেকে ক্লক ওয়াইজ দেখলে, এখানে ভগবান গণেশ, বিষ্ণুদেব, দেবী মারীচি ও নীচের প্যানেলে দেবী বারাহী, বৈষ্ণবী, কৌমারী, মাহেশ্বরী ও দেবী ব্রহ্মাণীর মূর্তি রয়েছে।

নীচের প্যানেলের পাঁচজন পঞ্চমাতৃকা নামে পরিচিত। খেয়াল করে দেখুন, পাঁচজনের মাথায় পাঁচরকমের মুকুট বা কিরীট রয়েছে এবং পাঁচজনের কোলেই একটি করে শিশু। একেবারে বাঁদিকে রয়েছেন দেবী ব্রহ্মাণী। ইনি ভগবান ব্রহ্মার শক্তিরূপ। ব্রহ্মার মতই এনার দেখুন তিনটি মাথা রয়েছে ও পায়ের কাছে বাহন রয়েছে হাঁস। দেবী ব্রহ্মাণীর পাশে রয়েছেন দেবী মাহেশ্বরী। ইনি ভগবান শিবের শক্তিরূপ। দেবীর হাতের ত্রিশুলটি ভেঙে গেলেও মনে হচ্ছে দেবীর কোলে নাদাপেট গণেশবাবু বসে আছেন ও দেবীর পায়ের কাছে বসে রয়েছে দেবীর বাহন নন্দী।

দেবী মাহেশ্বরীর পাশে রয়েছেন দেবী কৌমারী। ইনি ভগবান কার্তিকের শক্তি। দেবীর হাতে রয়েছে ভেল নামক অস্ত্র, পায়ের কাছে খেলে বেড়াচ্ছে বাহন ময়ূর। দেবী কৌমারীর পাশে রয়েছেন দেবী বৈষ্ণবী। দেবী স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর শক্তিরূপ। দেবীর হাতে রয়েছে শঙ্খ-চক্র, পায়ের কাছে হাতজোড় করে হাঁটু মুড়ে বসে আছে বাহন গরুড়। দেবীর বৈষ্ণবীর পাশে বসে থাকা, একদম ডানদিকের শেষের জন হলেন দেবী বারাহী। স্বাস্থ্যবতী দেবীকে আর সবার থেকে আলাদা করে চেনা যায় তাঁর চুলের জন্য। ভারতের যেখানেই দেবী বারাহীর মূর্তি দেখতে পাবেন, দেবীর মাথার চুল ভাল করে খেয়াল করে দেখবেন। এমন ইউনিক স্প্রিংয়ের মতো প্যাঁচানো চুল আমি আর কোনও দেবদেবীর মাথায় দেখিনি।

ইন্টারেস্টিংলি, পঞ্চমাতৃকা প্যানেলের উপরে ডানদিকে রয়েছে দেবী মারীচির মূর্তি। ইনি মূলত একজন বৌদ্ধ দেবী। তাঁর নামের উৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ "মারীচ" থেকে, যার অর্থ হল আলোর রশ্মি। দেবীর তিনটি মুখ, যার একটি বরাহের মত। প্রাচীন বাংলা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এককালে দেবী মারীচির উপাসনা অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।

Address

Kolkata

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Temples with Atanu posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Temples with Atanu:

Shortcuts

Share

Category