Temples with Atanu

Temples with Atanu Exploring the World's Most Spectacular Temples!
(2)

ইনি হলেন বাঁকা বাবা। ভাল নাম কখনও জিজ্ঞাসা করবার সুযোগই পাইনি। আর কখনও জিজ্ঞাসা করা হবেও না 🥲 কেন জানেন?কটকের খুব কাছে, ...
14/08/2026

ইনি হলেন বাঁকা বাবা। ভাল নাম কখনও জিজ্ঞাসা করবার সুযোগই পাইনি। আর কখনও জিজ্ঞাসা করা হবেও না 🥲 কেন জানেন?

কটকের খুব কাছে, মহানদীর তীরে নারাজ নামে একটি জায়গা আছে। সেখানে নির্জন, অনুচ্চ এবং প্রায় অগম্য একটি পাহাড়ের চূড়ায় "আড়েই অক্ষর" নামে এক প্রত্নক্ষেত্রের অবস্থান। সেখানে একটি বিশাল প্রস্তরখন্ডে কিছু অদ্ভুত ভাষ্কর্য খোদাই করা আছে, আর রয়েছে একটি অসমাপ্ত শিলালিপি। ভাষ্কর্যটি দেখে আমার মনে হয়েছে, এক ব্যক্তি হাতে খুন্তি নিয়ে একটি বিশাল কড়াইয়ে কিছু রান্না করছে, আর তার পাশে আরেকজন দাঁড়িয়ে উল্টোদিকে তাকিয়ে রয়েছে। রাঁধুনী এবং উল্টোদিকে তাকিয়ে থাকা ব্যক্তির মুখ এবং শরীরের অভিব্যক্তি দেখে মনে হচ্ছে, যেন তারা কাউকে বলছে "আরে, জলদি চাল-ডাল নিয়ে এসো, কড়াই পুড়ে গেল তো!"। এই ভাস্কর্য এখনও সেভাবে সরকারি নজরে আসেনি, তাই এর সম্পর্কে কোনও নির্ভরযোগ্য বিবরণও কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না।

তো যাইহোক, এই পাহাড়ের নীচে থেকে শুরু করে ওপর পর্যন্ত অনেক সাধু-সন্তদের সমাধি রয়েছে। এক-একটি সমাধি এক-এক রকম। কোথাও সমাধির ওপরে সুন্দর একটি তুলসিমঞ্চ, কোথাও সেই সমাধিতে শায়িত সাধুবাবার পাথরের মূর্তি, কোথাও ওবেলিস্কের মত একটি লম্বাটে পাথর বসিয়ে রাখা, কোথাও আবার সাধারণ একটি চৌকোনো বেদি।

এইসব সমাধি দেখতে দেখতে নির্জন পাহাড়ের ওপরে উঠে দেখি, সেখানে একটি মন্দির ও সাধুদের একটি ছোট্ট আশ্রম রয়েছে। "আশ্রম" বলতে আমরা যে কোটিপতি সাধুদের বিলাসবহুল থাকার জায়গা ভাবি, এই আশ্রম কিন্তু সেই আশ্রম নয়। এখানে দেখি ছোট খুপচি দুই কামরার আশ্রমে দু'জন সাধু, একটি ষাঁড় আর একটি কুকুর থাকে। সাধুবাবাদের সঙ্গে পরিচয় হলে জানলাম, তাঁদের গুরুদেব এই পাহাড়ে তপস্যারত অবস্থায় অমৃতলোকে গমন করলে, তাঁর অনুগামীরা গুরুদেবকে সেখানেই সমাধিস্থ করে, তার ওপরে একটি সমাধিমন্দির বানিয়ে দেন। আর এই দুইজন সাধু তাঁদের গুরুদেব জীবিত থাকাকালীন এখানে থেকে তাঁর সেবা করতেন, তিনি মারা যাবার পর গুরুদেবের সমাধিমন্দিরের সেবাকার্যকেই গুরুসেবা জ্ঞানে এখনও পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। গুরুদেবের শিষ্যরা পালা করে এই দুইজন সাধুর জন্য যৎসামান্য চাল-আটা-শাকসব্জী দিয়ে যান। তাই দিয়ে এই নির্জন পাহাড়ের চূড়ায় দুই বৃদ্ধ সাধুর ক্ষুন্নিবৃত্তি হয়। আর কটকের এত কাছে হয়েও সেই জায়গা এমনই অগম্য যা ভাবলেই আশ্চর্য হতে হয়। শুকনো সময়েই সেখানে পৌঁছতে আমার অবস্থা খারাপ, বর্ষাকালে ঐ পথে গেলে যে কনফার্ম পা পিছলে মহানদীতে গিয়ে পড়তে হবে, সেই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। মোটকথা ঐ দূর্গম স্থানে শিষ্যদের রেশন না আসলে সাধু দুজনের অনাহার ছাড়া গত্যন্তর নেই সেটা বোঝাই যায়।

দু'জন সাধুই খুব ভাল। তাঁদের মধ্যে একজন আবার একটু বস্ টাইপের। বুঝলাম, ইনিই মেইন সবকিছু দেখভাল করেন আশ্রমের। কথায় কথায় জানলাম তাঁর নাম "বাঁকে বাবা"। বাঁকে বাবার সঙ্গে কিছুক্ষনের মধ্যেই আলাপ জমে উঠল। বাঁকে বাবা আশ্রমের সবকিছু ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখালেন। পাহাড় দিয়ে ঘেরা তাঁদের যজ্ঞ করবার জায়গা, তাঁর গুরুদেবের সমাধিমন্দির, পাহাড়ের খোঁদলে তাঁদের প্রাকৃতিক জলাধার ইত্যাদি।

সব ঘুরে দেখা শেষ হলে বাঁকে বাবা ঘরে গিয়ে বসলেন। আমি দরজার চৌকাঠে বসাতে, তিনি ইশারায় বললেন চৌকাঠে বোসো না, ঘরে এসে বসো। ইতস্তত করে ঘরে গিয়ে তাঁর পাশে বসলাম। জিজ্ঞাসা করলাম, এই পাহাড়ে এত সাধু-সন্তদের সমাধি কেন? তিনি বললেন, এই পাহাড় অত্যন্ত পবিত্র স্থান, তপস্যার উপযুক্ত, তাই। বললাম, কেন পবিত্র? কি বৈশিষ্ট্য এই পাহাড়ের? বাঁকা বাবা হেসে বললেন, সবকিছু আজকেই জেনে ফেলতে চাও? ডিসেম্বর মাসে আমাদের উৎসব আছে, তখন এসো। সারারাত যজ্ঞ হবে, প্রসাদ খাওয়া হবে, তোমার ভাল লাগবে, আর তখন তুমি আসলে আমাদেরও ভাল লাগবে। উৎসাহিত হয়ে বললাম, নিশ্চয়ই আসব। তাঁর ফোন নাম্বারও নিয়ে রাখলাম। আরও অনেক গল্পগুজব শেষে বাঁকা বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। মনে খুব উৎসাহ ছিল যে ডিসেম্বর মাসে পাক্কা যাব বাঁকা বাবার আশ্রমে।

এগুলো হল চার-পাঁচ মাসের আগের ঘটনা। রিসেন্টলি কি মনে হল, বাঁকা বাবাকে ফোন করেছিলাম। বাঁকা বাবা ফোন ধরেননি, অন্যজন ধরেছিলেন। তিনি যে কথাটা বললেন, শুনে হৃৎস্পন্দন যেন ক্ষনিকের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। বাঁকা বাবা নাকি আর নেই। তিনি সপ্তাহখানেক আগে রাতের বেলা ঘুমের মধ্যেই মারা গিয়েছেন। সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন, রাতে খেয়ে শুয়েছিলেন, সকালে অনেক বেলাতেও না ওঠায় দ্বিতীয়জন ডাকতে গিয়ে দেখে বাঁকা বাবা তাঁর অজান্তেই রাতের বেলায় কখন জানি অমৃতলোকের পথে পাড়ি দিয়েছেন।

মনটা এত খারাপ হল এই দুঃসংবাদ শুনে, যা বলবার মত নয়। বাঁকা বাবার সঙ্গে তোলা পুরোনো ছবি-ভিডিওগুলি দেখে চোখে জল চলে এল। মনে হল, মানুষের জীবন সত্যিই এত ঠুনকো? ডিসেম্বর আসতে আর মাত্র তিনমাস বাকি ছিল, কিন্তু বাঁকা বাবা সেই সময়টুকুও পেলেন না! তাঁর সঙ্গে আমার মাত্র কয়েকঘন্টার পরিচয়, অথচ সেই সংক্ষিপ্ত পরিচয় মনে এত গভীর প্রভাব ফেলে গিয়েছিল, যা মানুষের সঙ্গে বহুকালের পরিচয়েও হয় না। আসলেই তাঁকে আমার খুব ভাল লেগে গিয়েছিল। আর আমি জানি, ভাল মানুষেরা বেশিদিন বাঁচে না 😔

ঠিক করেছি, ডিসেম্বরে বাঁকা বাবার আশ্রমে যাব। বাঁকা বাবাকে কোথায় সমাধি দিয়েছে, দেখে আসব। আর আমার তোলা বাঁকা বাবার একটি ছবি সুন্দর ফ্রেমে বাঁধিয়ে আশ্রমে দিয়ে আসব। গুরুর সমাধিমন্দিরের এককোনে শিষ্যও না হয় থাকবেন স্মৃতি হয়ে। আর আমি জানি বাঁকা বাবা যেখানেই থাকুন না কেন, আমি সেখানে গেলে তিনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন এবং খুব-খুব খুশি হবেন।

ছোটবেলায় দিদার সঙ্গে যখন বিভিন্ন মঠে-মন্দিরে ঘুরে বেড়াতাম, দেখতাম সেখানে ছবি আঁকা থাকত বা মূর্তি থাকত যে উদ্বাহু শ্রীচ...
12/08/2026

ছোটবেলায় দিদার সঙ্গে যখন বিভিন্ন মঠে-মন্দিরে ঘুরে বেড়াতাম, দেখতাম সেখানে ছবি আঁকা থাকত বা মূর্তি থাকত যে উদ্বাহু শ্রীচৈতন্যদেব কৃষ্ণনামে বিভোর হয়ে জঙ্গলের পথে চলেছেন আর তাঁর আশেপাশে বাঘ-ভাল্লুক-হাতি-হরিণ-ময়ূর-সহ জঙ্গলের সব জন্তুরা দুই পায়ে খাড়া হয়ে নাচ করছে। খুব আশ্চর্য হতাম এই দৃশ্য দেখে। দিদাকে জিজ্ঞাসা করলে বলতেন, মহাপ্রভু যখন ঝারিখন্ডের গহীন জঙ্গলে ঢুকেছিলেন তখন হিংস্র জন্তুরাও তাঁর দিব্যরূপ দেখে আর কৃষ্ণনাম শুনে আক্রমণ ভুলে নাচতে শুরু করেছিল, এখানে সেই দৃশ্যই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ভাবতাম, আরে বাঃ! দারুণ তো! তবে বড় হয়ে ঝারিখন্ডের ওই জঙ্গলপথে একদিন আমিও যাব। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব যে পথে গিয়েছিলেন, ঠিক সেই পথেই যাব। যদিও তখন জানতাম না সেই কথিত "ঝারিখন্ড" ঠিক কোনদিকে, কিন্তু শিশুমন কি আর অত তলিয়ে ভাবে? সে তো আপন ভাবনাতেই আনন্দে আত্মহারা।

এরপর কত সময় চলে গেল, কতকিছু বদলে গেল। দিদার হাত ধরে মন্দিরে ঘুরে বেড়ানোর সোনালী শৈশবের দিনগুলি কবে জানি অজান্তেই ধূসর হয়ে স্মৃতির পাতায় জমা পড়ে গেল। একদিন সকালে ঠকঠক শব্দ শুনে দরজা খুলে দেখি প্রৌঢ়ত্ব এসে হাসিমুখে বলছে "মে আই কাম ইন স্যার?" তার হাতে আবার দেখি একগোছা পাকা চুল আর দাড়ি। অবাক হয়ে বললাম, এসব কি ব্যাপার? সে দেঁতো হেসে বললে, স্যার, আপনার জন্য গিফট্। এমন রাগ হল হতচ্ছাড়ার ওপর যে কি আর বলি।

তবে রাগ করে আর কি হবে, ব্যাপারটা তো ততক্ষনে বুঝেই ফেলেছি। কেলো করেছে! এ তো মনে হচ্ছে বুড়ো হয়ে যাচ্ছি! আর কতদিন বাঁচব? ৩০ বছর, ৪০ বছর? তারমধ্যে আবার মরার আগে শয্যাশায়ী থাকতে হবে ১০ বছর, সেইসময় ঘোরাঘুরি করা যাবে না। তারমানে কেটেছেঁটে দাঁড়াচ্ছে, আমার হাতে আর মোটামুটি ২০-২৫ বছর সময় আছে সুস্থসবলভাবে বেঁচে থাকার মত। কিন্তু এই যে এত মন্দির দেখা বাকি রয়ে গেল, তার কি হবে? আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ তো ছেড়েই দিলাম, এ তো দেখছি ভারতবর্ষের সব মন্দির দেখার আগেই পঞ্চত্বপ্রাপ্তি ঘটবে 😥 কি হবে তাহলে?

অনেক ভেবে ঠিক করলাম, প্রায়োরিটি অনুযায়ী একটা তালিকা বানাতে হবে। সেই লিস্ট ধরে ধরে এবারে মন্দিরে ঘুরব। হাতে সময় কম, দেখা বাকি রয়েছে বহু মন্দির। মনুষ্য জন্ম দুর্লভ। এর পরের জন্মে কুকুর না ছাগল কি হয়ে জন্মাই, তার নেই ঠিক। তখন কেঁদে কূল পাওয়া যাবে না। তার চাইতে এই জন্মের বেস্ট এফোর্টস দিয়ে আমি যত বেশী সম্ভব মন্দির দেখে যেতে চাই। যাতে স্বর্গে গেলে যে কোনো দেবদেবীকে দেখে বলতে পারি, "আরে! আপনি অমুক না? তমুক পাহাড়ের মাথায় আপনার জঙ্গলে ঢাকা মূর্তি আমি দেখেছি। প্রণাম নেবেন।" সেই দেবদেবীরাও শুনে ভাববেন, বাঃ ছেলেটা তো খুব ভাল। আচ্ছা, দেখি ওর হয়ে সুপারিশ করে, যাতে পরের জন্মে ওকে কুকুর বা ছাগল না বানানো হয়। তারপরে আমি তাঁদের আশীর্বাদে আবার মানুষ হয়ে জন্মাব, আর এবারে যত মন্দির দেখা বাকি থাকবে, সেগুলি সেবারে তাড়াতাড়ি দেখে শেষ করব 😁

যাইহোক, আমরা আবার ঝারিখন্ডের জঙ্গলে ফিরছি, কারণ, চৈতন্য মহাপ্রভুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে সেই জঙ্গলে ঢুকবার ইচ্ছাটাও আমার প্রায়োরিটি লিস্টে বহুদিন থেকেই ছিল।

"বন দেখি ভ্রম হয় এই বৃন্দাবন।
শৈল দেখি মানে প্রভু এই গোবর্দ্ধন।।
যাহা নদী দেখে তাহা মানয়ে কালিন্দী।
তাহা নাচে গায় প্রেমাবেশে পড়ি কান্দি।।"

আজ থেকে প্রায় ৫১৫ বছর পূর্ব্বে, মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব যখন নীলাচল পুরী থেকে পদব্রজে ঝাড়খন্ডের বিস্তীর্ন বনভূমি অতিক্রম করে বৃন্দাবনের পথে গিয়েছিলেন, তখন সেখানকার নৈসর্গিক দৃশ্য দেখে চৈতন্যদেবের মনের অবস্থা এমনটাই হয়েছিল বলে কৃষ্ণদাস কবিরাজ তাঁর শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থে লিখেছেন।

পুরীতে অবস্থানকালে শ্রীচৈতন্যদেব একবার ঠিক করেছিলেন তিনি বৃন্দাবন যাবেন। নীলাচলবাসী ভক্তেরা চাইছিলেন না মহাপ্রভু পুরী ছেড়ে যান, তাই তাঁরা তাঁকে না যেতে দেওয়ার জন্য অনেক কৌশল অবলম্বন করলেন, পুরীর রাজা প্রতাপাদিত্যও অনেক চেষ্টা করলেন, কিন্তু বিফল মনোরথ হয়ে তাঁরা চৈতন্যদেবকে অনুরোধ করলেন আসন্ন রথযাত্রা উৎসবের পরেই বৃন্দাবনের পথে রওনা হতে।

রথযাত্রা শেষ হলে এক বর্ষাকালে (ঠিক এইরকম সময়ে) মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব, বলভদ্র ভট্টাচার্য নামক এক গৌড়ীয় ভক্ত ও একজন মালবাহক, কটক ডানদিকে রেখে ঝাড়খন্ডের বনপথ ধরে বৃন্দাবনের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। ঝাড়খন্ডের বিস্তীর্ন বনভূমি সেই আমলে জনমানবশুন্য, শ্বাপদসঙ্কুল ও অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল। যাত্রাপথে বাঘ-হাতি-সাপ-বন্যশূকর-সহ বিভিন্ন হিংস্র জন্তু দেখে বলভদ্র ভয় পেলেও শ্রীচৈতন্যদেব নির্ভয়ে কৃষ্ণনাম করতে করতে তাদের মধ্যে দিয়েই পথ চলতে থাকলেন। বলভদ্র অবাক হয়ে দেখলেন, বন্য জন্তুরা আক্রমণ না করে, সরে গিয়ে তাঁদের পথ করে দিতে লাগল। একদিন রাস্তায় শুয়ে থাকা এক কেঁদো বাঘের গায়ে মহাপ্রভুর পা লেগে গেলে, সেই বাঘ আক্রমণ করতে উদ্যত হল। মহাপ্রভু তাকে "বলো কৃষ্ণ" বলতেই সেই বাঘ দুই পায়ে দাঁড়িয়ে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে নৃত্য করতে লাগল। মহাপ্রভু একবার নদীতে স্নান করছেন, এমন সময় একপাল মত্ত হাতি সেখানে এসে হাজির হল। তিনি "কৃষ্ণ কহ" বলে সেই হাতিদের উপর জল ছিটিয়ে দিতেই বুনো হাতির দল কৃষ্ণপ্রেমে মাতোয়ারা হয়ে শুঁড় দুলিয়ে নাচতে শুরু করল। মহাপ্রভুর সুললিত কন্ঠের কৃষ্ণনাম শুনে বনময়ূরেরা পেখম তুলে নাচতে লাগল, অগণিত পাখ-পাখালি কলরব করতে করতে তাঁদের ঘিরে উড়তে লাগল, নিরীহ হরিণের দল নির্ভয়ে হিংস্র বাঘেদের সামনেই আনন্দনৃত্য করতে লাগল। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব ঝারিখন্ডের সেই গহীন জঙ্গলের সকল জীবকে কৃষ্ণপ্রেমে একেবারে যেন উন্মাদ করে তুললেন।

পথ চলতে চলতে মহাপ্রভু ঝারিখন্ডের গভীর অরণ্য দেখে কখনও মনে করেন তিনি বৃন্দাবনেই চলে এসেছেন। কখনও পাহাড় দেখে মনে করেন, এই বোধহয় গিরি গোবর্দ্ধন। আবার কখনও পাহাড়ি নদী দেখে ভাবেন, এই নদী নিশ্চয়ই কালিন্দী। তিনি ঝারিখন্ডের এইসব স্থানের সঙ্গে প্রেমের আবেশে জড়িয়ে পড়েন। যাত্রাপথে বলভদ্র জঙ্গলের রাস্তার ধারে শাকপাতা, ফলমূল যা দেখেন, সঙ্গের ঝোলায় সেগুলি নিজেদের খাদ্য হিসাবে সংগ্রহ করেন। যে গ্রামে দু-চারজন ব্রাহ্মণের বাস, তারা দুধ-ঘি মহাপ্রভুকে উপহার দেন। যেখানে ব্রাহ্মণ নেই, সেখানকার শূদ্র ভক্তেরা চাল-ডাল রান্নার জন্য দেন, বলভদ্র সেগুলি ফুটিয়ে শালগ্রাম শিলারূপী নারায়ণকে ভোগ দিয়ে নিজেরা আহার করেন। মহাপ্রভু সোনা হেন মুখ করে অমৃততুল্য সেই প্রসাদ পরম আদরে গ্রহণ করেন। এই কঠিন পদযাত্রাতেও তাঁর চোখেমুখে কষ্ট বা ক্লান্তির কোনও ছাপ দেখা যায় না। তিনি যেন সর্বদাই এক দিব্য ভাব ও আবেশে আচ্ছন্ন।

ঝারিখন্ডের এই বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে তখন ভয়ানক নরঘাতক বন্য দস্যুদের বসবাস ছিল। একদিন মহাপ্রভু সেই দস্যুদলের সামনে পড়লেন। জপমালা হাতে ঊর্ধ্ববাহু হয়ে মধুর কন্ঠে হরিনাম করতে থাকা মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের অনিন্দ্যসুন্দর দিব্যমূর্তি দেখে দস্যুদল ভক্তিবিহ্বল হয়ে পড়ল। তারা দলে দলে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে মহাপ্রভুর শ্রীচরণে লুটিয়ে পড়ে পদধূলি নিতে লাগল। তারা মহাপ্রভুর সাথে কন্ঠ মিলিয়ে হরিনাম করতে লাগল ও নৃত্য করতে লাগল। শ্রীচৈতন্যদেবের চরণকমল স্পর্শ করে, তাঁর প্রেমময় ব্যবহারে মোহিত হয়ে ঝারিখন্ডের অসভ্য, অর্ধসভ্য বনবাসী মানুষেরা সমাজের মূলস্রোতে ফিরে এল। এরপর বনবাসী মানুষদের সহায়তায় মহাপ্রভু ঝাড়খন্ডের জঙ্গল পার করে ছোটনাগপুর, বিহার হয়ে কাশীধামে পৌঁছান, এবং সেখান থেকে বৃন্দাবন।

তো এই হল মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের ঝারিখন্ডের জঙ্গলের পথ ধরে বৃন্দাবনে যাওয়ার সংক্ষিপ্ত কাহিনী। তিনি একজ্যাক্টলি কোন পথ ধরে গিয়েছিলেন সেটা ভালভাবে না জেনেই ঝাড়খন্ডের জঙ্গলে গিয়ে ঢুকেছিলাম, আন্দাজে ঘোরাঘুরি করে চলে এসেছি। বাড়ি এসে একটা বইয়ের খোঁজ পাই, নাম হল "ঝাড়খন্ডে মহাপ্রভু"। ডঃ সুহৃদকুমার ভৌমিকের লেখা বইটি পড়ে এখন হাত কামড়াচ্ছি, ইস্! কেন এই বইটির খোঁজ আগে পেলাম না। এই বইটিতে দেখি দারুণ ম্যাপ-ট্যাপ দিয়ে ঝাড়খন্ডের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে মহাপ্রভুর যাত্রাপথ দেখানো হয়েছে। তো যাইহোক, আমিও যে একেবারেই ফালতু ঘুরে এসেছি এমন নয়। ঝারিখন্ডের সেই গহীন জঙ্গলে মহাপ্রভুর যাত্রাপথ খুঁজতে গিয়ে, না জানি কত বছরের প্রাচীন এক শিবমন্দির খুঁজে পেয়েছি। এখানে ছবি দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, কিরকম ঘন জঙ্গলের মধ্যে এই মন্দিরের অবস্থান। এই মন্দিরের কাহিনী পরে কখনও লিখব, আপাতত মাথায় শুধু শ্রীচৈতন্যদেবই ঘুরছেন।

ভাবতেই অবাক লাগে, ঝারিখন্ডের এই প্রাচীন বনভূমিতে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব এসেছিলেন, আমিও এত বছর পর তাঁর পিছুপিছু এসেছি তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে। যদিও এতদিন পার হয়ে গিয়েছে, তাই তাঁর সেই পদাঙ্ক আজ অস্পষ্ট। একারণে আমারও পথ গুলিয়ে গিয়েছিল। সুহৃদবাবুর বই পড়ে বুঝতে পেরেছি আমি ভুল পথে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমি জানি, মহাপ্রভু ঠিক কোন পথে সেই অরণ্যভূমি পার করেছিলেন। তাই ঠিক করেছি, আবার যাব দিব্যপুরুষের স্পর্শবিজড়িত সেই পথের খোঁজে। ছুঁয়ে দেখব সেই পবিত্র মাটি, যেখানে পা পড়েছে আমার খুব প্রিয় শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের।

আপাতদৃষ্টিতে এগুলি যুক্তিহীন মনে হতে পারে, তবে জগৎ-সংসারের সবকিছুই কি যুক্তি মেনে চলে? এ হল অনন্তের ডাক। যে শুনতে পেল, পেল। যে পেলনা সে পেলনা। আর একবার যদি এই ডাকে আপনি সাড়া দিয়েছেন তো ব্যস্। খেল খতম পয়সা হজম। জগৎ-সংসারের ওপর থেকে ভক্তিশ্রদ্ধা সব চলে যাবে। আমার এখনও যায়নি, তবে যাব যাব করছে। যেদিন একেবারে চলে যাবে, সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে সাধু হয়ে যাব। তারপর ঝারিখন্ডের নিভৃত অরণ্যের এক কোণে একটি ছোট্ট পাতার কুটির বানিয়ে তার মধ্যে আরামসে দিন কাটাব। বাঘ-ভালুকের ভয় যে একটু একটু করবে না, এমনটা নয়। তারা মহাপ্রভুর প্রফুল্ল বদন দেখে ছেড়ে দিয়েছিল, আমার বদন দেখে কি রিয়্যাক্ট করবে কে জানে! মরুক গিয়ে যাক, কৃষ্ণ কৃষ্ণ করতে থাকব, খেয়ে নিলে নেবে, এখন কি আর করব?

হিরাপুরের ৬৪ যোগিনী মন্দিরে অলৌকিকভাবে একমুঠো টাকা প্রাপ্তি!গতকাল বিকালে ভুবনেশ্বর শহরের উপকন্ঠে অবস্থিত হিরাপুর গ্রামের...
09/08/2026

হিরাপুরের ৬৪ যোগিনী মন্দিরে অলৌকিকভাবে একমুঠো টাকা প্রাপ্তি!

গতকাল বিকালে ভুবনেশ্বর শহরের উপকন্ঠে অবস্থিত হিরাপুর গ্রামের ১৩০০ বছরের প্রাচীন তন্ত্রচর্চ্চার কেন্দ্র, ৬৪ যোগিনী মন্দিরে ঘুরতে গিয়েছিলাম। এর আগেও এই মন্দিরে তিনবার এসেছি, এখানে একটা অন্যরকম হাই-কোয়ালিটি এনার্জি আছে, যেটা আমার খুব ভাল লাগে। কালকে প্ল্যান করে গিয়েছিলাম, সব যোগিনীদের বিশদ বর্ণনা দিয়ে একটি ভিডিও বানাব।

যথারীতি ভিডিও রেকর্ড করছি। মূর্তিগুলি নীচের দিকে অবস্থিত হওয়ায় হাঁটু গেড়ে বসে ভিডিও বানাচ্ছিলাম। মন্দিরে সেই মুহুর্তে দুইজন পুরোহিত আর গুটিকয়েক মানুষ রয়েছেন। কয়েকজন মহিলা মন্দিরের মেঝেতে বাবু হয়ে বসে ধ্যান করছেন। তখন মোটামুটি ৪০-৪৫ জন যোগিনীর ছবি তোলা হয়েছে, হঠাৎ একজন মহিলা আমাকে ডেকে বললেন, আপনার পকেট থেকে টাকা পড়ে গিয়েছে। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম তাঁর হাতে অনেকগুলো দুশো টাকা আর একশ টাকার নোট। আন্দাজে মনে হল সেখানে ৪-৫ হাজার টাকা রয়েছে। আমি জানি আমার পকেটে এত টাকা ক্যাশ নেই, শেষ কবে এত টাকা ক্যাশ পকেটে নিয়ে বেরিয়েছি তাও মনে পড়ে না। বললাম, আপনি ভুল করছেন, এগুলি আমার টাকা নয়। তিনি বললেন, না এই টাকা আপনারই। আমি এখানে অনেকক্ষন ধরে বসে আছি, সব লক্ষ্য করেছি, এই টাকা আপনার পকেট থেকেই পড়েছে।

তিনি এত জোর দিয়ে বলছিলেন যে এখন তাঁকে আর কি বলি? কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তাঁর হাত থেকে টাকাগুলো নিলাম। মনে একাধারে লোভ এবং ভয় দুটোই উদ্রেক হল। ভাবলাম, ফোকোটে পাওয়া ৫ হাজার টাকা দিয়ে ভালই ফূর্তি করা যেতে পারে, আবার মনে হল, ৬৪ জন যোগিনী পরিবৃত হয়ে, তাঁদের চোখের সামনে টাকা চুরি করলে যে পাপ হবে, সারাজীবন মন্দিরে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকলেও সেই অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত হবে না। আর না ভেবে, ইনস্ট্যান্টলি সেই একমুঠো টাকা দেবী মহামায়ার সামনে রাখা প্রণামীর থালায় দিয়ে দিলাম।

পুরোহিত দুজন এইসব ঘটনা কিছুই দেখেনি, তাই তাঁরা এতগুলো টাকা প্রণামী দিতে দেখে আমাকে না জানি কি না কি ভেবে বসলেন। তাঁরা আমাকে অনেক আশীর্বাদ করলেন, আবার আসতে বললেন, ফোন নাম্বার দিয়ে রাখলেন। আর যিনি আমার হাতে টাকাগুলি তুলে দিয়েছিলেন, মুখ দেখে বুঝলাম তিনি আমার সিদ্ধান্তে খুব খুশি হয়েছেন। আর ভেতরের লোভী মনটা দেখি তখন হেরে গিয়ে মুখটা বাংলার পাঁচের মত করে বসে রয়েছে 😄 দেখে আমার তো খুব আনন্দ হল।

02/08/2026

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর কটকের বাড়ির পারিবারিক দেবী মন্দির। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নেতাজীর পিতা, কটকের বিখ্যাত অ্যাডভোকেট জানকীনাথ বসু।

হরিয়ানার মাঠে পড়ে থাকা "বেঙ্গল এয়ার" নামের একটি ভাঙা প্লেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় নেওয়া বামফ্রন্ট সরকার ও হতভাগ্য প...
30/07/2026

হরিয়ানার মাঠে পড়ে থাকা "বেঙ্গল এয়ার" নামের একটি ভাঙা প্লেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় নেওয়া বামফ্রন্ট সরকার ও হতভাগ্য পশ্চিমবঙ্গের শিল্পসম্ভাবনা।

আজকের পোস্ট কোনও মন্দির বা ঠাকুর-দেবতা সম্পর্কিত নয়, সেটা বোধকরি ছবি দেখেই আন্দাজ করতে পারছেন। সাধারণত এই ধরনের পোস্ট করি না, কিন্তু এটা একটা এক্সেপশনাল সিনারিও ভেবে নিন। আসলে এই আশ্চর্য তথ্যটি গতকাল জানতে পেরে খুবই অবাক হয়েছি এবং অনেকটা দুঃখও পেয়েছি, একারণে ভাবলাম বিষয়টি আপনাদের সঙ্গেও শেয়ার করে নেওয়া যাক।

ফেসবুকে দিল্লীর একটা ছেলের ভিডিও দেখি। সে যত অদ্ভুত অদ্ভুত নিষিদ্ধ জায়গায় গিয়ে গোপনে ভ্লগ বানায়। যেমন ধরুন, ইন্ডিয়ান রেলওয়ের ফেলে দেওয়া, বাতিল ইঞ্জিনের স্ক্র্যাপ-ইয়ার্ড, মানসিক রোগীদের পরিত্যক্ত ভূতুড়ে হাসপাতাল, মান্ধাতার আমলে আগুন লেগে পুড়ে যাওয়া শপিং মল, মামলা-মোকদ্দমা হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া পরিত্যক্ত ওয়াটার পার্ক ইত্যাদি। সত্যি কথা বলতে, আমার এইসব উদ্ভট ভিডিও দেখতে বেশ ভালই লাগে 😁

তো যাইহোক, গতকাল দেখছি ছেলেটা হরিয়ানার সোনিপতের কাছে একটা পুরনো, বাতিল হয়ে যাওয়া এরোপ্লেনের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে গিয়েছে। সেখানে ৫-৬ টা ভাঙাচোরা প্লেন একটা জায়গায় রাখা আছে, ছেলেটা ঘুরে ঘুরে সেগুলো দেখাচ্ছিল। হঠাৎ দেখি সেখানে একটা প্লেন রাখা আছে, যার গায়ে লেখা "বেঙ্গল এয়ার"। "বেঙ্গল এয়ার" নামটা পড়ে যারপরনাই আশ্চর্য হলাম। এরকম কোনও এয়ারলাইন্সের নাম তো শুনিনি কখনও! কৌতূহলী হয়ে ভাবলাম, একটু তদন্ত করে দেখা যাক, কেসটা কি?

আমার কাছে তিনটে সূত্র ছিল তদন্ত শুরু করবার মতো। প্রথমত: প্লেনের গায়ে লেখা "বেঙ্গল এয়ার" নাম, দ্বিতীয়ত: প্লেনের গায়ে লেখা রেজিস্ট্রেশন নাম্বার (VT-BAA) এবং তৃতীয়ত প্লেনের লেজে একটা ত্রিশুলের লোগো, যা ছেলেটার ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিল। এই তিনটি সূত্র দিয়ে ইন্টারনেটে একটু খোঁজাখুঁজি করতেই উঠে এল এক বিস্ময়কর তথ্য, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় নেওয়া বামফ্রন্ট সরকারের নাম। কি সেই রহস্য? আসুন জেনে নিই অবশ্যম্ভাবী উন্নতির শিখর থেকে অপ্রত্যাশিত অবনতির আঁধারে হারিয়ে যাওয়া আমাদের হতভাগ্য পশ্চিমবঙ্গের এক বিস্মৃত অজানা ইতিহাস।

সুদূর হরিয়ানার সোনিপত ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ার মাঠে পড়ে থাকা "বেঙ্গল এয়ার" লেখা এই প্লেনের রহস্যভেদ করতে হলে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে ১৯৯৮ সালের পশ্চিমবঙ্গে। তখন বাংলায় কম্যুনিষ্ট গভর্নমেন্ট, মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সরকার। দীর্ঘকাল যাবৎ চলছে না, চলবে না করে সব লাটে উঠিয়ে দেবার পর, শিল্প-টিল্প নিয়ে তখন পুনরায় জোরদার আলোচনা চলছে রাজ্যে। কলকারখানা গড়ে ওঠার মত একটা পরিবেশ ধীরে ধীরে আবার তৈরী হচ্ছে। শিল্পবান্ধব নানারকম উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও। ঠিক এমন সময়েই পশ্চিমবঙ্গ সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা সিভিল এভিয়েশন বা অসামরিক বিমান পরিষেবা ক্ষেত্রেও অংশগ্রহন করবে।

"ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ড্রাস্টিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন" (WBIDC) এবং "বেঙ্গল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড" (BASL)-এর একটি যৌথ উদ্যোগকে "বেঙ্গল এয়ার" নামের বিমান সংস্থাটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনটি Hawker Siddeley (HS-748) মডেলের ছোট সাইজের এরোপ্লেন ব্যবহার করে, কলকাতা-কোচবিহার-বাগডোগরা-শিলং-আগরতলা-জামশেদপুর-পাটনা-রাঁচি-ভুবনেশ্বর-রাউরকেলা রুটে বিমান পরিষেবা চালুর কথা ছিল। টেকনিক্যাল সহায়তার জন্য নেপালের বিমান সংস্থা "নিকন এয়ার"-এর সাথে চুক্তি করা হয়। ইন্টারেস্টিংলি, দেখলাম নিকন এয়ার সংস্থার বিমানের লোগো হল ভগবান শিবের হাতে থাকা "ত্রিশুল", আবার আমাদের এই স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে পড়ে থাকা বেঙ্গল এয়ারের লেজেও লোগো রয়েছে ত্রিশুল। একেবারে হুবহু এক লোগো মনে হলেও, ভালো করে খুঁটিয়ে দেখে বুঝলাম, নেপালের নিকন এয়ারের লোগোয় ত্রিশুলের সঙ্গে ডুগডুগি বা ডমরু বাঁধা আছে, আর আমাদের বেঙ্গল এয়ারের লোগোয় ডুগডুগিটা নেই।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০০১ সালে কানাডার "ডেল এয়ার" নামক বিমান নির্মাতা সংস্থার থেকে তিনটি ছোট এরোপ্লেন কেনা হয়। সেগুলি পশ্চিমবঙ্গে ডেলিভারি করবার জন্য কানাডার উইনিপেগ এয়ারপোর্টেও নিয়ে আসা হয়। এরমধ্যে একটি প্লেন কলকাতায় পাঠানো হলেও, এরপরে কিভাবে জানি "বেঙ্গল এয়ার"-এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাকি দুটি প্লেন কানাডাতেই পড়ে থাকে এবং "ডেল এয়ার"-এর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। কলকাতায় যে প্লেনটি এসে পৌঁছিয়েছিল, সেটি ২০১৮ সাল পর্যন্ত দমদম এয়ারপোর্টে অব্যবহৃত, ধূলিধুসরিত অবস্থায় খোলা আকাশের নীচে পড়েছিল, অবশেষে সেটিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ স্ক্র্যাপ হিসাবে বিক্রি করে দেন।

আর গতকাল মাত্র আমি জানতে পেরেছি, সেটি এখন হরিয়ানার সোনিপতের কাছে একটি মাঠে পড়ে রয়েছে। প্লেনটি যিনি কিনেছেন, তিনি বাতিল এরোপ্লেন নিলামে কিনে, রিনোভেট্ করে রেস্ট্যুরান্ট, পার্ক, এসব যারা বানায় তাদের কাছে বিক্রি করেন। তিনি ভিডিওতে বলছিলেন যে, যদি কেউ এই প্লেন কিনতে চায়, তবে যোগাযোগ করতে পারেন। আমি একটু আগেই ফোন করেছিলাম তাঁকে, স্যুইচড্ অফ ছিল। মরা হাতি কেনার ক্ষমতা নেই, তবে কত দাম বলে, দেখার ইচ্ছা ছিল, আর একটা রিক্যুয়েস্ট করে রাখতাম, যেন ইতিহাস বিজড়িত প্লেনটা বিক্রি না হলেও, ভেঙে স্ক্র্যাপ না করে দেওয়া হয়।

আমার কান্না পাচ্ছিল বেচারা প্লেনটাকে দেখে। ঠিক যেন পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ। সম্ভাবনায় উজ্জ্বল ছিল, অথচ দেখুন কোথা থেকে কি হয়ে গেল। নীল আকাশে উড়বার বদলে আজ আমাদের "বেঙ্গল এয়ার" মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে হরিয়ানার কোন এক অজানা মাঠে, ভাংড়ি দরেও কেউ কিনতে চাইছে না। আর আমরা, পশ্চিমবঙ্গবাসীরা তখন প্লেন থেকে নেমে টোটোয় উঠেছিলাম, এখন টোটো থেকে নেমে ভটভটি মোটরভ্যানে উঠে গন্তব্যের দিকে চলেছি হাওয়া আর ধোঁয়া খেতে খেতে। গন্তব্য প্রস্তরযুগ, তবে বিদ্যুৎগতিতে ছুটে চলেছি, তাই খুব শীঘ্রই পৌঁছে যাব বলে আশা করা যায়। যাত্রীসাধারনকে অনুরোধ, অনুগ্রহ করে সিটবেল্ট বেঁধে রাখুন।

"যোনিপূজা" বর্তমান সময়ে প্রতীকী যোনিতে করা হলেও, প্রাচীন ভারতবর্ষের তন্ত্রসাধনায় কিন্তু ওসব প্রতীকী-ট্রতীকীর কোনও বালা...
27/07/2026

"যোনিপূজা" বর্তমান সময়ে প্রতীকী যোনিতে করা হলেও, প্রাচীন ভারতবর্ষের তন্ত্রসাধনায় কিন্তু ওসব প্রতীকী-ট্রতীকীর কোনও বালাই ছিল না, যা হত সব রিয়েলটাইম।

তন্ত্রচর্চ্চাকারী কৌল সাধক তাঁর উত্তর সাধিকা বা "শক্তি"কে প্রথমে বশীকরণ করে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতেন। এরপর সাধিকাকে পর্যায়ক্রমে সম্মোহন, আকর্ষণ ও উচাটন পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে রিচ্যুয়াল যৌনতার জন্য প্রস্তুত করা হত। সাধিকা সম্মতি প্রদান করলে "অষ্টকামকলাপ্রয়োগ" সম্পন্ন করবার জন্য তাঁরা শারীরিকভাবে মিলিত হতেন। এই গোটা প্রক্রিয়াটি কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত সাধক-সাধিকা দুজনেই একধরণের "ট্রান্স" মোডে, বা ঘোরের মধ্যে থাকতেন।

ছবিতে দেওয়া ফলকটিতে দেখা যাচ্ছে, একজন তন্ত্রসাধক তাঁর শক্তি বা সাধিকার যোনি অভিষেক করছেন। সাধিকার পিছনে একজন অ্যাটেন্ড্যান্ট বা সহায়িকা দুই হাত উপরে তুলে রিচ্যুয়াল ড্যান্স করছেন। ভারতবর্ষের তন্ত্রচর্চ্চার এই প্রাচীন মন্দিরে অষ্টকামকলাপ্রয়োগের আরও কয়েকটি অদ্ভুত ইরোটিক ভাস্কর্য রয়েছে, পরে কখনও সেগুলিও দেখাব।

আজকের আধুনিক (?) পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে মন্দিরের গায়ে এই ধরণের ভাস্কর্য দেখলে আমাদের অদ্ভুত লাগে ঠিকই, তবে এর মূল কারণ হচ্ছে, প্রাচীন ভারতবর্ষের সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের বিচ্ছেদ। এই ফলকের মধ্যে কিন্তু কোথাও কোনও অশ্লীলতা নেই, অশ্লীলতা রয়েছে আমাদের সো কল্ড আধুনিক মনে। অশ্লীলতার দৃষ্টিভঙ্গি আজকের দিনের মত হলে, প্রাচীন ভারতবর্ষের অত্যন্ত উন্নত সভ্য মানুষেরা কখনোই এই ধরণের ভাস্কর্য মন্দিরগাত্রে খোদিত করতেন না। প্রাচীন ভারতবর্ষে নারীদের শক্তিরূপে পূজা করা হত, সেই সময়ে নারীর যোনিকে দেবতার অংশ বলে মনে করা হত। আর আজ? যোনি শব্দটি শুনলেই আমাদের যৌনপ্রবৃত্তি লকলক্ করে ওঠে। নারীকে, দেবতার অংশকে পবিত্র মনে করা তো দূরের কথা, সে এখন কমার্শিয়াল ভোগ্যপণ্যের মত হয়ে গিয়েছে। এসবই হল ভগবানের থেকে দূরে, আরও দূরে সরে যাওয়ার পরিণাম।

একটি উদাহরণ দিই। উলা-বীরনগরের নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন। শিয়ালদহ থেকে কৃষ্ণনগর যেতে রানাঘাটের একটি স্টেশন পরে পড়ে। সাহিত্যিক নারায়ণ সান্যালের রূপমঞ্জরী উপন্যাসে পড়েছি, সেখানকার সম্ভ্রান্ত মহিলারা এই অষ্টাদশ শতাব্দীতেও নাকি ব্লাউজ পরতেন না, ঊর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃতই থাকত এবং সেটাই ছিল সেই আমলের স্বাভাবিক ঘটনা। তো আমি যখন সেখানকার বিখ্যাত জমিদার রামেশ্বর মিত্র-মুস্তাফি প্রতিষ্ঠিত জোড়বাংলা মন্দির দেখতে গেলাম, পথে সেখানকার সম্ভ্রান্ত মহিলাদের দেখে এই কথা মনে পড়ায় নিজে-নিজেই লজ্জায় শেষ। এটাও ভাবলাম, আমি যদি অষ্টাদশ শতাব্দীতে এই মন্দির দেখতে আসতাম তাহলেও কি এমনই লজ্জা পেতাম? নিশ্চয়ই না। তো এটাই হল ঘটনা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অশ্লীলতার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে যায়। প্রাচীনকালে যে ধরণের যৌনাচার অত্যন্ত পবিত্র, স্বাভাবিক ও জীবনের অঙ্গ হিসাবে গণ্য করা হত, তাই আজকের সময়ে এসে গোপন, ঘিনঘিনে, লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যাই করো না কেন, বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তির মত এগুলিও যেন ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া না হয়, সেটা মাথায় রেখে করো।
25/07/2026

যাই করো না কেন, বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তির মত এগুলিও যেন ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া না হয়, সেটা মাথায় রেখে করো।

১৮৬৫ সালে ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির লেফটেন্যান্ট কর্ণেল হেনরি ডিক্সন ভুবনেশ্বরের লিঙ্গরাজ মন্দিরের একটি ছবি তুলেছি...
19/07/2026

১৮৬৫ সালে ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির লেফটেন্যান্ট কর্ণেল হেনরি ডিক্সন ভুবনেশ্বরের লিঙ্গরাজ মন্দিরের একটি ছবি তুলেছিলেন। সেই ছবিতে মন্দিরের সামনে কয়েকজন "নেটিভ" বসে রয়েছে দেখা যাচ্ছিল, তাদের মধ্যে একজন আবার ঠ্যাংয়ের ওপর ঠ্যাং তুলে ক্রস-লেগড্ হয়ে বসেছিলেন। আজ ১৬১ বছর পর, ২০২৬ সালে ঠিক ওই একই জায়গায় বসে আমিও ওই একই কায়দায় একটি ছবি তুললাম। অনুভূতিটা ঠিক বলে বোঝানো মুশকিল।

শুভেচ্ছাবার্তা প্রেরকের নামটি দেখে আশ্চর্য হয়েছি বই কি!
18/07/2026

শুভেচ্ছাবার্তা প্রেরকের নামটি দেখে আশ্চর্য হয়েছি বই কি!

Address

Kolkata

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Temples with Atanu posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Temples with Atanu:

Shortcuts

Share

Category