02/07/2025
***** কারবালা ও মাওলা হুসাইন (আঃ): সত্যের এক অনন্ত দীপশিখা. *****
*** কারবালার প্রেক্ষাপট কিভাবে তৈরি হলো?
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শাহাদাতের পরে মুসলিম সমাজে ধীরে ধীরে রাজনীতিক দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার লোভ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। মানুষ ঐশী নেতৃত্ব বাদ দিয়ে নিজেদের মধ্যেই নেতা নির্বাচন করে, যার নাম দেওয়া হয় "খিলাফত"। খিলাফত ধীরে ধীরে রাজতন্ত্রে রূপ নিতে থাকে।
মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান, উমাইয়া গোত্রের নেতা, কৌশলে ও রাজনীতির মাধ্যমে ইসলামী খেলাফতের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।
মৃত্যুর আগে সে তার পুত্র ইয়াজিদ-কে মনোনীত করেন খেলাফতের উত্তরসূরি হিসেবে, যা স্পষ্টভাবে ছিল ইসলামী নেতৃত্বের মূল নীতিমালার পরিপন্থী।
ইয়াজিদ:
মদ্যপ, ভোগবিলাসে লিপ্ত, ইসলামী চরিত্রহীন শাসক।
জনগণের মধ্যে ভয়, দমননীতি ও জুলুম চালু করে।
তার মূল উদ্দেশ্য ছিল — সমস্ত মুসলিম সমাজের কাছ থেকে জোর করে বায়াত আদায় করা, অর্থাৎ রাজনৈতিক আনুগত্য।
এই অবস্থায় সে ইমাম হুসাইন (আঃ)-এর কাছ থেকেও বায়াত দাবি করে।
*** মাওলা হুসাইনের (আ.) অবস্থান:
ইমাম হুসাইন (আঃ) স্পষ্টভাবে বলেন:
@ "একজন মতলববাজ, মদ্যপ, জালেম শাসকের কাছে আমি মাথা নত করব না।"
তিনি বুঝেছিলেন, ইয়াজিদের বায়াত মানে ইসলামকে বিকৃত করা, জালিমকে চুপ করে মেনে নেওয়া।
তিনি আরও বলেন: এজিদের মতো নিকৃষ্ট মানুষ যখন মুসলিম জাহানের খলিফা হয় তখন বলতে হয়ে... إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّـا إِلَيْهِ رَاجِعونَ
*** কারবালার যাত্রা ও শহীদ হওয়া:
হুসাইন (আঃ) পরিবার-পরিজন নিয়ে মক্কা থেকে কুফার উদ্দেশ্যে রওনা দেন, কারণ কুফাবাসীরা তাঁকে চিঠি লিখে আমন্ত্রণ জানায়।
কিন্তু কুফা ছিল ইতিমধ্যেই ইয়াজিদের সেনা উবাইদুল্লাহ ইবনে জিয়াদের(ইবনে মার্জানার) দখলে। এই পাপিষ্ঠ ওমর ইবনে সাদের মাধ্যমে মাওলা হুসাইনকে কারবালায় আটকে দেওয়া হয়।
মাওলা হুসাইন ও তাঁর পরিবারকে পানির জোগান বন্ধ করে দেওয়া হয় তিন দিন।
১০ই মুহাররম, ৬১ হিজরিতে, মাওলা হুসাইন (আঃ) সহ ৭২ জন সাথী এজিদি বাহিনীর অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই করে শাহাদত বরণ করেন।
# # কারবালার মূল শিক্ষা:
1. সত্য ও ন্যায়ের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধা নেই।
2. অন্যায়, জুলুম ও স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান।
3. ইসলামের প্রকৃত রূপ রক্ষা করা।
4. নারী ও শিশুদের ভূমিকা — সাহস ও সহ্যের অনন্য উদাহরণ (যেমন: হযরত জয়নাব [আঃ])।
5. হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী কারবালা
*** কারবালার শহীদগণ:
ইমাম হুসাইন (আঃ) – রাসূলের(সা.) প্রিয় নাতি
আলী আকবর (আঃ) – হুসাইনের(আ.) যুবক পুত্র
আলী আসগর (আঃ) – ছয় মাসের শিশু
হযরত আব্বাস (আঃ) – ভাই ও পতাকার বাহক
এছাড়াও আহলে বাইত ও সাহাবীগণ
* হুসাইনের (আ.) অমর বাণী:
@ “মৃত্যু আমার জন্য গৌরব যদি তা হয় ন্যায়ের পথে।”
@ “অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা বিশ্বাসঘাতকতা।”
* কারবালায় হুসাইনের (আ.) আহবান:
@ তোমাদের মধ্যে কি একজনও মুসলমান নেই যে আমাকে সাহায্য করবে
* কেন আজও কারবালা প্রাসঙ্গিক?
কারবালা শুধু ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দের একটি যুদ্ধ নয় — এটি এক চিরন্তন সংগ্রামের প্রতীক, যেখানে ন্যায়, ত্যাগ ও ইমানের বিজয় জয়ী হয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে। মুসলমানদের মধ্যে হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী হলো এই কারবালা।
✨ শেষ কথা:
কারবালা শেখায় — মাথা কাটা যেতে পারে, কিন্তু সত্য কখনো হার মানে না।
মাওলা হুসাইন (আঃ) হয়ে আছেন যুগে যুগে সকল মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণা।