02/01/2026
গত সপ্তাহে ভারতের উত্তরাখন্ডের বাজারে এক ত্রিপুরা তরুণকে চাইনিজ,চিংকিপিংকি বলে বুলিং করে একদল গোমাতার মদখোর সন্তান। গোমাতার মদখোর সন্তানগুলোর বেশিরভাগই উচ্চবর্ণীয় ব্রাহ্মণ হিসেবে সুপরিচিত। ভারতের পূণ্যভূমি বলতে আমরা যেসব জায়গাগুলোকে মার্ক করি,সে উত্তরাখন্ড, রাজস্থান, অন্ধপ্রদেশ রাজ্যগুলোতে এ অসভ্য উচ্চবংশীয় গরুর ছেলে পান্ডা নামধারীরা বেশ সয়লাব। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার জাতপাত। সে জাতপাত হতে সৃষ্টি হয় অন্যান্য "বাদ" এর সৃষ্টি।
বাংলাদেশের ত্রিপুরাপল্লীগুলো আমার যাওয়া হয়েছে। মূল স্রোতের হিন্দুদের সাথে এরা মিশতে পারেনি,কারণ এদের মিশতে দেওয়া হয়নি।অচ্যুত করে রাখা হয়েছে যুগে যুগে। পরবর্তীতে তারা হয়েছে মুসলিম,খ্রিস্টান।
আচ্ছা, বলুন তো তাদের বর্ণবৈষম্য, জাতবৈষম্য করে, আবার কনভার্ট হলে আমরা কান্নাকাটি করি কেন?
কারণ, তারা হলো, সে আদিবাসী সম্প্রদায় হলো ব্রাহ্মণ্যবাদের সে চতুর্স্তম্ভের শোষণ করার মতো অংশ। তারা সবদিক দিয়ে বুলিংয়ের যোগ্য। ধর্ম বলেন,চেহারা বলেন,আচার আচরণ বলেন,সবদিক দিয়ে।
অাপনি কি জানেন?
চেহারা দিয়েও ধর্মীয় বৈষম্য করা যায়।মন থেকে ঘৃণা বা নিন্দাসূচক শব্দ আসে। কেমন করে?
পুরাণগুলো খুলুন।দেখতে পাবেন উচ্চনাক,কুঞ্চিত চক্ষু,খাটো দেহগঠন,গায়ের রং দিয়ে জাতপ্রথার সৃষ্টি করা হয়েছে। পাতায় পাতায় এসব মূলনিবাসী সংগ্রামী আদিবাসী হিন্দুদের দেহগঠনের সাথে শুদ্র তকমাটা লেপে দেওয়া হয়েছে।
ছোটকাল হতেই এদের রেসিজমের উৎস হয়ে দাঁড়ায় এসব প্রথা,পুরাণিক রীতিনীতি। যার ফলে বড় হয়ে প্রাপ্ত বয়ষ্ক হয়ে যাওয়ার পরও নিজের সাথে মিল নয়,এমন হিন্দুস্তানীকেও বুলিং,বৈষম্য করতে জিবে আটকায় না।
ব্যাপারটা অনেকটা, "ধরা না পড়লে চুরি,ধরা পড়লে মস্কারি"
ভারতবর্ষ থেকে সকল বর্ণবাদ,রেসিজম বন্ধ করতে হবে।এটাই একমাত্র পথ। কিন্তু, সে পথকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যারা ব্রাহ্মণসংসদ, বর্ণবাদী সংসদ ঠিকিয়ে রাখে,তাদের ২০২৫ এ ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলতে হবে।ছুঁড়ে ফেলতে হবে সেসব পৌরাণিক গাঁজাখুরী বর্ণবাদী গ্রন্থ।
হিন্দুদের মধ্যে বেঁচে থেকে আলাদা "ব্রাহ্মণ্যবাদ" মতবাদ ঠিকিয়ে রাখা কালপ্রিটদের প্রতিহত না করলে, ভারতবর্ষে কোনো হিন্দু ঠিকে থাকবে না,কনভার্ট হবেই।
২০২৫ এ এসে জন্মগত বামুন সংগঠনগুলোর বিপক্ষে clear cut অবস্থানে আসতে হবে। ওদের প্রতিহত না করলে,তাদের রেসিজম মন মানসিকতা পাল্টাবে না।
মাথায় রাখিয়েন, এসব গোমাতার ব্রাহ্মণ সন্তানদের কাছে পৌরাণিক রীতিমতে একজন রক্তমাংসের হিন্দুর চেয়ে নিজের জাত বড়, গরু গাভীর জীবনের দামও বড়।
ত্রিপুরার ছেলে এঞ্জেল চাকমার প্রতি সমবেদনা। তার মৃত আত্মাকে বলতে চাই,
শুধু তুমি নও,স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদীজীও এসব ব্রাহ্মণ্য পান্ডা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করা গোসন্তানদের কটাক্ষের স্বীকার হয়েছে জীবনের প্রতি মূহুর্তে। যে রামমন্দির তারা সৃষ্টি করলো,সে মন্দিরে প্রবেশের ও পূজার অনাধিকারের ফতোয়া দেয় এসব বর্ণবাদী,জাতবাদী সম্প্রদায়।