Rosoproda Madhabi Devi Dasi

Rosoproda Madhabi Devi Dasi Bhagbot path o Kirtan

তুমি কি ভগবানের সাথে তোমার অপহৃত সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত করতে চাও? তা করতে হলে তোমাকে তাঁকে জানতে হবে। সুতরাং কৃষ্ণভক্তদের ন...
20/07/2025

তুমি কি ভগবানের সাথে তোমার অপহৃত সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত করতে চাও? তা করতে হলে তোমাকে তাঁকে জানতে হবে। সুতরাং কৃষ্ণভক্তদের নিকট গভীরভাবে ভগবদ্গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করতে হবে। সেটিই হচ্ছে আমাদের অপহৃত সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়।

শ্রী শ্রীমদ্ ভক্তিচারু স্বামী গুরুমহারাজ
রবিবাসরীয় অনুষ্ঠান, মালাগা, ১৭ই জুলাই ২০১১

শ্রী শ্রীমদ্ ভক্তিচারু স্বামী গুরুমহারাজ তাঁর উক্ত উক্তির মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, আমরা আমাদের মূল পরিচয় বা ভগবানের সাথে আমাদের যে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক, তা ভুলে গেছি বা হারিয়ে ফেলেছি। এই হারানো সম্পর্ককে পুনঃস্থাপন করতে হলে, আমাদের ভগবানকে জানতে হবে। আর ভগবানকে জানার সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে কৃষ্ণভক্তদের সান্নিধ্যে থেকে গভীরভাবে ভগবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করা।

অপহৃত সম্পর্ক (Lost Relationship):
আমাদের বর্তমান অবস্থা অনেকটা এমন, যেন আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান ধন, আমাদের পিতার (ভগবানের) সাথে সম্পর্ক চুরি হয়ে গেছে বা আমরা তা হারিয়ে ফেলেছি।

উপমা: যেমন কোনো ধনী ব্যক্তি তার পিতার পরিচয় ভুলে গিয়ে পথের ভিখারীর মতো জীবন যাপন করে, তেমনি আমরাও আমাদের আধ্যাত্মিক পরিচয় ভুলে গিয়ে এই জাগতিক দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত হচ্ছি।

পুনঃস্থাপনের আকাঙ্ক্ষা (Desire for Re-establishment):
স্বাভাবিকভাবেই, আমরা আমাদের সেই হারানো সম্পর্ক ফিরে পেতে চাই। আমাদের অন্তরে সেই পরম পিতার জন্য একটি গভীর টান অনুভব হয়।

উপমা: একজন সন্তান যেমন তার হারিয়ে যাওয়া বাবাকে খুঁজে ফেরে, তেমনি প্রতিটি জীবাত্মা ভগবানের সাথে তার সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যাকুল।

জানার প্রয়োজনীয়তা (The Need to Know):
হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক ফিরে পেতে হলে, আমাদের জানতে হবে সেই ব্যক্তি কে যার সাথে আমাদের সম্পর্ক ছিল। ভগবানকে না জানলে, তাঁর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব নয়।

উপমা: যদি কেউ তার হারানো বন্ধুকে খুঁজে পেতে চায়, তবে তাকে বন্ধুর নাম, ঠিকানা, স্বভাব ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে হবে। তেমনি ভগবানকে জানতে হলে তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হবে।

কৃষ্ণভক্তদের সান্নিধ্য (Association of Krishna Devotees):
ভগবানকে জানার সঠিক পথ দেখানোর জন্য আমাদের প্রয়োজন কৃষ্ণভক্তদের সঙ্গ। যারা ইতিমধ্যেই ভগবানের সাথে যুক্ত আছেন, তারা আমাদের সেই পথে চালিত করতে পারেন।

উপমা: একজন অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শক যেমন অজানা রাস্তায় চলতে সাহায্য করে, তেমনি কৃষ্ণভক্তরা আমাদের আধ্যাত্মিক পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেন।

গভীরভাবে শাস্ত্র অধ্যয়ন (Deep Study of Scriptures):
ভগবদ্গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবত হলো ভগবানের বাণী এবং তাঁর ভক্তদের জীবন ও কর্মের বিস্তারিত বিবরণ। এই শাস্ত্রগুলি গভীরভাবে অধ্যয়ন করলে আমরা ভগবান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারব এবং তাঁর সাথে আমাদের সম্পর্কের স্বরূপ বুঝতে পারব।

উপমা: কোনো ব্যক্তির সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে যেমন তার লেখা চিঠি বা ডায়েরি পড়া প্রয়োজন, তেমনি ভগবানকে জানতে হলে আমাদের অবশ্যই ভগবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করতে হবে।

সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় (The Best Way):
গুরুমহারাজ বলছেন, এই শাস্ত্রগুলির গভীর অধ্যয়নই হচ্ছে আমাদের হারানো সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সর্বোত্তম উপায়। অন্য কোনো পথে এই জ্ঞান লাভ করা বা সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা সহজ নয়।

উপমা: যেমন কোনো জটিল রোগের সঠিক চিকিৎসার জন্য অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ এবং উপযুক্ত ঔষধ প্রয়োজন, তেমনি আধ্যাত্মিক জীবনের জটিলতা দূর করে ভগবানের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য শাস্ত্রজ্ঞান অপরিহার্য।

শ্রী শ্রীমদ্ ভক্তিচারু স্বামী গুরুমহারাজের আজকের বাণীর মূল বিষয়বস্তু হলো ভগবানের সাথে আমাদের চিন্তন সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা। এর শাস্ত্রীয় প্রমাণস্বরূপ আমরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলি আলোচনা করতে পারি:

জীবের স্বরূপ: শ্রীমদ্ভাগবতে (২.৯.৩) বলা হয়েছে –
"অহং হরেঃ সেবকো সর্ব্বেষাং চ সেবক-সেবকঃ"।

অর্থাৎ, প্রতিটি জীব ভগবানের নিত্য দাস। আমরা ভুলে গেছি যে আমরা ভগবানের অংশ এবং তাঁর সেবা করাই আমাদের স্বাভাবিক ধর্ম।

ভগবদ্গীতার জ্ঞান: ভগবদ্গীতার পঞ্চদশ অধ্যায়ের ১৫ নং শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলছেন –
"বেদৈশ্চ সর্ব্বৈরহমেব বেদ্যো বেদান্তকৃদ্ বেদবিদেব চাহম্।"

অর্থাৎ, সকল বেদের দ্বারা আমিই জ্ঞাতব্য। আমিই বেদান্তের প্রণেতা এবং আমিই বেদজ্ঞ। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, বেদান্ত সহ সকল শাস্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো ভগবানকে জানা।

শ্রীমদ্ভাগবতের তাৎপর্য: শ্রীমদ্ভাগবতকে "সকল শাস্ত্রের সার" বলা হয়। এটি ভগবান এবং তাঁর ভক্তদের লীলা-মাহাত্ম্য বর্ণনার মাধ্যমে আমাদের ভক্তি পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করে। প্রথম স্কন্ধের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৬ নং শ্লোকে বলা হয়েছে

"স বৈ পুংসাং পরো ধর্ম্মো যতো ভক্তিরধোক্ষজে। অহেতুহ্যপ্রতিহতা যয়াঽঽত্মা সম্প্রসীদতি।"

অর্থাৎ, মানুষের পরম ধর্ম সেটিই, যার মাধ্যমে অব্যহত ও অপ্রতিহত ভক্তি শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অর্পিত হয় এবং যার দ্বারা আত্মা সম্পূর্ণরূপে প্রসন্ন হয়।

শ্রী শ্রীমদ্ ভক্তিচারু স্বামী গুরুমহারাজ তাঁর বাণীতে ভগবানের সাথে আমাদের যে স্বাভাবিক এবং হারানো সম্পর্ক রয়েছে, তা পুনরুদ্ধারের জন্য কৃষ্ণভক্তদের সান্নিধ্যে শাস্ত্র অধ্যয়নের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। ভগবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবতের জ্ঞান আমাদের সেই পথে আলো দেখায় এবং পরম পিতার সাথে আমাদের চিরন্তন সম্পর্কের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।🙏❤️🙏

আমাদের কৃষ্ণভাবানমৃত আন্দোলন হলো কিভাবে গোপীজনদের একজন হওয়া যায়। এমনকি পাহাড় বা পর্বত উত্তোলন করেও কৃষ্ণ তখন যে কোন বিপদ...
20/07/2025

আমাদের কৃষ্ণভাবানমৃত আন্দোলন হলো কিভাবে গোপীজনদের একজন হওয়া যায়। এমনকি পাহাড় বা পর্বত উত্তোলন করেও কৃষ্ণ তখন যে কোন বিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করবেন।

শ্রীল প্রভুপাদ
নিউইয়র্ক, জুলাই ২০, ১৯৭১

শ্রীল প্রভুপাদের এই উক্তিটির মাধ্যমে তিনি কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য এবং কৃষ্ণের শরণাগতির গুরুত্ব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।

কৃষ্ণভাবানমৃত আন্দোলন হলো কিভাবে গোপীজনদের একজন হওয়া যায়:
ব্যাখ্যা: শ্রীল প্রভুপাদ এখানে কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনকে গোপীদের মতো কৃষ্ণপ্রেমী হওয়ার একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করছেন। গোপীরা ছিলেন কৃষ্ণের প্রতি নিঃস্বার্থ এবং গভীরতম ভালোবাসার প্রতীক। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি ধীরে ধীরে সেই বিশুদ্ধ প্রেমের স্তরে উন্নীত হতে পারে।

উপমা: যেমন একটি বীজকে পরিচর্যা করলে তা ধীরে ধীরে বৃক্ষে পরিণত হয় এবং ফুল-ফল দেয়, তেমনই কৃষ্ণভাবনামৃতের অনুশীলন আমাদের হৃদয়ে কৃষ্ণপ্রেমের বীজ বপন করে এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তা বিকশিত হয়ে গোপীদের মতো কৃষ্ণপ্রেমের স্তরে নিয়ে যেতে পারে।

এমনকি পাহাড় বা পর্বত উত্তোলন করেও কৃষ্ণ তখন যে কোন বিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করবেন:
ব্যাখ্যা: এই অংশে শ্রীল প্রভুপাদ কৃষ্ণের অসীম ক্ষমতা ও তাঁর ভক্তের প্রতি রক্ষাকারী মনোভাবের কথা বলছেন। যখন একজন ভক্ত সম্পূর্ণরূপে কৃষ্ণের উপর নির্ভরশীল হয়, তখন কৃষ্ণ যেকোনো কঠিন বিপদ থেকেও তাকে রক্ষা করেন, যেমন তিনি গোবর্ধন পর্বত উত্তোলন করে বৃন্দাবনের গোপ-গোপীদের রক্ষা করেছিলেন।

উপমা: যেমন একজন ছোট্ট শিশু যখন তার বাবার হাত ধরে থাকে, তখন বাবা তাকে যেকোনো বিপদ থেকে রক্ষা করেন, তেমনই যখন আমরা সম্পূর্ণরূপে কৃষ্ণের উপর নির্ভর করি, তখন কৃষ্ণ আমাদের সকল প্রকার জাগতিক ও আধ্যাত্মিক বিপদ থেকে রক্ষা করেন। এমনকি বিপদ যদি পাহাড়ের মতো বড়ও হয়, কৃষ্ণ তা অতি সহজেই সমাধান করতে পারেন।
শ্রীল প্রভুপাদের আজকের বাণীর বিষয়বস্তু শাস্ত্রীয় প্রমাণ সহ আলোচনা:

শ্রীল প্রভুপাদের এই উক্তির মূল বিষয় হলো বিশুদ্ধ ভক্তি এবং কৃষ্ণের শরণাগতি:
বিশুদ্ধ ভক্তি (গোপীভাব):
শাস্ত্রে, বিশেষ করে শ্রীমদ্ভাগবতে গোপীদের কৃষ্ণপ্রেমকে ভক্তির সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। গোপীরা কৃষ্ণের জন্য তাঁদের জাগতিক সমস্ত আকর্ষণ ত্যাগ করেছিলেন এবং শুধুমাত্র কৃষ্ণকে ভালোবেসেছিলেন। তাঁদের এই নিঃস্বার্থ প্রেমই কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের আদর্শ।

শাস্ত্রীয় প্রমাণ:
শ্রীমদ্ভাগবতের দশম স্কন্ধে গোপীদের কৃষ্ণপ্রেমের বিভিন্ন কাহিনী বর্ণিত আছে। উদাহরণস্বরূপ, রাসলীলার সময় গোপীদের কৃষ্ণের প্রতি গভীর আকর্ষণ এবং বিরহে তাঁদের ব্যাকুলতা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। এটি প্রমাণ করে যে গোপীদের প্রেম ছিল জাগতিক কামনার ঊর্ধ্বে, সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ এবং কৃষ্ণকেন্দ্রিক।

কৃষ্ণের শরণাগতি ও রক্ষা:
শ্রীমদ্ভাগবতে গোবর্ধন লীলার কাহিনীতে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। যখন দেবরাজ ইন্দ্র ক্রুদ্ধ হয়ে বৃন্দাবনে প্রবল ঝড়বৃষ্টি শুরু করেন, তখন কৃষ্ণ তাঁর ভক্ত ও বৃন্দাবনবাসীদের রক্ষা করার জন্য একাই গোবর্ধন পর্বত উত্তোলন করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছিলেন যে তাঁর ভক্ত যদি সম্পূর্ণরূপে তাঁর উপর নির্ভর করে, তবে তিনি যেকোনো প্রকার বিপদ থেকে তাদের রক্ষা করতে সর্বদা প্রস্তুত।

শাস্ত্রীয় প্রমাণ:
শ্রীমদ্ভাগবতের দশম স্কন্ধের পঞ্চবিংশ অধ্যায়ে (১০/২৫) এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে কিভাবে কৃষ্ণ শুধুমাত্র তাঁর কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে বিশাল গোবর্ধন পর্বত তুলে ধরেছিলেন এবং বৃন্দাবনবাসীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন।

শ্রীল প্রভুপাদের এই উক্তির মাধ্যমে কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের মূল লক্ষ্য – গোপীদের মতো বিশুদ্ধ কৃষ্ণপ্রেমী হওয়া এবং কৃষ্ণের উপর পূর্ণরূপে নির্ভরশীল হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, কৃষ্ণ তাঁর ভক্তদের সর্বদা রক্ষা করেন – এই আশ্বাসও প্রদান করা হয়েছে, যার শাস্ত্রীয় প্রমাণ শ্রীমদ্ভাগবতের বিভিন্ন লীলায় পাওয়া যায়।

12/07/2025

Hare Krishna 🙏

*•••••••┈┉━❀❈🙏🏻❈❀━┉┈•••••••**_❀"কোটি জন্ম করে যদি নাম সংকীর্তন।"_❀**_❀তথাপি না পায় ব্রজের ব্রজেন্দ্রনন্দন॥"❀_**•••••••┈...
12/07/2025

*•••••••┈┉━❀❈🙏🏻❈❀━┉┈•••••••*
*_❀"কোটি জন্ম করে যদি নাম সংকীর্তন।"_❀*
*_❀তথাপি না পায় ব্রজের ব্রজেন্দ্রনন্দন॥"❀_*
*•••••••┈┉━❀❈🙏🏻❈❀━┉┈•••••••*
*_❈❀━┉অপরাধযুক্ত নাম জপ কোটি জন্ম ধরে কখনোই করা যায় না! কারণ নামের শক্তিতে নামই নামাপরাধ থেকে মুক্ত করে দেয়। একজনমেই নাম জপ করলে নামাপরাধ আর থাকে না। তাহলে কোটি জন্ম ধরে নাম জপ করলে কেন "ব্রজের ব্রজেন্দ্রনন্দন" পাওয়া যাবে না? কারণ--_*

*_"কোটি জন্ম করে যদি নাম সংকীর্তন।_*
*_ব্রজগোপীভাব না হইলে মিলিবে না ব্রজেন্দ্রনন্দন॥"_*

*_❈❀━┉কোটি জন্ম নাম সংকীর্তন করে যদি সাধকের ব্রজগোপীভাবের উদয় না হয়, তাহলে কখনোই শ্রীবৃন্দাবনে প্রবেশ হবে না, আর ব্রজের ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্রীকৃষ্ণ কখনোই পাবে না। তাহলে কাকে পাবে? হ্যাঁ! কোটি জন্ম নাম সংকীর্তন করেও ব্রজগোপীভাবের প্রকাশ না হলে বৈকুণ্ঠপতি নারায়ণ পাওয়া যেতে পারে, দ্বারকাধীশ শ্রীকৃষ্ণ পাওয়া যেতে পারে, মথুরাধীশ শ্রীকৃষ্ণ পাওয়া যেতে পারে; কিন্তু ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্রীকৃষ্ণ কখনোই পাওয়া সম্ভব নয়।_*
*_❈❀━┉অতএব, যেহেতু আমাদের আরাধ্য "ব্রজেশতনয়", অর্থাৎ "ব্রজেন্দ্রনন্দন কৃষ্ণ", তা পঞ্চরসের যেকোন রসে ভজন করলেও সেই ব্রজের কৃষ্ণই আমাদের ভজন। সেহেতু এত এত নাম জপ, কীর্তন, সাধনভজন করে কি লাভ যদি ব্রজগোপীভাবের প্রকাশ না হয়? সুতরাং আমাদের সর্বাগ্রে সেই দিকেই খেয়াল রাখা কর্তব্য যে আমি সাধন ভজন করছি কিন্তু আমার মধ্যে ব্রজগোপীভাবের প্রকাশ হচ্ছে কি?? তার জন্য তেমন ভাবাশ্রয়ী ব্রজরসিক, গোপীভাবময় মহৎ কৃপা ও তেমন ভক্তের সঙ্গই একমাত্র সেই ভাবের প্রকাশ ঘটাতে সহায়তা করে।_*
*┈┉━❀❈❀━┉┈*
*•••••••┈┉━❀❈🙏🏻❈❀━┉┈•••••••*
*_"বাহ্য অন্তর ইহার দুই তো সাধন।_*
*_বাহ্যে সাধক দেহে করে শ্রবণ ও কীর্তন॥_*
*_মনে নিজ সিদ্ধদেহ করিয়া ভাবন।_*
*_রাত্রিদিন চিন্তে ব্রজে কৃষ্ণের সেবন॥"_*
*┈┉━❀❈❀━┉┈*
*_রাধিকাচরণরেণু, ভূষণ করিয়া তনু,_*
*_অনায়াসে পাবে গিরিধারী।_*
*_রাধিকা-চরণাশ্রয়, যে করে সে মহাশয়,_*
*_তারে মুইঁ যাউ বলিহারী॥_*
*•••••••┈┉━❀❈🙏🏻❈❀━┉┈•••••••*
*•••••••┈┉━❀❈🙏🏻❈❀━┉┈•••••••*

01/07/2025

*উৎকল মতে হেরাপঞ্চমী। শ্রীশ্রীলক্ষ্মীবিজয়।*
*****************************
ভগবান্ শ্রীজগন্নাথদেব নীলাচলে শ্রীমন্দিরে বসিয়া জীবের প্রতি কৃপা ও অভিন্ন শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা লীলা প্রকট করিয়াছিলেন। তিনি রথযাত্রায় শুদ্ধ ভক্তগণের হৃদয় রথে নীলাচল হইতে সুন্দরাচলে গমন করিয়াছিলেন। রথযাত্রায় তিনি ঐশ্বর্য মার্গে শ্রীলক্ষ্মী দেবীকে বলিয়া গিয়েছিলেন যে,
"আমি কল্যই ফিরিয়া আসিব।"
কিন্তু কয়েক দিন কেটে গেল অথচ শ্রীজগন্নাথদেব না আসায় কান্তের অনুপস্থিতিতে স্বভাবতই ক্রোধ সৃষ্টি হয়। তখন শ্রীলক্ষ্মীদেবী তাঁহার নিজ দাসী গণকে সঙ্গে লইয়া শ্রীজগন্নাথদেবকে খুঁজিয়া পাইয়ার জন্য শ্রীমন্দির হইতে বাহির হইয়াছিলেন। শ্রীজগন্নাথদেবের রথ যাত্রার পরে পঞ্চমী তিথিতে শ্রীলক্ষ্মীদেবী খুঁজিতে খুঁজিতে গুন্ডিচা মন্দির হেরিয়া অর্থাৎ দেখিয়াছিলেন। এইজন্য উৎকল- দেশীয় লোকেরা এই দিনটিকে "হেরা পঞ্চমী " বলিয়া থাকেন। শ্রীলক্ষ্মীদেবীর প্রধান দাসীগণ গুন্ডিচা মন্দিরের প্রধান প্রধান শ্রীজগন্নাথদেবের সেবিকা বা দাসীগণকে বাঁধিয়া শ্রীলক্ষ্মীদেবীর চরণ তলে আনিয়াছিলেন। চোরকে যেমন দণ্ড দেওয়া হয় তদ্রুপ শ্রীলক্ষ্মীদেবীরগণ শ্রীজগন্নাথ দেবের ভৃত্য -গণের উপর নানা ভাবে পীড়ন ও গালাগালি করিয়াছিলেন।
শ্রীলক্ষ্মীদেবীর দাসীগণ ক্রুদ্ধ হইয়া বলিয়ালেন,- আগে আমাদের শ্রীলক্ষ্মীদেবীর নিকট শ্রীজগন্নাথকে আনিয়া দাও। এই বলিয়া শ্রীজগন্নাথদেবের নিজ শুদ্ধ ভক্তগণকে কটি -বস্ত্রে বান্ধিয়া শ্রীলক্ষ্মীদেবীর চরণে আনিয়া প্রণাম,তাড়ন ও ভৎর্সনা করিয়াছিলেন।
"রথের উপরে করে দণ্ডের তাড়ন।
চোর -প্রায় করে জগন্নাথের সেবকগণ।।
সব ভৃত্য কহে, - যোড় করি' হাত।
কালি আনি দিব তোমার আগে জগন্নাথ।।"
শ্রীমন্মহাপ্রভু স্বরূপ দামোদরকে হাঁসিতে হাঁসিতে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন,- শ্রীজগন্নাথদেব শ্রীলক্ষ্মীদেবীকে কেন নিয়ে গেলেন না এবং শ্রীলক্ষ্মী দেবীর এত রাগ কেন হইয়াছিল?
"স্বরূপ কহে,- শুন, প্রভু, কারণ ইহার।
বৃন্দাবন ক্রীড়াতে লক্ষ্মীর নাহি অধিকার।।
বৃন্দাবনে -লীলায় কৃষ্ণের সহায় গোপীগণ।
গোপীগণ বিনা কৃষ্ণের হরিতে নারে মন।।
*** *** *** *** ***
প্রেমবতীর এই ত' স্বভাব।
কান্তের ঔদাস্য-লেশে হয় ক্রোধভাব।
জীবের পঞ্চাশটি গুণ বিন্দু বিন্দু মাত্রায়, শিবাদি দেবতাগণের পঞ্চান্ন টি গুণ অংশরূপে আছে। বৈকুন্ঠের শ্রীনারায়ণের ষাটটি গুণ পরিপূর্ণ আছে এবং দ্বিভুজ মুরলীধর ব্রজেন্দ্র নন্দন শ্রীকৃষ্ণের অতিরিক্ত চারটি গুণ অর্থাৎ মোট-চৌষট্টি গুণ আছে, যথা- ১।সর্বলোকের চমৎকারীনি লীলার কল্লোল সমুদ্র ২। শৃঙ্গার রসের অতুল্য প্রেমদ্বারা শোভা বিশিষ্ট প্রেষ্ঠ মন্ডল ৩। ত্রিজগতের চিত্তাকর্ষি মুরলী গীত গান কারী ৪। যাহার সমান ও শ্রেষ্ঠ নাই, যাহা চরাচরকে বিস্ময়ান্বিত করিয়াছে।
এবম্বিধ সৌন্দর্য শালী। এই অতিরিক্ত চারিটি গুণ দ্বারা বৃন্দাবনে গোপীগণ সহ ভগবান্ লীলা করেন। এই গোপীগণের আনুগত্যে শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করা যায়। শ্রীলক্ষীদেবী ঐশ্বর্য্যমার্গে অবস্থিত, তিনি গোপীগণের আনুগত্য স্বীকার করেন না, তাই মাধুর্য লীলা আস্বাদন করিবার অধিকার তাঁহার নাই।

গুণ্ডিচা মার্জন - হৃদয়রূপ মন্দির সম্মার্জন (১ম পর্ব)"ভক্তেরা সর্বদাই মায়ার ভয়ে ভীত। ভক্তেরা তবে কি করেন? শ্রীচৈতন্য মহাপ...
26/06/2025

গুণ্ডিচা মার্জন - হৃদয়রূপ মন্দির সম্মার্জন
(১ম পর্ব)

"ভক্তেরা সর্বদাই মায়ার ভয়ে ভীত। ভক্তেরা তবে কি করেন? শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আমাদের সেটির দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করেছেন, যখন তিনি জগন্নাথপুরীতে গুণ্ডিচা মার্জন লীলা করেছেন। তিনি তাঁর সকল ভক্তদের সেখানে নিয়ে গেলেন। সেখানে তখন অনেক খড়কুটো, পাতা এবং আবর্জনা পড়েছিল। তিনি সবাইকে বললেন, 'এই সবকিছু জড়ো করো।' এবং তিনি নিজেই পাতা, খড়কুটো কুড়াতে শুরু করলেন, সেগুলো তাঁর বস্ত্রে রাখলেন। তাঁর নিজের বস্ত্রে!
প্রীতিভরে তিনি সেই মন্দিরটি মার্জন করলেন। তিনি তাঁর সকল ভক্তদের বললেন, 'কে বেশি বেশি এসকল খড়কুটো এবং পাতা কুড়াতে পারবে? আমরা এগুলো সব জড়ো করে বাইরে নিয়ে যাব এবং দেখব কে এসকল আবর্জনা সবচেয়ে বেশি জড়ো করেছে।'
সেখানে এক চিন্ময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল: কে বেশি ভালো এবং উদ্যমের সাথে মন্দির মার্জন করতে পারে।

তাই, সবাই সেখানে মন্দির মার্জন করছিল যতক্ষণ না পর্যন্ত মন্দিরটি খড়কুটো থেকে পুরোপুরি পরিষ্কার না হচ্ছে। তখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর ধুলির স্তুপ ভূমিতে রাখল। সবাই অবাক হয়ে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ধূলির স্তুপ দেখল এবং আবিষ্কার করল, তাঁদের ধূলির স্তুপ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর তুলনায় কত সামান্য! তারপর তাঁরা তাঁদের সবার স্তুপ একত্র করল, এবং দেখল তাঁদের সকলের সম্মিলিত স্তুপও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর তুলনায় কিছুই না। তিনি এতটা উদ্যমের সাথে সম্মার্জন করেছেন, যা প্রতিপন্ন করে যে কৃষ্ণ স্বয়ং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন, কিভাবে যথার্থ ভক্ত হতে হবে আমাদের সেটি প্রদর্শন করার জন্যে।

এসকল পাতা এবং খড়কুটো হল বিভিন্ন জাগতিক কামনা-বাসনা, আমাদের হৃদয়ে স্থূল কামের মত, এদের থেকে হৃদয়কে পরিষ্কার করতে হবে। আমরা বলে থাকি যে আমাদের দেহ হচ্ছে এক মন্দির, এবং আমাদের হৃদয় হল গর্ভগৃহ, রাজধানী, হৃদয় হল রাজধনীর সমতুল্য। তাই রাজধানীর সকল আবর্জনা আমাদের পরিষ্কার করতে হবে।

কিন্তু সেখানেই সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি, আমরা জানি যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু একটি সম্মার্জনী নিয়ে ফিরে এলেন এবং তারপর তিনি মন্দির ঝাড়ু দিতে শুরু করলেন। তখন সকল ভক্তবৃন্দ মন্দির ঝাড়ু দিতে শুরু করল এবং পড়ে থাকা সব ছোট ছোট ঘাসের টুকরোগুলোও পরিষ্কার করা হল। এটি ততক্ষণ চলল যতক্ষণ না পর্যন্ত মন্দিরটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়েছিল। সারা মন্দির, প্রত্যেকটি কোণা এবং খাঁজ ঝাড়ু দেয়া হয়েছিল এবং এরপরেও তা শেষ হলো না।"

(চলবে...)

~ শ্রীল জয়পতাকা স্বামী
১৬ই জুন, ১৯৮১
লস এঞ্জেলস

Plz like comment share and subscribe now 👍 🙏 😊
16/06/2025

Plz like comment share and subscribe now 👍 🙏 😊

Who am I really? Where did I come from?Where will I go after death?আমি কে?কোথা থেকে এসেছি?কোথায় যাব?prabachan By Rosoproda madhobi devi dasi 🎉 ♥️ plz like c...

Address

Kolkata
700067

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rosoproda Madhabi Devi Dasi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Rosoproda Madhabi Devi Dasi:

Share