Satsang ThakurBari Madhyamgram Official

Satsang ThakurBari Madhyamgram Official Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Satsang ThakurBari Madhyamgram Official, Religious organisation, Vivekananda Nagar, PO/Purba Udairajpur, Madhyamgram, KOLKATA.

আজ পরমদয়াল পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুরের ৫৮তম  মহাপ্রয়াণ তিথি।* তিঁনি আজ লোকচক্ষুর অন্তরালে, রক্তমাংস সঙ্কুল দেহে আমাদের স...
27/01/2026

আজ পরমদয়াল পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুরের ৫৮তম মহাপ্রয়াণ তিথি।*
তিঁনি আজ লোকচক্ষুর অন্তরালে, রক্তমাংস সঙ্কুল দেহে আমাদের সম্মুখে নেই। কিন্তু তাঁর বিধি-নিদেশের ভিতর, তাঁর বাণীর ভিতর, আচার্য্যপরম্পরার ভিতর তিনি সতত জীবন্ত হয়ে রয়েছেন।
আজ এই বিষাদপূর্ন দিবসে অন্তরের ভক্তিপূর্ণ প্রণাম ও কৃতজ্ঞতা জানাই তাঁর শ্রীপাদপদ্মে।

"মহাপ্রয়াণ'

অখিল ব্রহ্মাণ্ডের জীবনস্বরূপ পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুরের ত্রিলোকপাবনী জীবনদীপ গত ২৭শে জানুয়ারী ১৯৬৯, রবিবার শেষ রাত্রে ৪টা ৫৫ মিনিটে নির্ব্বাপিত হয়। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হ’য়ে ৮১ বৎসর বয়সে তাঁর মর্ত্তলীলার অবসান ঘটে।আগে কিছুই তেমন বোঝা যায়নি।স্বাভাবিকভাবে নিদ্রা যাচ্ছিলেন। হঠাৎ শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট বোধ করেন। পূজ্যপাদ কাজলদা তা’ টের পাওয়া মাত্র চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী বিহিত ব্যবস্হাদি করেন। পরমপূজ্যপাদ বড়দা ও তৎক্ষণাৎ ছুটে আসেন। কিন্তু সকলের সকল চেষ্টাকে নিষ্ফল ক’রে দিয়ে কালের বিধান জয়ী হয়। পূজ্যপাদ ছোড়দা ছিলেন কলকাতায়। তাঁকে, পূজ্যপাদ বড়দার কলকাতার বাড়ীর সকলকে, পূজনীয়া সানুদি কে এবং অন্যান্য অনেক কে ট্রাঙ্ক টেলিফোনযোগে তাড়াতাড়ি দেওঘরে চলে আসতে বলা হয়। ভোর হতে-না-হতেই এই মর্ম্মান্তিক দুঃসংবাদ দেওঘরের ঘরে-ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। শোকাকুল আবালবৃদ্ধ নরনারী দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হ’য়ে ডুকরে কাঁদতে-কাঁদতে ছুটে আসেন ঠাকুর-বাংলোর পার্লারে— যেখানে তাদের প্রাণের জীয়নকাঠি, ইহপরকালের মালিক, স্রষ্টা, ঈশ্বর ও পরমপ্রভু লৌকিকতঃ শেষ শয়ানে আসীন। সকলে এসে দেখেন— তিনি যেন প্রশান্তভাবে ঘুমিয়ে আছেন। কে বলবে—তাঁর দেহে জীবন নেই?তাঁর শয্যাপার্শ্বে বসে আছেন শোকের প্রতিমূর্ত্তি ছোটমা, বড়দা, কাজলদা, বাদলদা, পিসিমা, ছোটবৌদি, রাঙ্গাবৌদি, বঙ্কিমদা প্রভৃতি। শ্রীশ্রীবড়মা পাশের একখানি শয্যায় শায়িত অবস্হায় স্তব্ধভাবে অঝোরে চোখের জল ফেলছেন। আত্মীয় ও ভক্তবৃন্দ অশ্রুপ্লুত চোখে তাকিয়ে আছেন প্রিয়পরমের মুখপানে। এই অমৃতমূর্ত্তি আরতো দু’চোখ দিয়ে দেখা যাবে না। তাই প্রাণের সবটুকু আকূতি নিয়ে শেষ দেখা দেখে নিচ্ছেন প্রতিপ্রত্যেকে। মাঝে-মাঝে বড়দা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন আর সহস্র-সহস্র পুরুষ, নারী, যুবা, বৃদ্ধ, শিশু শোকাবেগে উদ্বেল হ’য়ে উঠছেন।সে মর্ম্মন্তুদ, হৃদয়বিদারক দৃশ্য সহনাতীত। এরই মধ্যে বাইরে চলছে নামকীর্ত্তন। প্রায় তিনটের সময় ছোড়দা আসেন। তখন আর-একবার কান্নার রোল ওঠে।প্রায় পাঁচটার সময় শ্রীশ্রীঠাকুরের মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য রচিত বিশেষস্হানে (রোহিনী রোডের পশ্চিম পার্শ্বে, শ্রীশ্রীঠাকুরের নিজস্ব জমিতে)নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে পৌঁছাবার পর বড়দার কলকাতার বাড়ীর সবাই, সানুদি ও জামাইবাবুরা এবং অনেক ভক্ত এসে উপস্হিত হন! তখন আর-এক করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়।
সূর্যাস্তের পূর্ব্বেই শ্রীশ্রীঠাকুরের পূত নশ্বরদেহ বিশেষভাবে নির্ম্মিত একটি মঞ্চের উপরে চন্দনকাষ্ঠে রচিত চিতাশয্যায় শায়িত করার পর বড়দা শাস্ত্রীয় বিধান-অনুযায়ী মুখাগ্নিকৃত্য শেষকৃত্য সমাপ্ত হয় রাত্রি দশটার পর। তৎপর বিশেষভাবে আনীত গঙ্গাজলের দ্বারা চিতাভূমি প্রক্ষালিত করা হয়।বড়দা, ছোড়দা, কাজলদা, শ্রীশ্রীঠাকুর পরিবারের সবাই এবং সহস্র-সহস্র সৎসঙ্গী ও স্হানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং জনসাধারণ শেষমুহূর্ত্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্হান করেন।
আজ আমরা নিঃস্ব,পৃথিবী নিঃস্ব। তবু শোকস্তব্ধ হৃদয়ে বার-বার স্মরণ করি তাঁর কথা “আমি তোমাদের মধ্যে বেঁচে থাকতে চাই”। তাঁর এই পুন্য-বাণী আমাদের মহাশোক কে মহতী সাধনায় পর্য্যবসিত করুক।
বন্দে পুরুষোত্তমম্

তথ্যসূত্রঃ -----আলোচনা পত্রিকা, # মাঘ,১৩৭৫

26/07/2025

Sri Sri Thakur Anukul Chandra ji ke marg mein kaise chalna chahiye ? 🙏🏻 Full Speech.

🙏🏻
🙏🏻

।। যোগীর সাথে যোগাযোগ ‘‘যোগাৎ চিত্ত-বৃত্তি নিরোধঃ’’ ।।********************* বর্তমান পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্...
23/06/2025

।। যোগীর সাথে যোগাযোগ ‘‘যোগাৎ চিত্ত-বৃত্তি নিরোধঃ’’ ।।

*********************

বর্তমান পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বললেন, “যোগী মানেই বুঝবেন---যে যুক্ত, যার যোগ আছে অর্থাৎ কিছু বা কাহাতেও টান আছে,---এক-কথায় আসক্ত, কোন-কিছু বা কাহাতেও আসক্ত! আসক্তি থাকলে ভাবা, করা, কওয়ায় মানুষের যেমন-যেমন যা’-যা’ হয়, তাই করাই হচ্ছে যোগী বা যুক্ত বা অনুরক্ত মানুষের লক্ষণ। ......তাই, শাস্ত্রে যেখানেই যোগ বলে কথা আছে সেখানেই বুঝতে হবে, সে-কথা বাস্তব কিছুতে যুক্ত হওয়ারই কথা। আর, এই যোগ হলেই মানুষের চিত্তবৃত্তিনিরোধ হতে সুরু করে, কারণ, যাতে আমার টান যত বেশী, আমার সাধারণ প্রবৃত্তিই হয় আমার সমস্ত বৃত্তি দিয়ে তাকে উপভোগ করি---আর তার বাধা যেগুলি, সেগুলিকে এমনতরভাবে বিনিয়ে আমার এই উপভোগের পথের কোনরকম বাধা না সৃষ্টি করে বরং তার সাহায্য করে এমনতরভাবে নিয়ন্ত্রিত করতে একটা স্বতঃ-উৎসারিত ঝোঁক আমাদের থাকেই। তাই শাস্ত্রে আছে “যোগশ্চিত্তবৃত্তিনিরোধঃ’’। (কথাপ্রসঙ্গে, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৩৩)
আধ্যাত্মিক চেতনায় একনিষ্ঠ না হলে যোগের সাথে নিত্য-যুক্ত থাকা যায় না। সে বিষয়েও শ্রীশ্রীঠাকুর আমাদের সচেতন করার জন্য বললেন, ‘‘গীতায় আছে, ‘তেষাং জ্ঞানী নিত্যযুক্ত একভক্তির্বিশিষ্যতে’.........একভক্তি না হলে হবে না । পঁচিশ ঠাকুর করলেই মুস্কিল, বহু-নৈষ্ঠিক যারা তাদের জীবনে কোন সঙ্গতি থাকে না, তারা আস্তে আস্তে পাগলাটে হয়ে ওঠে । বহু-নৈষ্ঠিক মানে মূলতঃ তার কিছুতেই নিষ্ঠা নেই, নিষ্ঠা আছে রকমারি প্রবৃত্তি-স্বার্থে, তাই আত্মনিয়ন্ত্রণ বলে জিনিসটা তাদের জীবনে ঘটে ওঠে না, ফলে অভিজ্ঞতা বা জ্ঞানের উন্মেষ হয় না । ভক্তি ছাড়া, একানুরক্তি ছাড়া জ্ঞান ফোটে না । .....একভক্তি যার আছে... তার জ্ঞানের নাড়ী হয় টনটনে । কথায় বলে প্রহ্লাদমার্কা ছেলে. ......আগুনে, জলে, পাহাড়ে, পর্ব্বতে, অন্তরীক্ষে কোথাও ডরায় না ।.... তাই ভক্তির চাইতে বড় কামনার বস্তু আর নেই ......।’’
( আ. প্র. ২য় খন্ড, ২০. ১২. ১৯৪১)

নিজেকে যোগযুক্ত রাখতে শ্রীশ্রীঠাকুর সর্বদা সচেতন থাকতেন। একদিন একটা সুপুরীর টুকরো মুখে দিতে গিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে নীচে পড়ে যায়। ঠাকুর খাট থেকে নেমে সুপুরীর টুকরোটাকে খুঁজে পিকদানিতে ফেলে হাত ধুয়ে খাটে উঠে বসেন। আর একটা সুপুরীর টুকরো মুখে দেন। সামান্য এক টুকরো সুপুরী, তা-ও আবার খুঁজে নিয়ে ফেলে দিলেন। এই সামান্য কাজটা তো যে কেউ করতে পারত, তার জন্য খাট থেকে নেমে কষ্ট করে সুপুরী খুঁজতে গিয়ে অমূল্য সময় নষ্ট করার পেছনে কোন লাভজনক যুক্তির খোঁজ না পেয়ে উপস্থিত যুক্তিবাদীরা অনুযোগ করলে ঠাকুর বলেছিলেন, তোমাদের হিসাবে আমি বেকুব, আমার হিসাবে আমি কিন্তু চালাক। আমার হাতের সাথে মুখের স্নায়বিক যোগসূত্র ছিন্ন হবার ফলে আমি যোগভ্রষ্ট হই, সুপুরীটা নীচে পড়ে যায়। প্রারব্ধ কর্মফলে ওই অপারগতা যাতে যোগ না হয় তাই একটু সময নষ্ট করে নিজের ত্রুটি নিজেই সংশোধন করে নিলাম।
যোগ বোঝাতে গিয়ে ঠাকুর একদিন গল্পচ্ছলে বলেছিলেন, এক গোয়ালার অনেকগুলো গোরু ছিল। ওই গোরুগুলোর দুধ এবং দুগ্ধজাত ছানা, দৈ, ঘোল, মাখন, ঘি নিজেরা খেত, পাড়াপড়শীদেরও দিত। গোয়ালার বয়স হওয়াতে ছেলেকে একদিন একটা পাঁচন হাতে দিয়ে গোরু চরাবার ভার দেয়। ছেলে মাঠে নিয়ে গোরুগুলোকে চরতে দিয়ে দেখল, একটা পাঁচনের লাঠি দিয়ে কিছুতেই গোরুগুলোকে বাগে আনতে পারছে না। এদিক-ওদিক চলে যাচ্ছে। তাই সে ভাবল, একটা পাঁচন দিয়ে সব গোরু সামলানো যাবে না। সে তখন একমনে এক-একটা গোরুর জন্য আলাদা আলাদা পাঁচন বানাতে শুরু করলো। পাঁচন বানানো শেষ করে গোরু সামলাতে গিয়ে দেখে নির্দিষ্ট স্থানের কাছাকাছি গোরুগুলো নেই, চরতে চরতে অনেক দূরে দূরে জঙ্গলে চলে গেছে। ওদিকে বেলা গড়িয়ে গোধূলি-প্রায়। ছেলে নিরুপায় হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাবাকে গিয়ে সব কথা খুলে বললে বাবা কোন তিরস্কার না করে ছেলেকে বুঝিয়ে বলেন, “বাপু, এক পাঁচনেই লাখ গোরু ঠেকানো যায়। যার যেমন দরকার, তেমনতর ঠক্কর মারলেই তো হয়! তোমার এই অতিবুদ্ধি সব বেসামাল করে ফেলেছে।’’ (কথাপ্রসঙ্গে, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৩৪) অবশেষে বাবার কাছ থেকে গোরুর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ঠক্কর মারার কায়দা শিখে ওই এক পাঁচনের সাহায্যেই গোরুগুলোকে বাগে আনতে শিখে যায়।
ওই ঠোক্কর মারার কায়দা যিনি শেখাতে পারেন তিনিই ঠাকুর, তিনিই যোগসিদ্ধ গুরু। যোগসিদ্ধ গুরুর কাছ থেকে কাকে, কখন, কতটুকু ঠোক্কর কিভাবে মারতে হবে সেই কায়দা একবার শিখে নিতে পারলে আমাদের বিশৃঙ্খল ইন্দ্রিয়গুলোকে একমুখী আসক্তির সাথে যুক্ত করে যোগ-কে উপলব্ধি করা যায়। তাহলে পালের গোরুগুলো পালেই থাকবে, বেশী কায়দা করতে গেলে গোরুগুলো পালছাড়া হয়ে যাবে।
যোগসিদ্ধ গুরু শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র তাঁর নিত্যলীলায় যোগশাস্ত্রে বর্ণিত আসন-মুদ্রাদি তিনি কোন কালেই অভ্যাস করেন নি। তিনি ছোটবেলা থেকেই নামধ্যান করতেন। তিনি তাঁর ভাগবত আন্দোলন কীর্তন দিয়ে শুরু করেছিলেন। কীর্তন করতে করতে সমাধিস্থ হতেন। সেই সময় যোগশাস্ত্রে বর্ণিত সকল ধরণের আসন-মুদ্রাদি অবলীলায় করতেন। তিনি কীর্তনের মাধ্যমে অনেকানেক পালছাড়াদের পালে ভেড়ালেন। তারা আবার যাতে পালছাড়া না হয়ে পড়ে তারজন্য কাজে মাতিয়ে দিয়ে গড়ে তুললেন ভারতীয় আর্য্য ভাবধারার নিদর্শন স্বরূপ এক আদর্শ প্রতীকী রাষ্ট্র---হিমাইতপুর সত্সঙ্গ আশ্রমে। ব্যক্তি, দম্পতি, গৃহ, সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনকে শুদ্ধ-বুদ্ধ-পবিত্র করে এক যোগে বাধতে দীক্ষা, শিক্ষা, বিবাহ, কৃষি ও শিল্পের নবীকরণ করলেন।
শ্রীশ্রীঠাকুরের ভাগবত আন্দোলনের কীর্তনযুগের সাধকেরা কীর্তনের এবং নামের শক্তি সঞ্চারণা করে রোগ-শোক-ব্যাধি-জরা-য় জর্জরিত, প্রবৃত্তি-পীড়িত মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে অধিষ্ঠিত করে অমৃতের সন্ধান দিয়েছিলেন। অনুরূপভাবে তাণ্ডবনৃত্যে কীর্তন, আর নিয়ম করে নামধ্যান করতে পারলে নিজেকে এবং পরিবেশকে সবদিক দিয়ে যে সুস্থ রাখা সম্ভব, তা বলাই বাহল্য।
জীবাত্মাকে পরমাত্মার সাথে প্রতিনিয়ত যোগযুক্ত রাখতে শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁর অনুগামীদের একটা ছোট্ট নিদেশ-বাণীতে সব বুঝিয়ে দিলেন।
ঊষা-নিশায় মন্ত্রসাধন
চলাফেরায় জপ
যথাসময়ে ইষ্টনিদেশ
মূর্ত্ত করাই তপ।
মন্ত্র সাধনের জন্য সকাল-সন্ধ্যায় নিয়ম করে ধ্যানাভ্যাস করা। প্রতিবার ধ্যানান্তে ‘আমি অক্রোধী, আমি অমানী’ ইত্যাদি স্বতঃ-অনুজ্ঞার অর্থগুলোকে আয়ত্ত করতে পারলে প্রবৃত্তির নিগ্রহ থেকে সহজেই মুক্তি লাভ করা যায়। ধ্যান করার পর দিগন্তের দিকে, সবুজের দিকে তাকালে চক্ষুর দৃষ্টি ভাল থাকে। চলাফেরায়, কাজেকর্মে, শয়নে-স্বপনে ইষ্টে অনুরাগ সমন্বিত হ'য়ে নামজপ করার অভ্যাসে পরমাত্মিক শক্তির স্বারূপ্য লাভ হয়। নিয়মিত শবাসন করলে হৃদরোগ হবার আশঙ্কা থাকে না। নিয়মিত থানকুনি পাতা খেলে শরীর বিধানের রেচনক্রিয়া সুস্থ থাকে। সত্তাপোষণী নিরামিষ আহার, মাসান্তে কমকরে একটি দিন, হবিষ্যান্ন গ্রহণ, পাতিত্য কর্ম থেকে ত্রাণ পেতে শিশু প্রাজাপত্য, প্রাজাপত্য এবং মহাসান্তপন ব্রত পালনে শরীর-মনের অসঙ্গতি দূর হয়, শরীর নিরোগ থাকে।
নাম জপ করা প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন—নাম করলে অনেক সময় জ্বর কমেও যায়। কারণ, ব্যাকটেরিয়াগুলি পুড়ে যায়। রোগীর শরীর ছুঁয়ে নাম করলে তাতেও রোগ ভাল হয়। ঐ জন্য কুষ্টিয়াতে একটা দালানে ত্রিশটা bed (শয্যা) ছিল। রাধারমণ প্রভৃতি ছিল। রোগী আসলে শুশ্রূষা করত, ছুঁয়ে নাম করত। ডবল নিউমোনিয়া ৩/৪ দিনে, এমনকি রাতারাতি সেরে যেত।
(সুত্র—আলোচনা প্রসঙ্গে ১৮ খণ্ড)
আমাদের আর্য্যহিন্দু-শাস্ত্র এবং যোগশাস্ত্র অনুসারে সূর্যোদয়ের পর শয্যাত্যাগ করলে পাতিত্যদোষে দুষ্ট হতে হয়। এবং প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ উপবাসী থাকার নিদেশ দেওয়া আছে। শ্রীশ্রীঠাকুর আমাদের ওই পাতিত্যদোষ থেকে মুক্ত করে নিয়ত যোগযুক্ত রাখতে দিনচর্যার এক সহজ নিদেশ দিলেন অনুশ্রুতি গ্রন্থের বাণীতে।
ঊষার রাগে উঠবি জেগে শৌচে শীতল হবি,
সন্ধ্যা–আহ্নিক জপ সাধনায় ঈশের আশিস লবি।
কুতুহলে পড়শি ঘুরে দেখবি সযতনে,
আছে কেমন কোথায় কে জন মন দিবি রক্ষণে।
তারপরেতে বাড়ী এসে শৌচে যথাযথ,
গৃহস্হালীর উন্নয়নী অর্জ্জনে হ’ রত।
স্নানটি সেরে আহ্নিক করে ক্ষুধামতন খাবি,
একটু চলে বিশ্রাম নিয়ে আগুয়ানে ধাবি।
এমনি তালে সচল চালে চলে সন্ধা এলে,
শৌচে শুদ্ধ হয়ে করিস আহ্নিক হৃদয় ঢেলে।
উন্নয়নের আমন্ত্রনী গল্প-গুজব শীলে,
হৃষ্টমনে আলোচনায় কাটাস সবাই মিলে।
পড়শী দিগের অভাব-নালিশ থাকেই যদি কিছু,
তার সমাধান যেমন পারিস করিস লেগে পিছু।
করন-চলন ধরন-ধারন যজন যাজন কিবা,
সকল কাজেই ইষ্টস্বার্থে চলিস রাত্রি-দিবা।
আদর-সোহাগ উদ্দীপনী কথায় কাজে ঝুঁকে,
স্বার্থ-কেন্দ্র সবার হবি ধরবি ইষ্টমুখে।
বিশ্রামেরই সময় গা-টি ঘুমল হয়ে এলে,
ইষ্ট-চলন মনন নিয়ে ঘুমে গা দিস ঢেলে।
(অনুশ্রুতি গ্রন্থ থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বাণী)
শ্রীশ্রীঠাকুর আহ্বানীসহ পূর্ণাঙ্গ প্রার্থনা মন্ত্রে আচমন, বাংলা সমবেত প্রার্থনা ও বাংলা সমবেত প্রার্থনার অবশিষ্টাংশ সন্দর্ভে কতগুলো সহজ আসন এবং প্রাণায়ামের নিদেশ রেখে গেছেন। সেই নিদেশ মেনে আমরা যদি সঠিক অনুশীলন করতে পারি তাহলে সহজ-যোগে ব্যাধিমুক্ত হয়ে পরমাত্মার সাথে যোগযুক্ত থাকতে পারব। (দ্রঃ ঋত্বিগাচার্য্য কৃষ্ণপ্রসন্ন ভট্টাচার্য্য প্রণীত অনুসৃতি, যতি-ঋত্বিক শ্রীশরত্চন্দ্র হালদার প্রণীত যুগবাণী এবং সত্সঙ্গ পাব্লিশিং কর্তৃক প্রকাশিত প্রার্থনা শিরোনামের গ্রন্থাবলী।)
শ্রীশ্রীঠাকুরের এক অনন্য দৈবী অবদানের নাম ইষ্টভৃতি। ইষ্টের প্রীতির জন্য কাউকে পীড়িত না করে, নিজে পীড়িত না হয়ে, বর্ণানুগ কর্মের সেবার মাধ্যমে, বৃহত্তর পরিবেশে, ঘটে ঘটে ইষ্ট স্ফূরণের বা মঙ্গল প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত থাকার বিনিময়ে অযাচিত প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পদকে বলা হয়েছে অনুগ্রহ অবদান । ওই অনুগ্রহ অবদানকে ঠাকুর ‘দিন গুজরানী আয়’ অভিধায় ভূষিত করেছেন। ওই ‘দিন গুজরানী আয়’-এর অগ্রভাগ প্রতিদিন পানাহার করার পূর্বে ইষ্ট-নীতি ভরণের শপথ করে নিবেদন করার নাম ইষ্টভৃতি মহাযজ্ঞ। যা নিখুঁতভাবে পালন করলে শরীর-মন-আত্মার অসঙ্গতি দূর হয়। আর্য্যকৃষ্টির সদাচার এবং বর্ণাশ্রম ধর্ম রক্ষিত হয়।
শ্রীশ্রীঠাকুরের আর একটি অনন্য দৈবী অবদানের নাম স্বস্ত্যয়নী ব্রত। প্রবৃত্তির সব বিপাক এবং গঞ্জনা থেকে মুক্ত করে আমাদের স্মৃতিবাহী চেতনায় সমৃদ্ধ রাখতে প্রবর্তন করলেন পঞ্চনীতি সমন্বিত স্বস্ত্যয়নী ব্রতের। জড়-পদার্থে নির্মিত মন্দিরের পরিবর্তে নিজ-নিজ দেহটাকেই শ্রীবিগ্রহ মন্দির জ্ঞানে পবিত্রতার সাথে রক্ষা করতে নিদেশ দিয়েছেন এই ব্রতের মাধ্যমে, যেহেতু এই দেহের মধ্যেই রয়েছে পরমাত্মার আবাসস্থল। ভোগ, দুর্ভোগ, উপভোগ, মুক্তি, পরামুক্তি, পরাগতি সবকিছুই এই দেহের মধ্যেই। যা নাই ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে এই দেহভাণ্ডে। আমাদের আর্য্য শাস্ত্রাদিতেও একথার উল্লেখ রয়েছে। শ্রীশ্রীঠাকুর জীবাত্মার মধ্যে সুপ্ত পরমাত্মাকে জাগাতে বলেছেন নামের মাধ্যমে। ৫টি কর্মেন্দ্রিয়, ৫টি জ্ঞানেন্দ্রিয়, মন, বিবেক, জীবাত্মা, পরমাত্মাদির সমন্বয়ে সৃষ্টি এই দেহমন্দিরকে পবিত্র রাখার, সুস্থ-স্বস্থ রাখার ভাগবত-বিধির পালন-পদ্ধতি সহজভাবে বিধায়িত করেছেন শ্রীশ্রীঠাকুর এই ব্রতের মাধ্যমে।
শ্র্রীশ্র্রীঠাকুর প্রবর্তিত যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি, স্বস্ত্যয়নী, সদাচারাদি নিখুঁতভাবে পালন করার নাম ইষ্টকর্ম। ইষ্টকর্ম ব্যতীত কর্ম অনিষ্টকর্ম। সেই ইষ্টকর্মে যুক্ত থাকলে সহজেই যোগসিদ্ধ হওয়া যায়।
কাম-আবেশে স্ত্রী-পুরুষে
যেমন করে উপভোগ,
ইষ্টকাজে বাস্তবতায়
তেমনি হলে তবেই য়োগ।

সব প্রবৃত্তি রত থাকে
ইষ্টকর্ম লয়ে,
সেই তো যোগী, সে-ই সন্ন্যাসী
কাল নত যার ভয়ে।
কালাধীশ ঠাকুরের চাহিদামত ইষ্টকর্ম করে একবার যোগী হতে পারলে চিরতরে নিশ্চিন্ত, কালের কবলে পড়ে ভীত হতে হবে না, কাল হবে যোগীর অধীন।
পরিশেষে জীবনপিয়াসী মানুষদের কাছে, ইষ্টপ্রাণ দাদা ও মায়েদের কাছে পরমপিতার এই দীন সন্তানের কাতর আবেদন, আমরা যেন নিত্য ইষ্টকর্মের মাধ্যমে পরমপিতার সাথে যোগযুক্ত থেকে পরিবেশের সব্বাইকে জীবনের জয়গানে যুক্ত করে নিতে পারি। সবাই যেন মুক্তকণ্ঠে বলতে পারে, ‘আমি সবার, আমার সবাই।’
-------

09/02/2025
08/02/2025

অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী জ্ঞান কী ? শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র 🙏🏻

01/02/2025

সৎসঙ্গ চলাকালীন কেমন আচরণ করতে হয় শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র 🙏🏻


শুভ জন্মদিনে পূজ্যপাদ অবিনদাদার শ্রীচরণে আমার আভূমিলুন্ঠিত প্রনাম জানাই।
05/01/2025

শুভ জন্মদিনে পূজ্যপাদ অবিনদাদার শ্রীচরণে আমার আভূমিলুন্ঠিত প্রনাম জানাই।

❝ *চোখের জল দুই কারণে পড়ে। বৃত্তি-প্রবৃত্তির ধান্ধায় এবং পরমপিতার জন্য। ভক্ত কখনো নিজের দুঃখ-কষ্টের জন্য কাঁদে না। তার...
24/08/2024

❝ *চোখের জল দুই কারণে পড়ে। বৃত্তি-প্রবৃত্তির ধান্ধায় এবং পরমপিতার জন্য। ভক্ত কখনো নিজের দুঃখ-কষ্টের জন্য কাঁদে না। তার চোখের জল আসে পরম পিতার অফুরন্ত দয়ার কথা স্মরণ ক'রে।নিজের জন্য, নিজের স্বার্থসিদ্ধির ধান্ধায় কাঁদলে মন সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।.... ভক্ত নিজের দুঃখ-কষ্টকে দুঃখ-কষ্টই মনে করে না। সে ইষ্ট চিন্তায় ভরপুর হয়ে থাকে। সে জানে যে, ইষ্টস্বার্থ প্রতিষ্ঠা করার জন্যই তার জীবন* ❞

-পরমপূজ্যপাদ শ্ৰীশ্ৰীবড়দা
[ইষ্ট প্রসঙ্গে-১ম খন্ড/১৫.১০.১৯৭৩]

The Holy 131st Abirbhav Divas of Jagajjanani Sree Sree Barama 🙏🏻🙏🏻🙏🏻
30/07/2024

The Holy 131st Abirbhav Divas of Jagajjanani Sree Sree Barama 🙏🏻🙏🏻🙏🏻

10/07/2024

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের অমৃত কথা 🙏🏻🙏🏻
পেজটিকে Follow করে আমাদের সাথে যুক্ত হোন।
জয়গুরু 🙏🏻🙏🏻🙏🏻

যখন কারো মনে হবে আমার পাশে কেউ নেই, জসিডির টিকিট কাটবেন আর চলে আসবেন. ...আমি দাঁড়িয়ে আছি আপনার জন্যে।                 - ...
20/04/2024

যখন কারো মনে হবে আমার পাশে কেউ নেই, জসিডির টিকিট কাটবেন আর চলে আসবেন. ...আমি দাঁড়িয়ে আছি আপনার জন্যে।
- Pujonio Abinda

Address

Vivekananda Nagar, PO/Purba Udairajpur, Madhyamgram
Kolkata
700129

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Satsang ThakurBari Madhyamgram Official posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share