02/04/2023
সাত পাকে বাধা - বশিষ্ঠ ও অরুন্ধতী -
মহাকাশ তত্ত্বের নাক্ষত্রিক গবেষণায় আপাতদৃষ্টিতে দেখা যায় যেকোনো দ্বৈত নক্ষত্রের ক্ষেত্রে তুলনায় আকৃতিতে বড় নক্ষত্রটি অপেক্ষাকৃত ছোট নক্ষত্রটিকে তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারা নিজের দিকে আকৃষ্ট করে আর ছোট নক্ষত্রটি তার নিজস্ব কক্ষপথে বড় নক্ষত্রটিকে কেন্দ্র করে তার চারপাশে পরিবৃত্ত করে। কিন্তু বশিষ্ট ও অরুন্ধতী নক্ষত্রের ক্ষেত্রে তা হয় না, বরঞ্চ এরা দুজনেই নিজস্ব কক্ষপথে দু’জনকে পরিভ্রমণ করে। সম অধিকারে, সম মর্যাদায় ও সম্পর্কের অটুট বন্ধনে তাই প্রচীন বৈদিক ঋষিরা আদর্শ বৈবাহিক, সুখী দাম্পত্য জীবনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসাবে বশিষ্ট ও অরুন্ধতী নক্ষত্রদ্বয়কে বেছে নিয়েছিলেন। ষোড়শ সংস্কার বিধির অন্যতম বিবাহের ক্ষেত্রে তাই সনাতন হিন্দু শাস্ত্রে বিবাহের সাত পাকে বাঁধা সম্পন্ন হওয়ার রীতি কে বশিষ্ট ও অরুন্ধতী রূপে নক্ষত্রদ্বয়কে চয়ন করেছিলেন। বশিষ্ঠ ও অরুন্ধতী বৈদিক জীবন ধারায় আদর্শ দম্পতি রূপে চিহ্নিত।
এখানে উল্লেখ করি যে বেদে নক্ষত্র শব্দের অর্থ কি?
নক্ষত্র শব্দটিকে পরিবর্ধিত করে অর্থব বেদে উল্লেখ করা হয়েছে – ‘ন ক্ষরতি’ অর্থাৎ যার কোনো ক্ষয় নেই। তাই নক্ষত্রকে বেদের পরিভাষায় স্থায়িত্বের চিহ্ন হিসাবে গণ্য করা হয়েছে।
হিন্দু শাস্ত্র মতে বিবাহের সময় পাত্র-পাত্রী অগ্নিকে সাক্ষ রেখে, তার চারপাশে ধীর পদক্ষেপে প্রদক্ষিণ করে, যাকে সাত পাকে বন্ধন বা সাতফেরা বলা হয়। এই বিশেষ মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে পাত্র-পাত্রী উভয়েই, উভয়ের পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের উপস্থিতিতে, মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করে যে, ‘তারা জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য ধর্মীয় বন্ধনে আবদ্ধ হল।’ নক্ষত্রের মত উজ্জ্বল ক্ষয় হীন অবিচ্ছেদ্য পতি পত্নীর সম্পর্ক - যার আদর্শ ঋষি বশিষ্ঠ ও অরুন্ধতী।
भगो अर्यमा सविता पुरंधिर्मह्यं त्वादुर्गार्हपत्याय देवाः॥
সাবিত্রী (বেদমাতা), পুরন্ধি আদির (জ্ঞানের প্রতীক) আশীর্বাদে তোমার মতো স্ত্রী পেয়েছি।