06/07/2025
শয়ন একাদশীর মাহাত্ম্য!
আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর সম্বন্ধে যুধিষ্ঠির মহারাজ শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞেস করলে ব্রহ্মা এই একাদশী সম্পর্কে দেবর্ষি নারদকে যা বলেছিলেন তিনি তা বললেন। শ্রীব্রহ্মা বললেন -হে নারদ! এ সংসারে একাদশীর মতো পবিত্র আর কোন ব্রত নেই। সকল পাপ বিনাশের জন্য এই বিষ্ণুব্রত পালন করা একান্ত আবশ্যক। যে ব্যক্তি এই প্রকার পবিত্র পাপনাশক এবং সকল অভিষ্ট প্রদাতা একাদশী ব্রত না করে তাকে নরকগামী হতে হয়। আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের এই একাদশী ‘শয়নী’ নামে বিখ্যাত। শ্রীভগবান হৃষিকেশের জন্য এই ব্রত পালন করতে হয়। এই ব্রতের সম্বন্ধে এক মঙ্গলময় পৌরাণিক কাহিনী আছে।
বহু বছর পূর্বে সূর্যবংশে মান্ধাতা নামে একজন সত্যপ্রতিজ্ঞ এবং প্রতাপশালী চক্রবর্তী রাজর্ষি ছিলেন। সেই রাজ্যে কোন অসুবিধা না থাকলেও একসময় হঠাৎ দৈবদুর্বিপাকে ক্রমাগত তিনবছর সে রাজ্যে কোন বৃষ্টি হয়নি।
তখন প্রজারা রাজার কাছে এসে বলতে লাগল- শাস্ত্রে জলকে 'নার' বলা হয় আর সেই জলে ভগবানের 'অয়ন' অর্থাৎ 'নিবাস'। তাই ভগবানের এক নাম নারায়ণ। মেঘরূপে ভগবান বিষ্ণু সর্বত্র বারিবর্ষণ করেন। সেই বৃষ্টি থেকে অন্ন এবং অন্ন খেয়ে প্রজাগণ জীবন ধারণ করে। এখন সেই অন্নের অভাবে প্রজারা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। তাই অন্নের জন্য তারা রাজাকে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করলেন।
তারপর রাজা ব্রহ্মাকে প্রণাম করে সৈন্যসহ বনে গমন করে প্রধান প্রধান ঋষিদের আশ্রমে ভ্রমণ করলেন। এভাবে একদিন তিনি ব্রহ্মার পুত্র মহাতেজস্বী অঙ্গিরা ঋষির সাক্ষাৎ লাভ করলেন। রাজা তখন তার বনে আগমনের কারণ সবিস্তারে ঋষির কাছে জানালেন।
ঋষি অঙ্গিরা কিছু সময় ধ্যানস্থ থাকার পর জানালেন সত্যযুগে যেহেতু শুধু ব্রাহ্মণদেরই বেদপাঠের অধিকার তাই একজন শূদ্র বেদ পাঠ করায় এই অবস্থা। তিনি সেই শূদ্রকে হত্যা করতে বললে রাজা তপস্যাকারী নিরপরাধ ব্যক্তিকে বধ করতে সংশয় প্রকাশ করেন। তাই ঋষি তখন তাকে আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের 'শয়নী' নামে প্রসিদ্ধা একাদশী ব্রত পালন করতে বলেন। এই ব্রতের প্রভাবে রাজ্যে নিশ্চিতভাবে বৃষ্টি হবে। এই একাদশী সর্বসিদ্ধি দাত্রী এবং সর্ব উপদ্রব নাশকারিনী।
মুনিবরের কথা শুনে রাজা নিজের প্রাসাদে ফিরে এসে আষাঢ় মাস উপস্থিত হলে রাজ্যের সকল প্রজাসহ এই একাদশী ব্রতের অনুষ্ঠান করলেন। ব্রত প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলো। কিছুকালের মধ্যেই অন্নাভাব দূর হলো। ভগবান হৃষিকেশের কৃপায় প্রজাগণ সুখী হলো। এ কারণে সুখ ও মুক্তি প্রদানকারী এই উত্তম ব্রত পালন করা সকলেরই অবশ্য কর্তব্য।