20/10/2025
🪔 অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্যি— মায়ের অশ্রুধারা নিজের চোখে দেখেছিল ভক্তরা 🙏
প্রতিবছরের মতোই, পুজোর পরের দিন মায়ের নিরঞ্জন পরিকল্পিত ছিল। ঠিক তেমনই ১৯৮০ সালের শ্যামাপুজাতেও সমস্ত আয়োজন প্রস্তুত ছিল। কিন্তু সেই বছর বিসর্জনের দিনটি পড়েছিল শনিবার। কিছু সদস্য ও পুরোহিত জানালেন, শনিবারের দিনে মায়ের বিসর্জন দেওয়া শুভ নয়। কিন্তু অধিকাংশ সদস্য সমিতির প্রথা মেনে দৃঢ়ভাবে স্থির করলেন— আজই হবে বিসর্জন।
বেঁধে গেল প্রস্তুতির তোরজোড়, ঢাকের তালে তালে শুরু হলো আয়োজন।
সবশেষে, যখন মায়ের মৃন্ময়ী রূপকে আসন থেকে নামানোর মুহূর্ত এলো— তখনই ঘটল এক অলৌকিক ঘটনা।
মায়ের মূর্তি যেন পৃথিবীর গভীরে গেঁথে গেছে, নড়ানোই যাচ্ছে না।
ভাবা হলো, আগে মায়ের প্রতিষ্ঠিত ঘটটি তোলা যাক। কিন্তু সে ঘটও অচল! বহুজন মিলে প্রাণপণ চেষ্টা করেও একচুল সরাতে পারল না।
তারপর শুরু হলো জেদের লড়াই।
মানুষের শক্তি, মানুষের অহংকার— শাবল দিয়ে পিচ করা রাস্তার ওপরের ইটের বেদী ভেঙে ঘট তুলতে চেষ্টা চলল। অবশেষে সফলও হলো তারা। কিন্তু অবাক করে, ঘটের সঙ্গে উঠে এলো তিন ফুট মাটি!
জয়ের উল্লাসে মাতল সকলে।
তখনই, যাঁরা এই বিসর্জনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁরা কোনো কথা না বলে এগিয়ে এসে কষ্টে সেই ঘট আবার আগের স্থানে স্থাপন করলেন।
সবাই অবাক হয়ে তাঁদের দিকে তাকিয়ে রইল।
কিন্তু তাঁরা নীরব।
তাঁদের চোখ ভিজে অশ্রুতে।
আঙুল তুলে তাঁরা দেখালেন— মায়ের মৃন্ময়ী রূপের হাতে ধরা খড়গটির দিকে।
সেই খড়গের মাঝে অঙ্কিত ছিল এক চক্ষু, আর সেই চক্ষু থেকে টলমল করে গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রুধারা।
মা নিজেই জানিয়ে দিলেন— তিনি যেতে চান না।
সেই দৃশ্য দেখে স্তব্ধ হলো সকল ভক্ত। কোথাও কোনো জলের উৎস পাওয়া গেল না।
অহংকার ভেঙে গেল মুহূর্তে, সবাই আবার আরতি করে ক্ষমা প্রার্থনা করল।
মা এভাবেই আলোকিত করলেন তাঁদের হৃদয়— দূর করলেন অন্ধকার, জাগিয়ে তুললেন বিশ্বাস।
এই ঐশ্বরিক ঘটনা ঘটেছিল আমাদের কলেজ রো বালক সমিতি-র মণ্ডপেই।
মা তাঁর উপস্থিতির অলৌকিক ছোঁয়ায় যে বিশ্বাসের বীজ বপন করেছিলেন, তা আজও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।
🌺 জয় মা 🌺
শিল্পী Madhab Paul শ্রদ্ধেয় পিতার ভাস্কর রত্ন কালীপদ পালের তৈরি প্রথম প্রতিমা থেকেই শুরু হয়েছিল আমাদের পূজার গৌরবময় যাত্রা — আজও সেই শিল্পের আলো ছড়িয়ে আছে প্রতিটি নিপুণ স্পর্শে।
#কলকাতা #মা #কলেজরো