16/08/2025
শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গৌ জয়তঃ
শ্রী জন্মাষ্টমী ব্রত-মাহাত্ম্য
ভবিষ্যোত্তর পুরাণে শ্রীকৃষ্ণ-যুধিষ্ঠর সংবাদে শ্রী- জন্মাষ্টমী ব্রত-মাহাত্ম্য উক্ত হইয়াছে, -হে পান্ডব! যেস্থানে মানবগণ বর্ণমালায় লিখিত আমার নাম বা চিত্রপটে অংকিত আমার শ্রীমূর্তিকে চন্দনচূণাদিতে চচ্চিত করিয়া ও সর্বালঙ্কারে ভূষিত করিয়া আমার পূণ্য জন্ম দিনে সর্বদা পূজা করে,সে দেশে কখনও পরচক্রের ভয় থাকে না, যথা সময়ে বৃষ্টিপাত হয় এবং অতিবৃষ্টি,অনাবৃষ্টি,পতঙ্গ,মূষিক প্রভৃতি ঈতিভয়েরও আশঙ্কা থাকে না। দেবকী- চরিত্র ও আমার জন্মবৃত্তান্ত যে গৃহে লিখিত থাকে এবং পূজিত হয়,সে-স্থানে সকল সমৃদ্ধির সমাগম হয় এবং কোনপ্রকার উপদ্রব থাকে না। কোন-প্রসঙ্গেও কেহ জন্মাষ্টমী- ব্রত অনুষ্ঠান করিলে নিঃসন্দেহে তাঁহার বিষ্ণুলোক লাভ হয়। হে পার্থ! নন্দগোপের আনন্দদায়িনী সেই শ্রীজন্মাষ্টমীতিথি জীবগণেরও পরমানন্দ বিধান করে, তাহাদের পাপ সকল তৎক্ষণাৎ হরণ করে। সুতরাং এ দিনে- নন্দ-যশোদাসহ তৎপুত্রের পূজা করিলে বিষ্ণুর পরমপদ লাভ হইয়া থাকে।’
জন্মাষ্টমী-বাসরে ভোজন করিলে ত্রিভূবনের যাবৎ পাপভোজনই হইয়া থাকে। তিল মাত্রও উদর পূরণে যমদূতগনের নিকট সেই ব্যক্তি তিল তিল- করিয়া যাতনা পিষ্ট হয়। দ্বাদশীব্রতানুষ্টান করিলেও তাহার নরক হইতে উদ্ধার নাই। জয়ন্তী ব্রতের যিনি বিমুখ, তাহাকে ব্রহ্মহত্যা, সুরাপান, গোবধ, স্ত্রীবধ প্রভৃতি মহাপাপে লিপ্ত হইতে হয়-ইহলোক বা পরলোক কোথাও তাহার সুখ নাই।যে-নারী প্রতি বর্ষে এই পরমপবিত্র ব্রত পালন না করে, সে সর্প হইয়া বনবাস করে এবং উক্ত ব্রতবিমুখ নর- ক্রূররাক্ষসরূপে জন্মগ্রহণ করে। শ্রীকৃষ্ণজন্মাষ্টমী- ব্রত ত্যাগ করিয়া যদি কেহ অন্য ব্রতের সাধন করে, তবে সেই সেই ব্রতজনিত কোন পূণ্যই তাহার লাভ হয় না। নিজ ধনানুসারে এমনকি অল্পবিত্ত- ব্যয়েও এই ব্রতানুষ্টান করিতে হইবে - নচেৎ চতুর্দশ ইন্দ্রপাত যাবৎ নরকে বাস করিতে হইবে ( বিষ্ণু- রহস্যে ব্রহ্ম-নারদ সংবাদ)।
কলিযুগে যে-সকল ধন্য ব্যক্তি সর্বপাপহারিণী শ্রীকৃষ্ণ- জন্মাষ্টমী-তিথিতে উপবাসী থাকিয়া- শ্রীহরির পূজা করেন, সংসারে তাহাদের কোনরূপ ভবভীতি থাকে না এবং তাঁহারা যে স্থানে বাস করে,তথায় কলি অবস্থান করে না’(ব্রহ্মপুরাণে পূর্বখন্ডে শ্রীসূতবাক্য)। ‘কংসাদি অসুরগণের বিনাশের জন্য শ্রীহরি যে -দিনে আবির্ভূত হইয়াছেন সেই পরমপবিত্র দিন সকল মঙ্গলের আলয়।সনাতন পুরাণ-পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণের ভূতলে সেই সাক্ষাৎ অবতরণের মহাতিথি যে অনায়াসেই মুক্তি-
দানে সমর্থা, ইহাতে আর আশ্চর্য্য কি? এই ব্রত- ধারনেই পরমমঙ্গল, ইহাই পরম-তপস্যা এবং ইহাই পরম-ধর্ম’ (ব্রহ্মপুরিণে শ্রীশুক-জন্মেনজয় সংবাদ)।
শ্রাবণ কৃষ্ণাষ্টমী তিথি ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ প্রদানকারিণী। যাঁহারা উক্ত ব্রতানুষ্ঠান স্বয়ং করেন এবং অপরকেও করাইয়া থাকেন, লক্ষ্মীদেবী তাহাদের ঘরে অচলা হইয়া অবস্থান করেন। এই ব্রত-সাধনে যে ফল লাভ হয়, উহার তুল্য বা অধিক ফল বেদে বা পুরাণেও দেখা যায় না-অর্থাৎ মোক্ষ-তুচ্ছকারী শ্রীকৃষ্ণপ্রেমই পঞ্চম-পুরুষার্থ, যাহা শুদ্ধভক্তগণের আনুগত্যে উক্ত ব্রত পালন লাভ হইয়া থাকে।’ ‘ যথাবিধি শ্রীকৃষ্ণজন্মাষ্টমী-ব্রত
অনুষ্ঠিত হইলে শ্রীযমরাজ বিষন্ন বদনে উক্ত- ব্যক্তির পাপ- তালিকা মুছিয়া দেন। যিনি- জন্মাষ্টমী-বিসরে দেবকীদেবীসহ শ্রীহরির আরাধনা
করেন তিনি ভীষণ যমপথে না গিয়া বিষ্ণুরপদে -আশ্রয় লাভ করেন। উক্ত ব্রত কৃত হইলে সকল- কার্য্য সিদ্ধ হয় এবং মৃত্যুভয়ে শ্রীকৃষ্ণের স্মরণ হয়।
অতএব হে নারদ! পরমমঙ্গল লাভ করিতে হইলে আমার আজ্ঞায় জয়ন্তীব্রত পালন করে’।
( স্কন্দপুরাণে ব্রহ্ম-নরদ সংবাদ)
ক্রমশঃ
শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ গৌড়ীয় মঠ ,লক্ষ্মী নারায়ণ রোড, শিবতলা,দমদম ক্যান্টনমেন্ট ,কোলকাতা- ৭০০০৬৫.
আদ্য ৩০শে শ্রাবণ ,১৬ই আগষ্ট, শনিবার
শ্রী শ্রীকৃষ্ণাবির্ভাব (জন্মাষ্টমী) উপবাস।
সময়-রাত-১২টা ১মিঃ
পারণ-পরদিবস (রবিবার)-পূর্বাহ্ন
৫/১৭ গতে ৬/৪৫ মধ্যে।
উক্ত দিবসে- শ্রী শ্রীনন্দোৎসব।।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।