God always Here

God always Here Religion

গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সম্প্রদায়াচার্য্য, প্রস্থানত্রয়ীর ভাষ্যকার, 'জগদগুরু গৌড়েশ্বরাচার্য্য পীঠ' সংস্থাপক, শ্যামানন্দ...
25/11/2025

গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সম্প্রদায়াচার্য্য, প্রস্থানত্রয়ীর ভাষ্যকার, 'জগদগুরু গৌড়েশ্বরাচার্য্য পীঠ' সংস্থাপক, শ্যামানন্দী-শিরোমণি, জগদগুরু শ্রীমদ্বলদেব বিদ্যাভূষণ প্রভুপাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী —

🌹II #শ্রীবলদেব_বিদ্যাভূষণ_ও_গোবিন্দভাষ্যম্ II🌹

নমামি পাদৌ বলদেবদেব!
তব প্রপন্নোহহমতীব দীনঃ।
কৃপাকরৈর্ভেদমতিং তমো মে
নিরস্য বিদ্যোতয় শুভবুদ্ধিম্।।

🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹

উড়িষ্যার বালেশ্বর জেলার রেমুনার নিকটবর্তী অঠান্তর গ্রামে ১৬৭৮সনে অগ্রহায়ন শুক্লা প্রতিপদ তিথিতে উৎকলীয় উচ্চ ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করে। শ্যামানন্দ প্রভু নিজ শক্তির অংশে বলদেবকে প্রকট করেন।যেমন শ্রীমন্মহাপ্রভু নরোত্তম ঠাকুরকে প্রকট করেছিলেন, তেমনভাবেই শ্যামানন্দ প্রভু বলদেব বিদ্যাভূষণকে প্রকট করেন।

"বলদেব নাম তিনবার উচ্চারিল।
মহাপ্রভু জৈছে নরোত্তমে প্রকটিল।।"
-(শ্যামানন্দ প্রকাশ ১০/২২)

ছোটো থেকেই বলদেব অত্যন্ত ধীসম্পন্ন ছিলেন। খুবই অল্প বয়সে ব্যাকরণ,জ্যোতিষ ও গণিতবিদ্যা আয়ত্ত করেন। স্মৃতি-শ্রুতি সকলই ছিল তাঁর কণ্ঠস্থ, স্বপ্নে জাগরণে এমনকী বাহ্যকালেও বেদচতুষ্টয়ের আবৃত্তি করতেন তিনি। বালকের প্রতিভা দেখে সকলে বলতেন তিনি যেন ন্যায়ে গৌতম, বৈশেষিকে কণাদ, সাংখ্য-এ কপিল, যোগে পতঞ্জলি এবং মীমাংসায় জৈমিনি। তাঁর বৃহস্পতিতুল্য মেধায় পরাজিত হতেন উৎকলের বিরাট বিরাট পণ্ডিতেরা।

জ্ঞানার্জনের আশায় চিল্কা থেকে কর্ণাটকদেশ গমন করে তত্ববাদী মধ্বসম্প্রদায়ের সংস্পর্শে আসেন। সেখানে প্রস্থানত্রয়ী অধ্যয়ন পূর্বক শাঙ্করভাষ্য,শ্রীভাষ্য,মধ্বভাষ্য এবং পারিজাতভাষ্য ছাড়াও শৈব শ্রীকণ্ঠাচার্য্য-ভাষ্য,শ্রীকর-ভাষ্য ইত্যাদি আয়ত্ত করেন। সর্ববিদ্যা লাভ করে তিনি দিগ্-বিজয়ের জন্য বের হণ। বারাণসী,কাশ্মীর, তক্ষশিলা, মিথিলা, মাদুরাই, বৈশালী, থাঞ্জাভুর ইত্যাদি নানা স্থানে ঘুরে সেখানকার পণ্ডিতদের তর্কযুদ্ধে পরাজিত করেন।

অতঃপর নীলাচলে এসে অনিরুদ্ধাবতার রসিকানন্দ প্রভুর পুত্র নয়নানন্দদেবের শিষ্য 'রাধা-দামোদর গোস্বামী'-এর চরণাশ্রিত হণ এবং জীবগোস্বামী-রচিত ষট-সন্দর্ভ গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করে গৌড়ীয় ভাবধারার প্রতি আকৃষ্ট হণ। রাধা-দামোদর গোস্বামী তাঁকে অষ্টদশাক্ষর গোপাল মন্ত্ররাজে এবং (শ্যামানন্দী পরম্পরার মূলধন, স্বয়ং ললিতাসখী কর্তৃক শ্যামানন্দ প্রভুকে প্রদত্ত) পঞ্চদশাক্ষর-রাধা-মন্ত্ররাজে দীক্ষা প্রদান করেন। অতয়েব তাঁর গুরু-পরম্পরা যথা নিম্নরূপ:-

১।স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু।
২। শ্রীল গৌরীদাস গোপাল।
৩। শ্রীল হৃদয়ানন্দ/হৃদয়চৈতন্য।
৪। শ্রীমন্ প্রভু শ্যামানন্দ।
৫। শ্রীল প্রভু রসিকানন্দ।
৬। শ্রীনয়নানন্দ।
৭। শ্রীরাধা-দামোদর গোস্বামী।
৮।শ্রীবলদেব বিদ্যাভূষণ।

শ্রীমদ্বিদ্যাভূষণপাদ অদূর ভবিষ্যতেই 'শ্যামানন্দী-শিরোমনি' আখ্যা লাভ করেন।

এরপর তিনি গুরুআজ্ঞায় নীলাচল থেকে শ্রীধাম বৃন্দাবনে গমন করে শ্যামানন্দ প্রভুর ভূগর্ভস্থ ভজনকুটিরে দীর্ঘ ৩০বছর কঠোর সাধনা করতে থাকেন। এবং শ্যামানন্দ প্রভুর প্রাণধন শ্রীরাধা-শ্যামসুন্দর বিগ্রহের সেবায় আত্ম-সমর্পন করেন। এইসময় তিনি মাত্র ২ই দণ্ড সময় মাধুকরী করতেন, এবং বাকি সময় নিদ্রা আহার সমস্ত বাহ্যাচার ভুলে শ্রীরাধা-শ্যামসুন্দরের যোগপীঠচিন্তনে মহাভাবসমাধিতে লীন থাকতেন।

বৃন্দাবনে অবস্থানকালে তিনি গৌড়ীয় গোস্বামীগণের রচিত রসশাস্ত্র সমূহ অধ্যয়ন করতে থাকেন। এইসময়ে তিনি শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তীপাদের নিকট সভাষ্য শ্রীমদ্ভাগবত এবং পীতাম্বর দাসজীর নিকট অন্যান্য ভক্তিশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।

🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹

সেইসময় হিন্দুবিরোধী মুঘলসম্রাট ঔরঙ্গজেবের অত্যাচারের কারণে গোবিন্দ, গোপীনাথ এবং মদনমোহন বিগ্রহ রাজপুত রাজাদের রাজাশ্রয়ে জয়পুরাদি রাজস্থানের বিভিন্ন নগরে স্থানান্তরিত হণ। গৌড়ীয় সম্প্রদায়ের প্রভাবপ্রতিপত্তিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মহন্তগণ চক্রান্ত করে জয়পুরের মহারাজকে ভুল বোঝান যে গৌড়ীয় সম্প্রদায় অপসম্প্রদায় এবং শ্রীমতি রাধারানী কাল্পনিক। ফলত শ্রীগোবিন্দদেবের মন্দির থেকে গৌড়ীয় সেবকগণকে বহিস্কার করা হয়, এবং গোবিন্দদেবের বামভাগ থেকে রাধারানীর মূর্তি উচ্ছেদ করা হয়। কালক্রমে সেই খবর পৌঁছায় বৃন্দাবনে। শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তীপাদ বৃদ্ধ হওয়ায়, বৃন্দাবনের তৎকালীন গৌড়ীয় বৈষ্ণবাচার্য্যগণ বলদেব বিদ্যাভূষণকে নির্বাচিত করেন গৌড়ীয় সম্প্রদায়ের সংরক্ষক স্বরূপে। পূর্বে নরোত্তম-শ্রীনিবাস-শ্যামানন্দ প্রভুত্রয় এই গৌড়ীয় সম্প্রদায়ের প্রবর্তন করেছেন, যুগে যুগে এই ধারাপরম্পরারই সম্প্রদায়সংরক্ষণের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হয়ে থাকে।

সন ১৭১৮। গৌড়ীয় সম্প্রদায়ের কাণ্ডারীরূপে গলতায় পৌঁছে চতুর্বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের তৎকালীন আচার্য্যগণের সম্মুখীন হণ বলদেব। নানা অকাট্য শাস্ত্রযুক্তি প্রদর্শন করে তিনি রাধাতত্ব প্রতিপাদন করেন এবং মহাপ্রভুর ভগবত্তা প্রতিস্থাপন করেন। তিনি জানান যে পূর্বে শ্রীমন্মহাপ্রভু কর্তৃক শ্রীমদ্ভাগবতকেই অকৃত্রিম বেদান্তভাষ্য বলে পরিগণিত হওয়ায় ষড়গোস্বামীগণ এবং অন্যান্য পূর্বতন গৌড়ীয়বৈষ্ণবাচার্য্যগণ কেউই ব্রহ্মসুত্রের ভাষ্য রচনা করতে অগ্রসর হননি। কিন্তু মহন্তমণ্ডলী ভাষ্যহীন গৌড়ীয় সম্প্রদায়কে মান্যতা দিতে নারাজ। তাঁরা ৭দিনের মধ্যে প্রস্থানত্রয়ীর ভাষ্য প্রদর্শন করতে বলেন।

অশান্তচিত্তে বলদেব শ্রীমন্দিরে ফিরে শ্রীরাধা-গোবিন্দের শরণ নেন। গোবিন্দদেব তাঁকে তৃরাত্রি স্বপ্নাদেশ দিয়ে স্বতন্ত্র ভাষ্য প্রস্তুত করার আজ্ঞা দেন। প্রথমরাত্রিতে নির্দেশ আসে---''কুরু''। দ্বিতীয় রাত্রিতে গোবিন্দদেব বলেন ---"কুরু তব ভবিষ্যতি"। তৃতীয়রাত্রিতে দৈববাণী হয়---
"ব্রহ্মসূত্রাণি ব্যচক্ষ। তৎ ভাষ্যম্ তে সেৎ স্যতি।।"

গোবিন্দদেবের আজ্ঞা প্রাপ্ত হয়ে, নিজ ইষ্ট শ্রীশ্যামসুন্দরকে স্মরণ করে ও শ্যামানন্দ প্রভুর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে বিদ্যাভূষণপাদ নির্দিষ্ট সময়কালের মধ্যে বিস্ময়কর ভাবে ন্যায়প্রস্থানের অন্তর্গত "ব্রহ্মসূত্র", স্মৃতিপ্রস্থানের অন্তর্গত "শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা" ও শ্রুতিপ্রস্থানের অন্তর্গত 'ইশ', 'কেন', 'কঠ', 'প্রশান', 'মুণ্ডক', 'মাণ্ডুক্য', 'তৈত্তরীয়', 'ঐতরেয়', 'ছান্দগ্য' ও 'বৃহদারণ্যক'----এই দশটি উপনিষদের ভাষ্য প্রস্তুত করেন। গোবিন্দদেবজীর নামের উপর ব্রহ্মসূত্রের ভাষ্যর নামকরণ হয় --''গোবিন্দভাষ্যম্'', এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-ভাষ্যর নামকরণ হয় --''গীতাভূষণ ভাষ্যম্"।

🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹

এরপর চতুর্সম্প্রদায়ের আচার্য্যগণ বলদেব বিদ্যাভূষণের সামনে নতমস্তকে ভুল স্বীকার করেন ও অপরাধ মার্জনা করেন। এইভাবে বিদ্যাভূষণপাদ গৌড়ীয়সম্প্রদায়কে সর্বতন্ত্রস্বতন্ত্র সম্প্রদায় রূপে প্রতিপাদন করেন ও সর্বসমীপে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুকে স্বয়ং-ভগবান/ স্বতন্ত্র-ঈশ্বর রূপে প্রমান করেন।
গৌড়ীয় সম্প্রদায়ের বিজয় হওয়ার কারণে বলদেব বিদ্যাভূষণ বিজয়গোপাল নামক শ্রীবিগ্রহের প্রতিষ্ঠা করেন।

জয়পুর থেকে বিজয়প্রাপ্ত হয়ে বৃন্দাবনে প্রত্যাগমনে, সমস্ত বৈষ্ণববৃন্দ অতীব আনন্দিত হয়ে তাঁকে বরণ করে নেন। তৎকালীন গোপীবল্লভপুরের পীঠাধীশ্বর শ্যামানন্দী-গাদ্দিশ্বরাচার্য্য শ্রীল ব্রজজনানন্দ দেবগোস্বামী তাঁকে "শ্যামানন্দী-শিরোমণি'' আখ্যা দেন এবং রাধা-শ্যামসুন্দর মন্দিরের সেবাধিকারী পদে অভিসিক্ত করেন।
বৃন্দাবনে ফেরত এসে শ্রীবলদেব তাঁর বিজয় শ্রীশ্রী শ্যামানন্দী গাদীর চতুর্থ গাদীশ্বর মহান্ত প্রভুপাদ ব্রজজনানন্দের শ্রীচরণে উৎসর্গ করেন। তথা গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ আচার্য্যপীঠ- সম্প্রদায়াচার্য্যর পীঠ 'জগদগুরু গৌড়েশ্বরাচার্য্য' পদে নিজে না বসে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নিজ গুরুপাটের তৎকালীন গাদীশ্বর তথা নিজ পরমগুরুদেবের পুত্র শ্রীশ্রী ব্রজজনানন্দ দেব প্রভুকে উৎসর্গ করেন। এবং গৌড়ীয় সম্প্রদায়ের তৎকালীন সমস্ত মঠমন্দিরের মহান্ত তথা আচার্য্যবর্য্যগণের উপস্থিতিতে সর্বজনমান্যতায় 'আদ্য-জগদগুরু গৌড়েশ্বরাচার্য্য' রূপে অভিসিক্ত হন প্রভুপাদ ব্রজজনানন্দদেব।

এরপর আজীবনকাল শ্রীবলদেব শ্রীরাধা-শ্যামসুন্দরের সেবায় নিযুক্ত হয়ে শ্যামসুন্দর মন্দিরে নিবাস করতে থাকেন।
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

জয়পুরের নিবাসের সময় সময় শ্রীল গোবিন্দদেবজীর উৎকৃষ্ট শৃঙ্গার দেখে আকৃষ্ট হতেন শ্রীবলদেব। কিন্তু বৃন্দাবনে শ্যামানন্দ প্রভুর সেবিত ও রাধারানীর হৃদয়কমল থেকে প্রকটিত মূল শ্যামসুন্দর মূর্তি আকারে ছোটো হওয়ায় শৃঙ্গার করা সুখদায়ক ছিলোনা। গোবিন্দবৎ সেবাভিলাসী হয়ে ১৭১৯সনের শ্রীপঞ্চমীতিথিতে নীলগিরি পর্বতের উন্নত কোষ্ঠী পাথরে তৈরী শ্রীশ্যামসুন্দরের বড়ো মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন শ্রীল বলদেব বিদ্যাভূষণপাদ। এই বড় বিগ্রহ আকার আয়তনে হুবুহু শ্রীগোবিন্দদেবের মতই দেখতে।

🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹
৫০বছরের বেশী সময় তিনি রাধা-শ্যামসুন্দরের সেবায় অরিবাহিত করেন এবং এইকালে তিনি বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করে গোস্বামী সিদ্ধান্ত এবং শ্রীমন্মহাপ্রভুর ভাবাদর্শের প্রচার প্রসার করেন।

শ্রীলবলদেব বিদ্যাভূষণ কৃত গ্রন্থসমূহ আজও আমাদের কাছে দুষ্প্রাপ্য রত্নতুল্য। গ্রন্থতালিকা নিম্নলিখিত:-

১।ব্রহ্মসূত্রের গোবিন্দভাষ্য।
২।গীতাভূষণ ভাষ্য।
৩। দশোপনিষদ ভাষ্য।
৪। বিষ্ণুসহস্রনাম ভাষ্য- 'নামার্থসুধা'।
৫। সিদ্ধান্তরত্ন ভাষ্যপীঠক।
৬। প্রমেয় রত্নাবলী।
৭। সিদ্ধান্ত দর্পন।
৮। বেদান্ত স্যমন্তক।
৯। শ্রীমদ্ভাগবত টীকা - 'বৈষ্ণবানন্দিনী'।
১০। সাহিত্য কৌমুদি।
১১।সাহিত্য কৌমুদি টীকা - 'কৃষ্ণানন্দিনী'।
১২।ঐশ্বর্য্য কাদম্বিনী।
১৩। কাব্য কৌস্তুভ।
১৪। ছন্দঃ কৌস্তভ ভাষ্য।
১৫। লঘু ভাগবতামৃত টিপ্পনী- 'সারঙ্গরঙ্গদা'।
১৬। নাটক চন্দ্রিকা টীকা।
১৭।স্তবমালা বিভূষণ ভাষ্য।
১৮। তত্ব সন্দর্ভ টীকা।
১৯। ব্যাকরণ কৌমুদি।
২০। গুপ্ত ধাম ছত্র।
২১।শ্যামানন্দ শতকম্ টীকা।

🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹
সন ১৭৬৮-এ গঙ্গাদশহরা তিথিতে ৯০বছর বয়সে রাধা-শ্যামসুন্দরের নিত্যনিকুঞ্জে প্রবেশ করেন। তাঁর দিব্য স্থূল-সমাধি শ্রীধামবৃন্দাবন-সেবাকুঞ্জস্থ শ্রীরাধা-শ্যামসুন্দর মন্দিরের পশ্চাৎভাগে অবস্থিত।

জয় জয় বলদেব! শ্রীমদাচার্য্যপাদ!
ব্রজপতিরতিগৌরং সম্প্রদায়স্য ধর্ম্মম্।
গুরুমবিতুমহো তে স্বপ্নদৃষ্টস্য বিষ্ণোঃ
প্ৰিয়ললিতনিদেশান্ নাম গোবিন্দভাষ্যম্।।

🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻II🌹🌻🌹

गौड़ीय वैष्णव सम्प्रदाय के समुदायाचार्य, प्रस्थानत्रयी के भाष्यकार, ‘जगद्गुरु गौरेश्वराचार्य पीठ’ के संस्थापक, श्यामानंदी–शिरोमणि, जगद्गुरु श्रीमद् बलदेव विद्याभूषण प्रभुपाद का संक्षिप्त जीवन–वृत्तांत —

🌹II #श्रीबलदेव_विद्याभूषण_और_गोविन्दभाष्यम् II🌹

नमामि पादौ बलदेवदेव!
तव प्रपन्नोऽहमतीव दीनः।
कृपाकरैर्भेदमतिं तमो मे
निरस्य विद्योतय शुभबुद्धिम्।।

🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹

उड़ीसा के बालेश्वर ज़िले में रेमुणा के निकटवर्ती अठांतरा ग्राम में १६७८ ईसवी में अग्रहायण शुक्ल प्रतिपदा तिथि को उत्कलीय उच्च ब्राह्मण कुल में उनका जन्म हुआ। श्यामानंद प्रभु ने अपनी शक्ति के अंश से बलदेव को प्रकट किया— जैसे श्रीमन्महाप्रभु ने नरोत्तम ठाकुर को प्रकट किया, उसी प्रकार श्यामानंद प्रभु ने बलदेव विद्याभूषण को प्रकट किया।

"बलदेब नाम तीनबार उच्चारिल।
महाप्रभु जैछे नरोत्तमे प्रकटिल।।"
— (श्यामानंद प्रकाश १०/२२)

बाल्यकाल से ही बलदेव अत्यन्त मेधावी थे। अल्पायु में ही व्याकरण, ज्योतिष और गणित में पारंगत हुए। स्मृति–श्रुति सब उनके कण्ठस्थ थे; स्वप्न, जागरण और बाह्यकाल— सभी समयों में वे वेदों का पाठ किया करते थे। उनकी विलक्षण प्रतिभा देखकर विद्वान कहते— वे न्याय में गौतम, वैशेषिक में कणाद, सांख्य में कपिल, योग में पतंजलि और मीमांसा में जैमिनि के समान हैं। उनकी बृहस्पति–तुल्य बुद्धि के सामने उड़ीसा के महान विद्वान भी पराजित हो जाते।

ज्ञानार्जन की इच्छा से वे चिल्का से कर्नाटक देश गए और तत्त्ववादी माध्व–संप्रदाय के संपर्क में आए। वहाँ उन्होंने प्रस्थानत्रयी का अध्ययन कर शांकरी, श्री, मध्व और पारिजात भाष्य सहित शैव श्रीकण्ठाचार्य–भाष्य और श्रीकर–भाष्य आदि भी आत्मसात् किए। सर्वविद्या में प्रवीण होकर वे दिग्विजय के लिए निकले और वाराणसी, कश्मीर, तक्षशिला, मिथिला, मदुरै, वैशाली, तंजावुर आदि स्थलों में पंडितों को पराजित करते हुए आगे बढ़ते गए।

इसके पश्चात् नीलाचल में अनिरुद्धावतार श्रीरासिकानंद प्रभु के पुत्र नयनानंददेव के शिष्य राधा–दामोदर गोस्वामी के चरणों में शरण ग्रहण की। वहीं जीव गोस्वामी द्वारा रचित षट्संदर्भ का अध्ययन कर वे गौड़ीय भावधारा की ओर आकृष्ट हुए। राधा–दामोदर गोस्वामी ने उन्हें अष्टादशाक्षर गोपाल–मंत्र तथा श्यामानंदी परंपरा का मूलधन— स्वयं ललितासखी द्वारा प्रदत्त पञ्चदशाक्षर राधा–मंत्र की दीक्षा दी। उनकी गुरु–परंपरा निम्न प्रकार है—

१. स्वयं भगवान श्रीकृष्णचैतन्य महाप्रभु
२. श्रील गौरिदास गोपाल
३. श्रील हृदयानंद / हृदयचैतन्य
४. श्रीमन प्रभु श्यामानंद
५. श्रील रासिकानंद प्रभु
६. श्री नयनानंद
७. श्री राधा–दामोदर गोस्वामी
८. श्री बलदेव विद्याभूषण

विद्याभूषणपाद शीघ्र ही ‘श्यामानंदी–शिरोमणि’ की उपाधि से अलंकृत हुए।

गुरु–आज्ञा से नीलाचल छोड़ वे श्रीधाम वृन्दावन पहुँचे और श्यामानंद प्रभु के भूमिगत भजन–कुटीर में ३० वर्षों तक तपस्या और आराधना में संलग्न रहे। वे श्रीराधा–श्यामसुंदर के सेवक भाव में तन–मन से लीन रहते। वे प्रतिदिन केवल दो दण्ड काल मਾਧुकरी करते और शेष समय राधा–श्यामसुंदर के योगपीठ–ध्यान में रहते।

वृन्दावन में उन्होंने रस–शास्त्रों का अध्ययन किया और श्रील विश्वनाथ चक्रवर्ती ठाकुर से भागवत–भाष्य तथा पीताम्बर दासजी से अन्य भक्ति–ग्रंथों का अध्ययन किया।

🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹

उधर औरंगज़ेब के अत्याचारों के कारण गोविंद, गोपीनाथ और मदनमोहन विग्रहों को जयपुर आदि नगरों में स्थानांतरित किया गया। गौड़ीय प्रभाव से ईर्ष्या कर अन्य संप्रदायों के आचार्यों ने वहाँ के महाराजा को भ्रमित किया कि गौड़ीय संप्रदाय अपसंप्रदाय है और श्रीराधारानी काल्पनिक हैं। परिणामस्वरूप गोविंददेव के मंदिर से गौड़ीय सेवकों को निकाल दिया गया और राधारानी की विग्रह–मूर्ति को हटाया गया।

यह समाचार वृन्दावन पहुँचा। विश्वनाथ चक्रवर्ती वृद्ध होने से गॉल्टा (जयपुर निकट) में सम्प्रदाय–रक्षा हेतु बलदेव विद्याभूषण को भेजा गया (१७१८ ई.)।

गॉल्टा में चतुर्सम्प्रदाय (श्री, ब्रह्म, रुद्र, सनक) के आचार्यों के सामने बलदेव ने राधातत्त्व और महाप्रभु की दिव्यता सिद्ध की। परंतु विवाद यह उठा कि गौड़ीय संप्रदाय के पास ब्रह्म–सूत्र भाष्य नहीं है, अतः उन्हें वैदिक संप्रदाय नहीं माना जा सकता। इसलिए उन्हें ७ दिनों में भाष्य प्रस्तुत करने का आदेश मिला।

विद्याभूषणपाद ने राधा–गोविंददेव की शरण ली। तीन रात्रियों तक गोविंददेव ने स्वप्न में आदेश दिया—

"ब्राह्मसूत्राणि व्याचक्ष्व। तद्भाष्यं ते स्यात्।"

इष्टदेव की आज्ञा से उन्होंने सात दिनों में अद्भुत वेग से प्रस्थानत्रयी पर भाष्य की रचना कर दी।
ब्रह्मसूत्र–भाष्य का नाम हुआ “गोविन्द–भाष्यम्”,
गीता–भाष्य का नाम हुआ “गीताभूषण”,
और दस उपनिषदों पर भाष्य भी पूर्ण किए।

🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹

चतुर्सम्प्रदाय के आचार्यों ने उनकी विद्वत्ता स्वीकार कर क्षमा–याचना की। इस प्रकार बलदेव विद्याभूषण ने सिद्ध किया कि गौड़ीय सम्प्रदाय सर्वतंत्र–स्वतंत्र और पूर्णतया वैदिक है, तथा श्रीचैतन्य महाप्रभु स्वयं भगवान हैं।

जयपुर–विजय के प्रतीक रूप में उन्होंने विजय–गोपाल विग्रह की स्थापना की।

वृन्दावन लौटने पर उनके स्वागत में सभी वैष्णव अत्यन्त आनंदित हुए। गददीश्वर श्रील ब्रजजनानंद देव गोस्वामी ने उन्हें ‘श्यामानंदी–शिरोमणि’ उपाधि दी और राधा–श्यामसुंदर मंदिर के सेवक–अधिकारी पद पर स्थापित किया। आगे चलकर ‘जगद्गुरु गौरेश्वराचार्य’ पद पर ब्रजजनानंद प्रभु को ही आसीन करवाया— विनम्रता से स्वयं नहीं बैठे।

इसके पश्चात् बलदेव विद्याभूषण जीवनभर राधा–श्यामसुंदर की सेवा–आराधना में लगे रहे।

🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹

जयपुर में गोविंददेव के दिव्य श्रृंगार से प्रेरित होकर उन्होंने १७१९ ई. के श्रीपंचमी दिवस पर नीलगिरि पर्वत के उत्तम कृष्ण–शिला से बने बड़े श्रीश्यामसुंदर विग्रह की स्थापना की— जो आकार में गोविंददेव की तरह ही है।

🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹

५० वर्षों से अधिक राधा–श्यामसुंदर की सेवा करने के साथ उन्होंने अनेक ग्रंथों की रचना कर गौड़ीय सिद्धांत को सुरक्षित किया। उनके ग्रंथ आज भी दुर्लभ रत्नों के समान मूल्यवान हैं—

मुख्य ग्रंथ सूची
१. ब्रह्मसूत्र – गोविन्दभाष्य
२. गीताभूषण
३. दशोपनिषद–भाष्य
४. विष्णुसहस्रनाम–भाष्य (नामार्थसुधा)
५. सिद्धांत–रत्न
६. प्रमेय–रत्नावली
७. सिद्धांत–दर्पण
८. वेदान्त–स्यामन्तक
९. भागवत–टीका (वैष्णवानन्दिनी)
१०. साहित्य–कौमुदी
११. साहित्य–कौमुदी–टीका (कृष्णानन्दिनी)
१२. ऐश्वर्य–कदम्बिनी
१३. काव्य–कौस्तुभ
१४. छन्दः–कौस्तुभ
१५. लघु–भागवतामृत–टीका (सारंगरंगदा)
१६. नाटक–चन्द्रिका–टीका
१७. स्तवमाला–भूषण–भाष्य
१८. तत्व–संदर्भ–टीका
१९. व्याकरण–कौमुदी
२०. गुप्त–धाम–छत्र
২১. श्यामानंद–शतक–टीका

🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹

१७६८ ईस्वी में गंगादशहरा तिथि को ९० वर्ष की आयु में उन्होंने राधा–श्यामसुंदर के नित्य–निकुंज में प्रवेश किया। उनकी समाधि श्रीधाम वृन्दावन के सेवाकुंज स्थित राधा–श्यामसुंदर मंदिर के पीछे है।

जय जय बलदेव! श्रीमदाचार्यपाद!
ब्रह्मपतिकृतगौरं सम्प्रदायस्य धर्मम्।
गुरुमभिविदधातु ते स्वप्नदृष्टस्य विष्णोः
प्रियललितनिदेशान् नाम गोविन्दभाष्यम्।।

🌹🌻🌹🌻🌹🌻🌹🌻II🌹🌻🌹

মানুষের কর্মের তিনটি শ্রেণী আছে: কর্ম, অকর্ম, বিকর্ম।কর্ম: যে সমস্ত কর্ম, নিজেকে এবং ভগবান শ্রী কৃষ্ণকে ছেড়ে, শুধুমাত্র ...
11/11/2025

মানুষের কর্মের তিনটি শ্রেণী আছে: কর্ম, অকর্ম, বিকর্ম।

কর্ম: যে সমস্ত কর্ম, নিজেকে এবং ভগবান শ্রী কৃষ্ণকে ছেড়ে, শুধুমাত্র অপরের সন্তুষ্টি বিধানের জন্য কর্ম করা হয়। তাকে কর্ম বলে।
এই কর্ম জীবনে থাকলে পাপ, পূর্ণ দুটোই সঞ্চয় হয়। এই কর্ম করে, মানুষ সম্পূর্ন ভাবে খুশি হতে পারে না।😥😥

অকর্ম: অকর্ম হচ্ছে, কর্ম ফলের প্রতি নিরাশক্ত হয়ে। কৃষ্ণ ভাবনায় ভাবিত হয়ে কর্ম করা।
জিনি শুধুমাত্র ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সন্তুষ্টি বিধানের জন্য কর্ম করেন। তাকে অকর্ম বলা হয়।
ইনি প্রতিটি কর্ম করেও নিজেকে অকর্মা বলেন।
তিনি শুধু বলেন, যা করেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণই করেন। আমি কিছুই করিনা। তিনি স্বার্থ বাসনা ও কর্ম ফলের আসক্তি পরিত্ত্যাগ করে কর্ম করেন বলে ইনি অকর্মা।
ইনি শুধুমাত্র ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে কেন্দ্র করে কর্ম করেন। ইনি নিজের জীবনে যা কিছু করেন শুধু মাত্র ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্যই কর্ম করেন।
এনার নিষ্ঠা ভগবানের প্রতি দৃঢ়। ইনি যানেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণই হলো সমগ্র সৃষ্টির মূল, তাই মূলে জল ঠাললে সমগ্র সৃষ্টিই জল পাবে।
যেমন; শ্রীকৃষ্ণের ভোগ নিবেদনের পর সকলকেই মহাপ্রসাত বিতরন করা হয়। আর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তখনি সন্তুষ্ট হন। যখন এই জগৎ সংসারের প্রতিটি জিবকে দয়া, সমান ও প্রেম করা হয়। আর এটিকেই মানুষের প্রকৃত ধর্ম বলা হয়।
এই কর্মে না থাকে পাপ, না থাকে পুন্য। এই কর্মে হয় মানুষের জন্ম, মৃত্যু, শুখ, দুঃখ ও কর্ম বন্ধন থেকে মুক্তি। এই কর্ম করে মানুষ সম্পূর্ন ভাবে খুশি থাকতে পারেন।🤗🥰

বিকর্ম: যে কর্মগুলি শুধুমাত্র নিজের সন্তুষ্টি বিধানের জন্য করা হয় তাকে বলা হয় বিকর্ম। ইনি কৃষ্ণ ভাবনা বিহীন হয়ে। কর্ম ফলের প্রতি আসক্ত হয়ে কর্ম করেন। এটি হলো সম্পূর্ন পাপ কর্ম।
এই কর্মে কোনো মানুষি সম্পূর্ন খুশি থাকতে পারে না।

জয় রাধে 🙏

অষ্টাবক্র মুনি হিন্দুধর্মের এক গভীর বৈদিক ঋষি, যার নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাঁর জীবনের বিশেষত্ব—‘অষ্টাবক্র’ অর্থাৎ যিনি...
10/11/2025

অষ্টাবক্র মুনি হিন্দুধর্মের এক গভীর বৈদিক ঋষি, যার নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাঁর জীবনের বিশেষত্ব—‘অষ্টাবক্র’ অর্থাৎ যিনি আট স্থানে বাঁকা বা বিকৃত। জন্মের আগেই তিনি এমন এক অলৌকিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে ওঠেন, যা তাঁকে পরবর্তীকালে দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক জগতে অমর করে তোলে।

অষ্টাবক্রের পিতা ছিলেন ঋষি কহোড় এবং মাতা ছিলেন সুজাতা। একদিন কহোড় মুনি বেদ পাঠ করছিলেন, সেই সময় মাতৃগর্ভে থাকা অষ্টাবক্র কোনো একটি উচ্চারণগত ভুল লক্ষ্য করে মন্তব্য করেছিলেন। একটি শিশুর এমন সাহসী মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে কহোড় মুনি অভিশাপ দেন যে, সে জন্মাবে আটটি অঙ্গ বিকৃত অবস্থায়। এই অভিশাপ থেকেই তাঁর নাম হয় ‘অষ্টাবক্র’। জন্মের পরও তাঁর শরীরের এই বিকৃতি তাঁকে আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান থেকে বিরত করতে পারেনি, বরং আরও গভীর জ্ঞানচর্চার দিকে নিয়ে যায়।

তাঁর জীবনচর্চার কেন্দ্রবিন্দু ছিল আত্মজ্ঞান ও মুক্তির সাধনা। অষ্টাবক্র মুনি বিশ্বাস করতেন, আত্মা কখনো দেহের সঙ্গে আবদ্ধ নয়; আত্মা শাশ্বত, অদ্বৈত ও অসীম। তাঁর এই চিন্তাধারাই পরবর্তীকালে ‘অষ্টাবক্র গীতা’ নামে এক অনন্য আধ্যাত্মিক গ্রন্থে রূপ নেয়। এই গ্রন্থে রাজা জনকের সঙ্গে তাঁর আধ্যাত্মিক সংলাপ লিপিবদ্ধ হয়েছে, যেখানে বাস্তবতা, আত্মা, মায়া এবং মুক্তির প্রকৃতি নিয়ে গভীর আলোচনা রয়েছে।

অষ্টাবক্র গীতা মূলত অদ্বৈতবাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক দলিল। এতে বলা হয়েছে, মুক্তি কোনো বাহ্যিক কর্ম বা আচারানুষ্ঠানের মাধ্যমে অর্জন করা যায় না; বরং তা আত্মার প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধির ফল। জ্ঞানই মুক্তির একমাত্র পথ, এবং সেই জ্ঞান জন্মায় নিজের অন্তর্গত আত্মাকে চিনে নেওয়ার মধ্য দিয়ে। এই দর্শন পরবর্তীকালে আদ্য শংকরাচার্যের অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনেরও মূলভিত্তি হয়ে ওঠে।

রাজা জনকের সঙ্গে অষ্টাবক্রের সাক্ষাৎ ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। রাজা জনকের সভায় বহু ঋষি ও মুনি ছিলেন, যারা অহংকার ও বুদ্ধির গরিমায় নিজেদের শ্রেষ্ঠ ভাবতেন। সেখানে অষ্টাবক্র মুনি তাঁর বিকৃত দেহ সত্ত্বেও এমন গভীর জ্ঞানের পরিচয় দেন যে জনক বিস্মিত হন। জনক তখন তাঁকে নিজের গুরু হিসেবে স্বীকার করেন এবং তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এই সম্পর্কের মধ্য দিয়েই গীতা রচনার প্রেক্ষাপট গড়ে ওঠে।

অষ্টাবক্র মুনির আধ্যাত্মিক জ্ঞান তাঁর শরীরের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেছিল। তিনি নিজ সাধনা ও তপস্যার মাধ্যমে শারীরিক বিকৃতি থেকে মুক্তি লাভ করেন। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে আত্মার শক্তি দেহের গঠন বা সীমাবদ্ধতার ওপর নির্ভর করে না। মন ও জ্ঞানের ঔজ্জ্বল্যই প্রকৃত সৌন্দর্য।

ভারতের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অষ্টাবক্র মুনি কেবল এক ঋষি নন, তিনি আত্মজ্ঞান ও অদ্বৈত দর্শনের এক প্রতীক। তাঁর শিক্ষা আজও দর্শনচর্চার অনিবার্য অংশ। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বক্রেশ্বর নামক স্থানটির সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত। বিশ্বাস করা হয়, এটি ৫১টি সতীপীঠের একটি এবং এখানে সতীর ভ্রূ যুগলের মধ্যস্থল পতিত হয়েছিল। অষ্টাবক্র মুনির নামেই স্থানটির নাম হয়েছে ‘বক্রেশ্বর’।

অষ্টাবক্র মুনির জীবন থেকে আমরা শিখি যে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা নয়! 🧘‍♂️ তাঁর গভীর জ্ঞান ও আত্মোপলব্ধি আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে। 💡 জ্ঞানই প্রকৃত মুক্তি। ✨ #অষ্টাবক্রগীতা #আধ্যাত্মিকতা

🙏🌺 জয় নিতাই গৌর হরি 🌺 🙏🙏🌺 হরে কৃষ্ণ 🌺🙏প্রশ্ন: বাড়িতে অশৌচ হলে( মৃত্যু কারণে) জপমালাতে জপ করা যাবে কি? সেই সময়ে স্বামী-স...
10/11/2025

🙏🌺 জয় নিতাই গৌর হরি 🌺 🙏
🙏🌺 হরে কৃষ্ণ 🌺🙏
প্রশ্ন: বাড়িতে অশৌচ হলে( মৃত্যু কারণে) জপমালাতে জপ করা যাবে কি?
সেই সময়ে স্বামী-স্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন সদস্য বাড়িতে না থাকলে গৃহদেবতার ভোগ আরতি সেবা কিভাবে চলবে? ঐ সময়ে কি করা হবে?
উত্তর:- শ্রীকৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত বৈষ্ণবের অশৌচ অবস্থা বিচার্য নয়। জপমালায় অবশ্যই রোজ হরিনাম করতেই হবে। কৃষ্ণভক্তগণ জানেন যে, সংসারটি শ্রীকৃষ্ণের, শ্রীকৃষ্ণ গৃহে অধিষ্ঠিত আছেন।
শ্রীকৃষ্ণকে আপনি কখনো বলতে পারবেন না যে, হে গোপাল, আমার দাদু মারা গেছে বা অন্য কেউ মারা গেছে অতএব আজ থেকে কিছুদিনের জন্য তুমি নিরম্বু অনাহারে থাকো, এবং তোমার সেবা বন্ধ থাক,। কোনও গৃহস্থ তার কোনও পুত্র বা স্বামী বা অন্য কাউকে এরুপ বলতে পারেন না।
কেউ মারা গেলে মৃত দেহের সৎকার করে ফেলতে হবে। প্রতিদিনের মতোই সেবা পূজা করে চলতেও হবে। যারা কর্মকাণ্ডীয় তারা নানাবিধ তামসিক শাস্ত্র বিধির ছলছুতো দেখাতেই পারে। কিন্তু কৃষ্ণ মন্ত্রে দীক্ষিত বা বৈষ্ণবগণ সেই ছলছুতোর অধীনে আসেন না।
মহাপ্রভুর গণ শ্রীল গোবিন্দ ঘোষ ঠাকুরের পত্নি মারা গেলে, তারপর শিশুপুত্রও মারা গেল। সেই শোকে তিনি তার গৃহে অধিষ্ঠত গোপিনাথের সেবাপূজাও বন্ধ করে দিচ্ছিলেন।
কিন্তু গোপিনাথ তাঁকে বলেন, তোমার একটি পুত্র মারা গেল, আর সেই জন্য তোমার অন্য এক জীবন্ত পুত্রকেও না খাইয়ে মেরে ফেলতে চাও কি? তবে কেন তুমি আমাকে দেখছ না সেই রাধাগোপিনাথ বিগ্রহ বর্ধমানের অগ্রদ্বীপে এখনও বিদ্যমান।
🙏🌺হরিবোল 🌺🙏
🙏🌺 রাধে রাধে 🌺 🙏

🔴কোনও শব্দ না করে মনে মনে জপ করাকে বলে ‘মানসিক জপ’।🔴 🔴কেবলমাত্র নিজে শোনার মতো জপ করাকে বলে ‘উপাংশু জপ’। 🔴🔴চীৎকার করে নয...
10/11/2025

🔴কোনও শব্দ না করে মনে মনে জপ করাকে বলে ‘মানসিক জপ’।🔴

🔴কেবলমাত্র নিজে শোনার মতো জপ করাকে বলে ‘উপাংশু জপ’। 🔴

🔴চীৎকার করে নয়, অথচ অপরেও শুনতে পায় এমন জপ করাকে বলে ‘বৈখরি জপ’।🔴

🔴 জোরে জোরে জপ করাকে বলে ‘উচ্চস্বরে জপ' বা 'কীর্তন জপ'।🔴
⚫⚫
মানসিক জপ ভাল। মানসিক জপের চেয়ে উপাংশু জপ হাজার গুণ বেশী ভাল। আমাদের মতো পাপচিন্তায় কলুষিত, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় উপদ্রুত সাধারণ ব্যক্তিদের পক্ষে উচ্চস্বরে জপই সবচেয়ে ভাল।
আবার দেখা যায়, অত্যন্ত উন্নত ভক্তরাও উচ্চস্বরে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করতেন। নামাচার্য হরিদাস ঠাকুর, কলাবেচা শ্রীধর ঠাকুর, স্বয়ং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু উচ্চস্বরে হরিনাম জপ করতেন।
শ্রীবিগ্রহ বা তুলসীদেবীর সামনে বসে জপ করলে মনটি এ-দিক ও-দিক চঞ্চল না হয়ে সুস্থির হয়ে থাকার ভাল সুযোগ পায়। যখন ঘুম আসে, ক্লান্তি বোধ হয় তখন দাঁড়িয়ে কিংবা পরিক্রমা করে জপ করা ভাল।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।
🌹জয় রাধে 🌹

কর্মের ফল তো আপনাকে ভোগ করতেই হবে। জীবনে আপনি যতই ক্ষমতাশালী শক্তিশালী হোন না কেন, কর্মের ফল আপনাকে ভোগ করতেই হবে। প্রকৃ...
10/11/2025

কর্মের ফল তো আপনাকে ভোগ করতেই হবে।
জীবনে আপনি যতই ক্ষমতাশালী শক্তিশালী হোন না কেন, কর্মের ফল আপনাকে ভোগ করতেই হবে। প্রকৃতি এখানে কাউকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেন না।

মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ ময়দানে যখন অর্জুন আর কর্ণের তুমুল লড়াই হয়। তখন এক পর্যায়ে কর্ণের রথের চাকা মাটিতে বসে গেলে তিনি তা মাটি থেকে তোলার জন্যে রথ থেকে নিচে নামেন। এসময় তিনি নিরস্ত্র ছিলেন। ভগবান শ্রী কৃষ্ণ তৎক্ষণাৎ অর্জুন কে, কর্ণের উপর বান মেরে হ***ত্যা করার নির্দেশ দেন।

অর্জুনও ভগবানের কথা মতো কর্ণকে লক্ষ্য করে একেরপর এক বান নিক্ষেপ করে। যা কর্ণ কে ভয়ংকর ভাবে বিদ্ধ করে। এতে কর্ণ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

মৃত্যু পূর্ববর্তী সময়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়া কর্ণ ভগবান শ্রী কৃষ্ণ কে প্রশ্ন করেন, "এই তুমি ভগবান? এই তুমি করুনাময়? এই তোমার ন্যায্য বিচার ! যে একজন নিরস্ত্র কে হত্যা করার পরামর্শ দাও ? "

সচ্চিদানন্দময় ভগবান শ্রী কৃষ্ণ স্মিত হেসে জবাব দেন, "চক্রব্যূহে অর্জুন পুত্র অভিমুন্যও নিরস্ত্র হয়ে গেছিলো, যখন সকলে মিলে তাঁকে নৃশংস ভাবে হত্যা করেছিলে... তাঁর মধ্যে তুমিও ছিলে । তখন তোমার এই ধর্মজ্ঞান কোথায় ছিলো কর্ণ ? এ জগতে যে যেরূপ কর্ম করবে আমিও তাঁকে সেইরূপ কর্মফলই প্রদান করি। ইহাই আমার বিচার।"

অতএব... কর্ম করুন ভেবেচিন্তে। আপনি আজ কাউকে কষ্ট দিলে, যন্ত্রনা দিলে, অবজ্ঞা করলে, কারো দুর্বলতার সুযোগ নিলে.... আগামীতে আপনার জন্যেও সেই একই কর্মফল অপেক্ষা করে থাকবে এবং স্বয়ং তিনিই আপনাকে তা প্রদান করবেন।

আমরা অনেকেই হয় তো শরীরে বল প্রয়োগ করে মানুষের উপর অত্যাচার করি কিংবা মানুষকে ছোট করে কথা বলি। মনে রাখবেন সময় সবার এক রকম ভাবে কাটে না। আপনার কর্ম অনুসারে ফল আপনার কাছে যথা সময়েই ফিরে আসবে। তখন অন্যের উপর প্রয়োগ করা কর্মের ফল ভোগ করতে পারবেন তো?
একটি বার ভেবে দেখুন। সুতরাং জীবনে ধর্মের পথে চলুন, ধর্মকে ধারন করে মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুন। ধর্মই আপনার কাছে সুখ শান্তি হয়ে ফিরে আসবে।

রাধে রাধে 🙏

'গল্পে উপদেশ লাভ (চুড়ান্ত লক্ষ)🌱   কাক হচ্ছে একমাত্র সেই পাখি যে ঈগলের ঘাড়ের উপর বসে ঠোকর মেরে তাকে বিরক্ত করতে পারে !...
07/11/2025

'গল্পে উপদেশ লাভ (চুড়ান্ত লক্ষ)

🌱 কাক হচ্ছে একমাত্র সেই পাখি যে ঈগলের ঘাড়ের উপর বসে ঠোকর মেরে তাকে বিরক্ত করতে পারে ! এত সাহস অন্য কোনো পাখির নেই।
🌱 মজার ব্যাপার হচ্ছে, ঈগল কিন্তু কাকের সাথে লড়াই করে বা তাকে মেরে ফেলতে যেয়ে নিজের সময় ও শক্তির অপচয় করে না। ঈগল যেটা করে সেটা হচ্ছে, সে দ্রুত গতিতে উপরে উঠতে থাকে।
🌱 অতি উচ্চতায় অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে এবং ঈগলের প্রচণ্ড গতির কারণে কাক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং টিকতে না পেরে ঈগলের ঘাড় হতে দ্রুত খসে পড়ে।

🌱 ঠিক তেমনিভাবে, আপনার আধ্যাত্মিক জীবন চলার পথে কাছের মানুষ, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব রূপী অনেক কাক আপনার পিছনে ঠোকর মেরে আপনার ভক্তি জীবনকে ব্যহত করবে। এদের সাথে লড়তে যেয়ে সময় এবং শ্রম অপচয় করার কোন দরকার নেই

👉আপনার চুড়ান্ত লক্ষ ভগবত ধামে পৌঁছানোর জন্য কৃষ্ণভক্তির অনুশীলনের গতি আরও বাড়িয়ে দিন। দেখবেন, আপনার গতির সাথে তাল মেলাতে না পেরে এইসব কাকেরা এমনিতেই দুর্বল হয়ে যাবে পড়ে যাবে।

👉তাই ভক্তিবিনোদ ঠাকুর বলেছেন ...
পরের কথায় কি বা আসে যায়।
মিছে দাগা তুমি পেয়ো না,
যার মুখে ভাই হরি কথা নাই
তার কাছে তুমি যেও না,,

জয় রাধে 🙏💞🌹

Good Morning OM Namah Shivay 🙏🙏🙏
05/11/2025

Good Morning
OM Namah Shivay 🙏🙏🙏

04/11/2025

Har Har Mahadev!!! 🙏🙏🙏

04/11/2025

Joy Boro Maa 🙏🙏🙏

04/11/2025

OM NAMAH SHIVAY 🙏🙏🙏🙏

Address

Kolkata
700115

Telephone

+918910741648

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when God always Here posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to God always Here:

Share