23/05/2026
কেন তিন দশকের বেশী সময় ধরে তিন জন মুখ্যমন্ত্রী কলকাতার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে আপস করে চলেছিলেন একটি মসজিদের জন্য কেন? সিপিএম ও টিএমসি কেন সুরক্ষিত করে রেখেছিলো এটাকে ?
২০০৩--০৪ সালে ম্যাঙ্গালোর এয়ারপোর্টে সম্প্রসারণের জন্য মন্দির, মসজিদ, চার্চ সরানো গেলে পশ্চিমবঙ্গের দমদম এয়ারপোর্টের দ্বিতীয় রানওয়ের বাধা এই মসজিদ কে সরানো হচ্ছে না কেন? এয়ারপোর্টের ভিতরে থাকা এই মসজিদের জন্য বিকল্প মসজিদ যখন বানিয়ে দিয়েছে সরকার তখনো কেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় এই মসজিদই ঢুকে বিমান ওঠানামার নিরাপত্তার বিঘ্নিত করা হচ্ছে কেন? এই মসজিদ থাকার জন্য মূল অসুবিধা, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে ; রাজারহাটের দিক থেকে নেমে কোনও কারণে রানওয়েতে বিমান দাঁড় করাতে না-পারলে মসজিদের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। মুষ্টিমেয় ১০-২৫ জন ওই মসজিদে নিয়মিত নমাজ পড়তে যান, তাঁদের জন্য এত বিপুল সংখ্যক বিমানযাত্রী কেন ভুগবেন? এর ফলে তাঁদের আরও বড় বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কেন ?
যেহেতু মসজিদ টা বিমানের অবতরণ পথের মধ্যে রয়েছে তাই দ্বিতীয় বিমান অবতরণের পথ ৮৮ মিটার দক্ষিণে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও রানওয়ের ২,৮৩২ মিটার, এয়ারবাস এ৩২০ এবং বোয়িং ৭৩৭-এর মতো ন্যারো-বডি বিমানের জন্য যথেষ্ট, তবে এটা বি৭৮৭ এবং এ৩৩০-এর মতো বড়ো বিমানের জন্য যথেষ্ট নয়। জরুরি অবতরণের সময় মসজিদটি একটি সম্ভাব্য নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি পূর্ণ। শীতে কুয়াশাচ্ছন্ন দিনে প্রধান রানওয়ে ব্যবহার করা না গেলে ফ্লাইট পরিচালনা করাও একটা চ্যালেঞ্জ। ৩,৬৩৩ মিটার দীর্ঘ প্রধান রানওয়েটি উন্নত ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম করা হয়েছে, যা কম দৃশ্যমানতাতেও বিমান ওঠানামা করতে পারে কিন্তু মসজিদের কারণে দ্বিতীয় রানওয়েতে এই সরঞ্জাম স্থাপন করা সম্ভব নয়।
এই মসজিদ থাকার জন্য আরো প্রধান অসুবিধার কারণ গুলো হলো ;
১) বসানো যাচ্ছে না ILS
২) বাড়ানো যাচ্ছে না রানওয়ে।
৩) বিরাটির দিক থেকে বিমান নামানোর সময় ধাক্কা লাগার সম্ভবনা আছে।
৪) নিরাপত্তার সঙ্গে আপস।
৫) রানওয়ের শেষ থেকে ২৫০ মিটার ছাড় থাকার কথা,কিন্তু তা নেই।
এই অল্পসংখ্যক লোক প্রতিদিন মসজিদে আসার জন্য, সাত নম্বর গেট দিয়ে তাদের জন্য আলাদা করে এনক্লোজার বানাতে হয়েছে, সেখানে আধার কার্ড দিখিয়ে সই করে সমস্ত জিনিসপত্র জমা রেখে এনক্লোজারের গেট থেকে তাদের জন্য আলাদা বাসে করে বিমানবন্দরের হাই সিকিউরিটি জোনের মধ্যে দিয়ে মসজিদে যাতায়াত করতে হয়। এই রাস্তার মধ্যে একটা ট্যাক্সি-ওয়ে আছে, যে টা রানওয়ের দিকে যায়, এখানে আবার বিপত্তি এর জন্য এখানে বাস কে দাঁড় করিয়ে নিরাপত্তা রক্ষীরা এয়ার ট্রাফিক বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে যেনে নেন কোন বিমানের মুভমেন্ট আছে কি-না, তারপর বাস কে ছাড়া হয়। বুঝে দেখুন কতটা হ্যাপা পোয়াতে হয় বিমানবন্দর কতৃপক্ষ কে, যখন তাদের জন্য আলাদা মসজিদ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে তারপরেও।
কয়েকবছর আগে এই মসজিদ সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেছিলেন, আল্লাহর ঘর তাই সরানো যায় না। এখন আমার প্রশ্ন হলো, মসজিদ আল্লাহর ঘর, না প্রার্থনা করার জন্য স্থান মাত্র মসজিদ? সৌদি আরবে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য যদি হাজার বছরের প্রাচীন মসজিদ যে ভেঙে ফেলা হয় তাহলে ভারতের সাম্প্রতিক সম্প্রতির রাজধানী ( সেকুলাররা বলে) কলকাতায় নয় কেন? ও হ্যাঁ, সউদী আরবে প্রাচীন কয়েক ডজন ইসলামিক স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনা যারা জানেন না তারা গুগলের সার্চ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকা এবং সউদী আরবের পত্রিকার খবর গুলো পড়ে নিতে পারেন।
তবে এবার আশার কথা রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পর কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের পাশের মসজিদটি সরানোর নতুন প্রচেষ্টা গতি পেয়েছে। গত মঙ্গলবার মসজিদটি পরিদর্শন করেছে সরকারী কর্মকর্তারা এবং এরপর বুধবার রাজ্য প্রশাসন ও মসজিদ প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হযয়েছে। বিমানবন্দরের মধ্যে অবস্থিত মসজিদটি সরানোর জন্য চাপ দেওয়াই ছিল এই বৈঠকের উদ্দেশ্য। এছাড়া বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি বিমানবন্দরের মধ্যে মসজিদএর জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এটি স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারত