10/04/2026
#শ্রীশ্রীরামঠাকুরেরজয় #সনাতনধর্মপ্রতিষ্ঠান
#শ্রীশ্রীঠাকুরেরকিছুকথা
শ্রীগুরু দর্শন 🌼🌺🙏🚩
শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রসঙ্গে
রোহিণী বাবুর কিছু কথা।🌺🌼🙏
শ্রীশ্রীঠাকুরের পার্থিব জীবনের অনন্ত ঘটনার খুব সামান্য অংশই জানা যায়। অন্তরঙ্গ পার্ষদগণ বিভিন্ন সময়ে তাঁর সান্নিধ্যে থেকে নানান রকম অপ্রাকৃতিক ঘটনার সাথে পরিচিত হয়েছেন। এমনই একজন পার্ষদ ছিলেন শ্রীরোহিণী কুমার মজুমদার। তাঁর অমূল্য গ্রন্থে গ্রথিত এ রকম একটা আখ্যান এখানে উল্লেখ করলাম।
রোহিণীবাবু সে সময় মজঃফরপুর থাকতেন। শ্রীশ্রীঠাকুরও তাঁর বাসায় ছিলেন। দু-একদিন পূর্বে কোন একটা বিশেষ কাজে অল্প দিনের জন্য শ্রীশ্রীঠাকুরকে বেনারস যেতে হয়।
মজঃফরপুর থাকাকালে রোহিণীবাবু🌺🙏🌼🚩 গৃহশিক্ষকতাও করতেন। একদিন ছাত্র পড়িয়ে বেলা সাড়ে নটার সময় বাসায় ফিরবার জন্য ছাত্র-বাড়ীর ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সামনেই বড় রাস্তা। এর পর কি হল তিনি নিজেই তাঁর গ্রন্থে বিবরণ দিয়ে লিখছেন।🌺🙏🌼🚩
দেখিলাম ঐ বাড়ীর বাম পার্শ্ব দিয়া যে গলিটি বাহির হইয়াছে সেই গলি দিয়া একজন সাধু বাহির হইলেন। পনেরো-ষোল জন লোক তাঁহাকে অনুসরণ করিয়া চলিয়াছেন। এই রূপ দিব্যকান্তিবিশিষ্ট সন্নাসী আমি ইহজীবনে আর দেখি নাই। তাঁহার রঙ্ ছিল ঠিক কাঁচা সোনার মত। প্রায় ছয় ফুট লম্বা, আজানুলম্বিত বাহু, কেশরাশি পিছনদিকে জানুকে স্পর্শ করিয়াছে। ঐ দীর্ঘ কেশরাশি সরু সরু বিনুনি দ্বারা আবদ্ধ। সৌম্যদর্শন, সুস্থ ও সবল। তাঁহাকে দেখিয়া মনে হয় কোনদিনও তাঁহার দেহে ব্যাধির আবির্ভাব ঘটে নাই। পরিধানে রহিয়াছে লুঙ্গির মত করিয়া এক খানি লাল কাপড়। আমি সন্ন্যাসীর মুখখানি ভাল ভাবে দেখিতে পাই নাই। শুধু চেহারা দেখিয়া এত আশ্চর্য্যান্বিত হইয়াছিলাম যে, মিনিটখানেক সেইখানেই দাঁড়াইয়াছিলাম। ঐ সাধু দেখার জন্য তাঁহাদের পিছনে ছুটিলাম। তাঁহারা খুব দ্রুত চলিতেছেন। ঐ সাধুকে ভাল করিয়া দেখার জন্য এত কৌতূহলী হইয়া উঠিয়াছি যে, আমিও বেশ দ্রুত চলিতেছি অথচ তাঁহাদের নাগাল পাইতেছি না। দৌড়াইতে আরম্ভ করিলাম। এবারে মনে হইল যেন তাঁহারাও দৌড়াইতেছেন। কল্যাণী মোট পাঁচটি রাস্তার মিলনস্থল, এখানেই বাজার। চতুর্দ্দিকে লোকের ভিড়, এই স্থানে আসিয়া আর সেই সাধু ও তাঁহার অনুসরণকারীদের দেখিতে পাইলাম না। কোন্ রাস্তায় গিয়াছেন স্থির করিতে না পারিয়া প্রত্যেকটি রাস্তার কিছুদুর দৌড়াইয়া দেখিলাম। অনেকের নিকট এই সন্নাসী কোন রাস্তায় গিয়াছেন জিজ্ঞাসা করিলাম কিন্তু কেহই উত্তর দিতে পারিল না। বরং যাহাকে জিজ্ঞাসা করি তিনিই কোন সাধু বা সন্ন্যাসী দেখেন নাই বলিয়া উত্তর দেন। নিরাশ হইয়া বাসায় ফিরিয়া আসিলাম। সাধুজীর পরিচয় জানিবার জন্য উৎসুক হইয়া রহিলাম; ভাবিলাম, ঠাকুর আসিলে তাঁহার বিষয় সব জানিতে পারিব। সাত-আটদিন পরে শ্রীশ্রীঠাকুর কাশী হইতে ফিরিয়া আসিলেন। সন্ধ্যার পরে ঠাকুরের নিকট বসিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, "ঠাকুরমশায়, অত ব্যস্ত হইয়া কাশী যাওয়ার কারণ কি?" ঠাকুর বলিলেন, "গুরুদেবের আদেশে কাশী গিয়া কলকাতার সেই যুবক দুইটিকে দীক্ষা দিয়া আসিলাম।" আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, "কলিকাতার সেই যুবকদ্বয়কে আপনার মনে আছে তো ?" আমার মনে দুইটি তরুণ যুবকের মুখ ভাসিয়া উঠিল। যে সময়ের কথা তখন তাহাদের মধ্যে একজন এম. এ. এবং একজন বি.এ. ক্লাশের ছাত্র - তিন দিন ধরিয়া তাহারা ঠাকুরকে খুব জ্বালাতন করিয়াছিল। ঠাকুর যাহাই বলিতেন তাহারা ঠিক তাহার বিপরীত কথা বলিত এবং সকাল হইতে সন্ধ্যা পর্য্যন্ত তাহারা ঠাকুরের সহিত তর্ক-বিতর্ক করিত। ঠাকুরকে এই ভাবে বিরক্ত করিতে দেখিয়া আমি ও স্বর্গীয় প্রভাতদা তাহাদের ঠাকুরের নিকট আসিতে নিষেধ করিয়া নানা রকম কটুক্তি করিয়াছিলাম। চতুর্থ দিন তাহারা অতি প্রত্যূষে ঠাকুরের নিকট আসিয়াই চলিয়া গিয়াছিল, আর কোনদিন তাহাদের দেখি নাই। সেই যুবকদ্বয়কে ঠাকুর কাশীতে দীক্ষা দিয়া আসিলেন। ঠাকুর আমাকে বলিলেন, "এখন আর তাহাদের সেই চশমাও নাই; চুল আঁচড়াবার বাহারও নাই। তাহাদের দিব্য চেহারা হইয়াছে। তাহারা গুরুর সহিত চলিয়া গিয়াছে। " জিজ্ঞাসা করিলাম " গুরু আর কি বলিলেন ?" গুরু বলিলেন, "তোর রোহিণীরে দেইখা আইলাম।" আমি বলিলাম, "ঠাট্টা করেন কেন ?" ঠাকুর বলিলেন, "কেন, আপনি কি গুরুকে দেখেন নাই ?" সাত-আট দিন পূর্ব্বের সেই ঘটনাটি আমার মনে পড়িল। সমস্ত বিবরণ ঠাকুরকে বলিলাম। তিনি শুনিয়া বলিলেন, "তবে যে বল্লেন গুরুকে দেখেন নাই ? কেমন দেখলেন ?" ইহার পরে আর এই বিষয়ে কোন কথা ঠাকুর বলেন নাই।
শ্রীগুরু শ্রীশ্রীরামঠাকুর'
শ্রীরোহিণী কুমার মজুমদার
জয় রাম জয় গোবিন্দ।
🌼🌺🙏🌼🚩🙏🌼🌺
#প্রার্থনা #প্রণাম #ভক্তি