17/01/2026
#প্রিয়_চিঠি
#নুসরাত_জাহান_দিয়া
#পর্ব :৪
❌কপি করা নিষিদ্ধ ❌
দেহের মৃত্যু হলে সবাই কাঁদে,চেনা মুখগুলো ভিড় জমায়,ফুল ছিটায়, প্রার্থনা করে,কেউ কেউ চোখের জলও ফেলে।
কিন্তু মনের মৃত্যুতে—সেখানে কেবল নীরবতা,একটা দীর্ঘ, নিঃশব্দ কান্না,
যা শোনা যায় না কোনো কানে।
মন মারা যায় আস্তে আস্তে—
যখন কথা বলেও কেউ শোনে না,
যখন ভালো থেকেও কেউ বুঝতে পারে না,
যখন নিজের আনন্দও অপরাধ মনে হয়।
তখন হাসি কেবল মুখে থাকে,
অন্তরে জমে কুয়াশা,
আর চোখের নিচে গড়ে ওঠে
অদৃশ্য কবর—
যেখানে কবর দেওয়া হয় অনুভূতিগুলোকে।
মানুষ তখনও বাঁচে—
হাঁটে, খায়, কথা বলে,
কিন্তু ভেতরে এক মৃত শহর গড়ে ওঠে,
যেখানে আলো ঢোকে না,
শুধু প্রতিধ্বনি শোনা যায়—
“আমি আছি, কিন্তু নেই।”
দেহের মৃত্যুতে পৃথিবী কাঁদে,
কারণ দেখা যায় শরীর,
কিন্তু মনের মৃত্যুতে কাঁদে কেবল মনই—
নিঃশব্দে, নিজের ভেতরেই নিজের শেষকৃত্য করে।
এতটুকু লেখেই হেমন্তী ক্লান্ত। প্রাকৃতি ও ক্লান্ত হয়ে অস্তিত্ব বিলিন করে অস্ত যাচ্ছে। হেমন্তী ডাইরিটা হাতে নিয়ে রুমে চলে এলে। আজ তার মনে কোনো এক পুরোনো কষ্ট উত্তাল দিয়েছে।কোনো অজানা কষ্ট? যাকে ৪ বছর আগে পিছনে ফেলে এসেছে।
টেবিলের স্তুপের উপর ডাইরিটা রেখে নিচে চলে এলো হেমন্তী,বিকালে রান্না বান্না শেষ করে কাজের খালা চলে যায়।আর মা বাবা ও মামার বাড়ি বেড়াতে গেছে। আর অবন্তী সে তো অসুস্থ একটা মেয়ে, তার উপর আবার পেগনেন্ট তাকে কিভাবে চা তৈরির কথা বলবে, তাই সে দুই কাপ চা বানিয়ে এক কাপ অবন্তী কে দিয়ে আরেক কাপ চা নিয়ে উপরে চলে এলো। বাতাসে পর্দা গুলো উড়ছে।তাই চা টা টেবিলে রেখে দরজা জানালা গুলো বন্ধ করে দিলো।চা নিয়ে বসলো চেয়ারে। বইয়ের স্তুরগুলোর দিকে একমনে তাকিয়ে আছে। তখনই তার মনে হলো আজকে দুপুরে আসা চিঠির কথা। তার একেবারে মনেই ছিলো চিঠির কথা।
চেয়ারে বসে থাকায় ডাইরিটা টান দেওয়া তে সেখান থেকে বেরিয়ে এলো।লাল একটা ভাঙা চুরি। আর একটা গোলাপ। যা তাকে দিয়ে ছিলো তার ভালোবাসার মানুষ শুভ্র। যার জন্য অপেক্ষা করতে করতে সে আজও একাকী। সবাই থাকার পরও একাকীত্ব বোধ করে।সব কিছু বিষাদ লাগে।
তার কি মনে হয় না একবার হেমন্তীর কথা? কোনো দিন খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি কেনো সে? তার মানে সে কি কোনোদিন ভালোবাসেনি হেমন্তী কে?
হেমন্তী ভাবনা কে এক প্রান্তে রেখে, পুরোনো স্মৃতি গুলো সরিয়ে চিঠি নিয়ে বসলো।
ডাক বক্সের বাদামী কালারের খাম থেকে বেরিয়ে আসে একটা নীল রাঙা খাম।যার নিচ প্রান্তে ছোট ছোট অক্ষরে লেখা শুভ্র চৌধুরী। সে চিরচেনা নাম দেখে মনের মাঝে ধুক করে ওঠলো।চোখে ঝাপসা দেখছে সে।তার বিশ্বাসের শেষ প্রান্তে সে।
#রানিং......