24/12/2023
"আজ ভগবান শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের তৃতীয় লীলা সহচর, ও ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রথম সাধারণ সম্পাদক, প্রণব পত্রিকার প্রথম সম্পাদক, পরম পূজ্যপাদ শ্রীমৎ স্বামী বেদানন্দজী মহারাজের ১২৩ তম পূণ্য আবির্ভাব দিবস।।
শ্রী শ্রী ঠাকুর স্বামীজী সম্পর্কে বলতেন-"ও হলো কলির ব্যাস দেব, ওর কণ্ঠে সরস্বতী বিরাজ করছেন।।"
সমগ্র কলকাতা, তথা ভারত বর্ষের ইতিহাসে আজ এক বিশেষ দিন, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের তেজস্বী সন্ন্যাসী পূজ্য শ্রীমৎ স্বামী প্রদীপ্তানন্দজী মহারাজের সভাপতিত্বে ও দ্বারকা মঠের পরম পূজ্য শঙ্করাচার্য শ্রীমৎ স্বামী সদানন্দজী মহারাজের পূণ্য উপস্থিতিতে কলকাতা ব্রিগেড গ্রাউন্ডে আজ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ অনুষ্ঠিত হলো, আজ এই পূণ্য দিনে লক্ষ লক্ষ সন্ত সাধু ও ভক্ত কণ্ঠে যে সপ্তসতী পাঠ হলো ও তার মাধ্যমে যে পূণ্য আধ্যাতিক পরিমণ্ডল সৃষ্টি হলো, ও উর্জা উৎপন্ন হলো তা যে একদিন ভারতকে মহান সন্ন্যাসী স্বামী বেদানন্দজী মহারাজের স্বপ্নের ভারত এ পরিণত করবে, তাহা নিয়ে কোনো সন্ধেহ নাই।। পূজ্য স্বামীজী সত্যিই ছিলেন এযুগের ব্যাস দেব, ভগবান আচার্য্য দেবের প্রথম জীবনী থেকে শুরু করে, গুরু মুখী গীতা, ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, শ্রী শ্রী কৃষ্ণ, সহ বহু গ্রন্থের রচয়িতা মহারাজ।।
সঙ্ঘ সাহিত্যে স্বামীজীর অবদান নিয়ে একটি ছোট্ট প্রবন্ধ নিচে পরিবেশন করলাম....
"ছাত্রজীবনেই স্বামিজী সুলেখক ও সুকবি। ভগবৎ বিগ্রহ শ্রীশ্রীযুগাচার্য্যের যুগমঙ্গল মহাভাব প্রচারের পুণ্যব্রত উদযাপনেই যেন বিধাত্রী নির্দেশে সহজাত প্রতিভা ও সাহিত্যকৃতি নিয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এই দ্রষ্টা ঋষির ধ্যানের তন্ময়তায় পরিদৃষ্ট হয়েছিল ইষ্টএর অপ্রাকৃত স্বরূপ ও ভাগবতী শ্রীমূর্তি আর মননে স্বতঃস্ফুরিত হয়েছিল তদীয় ইচ্ছা ও মহাভাবের গৌরব ও তাৎপর্য্য। ঐ যে বলেছেন-"আমি চেষ্টা সত্ত্বেও স্ব বস নই " তা তার সাহিত্যসৃষ্টির ক্ষেত্রেও সমান সত্য। এখানেও তিনি স্ববশ নয় ;" তা তাঁর যন্ত্রীর শ্রীহন্তে যন্ত্রবৎ মাত্র। তিনি অবশের ন্যায়। শ্রীশ্রীঠাকুর তদীয় সন্তানের তপঃশুদ্ধ মেধায় স্বীয় মহাভাব ও ইচ্ছার রহস্য স্বতঃসঞ্চারিত করে তদীয় লেখনীতে দিয়ে- ছিলেন সার্থক বলিষ্ঠা গতি। মাদারীপুর অবস্থানকালে বিনিদ্র মস্তিষ্কে ইষ্টমুখী নব নব ভাব ও চিন্তাপ্রবাহের তরঙ্গ তাঁকে পাগল করে তুলতো। স্বামিজীর নিজ বিবরণ- "মস্তিষ্ক অত্যধিক উত্তপ্ত বোধ করলে ভাব ও চিন্তাগুলি লিখে লিখে মাথা খালি করে নিতেম। কয়েক দিন শহরের স্কুল ও কলেজের ছেলেদের ডেকে এনে আলোচনাক্রমে আমার চিন্তা ও ভাবগুলি বলে মস্তিষ্ক শান্ত করতে চেষ্টা করলেম।"
কিন্তু শান্ত কি হয়? এ যে ভাগবতী ইচ্ছা ও ভাগবতী প্রেরণা। নব- যুগের তর্য্যধ্বনি দেশে দেশে জনে জনে পৌঁছে দিতে হবে। এ দুর্ব্বার, অশান্ত গতির উপশম কোথা, যতদিন না অভীষ্ট লক্ষ্যে ঘটে সফল উপনীতি? তাঁর লেখনীর বিরাম ছিল না, বিশ্রাম ছিল না। কত লেখাই না তিনি অনর্গল লিখেছেন সঙ্ঘের বহুমুখী ভাবাদর্শ প্রচারে তথা দিকে দিকে যুগ- দেবতার ভাগবত মহাব্যক্তিত্বের সন্দেশ সম্প্রচারে। মাদারীপুরে অবস্থানরত অবস্থার চিন্তাগুলি পরবর্ত্তী কালে ধ্রুবভারত", "ঋতম", "গীতার ভূমিকা" এবং "ত্রৈমাসিক প্রণব" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। আরো পরে শ্রীশ্রীআচার্যাদের তদীয় সঙ্ঘের মাধ্যমে ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার ভিত্তিতে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতিগঠনকল্পে যখন একে একে আন্দোলনের পর আন্দোলনের উত্তাল প্রবাহ তুলেন, তখন এই প্রতিভাধর লেখকের অমর লেখনীতেই ফুটে উঠেছে সেই সেই আন্দোলনের পরিপোষক ভাবসমৃদ্ধ রচনাবলী এবং তৎসমূদয় গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়ে সহস্র সহস্র সংখ্যায় প্রচারিত হয়েছে। দেশের ভবিষ্য আশা-ভরসার, স্থল বালক ও তরুণদের 'ভিতরে রহ্মচর্য্য সাধনার প্রবল তরঙ্গ আনয়নের সৌকরর্য্যর্থে'ব্রহ্মচর্যম" গ্রন্থ এবং গৃহস্থদের সাধন ও কর্তব্য নিন্দেশে 'গার্হস্থম' গ্রন্থের আত্মপ্রকাশ। গুরুপুজার আদর্শ, তাৎপর্য ও পদ্ধতি প্রচারে "ও' শ্রীশ্রীজগদগুরু," "ভারতে গুরুবাদ", "ভারতে গুরুপুজা" এবং "শ্রীশ্রীসদগুরু" পুস্তকের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা। আত্মবিস্মৃত এবং স্বধৰ্ম্মে' সদাচারভ্রষ্ট হিন্দুদের কল্যাণে "হিন্দুত্বম" এবং "জয়িষ্ণু হিন্দু" লিখিত হয়। সঙ্ঘ ও সম্মনেতার অভীষ্ট ভাবাদর্শের আলোকে রচিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নিবন্ধের সমষ্টি "সঙ্ঘবাণী" একখানি সুন্দর ও উপযোগী গ্রন্থ। "যুগধর্ম গ্রন্থে যুগের সাধন ও কর্তব্য সম্বন্ধে নুতন চিন্তার সংযোজনা। সমাজে নারী-সমস্যার সমাধান সূত্রের সুষম বিশ্লেষণ "হিন্দুনারী লাঞ্ছিতা অপহৃতা হয়' কেন?" এবং "হিন্দু নারীর আদর্শ ও সাধনা" গ্রন্থদয় প্রাপ্তব্য। প্রয়াগ ও হরিদ্বারে কুম্ভযোগের বিবরণ ও মাহাত্ম্য বর্ণনায় "প্রয়াগধামে কুষ্ণমেলা" ও "হরিদ্বারে কুম্ভমেলা" বই দুখানির অজস্র প্রচার। "গয়ামাহাত্ম্য ও গয়াকৃত্য" গ্রন্থখানি সঙ্ঘের তীর্থ সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম দিগদর্শন এবং তীর্থযাত্রীদের রক্ষাকবচ স্বরুপ। শ্রীশ্রীআচার্য্যের লীলাকথা ও তদীয় অবদান-বৈশিষ্ট্যের সামগ্রিক রূপরেখা আমরা পাই "শ্রীশ্রীযুগাচার্য'-জীবন-চরিত," "The prophet of the Age," আচার্য্য প্রণবানন্দের অবদান," "শিশুদের 'প্রণবানন্দ" এবং "তরুণের প্রণবানন্দ"-এই পঞ্চগ্রন্থে। এতদ্ব্যতীত "ধর্ম"- সাম্রাজ্য-সংগঠক শ্রীকৃষ্ণ," "গুরুমুখী রামায়ণ," "গুরুমুখী মহাভারত," “শিশুদের রামায়ণ," "শিশুদের মহাভারত," "শ্রীশ্রীগীতা গুরুমুখী ভাষ্য, "Reorganisation of India". "Warning to the nation," "পার্থসারথি (নাটক)"-ছোট বড় এইরূপে অসংখ্য গ্রন্থের সফল রচয়িতা স্বামী বেদানন্দজী।"
তথ্যসূত্র- "বিদগ্ধ সাধক স্বামী বেদানন্দ"
স্বামী নির্মলানন্দজী মহারাজ
ব্যাসাবতার পরম পূজ্য শ্রীমৎ স্বামীজীর শ্রী চরণে অনন্ত শ্রদ্ধা ও প্রণাম 🙏🌼