Gayeshpur Satsang Kendra

Gayeshpur Satsang Kendra INAUGURATED ON 16TH SEPTEMBER 1987. VISITED BY REV. MEJDA, REV. BABAIDA, REV. BINKIDA AND REV. TINKUDA.

সবার জীবন সমানভাবে চলে না | চড়াই উতরাইয়ের পথে পথে চলতে গিয়ে অনেককেই  ক্ষতবিক্ষত হ'তে হয় | পরিবারের কাছ থেকে সঠিক শিক...
26/06/2026

সবার জীবন সমানভাবে চলে না | চড়াই উতরাইয়ের পথে পথে চলতে গিয়ে অনেককেই ক্ষতবিক্ষত হ'তে হয় | পরিবারের কাছ থেকে সঠিক শিক্ষা আর পোষন না পাওয়ার ফলে অনেকের জীবনই ছন্নছাড়া হয়ে ওঠে| জীবনের উত্তম সময় যৌবনকালেই জীবন বিষাক্ত হয়ে ওঠে| আবার অনেকে চেষ্টা করেন নিজের ভুলকে শুধরে নিয়ে অমৃতের পথে যাওয়ার জন্য |
সেদিন নাটমণ্ডপে এমনই এক ভাল - মন্দ, দ্বিধাদ্বন্দময় পথের পথিকের জীবন - কাহিনীর উন্মেচন হ'ল | ২৫/২৬ বছরের একটি মেয়ে জীবন - সংগ্রামে পরাজিত হয়ে আচার্য্যদেবের কাছে দিশা - প্রার্থনায় এসেছে | বর্ণগত দিক থেকে সে উচ্চ, কিন্তু গত দু'বছর ধরে নিম্ন বর্ণের একটি ছেলেকে ভালোবেসে এসেছে | এখন ছেলেটা তার জীবন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে | সে এটা মন থেকে মেনে নিতে পারছে না মনে কিছুটা অনুতপ্ত | তারপরেও কষ্টকে বুকে চাপা দিয়ে সে ঠাকুরের কাজে যুক্ত রাখতে চায় | আচার্য্যদেবের কাছে প্রার্থনা করছে ----- এখন কী করা যায় ?
আচার্য্যদেব সব শুনে সেই মেয়েটিকে বললেন ----- এটা তো তোর জীবনের পক্ষেও আশীর্বাদ, ছেলেটার জীবনের পক্ষেও আশীর্বাদ | ঠাকুরের কাজ করতে চাইছিস, খুব ভালো | সব সময় ঠাকুরের কথা ভাববি, ছেলেটার কথা ভাববি না | ভালবাসা মানে কি শুধু আমার মত করে পাওয়া ? ভালোবাসাতে যদি ছেড়ে ভালো থাকতে পারে, তাকেই যদি ভালবাসি তো সে যাক চলে |
বেদনাহত মেয়েটি জানায়, তার পরিবার তাকে আর বাড়িতে রাখতে চাইছে না, বিয়ে দিতে চাইছে |
আচার্য্যদেব বললেন ----- বাড়িতে বলবে, আমার এখন আর বিয়ে করার অবস্থা নেই |
একটু থেমে মেয়েটিকে বললেন ---- আসলে তুই ছয় বছর ধরে বাড়ির লোককে জ্বালিয়েছিস্ | তুই চিনি হয়ে যা দেখি | দুধে মিশে যাবি, তোর চাহিদা থাকবে | তা না করে তুই লঙ্কার গুঁড়ো, নুনের গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছিস | চিনি ছাড়া দুধ কেউ খেতে চায় না | সেই ভাবে বাড়ির লোককে বলতে হবে
শুরু থেকেই মেয়েটির মুখাবয়বে বিষাদের ঘন ছায়া | আচাৰ্য্যদেব মেয়েটিকে বললেন ----- তুই হাসতে পারিস্ না ? একটু হাস্ তো দেখি | মেয়েটির মুখে কোনরকম হাসির অভিব্যক্তি দেখা গেল না | তখন তিনি তাকে বললেন ----- তাহলে তুই একটু কাঁদতো দেখি |
মেয়েটি নিজেকে আর সংবরন করতে পারল না | দু' হাতে মুখ ঢেকে হু হু করে কেঁদে উঠল | পরিবেশ মূহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় | বেশ কিছু সময় ধরে কান্নার মধ্য দিয়ে মনের মধ্যে জমে থাকা চাপা কষ্ট যেন গলে পড়তে থাকে | একসময় মেয়েটির কান্না থামে , চোখের জল মোছে |
আচার্য্যদেব বললেন ------- দেখলি, মনটা একটু হালকা হ'ল না! আমাদের যখন কোন প্রিয়জন বিয়োগ হয়, তখন আমরা হাউ হাউ করে কাঁদি, ফলে তার প্রতি আমাদের মায়া - মোহ কিছুটা বাস্তবতায় ফিরে আসে | ছেলেটা কেন পালালো, সেটাও তো ভাবতে হয় | মনে হয় তোর হাসিটা নিশ্চয়ই ভালো নয়, হাসতো একটু দেখি |
মেয়েটি হাসতে চেষ্টা করে, মুখে তার সমান্য হাসির রেখা ফুটে ওঠে মাত্র | আচাৰ্য্যদেব তা দেখেই বলে উঠলেন ------- যাই হোক, একটু কাষ্ঠহাসি তো অন্তত দিলি | এ হাসিটা মোনালিসার মত |
যারা এতক্ষন ধরে আমাদের সংসারে নিত্য ঘটে চলা এই অতিবাস্তব খন্ডচিত্র দেখছিলেন, তারা এবার সকলেই আচার্য্যদেরের মিষ্টিমধুর রসিকতায় হাসতে থাকেন | কিছুক্ষন আগের থমথমে পরিবেশ অবার মুহূর্তের মধ্যে আনন্দমুখর হয়ে উঠে | মেয়েটি জনায় ছ' বছর ধরে এতদূর এগিয়েছে, এখন সে কিভাবে পিছোবে | আচার্য্যদেব তাকে বললেন ---- দেখ এগোনো, পিছনো কিছু না | পৃথিবীতে যদি জাগতিক বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে দেখি, দেখা যায় সেখানে দুটো জিনিস আছে ----- টাইম আর স্পেস | সময় হচ্ছে তুমি যে সময়টাতে যেখানে ছিলে, সেটাই সময় | তুমি যদি বলো ২০১১ - ১২, সেটা শুধুমাত্র কল্পনা | উত্তর - দক্ষিণ এসব আমাদের কল্পনা মাত্র | বিশ্বে না আছে কোন উত্তর - দক্ষিণ, না আছে কোন পূর্ব - পশ্চিম | একটি গোলাকার বলের কি দিক আছে ? আমরা নিজেদের সুবিধার জন্য একটা নির্ধারণ করে থাকি | ব্রহ্মাণ্ডের এই অখন্ডস্পেস আর টাইমই আমাদের উপস্থিতি নির্ধারণ করে | তুই আর আমি হযে আছি, তা টাইম আর স্পেসই নির্ধারন করে | আর যেদিন শরীরটা থাকবে না, সেদিন টাইম আর স্পেস- এরও কোন ভূমিকা থাকবে না |
আচার্য্যদেব বিভিন্নভাবে মেয়েটিকে জীবন আর এই ভৌতিক পরিবেশ সম্পর্কে নানান অমিয় উপদেশ দিতে লাগলেন, যা' উপস্থিত সকলের কাছে অমূল্য সম্পদ | তিনি বলে চলেছেন ---- তোর্ থেকে আমরা জন্মাই, তোর একটা শক্তি | তুই পিঁপড়ের মত জীবন বেছে নিয়েছিস, তাই পিঁপড়ে হয়েছিস্ | তুই যদি ভাবিস্ যে আমি মা দুর্গা হয়ে যাব, তুই হবি | যেটা হতে চাইবি হতে পারবি| আমরা হতে গিয়ে ভয় পাই যে, আমি এটা হয়ে গেলে তো অন্যরকম হয়ে যাব! আমরা নিজেকে বিশ্বাস করতে পারি না | ভগবানের বিশ্বাস অনেক বড়, ঠাকুরের বিশ্বাস অনেক | আমি যে পারি এই ভাবনাটাই আমার কাছে থাকে না | সেই জন্য আমরা পারি না, হেরে যাই | আর, তুই যদি মনে করিস্ দূর! কোন ছেলে , কে কার! আমি আমার জীবনের, আমি আমার ঠাকুরের , তখন দেখবি যে তোর্ জীবনটা অনেক এগিয়ে গেছে | ছেড়ে দে ওকে ওর মত | বলবি তুই যেখানে আছিস, ভালো থাক | তোর জন্য আমার অশির্বাদ রইল | এইরকম করে ভাব, তুই যখনই এরকম করে ভাবতে পারবি, দেখবি যে তোর মনটা বড় হয়ে গেছে | তুই ওকে একদম ক্ষমা করে দে | ক্ষমতাশীল হয়ে ওঠ, মনে মনে ভাববি যে, আমি তোর দ্বারা আর আহত হই না, অভিভূত হই না | এতটা সময় আমার কাছে নেই তোকে ভাববার | আমার সময় আছে যাতে আমি ঠাকুরকে নিয়ে পাগলপারা হতে পারি |' আমি অসীমের আধিকারী' ---- এটা যেদিন তুই ভাবতে পারবি, সেদিন তুই বিশ্বাস করবি ভেতর থেকে, সেদিন তোর মধ্য দিয়েই তিনি প্রকাশিত হবেন, এটাই নিয়ম |
এগিয়ে যেতে হবে | আমি তো ঠিক পথে আছি ঠাকুরকে ধরে | তুই কি পারবি না ? নতুন সাইকেল চালালে প্রথমে একটু টালমাটাল করে | এগিয়ে যা, ভয় পাবি না | আর ভাববি না যে আমি হেরে যাব | সব সময় মনে করবি আমি জিতব |
বহুদিনের চাপা বেদনার ভারাক্রান্ত মনের ক্ষতে আচার্য্যদেব পরম স্নেহে শান্তির প্রলেপে দেন | তিনি মেয়েটিকে আবার বলেন ----- মহাভারতে কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধ হচ্ছে , তাতে তুই যদি অর্জুন হবি, তাহলে তোর সাথে কৃষ্ণ আছে | এগিয়ে চল্ |
মেয়েটির মুখে এতক্ষনে সত্যিই হাসির রেখা ফুটে উঠেছে | সে প্রনাম করে বিদায় নেয় | সে পিছন ফিরে তাকালে দেখতে পেল এতক্ষন বসে যারা তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে সবকিছু শুনছিল, তাদের মুখেও স্বস্তিপূর্ণ হাসির রেখা |

~শ্রীশ্রী আচার্য্যদেব।

23/06/2026

দেওঘরের এক পাঞ্জাবী বিয়াস সৎসঙ্গী শ্রীশ্রীঠাকুরকে বলেছেন---- একজন ভালবেসে এক মুহূর্তে সাধু হয়ে যায়, আর একজনের কুড়ি বছরেও কিছু হয় না। তার দয়াই তো প্রধান জিনিস।

শ্রীশ্রীঠাকুর ----- সূর্যের রশ্মি সব জায়গায় পড়ে।অনুরাগই আতস পাথর যা তাকে কেন্দ্রীভূত করে। আমি বলি --- তুমি ভালবাস, ভালবাস, কেবল তাঁকেই ভালবাস। তিনি তোমাকে ভালবাসেন, না বাসেন, তার তোয়াক্কা রেখো না। তাহলে হিসাব এসে যাবে। হিসাব নিকাসে ভালবাসায় খাঁকতি হবে। সংসারে দু:খ আসবেই, কাল ও প্রবৃত্তি ছাড়বে না। এর মধ্যে সম্বল ভালবাসা। জীবন কত রকমে ক্ষয় করি, না হয় তাঁকে ভালবেসেই ক্ষয় করলাম।

উক্ত দাদা--- আমরা ভালবাসার চেষ্টা করি, কিন্তু ভালবাসার চিনির স্বাদ পাই না, যদি তিনি না দেন।

শ্রীশ্রীঠাকুর ------ সেই চিনির স্বাদ আসে, এমনতর ভালবাসি না। তুমি যদি একগুন ভালবাস, একশোগুন পাবেই। আমি বলি, ঐ চিনির লোভে ভালবাসতে যেও না, ভালবেসে যাও, এমনি এসে যাবে যা আসার। বেকুব হবে কেন? ঠকবে কেন? এতকাল ভালবাসলাম, কী হলো, বল কেন? প্রেম নাই বল কেন? বল আমি ভালবাসি---- আরো বালবাসি। ভালবাসি কও--- ভালবাসলে যা করে তা কর, চতুর হও। নাছোড়বান্দা হয়ে ভালবাস। যে ভালবাসায় তিনি বাধা পড়বেন।
~ (আ: প্র: ১৮শ খন্ড)

08/06/2026

প্রশ্নঃ-- স্বস্ত্যয়নী জিনিসটা কী ?
ইষ্টভৃতি তো আছেই '
'
⚪শ্রীশ্রীঠাকুর—স্বস্ত্যয়নী একটা ব্রতবিশেষ। পাঁচটি নীতি নিয়ে স্বস্ত‍্যয়নী।
এতে ক্রমোন্নতির অন্তরায়গুলি যেমন নিরুদ্ধ হয়, তেমনি উন্নতিলাভের পক্ষে অপরিহার্য গুণগুলি আয়ত্ত হয়, যাতে করে সর্ব্ববিধ অমঙ্গল দূরীভূত হয়ে মঙ্গলের পথ প্রশস্ত হয়। এছাড়া, এতে গ্রহবিপাক খন্ডে। গ্রহ মানে that which makes one's intellect obsessed (যা' মানুষের বুদ্ধিকে অভিভচত করে)। যেমন শনিগ্রহ, রাহুগ্রহ। কর্ম্মফলে গ্রহ কুপিত হলে যে-সব শান্তি-স্বস্ত‍্যয়ন করে, তার থেকে ঢের বেশী ফল হয় স্বস্ত‍্যয়নীর নীতিগুলি নিখুঁতভাবে পালন করায়। এ ব্রতের মূল কথখ হলো যুগপৎ এই পাঁচটি নীতি পালন করতে হবে

১। শরীরকে ইষ্টপূজার যন্ত্র বিবেচনা করে সুস্থ ও সহনপটু করে তুলতে হবে। ⚪⚪⚪⚪⚪⚪
২। মনের কোণে যখন‌ই যে-কোন প্রবৃত্তি উঁকি মারুক না কেন, তাকে ইষ্টস্বার্থ ও ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠার অনুকূলে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ⚪⚪⚪⚪⚪
৩। যে-কাজে যখন‌ই যা' ভালো বলে মনে হবে, তা' কাজে ফুটিয়ে তুলতে হবে।

৪। পারিপার্শ্বিকের বাঁচা-বাড়াকে নিজের‌ই বাঁচা-বাড়ার স্বার্থজ্ঞানে তাদের যাজনসেবায় ইষ্টে আকৃষ্ট ও যুক্ত করে উন্নত-চলৎশীল করে তুলতে হবে। ⚪⚪⚪⚪⚪⚪
(৫) আর, চাই নিজের কর্মশক্তি, উদ্ভাবনীবুদ্ধি ও অর্জ্জনপটুতাকে বাড়িয়ে তুলে নিত‍্য বিধিমাফিক অর্ঘ‍্য-নিবেদন। এই সবগুলি আচরণ করলে তবেই স্বস্ত‍্যয়নী পালন করা হলো। সূর্য‍্যের যেমন রোজ‌ই সংক্রমণ হচ্ছে। একটা range(এলাকা) থেকে যখন অন‍্য range-এ যায়, তখন তাকে বলে সংক্রান্তি। স্বস্ত‍্যয়নী ব্রত নিষ্ঠাসহকারে প্রতিটি নীতিবিধিসহ পালন করতে থাকলে আমাদের‌ও তেমনি সূর্য‍্যের সাথে-সাথে নিত‍্য সেই ব্রতানুযায়ী জীবনচলনার ক্ষেত্রে ধীরে-ধীরে এক নূতন জগতে সংক্রমণ অর্থাৎ অনুপ্রবেশ সংঘটিত হতে থাকে।

এই ইষ্টাভিমুখী সংক্রমণের ফলে প্রবৃত্তি -অভিভূতীর নাগপাশ থেকে আমরা ধীরে -ধীরে মুক্তিলাভ করতে পারি, তখন গ্রহ বা complex -এর (প্রবৃত্তির)knot (গ্রন্থি) আমাদের কাবেজ করতে পারে কমই।

ইষ্টভৃতি দীক্ষা নিলেই করতে হয়,দীক্ষাকে চেতন রাখবার জন্য। যজন-যাজন ইষ্টভৃতি অস্তিত্বকে ধরে রাখে।আর তার বদ্ধনার জন্য স্বস্ত্যয়নী ব্রত গ্রহণ ও পারল করে চলতে হয়। ideal (আদর্শ) নিজে ওenvironment(পরিবেশ)- এই তিনটের co-ordination( সমন্বয়) এর ভিতর দিয়েই জীবন ক্রমবদ্ধমানতার পথে চলে। স্বস্ত্যয়নীর নীতিগুলি এই co-ordonation (সমন্বয়) কে বাস্তবজীবনে আরও -আরও প্রতিষ্ঠিত করে তোলে।

স্বস্ত্যয়নীর প্রথম চারটি নীতি যতই পালন করি না কেন, ইষ্ট-পূজার offering (অর্ঘ) ছাড়া পূজাটা কিন্তু decentric(বিকেন্দ্রীক)হয়ে যায়। তাই স্বস্ত্যয়নী-ব্রতের ঐ অর্ঘ নিবেদন কিন্তু নিতান্তই essential (প্রয়োজন)। আদত কথা হলো, ইষ্টের পোষণ -পুরণ আমাদের জীবনের প্রথম ও প্রধান করণীয়। তাঁর উপর প্রাণের টান না গজালে আমাদের ভিতরের সত্তা প্রকৃত উন্নতির পথ পায় না। তাঁর জন্য করতে-করতে তাঁর উপর টান গজায়। তাই নিষ্ঠাসহকারে এই পাঁচটি নীতিই পালন করা লাগে।

প্রতিমাসে তিন টাকা অর্ঘ ইষ্ট-সকাশে নিবেদন করে সারামাসে নিবেদিত অর্ঘের বাদ বাকিটা স্বস্তয়নীর উদ্বৃত্ত হিসাবে রেখে দিতে হয়। সেটা জমতে জমতে এটা বিরাট fund ( তহবিল) হয়ে যায়। তা দিয়ে “ ইষ্টোত্তর স্থাবর সম্পত্তি ” করতে হয়। তুমি সেবাইত হিসেবে প্রতি বৎসর সেই সম্পত্তির আয়ের এক-পঞ্চমাংশ নিতে পার। আর, তার চার-পঞ্চমাংশের উপর অধিকার ইষ্টের।

প্রত্যেকেই যদি ইষ্টোত্তর সম্পত্তি করে তবে একদিন সমগ্ৰ রাষ্ট্রই তো ইষ্টের হয়ে যেতে পারে!

শ্রীশ্রীঠাকুর হেসে বললেন-একেবারে !

(আলোচনা প্রসঙ্গে ১৩ তম খণ্ড)

25/04/2026

সৎ মানুষ চিনে নিতে না পাড়লেই মহা সর্বনাশ।

একটা মানুষের দৈহিক গঠন,পা-ফেলার ধরন,হাতের লেখা চোখ, নাক,কান, ঠোঁট,শরীরের কোথাও জন্মগত বিকৃতি,হাত,পা, আঙ্গুল,কপাল, মুখমন্ডল,দেখেই একটা মানুষের পুরো বায়োডাটা জানা যায়। শ্রী শ্রী ঠাকুর এবং আচার্য-পরম্পরার মাধ্যমে দেখেছি মানুষ চেনার ক্ষমতা। শ্রী শ্রী ঠাকুর সৎমন্ত্র প্রদত্ত্ব নাম ধ্যান করলে এই ক্ষমতা এক্সরে মেসেনির মত মানুষের মনের খবর সব ধরা পড়ে। শ্রী শ্রী ঠাকুরের বহুল প্রচলিত কালজয়ী বানী-"মানুষ আপন টাকা পর,যত পারিস মানুষ ধর। কিন্তু সতর্ক ও করেছেন টাকা রেখো গুনে- গুনে। মানুষ নিও চিনে চিনে।বর,কনে,খরিদ্দার,ছাত্র,পার্টনার, কর্মচারী,নেতা, গুরু,সৎ-মানুষ চিনে নিতে না পারলে সর্বনাশ। বড্ড ঠকতে হবে।
শ্রী শ্রী ঠাকুর-কারো শরিরে কোথাও কোন জন্মগত বিকৃতি থাকলে,ধরে নিতে হবে তার মনের মধ্যেও ঐ বিকৃত রকম আছে।ধর কারো আঙুল টা একটা চাপা। তাঁর মনের মধ্যেও একরকম চাপা ভাব থাকে।কারো আঙুলটা হয়ত কাটা ,তার মনের মধ্যেও একজাতীয় unbalanced (সমতাহারা)রকম। লক্ষ্য করে দেখো-ঠিক লেগে যাবে। সেইজন্য আগেকার দিনে মেয়ে দেখতে গেলে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত দেখতে।চুল কতখানি লম্বা,নাকটা কেমন,মুখটা কেমন, আঙ্গুলগুলি কেমন,সব খুটিয়ে খুটিয়ে দেখত।সবটার সঙ্গে সবটা consistent (সম সঙ্গত)কিনা।[দীপর৬/২৬০]
শ্রী শ্রী ঠাকুর: মানুষের কপালে প্রজাপতির মত ভ্রমর দুপাশে দুটো জায়গা একটু উঁচু থাকে,এটা
ভালো।এতে মানুষ বুদ্ধিমান হয়। বেশি উঁচু থাকা আবার ভাল না,তাতে মানুষ সক্রিয় হয় না।[আলোচনা প্র ২০/১২৯]
শরৎদা: একটা লোক দশ মিনিট ধরে কথা বললে লোকটির চরিত্র কি বোঝা যায়?
শ্রী শ্রী ঠাকুর কথার রকম দেখেই বোঝা যায়। কথাগুলোর মধ্যে প্রবৃত্তির রূপ গুলি ধরা পড়ে। শ্রদ্ধাবান, অশ্রদ্ধাবান, সৌজন্য পূর্ণ বা অভদ্র তা বোঝা যায়। কেমন করে কথা বলে,কেমন করে তাকায়, কেমন করে দাঁড়ায়, সবগুলো লক্ষ করতে হয়।[আলোচনা প্র:২১/২৯৩]
শ্রী শ্রী ঠাকুর:ভাল-মন্দ মানুষ চেনার কিছু লক্ষণ আছে। আপনার কন্ঠস্বরের যে-বৈশিষ্ট্য তা' থেকে অনুমান ও বের করা যায় আপনার সমগ্র জীবন, চরিত্র ও ভাগ্য। শুধু এজন্মের নয়, অতীত ও ভবিষ্যৎ কত কত জন্মের।আর কেবল আপনার নয়, আপনার পরিবার, পরিবেশের, সমাজের ও জগতের যা-কিছুর। মনোযোগ দিলেই সিনেমার পর্দায় যেমন পর-পর ছবি ও দৃশ্য ফুটে ওঠে,তার চাইতে ও স্পষ্ট সব চাক্ষুষ করা যায়।[আলোচনা প্র:১৪/১৫]

14/04/2026

💰এক উদ্দেশ্যের টাকা অন্য উদ্দেশ্যে খরচ করা অন্যায় 🔴

স্পেনসার নূতন আশ্রম নির্ম্মাণের উদ্দেশ্যে যতীনদা (দাস) কে কয়েক হাজার টাকা পাঠান। স্পেনসার পরিষ্কার ক’রে লিখে দেন - আমাদের নিউ জেরুজালেমের জন্য এই টাকা পাঠাচ্ছি।

যতীনদা শ্রীশ্রীঠাকুরের একটি জিপ কেনার জন্য সাময়িকভাবে সেই টাকা খরচ করেন। স্পেনসার এই নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান।

শ্রীশ্রীঠাকুর সব কথা শুনে বললেন...
ঐ টাকা অন্য উদ্দেশ্যে খরচ করাটাই প্রধান দোষ হয়েছে। All money is money, but the sentiment of all money is not the same (সকল টাকাই টাকা, কিন্তু সব টাকার উদ্দিষ্ট ভাব এক নয়)।

এতে স্পেনসারদা সন্তুষ্ট হলেন।

যতীনদা বললেন - আমি ও টাকা বিশেষ প্রয়োজনে সাময়িক খরচ করলেও আবার পুরিয়ে দেব।

শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন - ওতে হাত দেওয়াই ঠিক হয়নি। এইরকম করতে থাকলে ধীরে ধীরে go-between (দ্বন্দ্বীবৃত্তি) রপ্ত হ’তে থাকে।

যতীনদা এবারে নিজের ভুল বুঝতে পারলেন এবং বিনীতভাবে বললেন- এ-সব বদ-অভ্যাস ত্যাগ করতে চেষ্টা করব।

-শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
(আলোচনা-প্রসঙ্গে: ১৮ খন্ড, ২৭।১০।১৯৪৯)

সৎসঙ্গ অমরধামে একজন দাদা নিজের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলে পূজ্যপাদ শ্রী শ্রী অবিনদা তাকে বলেন— "দেখ , বিয়ে করবি ভেবেচিন্...
05/02/2026

সৎসঙ্গ অমরধামে একজন দাদা নিজের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলে পূজ্যপাদ শ্রী শ্রী অবিনদা তাকে বলেন—

"দেখ , বিয়ে করবি ভেবেচিন্তে । ক্রিকেট খেলায় যেভাবে 5 দিনের test ম্যাচ মাত্র একটা session এ ঘুরে যায় , সেভাবেই জীবন মাত্র ওই একটা session এ হয় এগিয়ে যায় নাহলে চিরতরে জলাঞ্জলিতে যায় ।
মেয়ে দীক্ষিত / অদীক্ষিত হোক ক্ষতি নাই , আগে দেখবি মেয়েটা ঠাকুরের চরণের প্রতি নিজেকে মিলিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে কি না । পরিবার কেমন ! মা বাবা কেমন !

আসলে বিয়ের প্রাক্কালে বউকে জোর করে দীক্ষা দেওয়াতে পারবি কিন্তু তার মধ্যে যদি ঠাকুরের প্রতি সেই টান না জাগ্রত হয় তাহলে তোর বিয়ের পরের কতকগুলো বছর তুই দয়ালের কাজে পিছিয়ে পড়বি ওকে দয়ালের বিষয়ে বোঝাতে বোঝাতে ।

কিন্তু সে যদি আদিকাল থেকে সপরিবারে দীক্ষিত হয় তাহলে তুই কয়েকশো ধাপ এগিয়ে যাবি জীবনে।

একসাথে দয়ালকে নিয়ে , সারাদিন দয়ালের কাজে বেরোলে বাড়িতে ঝগড়ার কারণ এটা হবে না, যে কেনো এতক্ষণ বাইরে ছিলি বরং এটা হবে যে ওই মেয়ে তোকে বলবে যে তুমি এত দয়ালের কাজ করছো, আমাকেও নিয়ে চলো ।

নিজেদের personal time হয়ে উঠবে দয়ালের কাজ & প্রত্যেকদিনের আহার হয় উঠবে আনন্দবাজার । আর এটা তখনই সম্ভব যদি পরমপ্রেমময় এর প্রেম কি জিনিস সেটা সে বুঝতে পারে ।

আচ্ছা বলতো তোর বউ হঠাৎ যদি জিজ্ঞেস করে "আচার্য্য" কে হন , কী বলবি ?"

সেই দাদা— " আজ্ঞে , আমার জীবনের সবকিছু "

শ্রী শ্রী অবিনদা— " জীবজগত জীবন কারণ যিনি তার ভব লীলাকে তুই শুধু তোর জীবনের সবকিছু বলে ব্যাখ্যা দিলে হবে !

ওকে শেখাবি যাকে চিনলে এ জগৎ চেনা হয়ে যায় , যাকে জানলে আর কিছু জানার বাকি থাকে না , যাকে ভালবাসলে আর মিথ্যে ভালোবাসাতে বিশ্বাস হয় না , যার প্রেমে শুধু প্রেমবিনা আর কিছু নেই তিনি আমার দয়াল , আর যাকে চিনলে দয়ালকে চেনা হয়ে যায় তিনিই আচার্য্য।
বুঝলি ! ( বলেই সেই অপরূপ হাসি ) সুখে সংসার কর একমাত্র একটা জিনিস কে মাথায় নিয়ে যে ঘরের কর্তা - পরমাদয়াল এবং গিন্নি হলেন - তারই স্ত্রী স্বরূপ মোদের বড়মা । ব্যাস দেখবি কতসুন্দর এক জীবন উপহার পাস ।

ভালো থাকিস এবং যে আসবে তাঁকে নিয়ে দেওঘর যাস অন্তত মাসে একবার বিয়ের প্রথমদিকে এতে ওই মেয়েটার সুবিধা হবে বুঝলি ( বলেই উনি এক অপরূপ হাসি মুখ নিয়ে বললেন ) জয়গুরু ।"

লেখায় - অরিজিৎ মাঝি
Arijit Majee

05/02/2026

ঠাকুর কহিলেন, 'ওরে গুরু ধরতে হয় রে, গুরু ধরতে হয়।' নরেন কহিল, 'আমি গুরু মানি না ।' ঠাকুর - সে কি রে গুরু মানবিনে !' নরেন - 'কে গুরু ?' ঠাকুর পূজার বাসন হইতে কমণ্ডলুটি তুলিয়া বলিল, "এটা কি ?" নরেন - "কমণ্ডলু । " ঠাকুর - "কিসের তৈরী ?" নরেন - "তামার ।" ঠাকুর - "কে করেছে ?" নরেন - "কামার ।" ঠাকুর এবার সহাস্যে বলিলেন, "তাহলে ভাব শুধু তামা থাকলেই হয় না তাকে কমণ্ডলু বানাবার জন্য একটা কামারও লাগে । গুরু হল ওই কামারটা। 🙏🙏🙏🙏

🌸 #আচার্য্য-সান্নিধ্যে/১০১   ************************১২ই আষাঢ়, ১৪৩১, বৃহস্পতিবার(ইং ২৭-০৬-২০২৪)প্রসঙ্গ তুলে  #আচার্য্যদ...
15/01/2026

🌸 #আচার্য্য-সান্নিধ্যে/১০১
************************
১২ই আষাঢ়, ১৪৩১, বৃহস্পতিবার(ইং ২৭-০৬-২০২৪)
প্রসঙ্গ তুলে #আচার্য্যদেব মন্দিরগুলিতে যে সঠিক পরিচালনা হয় না, ঠাকুরবাড়ির কেউ গেলে লোকদেখানি পরিষ্কার করতে লেগে যায়, বাকি সময় পড়ে থাকে, সে সবের ছবিও আঁকলেন।

আরও বললেন—সেখানে গেলে( #আচার্য্যদেব বা ঠাকুরবাড়ির কেউ)বলতে শুরু করে পেট ব্যথা করছে, সে তো ডাক্তারখানা গেলেই সারিয়ে দেবে। বলবে, আমার case চলছে, কি করব? এটা বলার জন্যেই লোকটা এতদূর থেকে এসেছে! এ-কথাটা শোনানোর জন্যে তাঁকে ডাকলাম? আমার সামনে ভগবান এসে যদি দাঁড়ায়, আমি তাঁকে বলব আমার পেট ব্যথা করছে? পেট ব্যথার জন্যে তো ডাক্তার স্বপন বিশ্বাসদা আছেন, তার কাছে চলে যাব। তোমার কাছে জিজ্ঞেস করব—আমি কি করলে জীবনটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব? এটা বলতে পারি। নাইত তোমাকে দু-চোখ ভ’রে দেখব, আর এই আনন্দ নিয়ে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেব। কেউ যদি বলে আজকে #ঠাকুর স্বয়ং আসবেন। আমরা সবাই ছুটব, কিন্তু সেখানে গিয়ে মারপিট করতে থাকব এইটা বলতে যে আমার ছেলেটা পরীক্ষায় পাশ করতে পারবে তো? আমার এইটা হবে তো? ঐটা হবে তো? কত ছোট ছোট বু্দ্ধি নিয়ে আমরা চলি! তাই না?

এটা তো প্রেমের জগত, নিছক প্রেম করতে এসেছি তোমার সাথে। তোমাকে ভালবাসতে শিখব, এই গল্পটাই হচ্ছে আসল গল্প। আর, এইটা যদি থাকে তাহলেই এগোন। আর, চাহিদা পূরণের জন্যে যদি তিনি হন, সেটা হচ্ছে কাম। আর, নির্ভেজাল তোমাকেই চাই, শুধু তোমাকেই চাই, এই কথা যে বলে সেই প্রেম করে। সাত্ত্বিক সাধনা সম্পর্কে রামকৃষ্ণদেব বলছেন, শুধু নির্ভেজাল তাঁকে পাওয়ার জন্যে যে চলে সেই সাধু। যখন ছেলের জ্বর তখন #ঠাকুরকে ডাকি, ভালর সময় ডেকেছি? আমরা কখনও ভেবে দেখেছি আমাদের list-এর মধ্যে এক নম্বরে কে থাকে? নিজেই উত্তর দিচ্ছেন, আমি নিজে। আমি অহংকারী, আমি নিজে থাকি। দুই নম্বরে কে থাকে? আমার বৌ-বাচ্চারা থাকে। তিন নম্বরে আমার উপার্জন থাকে। চার নম্বরে আমার বাড়িঘর, গাড়িটাড়ি এসব। পাঁচ নম্বরে হয়তো বাবা-মা, ভাইবোন, জাগই-মাধাই। ছয় নম্বরে শ্বশুর-শাশুড়ী, সাত নম্বরে বন্ধুবান্ধব থাকবে, আট নম্বরে থাকবেন #ঠাকুর। আর, বলার সময় বলবে ‘ #ঠাকুর বাঁচাও’। বলি না? মনটা এইরকম হ’য়ে থাকে না আমাদের? আর, আমি বলি আমি #ঠাকুরের যাজক, অধ্বর্য্যু, ঋত্বিক! আমি daily এ-কথাটা বোঝানোর চেষ্টা ক’রে যাচ্ছি মানুষকে। বলি, জীবনে #ঠাকুরকে first priority দেওয়া শুরু কর। যদি চাও যে #ঠাকুর তোমার কথা শুনুন, আগে তাঁর মনের মতন হও। এক্কেবারে!মনের মত হ’য়ে চলতে হবে। এটা পরিশ্রমের। কারো মনের মত হ’য়ে চলতে চেষ্টা করাটা পরিশ্রমের। আমাকে অনেক কিছু sacrifice করতে হবে। ঘরে কেউ নেই, আমাকে উঠে ইষ্টভৃতি ক’রে, ধ্যান ক’রে প্রার্থনা করতে হবে। আমার বৌ-বাচ্চাগুলো শুয়ে থাকবে, আমাকে একা উঠতে হবে। অথচ দেখা যায় দেওঘরে এসেও ঘুম ভাঙে না। মন্দিরে গিয়ে ঘুম ভাঙে না। নাম কি জিনিস তাই জানি না। নাম এমনিতেই হয় না, এত pending কাজ থাকে, যেগুলো নামের সময় ঢং ঢং ক’রে উল্টাপাল্টা ভাবনা এসে disturb করে।

তাই সবার আগে এখান থেকে গিয়ে যদি আমার কাজ pending থাকে, তার list করা, #ঠাকুরের কাজ করার আগে pending কাজগুলোর list ক’রে এক-একটা ক’রে শেষ করা। এইটা আগে করেন। কারণ, আমি যে কথাগুলো বলছি, সবাই আধা কথা বুঝবে, আধা কথা বুঝবে না। অথচ প্রত্যেকটা কথা জীবনের জন্যে বলছি, যাতে এ-জীবনটা ভগবানের জন্যে লাগে, যাতে আমিই ভগবান হ’তে পারি। আমি বলছি না যে মানুষ হব। কারণ, সৎ-কে ধরলে আমিও সৎ হব। চুম্বকের কাছে গেলে লোহাও চুম্বক হ’য়ে যায়। তাহলে আমি #ঠাকুরকে ধ’রে #ঠাকুর হইনি কেন? ‘আমি’ হয়ে আছি কেন? এইটা প্রশ্ন। আমাদের হওয়া উচিত না? আমার মধ্য দিয়ে #ঠাকুর প্রকাশ পাননি কেন? এটা আমাদের প্রশ্ন নয়? এখনও আমাকে ‘আমি’ বলে ডাকে, কৈ #ঠাকুরের মানুষ ব’লে ডাকে না তো? তোমাকে বলছে #পরমপ্রেমময়, কৈ আমাকে তো কোন designation দিচ্ছে না? বলতেও তো পারে লাথখোর ব্যাটা! চিটিংবাজ! কিছু তো একটা বলুক! সেটাও তো বলে না! কেন না, আমি তো বিভ্রান্তিতে র’য়ে গেছি। আমার সম্পর্কেই মানুষ বিভ্রান্ত। বাড়ির লোকরা বলতে পারবে যে আমি কেমন মানুষ? ভাল মানুষ? Casual মানুষ? চিটিংবাজ মানুষ? আমার বৌটা বলতে পারবে? যারা বিয়ে করেছে। তাহলে নিজের বৌয়েই যার সম্পর্কে confused, তার সম্পর্কে সংসার confused হবে না? আমি রাতে শুয়ে আছি, নাকে হাত দিলাম, কৈ হাত ধুতে গেলাম? তখন #ঠাকুর শেষ! #ঠাকুর তো নেই এখানে! physically যখন থাকতেন তখন হাত ধুতে যেতাম। তাই না? আমাদের সামনে যখন #ঠাকুর থাকেন না, তখনও যার সাথে #ঠাকুর থাকেন, তার মানে সে #ঠাকুর নিয়ে চলছে। আমি আর ‘তুমি’ থাকি সব সময়। এই গল্পটা যার নেই, যে মানুষকে দেখাবার জন্যে activity করে, সে ব্যাটা ভণ্ড নিশ্চয়ই।

(ক্রমশঃ) সংকলক—সুভাষ মুসিব।
***********************************

13/01/2026

. 🔘স্বামীর রাগে করণীয়
--- শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
==================================
একটি মা তার স্বামীর দুর্ব্ব্যবহারের কথা বললেন। শ্রীশ্রীঠাকুর ঈষৎ হেসে বললেন—জানিসই তো ওর স্বভাব। ও রাগী হ'লেও কিন্তু মানুষ ভাল। তোকে ভালবাসে খুব। তুই যদি তিনদিনের জন্যও কোথাও যাস্ তাহ'লেও কিন্তু ওর ভাল লাগে না। যে সময় চটে যায়, তখন তুই কোন কথা কো'স না। তোর উপর রাগের ঝাল মিটিয়ে যদি শান্তি পায় পা'ক, সেই বা মন্দ কী ? দোষগুন সবটা নিয়ে মানুষটাকে যদি ভালবাসিস্ সহানুভূতির সঙ্গে স'য়ে-ব'য়ে নিস্, তার মেজাজ বুঝে যদি চলিস্ দেখিস্, তোর ভালবাসার দৌলতে আস্তে-আস্তে সে হয়ত শুধরেও যেতে পারে।

আবার ছেলের ভবিষ্যতের দিকে চেয়েও তোমাকে অনেকখানি হুশিয়ার হ'য়ে চলা লাগবে। তোমাদের যদি ঝগড়া করতে দেখে, সেটা তার পক্ষে খুব খারাপ হবে। তোমাকে যদি দেখে যে ওর বাবা তোমাকে গালাগালি করা সত্ত্বেও তুমি খুশী, তাহ'লে তোমার প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে যাবে, আর তোমার স্বামীভক্তি তার মধ্যে পিতৃভক্তি সঞ্চারিত ক'রে দেবে। শ্রদ্ধা জিনিষটাই এমন যে তা'তে দোষদর্শন থাকে না, অনুযোগ থাকে না, প্রত্যাশা থাকে না। অমনতর শ্রদ্ধা ও প্রীতির সংস্পর্শে কারও বাস্তব দোষ থাকলেও, তা' ছুটে পালায়।

উক্ত মা—আমাকে যখন উনি বকেন, তখন ছেলেটার মুখ কালো হ'য়ে যায়।
শ্রীশ্রীঠাকুর—তোমার মুখ কালো হয় ব'লে তার মুখ কালো হয়। অবশ্য তোমার সঙ্গে ছেলের সামনে অমনতর ব্যবহার তার না করাই ভাল। ওতে ছেলেপেলেদের অনেক সময় বাপের প্রতি বিদ্বেষভাব জাগে। যেমন করে'ই হোক যেখানে শ্রদ্ধা থাকা উচিত সেখানে যদি শ্রদ্ধা না থাকে, শ্রদ্ধা যদি ব্যাহত হয়, সেটা বড় ক্ষতিকর হ'য়ে দাঁড়ায়। তবে তুমি যদি আবার তেমন চতুর হও, স্বামীর প্রত্যেকটি কথা ও ব্যবহারের এমন সমর্থনী ব্যাখ্যা দিতে পার ছেলের কাছে যে, ছেলের শ্রদ্ধা আরো উচ্ছসিত হ'য়ে উঠতে পারে। তাই বলছিলাম, সত্যিকারের শ্রদ্ধা যে কি করতে পারে আর না পারে তার লেখাজোখা নেই।

উক্ত মা—ইষ্ট-বিরোধী চলন যদি দেখি, তাহ'লেও কী সমর্থন করতে হবে ?
শ্রীশ্রীঠাকুর-ইষ্টের প্রতি শ্রদ্ধা ও আনুগত্য যদি ঠিক থাকে, আর সেই সঙ্গে চলায় যদি ভুল থাকে, তবে ঐ ভুল চলনকে কিন্তু ইষ্টবিরোধী চলন বলা ঠিক হবে না। সে ভুলচুক সবারই আছে। কোন একটা ভুলকে যদি ভুল ব'লেও বলতে হয়, তা'ও বলার এমন কায়দা আছে, যাতে মানুষটার মাহত্ব আরও ফুটে ওঠে। ও শেখান যায় না,ভিতরে ভাব থাকলে কথা আপনা থেকে জোয়ায়। তোমােদের নামে আমার কাছে যদি কেউ নিন্দা করতে আসে, আর আমি যদি জানি যে সে, সত্য কথাই বলছে, তাও তখন তোমাদের এমন করে তুলে ধরি যে, ঐ দোষটা যেন নিতান্তই নগণ্য ও অকিঞ্চিৎকর। তাই ব'লে আমি কি দোষের সমর্থন করি ? ভালবাসা থাকলে ভাল যা'তে হয়, তা-ই করা আসে, বলা আসে। অবান্তর সমাচলোচনার কণ্ডুয়ন থাকে না তখন।

সূত্রঃ আ.প্র. ২/২৪৭

29/12/2025

বন্দে পুরুষোত্তমম্ জয়গুরু সুপ্রভাত 🙏🙏🙏
বগুড়ার মুসলমান গুরুভাই খলিলুর রহমান শ্রীশ্রীঠাকুরের দীক্ষা নিয়ে সৎসঙ্গ আশ্রমে দুই মাস বসবাস করেন। এদিকে তার বাড়িতে এবং মুসলমান- সমাজে নানা গুজব রটে যায়। হিন্দু গুরু গ্রহণ করায় তাঁর বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা হ'তে থাকে। তিনি দেশে ফিরে গেলে নানা জন তাকে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন। তার জবাবে তিনি বলেন '--- 'আমি না হয় হিন্দু গুরু করে কাফের হলাম। কিন্তু আপনারা প্রকৃত মুসলমান তো ? কোরাণ, হাদিস পড়েছেন তো? সেখানে 'আওয়াজ' ব'লে একটা কথা আছে। খোদার সেই আওয়াজ আপনারা পেয়েছেন কি ? আপনারা তো বিশ্বাস করেন যে, খোদাতালার আওয়াজ আছে। সেই আওয়াজ শোনা যায়। আপনারা মুসলমান হ'য়েও সেই আওয়াজ কেউ শোনেননি। আমি আপনাদের কাছে কাফের হলেও খোদাতালার সেই আওয়াজ শুনতে পাই। আর, শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের কৃপায় তা সম্ভব হয়েছে। শ্রীশ্রীঠাকুর আমাকে হিন্দু করেননি। তিনি আমাকে খাঁটি মুসলমান করেছেন। এখন আপনারা চিন্তা করে দেখুন কে প্রকৃত মুসলমান |'
--- মহামানবের সাগরতীরে ২য়
এবার স্বয়ং খলিলুর রহমানের অভিজ্ঞতায়। ইং ২০-১২-১৯৪১, প্রভাতে ঠাকুরকে ঘিরে আনন্দের মেলা। নানা ধরনের, বৈচিত্র্যের আলাপ, ঘটনার অবতারণা। এমন সময় খলিলদাকে আসতে দেখে শ্রীশ্রীঠাকুর তাকে আদর করে ডেকে বসালেন। পরে তার দিকে চেয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর সস্নেহে বললেন---- আজকাল নামটাম খুব করছেন, তাই না খলিলদা ?
খলিলদা---- আর তো কোন কাজকর্ম নেই, যতটা পারি করি, আর বেশ ভালই লাগে।
শ্রীশ্রীঠাকুর--- চেপে নামধ্যান যদি করা যায়, আর কিছু না হোক, শরীর ভাল হবেই।
খলিলদা--- মনটা খুব ভাল থাকে, তাই তার জন্য শরীরও ভাল হ'য়ে ওঠে।
শ্রীশ্রীঠাকুর--- আপনারাই দেখেন না। এসেছিলেন শুটকি চেহারা নিয়ে, অল্প কয়দিনে কেমন নধরকান্তি হ'য়ে উঠেছেন। খুব চেপে করেন। কী পেলেন না--- পেলেন, দেখলেন না-দেখলেন, সেদিকে লক্ষ্য না দিয়ে মনের আনন্দে নেশার মত ক'রে যান। অবসাদের ভাব আসলেও ছাড়বেন না, দাঁড় টেনে চলবেন। দেখবেন--- স্তরের পর স্তর অতিক্রম ক'রে আপসে-আপ কতদূর এগিয়ে যাবেন। --(শ্রীশ্রীঠাকুর একটু থেমে মিষ্টি হেসে অন্তরঙ্গ সুরে জিজ্ঞাসা করলেন)---- আচ্ছা খলিলদা ! মোস্তাফা চরিতে ও কোরাণে যে নূর আওয়াজের কথা পড়েছেন, তার সঙ্গে মিল পান না ?
খলিলদা---- হুবহু মিল, আগে তো মনে হতো ওসব আজগবি ব্যাপার।
শ্রীশ্রীঠাকুর--- তাই তো একে বলে বিজ্ঞান। যে করবে, সেই পাবে, তারই হবে। সব শেয়ালের এক রা, যুগে-যুগে একই কথা, দেশকাল-পাত্রোপযোগী ক'রে বলা। তবে ঐ নবীর প্রতি অনুগত্য চাই, নবীকে বাদ দিয়ে রসুলকে বাদ দিয়ে খোদার রাজ্যে পৌঁছাবার উপায় নেই। রসুলকে বুঝতে গেলে আবার আবার বর্তমান সান্নিধ্যে আসতে হয়। তা' না হ'লে কিন্তু বোধই গজায় না।
খলিলদা--- সে আমি আমার নিজের জীবন দিয়ে বুঝছি। আলোচনা প্রসঙ্গে ২য় খণ্ড

Address

6/1670(2), Gayeshpur, Nadia, Pin:741234
Kalyani
741234

Telephone

+919804413965

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Gayeshpur Satsang Kendra posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share