06/04/2026
*🙏🙏🙏নিজের মা'র রূপ কি ধ্যান করা যায়?*
হ্যাঁ, করা যায়। মা গুরু-ব্রহ্মময়ী স্বরূপা।
*জ্ঞানীর ধ্যান কেমন হয়?*
জ্ঞানীর ধ্যানের কথা তোতাপুরী বলত। জলে জল, অধঃ ঊর্ধ্ব পরিপূর্ণ। জীব যেন মীন, সেই জলে আনন্দে সাঁতার দিচ্ছে। ঠিক ধ্যান হলে এইটা সত্যি সত্যি দেখবে।
অনন্ত সমুদ্র, জলেরও অবধি নেই। তার ভেতর যেন একটা ঘট রয়েছে। বাইরে ভেতরে জল। জ্ঞানী দেখে-অন্তর বাইরে সেই পরমাত্মা। তবে ঘটটা কী? ঘট আছে বলে জল দু'ভাগ দেখাচ্ছে, অন্তর বাহির বোধ হচ্ছে। 'আমি' ঘট থাকলে এই বোধ হয়। ওই 'আমি'টা যদি যায়, তাহলে যা আছে তাই, মুখে বলবার কিছু নেই।
জ্ঞানীর ধ্যান কী রকম, জান? অনন্ত আকাশ, তাতে পাখি আনন্দে উড়ছে, পাখা বিস্তার করে। চিদাকাশ আর আত্মা পাখি। পাখি খাঁচায় নেই, চিদাকাশে উড়ছে। আনন্দ ধরে না।
*ধ্যান কখন হয়?*
তিনি না করালে তো আর ধ্যান হবে না। তিনি ধ্যান করালে তবেই ধ্যান হবে।
*প্রকৃত ধ্যানে কেমন একাগ্রতা হয়?*
একজন একলা একটা পুকুরে মাছ ধরছে। অনেকক্ষণ পরে ফাতনাটা পড়তে লাগল,
মাঝে মাঝে কাত হতে লাগল। সে তখন ছিপ হাতে করে টান মারবার উদ্যোগ করছে। এমন সময় একজন পথিক কাছে এসে জিজ্ঞাসা করছে, মশায় অমুক বাঁড়ুয্যের বাড়ি কোথায় বলতে পারেন? কোন উত্তর নেই। পথিক বার বার উচ্চৈঃস্বরে বলতে লাগল, মশায় অমুক বাঁড়ুয্যেদের বাড়ি কোথায় বলতে পারেন? সে ব্যক্তির হুঁশ নেই। তার হাত কাঁপছে, কেবল ফাতনার দিকে দৃষ্টি। তখন পথিক বিরক্ত হয়ে চলে গেল। সে অনেক দূরে চলে গেছে, এমন সময় ফাতনাটা ডুবে গেল, আর ওই ব্যক্তি টান মেরে মাছটাকে আড়ায় তুলল। তখন গামছা দিয়ে মুখ পুঁছে, চিৎকার করে পথিককে ডাকছে ওহে শোন শোন! পথিক ফিরতে চায় না, অনেক ডাকাডাকির পর ফিরল। এসে বলছে, কেন মশায়, আবার ডাকছ কেন? তখন সে বলল, তুমি আমায় কী বলছিলে?
পথিক বলল, তখন অতবার করে জিজ্ঞাসা করলাম-আর এখন বলছ কী বললো সে বলল, তখন যে ফাতনা ডুবছিল, তাই আমি কিছুই শুনতে পাইনি।
ধ্যানে এই রকম একাগ্রতা হয়, অন্য কিছু দেখা যায় না, শোনাও যায় না। স্পর্শবোধ পর্যন্ত হয় না। সাপ গায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়, জানতেও পারে না। যে ধ্যান করে সেও বুঝতে পারে না-সাপটাও জানতে পারে না। গভীর ধ্যানে ইন্দ্রিয়ের সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। মন বহির্মুখ থাকে না- যেন বার বাড়িতে কপাট পড়ল। ইন্দ্রিয়ের পাঁচটি বিষয়। রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ, শব্দ বাইরে পড়ে থাকবে।
*ধ্যান না হলে কী করা উচিত?*
জনৈক ভক্ত সুরেন্দ্র একবার বললেন-আচ্ছা আমার ধ্যান হয় না কেন? মাঝে মাঝে মা মা বলি, আর শোবার সময় 'মা' 'মা' বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়ি।
ঠাকুর বললেন-স্মরণ মনন তো আছে। তা হলেই হল।
*ধ্যান ভজনের সময় না থাকলে কী করা উচিত?*
যাদের সময় আছে, তারা ধ্যান ভজন করবে। যারা একান্ত পারবে না, তারা দু'বেলা দুটো করে প্রণাম করবে। তিনি তো অন্তর্যামী-বুঝেছেন যে, এরা কী করে। অনেক কাজ করতে হয়। 🙏🙏🙏