12/10/2025
#শ্রী_শ্রী_কালীতত্ব_নিগূঢ়_মাহাত্য
#শ্রী_শ্রী_ঠাকু্র_রামকৃষ্ণ_পরমহংসদেব_এর_কালীতত্ব_বিষয়ে_আলোচনা
⭐সেই সময় ঠাকুর রামকৃষ্ণ ছিলেন শ্যামপুকুরে। গলায় ক্যান্সারের অসহনীয় যন্ত্রণা থাকা সত্ত্বেও তিনি বারবার ঈশ্বর সম্বন্ধে কথা বলতেন। ডাঃ সরকার তাঁকে দেখতে এলেন। কিছু দিন তিনি ঠাকুর কে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের পুজারী বলেই চিনতেন কিন্তু ঠাকুরের সৎসঙ্গে ওনার ও ধীরে ধীরে ঈশ্বর ভক্তি জাগরণ শুরু হল। ঠাকুরের প্রতি প্রেমের ও সম্মান এর এক অদম্য চৌম্বকীয় আকর্ষণে, নাস্তিক ডাঃ সরকার বারবার ছুটে আসতেন ঠাকুরের কাছে।
সেদিন তিনি জিজ্ঞেস করলেন —
👉ডাঃ সরকার: “আচ্ছা আপনি এতো কালী-কালী করেন,বলুন তো, কালী কে? তাঁর প্রকৃতি কী?”
👉শ্রী রামকৃষ্ণ: “কে জানে, বাছা, কালী আসলে কী! দর্শনের ছয়টি শাস্ত্রের কোনোটি তাঁর রূপ উপলব্ধি করতে পারে না। কালী হলেন ‘কালস্বরূপা’ — অর্থাৎ সময়েরই মূর্ত প্রতীক। এই জগতে কিছুই সত্যিকার অর্থে চিরন্তন নয়; একমাত্র চিরন্তন হলেন ব্রহ্মময়ী কালী। জীবন নিজেই ক্ষণস্থায়ী, আজ আছে কাল নেই, তাই তা সত্য নয়। মৃত্যু-ই সত্য, আর সেই মৃত্যু-ই কালী। জীবন নিজের পূর্ণতা লাভ করে কেবল মৃত্যুতেই। তাই শিব, শব দেহে রূপান্তরিত হয়ে, মাতা-র পদতলে শূয়ে রয়েছেন। জীবনের অন্তে, ধাপে ধাপে, তিনি ‘কালরূপা’ রূপে অগ্রসর হন — চরম সত্যের উপলব্ধি আনয়নের জন্য। সেইজন্যই মহাকালী, শবসদৃশ শিবের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে, বিশ্বচক্রকে পালন করেন।”
👉ডাঃ সরকার: “কিন্তু তিনি কালো কেন?”
👉শ্রী রামকৃষ্ণ: “ওরে ডাক্তার! দূর থেকে সমুদ্রকে দেখলে কী রঙ দেখো? গভীর নীল। আর আকাশ? সেও গভীর নীল। অথচ কাছে গিয়ে এক মুঠো জল হাতে নিলে দেখবে, তার কোনো রঙ নেই। ঠিক তেমনই, আমার মায়েরও কোনো রঙ নেই। দূর থেকে তিনি কালো বলে মনে হয়, কিন্তু কাছে এলে তিনি পরিশুদ্ধ, অবিভাজ্য চৈতন্যস্বরূপা। তিনিই মহাবিশ্ব, আদিশক্তি, অনন্ত সত্তা। সেই অবিভাজ্য চৈতন্যসত্তাকে তিনি নানা অংশে বিভক্ত করে সবার মধ্যে বিতরণ করেছেন। এটাই মায়ের লীলা।”