শ্রীশ্রী কৈবল্যধাম

শ্রীশ্রী কৈবল্যধাম Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from শ্রীশ্রী কৈবল্যধাম, Religious organisation, 38, Jadavpur Central Road, Bidhanpally, Jadavpur, Kolkata, Jadavpur.

জীবের জন্য কর্ত্তৃত্ব, কর্ম্ম, কর্ম্মজনিত ফলাফল, কি পাপ, কি পূণ্য কিছুই সৃষ্টি হয় নাই। অজ্ঞানতাবশতঃ এই সকল কার্য্যে প্রব...
22/08/2026

জীবের জন্য কর্ত্তৃত্ব, কর্ম্ম, কর্ম্মজনিত ফলাফল, কি পাপ, কি পূণ্য কিছুই সৃষ্টি হয় নাই। অজ্ঞানতাবশতঃ এই সকল কার্য্যে প্রবৃত্ত হয়। এই ভ্রান্তিই সংসারে বদ্ধ হওয়ার কারণ হয়। নিরপেক্ষ, অচিন্ত্য, অকর্ত্তা হইয়া থাকিতে থাকিতে নিত্যমুক্ত হইয়া যায়। অতএব সুখ দুঃখরূপ কর্ম্মফল যাহা উদয় হয় তাহা সহিষ্ণুতার দ্বারায় নিত্য ভোগের চেষ্টা করিতে করিতে সহিষ্ণু শক্তি পরিবর্দ্ধন হইয়া পরমানন্দ শান্তির আশ্রয় লাভ হয়। নচেৎ কর্ম্ম করিয়া যাহা লাভ, লোকসান, সুখ দুঃখাদি প্রাপ্ত হয় তাহাতে কেবল বন্ধনই হইয়া থাকে, মুক্তি হইতে পারে না, কারণ বাসনা থাকিয়া যায়। যজ্ঞ, ব্রত, তপ, দান জপাদি তীর্থ সেবন হইয়া থাকে তাহাতে কর্ম্ম সমাধা হয় না, অবশিষ্ট থাকিয়া যায়। যাহা হউক, দিবা নিশি নিরপেক্ষ, নির্দ্বন্দ্বজের সমাশ্রয়ে থাকিয়া সর্ব্বদা উপস্থিত কর্ম্মজনিত ফলাদির বেগ সহ্য করিয়া যাইতে থাক, তাহা হইলেই কালেতে আত্মস্বরূপ প্রাপ্ত হইবে সন্দেহ নাই। ভ্রান্তিবুদ্ধির সাহায্যে যাহা লাভ হয় তাহাও ভ্রান্তই হইয়া থাকে। যেমন বৃক্ষ তেমনই ফল হইয়া থাকে তাহার ব্যতিক্রম হয় না।

"শান্ত হইলেই শান্তি পাওয়া যায় "এক ভদ্রলোক আসিয়া ঠাকুরকে প্রণাম করিয়া তাঁহার সম্মুখে উপবেশন করিলেন। কিছুক্ষন একদৃষ্টে ...
20/08/2026

"শান্ত হইলেই শান্তি পাওয়া যায় "

এক ভদ্রলোক আসিয়া ঠাকুরকে প্রণাম করিয়া তাঁহার সম্মুখে উপবেশন করিলেন। কিছুক্ষন একদৃষ্টে ঠাকুরের দিকে তাকাইয়া রহিলেন, কোন কথাই বলিলেন না।

হঠাৎ এক সময় ঠাকুরকে জিজ্ঞেসা করিলেন : "শান্তি কিসে পাওয়া যায়, বলতে পারেন?

ঠাকুর বলিলেন : "নিজে শান্ত হইলেই শান্তি পাওয়া যায়"।

একজন সাধুর কথা- "সমুদ্র-শান্ত-কল্লোলে স্নাতুমিচ্ছন্তি বর্ব্বরা:।"

সমুদ্রের পারে দাঁড়াইয়া ঢেউ থামিবার আশায় অপেক্ষা করিয়া থাকিলে ইহজীবনেও আর স্নান করা হয় না। সংসার তরঙ্গও তদ্রূপই, ইহা কখনও থামিবে না, স্নান করতে হইলে এই তরঙ্গের মধ্যে হাবুডুবু খাইয়াই তাহা করিতে হইবে। তরঙ্গ শান্ত হইবে না, শান্ত নিজেকেই হইতে হইবে।

গুরু কে?গুরু কে? ভগবান যাঁহার মধ্য দিয়া প্রকাশিত হন,তিনিই গুরু।তাই পরমপদ দর্শন করাইতে একমাত্র গুরুই পারেন।যিনি অনন্তকে দ...
20/08/2026

গুরু কে?
গুরু কে? ভগবান যাঁহার মধ্য দিয়া প্রকাশিত হন,তিনিই গুরু।তাই পরমপদ দর্শন করাইতে একমাত্র গুরুই পারেন।যিনি অনন্তকে দর্শন করাইতে পারেন,তিনিও অনন্ত। তাঁহার জন্মও নাই,মৃত্যুও নাই।উর্দ্ধ-লোক হইতে অবতরণ করিয়া জীবের সম্মুখে উপস্থিত হইবার জন্য তাঁহার জন্ম বা দেহ ধারণ, উদ্দেশ্য জীবোদ্ধার।যিনি পরম ব্রহ্মকে পাওয়াইয়া দিবেন—তাঁহার দিকে সদা উন্মুখ থাকাই সকলের কর্ত্তব্য।

স্মরণিকা
শ্রীশ্রীঠাকুররামচন্দ্রদেবের
১২৫-তম শুভ আবির্ভাব তিথি স্মরণে
বিদেহী চতুর্থ মোহন্ত মহারাজ
শ্রীমৎ ভবতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাণী।

ভগবানের কর্ম্ম করিতে কোন চেষ্টা করিবার দরকার হয় না।তাঁহাকে পাওয়াই দরকার এই ভাব হৃদয়ে জন্মিলেই প্রাপ্ত হইয়া থাকে, বেদ বিধিতে পায় না।
—বেদবাণী ১/১৪২

যাহা সহজেই ত্যাগ করা যায় কিংবা যাহা উদয় হইয়াই অস্তমিত হয় সেগুলিকে ছাড়িয়া আত্মস্থ বা স্থির প্রজ্ঞ হওয়া আবশ্যক। অভাব আপনা ...
19/08/2026

যাহা সহজেই ত্যাগ করা যায় কিংবা যাহা উদয় হইয়াই অস্তমিত হয় সেগুলিকে ছাড়িয়া আত্মস্থ বা স্থির প্রজ্ঞ হওয়া আবশ্যক। অভাব আপনা হইতেই দূরে সরিয়া যায়; তাহাকে দূর করিবার জন্য আর চেষ্টা করিতে হয় না। ধর্ম্মবৃক্ষের গায় অনেক পরগাছা জন্মে। আমরা ধর্ম্মের নামে নানা বৃথাচরণ করিয়া থাকি যাহার দ্বারা আমাদের ধর্ম্মজীবনের উন্নতি না হইয়া বরং অশেষ দুর্গতিই হইয়া থাকে। গুরুবাক্য সত্য। যাহা সত্য তাহাই গুরু। গুরুর উপদেশ মানিয়া চলিলেই অপসিদ্ধান্ত ও মিথ্যা জিনিসগুলি সূর্য্যোদয়ে অন্ধকারের সহজেই বিদূরিত হইয়া যায় এবং শুদ্ধ সত্য ধর্ম্ম প্রদীপ্ত ভাস্করের মত প্রকাশিত হয়। গুরু দিব্যচক্ষু দান করিলে নিত্যানিত্য বস্তুবিবেক হইয়া থাকে। 'চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরুবে নমঃ'।

'তাহার কথা'
প্রভাত চন্দ্র চক্রবর্তী
জয় রাম। জয় গোবিন্দ।।

যদি নিজের হয় তবে অন্য কেহই নিতে পারে না। যদি নিজের না হয় তবে কি করিয়া রাখিবে? পরের বস্তুর প্রতি কর্ত্তৃত্ব রাখার ফল কি?-...
18/08/2026

যদি নিজের হয় তবে অন্য কেহই নিতে পারে না। যদি নিজের না হয় তবে কি করিয়া রাখিবে? পরের বস্তুর প্রতি কর্ত্তৃত্ব রাখার ফল কি?

-শ্রীশ্রী রামঠাকুর
বেদবানী ১ম খন্ড(৩০১)

জীবের বন্ধনের কারণ ও উদ্ধারের উপায়ঃ"সীতা, রাম ও লক্ষণের সহিত, পঞ্চবটীতে কুটীর বাঁধিয়া মহাসুখে বাস করিতেছিলেন। তিনি যা রা...
17/08/2026

জীবের বন্ধনের কারণ ও উদ্ধারের উপায়ঃ

"সীতা, রাম ও লক্ষণের সহিত, পঞ্চবটীতে কুটীর বাঁধিয়া মহাসুখে বাস করিতেছিলেন। তিনি যা রাজনন্দিনী, রাজকুলবধূ, তাহা তিনি ভুলিয়াই গিয়েছিলেন। রাজপ্রাসাদের সেই বিলাস পঙ্কিল, খরস্রোত জীবন তাঁহার নিকট স্বপ্ন বলিয়াই মনে হইত। পরিধানে সামান্য বঙ্কল, ফলমূল আহার, কিন্তু সকলই অমৃততুল্য, স্বামীর অকুন্ঠ প্রেম ও দেবরের নিষ্কলুষ স্নেহ তাঁহাকে এক বিচিত্র মধুর নিগড়ে মুগ্ধ করিয়া রাখিয়াছিল। এককথায় কোন অভাবই তাঁহার ছিল না। কিন্তু হঠাৎ একদিন তিনি প্রলোভনে পড়িয়া গেলেন, মায়ামৃগ দেখিয়া তিনি আত্মহারা হইলেন। স্বর্ণমৃগ যে কখন বাস্তব হইতে পারে না, তাহা যে নিশ্চিত অলীক, মায়ামরীচিকা ভিন্ন অন্য কিছুই নহে, এই প্রকারের কোন যুক্তিই তাঁহার মনে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করিল না, নিদারুণ প্রলোভনে তিনি তখন কান্ড জ্ঞানহীন। ফল দাঁড়াইল এই যে, রাবণ তাঁহাকে হরণ করিয়া লইয়া গেল, পথে জটায়ুর সাহায্যে কিছুই হইল না, সীতা অশোক বনে বন্দিনী হইয়া রহিলেন। জীবও এই প্রকার মায়ামরীচিকার পিছনে ঘুরিয়া বন্দী হয়, প্রলোভনই বন্ধনের কারণ।"

"আবার রামই আসিয়া তাঁহাকে উদ্ধার করিলেন। সুগ্রীবের সহিত মিত্রতা করিয়া, সমুদ্রে সেতুবন্ধন করিয়া, ঘোরতর যুদ্ধের পর রাবণকে সবংশে নিধন করিয়া সীতাকে উদ্ধার করিয়া লইয়া গেলেন। কিন্তু সীতা করিলেন কি? তিনি চেড়ীগণের প্রলোভন ও শাসন অকাতরে সহ্য করিয়া অনুক্ষণ রাম চিন্তায় মগ্ন হইয়া রহিলেন। সুতরাং দেখা গেল যে, বন্ধনের কারণ যেমন প্রলোভন, উদ্ধারের উপায় অনন্যচিন্তা ও অকাতরে প্রারব্ধ বেগ সহ্য করা।" ঠাকুর বলিতেন যে, বদ্ধ হইবার শক্তি জীবের আছে কিন্তু উদ্ধার হইবার শক্তি নাই।

রাম ঠাকুরের কথা
ডক্টর ইন্দুভূষণ বন্ধোপাধ্যায়
পৃষ্ঠাঃ ৫৬/৫৭
প্রচারঃ www.facebook.com/kaibalyadham

সকল ভার ভগবানের উপর রাখিয়া নাম করিতে থাকিবেন,নামেই শুচি,নামই উদ্ধার করেন।মানব ভাগ্যবশতঃ সুখ দুঃখাদি ভোগ করিয়া থাকে,তাহার...
16/08/2026

সকল ভার ভগবানের উপর রাখিয়া নাম করিতে থাকিবেন,নামেই শুচি,নামই উদ্ধার করেন।মানব ভাগ্যবশতঃ সুখ দুঃখাদি ভোগ করিয়া থাকে,তাহার জন্য উদ্বিগ্ন হইতে নাই।

সংসারে ধর্মই অকর্তা বুদ্ধি,এই বুদ্ধির আহরণে সকল পাপ মুক্ত হইয়া কৃতকর্ম স্থির করে। বুদ্ধি স্থির করিয়া নিত্য আনন্দ ধামের প্রাপ্তি। সুখে দুঃখে সমান করিয়া নিত্য আনন্দে থাকে।

শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যস্থল বলিতেই একমাত্র হৃদয়কেই বলে,সেইখানেই নামের স্থিতি স্থল জানিতে হয়।

ঈশ্বর সর্ব্বভূতানাং হৃদ্দেশেহর্জুন তিষ্ঠতি।
ভ্রাময়ন সর্ব্বভূতানি যন্ত্রারূঢ়ানি মায়য়া।।

অর্থাৎ সমস্ত মানবের হৃদয়ে অবস্থান করিয়া ঈশ্বর দেহযন্ত্রে সমাসীন জীবগণকে সর্ব্বদা মায়ায় বিমোহিত করিয়া ভ্রমণ করাইতেছেন।তাইতো হৃদয়ে মন রাখিয়া সর্ব্বদাই নাম উচ্চারণ করিলে মনের শক্তি দৃঢ় হয়।নামের স্মরণে, নামের শক্তিতে মায়ার বিপর্যয় হইতে রক্ষা পাওয়া যায়।

কৃপাসিন্ধু রামঠাকুর
মনোরঞ্জন মুখোপাধ্যায়

শীঘ্রই ঠাকুর পিসিমাকে ও আমাকে লইয়া ঁকাশীধামে রওনা হইলেন। হাওড়া ষ্টেশনে বেনারস ক্যাণ্টনমেণ্টের টিকেট কিনিয়া গাড়ীতে বসিলাম...
15/08/2026

শীঘ্রই ঠাকুর পিসিমাকে ও আমাকে লইয়া ঁকাশীধামে রওনা হইলেন। হাওড়া ষ্টেশনে বেনারস ক্যাণ্টনমেণ্টের টিকেট কিনিয়া গাড়ীতে বসিলাম। গাড়ি কাশীর নিকটবর্ত্তী হইল।

তিনি আমাকে বলিলেন, "রাজঘাট ষ্টেশনে নামিয়া পঞ্চগঙ্গা হইয়া বাসায় যাওয়া যাইবে।"
আমাদের বাসা ছিল হনুমান ঘাটে। আমরা গাড়ি হইতে নামিয়া গঙ্গার ধারে আসিলাম ও একখানা নৌকা ভাড়া করিয়া হনুমান ঘাটের দিকে চলিলাম।

মনিকর্নিকা ছাড়াইয়া কিছুদূর অগ্রসর হইয়াছি এমন সময় ঠাকুর কিছুক্ষণ পারের দিকে একদৃষ্টে চাহিয়া মাঝিকে বলিলেন, "এখানে নৌকা লাগাও,আমি এখানেই উঠিব।"

ইহা বলিয়াই রাস্তায় বসিবার জন্য আমাদের ছেড়া কম্বলখানা ভাজ করিয়া হাতে লইয়া দাঁড়াইলেন। আমি বলিলাম, "কোথায় যাইবেন? "
তিনি বলিলেন, "গুরুদেব পাড়ে দাঁড়াইয়া আছেন, আমাকে ডাকিতেছেন।"
আমি বলিলাম, "কৈ আমি ত দেখিতেছি না। "
তিনি বলিলেন, "আপনি দেখিবেন না।"
'আমি তাঁহাকে ধরিয়া পাড়ের দিকে তাকাইলাম, কিন্তু কিছুই দেখিলাম না।
তিনি বলিলেন, আপনার চক্ষু ভারি,আপনি দেখিবেন না।

শ্রীমৎ শ্যামদাদার আত্মকথা
শ্রীমহেন্দ্র চন্দ্র চক্রবর্তী

-ঃঠাকুরমহাশয়ের চোখের ছানি কাটাঃ-ষাট বছরের কিছু আগের ঘটনা।ঠাকুরমহাশয়ের চোখে ছানি পড়েছে।দু'চোখেই ছানি আছে,একটাতে একটু বেশী...
13/08/2026

-ঃঠাকুরমহাশয়ের চোখের ছানি কাটাঃ-

ষাট বছরের কিছু আগের ঘটনা।
ঠাকুরমহাশয়ের চোখে ছানি পড়েছে।দু'চোখেই ছানি আছে,একটাতে একটু বেশী,অন্যটায় কিছু কম।আশ্রিতদের মধ্যে যাহারা বুঝতে পেরেছেন তাহাদের চিত্তে ভীতির সঞ্চার হয়েছে,ভাবছেন পরিপূর্ণ নয়ন দু'টির আর তো এমন প্রসন্ন দৃষ্টিপাত তাদের উপর পড়বে না।

দু'চারজন সুবিধা বুঝে ঠাকুরমহাশয়ের কাছে অনুমতি চাইলেন চিকিৎসার ব্যবস্থা করার।মৃদু হেসে তখন ঠাকুরমহাশয় তাদের নিরস্ত করেছিলেন এই বলে,দেহ থাকলে আধিব্যাধির আক্রমণ সহ্য করতে হবেই।তারজন্য এত ব্যস্ত হওয়ার আমি তো কোন কারণ দেখি না।নানান স্থানের আশ্রিতদের এইরকম কাতর অনুরোধ এসেছে কয়েক শত কণ্ঠ থেকে।ঠাকুরমহাশয় নিরুত্তাপ।সস্নেহে তাদের চিন্তা করতে নিষেধ করেছেন বারংবার।

ইতিমধ্যে বছর দুই তিন অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে।ঠাকুরমহাশয়কে না জানিয়ে ডাঃ যতীন্দ্রমোহন দাশগুপ্ত মহাশয় কয়েকজন চক্ষু চিকিৎসককে নিয়ে গিয়ে উপর উপর চক্ষু পরীক্ষা করিয়েছিলেন ঠাকুরমহাশয়ের অজান্তেই।কলকাতার সেকালের সুপ্রসিদ্ধ চক্ষু চিকিৎসক ডাঃ কিরণ সেন মহাশয়ও বার দু'তিন একটু দূর থেকে ঠাকুরমহাশয়ের চোখের ছানির অবস্থাটা দেখে গিয়েছেন।পরে তিনি ডাঃ দাশগুপ্তকে বলেছিলেন,একটা চোখের ছানি কাটার সময় হয়েছে।

পরেরদিন থেকে ডাঃ দাশগুপ্ত সকালে-বিকেলে ঠাকুরমহাশয়ের কাছে যেতেন আর প্রণাম করে ঠাকুরমহাশয়ের চরণ ছেড়ে দিতেন না।করুণ-কাতর-স্বরে শুধু ছানি কাটার অনুমতি চাইতেন।উত্তরে ঠাকুরমহাশয় বলেছিলেন যে,তিনি সারাজীবনে এক পয়সাও উপার্জন করতে পারেননি।অস্ত্রোপচারের এই ব্যয়ভার ডাঃ দাশগুপ্ত বহন করবেন,এটা কি তিনি অনুমোদন করেন! ক্রন্দনরত ডাঃ দাশগুপ্ত তখন জানিয়েছিলেন যে তিনি দু'টাকা ফি-এর ডাক্তার হওয়ার যোগ্য নন,শুধু ঠাকুরমহাশয়ের কৃপায়ই তার ফি চৌষট্টি টাকা।তথাপি ঠাকুরমহাশয়ের সম্মতি লাভ ঘটেনি সে সময়।পরে কয়েকজন ঠাকুরের আশ্রিতের সম্মিলিত অনুরোধে ঠাকুরমহাশয় সম্মত হলেন ছানি কাটানোয়।উপস্থিত সকলের মুখই অনেকটা আনন্দোজ্বল হয়ে উঠল।

ডাঃ দাশগুপ্ত নিজগৃহে ৮৭ সংখ্যক বালিগঞ্জ প্লেসে প্রশস্ত ঘরে অস্ত্রোপচার হবে বলে স্থির করেছিলেন; কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত তিনি পরিবর্ত্তন করতে বাধ্য হয়েছিলেন এই ভেবে যে,ঠাকুরমহাশয়ের অস্ত্রোপচারের কথা জানাজানি হয়ে গেলে বহু নর-নারী আসবেন তাঁহার দর্শনের জন্য।পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানতেন ঠাকুরমহাশয় ডাক্তারের নির্দেশ উপেক্ষা করে আগন্তুকদের গৃহের সকলের কুশল জিজ্ঞাসা করবেন খুঁটে খুঁটে।

তাই তিনি শরৎ বোস রোডের পূর্বদিকের এক গলিতে নব নির্মিত একটি দ্বিতল গৃহ ভাড়া করলেন।তিন চারজন ঠাকুরের আশ্রিত জনের সঙ্গে তিনি গোপনে পরামর্শ করলেন যে,অস্ত্রোপচারের অন্ততঃ এক মাসের মধ্যে যেন তারা ছাড়া আর কেউ এই খবর না জানতে পারেন।নিজে তিনি দৃঢ় ছিলেন,সহধর্মিণী ও নিজ পুত্র-কন্যাদের কাছেও গোপন করলেন অস্ত্রোপচারের কথা।

নির্দিষ্ট দিন সময় মত এলেন ডাঃ কিরণ সেন,সঙ্গে এলেন পৌঢ়া আ্যাংলো ইন্ডিয়ান একজন নার্স।ঠাকুরমহাশয় শয্যায় শয়ন করলেন।অস্ত্রোপচারের অস্ত্র ধুয়ে পুঁছে পরিষ্কার হয়েছে কিছুক্ষণ আগে।ডাঃ দাশগুপ্ত পাশের ঘরের জানালার ধারে দাঁড়িয়ে রইলেন কারণ তিনি সহ্য করতে পারবেন না ঠাকুরমহাশয়ের চক্ষে অস্ত্র চালানো।অঝোরে তিনি কাঁদছেন শঙ্কিত বক্ষে জানালার শিক ধরে।ডাঃ সেন শায়িত ঠাকুরমহাশয়ের ঝুঁকে পড়ে নিম্ন স্বরে বললেন,এই চোখটা আপনি একটু চোখের দুই পাতা তুলে প্রসারিত করুন।তাতে অস্ত্রোপচারের পক্ষে বিশেষ সহায়ক হবে।চোখের পাতায় হাত না দিয়েই ঠাকুরমহাশয় চোখ প্রশস্ত করলেন।ঝন...ঝন...ঝনাৎ...নার্সের হাত থেকে সমস্ত অস্ত্র সশব্দে পড়ে গেল,সঙ্গে সঙ্গে নার্স ভুলুন্ঠিতা হলেন।ডাঃ কিরণ সেন সারা দেহে সঘন কম্পন অনুভব করছেন,এই বুঝি নার্সের মত তিনিও ভূপতিত হন।ঠাকুরমহাশয়ের প্রসারিত চোখটি প্রায় আকর্ণ বিস্তৃত।মানুষের পক্ষে সহ্যের অতীত।ডাঃ সেন তখন ঠাকুরমহাশয়কে বললেন,অতটা বড় করবার দরকার নেই।সঙ্গে সঙ্গে ঠাকুরমহাশয়ের চোখটি স্বাভাবিক হল।উঠে বসলেন ঠাকুরমহাশয়।চীৎকার করে ডাকলেন,যারা এ ঘর থেকে সরে গিয়েছিলেন তাদের।ফিরে আসতে তাদের বললেন,নার্স মায়ের চোখে মুখে জল দেন আর চা তৈরী করে সকলে খেয়ে নিন পরে অস্ত্রোপচার হবে।

নার্স সুস্থ হয়ে বসলেন।কিন্তু তারও দুই চোখে নেমে এসেছে ভীতির চিহ্ন।ডাঃ দাশগুপ্তও চা পান করলেন ঐ ঘরে বসেই।ধীরে ধীরে ডাঃ সেন ফিরে পেলেন তার দৈহিক বল।নিপুণ হস্তে পরিষ্কার করে দিলেন এক চোখের ছানি।ব্যান্ডেজ বাঁধতে হয়েছিল দুই চোখেই আস্তে আস্তে এবং নিপুণ হস্তে।

ডাঃ দাশগুপ্ত ঠাকুরমহাশয়কে "বাবা" বলে ডাকতেন।তাতেই ডাঃ কিরণ সেন পিতা-পুত্র বলেই মনে করতেন।অস্ত্রোপচারের পূর্বে ঠাকুরমহাশয়ের প্রায় আকর্ণ বিস্তৃত চক্ষুকে প্রসারিত করা দেখে একটু সন্দেহের উদ্রেক হয়েছিল।প্রতিদিনই তিনি আসতেন ব্যাণ্ডেজ খুলে চোখ পরিষ্কার করতে এবং পুনরায় ব্যান্ডেজ বেঁধে দিতে।সেদিন ব্যান্ডেজ বাঁধার পর ডাঃ সেন মহাশয় সরাসরি ডাঃ দাশগুপ্তকে প্রশ্ন করে বসলেন,ঠাকুরমহাশয়ের সম্পর্কে যে,কে তিনি? কুন্ঠিত কন্ঠে ডাঃ দাশগুপ্ত বললেন,সে তো আমি ঠিক জানি না,বলব ভাই আমি কী করে?হাত ধরে তিনি ডাঃ সেনকে নিয়ে গেলেন পাশের ঘরে।সেখানে চা পান করার সময় দু'জনের মধ্যে আরম্ভ হয়েছিল ঠাকুর প্রসঙ্গ।যখন ছেদ পড়ল তখন বেলা অনেক।প্রায় মাসবধিকাল ঠাকুরমহাশয় ছিলেন ঐ বাড়িতেই।পরে ডাক্তারবাবু তাঁহাকে নিয়ে গিয়েছিলেন স্বগৃহে।সেখানেও কিছুকাল কাটিয়েছিলেন।ব্যান্ডেজ খুলে দেওয়ার দু'চার দিন বাদে ঠাকুরমহাশয় অল্প দামের সুতির চাদরখানা গায়ে জড়িয়ে নিলেন এবং বললেন যে, "আমি আসি গিয়া।" বাড়ির সকলের অনুরোধ যে তিনি উপেক্ষা করছেন সেটা নিতান্ত নিরুপায় হয়ে।তাঁর জন্য তারা যেন আর ক্লেশ ভোগ না করেন।সেদিনই তিনি রওনা দিয়েছিলেন পূর্ববঙ্গের কোনও গ্রামে মৃত্যুশয্যায় শায়িত একজন আশ্রিতের শয্যা পাশে উপস্থিত হওয়ার জন্য।

জয় রাম জয় গোবিন্দ।

ঠাকুর কখনও স্নান করিতেন না এবং ছাড়াইয়া না দিলে কাপড়ও ছাড়িতেন না। সহজেই কথাটা বলিয়া ফেলিলাম কিন্তু ব্যাপারটা মোটেই স...
11/08/2026

ঠাকুর কখনও স্নান করিতেন না এবং ছাড়াইয়া না দিলে কাপড়ও ছাড়িতেন না। সহজেই কথাটা বলিয়া ফেলিলাম কিন্তু ব্যাপারটা মোটেই সহজ নহে। দু’চার দিন স্নান করিতে না পাইলে আমাদের যে কি অবস্থা হয় তাহা আমরা সকলেই জানি। আমার নিজের কথা বলিতে পারি, ২/৩ দিন স্নান না করিলে শুধু যে গা ঘিন ঘিন করে এবং বিছানা পৰ্য্যন্ত দুর্গন্ধে ভরিয়া যায়, তাহাই নহে, মেজাজও বিগড়াইয়া যায় এবং আহাৰ্য্য বস্তুও বিস্বাদ হইয়া উঠে। কিন্তু ঠাকুর মাসের পর মাস, বৎসরের পর বৎসর স্নান না করিয়া কাটাইয়া গিয়াছেন, অথচ ক্লেদের লেশও তাঁহাতে কখন প্রকাশ পায় নাই, তাঁহার সেই সৌম্য, প্রশান্ত, স্নিগ্ধোজ্জ্বল মূৰ্ত্তি অটুটই রহিয়াছে। আরও আশ্চর্যের বিষয় এই যে, তাঁহার গায়ের সেই অপূৰ্ব্ব নয়নাভিরাম রঙটি সকল সময়ে এক প্রকার থাকিত না। একটা স্থায়ী রঙ অবশ্যই ছিল কিন্তু কখনও কখনও দুই তিন ঘণ্টার জন্য, কখনও বা দু’এক দিনের জন্য উহা পরিবর্ত্তিত হইয়া ভিন্ন রূপ ধারণ করিত। আমি স্বচক্ষে ইহা কয়েকবার প্রত্যক্ষ করিয়াছি। গায়ের রঙটি কখনও একটু হরিদ্রাভ, কখনও একটু রক্তাভ, কখনও বা কতকটা দুধের মত হইয়া যাইত এবং কিছুক্ষণ থাকিয়া আবার ধীরে ধীরে মিলাইয়া যাইত। ইহাও দেখিয়াছি যে, কখনও কখনও তাঁহার ললাটে আপনা হইতেই একটি ত্রিপুণ্ড্র ফুটিয়া উঠিত, দু’তিন ঘণ্টা থাকিয়া আবার চলিয়া যাইত। কেন এরূপ হইত বলিতে পারি না, ঠাকুরকে কখনও সে কথা জিজ্ঞাসা করি নাই। তিনি স্নান কেন করেন না, একথা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম, তিনি উত্তরে বলিয়াছিলেনঃ “স্নান করার দরকার হয় না, স্নান হয়।” এই স্নান নিশ্চয়ই কোন আভ্যন্তরীণ ব্যাপার কিন্তু ইহার স্বরূপ সম্বন্ধে আমার কোন ধারণাই নাই। বৈষ্ণবেরা ‘লাবণ্যামৃতে স্নান, তারুণ্যামৃতে স্নান’, ইত্যাদির কথা বলিয়া থাকেন। ঠাকুরের এই স্বতঃসম্পাদিত স্নানও হয়তো সেই রকমই একটা কিছু হইবে।

রামঠাকুরের কথা
ডক্টর ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

Address

38, Jadavpur Central Road, Bidhanpally, Jadavpur, Kolkata
Jadavpur
700032

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রীশ্রী কৈবল্যধাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share