25/06/2026
অলৌকিক কৃপা ও আচার্যের নির্দেশ 🌺
একজন নববিবাহিতা বধূ শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সংসার শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাঁর চোখ টেরা হওয়ায় পরিবারের সবাই তাঁকে অবহেলা, সমালোচনা ও নি*র্যাতন করতে লাগল। এমনকি স্বামীও তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন না। অসহ্য দুঃ*খে তিনি একসময় বাবার বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হলেন।
পরবর্তীতে তাঁর বাবা তাঁকে নিয়ে উপস্থিত হলেন পূজনীয় শ্রীশ্রীবড়দার সান্নিধ্যে। তখন শ্রীশ্রীঠাকুর আচার্যের গুরুদায়িত্ব শ্রীশ্রীবড়দার উপর অর্পণ করেছিলেন।
শ্রীশ্রীবড়দা ধৈর্য সহকারে সব কথা শুনলেন। বধূর অসীম কষ্টের কথা শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হলেন। স্নেহভরে বললেন—
“তুই কি আমার চোখের দিকে একটু তাকিয়ে থাকতে পারিস?”
বধূ বললেন, “হ্যাঁ, পারি।”
তিনি শ্রীশ্রীবড়দার চোখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ দৃষ্টি বিনিময়ের পর শ্রীশ্রীবড়দা দৃঢ় কণ্ঠে বললেন—
“ভালো করে তাকিয়ে থাক!”
এই কথার সঙ্গে সঙ্গেই এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটল। বধূর চোখের যে ত্রুটি ছিল, তা মুহূর্তের মধ্যেই সেরে গেল। তাঁর চোখ স্বাভাবিক ও সুস্থ হয়ে উঠল।
যাঁর একটিমাত্র তর্জনেই দেহের বিকৃতি দূর হতে পারে, সেই মহিমাময় আচার্য-পরম্পরার ধারাই আজও আমাদের পথ দেখিয়ে চলেছে। তাই তাঁর আদেশ ও নির্দেশকে জীবনের পাথেয় করে চলাই আমাদের কর্তব্য।
শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন—
“যেটা ভালো বলে ঠাকুর বলছে, ভালো বলে বুঝবি;
যাহা এক ঝটকায় করবি, তাহা এক ঝটকায় কর।”
এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এক মহা ব্যায়ামাগার। এখানে আমরা এসেছি জীবনের ব্যায়াম শিখতে—কর্মের ব্যায়াম, অনুভূতির ব্যায়াম, চরিত্রের ব্যায়াম এবং আত্মোন্নতির ব্যায়াম।
আর ব্যায়াম শিখতে যেমন একজন প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হয়, তেমনি জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তুলতে আচার্যরূপী প্রশিক্ষকের নির্দেশ অনুসরণ অপরিহার্য।
শ্রীশ্রীঠাকুরের অমৃতবাণী—
“ইষ্ট তোমার দাঁড়িয়ে আছেন জীবনভূমির পারে ওপারে,
আপন করে নে তাহারে কর্ম, আচার ও ব্যবহারে।”
যদি আমাদের কর্ম, আচার ও ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা ইষ্টকে আপন করে নিতে পারি, তবেই জীবন সত্যিই সার্থক, সুন্দর ও কল্যাণময় হয়ে উঠবে।
joy guru
istroposongo-মৃত্যুঞ্জয় দেবনাথ
written by-priyanka ganguly