আত্মবিকাশ ও বিবেকানন্দ অনুধ্যান কেন্দ্র

  • Home
  • India
  • Howrah
  • আত্মবিকাশ ও বিবেকানন্দ অনুধ্যান কেন্দ্র

আত্মবিকাশ ও বিবেকানন্দ অনুধ্যান কেন্দ্র Education is the manifestation of perfection already in man

বলরাম আজ কীর্তনের বন্দোবস্ত করিয়াছেন,—বৈষ্ণবচরণ ও বেনোয়ারীর কীর্তন। এইবার বৈষ্ণবচরণ গাহিতেছেন—শ্রীদুর্গানাম জপ সদা রসনা ...
16/07/2026

বলরাম আজ কীর্তনের বন্দোবস্ত করিয়াছেন,—বৈষ্ণবচরণ ও বেনোয়ারীর কীর্তন। এইবার বৈষ্ণবচরণ গাহিতেছেন—শ্রীদুর্গানাম জপ সদা রসনা আমার। দুর্গমে শ্রীদুর্গা বিনে কে করে নিস্তার।
গান একটু শুনিতে শুনিতে ঠাকুর সমাধিস্থ! দাঁড়াইয়া সমাধিস্থ! — ছোট নরেন ধরিয়া আছেন। সহাস্যবদন। ক্রমে সব স্থির। একঘর ভক্তেরা অবাক হইয়া দেখিতেছেন। মেয়ে ভক্তেরা চিকের মধ্য হইতে দেখিতেছেন। সাক্ষাৎ নারায়ণ বুঝি দেহধারণ করিয়া ভক্তের জন্য আসিয়াছেন। কি করে ঈশ্বরকে ভালবাসিতে হয়, তাই বুঝি শিখাতে এসেছেন!
নাম করিতে করিতে অনেকক্ষণ পরে সমাধিভঙ্গ হইল। ঠাকুর আসন গ্রহণ করিলে বৈষ্ণবচরণ আবার গান ধরিলেন:
(১) হরি হরি বল রে বীণে!
(২) বিফলে দিন যায় রে বীণে, শ্রীহরির সাধন বিনে।
এইবার আর এক কীর্তনীয়া, বেনোয়ারী, রূপ গাহিতেছেন। কিন্তু সদাই গান গাহিতে গাহিতে ‘আহা! আহা!’ বলিয়া ভূমিষ্ঠ হইয়া প্রণাম করেন। তাহাতে শ্রোতারা কেহ হাসে, কেহ বিরক্ত হয়।
অপরাহ্ন হইয়াছে। ইতিমধ্যে বারান্দায় শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের সেই ছোট রথখানি ধ্বজা পতাকা দিয়া সুসজ্জিত করিয়া আনা হইয়াছে। শ্রীশ্রীজগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরাম চন্দনচর্চ্চিত ও বসন-ভূষণ ও পুষ্পমালা দ্বারা সুশোভিত হইয়াছেন। ঠাকুর বেনোয়ারীর কীর্তন ফেলিয়া বারান্দায় রথাগ্রে গমন করিলেন,—ভক্তেরাও সঙ্গে সঙ্গে চলিলেন। রথের রজ্জু ধরিয়া একটু টানিলেন—তৎপরে রথাগ্রে ভক্তসঙ্গে নৃত্য ও কীর্তন করিতেছেন। অন্যান্য গানের সঙ্গে ঠাকুর পদ ধরিলেন :
যাদের হরি বলতে নয়ন ঝরে, তারা তারা দুভাই এসেছে রে!যারা মার খেয়ে প্রেম যাচে, তারা তারা দুভাই এসেছে রে!
আবার—নদে টলমল টলমল করে, গৌরপ্রেমের হিল্লোলে রে।
ছোট বারান্দাতে রথের সঙ্গে সঙ্গে কীর্তন ও নৃত্য হইতেছে। উচ্চ সংকীর্তন ও খোলের শব্দ শুনিয়া বাহিরের লোক অনেকে বারান্দা মধ্যে আসিয়া পড়িয়াছে। ঠাকুর হরিপ্রেমে মাতোয়ারা। ভক্তেরাও সঙ্গে সঙ্গে প্রেমোন্মত্ত হইয়া নাচিতেছে।

___শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত (অখন্ড)
পৃষ্ঠা : ৮৬৫

#জয় #ঠাকুর

স্বামীজীর সাপ্তাহিক পাঠচক্র ও সেইসাথে কেন্দ্রের দুই ছাত্রীর জন্মদিন পালনের কিছু আনন্দঘন মুহুর্ত...  😊❤🙏ঠাকুর-মা-স্বামীজী...
15/07/2026

স্বামীজীর সাপ্তাহিক পাঠচক্র ও সেইসাথে কেন্দ্রের দুই ছাত্রীর জন্মদিন পালনের কিছু আনন্দঘন মুহুর্ত... 😊❤🙏
ঠাকুর-মা-স্বামীজীর আশীর্বাদ ওদের উপর সর্বদা বর্ষিত হোক,
ওরা জীবনে সফল এবং সুন্দর সভাবে এগিয়ে যাক,
দিব্যত্রয়ী-র দিব্য আদর্শে ওদের জীবন গড়ে উঠুক, এই প্রার্থনা দিব্যত্রয়ী-র কাছে.. 🙏🙏🙏

প্রখ্যাত ধনকুবের জন ডি রকফেলার একদিন হঠাৎ উপস্থিত হলেন স্বামীজীর কাছে। তাঁর বন্ধুদের কাছে বহুবার স্বামীজীর সম্বন্ধে শুনে...
14/07/2026

প্রখ্যাত ধনকুবের জন ডি রকফেলার একদিন হঠাৎ উপস্থিত হলেন স্বামীজীর কাছে। তাঁর বন্ধুদের কাছে বহুবার স্বামীজীর সম্বন্ধে শুনেছেন। স্বামীজীর সঙ্গে দেখা করবার জন্য অনেকেই তাঁকে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু প্রতিবারই কোনও-না-কোনও অছিলায় তিনি এড়িয়ে গেছেন। রকফেলার অত্যন্ত দৃঢ়চিত্তের লোক—অন্য কেউ তাঁকে সহজে প্রভাবিত করতে পারে না। সেই তিনিই একদিন গিয়ে হাজির হলেন স্বামীজী যে-বাড়িতে আছেন সেখানে। সোজা চলে গেলেন স্বামীজীর পড়বার ঘরে।
স্বামীজী লেখবার টেবিলের ওপাশে বসেছিলেন—কে এল দেখবার জন্য চোখও তুললেন না। চোখ না তুলেই স্বামীজী রকফেলারের জীবনের এমন অনেক ঘটনা বলে গেলেন যা তিনি ছাড়া আর কেউ জানেন না। রকফেলার বিস্মিত হলেন, কিন্তু টলে পড়লেন না। স্বামীজী রকফেলারকে আরও বললেন : তাঁর সঞ্চিত অর্থ তাঁর জন্য নয়—তিনি শুধু ঐ অর্থের সদ্ব্যবহারের একটা মাধ্যম মাত্র। তাঁর কর্তব্য কেবল জগতের মঙ্গল করা। ঈশ্বর যে তাঁকে এত ধনসম্পদ দিয়েছেন, তার অর্থ : তিনি তাঁকে সুযোগ দিয়েছেন যাতে তিনি ঐ অর্থ দিয়ে মানুষের সেবা করতে পারেন। রকফেলারকে কেউ এভাবে নির্দেশ দিতে পারে, এটা রকফেলারের কল্পনার অতীত। ভীষণ বিরক্ত হয়ে তিনি চলে এলেন—একবার বিদায় সম্ভাষণেরও প্রয়োজন বোধ করলেন না।কিন্তু সপ্তাহ-খানিক পরে আবার এলেন রকফেলার। ঝড়ের মতো স্বামীজীর ঘরে ঢুকে স্বামীজীর চোখের সামনে সেদিনের খবরের কাগজটা মেলে ধরলেন। তাতে খবর বের হয়েছিল : জনসাধারণের একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য রকফেলার বিপুল অর্থ দান করবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজও স্বামীজী টেবিলের ওপাশে বসেছিলেন। রকফেলার কাগজটা দেখিয়ে রুক্ষভাবে বললেন : 'এই নিন মশাই, এবার আপনি খুশি হবেন, আর এর জন্য আপনি আমায় ধন্যবাদ দিতে পারেন।' স্বামীজী চোখ তুললেন না, একটুও নড়লেন না। কাগজটা নিয়ে ধীরভাবে পড়ে বললেন : 'ধন্যবাদ তো আপনারই আমাকে দেওয়া উচিত।' পরবর্তীকালে যিনি অসাধারণ দানবীর রূপে পরিচিত হয়েছিলেন, সেই জন ডি রকফেলারের সর্বসাধারণের জন্য এটিই প্রথম বড় দান।

#জয় #স্বামীজী

এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে
05/07/2026

এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে

ব্যক্তিগত ভাবে কোন উপযুক্ত শিষ্যকে এভাবে আধ্যাত্মিক অনুভূতির অধিকারী করার ঘটনা বিরল হলেও সেরকম আরও উদাহরণ আধ্যাত্মিক জগত...
21/06/2026

ব্যক্তিগত ভাবে কোন উপযুক্ত শিষ্যকে এভাবে আধ্যাত্মিক অনুভূতির অধিকারী করার ঘটনা বিরল হলেও সেরকম আরও উদাহরণ আধ্যাত্মিক জগতের ইতিহাসে দুর্লভ নয়। কিন্তু এমন সমস্ত মানুষ যাদের অনেকেরই আধ্যাত্মিকতা সম্বন্ধে কোন ধারণা নেই, সাধনভজনের দ্বারা কোনও প্রস্তুতি নেই, এমন সমস্ত মানুষকেও সমষ্টিগতভাবে জাগতিক চেতনা থেকে অতিজাগতিক চেতনায় উন্নীত করা, স্থান-কাল-পাত্র-কর্মের দ্বারা এই যে খণ্ডিত জগৎ তার ঊর্ধ্বে বিরাজিত যে অনাদি, অনন্ত, অসীম, শুদ্ধ-বুদ্ধ-মুক্ত, শান্তিময়, আনন্দময় সত্তা তার প্রত্যক্ষ অনুভব যা জন্মজন্মান্তরের সাধনা-সাপেক্ষ— তা করিয়ে দেওয়া—এরকম উদাহরণ দুর্লভ এবং প্রায় অবিশ্বাস্য। অথচ সেরকম ঘটনা স্বামীজীর পাশ্চাত্যে বক্তৃতাকালে যে প্রায়শই ঘটত তা সেই সমস্ত বক্তৃতায় উপস্থিত বেশ কিছু শ্রোতাদের স্মৃতিচারণা থেকে জানতে পারি। এরকম একজন শ্রোত্রী সিস্টার দেবমাতা লিখছেন, “রাজকীয় ভঙ্গিতে মাথা উঁচু করে মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন স্বামী বিবেকানন্দ। শুরু করলেন তাঁর বক্তৃতা। তাঁর বাণীর তরঙ্গ প্রবাহে আমার স্মৃতি, স্থান-কাল-পাত্রের যত আপেক্ষিক চেতনা, সব মুহূর্তে কোথায় ভেসে গেল। অসীম শূন্যতার মধ্যে কেবল একটি কণ্ঠস্বরই যেন ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। আমার তখন মনে হল হঠাৎ যেন আমার সামনে একটা বন্ধ দরজা খুলে গিয়েছে, আর তার ভেতর দিয়ে আমি এমন এক রাজপথে এসে পড়েছি যার প্রতিটি ধূলিকণায় অনন্ত প্রাপ্তির ইশারা। সে পথের শেষ কোথায় জানি না; কিন্তু সেই অনন্ত সম্ভাবনা, সেই প্রতুল প্রতিশ্রুতি জ্যোতির অক্ষরে লেখা ছিল তাঁর বাণীমন্ত্রে, তাঁর অপ্রমেয় ব্যক্তিত্বে, যিনি সে-পথের সন্ধান দিলেন।অনন্তের বার্তা নিয়ে ঐতো তিনি এখনো দাঁড়িয়ে আছেন”!

___হাজার বাতির ঝাড় (স্বামী মেধসানন্দ)

#জয় #স্বামীজী

আমি নির্দ্বিধায় বলব যে আমার সারা জীবনের কাজের অভিজ্ঞতায়, আমি সবসময়ই লক্ষ্য করেছি যে অকাল্টিজম্ মানবজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত এব...
26/05/2026

আমি নির্দ্বিধায় বলব যে আমার সারা জীবনের কাজের অভিজ্ঞতায়, আমি সবসময়ই লক্ষ্য করেছি যে অকাল্টিজম্ মানবজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত এবং দুর্বল করে। আমরা চাই শক্তি। অন্য জাত অপেক্ষা আমরা ভারতীয়রা, শক্তিময় এবং উৎসাহব্যঞ্জক চিন্তা চাই। সব বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট অতিসূক্ষ্মতা র'য়েছে। শত শত বছর ধরে আমরা রহস্যময়তায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছি; ফলে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি সংক্রান্ত বিষয় এবং আধ্যাত্মিকতা পরিপাক করা দুর্বল হ'য়ে গেছে, সমস্ত জাতটা নৈরাশ্যজনকভাবে পুরুষত্বহীনতার গভীরে নেমে এসেছে—প্রত্যেক বীর্যবান জাতির গঠনের জন্য একটা তাজা এবং উৎসাহজনক চিন্তাধারা থাকা উচিত।সমস্ত পৃথিবীকে আরও যথোপযুক্ত শক্তিশালী করার জন্য উপনিষদ র'য়েছে। অদ্বৈতবাদ হ'চ্ছে শক্তির শাশ্বত আকর। কিন্তু এর জন্যে খাটতে হবে, পাণ্ডিত্যের কঠিন আবরণ থেকে একে মুক্ত করতে হবে, তারপরে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সরলতা, সৌন্দর্য আর সম্ভ্রম উৎপাদক শিক্ষা দিতে হবে। "এটা খুব বড় বিষয়," আগামী দিনে এটা সুসম্পন্ন হবে। এই কাজই আমাদের করতে হবে। একটা বিষয়ে আমি নিশ্চিত যে—যদি কেউ তার প্রকৃত প্রেম আর নিঃস্বার্থতা দিয়ে কাউকে সাহায্য করতে চায় তবে সেটা চমৎকারভাবে ঘটবে। আমি কখনও প্রতিহিংসার কথা বলি না। আমি সব সময়ে শক্তির কথাই বলেছি। সমুদ্রের জলকণিকার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিহিংসা-বৃত্তি জাগে কি? তবে হাঁ, একটা মশার কাছে ওটা খুবই বড় ব্যাপার। আমার এখন একমাত্র ইচ্ছা, দেশটাকে জাগিয়ে তুলি—মহাবীর নিজের শক্তিমত্তার সব বিশ্বাস হারিয়ে ঘুমুচ্ছে—সাড়া নেই, শব্দ নেই। সনাতন ধর্মভাবে একে কোনরূপে জাগাতে পারলে বুঝব, ঠাকুরের ও আমাদের আসা সার্থক হ'ল। ঐ ইচ্ছাটা কেবল আছে—মুক্তি ভুক্তি তুচ্ছ বোধ হচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে, তত আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে পৌরুষই সার বস্তু। এই আমার নূতন বার্তা।

___আমি বিবেকানন্দ বলছি (শংকর)
পৃষ্ঠা__৩০৪

#জয় #স্বামীজী

বস্তুত, ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণের সকলই অলৌকিক। তাঁহারই শ্রীমুখে শুনিয়াছি, "সে ঘরের উলটো চাবি" অর্থাৎ জ্ঞানের ঘরে প্রবেশপূর্ব্...
23/05/2026

বস্তুত, ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণের সকলই অলৌকিক। তাঁহারই শ্রীমুখে শুনিয়াছি, "সে ঘরের উলটো চাবি" অর্থাৎ জ্ঞানের ঘরে প্রবেশপূর্ব্বক জ্ঞানলাভ করিতে হইলে পার্থিব উপায় অবলম্বন করিলে চলিবে না। শ্রীকৃষ্ণও এরূপ উপদেশ দিয়াছেন যথা— যা নিশা সর্বভূতানাং তস্যাং জাগৰ্ত্তি সংযমী ইত্যাদি। শ্রীরামকৃষ্ণের পবিত্র চরিত্র উক্ত উপদেশের জাজ্জ্বল্যমান দৃষ্টান্ত। ইহা মনুষ্যবুদ্ধির অগোচর। কারণ, লোকে যাহাকে ভাল বলে, তাহা তাঁহার বুদ্ধিতে মন্দ, লোকে যাহাকে সুখশান্তির কারণ বলিয়া জানে, তাঁহার দৃষ্টিতে তাহা দুঃখ ও অশান্তির হেতু। তাঁহার শক্তি দুর্নিবার্য ও অতুলনীয়া। এ-সকল বিষয় উত্তমরূপে হৃদয়ঙ্গম করাইতে হইলে তাঁহার পরমপাবন জীবনের দুই চারিটি ঘটনার আভাস দেওয়া আবশ্যক।যেখানে শক্তির বিকাশ, সেখানেই ঈশ্বরত্ব পরিদৃষ্ট হয়। এক্ষণে প্রশ্ন হইতে পারে, নিরক্ষর সপ্তমুদ্রামাত্রবেতনভোগী জনৈক পুরোহিতের এমন কি শক্তি থাকা সম্ভব, যদ্দ্বারা লোকে তাঁহাকে ঈশ্বর বলিয়া পূজা করিতে পারে? মনুষ্যদৃষ্টিতে অসম্ভব ইহা স্বীকার করিতেই হইবে। কিন্তু যদিও কিছুকাল পূর্বে শ্রীরামকৃষ্ণ-শক্তি লোকবুদ্ধির অগোচর ছিল, অধুনা সভ্যজগতে এমন কেহই নাই, যিনি উক্ত মহাশক্তির পূজা না করিয়া থাকেন। ইহার কারণ কি? এতদুত্তরে আমরা বলি যে, নিরক্ষরতা ও নির্ধনতাই তাঁহার অতুল-শক্তির পরিচায়ক। উপায় দ্বারাই উপেয় বস্তু লাভ করা যায়, সাধন দ্বারাই সাধ্য বস্তু আয়ত্তাধীন হয়। কিন্তু যে ব্যক্তি বিনা উপায়ে বিনা সাধনে সাধ্যবস্তুকে আপন আয়ত্তে অনায়াসে আনিতে পারেন, তিনি যে বিপুল শক্তিসম্পন্ন, ইহা বুঝিতে কি আর প্রমাণ-প্রমেয়ের আবশ্যক হয়?আমি কি আপনাকে এই পাঠ্যটির অনুবাদ বা কোনো নির্দিষ্ট অংশের ব্যাখ্যা দিয়ে সাহায্য করতে পারি?
অস্ত্রশস্ত্র ও বিপুল বাহিনী সহায়ে যুদ্ধে জয়লাভ করা যায়, কিন্তু যিনি অস্ত্রশস্ত্রবিহীন হইয়া একাকী বহুবিধ অস্ত্রশস্ত্রসম্পন্ন অসংখ্য সৈন্য সহায় বাহিনীপতিকে পরাজয় করিতে সক্ষম হয়েন, তিনি যে ঈশ্বরীয় শক্তির আধার ইহা সকলেই একবাক্যে স্বীকার করিবেন। বর্তমানকালে পণ্ডিত হইতে হইলে লোকে গ্রন্থরাশির আশ্রয় লয়েন। যিনি যত পরিমাণে গ্রন্থভ্যাস করিতে শিখিয়াছেন, তিনি তত পরিমাণে পণ্ডিত বলিয়া গণ্যনীয়। শ্রীরামকৃষ্ণের গ্রন্থপাঠ একেবারেই ছিল না বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। তিনি কখন কখনও গ্রন্থকে গ্রন্থিস্বরূপ বলিতেন। কারণ অনেকস্থলে গ্রন্থপাঠ পাণ্ডিত্যভিমানের কারণ হয় ও তজ্জনিত নানাবিধ গ্রন্থিল বন্ধন মানবমনকে সংসারে আবদ্ধ রাখে।

__শ্রীরামকৃষ্ণকে যেরূপ দেখিয়াছি
পৃষ্ঠা__১১৩

একবার রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের তৎকালীন অধ্যক্ষ স্বামী শিবানন্দ অসুস্থ ছিলেন। সেই সময় একজন ভক্ত তিনি কেমন আছেন জানতে চাইলে, মহারাজ...
19/05/2026

একবার রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের তৎকালীন অধ্যক্ষ স্বামী শিবানন্দ অসুস্থ ছিলেন। সেই সময় একজন ভক্ত তিনি কেমন আছেন জানতে চাইলে, মহারাজ উত্তর দিলেন, “আমার দেহটি ভালো নেই, কিন্তু আমি ভালো আছি।”স্বামী শিবানন্দের শিষ্য স্বামী পাবনানন্দ আমাকে একটি ঘটনার কথা বলেন, যাতে স্বামী শিবানন্দের এই ভাবটি আরও সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।একবার যখন স্বামী শিবানন্দ বেলুড় মঠে হঠাৎই হাঁপানির আক্রমণে শয্যাশায়ী, তখন স্বামী পাবনানন্দ তাঁকে দেখতে আসেন।তিনি স্বামী শিবানন্দের ঘরে ঢুকে তাঁকে প্রণাম জানিয়ে চুপচাপ ঘরের মেঝেতে বসে পড়লেন। গুরুর ঐরকম শ্বাসকষ্ট দেখে তিনি খুব মনমরা হয়ে গেলেন। স্বামী শিবানন্দের তখন শ্বাস নিতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল এবং তিনি ঘন ঘন কাশছিলেন। অত গভীর শ্বাসকষ্টের জন্য তাঁর মুখ লাল হয়ে গিয়েছিল। স্বামী পাবনানন্দ তাঁর একটি ভাবনা কিছুতেই আটকাতে পারলেন না—“স্বামী শিবানন্দ নিজে এক উচ্চ আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন সন্ন্যাসী, তদুপরি স্বয়ং ভগবান রামকৃষ্ণাবতারের সাক্ষাৎ শিষ্য, তবুও তাঁকে এভাবে ভুগতে হচ্ছে কেন?”ঐ চিন্তা মনে আসার সঙ্গেই সঙ্গেই স্বামী পাবনানন্দ দেখলেন, তাঁর গুরু স্বামী শিবানন্দ বিছানায় উঠে বসেছেন, জ্যোতির্ময় মুখে শিষ্যের দিকে তাকিয়ে হাসছেন। তখন দৈহিক কষ্টের সমস্ত চিহ্ন অন্তর্হিত হয়েছে। হঠাৎ এই আশ্চর্যজনক পরিবর্তনে স্বামী পাবনানন্দ তো হতবাক।তিনি উপলব্ধি করলেন যে, স্বামী শিবানন্দ যেকোনো মুহূর্তে তাঁর মনটিকে দেহ থেকে আলাদা করে নিতে পারেন। দেহের মধ্যে থেকেও তিনি দেহ থেকে মুক্ত, কারণ তিনি জীবন্মুক্ত, অর্থাৎ দেহের বন্ধন থেকে সহজেই তাঁর আত্মাকে আলাদা করতে, মুক্ত করতে পারেন।

___রামকৃষ্ণ সঙ্ঘে সন্ন্যাসজীবন (স্বামী ভাস্করানন্দ)
পৃষ্ঠা_৩৫

একদা সন্ধ্যার সময় বলরামবাবুর বড় ঘরটিতে অনেকে বসিয়া আছেন। এমন সময় গিরিশবাবু ডান দিককার কাপড়ে কতকগুলি পান রাখিয়া কাপ...
18/05/2026

একদা সন্ধ্যার সময় বলরামবাবুর বড় ঘরটিতে অনেকে বসিয়া আছেন। এমন সময় গিরিশবাবু ডান দিককার কাপড়ে কতকগুলি পান রাখিয়া কাপড়ের কসিটি টাঁকে গুঁজিয়া পূর্বদিক হইতে দ্বিতীয় দরজার কাছে আসিয়া বসিলেন। গিরিশবাবু বড় পান খাইতে ভালবাসিতেন, সেইজন্য যেখানে যাইতেন সঙ্গে করিয়া পান লইয়া যাইতেন। সেদিন তিনি বড় প্রফুল্ল; উত্তেজিত ও আপনভাবে বিভোর ছিলেন। গরমকাল, রাস্তার দিকের বারান্দা হইতে বেশ ফুরফুরে হাওয়া আসিতেছিল। গিরিশবাবু ঘরে বসিয়াই শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের কথা বলিতে আরম্ভ করিলেন। সম্ভবতঃ শরৎমহারাজকে লক্ষ্য করিয়া বলিতে লাগিলেন, “দেখ, একদিন বিকালবেলা বোস-পাড়ার গলির মোড়ে গোঁসাইদের রকে বসে আছি, দেখি যে বাগবাজার স্ট্রীট থেকে একখানি ভাড়াগাড়ি বলরামের বাড়ির দিকে যাচ্ছে। গাড়িথানার ভেতরে পেছনকার গদিতে একটি লোক আর সামনের গদিতে দুটি কি একটি লোক বসেছিল। গোঁসাইদের রকে যারা বসে ছিল, তারা বলে উঠল, 'ইনিই হচ্ছে দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণপরমহংস'। আমিও মুখ ফিরিয়ে তাঁকে দেখতে লাগলুম এবং তিনিও আমার দিকে তাকালেন। তখন প্রণাম পদ্ধতি বিশেষ কিছু জানতুম না। তিনি প্রথমে গাড়ি থেকে দু’হাত তুলে আমাকে প্রণাম করলেন। আমিও তাঁহাকে প্রণাম করলুম। তিনি আবার আমায় সেই রকম করে প্রণাম করলেন, আমিও আবার তাঁহাকে প্রণাম করলুম। এইরূপে পরম্পর দুজনায় প্রণাম চলিল শেষকালে আমি বেদম হয়ে গেলুম আর তাঁহার প্রণামের সংখ্যা অধিক হলো। মনে মনে আমি ভাবলুম এ পাগলটা আবার কি রকম। তিনি করুণভাবে আমার দিকে একবার চাইলেন, আমার বুকের ভেতরটা যেন চন্ চন্ করে উঠল! তিনি তখন গাড়ি করে বলরামের বাড়ির দিকে চলে গেলেন। আমি সেই রকে বসে রইলুম কিন্তু বুকের ভেতরটা তাঁর সঙ্গে বলরামের বাড়ির ভিতর চলে গেল। তখন মন অভিমানে পূর্ণ, বলরাম ডাকেনি, তার বাড়িতে যাব? কিন্তু প্রাণটা অস্থির হয়ে উঠলো, যদি একবার কেউ মুখে বলে তাহলে যাই। আমার মনটা তখন বড় অস্থির হয়ে উঠেছিল, কিছুতেই শান্তি পাচ্ছিলাম না। একটা গুরু বা যা হউক একটা কিছু পেলে বুকটা ঠাণ্ডা হয়, কিন্তু সকলের উপরে অবিশ্বাস—আর সকলের চেয়ে যে আমি বেশী বুদ্ধিমান ভিতরে এই অহঙ্কার। খানিকক্ষণবাদে বলরামের বাড়ি থেকে একজন আমায় ডাকতে এসে বল্লে, ‘আপনাকে পরমহংস মশায় ডাকছেন’। আমি ত চটি জুতো পায়ে দিয়ে খালি গায়ে দৌড়ে গেলুম। যাইবামাত্র আবার সেই আগেকার মতন প্রণাম চলল, এবারও আমি পরাস্ত হলুম। আমি জিজ্ঞাসা করলুম, ‘গুরুর আবশ্যক কি’? তিনি শুনবামাত্র বল্লেন, ‘তোমার হয়ে গেছে। তোমার হয়ে গেছে। আর তোমার কিছু আবশ্যক নেই’। আচম্বিতে এই কথাটা শুনে আমার বুকে হঠাৎ একটা শান্তি এলো, আহ্লাদে আমার চোখে জল এসে পড়লো। এক নূতন ভাব যেন আমার বুকে এলো—জ্বলন্ত আগুন যেন জল দিয়ে নিভিয়ে দিলেন। খানিকক্ষণ নিজেকে সামলিয়ে ফের জিজ্ঞাসা করলুম, ‘গুরু কি?’ তিনি বল্লেন, ‘সংযোজক অর্থাৎ ইষ্ট ও ভক্তের মিল করিয়ে দিয়ে স্বয়ং অন্তর্ধান হন’। জানত আমি থিয়েটারের লোক—সেজন্য থিয়েটারের ভাষায় বলেছিলুম। সেদিন থেকে আমার ভিতরে আর এক ভাবে লাগতে লাগল।”

_____শ্রীমৎ বিবেকানন্দ স্বামীজীর জীবনের ঘটনাবলী (মহেন্দ্রনাথ দত্ত)
পৃষ্ঠা__২১০

Address

39/9 Swami Vivekananda Road, Howrah/1
Howrah

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আত্মবিকাশ ও বিবেকানন্দ অনুধ্যান কেন্দ্র posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share