02/08/2017
Puja – Argument and Science Behind it. ( An Extract from the Book – ‘Puja-Vijnan’ written by Revered Swami Prameyanandaji Maharaj.
পূজায় সিদ্ধিলাভের জন্য মন্ত্রপাঠ ও অনুষ্ঠানাদির সঙ্গে সঙ্গে কর্মানুরূপ অনুভূতির বিকাশও একান্ত আবশ্যক। পূজার মর্মগত যা লক্ষ্য পূজার প্রথম থেকেই পূজককে সেইভাবে ভাবিত হতে হয়। শাস্ত্রেরও নির্দেশ – ‘দেবো ভূত্বা দেবং যজেৎ’। নিজেকে দেবস্বরূপ ভাবনা করতে করতে দেবতা হয়ে দেবপূজা করবে। যার ভাবনা জেরূপ, সফলতাও তার তদ্রূপ হয় – ‘যাদৃশী ভাবনা যস্য সিদ্ধির্ভবতি তাদৃশী।’ ঈশ্বরের চিন্তা করতে করতে সাধক ঈশ্বরের স্বরূপ লাভ করেন।
বস্তুমাত্রই স্বরূপত ব্রহ্ম। কিন্তু তা হলেও অবিদ্যার আবরণে বস্তুস্বরূপ আবৃত থাকে, বাইরে প্রতিভাত হতে পারেনা। বস্তুর স্বরূপচিন্তা তার বাহ্য আবরণ ভেদ করে সাধকের মনকে বস্তুস্বরূপে নিবিষ্ট করতে সক্ষম। তাই পূজার সময়ে আপনার চিন্ময়স্বরূপের ভাবনায় মন নিবিষ্ট করবার নির্দেশ। শুধু পূজকের কেন, সমস্ত পূজোপকরণেরই দেবত্ব ভাবনা করবার নির্দেশ শাস্ত্রে আছে। পূজোপকরণকে দেবতা-দৃষ্টিতে নিরীক্ষণ করলে পূজোপকরণ শুদ্ধ হয়ে যায়, দেবত্ব প্রাপ্ত হয়।’
মনে রাখতে হবে পূজা একটি সাধনা এবং সেই সাধনায় সিদ্ধিলাভের জন্য পূজার প্রতিটি অঙ্গ যেমন নিখুঁত হবে সেরূপ সমস্ত অনুষ্ঠানটি ভক্তি, শ্রদ্ধা, অনুরাগ ও ভালবাসা-মিশ্রিত হওয়া প্রয়োজন। শ্রীমদ্ভগবদ্ গীতাতেও আছে –“পত্রং পুষ্পং ফলং তোয়ং যো মে ভক্ত্যা প্রযচ্ছতি। / তদহং ভক্ত্যুপহৃতমশ্মামি প্রজতাত্মনঃ”।।[ভগবদ্ গীতা, ৯/২৬] অর্থাৎ ভক্তিপূর্বক যে আমাকে পত্র, পুষ্প, ফল ও জল অর্পণ করে, আমি তার সেই ভক্তি-উপহার প্রীতির সঙ্গে গ্রহণ করি।
জনৈক বৈষ্ণব সাধকের একটি গানে এই ভাবতি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। ঐ গানে আছে ---
“মন-তুলসী ভক্তি-চন্দন যেজন তাঁরে দিতে পারে, / শিলার পৃষ্ঠে কাঠের চন্দন ঘসতে হয় না বারে, বারে।
সাজিভরা বনফুলে পূজা হয় না কোনকালে, / ফুলের পূজা সবাই করে মধু লুটে নেয় মধুকরে।।”
ইষ্টদেবতার চরণে “মন-তুলসী, ভক্তি-চন্দন” অর্পণেই পূজার সার্থকতা।