Satsang India

Satsang India Satsang india

23/03/2026

প্রজা কথাটি আসিয়াছে প্র-পূর্ব্বক জন্-ধাতু হইতে । প্র মানে perfectly, আর জন্ ধাতু মানে to grow. তাই বলা হইয়াছে "প্রজা কথায় আছে--to grow perfectly instinct with life."
(Nana-Prasange, 2nd part, page 50)
প্রকৃষ্ট জাতক সৃষ্টির উদ্দেশ্য যাতে সার্থক হয় তাই আর্য্যবিধি অনুযায়ী শ্রীশ্রীপ্রজাপতয়ে নমঃ মন্ত্র শরণ করে শুভ বিবাহের সংস্কারে সংস্কৃত হতে হয় ।

।। সৎসঙ্গের ইষ্টভৃতি প্রকরণ ।।।। ইষ্টভৃতির মানে ।।".....  ইষ্টভৃতি মানে হ'চ্ছে---               ইষ্টকে ভরণ করা,         ...
22/03/2026

।। সৎসঙ্গের ইষ্টভৃতি প্রকরণ ।।
।। ইষ্টভৃতির মানে ।।
"..... ইষ্টভৃতি মানে হ'চ্ছে---
ইষ্টকে ভরণ করা,
ধারণ করা,
পালন করা,
পোষণ ও পূরণ করা, ...... "
(ধৃতি-বিধায়না, ২য় খণ্ড, ৩২৮ সংখ্যক বাণী থেকে সংকলিত)
___________________________
বিঃ দ্রঃ "তোমারি ভোগের লাগি' ইষ্টভৃতির অর্ঘ্য দিতেছি---" বলে যাঁরা অর্ঘ্য নিবেদন করেন, সেই বিপুল অর্ঘ্যসমূহ কার ভোগে লাগে?
* * *
সৎসঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র কথিত ‘সৎসঙ্গ চায় মানুষ’ বাণীতে বর্ণিত সৎসঙ্গের আদর্শের সাথে, ‘ইষ্টভৃতি’ শব্দের মর্মার্থের সাথে পরিচিত নাহলেও 'ইষ্টভৃতি' নামের সাথে বেশীরভাগ সংঘকেন্দ্রিক জনেরা যেমন পরিচিত, তেমনি সাধারণ লোকেরা ঠাকুরের নামে টাকাপয়সা রাখার মাধ্যম হিসেবে 'ইষ্টভৃতি' শব্দকে জানেন। অনেকানেক দীক্ষিত জনেরা মাছ-মাংস-পেঁয়াজ-রসুনাদি অভক্ষ্য ভোজন করে, বর্ণাশ্রমধর্মের প্রতি মুখ ফিরিয়ে বৃত্তিহরণ কর্মাদি করে, প্রতিলোম-বিবাহ বিলাসে অগম্যাগামী হয়েও গর্ব করে বলেন, ‘আমি রোজ ---- টাকা করে ইষ্টভৃতি করি।’
এ বিষয়ে ঠাকুরের নিদেশটা জেনে নিতে পারলে বিষয়টি বুঝতে সুবিধা হবে, যদি বুঝতে আগ্রহ থাকে।
"ঈশ্বর-অনুধ্যায়িতা নিয়ে
গণহিতী অনুচর্য্যায়
তাদের যে অনুগ্রহ-অবদান অর্জ্জন কর,
সেই অবদান হ'তে
শ্রদ্ধানুস্যূত অন্তঃকরণে
স্বতঃস্বেচ্ছায় তোমার ইষ্টকে যা নিবেদন কর,
তাই-ই কিন্তু তোমার শ্রেষ্ঠ ইষ্টভৃতি ।"
(ধৃতি-বিধায়না, ১ম খণ্ড, বাণী সংখ্যা ৩০৬)
অর্থাৎ, বর্ণানুগ কর্মের সেবার মাধ্যমে, বৃহত্তর পরিবেশে, ঘটে ঘটে ইষ্ট স্ফূরণের বা মঙ্গল প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত থাকার বিনিময়ে অযাচিত প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পদকে বলা হয়েছে অনুগ্রহ অবদান । তা থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য স্বরূপ ইষ্টের উদ্দেশ্যে নিবেদন করতে হবে ।
"জীবে প্রীতি বিতরণ করে যেই জন,
সেই জন সেবিছে ঈশ্বর ।"
এই হল ঈশ্বর অনুধ্যায়িতার স্বরূপ ।
বর্ণানুগ কর্ম এবং ঈশ্বর অনুধ্যায়িতা ব্যতীত ইষ্টভৃতি বাস্তবায়িত হয় না ।

ইষ্টভৃতির নামে শুধুমাত্র ইষ্টের প্রীতির জন্য কাউকে পীড়িত না করে নিজে পীড়িত না হয়ে বর্ণানুগ কর্মের সেবা মাধ্যমে আহরিত অর্থ 'দিন গুজরানী আয়'-কেই ইষ্টভৃতির অর্ঘ্য হিসেবে নিবার্চিত করেছেন শ্রীশ্রীঠাকুর। ওই নির্দেশ অনুসারে ইষ্টার্ঘ্য আহরণ করার মধ্যেই প্রীতি, মৈত্রী ও ঐক্যের বীজ বপন করে দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন আর্য্যকৃষ্টির সদাচার এবং বর্ণাশ্রম ধর্মকে। ওই ইষ্টার্ঘ্য ইষ্টকে দিতে হবে । তিনি তা দিয়ে PHILANTHROPICAL WORK বা সব্যষ্টি সমষ্টির মধ্যে ভাগবত ঐক্য স্থাপন দ্বারা গণহিতৈষণা কর্ম করবেন । ইষ্টভৃতির দাতা এবং গ্রহীতার মেলবন্ধনে গড়ে উঠবে পরম রাষ্ট্রিক সমবায়। এই ছিল ঠাকুরের পরিকল্পনা । সেই উদ্দেশে স্থাপন করেছিলেন ফিলানথ্রপি কার্যালয়। মাসান্তে ওই অর্ঘ্য পাঠাতে হবে ইষ্টসকাশে। ইষ্টের নামে প্রেরিত ওই অর্ঘ্য গৃহীত হতো ফিলানথ্রপিতে। পাঠাবার পর দুজনকে ভ্রাতৃভোজ্য দিতে হবে। এর মাধ্যমে প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করলেন। দেশের অর্থনীতিকে করলেন সমৃদ্ধ।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুশ্রুতি গ্রন্থে ইষ্টভৃতির বিষয়ে বললেন :
"*দিন গুজরানী আয় থেকে কর
ইষ্টভৃতি আহরণ,
জলগ্রহণের পূর্ব্বেই তা'
করিস্ ইষ্টে নিবেদন ;
নিত্য এমনি নিয়মিত
যেমন পারিস ক'রেই যা'
মাসটি যবে শেষ হবে তুই
ইষ্টস্থানে পাঠাস্ তা' ;
ইষ্টস্থানে পাঠিয়ে দিয়ে
আরো দু'টি ভুজ্যি রাখিস্,
গুরুভাই বা গুরুজনের
দু'জনাকে সেইটি দিস্ ;
পাড়া-পড়শীর সেবার কাজে
রাখিস কিন্তু কিছু আরো,
উপযুক্ত আপদগ্রস্তে
দিতেই হ'বে যেটুকু পার ;
এসবগুলির আচরণে
ইষ্টভৃতি নিখুঁত হয়--
এ না-ক'রে ইষ্টভৃতি
জানিস্ কিন্তু পূর্ণ নয় ।"
_____________________________________
** ইষ্টভৃতি আহরণের মূল সূত্র "দিন গুজরানি আয়" প্রসঙ্গে। **
"এত আন্দোলন আমরা করি, কিন্তু মূল আন্দোলনটা করি না। আমার মনে হয়, বর্ণাশ্রমটা যদি ঠিকভাবে জাগিয়ে তোলা যায়, তবে অনেক কিছু গোল চুকে যায়। বর্ণাশ্রমের মধ্যে un employment ( বেকার সমস্যা ) ব'লে জিনিস ছিল না, তা’তে বৃত্তিহরণ ছিল মহাপাপ, প্রত্যেকে স্ব-স্ব বর্ণোচিত কর্ম্ম করতো, প্রত্যেকে প্রত্যেকের সহযোগী ও পরিপূরণী হ’তো। উদরান্নের জন্য যদি বিপ্র , ক্ষত্রিয়, বৈশ্য তাদের বর্ণ-অনুচিত কাজ করতো তাহ'লে পতিত হ'তো। পয়সা না নিয়ে করলে দোষ হতো না। অন্যকে help ( সাহায্য ) করার জন্য যদি ক'রে পয়সা নেওয়া যায়, তাও দোষের নয়। কিন্তু পেটের দায়ের জন্য যখন মানুষ ভালমন্দ বিচার করে না, সমাজের শৃঙ্খলা মানে না, তখন তার আর কিছুই থাকে না।"
(আঃ প্রঃ ১ম খণ্ড, পৃঃ ৭৯)
_________________________________________
ইষ্টভৃতিকেন্দ্রিক পূর্বোক্ত বাণীর মাধ্যমেও পরিস্ফূট হয়েছে সপারিপার্শ্বিক জীবনবৃদ্ধিদ ভাগবত ঐক্যের পরমবার্তা ।

শ্রীশ্রীঠাকুর প্রদত্ত ইষ্টভৃতি নিবেদন মন্ত্রের ‘‘.....ইষ্টভ্রাতৃভূতযজ্ঞৈস্তৃপ্যন্তু পারিপারর্শ্বিকাঃ ।।’’ উচ্চারণ করার সাথে সাথে বৃহত্তর পারিপার্শ্বিকের জীবনবৃদ্ধির দায়ভারের শপথ নিতে হয় আমাদের। সব অবস্থাতে বাস্তব কর্মে বৃহত্তর পরিবেশের জৈবাজৈব সবকিছুকে পালন-পোষণে সমৃদ্ধ করে রাখার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই সার্থক হয় ইষ্টভৃতি পালন। ইষ্টাদর্শের পঞ্চবর্হিঃ ও সপ্তার্চ্চি-র বিধি মেনে শারিরীক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক সদাচার পালনে, ইষ্টপ্রোক্ত অনুসরণ করে বিবাহ ও সুপ্রজনন নীতি পালনে অভ্যস্ত না হতে পারলে---‘আমি ইষ্টভৃতি করি’ এই কথা বলা বোধহয় সমিচীন হবে না। ইষ্টভৃতি করা মানে, বাস্তবে ইষ্টনীতি মেনে চলা, ইষ্টনীতির ভরণ করা।

এ তো গেল ইষ্টভৃতি আহরণ ও নিবেদনপর্ব। এর পর রয়েছে প্রেরণপর্ব। প্রেরণ বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর স্পষ্ট নির্দেশ করে দিয়ে বলেছেন :
ইষ্টভৃতি ইষ্টকেই দিস
করিসনা তায় বঞ্চনা।
অন্যকে তা দিলেই জানিস
আসবে বিপাক গঞ্জনা।।
অর্থাৎ ইষ্টভৃতি ইষ্টেরই প্রাপ্য, অন্য কারও নয়। ওই অর্ঘ্য দিয়ে ইষ্টকর্ম করা হবে। ইষ্টকর্ম মানে পূর্ত্তকর্ম। যা প্রকৃত ইষ্টভৃতির মন্ত্রের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ".....ইষ্টভ্রাতৃভূতযজ্ঞৈস্তৃপ্যন্তু পারিপার্শ্বিকাঃ ।।" এর সরলার্থ খুব সহজ। শ্রীশ্রীঠাকুরের আদর্শ অনুযায়ী সদাচার এবং বর্ণাশ্রমানুগ জীবন বর্দ্ধনার বিধি মেনে সপারিপার্শ্বিক জীবনবৃদ্ধির পথে চলেন যিনি এমন গুরুভাই-ই প্রকৃত ইষ্টভ্রাতা।–যাঁর আপদে-বিপদে সাধ্যানুগ সাহায্য করতে হবে। ভূত মানে,--ক্ষিতি, অপ্, মরুৎ, ব্যোম ও তেজ-আদি সৃষ্টি-প্রকরণের পঞ্চ-মহাভূত, যা পরিবেশের অজৈব উপাদান, যার সাহায্য ব্যতীত জৈব প্রাণপঙ্ক (protoplasm) বাঁচতে পারে না। উক্ত উপাদানসমূহকে সমৃদ্ধ রাখার জন্য আর্য্যদের বাস্তব পূর্ত্ত-কর্মের মাধ্যমে নিত্য পঞ্চ-মহাযজ্ঞের অনুষ্ঠান করতে হতো সপারিপার্শ্বিক জীবনবৃদ্ধিকে অক্ষুণ্ণ রাখতে। শ্রীশ্রীঠাকুর ইষ্টভৃতি মহাযজ্ঞের মাধ্যমে ওই প্রক্রিয়াকে নবীকরন করলেন। শ্রীশ্রীঠাকুর হিমায়েতপুর সপারিপার্শ্বিক জীবন বৃদ্ধিদ আশ্রম সংগঠনের মাধ্যমে, ইষ্টভৃতি প্রবর্তনের পূর্বেই ইষ্টভৃতি মহাযজ্ঞের বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। আমাদেরও তাই করতে হবে, বাস্তবে।
ইষ্টের অবর্তমানে, ইষ্টাদর্শের পরমরাষ্ট্রিক সমবায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীক্ষা, শিক্ষা, বিবাহ, কৃষি ও শিল্পের বাস্তবায়ন করতে নিবেদিত-প্রাণ যিনি, তিনিই ইষ্টার্ঘ্য গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তি।
এ বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট নিদেশ---‘‘আগত যিনি, উপস্থিত যিনি, তাঁর বিগতিতে বা তিরোভাবে তাঁর বংশে যদি তাঁতে অচ্যুত সশ্রদ্ধ আনতিসম্পন্ন, প্রবুদ্ধ সেবাপ্রাণ, তৎবিধি ও নীতির সুষ্ঠু পরিচারক ও পরিপালক, সানুকম্পী চর্য্যানিরত, সমন্বয়ী সামঞ্জস্য প্রধান, পদনির্লোভ, অদ্রোহী, শিষ্ট-নিয়ন্ত্রক, প্রীতিপ্রাণ---এমনতর কেউ থাকেন, তাঁরই অনুগমন করো---কিংবা তাও যদি না পাও---তবে তাঁর কৃষ্টি সন্ততির ভিতর অমনতর গুণসম্পন্ন যিনি তাঁরই অনুগমন করো পারম্পর্য্যে---যতক্ষণ আবার আগতের অভ্যুত্থান না হয়, ঠকবে না---শিষ্ট সমন্বয়ে সম্বর্দ্ধনাও পাবে।’’ (সম্বিতী, আদর্শ, ৩৯)
উক্ত বাণীর সরলার্থ,---যিনি অর্থ-মান-যশ ইত্যাদির নাগপাশ থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিজের চরিত্রে ঠাকুরত্বকে জাগ্রত করেছেন, তাঁকে কেন্দ্র করে চলতে হবে, তাঁকেই ইষ্টার্ঘ্য দিতে হবে। অন্যথায় বিপাক-গঞ্জনাকে মেনে নিতে হবে।
ওই বাণীর মর্মার্থ অনুযায়ী ১. ইষ্ট পরিবারের সব সদস্যরা মিলে যাঁকে উপযুক্ত নির্বাচন করবেন তাঁকে কেন্দ্র করে চলতে হবে। ২. ইষ্ট পরিবারের সদস্যরা যদি অমনতর কাউকে নির্বাচিত না করতে পারেন তাহলে কৃষ্টিসন্তানদের মধ্য থেকে নির্বাচিত করতে হবে এবং তাঁর অনুগমন করে চলতে হবে।
এ বিষয়ে ভক্তজনেদের মূল্যবান মতামত প্রার্থনা করছি। জয়গুরু, সবাই ভালো থাকবেন, ইষ্টাদর্শ ভরণ করে।

** শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দীক্ষানুচলন **।। সিদ্ধ নয় মন্ত্র দেয়/মরে, মারে করেই ক্ষয় ।।**************************আমা...
22/03/2026

** শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দীক্ষানুচলন **
।। সিদ্ধ নয় মন্ত্র দেয়/মরে, মারে করেই ক্ষয় ।।
**************************
আমাদের আর্য্যকৃষ্টি অনুযায়ী যজন, যাজন, অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও দান আর্য্য হিন্দুদের সর্ববর্ণের স্বাভাবিক ধর্ম বা নিত্যকর্ম। বিপ্রবর্গের জন্য প্রতিগ্রহ বিশেষ ধর্ম। বর্তমান পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আর্য্য হিন্দুদের বিশুদ্ধ নিত্যকর্ম বা পালনীয় পূজা বা ধর্মের, যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি, স্বস্ত্যয়ণী ও সদাচার নামের পঞ্চনীতিতে সর্বজনীন নবীকরণ করলেন।
এবং আর্য্যকৃষ্টির ষটকর্মের বাস্তব অনুচলন প্রসঙ্গে বললেন,---
"যজন, যাজন, অধ্যয়ন, অধ্যাপনা, দান, প্রতিগ্রহ-
এই ষট্ কর্ম
তোমার স্বভাবে যেন পূত হয়ে বসবাস করে---
যজন মানে নিজে অভ্যাস করা,
যাজন মানে
অন্যকে অভ্যাস করতে উদ্বুদ্ধ করে তোলা,
অধ্যয়ন মানে আয়ত্ত করার পথে চলা
অধ্যাপনা মানে মানুষ যাতে আয়ত্ত করতে পারে,
তাতে তা'দিকে প্রবুদ্ধ ও ক্রিয়াশীল করে তোলা
দান মানে সদুপায়ে যেমন করে পার
লোকের বেদনাপ্রদ না হয়ে
মানুষের জীবনীয় পূরণ-পোষণী যা কিছু
তা দিতে প্রস্তুত থাকা---
নিজের অস্তিত্বকে সলীল-সম্বেগী রেখে,
প্রতিগ্রহ মানে---
মানুষ শ্রদ্ধাবনত অন্তঃকরণে যা তোমাকে দেয়
প্রসন্নচিত্তে তা গ্রহণ করা।"
(আর্য্য প্রাতিমোক্ষ ১১)
এই বাণীর মধ্যে কোথাও কি অধমাধম বাহ্যপূজায় পৌরহিত্য করার কথা বলা হয়েছে? যিনি আচরণ দ্বারা জানান, তিনি যদি আচার্য্য হন, সেই আচার্য্যরূপী শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র কি কখনো আচরণ দ্বারা বাহ্যপূজা অনুষ্ঠিত করেছেন, না করার নিদেশ দিয়েছেন ? যদি দিয়ে থাকেন, কোন্ শ্রুতিবাণীতে দিয়েছেন কোন ভক্তজন জানালে বাধিত হবো।

আমার জানা মতে, শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আদর্শের আবশ্যিক পালনীয় প্রাথমিক বিষয়সমূহ বা পূজার অর্ঘ্য বা পূজার উপাচার--- অভক্ষ্যভোজী হওয়া যাবে না। অর্থাৎ মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুনাদি তামসিক আহার করা যাবে না। যারা করেন, আর্য্য হিন্দুমতে তাদের অভক্ষ্যভোজী বলা হয়েছে। অগম্যাগামী হওয়া যাবে না। অর্থাৎ যারা প্রতিলোম, সগোত্র এবং সপিণ্ড সম্বন্ধীয়দের সাথে অবিধি পূর্বক ধর্মবিরুদ্ধ বিবাহের মাধ্যমে কামাচার করে, হিন্দুমতে তাদের অগম্যাগামী বলা হয়েছে। এরা কদাচারী, এদের প্রদত্ত আহার ও পানীয় অশুদ্ধ। (দ্রঃ সম্বিতী)
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের শিষ্য হতে হলে, তাঁর পূজার অধিকারী হতে হলে,---
"ঊষানিশায় মন্ত্রসাধন
চলাফেরায় জপ
যথাসময়ে ইষ্ট নিদেশ
মূর্ত্ত করাই তপ।"-এর অনুশাসন মেনে চলতে হবে।
এই প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন---ঊষানিশায় মন্ত্রসাধন চলাফেরায় জপ, যথাসময় ইষ্টনিদেশ মূর্ত করাই তপ। এই এতটুকু যদি অভ্যাসের মধ্যে আসে, তাতেই অনেকখানি হয়। ভূত, ভবিষ্যৎ, বর্তমান কিছুই বিশ্বমনের অগোচর নয়। ইষ্টের সঙ্গে যার চলা, বলা, ভাবার tuning (সমতানতা) হয়, তার মনের উপর বিশ্বমনের আলো অল্পবিস্তর প্রতিফলিত হয়। আর, সেই আলোর ঝলকে সে অনেক-কিছু দেখতে পায়। তাছাড়া, পশ্চাদপসারিণী চিন্তা করতে-করতে পূর্বের অনেক জিনিস প্রতিভাত হয়।
(আঃ প্রঃ একাদশ খণ্ড, পৃঃ ৯৩)

আর চলাফেরায়, কাজকর্মের সময়েও অহর্নিশ নাম জপ করতে হবে। এই হচ্ছে এই যুগের জন্য সহজ সাধনার পদ্ধতি।
দীক্ষিত জীবনকে সার্থক করতে হলে ঊষা-নিশায় কমপক্ষে ৪৫ মিনিট করে মন্ত্রসাধন করতে হবে। তবে পরিতাপের বিষয়, উৎসব অঙ্গনগুলোতে ওই মন্ত্রসাধন অভ্যাসের অনুশীলন উপেক্ষিত হয়। ব্রাহ্মমুহূর্ত শ্রীশ্রীঠাকুর নিদেশিত অনাহত নাদ-সাধন বা মন্ত্র সাধনের নির্ধারিত সময় হওয়া সত্বেও ঊষা-মাঙ্গলিকী নামের উচ্চগ্রামের শব্দের
আহত নাদে ব্যাহত হয় শ্রীশ্রীঠাকুর নিদেশিত দৈনন্দিন সাধনার প্রধান পর্ব।
ব্রাহ্ম মুহূর্তে মন্ত্র সাধনের পর
আহ্বানীসহ সন্ধ্যা ও প্রার্থনা করতে হবে।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের 'চলার সাথী' গ্রন্থের ৯৯ সংখ্যক বাণীতে বলা আছে---
"সন্ধ্যা ও প্রার্থনা হইতে বিরত হইও না,
আর, ইহা ভাবমধুর করিয়া বোধের সহিত আকুল সম্বেগে যতই করিতে পার,
ততই তোমার মনকে উদ্দীপ্ত ও পবিত্র করিয়া,
স্বাস্থ্য ও চরিত্রকে উন্নত করিয়া তুলিবে;---
ফলে সেবা, ঐশ্বর্য্য---
ব্যবহার ও কর্ম্মপটুতায়
অনুষিক্ত হইয়া তোমাকে অভিনন্দিত
করিবে---সন্দেহ নাই।''
(এই বাণীতে বিনতীর কথা উল্লেখ নেই, অথচ আমরা প্রার্থনার নামে অন্য সংগঠনের বিনতি করে চলেছি। যা পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আদর্শের পরিপন্থী!)
আমাদের সন্ধ্যামন্ত্র (দ্রঃ 'প্রার্থনা' নামাঙ্কিত পুস্তক, সৎসঙ্গ পাবলিশিং হাউস, দেওঘর।) যা' আছে গায়ত্রী, প্রাণায়াম বাদ দিয়ে---সেগুলি congregational (সমবেত) প্রার্থনা-হিসাবে চলতে পারে। ভাবের প্রতি নজর রেখে অর্থবোধ নিয়ে ঐগুলি পাঠ বা আবৃত্তিতে এবং একটা পাঠের পর চোখ বুজে একটু চিন্তায়, মন---এমন-কি শরীর পর্য্যন্ত কেমনতর হ'য়ে ওঠে, কিছুদিন একটু করলেই হাতে-হাতে বোধ করতে পারা যায়। ভাবের সহিত ঐ শব্দগুলি উচ্চারণে এতই তীব্রতা ও enlightenment এনে দেয় যা'তে নাকি পারিপার্শ্বিক-সহ সমস্ত জীবনটাই কেমনতর জীবনে মুহূর্তে যেন উদ্বুদ্ধ হ'য়ে ওঠে। গায়ত্রী ও প্রাণায়াম বাদ এই জন্য বললাম---ইহা জপ চিন্তার সহিত meditation-এর জন্য, তাই উহা নিরিবিলি হ'য়ে করতে পারলেই ভাল। (নানা প্রসঙ্গে ৩য় খণ্ড, প্রার্থনা)
নানা প্রসঙ্গে গ্রন্থ পাবনায় প্রকাশিত হয়েছিল। প্রার্থনার ক্রম-এর অজুহাতে ওই নিদেশ আমরা উপেক্ষা করে চলেছি। যিনি পাবনাতে সর্বজনীন সমবেত বিধান দিয়েছেন, সেই তিনি কি দেওঘরে এসে সেই বিধান পরিবর্তন করতে পারেন? যিনি সত্যানুসরণে বলেছেন, " ইতর জন্তুরাও আজ যা' বোঝে, কাল তা' ভোলে না......"---!---- আর একটা বিষয়, পুরুষোত্তম হলেন বিশ্ব শিক্ষক। তিনি বিধান প্রণেতা যদি হয়েই থাকেন, সেই তিনি, অন্য কোন সাধকের রচিত উপাসনা পদ্ধতি নিজের শিষ্যদের মধ্যে প্রচলন করবেন? অথচ, আমরা তাই করে চলেছি, তাঁর রচিত সন্ধ্যা ও প্রার্থনা মন্ত্র পরিহার করে আগ্রা সৎসঙ্গের বিনতীকে নিত্য উপাসনায় স্থান দিয়েছি!
‌‌ * * *
তারপর নিয়ম মেনে ইষ্টভৃতি (দিন গুজরানি আয়ের মাধ্যমে ইষ্টনীতির ভরণ) করতে হয়। নিয়ম করে কমপক্ষে ৩ বার শবাসন (অধিবেশন বা উৎসবে যার অনুশীলন উপেক্ষিত।) প্রভৃতির নিত্য-সাধন করতে হবে। সত্তাপোষণী নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে হবে। শারিরীক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক ভাবে সদাচারী হতে হবে। বর্ণাশ্রম ধর্ম মেনে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। কারো বৃত্তিহরণ করা চলবে না। ‘পঞ্চবর্হিঃ’ এবং ‘সপ্তার্চ্চিঃ’-র বিধান মেনে চলতে হবে, সকলকেই।---তাহলেই সে একজন আর্য্যহিন্দু রূপে পরিগণিত হবেন। ওই নিয়মাবলী, ওই বিধিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমের নাম দীক্ষা গ্রহণ করা।
যাঁরা এস. পি. আর., পি. আর. উপাধির বলে দীক্ষা সঞ্চারণা করেন, তাঁরা যজমানদের দিয়ে ‘‘এই দীক্ষা গ্রহণ করিয়া আমি সর্বান্তকরণে শপথ করিতেছি যে---মানুষের জীবন ও বৃদ্ধির পরম উদ্ধাতা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে প্রতিষ্ঠা করাই এইক্ষণ হইতেই আমার জীবনের যজ্ঞ হউক। ......’’ ইত্যাদি উচ্চারণ করিয়ে সংকল্প-শপথ গ্রহণ করান। এবং দীক্ষাপত্রের ২টি স্তবকে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এর উদ্দেশ্য যজমান যা’তে শ্রীশ্রীঠাকুরের আদর্শ মেনে চলে তারজন্য একেবারে পাকাপোক্ত ব্যবস্থা। যে ব্যবস্থাপত্র স্বয়ং শ্রীশ্রীঠাকুর প্রদত্ত। দীক্ষাদাতার কর্তব্য, দীক্ষা গ্রহিতাকে শ্রীশ্রীঠাকুরের উপরোক্ত আদর্শের বিষয়ে সম্যকভাবে অবগত করিয়ে দীক্ষা দান করা। তা’ না করিয়ে দীক্ষাদাতা যদি তড়িঘড়ি করে যেনতেন প্রকারেণ মন্ত্র দিয়ে সই-সাবুদ করিয়ে নেয়, তাহলেই মুশকিল। কপটাচার এবং দ্বন্দ্বীবৃত্তি দোষে দুষ্ট হতে হবে। সেই প্রবহমানতা চলছে। যারফলে বেশিরভাগ দীক্ষিতগণ মনে করেন, সকালবেলা উঠে ঠাকুরের নামে পয়সা রাখলে, শুক্রবার নিরামিষ খেলে, মন্দিরে গিয়ে (যদিও শ্রীশ্রীঠাকুর তথাকথিত মন্দির নির্মাণের কথা বলেন নি, অধিবেশন কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলেছেন। শরীরটাকে পবিত্র রাখতে হবে শ্রীবিগ্রহ মন্দির মনে করে।)
আমরা, বেশিরভাগ দীক্ষিতগণ মনে করি, কিছু ফল, ফুল, মিষ্টি, ধূপহীন ধূপকাঠি, মোমবাতি, কিছু দক্ষিণা পূজারী মহাশয়ের হাতে দিয়ে, কিছুক্ষণ চোখ বুজে বসে ঠাকুরের কাছে সব সমস্যার সমাধানের আর্জি জানিয়ে তথাকথিত প্রসাদ খেলে শ্রীশ্রীঠাকুরের শিষ্যত্বকে বজায় রাখা যায়!
অথচ, সত্যানুসরণ গ্রন্থের প্রথমেই তিনি অর্থ, মান ও যশ বিষয়ে সাবধান বাণী দিয়ে রেখেছেন। আমার মধ্যে যদি তাঁর আদর্শের প্রকাশ না হয়, অর্থাৎ ঠাকুরত্ব না জাগাতে পারি, তাহলে তিনি আমার ঠাকুর নন। সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন। সেই হিসেবে বিচার করে দেখলে দেখা যাবে, তাঁর আদর্শ মেনে চলেন যাঁরা, যজনসিদ্ধ যাঁরা, একমাত্র তাঁদেরই অধিকার রয়েছে, যাজন করার, প্রচার করার। অথচ, আমরা এসব মূল বিষয়টিকে উপেক্ষা করে, অনেক কিছুতে, যথা, সত্তাপোষণী নিরামিষ আহার, সদাচার, বর্ণাশ্রম, বিবাহ নীতি, ঠাকুরের বলা পরিচ্ছদ ..... ইত্যাদি নিয়মকে শিথিল করে, ছাড় দি‌য়ে, নিয়মের শিথিল করে দীক্ষা দান ও অধিবেশন করে চলেছি। এ বিষয়ে সকলকে সচেতন হবে, নচেৎ দ্বন্দ্বীবৃত্তি দোষে দুষ্ট হতে হবে।
সবাইকে জয়গুরু ও প্রণাম। বন্দে পুরুষোত্তমম্!

22/03/2026

জেনে রেখো--
বিচারের দিন যখনই আসুক না কেন,
অন্যের প্রতি তোমার প্রত্যেকটি
অসাবধান বাক্যের
জবাবদিহি ক’রতে হবে,
তোমার বাক্যই তোমাকে
বিমোচিত বা বিমর্দ্দিত ক’রবে । ৩৮ ।
( সদ্ বিধায়না, ২য় খণ্ড, ব্যবহার)

22/03/2026

কর্ম অনুযায়ী গুণ হয়
গুণ থেকে জ্ঞান।
তাই শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বলেছেন ঃ
অনুভূতির দ্বারা
যা' জানা যায়
তাই জ্ঞান।

22/03/2026

"where varieties arrive with a meaning at unity =University.
"Education is the knowledge of how to use the whole of oneself. Many men use but one or two faculties out of the score with which they are endowed. A man is educated who knows how to make a tool of every faculty--how to open it, how to keep it sharp and how to apply it to all practical purposes."
--H. W. Beecher

(Nana-Prasange, 2nd part, pages 145-146)

।। অবতার-বরিষ্ঠ পুরুষোত্তম চৈতন্যদেবের সমন্বয়ী ধর্মীয় আন্দোলন ।। পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেব অসি নয়, তীর-ধনুক-বল্লম লা...
22/03/2026

।। অবতার-বরিষ্ঠ পুরুষোত্তম চৈতন্যদেবের সমন্বয়ী ধর্মীয় আন্দোলন ।।
পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেব অসি নয়, তীর-ধনুক-বল্লম লাঠি দিয়েও নয়—খোল, করতালাদি বাদ্যযন্ত্রের অনুষঙ্গে ‘হরেরাম হরেকৃষ্ণ’ নামকীর্তনের মাধ্যমে এক ধর্মীয় প্লাবন সৃষ্টি করেছিলেন। ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ অতিক্রম করে, পুরুষার্থের পঞ্চম-বর্গ প্রেমের সাহায্যে সাম্প্রদায়িক কায়েমী-স্বার্থীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ভাগবত আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ভাগবত ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্ণাশ্রমানুগ সামাজিক বিন্যাসকে সমৃদ্ধ করতে সর্ববর্ণে হরিনাম প্রচার করে বাহ্য জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। কিছু স্বার্থান্বেষী স্মার্ত্ত-পণ্ডিতদের অভিসন্ধিমূলক অভিযোগের ভিত্তিতে তৎকালিন শাসক চাঁদকাজী হরিনাম সঙ্কীর্তনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। শ্রীবাস অঙ্গনের কীর্তনের আসরে গিয়ে বৈষ্ণবদের ওপর অত্যাচার করে, শ্রীখোল ভেঙ্গে দেয়। শান্ত মহাপ্রভু ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে কোন বিরোধ না করেই দুর্বার নিরোধ করেছিলেন। ১৪টি কীর্তনদল সংগঠিত করে উদ্দাম কীর্তন করতে করতে চাঁদকাজির বাড়িতে যান। চাঁদকাজী ভয় পেয়ে গেলে মহাপ্রভু তাকে আশ্বস্ত করতে কৃষ্ণপ্রেমের কথা বলেন। হরিনাম-সংকীর্তনের উপযোগিতা বিষয়ে বিস্তৃত ব্যাখ্যা করেন। তার পরে আপনকরা ভাব নিয়ে বলেন, তুমি আমার মামার গ্রামের লোক হবার সুবাদে তুমি আমার মামা হও, মামা হয়ে ভাগ্নের প্রতি এমন কঠোর হয়ো না। কীর্তন বন্ধ করার আদেশ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমরা তোমার বাড়ী ছেড়ে যাচ্ছি না। ধর্ম প্রতিষ্ঠার কর্তব্যে অটল মহাপ্রভুর কীর্তন আন্দোলনের কাছে আনুগত্য স্বীকার করতে বাধ্য হয় চাঁদকাজি। তিনিও মহাপ্রভুর সাথে গলা মিলিয়ে হরিনাম সঙ্কীর্তন করেন। সবাইকে হরিনাম সঙ্কীর্তন করতে আদেশ জারী করেন।
চৈতন্য আজ্ঞায় স্থির হইল কীর্তন
কহে আপনার তত্ত্ব করিয়া গর্জন।
কলিযুগে মুঞি কৃষ্ণ নারায়ন
মুঞি সেই ভগবান দেবকীনন্দন।।
অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড কোটি মাঝে মুই নাথ
যত গাও সেই মুঞি তোরা মোর দাস।।’’
(শ্রীচৈতন্য ভাগবত পৃষ্ঠা ১৪৬, মধ্যখণ্ড ৮ম অধ্যায়।)
* * *

।। গৌড়েশ্বর নবাবের দৌহিত্র চাঁদকাজী কে ভগবান শ্রীমন্ মহাপ্রভুর কৃপা ।।

প্রভু কহে প্রশ্ন লাগি এনু তব স্থানে।
কাজী কহে আজ্ঞা কর যে তোমার মনে।।
(শ্রীমন্ মহাপ্রভু বললেন, মামা! আমি আপনাকে কয়েকটি প্রশ্ন করার জন্য আপনার বাড়িতে এসেছি।
তার উত্তরে চাঁদকাজী বললেন–-হ্যাঁ, তোমার মনে কি প্রশ্ন আছে তা তুমি বল।)

প্রভু কহে দুগ্ধ খাও গাভী তোমা মাতা।
বৃষ অন্ন উপজায় তাতে তেঁহো পিতা।।
(শ্রীমন্ মহাপ্রভু বললেন–--আপনি গরুর দুধ খান; সেই সূত্রে গাভী হচ্ছে আপনার মাতা। আর বৃষ অন্ন উৎপাদন করে, যা খেয়ে আপনি জীবন ধারন করেন; সেই সূত্রে সে আপনার পিতা।)

পিতা মাতা মারি খাও এবা কোন্ ধর্ম্ম।
কোন্ বলে কর তুমি এমত বিকর্ম।।
(যেহেতু বৃষ ও গাভী আপনার পিতা ও মাতা, তা হলে তাদের হত্যা করে তাদের মাংস খান কি করে ? এটি কোন্ ধর্ম ? কার বলে আপনি এই পাপকর্ম করছেন ?)

কাজী কহে তোমার যৈছে বেদ পুরাণ।
তৈছে আমার শাস্ত্র কেতাব কোরাণ।।
(কাজী উত্তর দিলেন, তোমার যেমন বেদ, পুরাণ আদি শাস্ত্র রয়েছে, তেমনই আমাদের শাস্ত্র হচ্ছে কোরান।)

সেই শাস্ত্রে কহে প্রবৃত্তি নিবৃত্তি মার্গ ভেদ।
নিবৃত্তি মার্গে জীব মাত্র বধের নিষেধ।।
(কোরান অনুসারে উন্নতি সাধনের দুটি পথ রয়েছে–--প্রবৃত্তিমার্গ ও নিবৃত্তিমার্গ। নিবৃত্তিমার্গে জীবহত্যা নিষিদ্ধ।)

প্রবৃত্তি মার্গে গোবধ করিতে বিধি হয়।
শাস্ত্রাজ্ঞায় বধ কৈলে নাহি পাপ ভয়।।
(প্রবৃত্তিমার্গে গোবধ অনুমোদন করা হয়েছে। শাস্ত্রের নির্দেশ অনুসারে যদি বধ করা হয়, তাহলে কোন পাপ হয় না।)

তোমার বেদেতে আছে গোবধের বাণী।
অতএব গোবধ করে বড় বড় মুনি।।
(চাঁদকাজী শ্রীমন্ মহাপ্রভু বললেন-–তোমার বৈদিক শাস্ত্রে গোবধের নির্দেশ রয়েছে। সেই শাস্ত্র-নির্দেশের বলে বড় বড় মুনিরা গোমেধ-যজ্ঞ করেছিলেন।)

প্রভু কহে বেদে কহে গোবধ নিষেধ।
অতএব হিন্দু মাত্র না করে গোবধ।।
(চাঁদকাজীর উক্তি খণ্ডন করে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তৎক্ষণাৎ উত্তর দিলেন-–বেদে স্পষ্টভাবে গোবধ নিষেধ করা হয়েছে। তাই যে কোন হিন্দু, তা তিনি যেই হোন না কেন, কখনোও গোবধ করেন না।)

জীয়াইতে পারে যদি তবে মারে প্রাণী।
বেদ পুরাণে আছে হেন আজ্ঞাবাণী।।
(বেদ ও পুরাণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কেউ যদি কোন প্রাণীকে নবজীবন দান করতে পারে, তাহলে গবেষণার উদ্দ্যেশ্যে সে প্রাণী মারতে পারে।)

অতএব জরদগব মারে মুনিগণ।
বেদমন্ত্রে সিদ্ধ করে তাহার জীবন।।
(তাই মুনি-ঋষিরা অতি বৃদ্ধ জরদগব (জরাগ্রস্ত বা বৃদ্ধ) পশুদের কখনও কখনও মেরে, বৈদিক মন্ত্রের সাহায্যে তাদের নবজীবন দান করতেন।)

জরদগব হঞা যুবা হয় আরবার।
তাতে তার বধ নহে হয় উপকার।।
(এই ধরনের জরদগব (জরাগ্রস্ত বা বৃদ্ধ) পশুদের যখন এভাবেই নবজীবন দান করা হত, তাতে তাদের বধ করা হত না, পক্ষান্তরে তাদের মহা উপকার সাধন করা হত।)

কলিকালে তৈছে শক্তি নাহিক ব্রাহ্মণে।
অতএব গোবধ কেহো না করে এইক্ষণে।।
(পূর্বে মহা শক্তিশালী ব্রাহ্মণেরা বৈদিক মন্ত্রের সাহায্য এই ধরনের কার্য্য সাধন করতে পারতেন, কিন্তু এখন এই কলিযুগে সেই রকম শক্তিশালি কোন ব্রাহ্মণই নেই। তাই গাভী ও বৃষদের নবজীবন দান করার যে গোমেধ-যজ্ঞ, তা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।)

তোমরা জীয়াইতে নার বধ মাত্র সার।
নরক হৈতে তোমার নাহিক নিস্তার।।
(তোমরা মুসলমানেরা পশুকে নবজীবন দান করতে পার না, তোমরা কেবল হত্যা করতেই পার। তাই তোমরা নরকগামী হচ্ছ; সেখান থেকে তোমরা কোনভাবেই নিস্তার পাবে না।)

গো অঙ্গে লোম যত তত সহস্র বৎসর।
গোবধী রৌরব মধ্যে পচে নিরন্তর।।
(গরুর শরীরে যত লোম আছে তত হাজার বছর গোহত্যাকারী রৌরব নামক নরকে অকল্পনীয় দুঃখ-যন্ত্রণা ভোগ করে।)

তোমা সবা শাস্ত্রকর্ত্তা সেহো ভ্রান্ত হৈল।
না জানি শাস্ত্রের মর্ম্ম ঐছে আজ্ঞা দিল।।
(তোমাদের শাস্ত্রে বহু ভুলভ্রান্তি রয়েছে। শাস্ত্রের মর্ম না জেনে, সে সমস্ত শাস্ত্রর প্রণয়নকারীরা এমন ধরনের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে যুক্তি বা বুদ্ধির দ্বারা বিচারের কোন ভিত্তি নেই এবং প্রমাণও নেই।)

শুনি স্তব্ধ হৈল কাজী না স্ফুরে বাণী।
বিচারিয়া কহে কাজী পরাভব মানি।।
(শ্রীমন্ মহাপ্রভুর এই কথা শুনে কাজীর সমস্ত যুক্তি স্তব্ধ হল, তিনি আর কিছু বলতে পারলেনা। এভাবেই পরাজয় স্বীকার করে কাজী বিচারপূর্বক বললেন।---)

তুমি যে কহিলে পণ্ডিত সেই সত্য হয়।
অধুনা মোর শাস্ত্র, বিচারসহ নয়।।
(নিমাই পণ্ডিত! তুমি যা বললে তা সবই সত্য। আমাদের শাস্ত্র আধুনিক এবং তাই তার নির্দেশগুলি দার্শনিক বিচার বা যুক্তিসঙ্গত নয়।)

কল্পিত আমার শাস্ত্র আমি সব জানি।
জাতি অনুরোধে তবু সেই শাস্ত্র মানি।।
(আমি জানি যে, আমাদের শাস্ত্র বহু ভ্রান্ত্র ধারনা ও কল্পনায় পূর্ণ, তবুও যেহেতু আমি মুসলমান, তাই সম্প্রদায়ের খাতিরে আমি সেগুলি স্বীকার করি।)
(সূত্রঃ শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, আদিলীলা, সপ্তদশ পরিচ্ছেদ।)
----------------------------------------
নিবেদনে---
তপন দাস@tapandasd

** অনুশ্রুতি৪র্থ খণ্ড থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী **।। প্রবৃত্তি ।।অজ্ঞতার ক্ষুব্ধ অহঙ্কারে বিজ্ঞ অছিলায...
22/03/2026

** অনুশ্রুতি৪র্থ খণ্ড থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী **

।। প্রবৃত্তি ।।

অজ্ঞতার ক্ষুব্ধ অহঙ্কারে

বিজ্ঞ অছিলায়

ধূলিসাৎ করে যবে মহর্ষিগণেরে,

বিধাতার বিকট অবজ্ঞা

আনে ক্রমে বজ্র-নিপীড়ন,

যা’র ফলে জনগণ হাহাকারে,

মর্ম্মান্তিক ক্রন্দনের অশ্রুরাশি দিয়ে

সিক্ত করে ধরণীরে—

অন্তর-কন্দরে । ৬০।

কর্মী চিন্তন শিবির / শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ অধিবেশন বেন্দ্র, দুর্গানগর, মানিকপুর শাখার উদ্যোগে ১ম পর্বে অনুষ্...
22/03/2026

কর্মী চিন্তন শিবির / শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ অধিবেশন বেন্দ্র, দুর্গানগর, মানিকপুর শাখার উদ্যোগে ১ম পর্বে অনুষ্ঠান ।

Address

Uday Narayan Pur
Howrah
711226

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Satsang India posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share