10/08/2024
যে ভিত্তির উপর দাঁড়াতে হবে
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
কথাপ্রসঙ্গে শ্রীরোহিণী চৌধুরী জিজ্ঞাসা করলেন—আমরা কোন্ ভিত্তির উপর দাঁড়াব?
শ্রীশ্রীঠাকুর—মানুষের দাঁড়াবার ভিত্তিই হ'ল ধৰ্ম্ম। সপরিবেশ যা' নিজ অস্তিত্বকে ধ'রে রাখে, তাই ধৰ্ম্ম। এই নীতিগুলি যাঁর জীবনে মূর্ত্ত তিনি হলেন আদর্শ। তাঁকে নিষ্ঠাসহকারে অনুসরণ করার ভিতর দিয়ে ধৰ্ম্ম পালন বাস্তব হ'য়ে ওঠে। তিনি হিন্দুকে প্রকৃত হিন্দু ক'রে তোলেন, মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রীষ্ঠানকে প্রকৃত মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রীষ্টান ক'রে তোলেন। পূর্ব্বতন প্রত্যেক মহাপুরুষের প্রতি তিনি আমাদের শ্রদ্ধা সন্দীপিত ক'রে তোলেন। তিনি দেখিয়ে দেন যে ধৰ্ম্ম কখনও এক ছাড়া দুই হয় না এবং সব মহাপুরুষেরই মূলনীতি এক। রকমফের যা' দেখা যায়, তা' শুধু দেশ-কাল-পাত্রের difference ও distinctiveness (বিভিন্নতা ও বিশিষ্টতা) অনুযায়ী। মানুষ ধর্মপরায়ণ হ'লেই ভালবাসাপরায়ণ হয়, সেবাপরায়ণ হয়। আর, তা' হ'লেই সে স্বতঃই অপরের সত্তাবান্ধব হ'য়ে ওঠে। যত বেশী মানুষ এইরকম হয় ততই দেশের মঙ্গল। আতিথেয়তা, আশ্রিতবৎসলতা হিন্দুদের স্বভাবগত। তাদের মধ্যে এখন এই sentiment (ভাবানুকম্পিতা) ভাল ক'রে গজিয়ে দিতে হয় যাতে তারা হিন্দুমাত্রকেই বাঁচাবার জন্য বদ্ধপরিকর হয়—তা' যে যে-প্রদেশেরই হোক না কেন। এতে কোন জায়গায় তার অস্তিত্ব বিপন্ন হ'লে অন্যত্র তার আশ্রয় ঠিক থাকবে। সে বুঝবে তার ঘর সর্ব্বত্র, তার আত্মীয়বান্ধব সর্ব্বত্র। এর ফলে প্রত্যেকের বুকের বল কতখানি বেড়ে যাবে ভেবে দেখেছেন? আর, শুধু হিন্দুদের মধ্যেই এই inter-interestedness (পারস্পরিক স্বার্থ-সম্বদ্ধতা) আনলে চলবে না, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান, পারশী, শিখ, জৈন সবাই যাতে সবার আপন হয় বাস্তবে, তাই ক'রে তুলতে হবে। প্রকৃত ধৰ্ম্মপ্রাণতা জাগলে এটা আপ্সে আপ হ'তে থাকবে। সৎসঙ্গে পরমপিতার দয়ায় যা' হ'য়ে উঠেছে, সর্ব্বত্র তা' চারিয়ে দেওয়া লাগবে। এখানে কত জায়গার, কত সম্প্রদায়ের মানুষ আছে। কিন্তু কেউ কাউকে পর মনে করে না, একের বিপদে আর একজন ঝাঁপ দিয়ে গিয়ে পড়ে। সকলে মিলে যেন একটা পরিবার।
-শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
আলোচনা প্রসঙ্গে, ১২/৫.৬.১৯৪৮
---------------------------------------------------------------
#দেশকাল_প্রসঙ্গে #সাত্বত_কথা #সৎসঙ্গ #ধর্ম