24/12/2025
#কিছুক্ষণ থেমে শ্রীশ্রীদাদা পুনরায় বললেন, ঠাকুরই সবার ব্যবস্থা করে রাখেন। বিপদে যখন পড়ি তখন একটা অদৃশ্য হস্ত আমার উপকার করে যায়। আচমকা পড়ে গিয়ে কাঁধের হাড় ভাঙলাম। ইন্ডিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড়ো ডাক্তার বললেন ,আমি গিয়ে হাড় সেট করবো। নিজে যাব, আলাপ ছিল না। তার সঙ্গে একদিন আধঘন্টার মতো কথা বলেছিলাম। তিনি সেট করে দিয়ে চলে গেলেন। সুস্থ হলাম, এতো ঠাকুরের দয়া। কত লোক ব্যাথায় আক্রান্ত হয়। তার কাছে চলে যায়। সবাইকে ভালো করে দেন। চারিদিকে চিকিৎসক ছড়ানো। ঠাকুরের মানুষ বলে আমাদের বিশেষ যত্নের সঙ্গে দেখেন। আমি কি করছি ? ঠাকুর করেছেন।
★এবার আগামী উৎসব ও দেওঘরে সমাবেশ বিষয়ে শ্রীশ্রীদাদা বললেন ,দেওঘরে আবার যখন উৎসব হবে আরো অনেক লোক চলে আসবেন ,
শ্রীশ্রীদাদার অনন্যসাধারণ সহজ-সরল উৎসারিত এই উক্তিতে কর্মীদের মধ্যে হাসির উদ্রেক করলো।
শ্রীশ্রীদাদা আবার বললেন ,এখানে ঠাকুরের শতবার্ষিকী উৎসবের সময় ভীষণ Weather (আবহাওয়া )খারাপ ছিল। কর্তাব্যক্তিরা বাবার কাছে এসে বলেছে ,কোনো উপায় নেই ,রাস্তাঘাট খারাপ হয়ে গেছে চতুর্দিকে ,উৎসব পিছিয়ে দিতে হবে। বাবা তো কোনো কিছুতেই পিছোনো পছন্দ করেন না ! ঝড় ,বৃষ্টি ,সাইক্লোন কোনও কিছুতে বাবা হার মানেন না। কর্তাব্যক্তিদের কথা শুনতে শুনতে বাবার মুখ গম্ভীর হয়ে যাচ্ছে। বাবা আমাকে বললেন, ওরা এসেছিলো এই বলছে। আমি বললাম ওরা বলুক, ঝড় হচ্ছে ঝড়ের মতো ,বৃষ্টি হচ্ছে বৃষ্টির মতো। ওদের বললাম ,আপনাদের কাছে কেউ থাকার জায়গা চেয়েছে ? কেউ খাবার ব্যবস্থা করতে বলেছে ? ঠাকুরের জন্যে তো আমরা কিছুই করতে পারিনা। পারি তার জন্যে হয়তো একটু কষ্ট করতে। --" ঠাকুর তুমি ছাড়া আমার গতি নেই তুমি সব অগতির গতি।" সেবার ঠাকুরের শতবার্ষিকী উৎসব বিশাল সমারোহে সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। লোকজনকে বলতে হয় ,ওখানে অনেক কষ্ট ,তবুও চলেন। চলতে চলতে চলাটা অভ্যাস হয়ে যায়। এবার মধ্যমগ্রামে নববর্ষ উৎসব হওয়ার কথা। তার আগে গৌহাটিতে উৎসব।
আমি গৌহাটির কর্তৃপক্ষের তরফে সব কর্মীদাদাদের আমন্ত্রণ জানালাম। আপনারা যাবেন ,হয়তো কষ্ট পাবেন। ওরা চেষ্টা করছে যাতে আপনাদের কষ্ট না হয়। যদি কষ্ট পান সেটাতেই তো আনন্দ। মনে করবেন ঠাকুরের জন্যে কষ্ট করে এলাম। সবাই ভালো থাকেন। সবাইকে ভালো রাখেন। সবাই সবাইকে প্রাণ খুলে জয়গুরু বলে ভালোবেসে জড়িয়ে ধরেন। কেউ যেন পর না থাকে। সবাই আপন ঠাকুর কে নিয়ে l ঠাকুরের স্বার্থে আপন। নিজে স্বার্থে আপন -তা না পারিপার্শ্বিকের সেবা করতে করতে সবাইকে ঠাকুরের চরণে নিয়ে আসেন। ভালো থাকার এই-ই পথ আর পথ নেই। একটা কথা ,আমাদের দেশে যুগে যুগে মহাপুরুষেরা এসেছেন ,পথ দেখিয়েছেন।
তাদের কথাগুলো ঋষিরা লিপিবদ্ধ করে গেছেন। কিন্তু প্রত্যেকটা মানুষের বাঁচার পথ দেখানো আমাদের পুরুষোত্তমের আগে কেউ দেখাননি।
ধ্বনি দিয়ে সম্মেলন শেষ হলো ,তখন 11:45 মিনিট (সংক্ষিপ্ত )
~পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীদাদা
"আলোচনা" [November. 2018]