02/04/2020
একজন নিয়তকর্ম্মী এসে শ্রীশ্রীঠাকুরকে বললেন---- সাংসারিক অভাব-অভিযোগের জন্য আমি কাজে মন বসাতে পারি না।সব সময়ই মন দুশ্চিন্তিতাগ্রস্ত থাকে।কী করবে বুঝতে পারি না।
শ্রীশ্রীঠাকুর -------- আমার এ-কাজ করতে গেলে অন্য কোনদিক চাওয়া চলবে না।নিদারুণ কষ্টের জন্য রাজী থাকতে হবে।তুমি সপরিবার অনাহারে আছ, তখনই হয়তো আমি তোমাকে বলব----যার প্রচুর আছে,তাকে বিলাসের উপকরণ জোগাতে। আর, তাই ক'রেই যদি তুমি সুখ পাও,ক্ষুধার জ্বালা হেলায় সহ্য করতে পার, তাহলে বোঝা যাবে,তোমার এখানে থাকার যোগ্যতা হয়েছে।মানুষ কাকে কতখানি ভালবাসে তার পরখ হ'চ্ছে, তার প্রীতি ও প্রতিষ্ঠার জন্য সে কতখানি কষ্ট সহ্য করতে পারে।
উক্ত দাদা------নিজে তো কষ্ট সহ্য করতে রাজী আছি, কিন্তু ছেলেপেলেদের কষ্ট দেখলে মন ঘাবড়ে যায়।
শ্রীশ্রীঠাকুর ------- তোর ছেলেপেলেদের জন্য যেমন তোর লাগে,আমার তার থেকে কম লাগে না,আর, এখনই আমি তার ব্যবস্থাও করতে পারি।তা'তে তুই মানুষ হবি না,আর, তুই যদি মানুষ না হোস,তোর ছেলেপেলেরাও মানুষ হবে না।চরিত্রের উপর দাঁড়াতে, সেবার উপর দাঁড়াতে যদি কিছুদিন struggle (সংগ্রাম) করা লাগে,suffer (কষ্ট) করা লাগে,তার একটা সার্থকতা আছে।তোর দেখাদেখি ছেলেপেলেরাও তখন ঐ ধাঁজ ধরবে।তুমি লাখ মানুষের অসুবিধা দূর করতে যাচ্ছ, নিজের অসুবিধা মুষড়ে গেলে কার কী করবে?অসুবিধা থাকবেই--- এই জেনেই কাজে নামা।আর, কেউ ঘাবড়ায় বলে আমি বিশ্বাস করি না।মানুষের থাকে অন্য inclination (ঝোঁক),fascination (মোহ), তার গায় যখন ঘা পড়ে,তখন আর ভাল লাগে না, fascination (মোহ) pursue (অনুসরণ) করতে মানুষ ঘাবড়ায় না।একমাত্র fascination (মোহ) ইষ্ট হ'লে কোন বালাই থাকে না।এইটেই mission (লক্ষ্য) ক'রে নেওয়া চাই।Luxury (বিলাসিতা) ক'রে রাখলে চলবে না।অন্যদিকে নজর থাকলে সেইটেই ভাল করে দেখা ভাল।তবে,যেদিকেই যাও, ইষ্টস্বার্থ প্রতিষ্ঠার দিকে নজর থাকলে, তার মধ্যেই তুমি বড় হতে পারবে।
[আলোচনা -প্রসঙ্গে,৪র্থ খন্ড]
জয়গুরু