An-Nasr

An-Nasr Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from An-Nasr, Religious Center, English Bazar.

26/06/2023
প্রশ্ন:রমজান আসতেছে,মাহে রামাযানের আগমন উপলক্ষে একজন ঈমানদারের করণীয় কার্যক্রম গুলো কি কি? কুরআন সুন্নার আলোকে জেনে নিব...
14/03/2023

প্রশ্ন:রমজান আসতেছে,মাহে রামাযানের আগমন উপলক্ষে একজন ঈমানদারের করণীয় কার্যক্রম গুলো কি কি? কুরআন সুন্নার আলোকে জেনে নিব ইনসাআল্লাহ।
▬▬▬▬▬▬▬💠💠💠▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা:ক্ষমা,রহমত ও মুক্তি এবং জান্নাত নিশ্চিত করার অন্যান্য এক বার্তা নিয়ে শ্রেষ্ঠ মাস রামাযান আমাদের নিকটে প্রায় সমাগত। প্রত্যেক মুমিনের হৃদয় এই মহা সম্মানিত মাসের অপেক্ষায় সদা উদগ্রিব থাকে। রামাযানে আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও নাজাতের জন্য আমাদের উচিত এই মাসকে যথাযথভাবে মূল্যয়ন করা ও কঠোর পরিশ্রম এবং সাধনার মাধ্যমে ইবাদতে আত্মনিয়োগ করা। এজন্য চাই বেশ কিছু কর্মভিত্তিক পূর্ব প্রস্তুতি। যা নিয়ে ইবাদতের সাধনায় আত্মনিয়োগ করলে সফলতা আসবে ইনশাআল্লাহ। আজ আমরা মাহে রামাযানের আগমন উপলক্ষে একজন ঈমানদারের করণীয় কার্যক্রম গুলো কি কি তা নিম্নে তা সংক্ষেপে উল্লেখ করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
(১) খালেস নিয়তে ইবাদতের দৃঢ় সংকল্প করা :
সর্বশ্রেষ্ঠ মানব রাসূল ﷺ ইখলাসের গুরুত্ব ও নিয়তে সততার কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি এ দু’য়ের উপর সকল আমলের ভিত্তি রেখেছেন।যেকোন কাজে সফলতার পূর্বশর্ত হ’ল সেই বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প করা। আর ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য খালেছ নিয়তের বিকল্প নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، ‘নিশ্চয়ই সকল কাজের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল’।(সহীহ বুখারী হা/১ মিশকাত হা/১)এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদীস। কেননা এতে শরী‘আতের এমন একটি মূলনীতি বিধৃত হয়েছে যার আওতায় সকল ইবাদত এসে পড়ে। কোন ইবাদতই তার থেকে বাদ যায় না। সুতরাং সালাত, সিয়াম, জিহাদ, হজ্জ, যাকাত, দান-সাদাক্বা ইত্যাদি প্রত্যেক ইবাদত সৎ নিয়ত ও ইখলাসের মুখাপেক্ষী। (বিস্তারিত জানতে ইমাম বায়হাকী, সুনানুল কুবরা ১০/২৫০ আল ইখলাস ওয়ান নিয়্যাত ৬৪; জামিউল উলূম ওয়াল হিবাম-১৩)
(২) চলমান মাস শা‘বান মাস থেকেই ইবাদতে আত্মনিয়োগ করা :
বছরের বারোটি মাসের মধ্যে সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ রামাযান মাসের আগমনবার্তা নিয়ে যে মাসটি আমাদের সামনে আবির্ভূত হয়; তা হলো শাবান মাস। যা খানিকটা ফরয সালাতের পূর্বে নফল সালাত আদায়ের ন্যায়। এ মাসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনেক বেশি সিয়াম পালন করতেন। তাই রাসূল (ﷺ)-এর উম্মত হিসেবে আমাদের জন্য এমাসে অধিক সিয়াম পালন করা মুস্তাহাব। সিয়ামের পাশাপাশি আর যতো দূর পারা যায় অন্যান্য নফল ইবাদত করার চেষ্টা করা। যেমন: কুরআন তেলাওয়াত, নফল সালাত আদায় করা, দান-সাদাক্বা ইত্যাদি।( বিস্তারিত সহীহ বুখারী হা/১৯৬৯; সহীহ মুসলিম হা/১১৫৬ সুনানে নাসাঈ হা/২১৭৫; মুসনাদে আহমাদ হা/২৬৬০৪; শারহুস সুন্নাহ হা/১৭২০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব হা/১০২৫,শামায়েলে তিরমিযি হা/২২৭)।
৩) তওবা করে গুনাহ হ’তে সম্পূর্ণরূপে ফিরে আসা :
শয়তানের ধোকায় পড়ে নিষিদ্ধ কর্মে লিপ্ত হয়ে বিভিন্ন পাপের দ্বারা মানুষের আমলনামা কালিমালিপ্ত হয়ে যায়। রামাযান আসে সে পাপ মোচনের জন্য। বিধায় পাপ হ’তে ফিরে এসে তওবার মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে ইবাদতে মনোযোগী হ’তে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খালেছ তওবা কর। আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপ সমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত।(সূরা তাহরীম ৬৬/৮)রাসূল ﷺ বলেন,হে মানবজাতি! তোমরা আল্লাহর নিকটে তওবা কর; কারণ, আমি তাঁর কাছে দিনে একশতবার তওবা করি’।(মুসলিম হা/২৭০২; মিশকাত হা/২৩২৫) অপর বর্ননায় ৭০ বার (সহীহ বুখারী হা/৬৩০৭; ইবনু মাজাহ হা/৩৮১৬; মিশকাত হা/২৩২৩।
(৪)পূর্বের কাযা সিয়াম থাকলে তা আদায় করে নেওয়া :
বিভিন্ন কারণে অনেকের সিয়াম কাযা হ’তে পারে। হয়ত নানা ব্যস্ততার কারণে যা আদায় করা হয়নি। রামাযানের পূর্বেই শা‘বান মাসের মধ্যেই তা আদায় করে নিতে হবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন,‘আমার উপর রামাযানের যে কাযা হয়ে যেত তা পরবর্তী শা‘বান ব্যতীত আমি আদায় করতে পারতাম না’।(সহীহ বুখারী হা/১৯৫০;সহীহ মুসলিম হা/১১৪৬)
(৫) রামাযানের ফযীলত সম্পর্কে অবগত হওয়া :
মহান আল্লাহর অশেষ রহমতের পসরা নিয়ে রামাযান আগমন করে। রাসূল (ﷺ) বলেন,যখন রামাযান মাস আসে, তখন রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়’(সহীহ মুসলিম হা/১০৭৯; নাসাঈ হা/২১০০) এছাড়া রামাযান অশেষ ফযীলতপূর্ণ মাস। এ মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে। এ মাসেই লায়লাতুল ক্বদর রয়েছে, যা হাজার মাসের ইবাদত অপেক্ষা উত্তম। এ মাসে বহু মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এ মাসের ছিয়াম ও ক্বিয়ামের মাধ্যমে পূর্ববর্তী গোনাহ থেকে মুক্তি লাভ হয়। সুতরাং এ মাসের এ ফযীলতের দিকগুলো অবগত হয়ে সে অনুযায়ী পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করলে রামাযানে অধিক নেক আমল করা সম্ভব হবে এবং ইবাদতের ব্যাপারে প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি হবে ইনশাআল্লাহ।
৬) রামাযান বিষয়ক অজানা মাসআলা জেনে নেওয়া :
রামাযান সম্পর্কিত অজানা নানা মাসআলা জেনে নেওয়া উচিত। যাতে রামাযানের সিয়াম ত্রুটিপূর্ণ হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। সেই সাথে অনেক বিষয় অজ্ঞাত থাকার ফলে নানা অসুবিধা ও কষ্ট থেকে বাঁচা যায়। যেমন সফরকালে সিয়াম ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ, ভুল বশত খেলে সিয়াম ভঙ্গ না হওয়া, প্রবল ঘুমের কারণে সাহারী খেতে না পারলেও সিয়াম সিদ্ধ হওয়া এবং স্বপ্নদোষের কারণে সিয়াম ভঙ্গ না হওয়া ইত্যাদি মাসআলা জানা থাকলে তাৎক্ষণিক বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন,সুতরাং তোমরা জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর যদি না জান,স্পষ্ট প্রমাণাদি ও গ্রন্থাবলীসহ(সূরা নাহল,১৬/৪৩-৪৪) রাসূল ﷺ)এর সাহাবীগণ একটি বিষয়ে একাধিক সাহাবীর কাছে জানতেন (আবুদাঊদ হা/৪৬৯৯, ৩৬৪১ প্রভৃতি; মিশকাত হা/১১৫, ২১২) এবং পরস্পরের নিকট দলীলও চাইতেন (সহীহ তিরমিযী হা/৩০০০ প্রভৃতি; মিশকাত হা/৩৫৫৪)।
(৭) নফস ও শয়তানের কু-মন্ত্রণা হ’তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখা :
মানুষের অন্তর মন্দপ্রবণ। আল্লাহ বলেন,‘নিশ্চয়ই মানুষের মন মন্দপ্রবণ’ (সহীহ ইউসুফ ১২/৫৩)। অপরদিকে শয়তান সর্বদা মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ব্যস্ত রয়েছে। আল্লাহ শয়তানের ভাষ্য উল্লেখ করে বলেন,فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِيْنَ ‘আপনার ইজ্জতের কসম! আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে বিপথগামী করব’ (সূরা সোয়াদ ৩৮/৮২)। সুতরাং ইবাদতের ক্ষেত্রে অন্তরায় হ’ল মানুষের নফসে আম্মারা ও শয়তানের কু-মন্ত্রণা। এই মাসে যদিও শয়তান শৃংখলিত থাকে তবুও ষড়রিপুর তাড়নায় মানুষ অন্যায় ও পাপ করে বসে। অনেক সময় নিজেকে ইবাদতে মশগূল রাখতে পারে না। তাই এই বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন হয়ে তা মোকাবেলা করতে হবে।
(৮).সর্বদা দ্বীনের উপর অটল থাকার দো‘আ করা :
আলী (রাঃ) বলেন,রাসূল (ﷺ) আমাকে বলেন, তুমি বল,اللَّهُمَّ اهْدِنِىْ وَسَدِّدْنِىْ ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সুপথ প্রদর্শন কর এবং আমাকে সরল পথে পরিচালিত কর। আর তুমি সুপথের সংকল্প কর এবং সঠিক পথে স্থির থাক, যেভাবে তীর তার লক্ষ্যে স্থির থাকে।(মুসলিম হা/২৭২৫; মিশকাত হা/২৪৮৫।) অর্থাৎ যেমন তোমরা কোথাও যাওয়ার সময় সঠিক পথ বেছে নিয়ে বাকী পথগুলি ছেড়ে দাও সেরূপ আল্লাহর নিকটে দ্বীনের সঠিক পথ তথা হিদায়াত এবং সিরাতে মুসতাক্বীম কামনা কর।(ইমাম নববী,শরহ মুসলিম ৯/৫২; মির‘আতুল মাফাতীহ ৬/১৩৯)
(৯) রামাযানের আগমনে আনন্দিত হওয়া :
রামাযান মাস নেকী অর্জন ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের মাস। সুতরাং আল্লাহ প্রদত্ত এ নেয়ামত লাভের সুযোগ পেয়ে মুমিন হৃদয় আনন্দে উদ্বেলিত হবে এটাই স্বাভাবিক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন বল, আল্লাহর এই দান (কুরআন) ও তাঁর রহমতের (ইসলামের) কারণে তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত। এটি তারা যা কিছু সঞ্চয় করেছে সেসব থেকে অনেক উত্তম’ (ইউনুস ১০/৫৮)। রাসূল (ﷺ) বলেন,সিয়াম পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে, যখন সে আনন্দিত হয়। যখন ইফতার করে তখন সে আনন্দিত হয়। আর যখন সে তার প্রভুর সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তার সওমের কারণে আনন্দিত হবে’।(সহীহ বুখারী হা/১৯০৪; মুসলিম হা/১১৫১; মিশকাত হা/১৯৫৯)
(১০) পূর্ববর্তী রামাযানের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা :
রামাযানের ফযীলত লাভ করার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করতে হবে। ইবাদতের মাধ্যমে রামাযানে নিজেকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করতে না পারলে তা হবে চরম ব্যর্থতা। রাসূল ﷺ বলেন,আমি যখন মিম্বরে আরোহণ করে ১ম সিঁড়িতে উঠলাম, তখন জিব্রাঈল আমাকে এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! যে ব্যক্তি রামাযান মাস পেল। অতঃপর মাস শেষ হয়ে গেল। কিন্তু তাকে ক্ষমা করা হ’ল না, সে জাহান্নামে প্রবেশ করল। আল্লাহ তাকে স্বীয় রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দিলেন। আমি বললাম, আমীন’!(সহীহ ইবনু হিববান হা/৪০৯,সহীহ লেগায়রিহী)
(১১) আল্লাহর নিকটে তাওফীক কামনা ও কঠোর পরিশ্রম করা :
রামাযানে সিয়াম পালন ও ফরয সালাত সহ অধিক নফল সালাত আদায় করার চেষ্টা করা এবং এজন্য আল্লাহর নিকটে তওফীক কামনা করতে হবে। কেননা এ মাসে বেশী বেশী সিয়াম-ক্বিয়াম ও দান সদাকার গুরুত্ব অপরিসীম।(বিস্তারিত জানতে মুসনাদে আহমাদ হা/১৪০৪, ৮১৯৫ ইবনু মাজাহ হা/৩৯২৫;আত-
তা‘লীকুর রাগীব ১/১৪২-১৪৩,সিলসিলা সহীহাহ হা/৩৪০৭ হাদীস সহীহ)
(১২) পরস্পরের মধ্যে বিদ্যমান ঝগড়া বিবাদ থাকলে সেটি মীমাংসা করে নেওয়া :
রামাযানে মহান আল্লাহ অনেক মানুষকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু যাদের মাঝে বিবাদ-বিসম্বাদ আছে, তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করেন না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদ মিটিয়ে নেয়। রাসূল (ﷺ) বলেন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজা খোলা হয় এবং প্রত্যেক বান্দাকে ক্ষমা করা হয় এ শর্তে যে, সে আল্লাহ তা‘আলার সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করবে না। আর সে ব্যক্তি এ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থেকে যায়, যে কোন মুসলিমের সাথে হিংসা ও শত্রুতা পোষণ করে। ফেরেশতাদেরকে বলা হয় যে, এদের অবকাশ দাও, যেন তারা পরস্পর মীমাংসা করে নিতে পারে’(মুসলিম হা/২৫৬৫; আবূদাঊদ হা/৪৬১৬; তিরমিযী হা/২১০৯; মিশকাত হা/৫০২৯)
(১৩). নিয়মতি কুরআন তেলাওয়াত করার অভ্যাস গড়ে তোলা:
রমাদান মাস কুরআন নাজিলের মাস এ মাসে বেশি বেশি কুরআন তেলোয়াত করা উচিত।সালামাহ ইবনে কুহাইল বলেছেন:“শাবান মাসকেতেলাওয়াতকারীদের মাস বলা হত।” শাবান মাস শুরু হলে আমর ইবনে কায়েস তাঁর দোকান বন্ধ রাখতেন এবং কুরআন তিলাওয়াতের জন্য অবসর নিতেন।আবু বকর আল-বালখী বলেছেন: “রজব মাস হল- বীজ বপনের মাস। শাবান মাস হল- ক্ষেতে সেচ প্রদানের মাস এবং রমজান মাস হল- ফসল তোলার মাস।” তিনি আরও বলেছেন: “রজব মাসের উদাহরণ হল- বাতাসের ন্যায়, শাবান মাসের উদাহরণ হল- মেঘের ন্যায়, রমজান মাসের উদাহরণ হল- বৃষ্টির ন্যায়। তাই যে ব্যক্তি রজব মাসে বীজ বপন করল না, শাবান মাসে সেচ প্রদান করল না, সে কিভাবে রমজান মাসে ফসল তুলতে চাইতে পারে?”এখন তো রজব মাস গত হয়ে গেছে। আপনি যদি রমজান মাস পেতে চান তাহলে শাবান মাসের জন্য আপনার কি পরিকল্পনা? এই হল এই মুবারক মাসে আপনার নবী ও উম্মতের পূর্ববর্তী প্রজন্মের অবস্থা। এই সমস্ত আমল ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কী হবে!!(ইসলামি সাওয়াল জবাব ফাতওয়া নং-
৯২৭৪৮)
(১৪).রমাদানে কর্মজীবী পুরুষ এবং গৃহিণী নারীদের ২৪ ঘণ্টার একটি রুটিন তৈরি করা:
যেহেতু বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মধ্যবিত্ত তাই জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন পেশায় কর্মরত থাকতে হয় পাশাপাশি গৃহিণী অনেক নারী সংসারের দায়িত্বপালন করতে গিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় তাই। রমাদান মাসের ফজিলত যেন কোন কোনভাবেই হাতছাড়া না হয় সেজন্য সবার উচিত একটি নিদিষ্ট রুটিন তৈরি করে সে অনুযায়ী যাবতীয় কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা। মহান আল্লাহ বলেন,আর এই যে,মানুষ তাই পায় যা সে চেষ্টা করে(সূরা নাজম,৫৩/৩৯)
(১৫). সবশেষে যে কাজগুলো রমজান মাসে একজন মুসলমানের ইবাদত বন্দেগীতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে সেগুলো দ্রুত সমাপ্ত করার চেষ্টা করা।স্ত্রী-পুত্রসহ পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে বসে রমজানের মাসয়ালা-মাসায়েল আলোচনা করা এবং ছোটদেরকেও রোজা পালনে উদ্বুদ্ধ করা। এবং যে বইগুলো ঘরে পড়া যায় এমন কিছু বই সংগ্রহ করা অথবা মসজিদের ইমামকে হাদিয়া দেয়া যেন তিনি মানুষকে পড়ে শুনাতে পারেন।(ইসলামি সাওয়াল জবাব ফাতওয়া নং-৯২৭৪৮)আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)
মহিমান্বিত মাস রমজান ধারাবাহিক ৪০ পর্বের আজ চতুর্থ পর্ব। পূর্বের পর্বটি কমেন্টে দেখুন।
________________________
উপস্থাপনায়,
জুয়েল মাহমুদ সালাফি

দ্বীনি দাওয়াত রইল,আপনারা আসার চেষ্টা করুন।হে আল্লাহ আপনি এই তাবলীগী ইজতেমা কে সফলতা দান করুন, কবুল করে নিন,আমীন।
19/02/2023

দ্বীনি দাওয়াত রইল,আপনারা আসার চেষ্টা করুন।
হে আল্লাহ আপনি এই তাবলীগী ইজতেমা কে সফলতা দান করুন, কবুল করে নিন,আমীন।

প্রশ্ন:দুনিয়ায় মানুষ ভালো-মন্দ যত কাজ করে তা আল্লাহর ইচ্ছায় ও তাকদীরের লিপিবদ্ধ থাকার কারণে করে। তাই মানুষের কি দোষ? কেন...
18/02/2023

প্রশ্ন:দুনিয়ায় মানুষ ভালো-মন্দ যত কাজ করে তা আল্লাহর ইচ্ছায় ও তাকদীরের লিপিবদ্ধ থাকার কারণে করে। তাই মানুষের কি দোষ? কেন আল্লাহ তাকে মন্দ কাজের জন্য শাস্তি দেবেন?
▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: তাক্বদীর সম্পর্কে সঠিক বুঝ ও ধারণা না থাকার কারণে অনেক মুসলিম নামধারী মানুষও পথভ্রষ্ট হয়েছে, সৃষ্টি হয়েছে ইসলামে বিভিন্ন দল ও উপদলের। অনেক লোক তাক্বদীর অস্বীকার কারীদের ভ্রান্ত কথায় প্রতারিত হয়েছেন। তাক্বদীর নামক পথটি খুবই সংকীর্ণ, পিচ্ছিল ও কর্দমাক্ত। অনেকেই এ পথে হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছে। হ্যাঁ, তাক্বদীর খুবই পিচ্ছিল একটি পথ একথা ঠিক কিন্তু পিচ্ছিল বলে হাঁটা যাবে না বিষয়টা এমন নয়; বরং খুব সতর্কতার সাথে হাঁটতে হবে। তাক্বদীর সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আক্বীদা হলো, মহান আল্লাহ স্বীয় জ্ঞানে স্বাধীনভাবে তাকদ্বীর নির্ধারণ করেছেন,
তাক্বদীরের প্রতি বিশ্বাস’ মুমিনের মৌলিক ও অপরিহার্য ছয়টি আক্বীদার অন্তর্ভুক্ত। তাক্বদীর একটি গায়েবী বিষয়, যার রহস্য মহান আল্লাহ ব্যতীত কেউ অবগত নন। তাকদ্বীর তাওহীদে রুবুবিয়্যার অন্তর্ভুক্ত। মহান রব কোন কিছু কাউকে জিজ্ঞেস করে করেন না। যেমন;তিনি আপনার অনুমতি নিয়ে আপনাকে সৃষ্টি করেননি,আবার মৃত্যু দানের সময় আপনাকে জিজ্ঞেস করে দিবেন না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,‘কোন সম্প্রদায়ের সম্পর্কে যদি আল্লাহ অশুভ কিছু ইচ্ছা করেন তবে তা রদ করার কেউ নেই এবং তিনি ছাড়া তাদের কোন অভিভাবক নেই।’ (সূরা রা’দ,১৩/১১)
তাকদ্বীর সম্পর্কে আলেমগনকে যেসকল প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় তা হল,(১)অনেকে প্রশ্ন করেন,মানুষ ভালো-মন্দ যত কাজ করে তা আল্লাহর ইচ্ছায় ও তাকদীরের লিপিবদ্ধ থাকার কারণে করে। তাই মানুষের কি দোষ? কেন আল্লাহ তাকে মন্দ কাজের জন্য শাস্তি দেবেন?(২).আবার অনেকের প্রশ্নের ভাষা এ রকম যে; আমি জান্নাতে যাবো, না জাহান্নামে যাবো তাতো অনেক আগেই লেখা হয়েছে। তাই কষ্ট করে নেক আমল করে লাভ কী? তাকদীরে জান্নাত লেখা থাকলে কোনো আমল না করেও জান্নাতে যাওয়া যাবে। আর কপালে জাহান্নাম লেখা থাকলে হাজার ভালো কাজ করেও জান্নাতে যাওয়া যাবে না। (৩).আবার অনেকে বলেন, আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া যখন কিছুই হয় না, তাই আমি যদি কোনো খারাপ কাজ করে থাকি তবে তা আল্লাহর ইচ্ছায় করেছি। আল্লাহ ইচ্ছে করলে আমাকে ফিরিয়ে রাখতে পারতেন। মোটকথা প্রশ্নের ভাষার ধরন যাই হোকনা কেন,সারকথা কথা হলো সব কিছু যখন আল্লাহর ইচ্ছায় হয় তখন মানুষের কী দোষ? এ সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অনেক বিজ্ঞজন হিমশিম খেয়েছেন। এক পর্যায়ে কখনো বা বলতে বাধ্য হয়েছেন,তাকদীর সম্পর্কে বেশি আলোচনা বা প্রশ্ন করা ঠিক নয়। এ ব্যাপারে যুক্তি-তর্ক করতে গিয়ে অনেকে গোমরাহ হয়েছে।এবং তৈরি হয়েছে জাবরিয়া,কাদারিয়া,
মুতাজিলা, ইত্যাদি বাতিল ফিরকার। তাই পাঠকদের জন্য আমি এ বিষয়টি সম্পর্কে অতি সংক্ষেপে একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। যাদের বিবেক বুদ্ধি রয়েছে আশা করি তারা অবশ্যই বুঝতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
প্রথম কথা হলো, মানুষ ভালো-মন্দ যত কাজ করে তা আল্লাহর ইচ্ছায় ও তাকদীরে লিপিবদ্ধ থাকার কারণে করে। তাই মানুষের কি দোষ? এ ধরনের প্রশ্ন কোনো মুসলিম করতে পারে কিনা? প্রিয় পাঠক, আল্লাহর কালাম পবিত্র কুরআনুল কারীমের প্রতি দৃষ্টি দিলে যা দেখা যায় তাতে প্রমাণিত হয় যে, এ ধরনের প্রশ্ন কোন মুসলিম নয় বরং কাফির-মুশরিকরা করত। যেমন; মহান আল্লাহ বলেন, “অচিরেই মুশরিকরা বলবে,আল্লাহ যদি চাইতেন, আমরা শির্ক করতাম না এবং আমাদের পিতৃপুরুষরাও না এবং আমরা কোনো কিছু হারাম করতাম না। এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছে, যে পর্যন্ত না তারা আমার আযাব আস্বাদন করেছে। বলো, তোমাদের কাছে কি কোনো জ্ঞান আছে, যা তোমরা আমাদের জন্য প্রকাশ করবে? তোমরা তো শুধু ধারণার অনুসরণ করছ এবং তোমরা তো কেবল অনুমান করছ।”(সূরা আনআম; ৮/১৪৮)। প্রিয় পাঠক দেখুন!মুশরিকরা তাদের শির্কের ব্যাপারে আল্লাহর ইচ্ছার কথা বলে রেহাই পাবার প্রয়াস পেয়েছে এবং তাদের এ কথা দ্বারা তারা ইসলামকে প্রত্যাখ্যান করেছে। অতএব, যারা আল্লাহর ইচ্ছার দোহাই দিয়ে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে ও সৎকর্ম থেকে দূরে থাকতে চায় তারা মূলতঃ মুশরিকদের মতোই কাজ করল ও তাদেরকে অনুসরণ করল। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরো বলেন,“আর যারা শির্ক করেছে, তারা বলল, যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমরা তাকে ছাড়া কোনো কিছুর ইবাদত করতাম না এবং আমাদের পিতৃপুরুষরাও না। আর তার বিপরীতে আমরা কোনো কিছু হারাম করতাম না। এমনিই করেছে, যারা তাদের পূর্বে ছিল। সুতরাং স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া ছাড়া রাসূলদের কি কোনো কর্তব্য আছে?”(সূরা আন নাহল,১৬;৩৫)। তিনি অপর আয়াতে আরো বলেন, “আর তারা (মুশরিকরা) বলে,পরম করুণাময় আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমরা এদের ইবাদত করতাম না, এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। তারা শুধু মনগড়া কথা বলছে”(সূরা আয-যুখরুফ; ৪৩/২০)
উপরে উল্লি­খিত তিনটি আয়াতে কারীমা পাঠ করে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে জানা গেল। যেমন:- (১). মুশরিকরা আল্লাহর ইচ্ছার দোহাই দিয়ে শির্ক করত। তাদের শির্কের প্রমাণ হিসাবে তারা আল্লাহর ইচ্ছাকে পেশ করত। (২). তারা বিশ্বাস করত সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছায় হয়। এ বিশ্বাস পোষণ করার পরও তারা কাফির ও মুশরিক রয়ে গেছে। (৩). তারা আল্লাহর গুণাবলীতে বিশ্বাস করত (যেমন, সূরা যুখরুফের আলোচ্য আয়াতে রহমান গুণ) তারপরেও তারা মুশরিক থেকেছে। (৪). তারা তাদের শির্কের সমর্থনে আল্লাহর ইচ্ছাকে প্রমাণ হিসাবে পেশ করে বলেছে যে, তারা এসব আল্লাহর ইচ্ছায়ই করছে। আল্লাহ তাদের মিথ্যাবাদী বলেছেন। কারণ, তারা বলেছে তাদের শির্কি কাজগুলো আল্লাহর ইচ্ছায় করা হচ্ছে। (৫). তাদের এ সকল বক্তব্য নতুন কিছু নয়। তাদের পূর্বপুরুষরাও এ রকম বক্তব্য দিয়েছে। এরপরও যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তি কাফির-মুশরিকদের মত অনুরূপ প্রশ্ন করে তাকে আমরা কয়েকটি উত্তর দিতে পারি। যেমন;
🔹(১). যে ব্যক্তি এ ধরনের প্রশ্ন করবে তাকে বলা হবে, আপনি জান্নাতে যেতে চান না জাহান্নামে? উত্তরে সে হয়তো বলবে, আমি জান্নাতে যেতে চাই। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করুন, আচ্ছা আপনার তাকদীরে কী লেখা আছে জান্নাত না জাহান্নাম, আপনি কি তা জানেন? সে বলবে, না আমি জানি না। আচ্ছা, তাহলে বিষয়টি আপনার কাছে অজ্ঞাত। আর অজ্ঞাত বিষয়ের উপর নির্ভর করে কোনো ভালো কাজ ছেড়ে দেওয়া কি কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে? দুনিয়ার স্কুল-কলেজের পরীক্ষায় পাশ করবে না ফেল করবে, এটা অজানা থাকার পরও মানুষ দিনরাত অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে,পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করার আশায়। পিপাসা লাগলে পানি না খেয়ে ভরসা করে বসে থাকেনা। অপারেশন সাকসেস হবে কি হবে না, তা অজ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও মানুষ তাদের প্রিয়জনদের অপারেশন করায় রোগমুক্তির আশায়। ফলাফল অজ্ঞাত থাকার অজুহাতে কোনো কাজ ছেড়ে দিয়ে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকা সুস্থ মস্তিস্কের কাজ হতে পারে না। অর্থাৎ ক্ষণস্থায়ী জীবনের জন্য তারা ভাগ্যের উপর ভরসা না করে চেষ্টা করে। কিন্তু যত ভরসা কেবল চিরস্থায়ী জীবনের ক্ষেত্রেই করে!আপনার তাকদীরে জান্নাত লেখা আছে না জাহান্নাম তা আপনার জানা নেই। কিন্তু আপনার লক্ষ্য যখন জান্নাত তখন লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য অবশ্যই কাজ করতে হবে। যেমন; দুনিয়াবি-পার্থিব সকল কাজ-কর্ম ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অর্জন করার বেলায় আমরা করে থাকি। আর জান্নাত ও জাহান্নামের স্রষ্টা যখন বলে দিয়েছেন এটা জান্নাতের পথ আর ওটা জাহান্নামের পথ তখন তা বিশ্বাস করে আমল করতে আপনার-আমার অসুবিধা কোথায়?
🔹(২). যার তাকদীরে জান্নাত লেখা আছে সাথে সাথে এটাও লেখা আছে যে, সে জান্নাত লাভের জন্য নেক আমল করবে তাই জান্নাতে যাবে। আর যার তাকদীরে জাহান্নাম লেখা আছে সাথে সাথে এটাও লেখা আছে যে, সে জাহান্নামের কাজ করবে ফলে সে জাহান্নামে যাবে। রাসূল (ﷺ) একটি হাদীসের শেষে বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ জান্নাতবাসীদের আমাল করতে থাকে, এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত দূরত্ব থাকে, এমন সময় তার প্রতি তাক্বদীরের লিখা তার সামনে আসে। আর তখন সে জাহান্নামীদের কাজ করতে থাকে এবং জাহান্নামে প্রবেশ করে। তোমাদের কোন ব্যক্তি জাহান্নামীদের মত আমাল করতে শুরু করে, এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে এক হাত দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে। এমন সময় তার প্রতি সে লেখা (তাক্বদীর) সামনে আসে, তখন সে জান্নাতীদের কাজ করতে শুরু করে, ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। (সহীহ বুখারী হা/৩২০৮, সহীহ মুসলিম হা/২৬৪৩,মিশকাত হা/৮২)। রাসূল (ﷺ) আরো বলেন,তোমাদের প্রত্যেকের ঠিকানা লেখা হয়ে গিয়েছে, হয় তা জাহান্নামে অথবা জান্নাতে। (একথা শুনে) এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তবে কি আমরা তাক্বদীরের উপর ভরসা করব না? রাসূল বললেন, না, আমল করতে থাক। প্রত্যেককে তা-ই সহজ করে দেয়া হবে, যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। (সূরা লাইল,৯২/৫-৬; সহীহ বুখারী হা/৪৯৪৭)
🔹(৩). সব কিছু আল্লাহর ইচ্ছায় এবং তার জানা অনুসারে হয়। মানুষ সকল কাজই আল্লাহর ইচ্ছায় করে ঠিকই কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক করে না। আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক কাজ করার জন্য সে জান্নাতে যাবে আর আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক কাজ না করার জন্য সে জাহান্নামে যাবে। এখন প্রশ্ন হতে পারে, ইচ্ছা (ইরাদা বা মাশিয়্যত) ও সন্তুষ্টি (রেযা) এ দুয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি? জবাব; হ্যাঁ অবশ্যই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। অর্থাৎ, আল্লাহর ইচ্ছা ও সন্তুষ্টির মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য আছে। ছোট্ট একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা সহজে বুঝানো যেতে পারে। যেমন; এক ব্যক্তির ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ল। চিকিৎসক বললেন তার পেটে অপারেশন করতে হবে। অপারেশন ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। এখন বেচারা অপারেশন করাতে রাজী নয়। কারন এ কাজে সে সন্তুষ্ট নয়, কিন্তু রোগ মুক্তির আশায় তবুও সে অপারেশন করিয়ে থাকে। এমন কি এ কাজের জন্য ডাক্তারকে টাকা পয়সা দেয়। অতএব, দেখা গেল এ অপারেশনে তার ইচ্ছা পাওয়া গেল, কিন্তু তার সন্তুষ্টি পাওয়া যায় নি। অপারেশন করাতে সে ইচ্ছুক কিন্তু রাজী নয়। আবার ধরুন,আপনার ইনকাম সীমিত বর্তমানের জিনিসপত্রের যে দাম সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন কিন্তু আপনার ইচ্ছে স্ত্রী সন্তানকে স্বর্ণের গহনা কিনে দিবেন কিন্তু স্বর্ণের ভরি, ৯২ হাজার টাকা শুনে আপনি অসন্তুষ্ট। ডিম কিনার ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ডিমের দোকানে গিয়ে ডিমের হালি ৬০ টাকা শুনে আপনি অসন্তুষ্ট। তাহলে প্রমান হলো ইচ্ছা ও সন্তুষ্টি দুটো আলাদা বিষয়। অনেক সময় ইচ্ছা পাওয়া যায়, কিন্তু সেখানে সন্তুষ্টি পাওয়া যায় না। কিন্তু যেখানে সন্তুষ্টি পাওয়া যায় সেখানে ইচ্ছা অবশ্যই থাকে। তাই সকল কাজ মানুষ আল্লাহর ইচ্ছায় করে ঠিকই কিন্তু তার সন্তুষ্টি ও রেজামন্দি বা খুশি অনুযায়ী করে না। বিভ্রান্তি তখনই দেখা দেয় যখন ইচ্ছা দ্বারা সন্তুষ্টি বুঝানো হয়। তাই জান্নাতে যেতে হলে আল্লাহর ইচ্ছায় কাজ করলে হবে না।বরং তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী কাজ করতে হবে। যে কাজে তিনি সন্তুষ্ট হন বলে শরীয়তে দলিল প্রমাণ আছে, সে সকল কাজ করতে হবে। প্রশ্ন হতে পারে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি বুঝার উপায় কি? জবাব কোন কোন কাজে মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট হন, আর কোন‌ কোন কাজে তিনি অসন্তুষ্ট হন তা বুঝা যাবে একমাত্র কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা। যে কোনো কাজ সংঘটিত হয়ে গেলেই সাধারণ ভাবে বুঝে নেয়া হবে যে, এটা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় হয়েছে। কিন্তু তা আল্লাহর সন্তুষ্টিতে হয়েছে কিনা তা বুঝা যাবে না কুরআন বা হাদীসের মাধ্যম ব্যতীত। কুরআন বা হাদীসে উক্ত বিষয়টির সমর্থন থাকলে বুঝা যাবে সেটা আল্লাহর সন্তুষ্টিতে সম্পন্ন হয়েছে যেমন,সালাত আদায়,সিয়াম পালন,সুদ বর্জন ইত্যাদি। আর যদি কাজটি কুরআন বা হাদীসের পরিপন্থী যেমন শিরক,বিদআত,কুফুর ও যাবতীয় নিষিদ্ধ কর্ম হয় তাহলে ধরে নেয়া হবে কাজটি আল্লাহর সন্তুষ্টির খেলাফ বা বিরুদ্ধে হয়েছে। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী কাজ করলে জান্নাতের অধিকারী হওয়া যাবে। আর তার সন্তুষ্টি অনুযায়ী কাজ না করলে জাহান্নামে যেতে হবে। ভালো করে মনে রাখতে হবে সব কাজ আল্লাহর ইচ্ছায় হয় ঠিকই কিন্তু সব কাজ তার সন্তুষ্টি মোতাবেক হয় না। আরো মনে রাখতে হবে, ইচ্ছা ও সন্তুষ্টি এক বিষয় নয়। দুটো আলাদা বিষয়। যা আমি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছি।মহান আল্লাহ বলেন,“তাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলা সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এ সন্তুষ্টি তার জন্যই যে ব্যক্তি স্বীয় রবকে ভয় করে।"(সূরা বাইয়িনাহ,৯৮/৮) তিনি অপর আয়াতে বলেন,যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর এবং ঈমান আন তাহলে তোমাদেরকে আযাব দিয়ে আল্লাহ কী করবেন? আর আল্লাহ পুরস্কার দানকারী,মহাজ্ঞানী (সূরা নিসা,৪/১৪৭)
🔹(৪). আল্লাহ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর ইচ্ছায় সবকিছু হয়। তাই তিনি ইচ্ছা করেই মানুষকে ইচ্ছা শক্তি দিয়েছেন। যাতে মানুষ নিজ ইচ্ছায় ও স্বাধীনতায় ভালো ও মন্দ পথ অবলম্বন ও বর্জন করতে পারে।যেমন; আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,“বল, সত্য তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে; সুতরাং যার ইচ্ছা বিশ্বাস করুক ও যার ইচ্ছা সত্য প্রত্যাখ্যান করুক।”(সূরা আল কাহাফ; ১৮/২৯)। তাই বলা যায়, আল্লাহর দেওয়া ইচ্ছাশক্তিতেই মানুষ ভালো-মন্দ কাজ করে। তবে আল্লাহ ইচ্ছা করলে মানুষের ইচ্ছাশক্তি রহিত করে ভালো বা মন্দ কাজ করতে বাধ্য করতে পারেন। মানুষ কোনো খারাপ কাজ করলে এ কথা বলা যাবে না যে, এ ক্ষেত্রে মানুষের কোনো ইচ্ছা ছিল না। এ কথাও বলা যাবে না যে, আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজটি হয়েছে। কাজটা আল্লাহর ইচ্ছায় হয়েছে এটা যেমন সত্য, তেমনি মানুষের ইচ্ছাও কাজটা করার ব্যাপারে ভূমিকা রেখেছে, এটাও সত্য। আপনাদের প্রশ্ন হতে পারে এটা কীভাবে এটা সম্ভব? বিষয়টি পরিস্কার ভাবে বুঝার জন্য একটা উদাহরণ দিচ্ছি। আশা করি বিষয়টা পরিষ্কার হবে ইনশাআল্লাহ। উদাহরণটা হলো, আমরা সবাই বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি, বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ গ্রাহকের ভূমিকা। বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে, তেমনি বিদ্যুৎ গ্রাহকও ইচ্ছে করলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু মাস শেষে দায় বহন করতে হবে বিদ্যুৎ গ্রাহকের। মাস শেষে যখন হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল আসল, তখন বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে এ কথা বলে দোষ দেওয়া চরম বোকামি হবে যে, তারা কেন বিদ্যুৎ সরবরাহ করল, তারা ইচ্ছা করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে আমার বিদ্যুৎ খরচ কমাতে পারত। তারা ইচ্ছা করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে আপনার খরচ কমাতে পারত এটা যেমন ঠিক, তেমনি আপনিও সাশ্রয়ী হয়ে বিদ্যুৎ খরচ কমাতে পারতেন, এটাও ঠিক। আর খরচের এ দায়ভার বহন করবে গ্রাহক, সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ নয়। কেননা এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের ইচ্ছা ও কর্ম দুটোই দায়ী। তাই মানুষের ভালো-মন্দ আমলের ব্যাপারেও এটা বলা যায় যে, আল্লাহ ইচ্ছা করলে মানুষ মন্দকাজ করত না। আবার মন্দ কাজ করার জন্য মানুষই দায়ী- তার ইচ্ছা শক্তি প্রয়োগের জন্য।
🔹(৫). আল্লাহ নিজের ইচ্ছায় মানুষকে ভালো ও মন্দ কাজ করার ইচ্ছাশক্তি দান করে থাকেন। তিনি তাঁর ইচ্ছায় কাউকে ভালো বা মন্দ কাজ করার জন্য বাধ্য করেন না। যদি তিনি এরূপ করতেন তাহলে দুনিয়ার সকল মানুষ ঈমানদার হয়ে যেতো। যেমন, তিনি বলেন,
“আর যদি তোমার রব চাইতেন, তবে যমীনের সকলেই ঈমান আনত। তবে কি তুমি মানুষকে বাধ্য করবে, যাতে তারা মুমিন হয়?”(সূরা ইউনুস; ১০/৯৯)।অপর আয়াতে বলেন,আমি যদি চাইতাম তাহলে পূর্বাহ্নেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার হেদায়াত দিয়ে দিতাম। কিন্তু আমার সে কথা পূর্ণ হয়ে গেছে, যা আমি বলেছি যে, আমি জাহান্নাম জিন ও মানুষ দিয়ে ভরে দেবো’’।(সূরা সাজদা,৩২/১৩)সারকথা, নিজেদের খারাপ কাজগুলো আল্লাহর ইচ্ছায় ও তাকদীরের লেখার কারণে হয়েছে এ ধরনের কথা বলে খারাপ কর্মের শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। তাকদীরের দোহাই দিয়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি বা জান্নাত লাভ কোনটাই করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে ছোট একটা ঘটনা উল্লে­খ না করে পারছি না। আর তা হলো; উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহ আনহুর খেলাফত কালে এক লোক চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত হলো ও আদালতে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হলো। শাস্তি হিসেবে তার হাত কাটার নির্দেশ দেওয়া হল। লোকটি উমর রা. এর কাছে গিয়ে বলল, মুসলিম জাহানের হে মহান খলীফা! আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কিছু হয় না। আমিও তো আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে নই। আমি তো তার ইচ্ছায়ই চুরি করেছি। আমার হাত কাটা যাবে কেন? উমার রাদিয়াল্লাহ আনহু বললেন, সব কিছু আল্লাহর ইচ্ছায় বা তাকদীরের কারণে হয়। তুমি যেমন আল্লাহর ইচ্ছায় চুরি করেছ, তেমনি তোমার হাত আল্লাহর ইচ্ছায়ই কাটা হবে। উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কথা ও কাজের মধ্যে সাহাবীদের গভীর জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়। সূরা আনআমে আল্লাহ তা‘আলা এ কথাই ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন,‘‘এ ধরনের উদ্ভট কথা তৈরী করে এদের পূর্ববর্তী লোকেরাও সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।’’ এতে জানা গেল তাদের উদ্দেশ্য ছিল সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা। এমনটি নয় যে, তারা তাকদীরের প্রতি ঈমান রাখতো। তাদের এ কথা ও কাজ পূর্বযুগের কাফেরদের কথা ও কাজের মতই। (সূরা আনআম; ৮/১৪৮)। সুতরাং, চোরের হাত কাটাও তাকদীরে নির্ধারিত রয়েছে। চোর যদি বলে চুরি করা নির্ধারিত রয়েছে। হাত কাটার কথা তাকদীরে নেই, তাহলে তাকে বলা হবে, তুমি কিভাবে জানলে উহা তাকদীরে নেই? তুমি কি গায়েব সম্পর্কে অবগত আছো? সুতরাং চুরি করার কারণে যেহেতু চোরের হাত কাটা হয়, তাই বুঝা গেলো ইহাও তাকদীরে নির্ধারিত। কেননা আল্লাহর রাজত্বে আল্লাহর তাকদীর ও ইচ্ছা ব্যতীত কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না। আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে কোনো কিছু হয় বলে বিশ্বাস করা কুফুরী।(বেশ কিছু নোট ইসলাম হাউজ.কম থেকে সংকলিত)
পরিশেষে উপরোক্ত চুরির ঘটনার আলোকে, বিচার দিবসে জাহান্নামী ফয়সালা হওয়ার পর যদি কোনো মানুষ মহান আল্লাহ তা’আলাকে বলে যে, ‘হে আল্লাহ! আমি বিশ্বাস করতাম আপনার ইচ্ছা ছাড়া কিছু হয় না, আপনিও তাই বলেছেন। আমি যে অন্যায় করেছি, জুলুম করেছি তা তো আপনার ইচ্ছায়ই করেছি। কাজেই আজ আপনি এ কাজের অপরাধে আমাকে জাহান্নামে পাঠাবেন কেন?’ তখন মহান আল্লাহ আহকামুল হাকেমীন যদি বলেন, ঠিক আছে। তোমার কথাই ঠিক। আমার ইচ্ছায় যখন পাপাচারে লিপ্ত হয়েছো, আমার নাফরমানী করেছ, এখন আমার ইচ্ছায়ই তোমাকে জাহান্নামে যেতে হবে। তুমি তো জানো আমার ইচ্ছার সামনে তোমার কিছুই করার নেই। আমার ইচ্ছায় যখন পাপাচার করতে তোমার আপত্তি ছিল না তাহলে এখন জাহান্নামে যেতে আপত্তি কেন? তখন সে মানুষটির কিছু বলার থাকবে কি? প্রশ্ন রইলো প্রত্যেক বিবেকবান পাঠকের কাছে!!
হে পাঠক, বিচারের দিন মানুষ আল্লাহর দুটি অবস্থা দেখবে হয় আল্লাহর দয়া দেখবে অথবা আল্লাহর ন্যায়বিচার দেখবে। কিন্তু কখনোই আল্লাহর জুলুম দেখবে না।কারন তিনি নিজের এবং বান্দার উপর জুলুম হারাম ঘোষণা করেছেন (সহীহ মুসলিম হা/২৫২৭ মিশকাত হা/২৩২৬) আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক অর্থে তাকদির বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমীন!!আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)
________________
উপস্থাপনায়,
জুয়েল মাহমুদ সালাফি

প্রশ্ন: বিবাহের ক্ষেত্রে পুরুষের শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকা দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে? বিয়ে করার জন্য একটি ছেলের শারীরি...
13/02/2023

প্রশ্ন: বিবাহের ক্ষেত্রে পুরুষের শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকা দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে? বিয়ে করার জন্য একটি ছেলের শারীরিক ও আর্থিক ‘সামর্থ্য’ ন্যূনতম কতটুকু হওয়া জরুরী? বিষয়টি কি আসলেই কঠিন ও জটিল?
▬▬▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি ব্যক্তির অবস্থার আলোকে বিয়ে করার বিধান ভিন্ন ভিন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য একই কথা। ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে যার শক্তি-সামর্থ্য রয়েছে এবং নিজেকে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে নিরাপদ রাখার ক্ষমতা আছে, স্বাভাবিক ভাবে তার জন্য বিবাহ করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। কিন্তু যার শারীরিক শক্তিমত্তা, সক্ষমতা ও আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে এবং যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ ও পদস্খলন বা নিষিদ্ধ কর্মে লিপ্ত হওয়ার আশংকা করে, তার জন্য বিবাহ করা ওয়াজিব। এর বিপরীতে আবার যার দৈহিক মিলনের সক্ষমতা ও স্ত্রীর ভরণ-পোষণের সামর্থ্য নেই তার জন্য বিবাহ করা হারাম। (ফিক্বহুস সুন্নাহ; ৩/১৩১)। আজ আমরা জানার চেষ্টা করবো বিবাহের ক্ষেত্রে পুরুষের শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকা দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে?
🔸প্রথমে আলোচনা করবো শারীরিক সামর্থ্যের ব্যাপারে।
_______________________________________________
ইসলামি শরীয়তের দৃষ্টিতে, ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের বালেগ হওয়ার বয়সসীমা ও আলামত শরীয়তের পক্ষ থেকে নির্ধারিত রয়েছে। কোনো ছেলে বা মেয়ের মধ্যে বালেগ হওয়ার নির্দিষ্ট আলামত পাওয়া গেলে বা নির্দিষ্ট বয়সসীমায় পৌঁছলেই তাকে বালেগ গণ্য করা হবে এবং তখন থেকেই শরীয়তের হুকুম-আহকাম তার উপর প্রযোজ্য হবে। ছেলেদের বালেগ হওয়ার আলামত হলো: ক) স্বপ্নদোষ হওয়া। খ) বীর্যপাত হওয়া। গ) দাঁড়ি বা গোঁফ উঠা। সুতরাং যখন থেকে একটি ছেলের ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হয়, তখন থেকেই সে বালেগ হয়ে যায়; বাংলায় যাকে আমরা প্রাপ্তবয়স্ক (adult) বলি। তখন থেকেই তার উপর শরীয়তের প্রতিটি বিধান মানা ফরজ হয়ে যায় এবং সে বিয়ের ব্যাপারে উপযুক্ত সাব্যস্ত হয়। যদি বালেগ হওয়ার পর কোনো ছেলের মাঝে যৌন সমস্যা দেখা দেয়, অথবা নারীদের প্রতি আগ্রহবোধ না করে কিংবা পুরুষত্বহীনতার সম্ভাবনা থাকে, তখন তার জন্য বিয়ে করা জায়েয নেই। বরং সে চিকিৎসা নেবে, সুস্থ হবে, এরপর বিয়ের চিন্তা করবে। আর, যদি সে অন্য দশটি ছেলের মতো সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করে, নারীদের প্রতি যৌন কামনা অনুভব করে এবং সঙ্গীর অভাববোধ করে, তাহলে তাকে বিয়ের ব্যাপারে ‘শারীরিকভাবে সক্ষম’ হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। অর্থাৎ, যৌন অক্ষমতার ব্যাপারটি ব্যতিক্রমী কেইস। একমাত্র যে রোগী, সে ব্যতীত অন্যদেরকে শারীরিকভাবে সক্ষম হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। কারণ, বিয়ের আগে হারাম পন্থায় যৌনতা করে নিজেকে প্রমাণ করার কথা ইসলাম বলে না। ছেলে যদি সহবাসের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকে, তাহলেই যথেষ্ট। কারণ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছেন, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং যৌন জীবনকে সংযমী করে। (সহীহ বুখারী হা/৫০৬৬; সহীহ মুসলিম হা/১৪০০; আবু দাঊদ হা/২০৪৬)

🔸এরপর আসি, আর্থিক সামর্থ্যের ব্যাপারে।
________________________________________
ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘হে যুবকের দল! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে নেয় এবং যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কেননা, রোজা যৌন কামনাকে দমন করে।" (ইমাম বুখারী: ৫০৬৫; ইমাম মুসলিম হা/১৪০০) উপরোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ইমাম মুহিউদ্দীন বিন শারফ আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬৭৬ হি.] বলেছেন, উক্ত হাদীসে ব্যবহৃত আরবী الْبَاءَةَ ‘(‘আল-বাআত)’’ শব্দটির উদ্দেশ্য নিয়ে উলামাগণের মাঝে দু’টি অগ্রগণ্য মত রয়েছে। তন্মধ্যে একটি মত হলো, الْبَاءَةَ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সহবাস। সুতরাং, মূল কথা হলো যে সহবাসে সক্ষম সে যেন বিবাহ করে। আর যে স্ত্রীর ভরণ-পোষণে অক্ষম ও সহবাসে অক্ষম, তার যৌন চাহিদা দমন করার জন্য সিয়াম পালন করতে হবে আর এটাই তার খারাপ মনোবৃত্তি দূর করবে। দ্বিতীয় মত হলো, বিবাহের খরচাদি বহনের সক্ষমতা (অর্থাৎ- দেন-মোহর, ওয়ালীমা ইত্যাদি)। সুতরাং, হাদীসটির উদ্দেশ্য হলো, যে ব্যক্তি বিবাহের সমস্ত খরচ পরবর্তী স্ত্রী খরচাদি বহনে সক্ষম সে যেন বিবাহ করে। আর যে এতে অক্ষম সে তার প্রবৃত্তি দমনে সিয়াম পালন করবে।(ইমাম নববী শরহে মুসলিম, ৯/১৭৩)
ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, হাদীসে উল্লেখিত বাক্যে (مَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ) এখানে الْبَاءَةَ এর মধ্যে সহবাসে সক্ষমতা ও স্ত্রীর যাবতীয় খরচাদিসহ সবই রয়েছে। কারণ তিরমিযীতে আস্ সাওরী (রহঃ)-এর সূত্রে আ‘মাশ হতে বর্ণিত রয়েছে, যে ব্যক্তি الْبَاءَةَ করতে সক্ষম নয় সে সিয়াম পালন করবে। তিরমিযীর বর্ণনায় আবু আওয়ানাহ্-এর সূত্রে বর্ণিত রয়েছে, যে ব্যক্তি বিবাহ করতে সক্ষম সে যেন বিবাহ করে। আবার নাসায়ীর বর্ণনায় রয়েছে, যার সামর্থ্য আছে সে বিবাহ করবে। ইবন হাযম (রহ.) বলেন; সহবাসে সক্ষম ব্যক্তি মাত্র সবার ওপর বিবাহ করা ফরয, যদি তার বিবাহ করার সামর্থ্য থাকে। এতে যদি সে অক্ষম হয় তবে বেশী বেশী সিয়াম পালন করবে। আর এটাই এক দল সালাফগণের বক্তব্য। ইবনুল বাত্ত্বল (রহ.) বলেন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা দ্বারা বিবাহ ওয়াজিব প্রমাণিত হয় না। কারণ, বিবাহের পরিবর্তে সিয়াম পালন ওয়াজিব না, সুতরাং বিবাহটা অনুরূপই হবে। সিয়াম পালনের নির্দেশ রয়েছে সহবাসে অক্ষমতার কারণে, সুতরাং তা আবশ্যকীয় নয়। ব্যাপারটা এ রকম যে, কেউ কাউকে বলল, এ কাজ তোমার জন্য করা ওয়াজিব, তবে তা যদি না পার তবে তোমার জন্য এটা করা ভালো। আহমাদ-এর প্রসিদ্ধ বক্তব্য রয়েছে যে, পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে বিবাহ করা ওয়াজিব নয়। আল্লামা কুরতুরী (রহঃ) বলেন; সামর্থ্যবান ব্যক্তির যদি বিবাহ ছাড়া নিজের ওপর কিংবা দ্বীনের ব্যাপারে ক্ষতির (যিনায় লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা) আশঙ্কা থাকে এবং বিবাহ ছাড়া যদি এ অবস্থা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা না থাকে তবে তার জন্য বিবাহ করা ওয়াজিব। এতে কারো দ্বিমত নেই। (ফাতহুল বারী ৯ম খন্ড, হা/৫০৬৫)। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] বলেছেন; বিবাহ করার ক্ষমতা হলো বিবাহের খরচ বহন করার ক্ষমতা, সহবাস করার ক্ষমতা নয়। কারণ, হাদীসটি তাদের সম্বোধন করা হয়েছে যারা সহবাস করতে সক্ষম। তাই যাদের সামর্থ্য নেই তাদের রোজা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ এটি একটি ঢাল। (আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, ৩/১৩৪)
মোটকথা কোনো ছেলে যদি স্ত্রীর ভরণপোষণ দেওয়ার ব্যাপারে সামর্থ্য রাখে তাহলে সে বিবাহ করবে। কিন্তু যদি সে স্ত্রীর ভরণপোষণ সামর্থ্য না রাখে, তাহলে আপাতত সে অপেক্ষা করবে, প্রয়োজনে সিয়াম পালন করবে। আর ভরণপোষণ বলতে, কমপক্ষে বউয়ের খাবার, কাপড় এবং বাসস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে সহজ কথা হলো কোনো ছেলে যদি আর্থিকভাবে খুব দুর্বলও হয়, কিন্তু পরিশ্রমী ও উদ্যমী হয়, হালাল উপার্জনের ব্যাপারে অলসতা না করে এবং পরিবারের ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়, তাহলে সেই ছেলের বিয়ে করতে কোনো বাধা নেই। যেমন: আলি (রা.)-এর কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সবচেয়ে আদরের কন্যা ফাতিমা (রা.)-কে বিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ আলি (রা.) তখন অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন। সহিহ বুখারিতে (৫১৩৫ নং হাদিস) এসেছে, একজন দরিদ্র সাহাবীর সাথে নবীজি এক নারীকে বিয়ে দিয়েছিলেন। সেই সাহাবীর কিছুই ছিলো না। ফলে, বউকে কুরআন শেখানোর শর্তে (অর্থাৎ এটিকে মোহরানা বানিয়ে) বিয়ে দেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার আর্থিক দুরবস্থার কারণে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তোমার কাছে কি একটা লোহার আংটিও নেই?’ তখন সেটিও ছিলো না সেই সাহাবীর কাছে। সহজ কথা হলো বর্তমানে যেমন আমাদের অনেকের একটা ফিক্সড ইনকামের ব্যবস্থা থাকে, সাহাবীদের মধ্যে তেমনটা ছিলো না। তাঁদের অনেকেই দিন এনে দিন খেতেন। তাই, উপস্থিত সময়ে যদি সেরকম অর্থ-সম্পদ না থাকে, কিন্তু সে হালাল উপার্জনে অভ্যস্ত থাকে আর কনে তার এই অবস্থাটি মেনে নেয়, তাহলে তার বিয়ে করতে কোনো বাধা নেই, যদিও সে অত্যন্ত দরিদ্র হয়। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎ, তাদেরকেও। তারা অভাবগ্ৰস্ত হলে, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করবেন; আল্লাহ তো প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’’ (সুরা আন-নূর, আয়াত: ৩২)। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ্ তা‘আলা তিন শ্রেণির মানুষকে সাহায্য করা নিজের কর্তব্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। (১) আল্লাহর পথে জিহাদকারী; (২) চুক্তিবদ্ধ গোলাম, যে চুক্তির অর্থ পরিশোধের ইচ্ছা করে এবং (৩) বিবাহে আগ্রহী ব্যক্তি, যে (বিয়ের মাধ্যমে) পবিত্র জীবন যাপন করতে চায়।’’ (ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ১৬৫৫; হাদিসটি হাসান)। আল্লাহ আমাদেরকে বিবাহের গুরুত্ব উপলব্ধি করার এবং পারস্পরিক পবিত্র বন্ধন রক্ষা করার তাওফীক্ব দান করুন-আমীন!!(কিছু বিষয় সংকলিত আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)

❛❛আদর্শ বিবাহ বন্ধন❞ ধারাবাহিক দশম পর্ব।
পূর্বের পর্বগুলো কমেন্টে দেখুন
______________________
উপস্থাপনায়,
জুয়েল মাহমুদ সালাফি

Address

English Bazar

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when An-Nasr posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share