22/09/2023
#আমি যদি আদর্শে যুক্ত থাকি আমার বৌ আমার সাথে যুক্ত থাকবে। আমি আদর্শে যুক্ত নেই হাজার বৌকে গোলাপ ফুল দিই হবেনা। সোজা কথা আমি এইটাই বুঝি। আমার মাথা ঠিক থাকুক তোমাতে বাকি সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি এটা বুঝি। আর যে আদর্শবান পুরুষ তার পিছনে মেয়ে দৌড়াবে ,মেয়েছেলে এমনি যে সে লোকের পিছনে দৌড়ায় না। তুষ্ট থাকে তার প্রতি যে আদর্শ নিয়ে বা ঠাকুরকে নিয়ে তীব্র গতিশীল। আমি প্রার্থনা করি সবাই আপনারা আমি যে কথা গুলো বললাম নিজেদের মতো করে ভাবেন ,বিশ্লেষণ করেন যেটা নিজের করণীয় মনে করেন ঠাকুরের জগতে ,আপনার ,আমাদের মনে করবেন না জিনিসটাকে আমার ব্যক্তিগত। ব্যক্তিগত আমার কি করণীয় সেটা ভেবে করেন। আর এটাতে কোনো ঋত্বিক দাদার ছড়িদাড়ি নেই ,আমার ছড়িদাড়ি নেই কারোর ছড়িদাড়ি নেই। সবাই খুলে করেন। যেটা মনে করেন যেইভাবে মনে করবেন ঠাকুরের প্রতিষ্ঠা করা যায় ,আমার দ্বারা এই করা যায় আমার জীবনে এই ভাবে ঠাকুর প্রতিষ্ঠা করা যায় করে যান। কিন্তু কেন্দ্র মন্দিরে গেলে কিন্তু অনেক ছড়িদারি হবে আগেই বললাম। কেন্দ্র মন্দিরে এই করতে চাই সেই করতে চাই করতে দেবেন না। আমি আমার বাড়িতে এবং আমার পরিবেশে করতে চাই ,এইটুকু করেন। একদম খোলা। কেন্দ্র মন্দিরে করতে গেলেই কর্তৃত্বের একটা বেপার থাকে তো ,তা আমি মন্দির টাতে যুক্ত আছি আমার একটা অহংকার তৈরী হয়ে যেতে পারে ,হতে পারে কি না ?তো এরকম বেপার, সবাই আনন্দে থাকেন ,আনন্দে থাকেন আনন্দ করেন ,আনন্দের খোঁজ জেনে নেন কিভাবে করা যায়। ঠিক আছে ?
আর একটা কথা যারা এই উৎসবে এসেছেন যোগদান করেছেন ,বিভিন্ন ভাবে ,যারা আসতে পারেননি। কেননা অনেকে কেন্দ্র মন্দির গুলোতেও রয়ে গেছেন। বাড়ি ঘরে কারোর অসুবিধার জন্যে আসতে পারেননি ,যান বাহনের জন্যে আসা যায়নি। সুবিধা হয়নি। তো এখানে যারা উপস্থিত সবার জন্যে আমি মঙ্গল প্রার্থনা করি ,সবার জন্য যারা এসেছেন। যারা আসতে পারেননি তাদের জন্যেও আমি পরম পিতার কাছে প্রার্থনা করি ভালো থাকেন। আমার কথা গুলো আপনারা নিজেরা আলোচনা করবেন জানাবেন নিজেরাও আনন্দ করবেন। এখানে এখন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে আমার বকবকানিতে 15মিনিট পিছিয়ে গেলো। ভালো থাকেন। আমি আজ হাতে খড়ি দেবোনা। মায়েরা,দাদারা নিজেদের ছেলে মেয়েকে হাতে খড়ি দিয়ে দেন ওতেই হয়ে যাবে। আইনস্ট্যাইনের হাতে খড়ি হয়নি তো আমার দিয়ে কোন আইনস্টাইন হবে ? হয়ে যাবে যদি এমনি পড়াশুনা হয়। এখানে প্রসাদ কেমন হয়েছিল আজকে ?(সমস্বরে খুব ভালো হয়েছে দাদা ) আমি যাকেই জিজ্ঞাসা করলাম ,সবাই বলছে খুব ভালো। প্রসাদ নিঃসন্দেহে মনে হয় ভালো হয়েছে ,কৌটো গুলো অপূর্ব হয়েছে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন অনেকে। এখানে সামনে এক ভাই ধরে আছে। ঠিক আছে ,প্রসাদ ,প্রসাদ। আমি তাহলে উঠি ? জয়গুরু তিনি ভারত ভ্রমনে বেরোলেন। আমার ইচ্ছা ছিল বয়েস হয়ে গেছে ট্রেনে , প্লেনে নিয়ে যাওয়া যায় যদি ,সেই অনুযায়ী আমি চুপ চাপ কিছু প্লেনের টিকিট বানিয়ে ফেললাম যে আমার বাবা প্লেনে প্লেনে কয়েকজন সাথে নিয়ে যাবেন। গাড়ি গুলো পাঠিয়ে দেয়া যাবে ,গাড়ি নিয়েও লোক চলে যাবে কোনও অসুবিধা হবেনা। এইসব সাত পাঁচ ভেবে আমি বাবাকে বললাম আমার বাবা নাছোড় বান্দা ,(পূজনীয় বাবাইদাদা আবার বললেন আচার্য্যদেব )85বছর বয়সে এখনো 15 বছরের দীপ্তি। তিনি এখনই 6000কিলোমিটার ঘুরে এলেন সারাভারত।
আর রাস্তা দিয়ে গাড়ি করে মোটর যোগে এই ভূভারত ঘুরলেন। 6000কিলোমিটার তার বেশি। কোথাও অসুস্থ হননি ,অপলকে দর্শন প্রণাম ,বেখ্যা করা সব করলেন। কত জায়গায় কত মানুষ এরকম পড়ে ছিল। তো আমাদের যাত্রা পথে শোলাপুর বলে একটি জায়গায় আমরা রাত্রি বাস করতে বাধ্য হলাম। কেননা ,আমরা বাদলাপুর থেকে পুণা মন্দিরের ভিত্তি স্থাপন করা হলো। করে হায়দ্রাবাদের পথে যাওয়া হচ্ছে। প্রায় 700-800কিলোমিটার পড়ে যাবে ,তো ওরকম পক্ষে 800কিলোমিটার যাওয়া কষ্ট কর। তখন শোলাপুর বলে একটি জায়গায় নির্ধারণ করা হলো জানা গেলো সোলাপুরে কোনও গুরুভাই নাই। হায়দ্রাবাদে থাকেন যে সমস্ত কর্মীরা তাদের সহযোগিতা নিয়ে সোলাপুরে একটি জায়গা নির্ধারণ করে সেখানে রাত্রিবাসের ব্যবস্থা হলো। সেখানে রাত্রি বাস করার জন্য পৌঁছলাম তখন বিকেল বেলা। শেষে দেখা গেলো একটি গুরুভাই আমাদের কৃষ্ণনগরের যেখানে আগামী ঋত্বিক সম্মেলন হতে চলেছে সেখানে অচিন্ত্য পাল বলে একজন থাকেন নিয়ত কর্মীতার তার ভাইপো না ভাগ্নে সে থাকে সেখানে। এই একটি গুরুভাই পাওয়া গেলো। আলাপ করতে করতে দেখাগেলো দ্বিতীয় গুরুভায়ের উত্থান হলো। ওখানে আলাপ করতে করতে সন্ধান হলো দেখাগেলো আর একজন গুরু ভাইয়ের সন্ধান পাওয়া গেলো তিনি সেই সময় নেই।
আর বাবা ওখানে অবস্থান করার সময় প্রচুর দীক্ষাও হয়ে গেলো। ওখানে এরকম একটি টেন্ট মতো ছিল সেখানে আমরা বসলাম ,বসে ঘন্টা খানেক ধরে ঠাকুরের আলোচনাই চলতে থাকলো চলতে থাকলো। এই চলাকালীনই ওখানে যেখানে ছিলেন তার ম্যানেজার তার ভাই তার staff সবার দীক্ষা হয়ে গেলো। তো এইটা হচ্ছে ঠাকুরের দয়া ,বলতেই যেন থামিনা। বললে যদি থেমে যেতাম আরামের যদি সন্ধান করতাম এই কটা দীক্ষা হতোনা। শোলা পুরের কাছে তিলযা পুর বলে একটি জায়গা আছে মহারাষ্ট্রে ,লাতুর বলে একটি জায়গা আছে। সেই তুলযা পুর ,লাতুর অঞ্চলে যেই সব গুরু ভাইরা ছিলেন ,তারা ঝিমিয়ে গেছিলেন। বাবার এই আগমনে তাদের সকলের চোখে জল। সকলের ভাবাবেগ জাগ্রত হলো। সেখানে কর্মীরা সব এলেন তাদের সাথে আলাপ হলো। তারা সব আবার পুনরুত্থিত হলেন। পুনর্জাগ্রত হলো। এই যে লাতুর বলে যে জায়গাটির ঘটনা বলে আমি শেষ করছি।
লাতুর মহারাষ্টের একটি নগরে 1988/89 সেখানে মহা ভূমিকম্প হয়। বড়ো বড়ো বাড়ি সেখানে বিধস্ত হয়ে সেখানে ভূগর্ভে চলে যায়। বিশাল ভূমিকম্প ,সে ভূমিকম্পের ঝটকা দেওঘরেও পেয়েছিলাম আমরা। বিশাল ভূমিকম্প, ত্রাণ ট্রান সরকার থেকে পাঠানো হয়। আর্মির বহু লোক যান। সেখানে রক্ষার একটা ব্যবস্থা সরকারের তরফ থেকে করা হয়ে ছিল। বেশ কিছু বছর বাদে ট্রেন সফররত একটি দাদা দেওঘরে আসছেন। সহযাত্রী একজনের সাথে তার আলাপ হচ্ছে। আলাপ চারিতায় জিজ্ঞাস করলেন আপনি কোথায় যাচ্ছেন ?বললো দেওঘরে যাচ্ছি। বললো দেওঘরে কোথায় যাবেন ?বললো সৎসঙ্গ আশ্রম আছে সেখানে পাশেই আমার বাড়ি সেখানে যাবো। তখন বলছে যে ,আপনি ভাগ্যবান। দেওঘর গামী দাদাটি জিজ্ঞাস করছেন ,আপনি কি দীক্ষিত ?তখন ওই ভদ্রলোক বলছেন ,না আমি দীক্ষিত না। তাহলে আপনি আমাকে ভাগ্যবান বললেন কেন ?তখন বলছেন যে ,আমি আসলে আর্মির লোক। লাতুরে ভূমিকম্প হয়েছিল বছর খানেক আগে। সেখানে, স্মশানের নিস্তব্ধতা। বিশাল বিশাল ইমারত ধুপ ধাপ করে মাটির তলায় চলে গেছে। আমি ,আর্মির লোকরা সব টহল দিচ্ছি। কোথাও যদি ভাঙা বাড়ীর তলায় কেউ যদি চাপা পড়ে থাকে ,কাউকে উদ্ধার করা যায় এই সব করে যাচ্ছি আমরা। আর সেই মৃত্যু স্মশানের মাঝে কিছু ছোট ছোট বাড়ি আর হাসি মুখের কিছু লোক আমাদের পথ দেখাচ্ছেন,উৎসাহ দিচ্ছেন ,সাহায্য করছেন। এই সব দেখে আমি প্রত্যেকটা বাড়িতে বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া শুরু করলাম। তো দেখলাম ,প্রত্যেকটা বাড়ীতে একটা জিনিস common রয়েছে ,একটা জিনিস সব বাড়িতেই রয়েছে। একটি ছবি।
ঐ মৃত্যু স্মশানের মাঝে দেবদূত গুলোকে দেখে বললাম তোমরা কারা? এই খানে মৃত্যুর হাহাকার আর তোমরা উজ্জ্বল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছ ,আমাদের পথ দেখাচ্ছ ,সাহায্য করছো ,তোমরা কারা ?তখন তারা বললো যে আমরা -শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের চরণাশ্রিত। এই ভূমিকম্পে দেখুন বড়ো বাড়ি ভেঙে পড়েছে। বড়ো বড়ো মহল ভেঙে পড়েছে আর আমরা তো সাধারণ কুটিরে থাকি ,ভাঙেনি।
তিনি আমাদের রক্ষা করেছেন। তিনি আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছেন।
~পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব
স্থান :-রাজ্জ্যিক উৎসব স্থল ,ত্রিপুরা