11/10/2026
মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রাহঃ-কে নিয়ে জনৈক ফিতনাবাজ খারেজীর বার বার ইতরামীর জবাব-
Mohammed Alamgir
বন্ধুর মুখ থেকে কোনো শব্দ বাহ্যত খারাপ দেখালেও মূলত তাতে রয়েছে ভালোবাসা।
দূষমনের মুখের শব্দ যদিও মধুর মনে হয় কিন্তু তাতেও বিষ লুকিয়ে থাকে।একই ফুল থেকে ভিমরুল ও মৌমাছি মধু আহরণ করে।ভিমরুলের পেটে গিয়ে হয় বিষ,আর মৌমাছির হয় মধু এবং এবং শেফা।
ইবলিস আনা বলেছিলো অহংকারের উপর।কিন্তু মানসুর হাল্লাজের আনা বলা ছিলো ভালেবাসার অতিশয্যে।
ফিরআউন আনা বলে ধ্বংস হয়েছে,বায়েজিদ বোস্তামী সুবহানী বলে নৈকট্যলাভে ধন্য হয়েছেন।
মুমিন কোনো কিছু বললে তাতেও ঈনানের খুশবু থাকে, মুনাফিকের হলে তাতে দূর্গন্ধ ছড়ায়।
সুতরাংসবার জন্য একই হুকুম নয়।
এবার মূল আলেচনায় আসি-
তাফসীরে নূরুল ইরফানে সূরা কাহাফের
৭৩নং আয়াত-
قَالَ لَا تُؤَاخِذۡنِیۡ بِمَا نَسِیۡتُ وَ لَا تُرۡہِقۡنِیۡ مِنۡ اَمۡرِیۡ عُسۡرًا
বললো ‘আমাকে আমার ভুলে যাবার জন্য পাকড়াও করো না এবং আমার উপর আমার কাজের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি করো না’।
এর তাফসীরে লিখেছেন-
"اپ کا عہد لینا اوراپنا یہ وعدہ کچہ بہی یادنہ رہا شریعت میں بہول چہوک پرگناہ نہیں، لہذ آپ بہی درگزرفرمائیں، اس سے معلوم ہوا کہ انبیاء کرام کو بہول چہوک ہوجاتی ہے، یہ بہی معلوم ہوا کہ پیرکوچاہئے کہ لوگوں کودہڑ ادہڑمریدبنانے پرحرلیص نہ ہو۔ بلکہ مرید صادق کا امتحان لرے۔ (روح
আমার স্মরণ ছিলোনা যে,আপনি আমার থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন। আর আমারও এ ওয়াদা ছিলো। শরীয়তে ভুল-চুকের উপর গোনাহ নেই। সুতরাং আপনিও আমাকে ক্ষমা করুন।
এথেকে বুঝা গেলো যে,সম্মাণিত নবীগণের ভুল-চুক হয়ে যায়। এটাও বুঝা গেলো যে,পীরের উচিৎ নয় যে,লোকজনকে তাড়াহুড়ো করে মুরীদ বানানো। বরং সত্যিকার মুরীদের পরীক্ষা নেন। (রুহুল বয়ান)
এই হলো পরিপূর্ণ ইবারত।এই হলো পূর্ণ তাফসীর। সেখানে আগেই বলে দেয়া আছে-...শরীয়তে ভুল-চুকের উপর গোনাহ নেই।
যখন আগেই বলা হলো যে,এটা গোনাহ নয়,তখন পরের অংশটি নিয়ে ফিতনা তৈরী করার নামই কী আমানতদারীতা?এটাই কী খিয়ানত বিরোধীতার নমুনা?আমরাতো আর বালাকোটি-ওহাবীদের মতো এই আকীদা রাখিনা যে,নবীগণ নিষ্পাপ নন,কিংবা ওনারা গোনাহ্ করেছেন (নাউযুবিল্লাহ্) । বরং যে অংশ দিয়ে বালাকোটি-ওহাবীরা ধোকাবাজি করে এটাকে নবীগণের শানে গোস্তাখী বুঝাতে চাইলো-সেই একই তাফসীরে আগেই বলা হয়েছে এটা গোনাহ্ নয়!যখন বলাই হলো এটা গোনাহ্ নয়,তখন জোর করে এটাকে গোনাহ্ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা কেনো?যা গোস্তাখী নয় তাকে কেনো জোরপূর্বক গোস্তাখী বলে চালানোর এই ব্যর্থ অথচ নীচুতর প্রচেষ্টা?
কিন্তু যাত্রাপালার ভিডিও বানানোর ডাবল সেঞ্চুরীর রেকর্ড গড়া নাপাক আকীদা পোষণকারী এক খারেজী বার বার শুধুমাত্র-
اس سے معلوم ہوا کہ انبیاء کرام کو بہول چہوک ہوجاتی ہے
এই অংশটিই মানুষের সামনে তুলে ধরে ফিতনা ছড়াচ্ছে।তকি উসমানী কিংবা মওদূদীর লক্ষ ছিলো নবীকে ছোট করা।আর মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রাহঃ নবীর শানকে বুলন্দ করেছেন।এবিষয়ে তাঁর লিখিত কিতাব দরসুল কুরআন, শানে হাবীবুর রহমান,জাআল হক ইত্যাদী সাক্ষী তিনি কী পরিমাণ নবীগণের শান রক্ষায় লিখেছেন।
যে অংশটি তারা দেখিয়ে ফিতনা ছড়াচ্ছে মুফতি সাহেব এই জাতীয় তোহমত থেকে সম্পূর্ণ পাক।তাঁর এজাতীয় কোনো আকীদা ছিলোনা।এখানে বড়জোর তিনি শব্দ চয়নে ভুল করেছেন এতোটুকুই বলা চলে।সারা জীবন তিনি নবীগণের শান রক্ষায় ব্যয় করেছেন।তাকেই অপবাদ দেয়া হচ্ছে গোস্তাখীর!
এই বিষয়টি নিয়ে আমি আমার লিখিত আল-বুরহান ফি রদ্দিল বোহতানে বিস্তারিত লিখেছি।
অথচ সৈয়দ আহমদ রায় বেরলভীর আকীদা হলো নবীর খেয়াল গরু গাধার খেয়াল থেকে খারাপ।আর তার প্রধান পাণ্ডা ইসমাঈল দেহলভীতো নবীর শানে গোস্তাখীতে ইবলিসেরও উস্তাদ।
সুতরাং মওদূদীও তকি উসমানীর উপর যে হুকুম সে হুকুম মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রাহঃ'র উপর হবেনা।তাতে বালাকোটি-ওহাবীরা কিংবা দেওবন্দী-ওহাবীরা যতই চিৎকার করুক এটাই সঠিক।