Sanatan Dharma Kotha

Sanatan Dharma Kotha ধর্মই- একমাএ সাধনা-সমাধী-মোক্ষ এর মূল ভূমি। online satsong

পরমেশ্বর শিবের সান্নিধ্যে পৌঁছানোর পর জীবনের প্রধান পরীক্ষাগুলো কেমন হয়, তা নিচে আলোচনা করা হলো:  ১. চরম একাকীত্ব ও দূরত...
14/08/2026

পরমেশ্বর শিবের সান্নিধ্যে পৌঁছানোর পর জীবনের প্রধান পরীক্ষাগুলো কেমন হয়, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. চরম একাকীত্ব ও দূরত্বের পরীক্ষা
ব্যাখ্যা: পরমেশ্বর শিব হলেন পরম বৈরাগী। তাঁর সান্নিধ্য পেতে হলে আপনাকেও সমস্ত মোহ ও আসক্তি থেকে মুক্ত হতে হবে। এই স্তরে পৌঁছালে চারপাশের মানুষ আপনাকে ভুল বুঝতে শুরু করতে পারে, এমনকি প্রিয়জনেরাও দূরে সরে যেতে পারে। আপনি নিজেকে একদম একা আবিষ্কার করবেন, যেখানে আপনার একমাত্র অবলম্বন থাকবেন মহাদেব। এটি আপনার একাকীত্ব সহ্য করার এবং অন্তর্মুখী হওয়ার পরীক্ষা।

২. তীব্র মানসিক ও শারীরিক কষ্টের পরীক্ষা
ব্যাখ্যা: পরমেশ্বর শিব হলেন আশুতোষ, আবার তিনি রুদ্রও বটে। আপনার অতীতের সমস্ত কর্মফল বা নেতিবাচক শক্তিকে এক ঝটকায় পরিষ্কার করার জন্য তিনি অনেক সময় তীব্র শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক অবসাদ বা হঠাৎ আসা বিপদের মুখোমুখি করেন। এই পরীক্ষাটিতে আপনার ধৈর্য এবং বিশ্বাসের শক্তি মাপা হয়—চরম প্রতিকূল অবস্থাতেও আপনি তাঁর নাম জপতে পারছেন কি না।

৩. আত্ম-অহংকার ও আত্মমর্যাদার চূর্ণ হওয়া
ব্যাখ্যা: পরমেশ্বর শিবের আশীর্বাদ পেতে গেলে আপনার ভেতরের অহংকারকে পুড়িয়ে ছাই হতে হয়। আপনার জীবনে এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে আপনার আমিত্ব বা অহংকার চরম আঘাত পাবে। আপনার সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। এই পরীক্ষাটি হলো আপনি নিজের আমি কে বিসর্জন দিয়ে সম্পূর্ণ সমর্পণ করতে পারছেন কি না তা যাচাই করার জন্য।

৪. চারপাশের নিন্দা ও অপমানের পরীক্ষা
ব্যাখ্যা: আপনি যখন সৎ পথে ও পরমেশ্বর শিবের সাধনায় মগ্ন থাকবেন, তখন সমাজ বা কাছের মানুষেরা আপনার নামে অপবাদ রটাতে পারে বা আপনাকে নিয়ে উপহাস করতে পারে। এই অপমান নীরবে সহ্য করার ক্ষমতা এবং লোকলজ্জার ভয় পেরিয়ে শুধুমাত্র মহাদেবের দিকে তাকিয়ে থাকার শক্তি অর্জনই হলো এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য।

৫. চরম অনিশ্চয়তার পরীক্ষা
ব্যাখ্যা: পরমেশ্বর শিব শ্মশানবাসী, যার কাছে জীবনের কোনো কৃত্রিম সাজসজ্জার মূল্য নেই। জীবনের সমস্ত নিশ্চিত নিরাপত্তা ও আরামের অনুভূতি সাময়িকভাবে কেড়ে নিয়ে তিনি আপনাকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিতে পারেন। কাল কী হবে তা না জেনেই কেবল তাঁর ওপর অন্ধ বিশ্বাস রেখে পা বাড়ানোর নামই হলো এই ফাইনাল টেস্ট।

উপসংহার:
মনে রাখবেন, স্কুলে কঠিন পরীক্ষা মানেই শিক্ষক আপনার মেধা সম্পর্কে নিশ্চিত এবং তিনি আপনাকে পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করতে চান। ঠিক তেমনই, পরমেশ্বর শিবের এই পরীক্ষাগুলো কোনো শাস্তি নয়; এগুলো হলো আপনার আত্মাকে আরও শক্তিশালী ও বিশুদ্ধ করার প্রক্রিয়া। যখনই পরীক্ষা কঠিন হবে, বুঝবেন আপনি তাঁর আরও বেশি কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।
ওঁ নমঃ শিবায়! হর হর মহাদেব!

মহাবিদ্যা ‘হংসবিদ্যা’ সাধনায় হংস বিদ্যা বা হংস মন্ত্র হলো মূলত  পরমাত্মা প্রাপ্তির এক নিগূঢ় সাধন-পদ্ধতি। এটি কোনো স্বত...
22/07/2026

মহাবিদ্যা ‘হংসবিদ্যা’
সাধনায় হংস বিদ্যা বা হংস মন্ত্র হলো মূলত পরমাত্মা প্রাপ্তির এক নিগূঢ় সাধন-পদ্ধতি। এটি কোনো স্বতন্ত্র দেবী বা দশমহাবিদ্যার নাম নয়, বরং সাধনায় শিবশক্তি রূপ পরমাত্মা এবং জীবাত্মার অভিন্নতা উপলব্ধির একটি সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া।
সাধনায় এই হংস বা প্রাণশক্তিকে ব্রহ্মবিদ্যা বা মোক্ষ লাভের প্রধান উপায় হিসেবে দেখা হয়। সমস্ত বিদ্যা ও মহাবিদ্যার উৎস বা প্রতীকী প্রকাশ হিসেবে এই দিব্য হংসবিদ্যা তত্ত্বকে বর্ণনা করা হয়েছে।
যে গুরু এই পরমেশ্বরী মহাবিদ্যা ‘হংসবিদ্যা’ প্রদান করেন, তাঁর প্রতি সর্বদা গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিসহকারে সেবা করা উচিত ॥
এই জগতে হংসবিদ্যা ব্যতীত নিত্যত্বলাভের অন্য কোনো সাধন নেই ॥
গুরু এই জগতে শুভ বা অশুভ — যা কিছু নির্দেশ দেন, শিষ্য সন্তুষ্টচিত্তে কোনো প্রকার বিচার-বিশ্লেষণ না করে তা পালন করবে ॥
গুরুর সেবা ও শুশ্রূষার মাধ্যমে এই হংসবিদ্যা লাভ করে, সাধক স্থিরবুদ্ধি দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে নিজের আত্মার মধ্যেই ব্রহ্মকে উপলব্ধি করেন ॥
এর ফলে তিনি দেহ, জাতি, বর্ণ, আশ্রম প্রভৃতি সকল উপাধিজনিত সম্পর্ককে অতিক্রম করেন ॥
যে ব্যক্তি এই হংসবিদ্যার প্রকৃত জ্ঞান লাভ করেছেন, তিনি অন্যান্য গ্রন্থকে পথের ধূলির ন্যায় পরিত্যাগ করতে পারেন---কিন্তু কখনও গুরুকে পরিত্যাগ করবেন না, কারণ তিনিই এই জ্ঞান দান করেছেন ॥
মানুষের উচিত সর্বদা অধিকতর কল্যাণ লাভের জন্য গুরুর প্রতি গভীর ভক্তি রাখা। কারণ, শ্রুতি ঘোষণা করেছে — ‘গুরুরূপেই শিব বিরাজমান ; তিনি ব্যতীত অন্য কেউ নন’ ॥
রাজহাঁস যেমন জলের মাঝে থেকেও তার গায়ে জল লাগতে দেয় না, ঠিক তেমনি হংসবিদ্যা আয়ত্তকারী সাধক সংসার-মোহের মাঝে থেকেও নির্লিপ্ত বা পরমহংস হয়ে থাকেন।
শ্রুতিতে যা পরমার্থতত্ত্বরূপে ঘোষিত হয়েছে, তাই নিঃসন্দেহে সত্য ; তার বিপরীত যা কিছু, তা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য। যে মত বা বক্তব্য শ্রুতির বিরোধী নয়, কেবল তাই প্রমাণরূপে গ্রহণযোগ্য; আর যা শ্রুতিবিরোধী, তা অনর্থের কারণ এবং কখনও প্রমাণ বলে গণ্য হতে পারে না ॥
গুরু যখন শিষ্যকে উপদেশ দেন, তখন তিনি শিক্ষা দেন— উপদেশের মাধ্যমে জীব পরমতত্ত্বের দিকে অভিমুখী হয় এবং পশুভাব (অজ্ঞতা ও বন্ধন) অতিক্রম করে ॥
জীব শক্তিস্বরূপ, শিবেরই অংশরূপ ; এবং শিবের সঙ্গে ঐক্যলাভের ফলে সে শিবসাম্য (শিবতুল্য অবস্থা) লাভ করে ॥

চাতুর্মাস্য ব্রতচাতুর্মাস্য ব্রত হলো আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী থেকে কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী পর্যন্ত পালিত ...
16/07/2026

চাতুর্মাস্য ব্রত
চাতুর্মাস্য ব্রত হলো আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী থেকে কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী পর্যন্ত পালিত একটি পবিত্র সংযম ও উপবাস ব্রত।
এই শয়ন একাদশী থেকে উত্থান একাদশী পর্যন্ত মোট চার মাস। শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক। শয়ন একাদশী, কিংবা কর্কট সংক্রান্তি কিংবা আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে চাতুর্মাস্য ব্রত শুরু হয় এবং যথাক্রমে উত্থান একাদশী, কিংবা বৃশ্চিক সংক্রান্তি কিংবা কার্তিকী পূর্ণিমাতে ব্রত সমাপ্ত হয় ।
চাতুর্মাস্য ব্রত হলো সনাতন ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র ও চার চান্দ্রমাস ব্যাপী পালিত একটি বিশেষ তপস্যা ও সংযমের সময়কাল।
আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের 'শয়নী একাদশী' তিথিতে শ্রীভগবান বিষ্ণু ক্ষীর সাগরে শ্বেতদ্বীপে অনন্ত শেষনাগের শয্যায় নিদ্রিত হন --তারপর যেদিন তিনি পাশ ফিরে শয়ন করেন, সেদিন পার্শ্ব একাদশী (ভাদ্র শুক্লা একাদশী) এবং কার্তিক মাসের 'উত্থান একাদশী' তিথিতে চার মাস পর জাগ্রত হন।
ভগবানের এই নিদ্রাকালীন সময়টাকেই চাতুর্মাস্য বলা হয় এবং এই সময়ে ভক্তরা নিজেদের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য বিশেষ কিছু নিয়ম ও ব্রত পালন করেন।
এই শয়ন একাদশী থেকে উত্থান একাদশী পর্যন্ত মোট চার মাস। শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক। শয়ন একাদশী, কিংবা কর্কট সংক্রান্তি কিংবা আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে চাতুর্মাস্য ব্রত শুরু হয় এবং যথাক্রমে উত্থান একাদশী, কিংবা বৃশ্চিক সংক্রান্তি কিংবা কার্তিকী পূর্ণিমাতে ব্রত সমাপ্ত হয় ।
এই চাতুর্মাস্য ব্রতের ব্রতকারীরা কেউ শয়ন একাদশী থেকে উত্থান একাদশী পর্যন্ত, কেউ আষাঢ় মাসের গুরু পূর্ণিমা থেকে কার্তিক মাসের হৈমন্তী রাস পূর্ণিমা পর্যন্ত, আবার কেউ কর্কট সংক্রান্তি থেকে মকর সংক্রান্তি পর্যন্ত- এইভাবে পালন করে থাকেন। মোটামুটি যে দিন শুরু করবেন তার চার মাস পরে সমাপন করবেন।
বছরের এই চারি মাস প্রাকৃতিক কারণে মানুষের দেহ ও মনে রজো ও তমোগুণী প্রভাব অধিক দেখা যায়। ফলে আমাদের সমাজে লক্ষ্য করা যায়, যত রকমের দুর্যোগ, অশান্তি, মারামারি, কাটাকাটি, হিংসা বছরের সবসময় হলেও এ চার মাসে সর্বাধিক। পশু, পাখি, কীট, পতঙ্গেরাও এ সময়ে বেশি উগ্র প্রকৃতির হয়। শরীর ও মনের উত্তেজনা অধিক থাকে। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মাৎসর্যাদি প্রবল হয় । অর্থাৎ যারা লক্ষ্মীমন্ত হতে চায়, তারা অবশ্যই এ সময় ভক্তিযোগ সাধন করবে। সংযত থাকবে। সেজন্য দিনের বেলা ঘুমানো নিষেধ, শ্রীহরির বিগ্রহ অর্চনা করা, স্নান করা ও শুচি থাকা, হরিনাম জপ করা, গীতা-ভাগবত, চৈতন্যচরিতামৃত অধ্যয়ন করা, ঘর-দুয়ার পরিষ্কার রাখা, সাত্ত্বিক খাবার গ্রহণ করা, সংযতভাবে কথা বলা, শুভ কাজে যুক্ত থাকা দরকার।
চাতুর্মাস্য ব্রতের তারিখ ও তিথি 2026 সালে চাতুর্মাস 25শে জুলাই, শনিবার (দেবশয়নী একাদশি) থেকে শুরু হয়ে 21শে নভেম্বর, শনিবার (দেবউত্থানি একাদশি) পর্যন্ত চলবে।
এই চাতুর্মাস্য ব্রতের ব্রতকারীরা কেউ শয়ন একাদশী থেকে উত্থান একাদশী পর্যন্ত, কেউ আষাঢ় মাসের গুরু পূর্ণিমা থেকে কার্তিক মাসের হৈমন্তী রাস পূর্ণিমা পর্যন্ত, আবার কেউ কর্কট সংক্রান্তি থেকে মকর সংক্রান্তি পর্যন্ত- এইভাবে পালন করে থাকেন। মোটামুটি যে দিন শুরু করবেন তার চার মাস পরে সমাপন করবেন।
ভবিষ্য পুরাণে বলা হয়েছে:---
❝ যো বিনা নিয়মং মর্ত্যো ব্রতং বা জপ্যমেব বা।চাতুর্মাস্য নয়েন্ মূর্খো জীবন্নপি মৃতো হি সঃ ॥ ❞ ‌
অনুবাদ: যে ব্যক্তি নিয়ম, ব্রত বা হরিনাম জপ ছাড়া এ চার মাস অতিবাহিত করে, সে ব্যক্তি মূর্খ, সে বেঁচে থেকেও মরার মতো ।
এই ব্রতের মূল উদ্দেশ্য হলো জাগতিক আসক্তি কমানো এবং ভগবানের আরাধনায় সময় কাটানো।
বিশেষ নিয়মাবলি: এই চার মাস নিরামিষ ভোজন করতে হয় এবং প্রতি মাসে একটি করে প্রিয় খাদ্য বর্জন করার নিয়ম রয়েছে।
পালনের নিয়ম ও মাসভিত্তিক বর্জনীয় বিষয়:------
এই চার মাসে ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট খাবার বর্জন করতে হয়:
1. প্রথম মাস (আষাঢ়/শ্রাবণ): শাক বা পাতাযুক্ত সবুজ শাকসবজি খাওয়া নিষেধ।
(বর্জনীয় ━ সকল প্রকার শাক, লাল ও সবুজ পালং শাক এড়িয়ে চলতে হবে & গ্রহণযোগ্য ━ ধনে পাতা, মেথি পাতা, পুদিনা পাতা, কারি পাতা, নিম পাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি শাক না হওয়ায় খাওয়া যেতে পারে।)
রাত্রে টক, তিতা ও শাক ভক্ষণে দরিদ্রতা।
2. দ্বিতীয় মাস (শ্রাবণ/ভাদ্র): দই বা ঘোল খাওয়া বর্জনীয়।
(বর্জনীয় ━ প্রধানত দই এবং দই দিয়ে তৈরি উপদান যেমন লস্যি, কারি, বাটার মিল্ক প্রভৃতি এড়িয়ে চলতে হবে & গ্রহণযোগ্য ━ চরণামৃতে দই থাকলেও সম্মানের সাথে গ্রহণ করা উচিৎ।)
3. তৃতীয় মাস (ভাদ্র/আশ্বিন): দুধ খাওয়া নিষেধ।
(বর্জনীয় ━ প্রধানত দুধ এবং দুধ দিয়ে তৈরি উপদান যেমন দুধ দিয়ে তৈরি পায়েস, মিল্ক শেক, আইসক্রিম, কনডেন্সড মিল্ক প্রভৃতি এড়িয়ে চলতে হবে & গ্রহণযোগ্য ━ দুধের মিষ্টি যেমন রসগোল্লা, সন্দেশ; দুগ্ধজাত দ্রব্য যেমন ছানা, পনীর যেহেতু দুধ রূপান্তরিত এবং ব্যবহৃত। চরণামৃতে দই থাকলেও সম্মানের সাথে গ্রহণ করা উচিৎ।)
দুধের সঙ্গে লবণ ভক্ষণ গো-মাংস তুল্য।
4. চতুর্থ মাস (আশ্বিন/কার্তিক): মসুর ডাল বা দ্বিদলীয় শস্য বর্জন করতে হয়।
(বর্জনীয় ━ প্রধানত মসুর ডাল এবং বিউলির ডাল + মসুর ডাল এবং বিউলির ডাল দিয়ে তৈরি উপদান যেমন ইডলি, ধোসা, বিউলির ডালের বড়ি, অমৃতি প্রভৃতি এড়িয়ে চলতে হবে। তাছাড়া কার্তিক মাসে শিম, বেগুন, পটল, কলমি শাক, বটবটি, দেশী লাউ, মুলো ইত্যাদি খাওয়া যাবে না & গ্রহণযোগ্য ━ মসুর ডাল এবং বিউলির ডাল বাদে যে কোন ডালই খাওয়া যাবে।)
চাতুর্মাস্য ব্রত ও নিয়ম----তিথির ক্ষেত্রে নিয়ম:-----------
প্রতিপদ :- কুমড়ো ভক্ষণে অর্থহানি।
দ্বিতীয়া :- বেগুন ভক্ষণে হরিভজনে বিঘ্ন।
তৃতীয়া :- পটল ভক্ষণে শত্রু বৃদ্ধি।
চতুর্থী :- মূলা ভক্ষণে ধর্মহানি।
পঞ্চমী :- বেল ভক্ষণে কলঙ্ক ।
ষষ্ঠী :- নিমপাতা ভক্ষণে পক্ষীযোনি প্রাপ্ত।
সপ্তমী :- তাল ভক্ষণে শরীর বিনাশ।
অষ্টমী :- নারিকেল ভক্ষণে মূর্খতা প্রাপ্ত।
নবমী :- লাউ ভক্ষণে গো-মাংস তুল্য।
দশমী :- কলমিশাক ভক্ষণে গো-হত্যা পাপ ।
একাদশী :- শিম ভক্ষণে মহা-পাপ।
দ্বাদশী :- পুঁইশাক ভক্ষণে ব্রহ্মহত্যা পাপ।
ত্রয়োদশী :- বেগুন ভক্ষণে পুত্রহানি।
চতুর্দশী :- মাষকলাই ভক্ষণে চির রোগ।
অমাবস্যা ও পূর্ণিমা :- মাংস ভক্ষনে মহা-মহা পাপ।
ব্রতের মূল নিয়ম ও আচরণীয় কর্তব্য:------------
1. ভক্তি বৃদ্ধি: এই চার মাস অধিক মাত্রায় ভগবানের নাম জপ, কীর্তন ও ধর্মীয় গ্রন্থ (যেমন ভাগবত গীতা) পাঠ করা উচিত।
2. শুদ্ধাচার পালন: ব্রহ্মচর্য পালন করা এবং মাটিতে ঘুমানো অত্যন্ত পুণ্যদায়ক বলে মনে করা হয়।
3. শুভ কাজ নিষিদ্ধ: ভগবান বিষ্ণু নিদ্রিত থাকায় এই চার মাস বিবাহ, পৈতা (উপনয়ন), গৃহপ্রবেশ বা নতুন কোনো ব্যবসায়িক শুভ কাজ করা শাস্ত্র মতে নিষিদ্ধ।
4. সংযম ও দান: পরনিন্দা, পরচর্চা ও অহংকার ত্যাগ করে সাধু-সন্ন্যাসী ও দরিদ্রদের অন্ন বা বস্ত্র দান করা অত্যন্ত ফলদায়ী।
সংকল্প মন্ত্রব্রতের শুরুতে পবিত্র মনে নির্দিষ্ট নিয়মে সংকল্প করতে হয়। সাধারণত এই মন্ত্র পাঠ করা হয়:
"ওঁ বিষ্ণুর্দেবতা চাতুর্মাস্যব্রতং মম। কার্স্ন্যাদিভোজ্যপরিত্যাগাৎ সম্পন্নমস্তু মে সদা।।"
(অর্থ: হে বিষ্ণু, তুমিই আমার দেবতা। আমি আমার এই চাতুর্মাস্য ব্রতে নির্দিষ্ট ভোজ্য (যেমন শাক, দই, দুধ বা আমিষ) পরিত্যাগের সংকল্প করছি এবং এর মাধ্যমে ব্রতটি যেন সর্বদা সফল হয়।)
চাতুর্মাস্য ব্রতে কি করনীয়
◼️চাতুর্মাস্য ব্রতের নিয়ম ভবিষ্য পুরাণে, স্কন্দ পুরাণে বর্ণিত হয়েছে। নিয়মগুলি হলো :-
1. ভোরে উঠে বিশেষত ব্রহ্মমুহূর্তে প্রাতঃকৃত্য সেরে পবিত্র জলে স্নান করতে হবে। ভক্তগণ তো ভোর চারটায় স্নান সেরে মঙ্গল আরতিতে যোগ দেন। যত্ন নেন কোনও দিন যেন ফাঁকি না যায়। মঙ্গলময় শ্রীহরির কৃপাকটাক্ষ লাভের উপযুক্ত ব্রাহ্মমুহূর্তে শুচিশুদ্ধ হয়ে জেগে থাকা বাঞ্ছনীয়।
2. হরিনাম জপ করতে হবে। যাঁরা হরিনাম করেন, তাঁদের আরো বেশি করে হরিনাম জপ করা উচিত। যারা হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করেন না, তাঁরা অবশ্যই শুরু করবেন। কলিবদ্ধ জীবের সদ্গতি লাভের একমাত্র উপায় হরিনাম। আমাদের মনকে সুরক্ষা দান করে মন্ত্র হরিনাম।
3. প্রতিদিন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবত প্রভৃতি গ্রন্থ পাঠ কিংবা আলোচনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভগবানের কথা, ভক্তের কথা আলোচনার মাধ্যমেই আমাদের হৃদয়ের কলুষতা দূর হয়ে আশা ও আনন্দ সঞ্চার হয়ে থাকে। যারা ভগবৎ কথায় সময় দিতে পারে না, তারা আজেবাজে কথায় সময় পেয়ে বসে।
4. প্রজল্প (তর্ক, গালগল্প, অনর্থক কাজ বা অলস সময়) এড়িয়ে চলতে হবে। কলিযুগের মানুষ আমরা তর্ক করতে, ঝগড়া বাধাতে, গালগল্পে খুবই উন্মুখ হয়ে থাকি। টিভি দেখা, নভেল পড়াও এর অন্তর্ভুক্ত। এসব অসৎসঙ্গ দোষ ছাড়া অন্য কিছু নয়।
5. শ্রীহরিভক্তিবিলাসে (15/122) বলা হয়েছে:---
❝ জপ হোমাদ্যনুষ্ঠানং নামসংকীর্তনস্তথা ।স্বীকৃত্য প্রার্থয়েদ্দেব্য গৃহীত নিয়মোবুধঃ ॥ ❞
অনুবাদ: বিজ্ঞব্যাক্তিগণ জপযজ্ঞাদি অনুষ্ঠান ও শ্রীনামসংকীর্তন প্রভৃতি ব্রতনিয়ম স্বীকার করবেন।
6. শ্রীহরি অর্চন কিংবা শ্রীহরিভক্তিমূলক অন্য কোনও সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে হবে। সবসময় জানতে হবে অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। আচারে হোক, প্রচারে হোক যেকোনও সেবায় সবসময় সংযুক্ত থাকতে হবে, তাহলেই আমরা ভালো থাকবো।
সার্বিক ব্রতনিয়ম থাকা সত্ত্বেও কোনও কোনও ব্রতকারী ব্যক্তিগত কিছু কিছু ব্রতসংকল্প করে থাকেন। তবে সেই আচরণগুলিও শাস্ত্রসম্মত। যেমন-
1. অনেকে সারাদিনে একবার মাত্র হবিষ্যান্ন গ্রহণ করেন; আবার অনেকে ফলমূল প্রসাদ মাত্র গ্রহণ করেন। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে এই ব্রত ধারণ করেন । তবে, খাওয়া-দাওয়া নিয়ে যারা তর্ক করে, কথা বাড়ায়, তারা ব্রত ভঙ্গ করছে বলে বুঝতে হবে।
2. শিম, বরবটি, বেগুন, পটল, আচার প্রভৃতি জিনিসও অনেকে বর্জন করে চলেন।
3. অনেকে মাটিতে শয়ন করেন।
4. অনেকে ক্ষৌরকর্ম বাদ দেন।
5. অনেকে কেবল হরিনাম ছাড়া অন্য কথা বলেন না, তাকে মৌন ভাব বলা হয়।
6. অনেকে থালা-বাটি ব্যবহার না করে কলাপাতা বা পদ্মপাতা ব্যবহার করেন।
7. আবার অনেকে শরীরে তেল মাখেন না।
এই সময়টিতে তুলসীতে জল দেওয়া, জপ করা, এবং ভগবানের নাম কীর্তন ও শাস্ত্র পাঠে মনোনিবেশ করা অত্যন্ত পুণ্যময় বলে মনে করা হয়।
এই ব্রত ফলে মন সুন্দর হয়, শরীর ও প্রাণ সুন্দর হয়। কারণ, শ্রীবিষ্ণু শয়ণ করলে লক্ষ্মীদেবী তাঁর পাদপদ্ম সেবা করতে থাকেন, আর সুন্দরভাবে ভগবান নিদ্রিত হন। সেই বিষ্ণু জনার্দন পরমাত্মারূপে জীব-হৃদয়ে বিদ্যমান। বিষ্ণু যখন সুন্দরভাবে নিদ্রা যান, তখন লক্ষ্মীদেবী চিন্তা করেন, পৃথিবীতে মানুষেরা খুব সুন্দরভাবে ধর্ম আচরণ করছে, তাই লক্ষ্মীদেবী তুষ্ট দৃষ্টিপাত করেন। সেই দৃষ্টিপাতে লক্ষ্মীমন্ত হয়। খাদ্য অভাব হয় না। অশান্তি বাড়ে না । আনন্দ বৃদ্ধি হয় । লোকে সুখে- শান্তিতে জীবনযাপন করে। কিন্তু, বিষ্ণুর নিদ্রা যখন ঠিক হয় না, সুন্দরভাবে বিশ্রাম নিতে পারেন না, তখন লক্ষ্মীদেবী চিন্তা করেন, পৃথিবীতে মানুষেরা উদ্ধৃত প্রকৃতির হয়েছে, অশিষ্ট-অনিষ্টাচারী হচ্ছে, অধর্ম আচরণ করছে, তাই লক্ষ্মী রুষ্ট দৃষ্টিপাত করেন। সেই দৃষ্টিপাতে মানুষ লক্ষ্মীছাড়া হয়। খাদ্যের অভাব দেখা দেয়। অশান্তি বৃদ্ধি পায় । অসুখ বৃদ্ধি পায়। লোকে দুঃখে-কষ্টে জীবন কাটায়।
❝ এবং চ কুর্বতো মাসাংশ্চতুরো যান্তি বৈ সুখম্।অন্যথা প্রভবেদ্ দুঃখম্ অনাবৃষ্টিশ্চ জায়তে ॥ ❞
অনুবাদ: “এভাবে চারি মাস ব্রত পালন করলে সুখে যাপন হবে। নতুবা দুঃখের প্রভাব বৃদ্ধি হবে, অনাবৃষ্টি ও অন্যান্য দুর্বিপাক লেগে থাকবে।”
সীতাদেবী অপহৃত হলেও শ্রীরামচন্দ্র রাবণের লংকারাজ্য আক্রমণ করেননি। তিনি চার মাস পরে লংকা আক্রমণ করবেন মনস্থ করলে লক্ষ্মণ উদ্বিগ্ন হয়ে এ চারমাসে সীতাদেবীর কী দশা হবে জানতে চাইলে রামচন্দ্র বললেন, সীতা ব্রতপরায়ণা, তার ধর্ম তাঁকে সুরক্ষা প্রদান করবে।
মথুরার কংস গোকুলে নন্দপুত্রের অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে অঘ, বক, পূতনা, শকট, তৃণাবর্ত প্রভৃতি ভয়ংকর মায়াবী অসুরদের পাঠিয়েছিল। কিন্তু যাকেই পাঠানো হলো, সেই মৃত্যুমুখে পতিত হলো। তাদের উৎপাতের ফলে গোকুলবাসীরা অহরহ ভগবৎ-স্মরণ করতে লাগল। এদিকে কংস প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেলে। কেননা, তার বিশাল বিশাল মায়াবী অস্ত্র শেষ হয়ে গেল। তার শ্বশুর জরাসন্ধ যখন দেখা করতে আসে, তখন কংস বলল, আমি সর্বস্বান্ত, একটাও অস্ত্র দেখছি না, যাকে বৃন্দাবনে পাঠাব। কংসের অত্যন্ত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখে জরাসন্ধ বলল, হুটপুটি করে কোনো লাভ নেই। এখানে একটামাত্র অস্ত্র নিয়ে বর্ষার চার মাস অপেক্ষা করতে হবে ━ তা হলো প্রতীক্ষা অস্ত্র। এখন কারো বিরুদ্ধে কিছু করতে গেলেই প্রতিকূল পথে পতিত হতে হবে।
“অনেক লোক আছেন যাঁরা উন্নততর জীবন অথবা স্বর্গারোহণ করবার জন্য চান্দ্রায়ণ, চাতুর্মাস্য আদি স্বেচ্ছামূলক তপশ্চর্যার অনুশীলন করেন। এ সমস্ত পন্থায় বিশেষ বিশেষ বিধি-নিষেধের মাধ্যমে জীবনযাত্রাকে পরিচালিত করার জন্য কঠোর ব্রত পালন করতে হয়। যেমন, চাতুর্মাস্য ব্রত পালনকারী চার মাস দাড়ি কামান না, নিষিদ্ধ জিনিস আহার করেন না, দিনে একবারের বেশি দুবার আহার করেন না অথবা কখনও গৃহ পরিত্যাগ করেন না। এভাবেই সাংসারিক সুখ পরিত্যাগ করাকে বলা হয় তপোময় যজ্ঞ।” শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (৪/২৮, তাৎপর্য)
আমাদের দেশে অনেকেই আমিষপ্রিয় ও নেশাপ্রিয় মানুষ রয়েছেন। সেক্ষেত্রে বলা হয়েছে, যদি কেউ চাতুর্মাস্যে মদ ও মাছ-মাংস বর্জন করতে পারে, তবে সে এক সুন্দর যোগী হতে পারবে, ওজস্বী ব্যক্তিত্ব হতে পারবে।
পরিশেষে, উল্লেখ্য এই যে, কর্মী, জ্ঞানী, যোগী ও ভক্ত প্রভৃতি সকলের মঙ্গলের জন্যই চাতুর্মাস্য পালন করা আবশ্যক। শ্রীহরির প্রতি একটু একটু ভক্তি অনুশীলন, একাদশী ব্রত পালন, আমাদের জীবনকে পবিত্র ও মহান করে তোলে। শ্রীব্রহ্মা নারদকে বললেন,” হে নারদ, যে মানুষ ভক্তি সহকারে চাতুর্মাস্য ব্রত পালন করবে, সে পরমা গতি বৈকুণ্ঠ জগতের বাসিন্দা হতে পারবে।”

বৈদিক শাস্ত্র এবং সত্যদ্রষ্টা ঋষিগণ নিত্য অনিত্য বিচার সহকারে 42 টি শিবানুশাসন কে  প্রতিটি মানুষের ধর্মআচরণ রূপে নিরূপণ ...
29/06/2026

বৈদিক শাস্ত্র এবং সত্যদ্রষ্টা ঋষিগণ নিত্য অনিত্য বিচার সহকারে 42 টি শিবানুশাসন কে প্রতিটি মানুষের ধর্মআচরণ রূপে নিরূপণ করেছেন। নিত্য অনিত্য বিচার সহকারে এই 42 টি বৈদিক-শিবানুশাসন সম্পূর্ণ জীবন ধরে পালন করে তবেই পরম মুক্তির পথে যাওয়া যায় ।
ধর্মআচরণহীন যে কোন প্রকারের সাধনা আসুরিক ভাব বৃদ্ধি করে ।তাই শাস্ত্রসম্মত নিত্য অনিত্য বিচার সহকারে এই 42 বৈদিক ধর্মাচরণ পালন করেই মুক্তির পথকে জানা বা পাওয়া সম্ভব-ধর্ম আচরণ ব্যতীত কোন যুগে কোন কালে কোন ব্যাক্তি কোনোভাবেই মুক্তির পথকে পেতে পারেনি আর ভবিষ্যতেও কেউ পাবে না ।
তাই ঈশ্বর প্রাপ্তির ইচ্ছুক বা সাধন ইচ্ছুক বা মুক্তি লাভে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা অতিযত্নে অতি সতর্কতার সহিত সর্বদা নিত্য অনিত্য বিচার সহকারে বৈদিক-শিবানুশাসন রুপি ধর্ম আচরণ নিজের বাস্তব জীবনে পালন করা অত্যন্ত আবশ্যক ।
শাস্ত্রসম্মত নিত্য অনিত্য বিচার সহকারে আচরণই একমাত্র পশুত্বকে মনুষ্যত্বে ,মনুষ্যত্বকে দেবত্বে এবং দেবত্বকে ব্রহ্মত্বে উপনীত করে
ধর্ম আচরণ বা ধর্ম শিক্ষা বা ধর্ম জ্ঞানহীন ব্যক্তি –সাধনা, পূজা, অনুষ্ঠান,তপস্যা করুক না কেন তাতে কখনো মনুষ্যত্বের বিকাশ হয় না
তাই মনুষ্যত্বের বিকাশ এর জন্য শাস্ত্রীয় ধার্মিক আচরণ অত্যন্ত আবশ্যক যা বেদান্ত জ্ঞান বা গুরুমুখী সাধনার মাধ্যমে প্রাপ্ত হওয়া যায়
শাস্ত্রসম্মত নিত্য অনিত্য বিচার সহকারে বৈদিক-শিবানুশাসন - আচরণ নিজের জীবনে পালন না করে জপ-ব্রত-তপস্যা-যোগসাধনা সবই অসম্পূর্ণ / অসফল হয়ে যায় ।
নিত্য অনিত্য বিচার সহকারে 42 টি বৈদিক-শিবানুশাসন
ধর্মআচরণ:----
1. সত্য ( কায়-মন-বাক্যে সর্বদা সত্য প্রতিষ্ঠিত থাকা )
2.অহিংসা ( পূর্ণরূপে হিংসা পরিত্যাগ করা)
3.অস্তেয় ( অন্যের শরীর সম্পদ সম্পর্ক সৌন্দর্য কোন দিকে তাকানোর অভ্যাস করা)
4.ব্রহ্মচর্য ( নিজের স্ত্রী বা নিজের স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো নারী বা পুরুষের দিকে প্রেম বা যৌন মনোভাব না রাখা)
5. অপরিগ্রহ ( শাস্ত্রীয় অধিকার ছাড়া কারো কাছেই কোনো দান গ্রহণ না করা )
6. শৌচ (দেহশুদ্ধি +ভাবশুদ্ধি + মন -চিন্তাশুদ্ধি )
7. সন্তোষ ( তুষ্ট থাকার অভ্যাস )
8. তপস্যা (আহারশুদ্ধি - সর্বপ্রকার দূষিত অন্ন সম্পূর্ণ রূপে ত্যাগ)
9. সাধ্যায় (রোজ শাস্ত্র অধ্যয়ণ -শাস্ত্রীয় আলোচনা ও নিত্যকর্ম, জপ ইত্যাদি )
10. ঈশ্বরপ্রাণিধান ( ঈশ্বর এ সম্পূর্ণ সমর্পন )
11. দয়া (দুর্বল, অসুস্থ ও নিরপরাধির যে কোনো প্রাণীর উপর )
12. তিতিক্ষা ( কষ্টকর অবস্থায় ধৈর্য্য ধারণ)
13. শম (মনের সংযম)
14. দম (ইন্দ্রিয়ের সংযম)
15. কখনো সুযোগ সন্ধানী না হওয়া - সুবিধাবাদি না হওয়া
16. আসক্তি-কামনা ত্যাগ ও আত্মচিন্তন
17. উপযুক্ত পাত্রে দান ও কর্মের দক্ষিনাদান
18. আর্জব (সরলতা)
19. যে কোনো অন্যায় বা শাস্ত্রবিরুদ্ধ কর্মে যুক্ত না থাকা- অন্যায় বা শাস্ত্রবিরুদ্ধ প্রশয় না দেওয়া এবং প্রয়োজনে ভয়মুক্ত মনে অন্যায় বা শাস্ত্রবিরুদ্ধ কর্মের প্রতিবাদ করা- প্রয়োজনে দুষ্টের দমন করা ।20. নিজের কামনা সিদ্ধির জন্যে কখনো কারো অনিষ্ট চিন্তা ও অনিষ্ট না করা
21. ঈক্ষা (বিবেক বিবেচনা দিয়ে চলা)- বিবেক-বিচার-বৈরাগ্য
22. মৌন (কথা না বলা নয় - শুধু বৃথা আলাপ ত্যাগ করা)
23.লোক কল্যাণ ভাবনা ও দেশভক্তি
24.কায়োমনোবাক্য গুরুসেবা এবং গুরুর আদেশ মাত্র সবসময় বিনা বিচারে, বিনা যুক্তিতে, বিনা তর্কে আদেশ পালন করা।
25. ঈশ্বরএ পরম ভক্তি , ব্রহ্মজ্ঞান ও পরম মুক্তি এবং অন্য জীবাত্মাকে পরম মুক্তি এর পথে পূর্ণ রূপে সাহাজ্য করা -এটাই জীবনের জীবনের মূল লক্ষ্য স্থির করা।
26. প্রতিমুহূর্তে ও প্রতিটি কাজে নিত্য-অনিত্য বিচার করে চলা
27. বিনয়, নম্রতা ও ভদ্রতা
28. শালিনতা, শিষ্টাচার, শ্রদ্ধা ও প্রীতিমনোভাবাপন্ন
29. নিজের অধিকারের সীমা-মর্যাদা জ্ঞান
30. নিষ্ঠা ও নিষ্কাম ভাবে প্রতিটি তপস্যা, ধৰ্ম-কর্ম করা
31. অসৎসঙ্গ ও ধর্ম গ্লানির এবং নাস্তিক লোকের সঙ্গ সম্পূর্ণ রূপে ত্যাগ
32. সিদ্ধ পুরুষের কাছে শাস্ত্রজ্ঞান ও উপদেশ লাভ
33.পিতামাতার সেবা, সামাজিক ও স্ত্রী-সন্তান ও সাংসারিক দায়িত্ব ও কর্ত্যব্য পূর্ণ নিষ্কাম ভাবে প্রতিপালন
34. ক্ষমা এবং প্রাণীদেরকে অন্ন জল খাদ্য প্রদান করা
35.দেব ও শাস্ত্রে ভক্তি এবং নিজেকে কর্তা নয়, বরং সেবক জ্ঞান করা
36. জীবনে প্রতিক্ষেত্রেই মনঅনুসারের সিদ্ধান্তে নয় - শাস্ত্রানুসারে চলা উচিত
37.যে কোনো লোককে শুধুমাত্র কার্মিক চরিত্র দিয়ে বিচার আর অন্য কিছু দিয়ে বিচার নয়
38. সাধু-যোগী ইত্যাদির বিচার শুধু শাস্ত্র লক্ষন অনুসারে করা, কারো বাইরের কিছু দিয়ে বিচার নয়
39. গুরু প্রদত্ত রোজ সাধন ভজন করা
40. পূর্ব ভুল কর্মের প্রায়শ্চিত্ত করণ
41. জড়জগতের লোক দেখানো সৌখিনতা বা কামনা পূরণের সৌখিনতা ত্যাগ করা
42. শাস্ত্রীয়ও বিচার করে লোকাচার বা কুসংস্কার মানবিকহীন কর্ম বা ভাবনা ত্যাগ করা .

একইভাবে “একং সদ্বিপ্রা বহুধা” ঋগ্বেদের এই 'এক সৎ' বা পরম সত্য মূলত রুদ্রই। কারণ, কৃষ্ণ-যজুর্বেদের শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ/৩ অ...
08/06/2026

একইভাবে “একং সদ্বিপ্রা বহুধা” ঋগ্বেদের এই 'এক সৎ' বা পরম সত্য মূলত রুদ্রই। কারণ, কৃষ্ণ-যজুর্বেদের শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ/৩ অধ্যায়/২ মন্ত্র - স্পষ্ট ভাবে বলছে —
“একো হি রুদ্রো ন দ্বিতীয়ায় তস্থূঃ”। অর্থাৎ, অদ্বিতীয়ত্বের যে গুণ বা লক্ষণ ব্রহ্মের, তা ব্যাকরণগত ও শ্রুতিগতভাবে রুদ্রেই পর্যবসিত।
রুদ্রকে বাদ দিয়ে সেই অদ্বিতীয়ত্বের কোনো স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ব্যাকরণ সমর্থন করে না। এই সত্য ঋগ্বেদের অন্যত্রেও প্রতিধ্বনিত হয়েছে, যেখানে বহুর আড়ালে সেই 'এক'-এর অনুপ্রবেশকে স্বীকার করা হয়েছে-
​“এক এবাগ্নির্বহুধা সমিদ্ধ একঃ সূর্যো বিশ্বমনু প্রভূতঃ।
একৈবোষাঃ সর্বমিদং বি ভাত্যকং বা ইদং বি বভুব সর্বম্‌।।”
[ঋগবেদ/শাকলশাখা/৮/৫৮/২]
​একই অগ্নি বহু রূপে জ্বলে ওঠে, একই সূর্য সমস্ত জগতকে আলোকিত করে, একই ঊষা সমস্ত কিছু উজ্জ্বল করে তোলে। এই এক সত্তাই সমস্ত রূপে বিরাজমান হয়েছেন।
​আচার্য সায়ণ এই মন্ত্রের ভাষ্যে স্পষ্ট করেছেন যে - যেমন অগ্নি বা সূর্যের মতো দেবতারা একক হয়েও বহু রূপে প্রকাশিত হতে পারেন, তেমনি পরম ব্রহ্মও এক হয়েও অনেক হন- [“তস্মাদেকং বৈ একমেবাদ্বিতীয়ং ব্রহ্ম ইদমান্ব্রহ্মস্তম্বপর্যন্তং জগৎ বি বভূব বিশেষেণাভবদিতি যুক্তমিতি শেষঃ। যদগ্ন্যাদয়ো দেবা অপ্যেকাকিনঃ সন্তোঽনেকভবনসমর্থাস্তদা পরং ব্রহ্ম একং সদনেকং ভবেদিতি কিমু বক্তব্যমিত্যভিপ্রায়ঃ”]।
সায়ণাচার্য এখানে তৈত্তিরীয় উপনিষদ উদ্ধৃত করে বলেছেন - “তৎসৃষ্ট্বা তদেবানুপ্রাবিশৎ” (তৈত্তিরীয় উপনিষদ/২/৬) সেই এক পরমাত্মা সৃষ্টি করে নিজেই তাতে অনুপ্রবেশ করেছেন।
শ্বেতাশ্বতর শ্রুতি ৩য় অধ্যায় অনুযায়ী - “একো হি রুদ্রো ন দ্বিতীয়ায় তস্থুর্য” বাক্য দ্বারা রুদ্রই একমাত্র অদ্বিতীয় পরমেশ্বর প্রতিপাদিত হয়। এবং সেই পরমেশ্বর রুদ্রই “গিরিনিবাসী”, “গিরিত্র” আদি চিহ্ন দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়। যা শাস্ত্রগতভাবে কৈলাসনিবাসী (বিশ্বময় অবস্থা) রুদ্রের সাথেই অভিন্ন। সেই রুদ্রকেই পরম ব্রহ্ম, সর্বব্যাপক, সর্বশ্রেষ্ঠ, মহৎ, জ্যোতির্ময়, অদ্বিতীয়, সর্বাত্মা, অন্তরাত্মা, পুরুষ, শিব, ঈশান, ভগবান রূপে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
“ঘৃতকাঠিন্য ন্যায়” অনুযায়ী - তরল ঘৃত যেমন ঘনীভূত হয়ে আকার ধারণ করে,, তেমনই- নিরাকার, নির্বিকার, নির্গুণ পরশিব ব্রহ্ম কৈলাসনিবাসী, ত্রিনেত্রধারী রুদ্র স্বরূপেই প্রকাশিত হয়। শতরুদ্রীয় প্রকরণেও উব্বট, মহীধর ও সায়ণাচার্য ও গিরি, গিরিত্র, গিরিশন্ত পদ দ্বারা কৈলাস’ই বুঝিয়েছে। আচার্য মহীধর “গিরিশন্ত” শব্দের ভাষ্যে বলেছেন- “শকন্ধ্যাদিত্বাৎ পররূপম্‌” [পাণিনী ৬/১/৯৪] অর্থাৎ- গিরিশন্ত শব্দটি একটি সম্বোধনবাচক বহুব্রীহি সমাস যা, বিশেষ কোনো ঈশ্বরতুল্য রূপেই বোঝানো হয়। সুতরাং- সেই “একমেবাদ্বিতীয়ম”, “এক হি রুদ্র”, “একং সদ্বিপ্রা বহুধা” ইত্যাদি শ্রুতি বাক্যে যে সেই অদ্বিতীয় রুদ্রকেই প্রতিপাদিত করেছে তা সম্পূর্ণ শাস্ত্র সম্মত।
“একং সদ্বিপ্রা বহুধা বদন্তি" (ঋগ্বেদ) বা "একমেবাদ্বিতীয়ম্" (ছান্দোগ্য উপনিষদ)। এখানে 'এক' বা 'সত্' একটি সাধারণ বিশেষ্য, যা যে কোনো পরম সত্তাকে বোঝাতে পারে। কিন্তু, "এক হি রুদ্র ন দ্বিতীয়ায় তস্থুঃ" (তৈত্তিরীয় সংহিতা/১/৮/৬/ শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ/৩/২)
এবং অদ্বৈত বেদান্তী পণ্ডিত অপ্পয়দীক্ষিতের মতো মহাচার্যগণ এই যুক্তিকে আরও দৃঢ় করতে নিম্নলিখিত শ্রুতিবাক্যগুলো উপস্থাপন করেন- এখানে দেবতারা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "কে আপনি?" পরমেশ্বর রুদ্র উত্তর দিয়েছিলেন- "অহমেকঃ আসং প্রথমম্‌..." [অথর্ববেদ/শির উপনিষদ/১] আমিই এক এবং আদিতে ছিলাম। এটি 'একমেবাদ্বিতীয়ম্' বাক্যের প্রত্যক্ষ বিশেষীকরণ।
​আবার, কৃষ্ণ-যজুর্বেদের শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ/৪ অধ্যায়/১৮ নং মন্ত্র — "যদাঽতমস্তন্ন দিবা ন রাত্রির্ন সন্নচাসৎ শিব এব কেবলঃ" - অর্থাৎ, আদি সৃষ্টির পূর্বে যখন অজ্ঞানরূপ অন্ধকারের লেশমাত্রও ছিলনা, তখন দিন ছিল না, রাত্রি ছিল না ; সৎ ছিল, অসৎও ছিল না, তখন কেবলমাত্র অদ্বিতীয় পরমেশ্বর শিবই ছিলেন। এখানে 'সৎ' ও 'অসৎ'-এর অতীত সত্তা হিসেবে শিবকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ​যদি আমরা 'এক' বলতে সাধারণ ঈশ্বর বুঝি, তবে "রুদ্রো ন দ্বিতীয়ায় তস্থুঃ" এই মন্ত্রের বিশেষত্ব নিরর্থক হয়ে পড়ে। ​কিন্তু যদি 'এক' বলতে 'রুদ্র' বুঝি, তবে ঋগ্বেদের সেই "একং সৎ" মন্ত্রটির একটি সুনির্দিষ্ট এবং শাস্ত্রসম্মত লক্ষ্য স্থির হয়।
​যেহেতু শ্রুতি "একই রুদ্র, দ্বিতীয় কেউ নেই" (ন দ্বিতীয়ায় তস্থুঃ) বলে একটি কঠোর সীমারেখা টেনে দিয়েছে, তাই বেদের সমস্ত 'এক' বা 'অদ্বৈত' বোধক বাক্য এই বিশেষ রুদ্রতত্ত্বেই পর্যবসিত হয়। বৈদিক বিচারে সাধারণ ধর্মী (ব্রহ্ম) এবং বিশেষ ধর্মী (রুদ্র) অভিন্ন, যেখানে বিশেষ পদটিই সাধারণ পদের পরিচয় নিশ্চিত করে।
কূর্মমহাপুরাণ বলছে —
এনমেকে বদন্ত্যগ্নিং নারায়ণপথাপরে ।
ইন্দ্রমেকে পরে প্রাণং ব্রহ্মানমপরে জগুঃ ॥
ব্রহ্মবিষ্ণুগ্নিবরুণাঃ সর্ব্বে দেবান্তথর্যয়ঃ ।
একস্যেবাথ রুদ্রস্য ভেদান্তে পরিকীর্ত্তিতাঃ ॥
যং যং ভেদং সমাশ্রিত্য যজন্তি পরমেশ্বরম্ ।
তত্ত্বদ্রুপং সমাস্থায় প্রদদাতি ফলং শিবঃ ॥
[কূর্মপুরাণ/উপরিভাগ/৪৪ অধ্যায়/৩৬-৩৮ নং শ্লোক]
✅ অর্থ : কেহ কেহ অগ্নিকে পরমাত্মা বলিয়া থাকেন,কেহ নারায়ণকে,কেহ ইন্দ্রকে,কেহ প্রাণকে,কেহ বা ব্রহ্মাকে পরমাত্মা বলিয়া থাকেন। কিন্তু, ব্রহ্মা,বিষ্ণু, অগ্নি,বরুণ প্রভৃতি সর্ব্বদেবতা এবং সমস্ত ঋষিগণ এক রুদ্রেরই ভেদমাত্র বলিয়া পরিকীর্ত্তিত। সাধক যে যে ভেদ আশ্রয় করিয়া পরমেশ্বরের পূজা করেন, পরমেশ্বর রুদ্র সেই রুপ আশ্রয় করিয়া ফল প্রদান করিয়া থাকেন।।
শিবরহস্য মহৈতিহাস শাস্ত্র বলছে —
​এষ ব্রহ্মষ বিষ্ণুশ্চ এষ দেবো বিরাজতে ।
এষ ভূতপতির দেব এষ সেতুবিধানঃ ॥২৯॥
একমেব মহাদেবমিন্দ্রমিত্রাদিভিঃ সুরৈঃ ।
নামরূপগুণৈশ্চৈব মায়য়া মন্যতে জনঃ ॥৩০॥
[শিবরহস্য ইতিহাস/১ম অংশ/৩য় অধ্যায়]
​✅ অর্থ : মহাদেবই একমাত্র সত্তা যিনি ব্রহ্মা, বিষ্ণু, ইন্দ্র, মিত্র এবং অন্যান্য নামে পরিচিত। মানুষ মায়ার বশবর্তী হয়ে তাঁকে বিভিন্ন নাম, রূপ ও গুণের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন মনে করে।
♦️ ব্রহ্ম মহাপুরাণ হয়েছে —
এক এবাদ্বয়ঃ শম্ভুরিন্দ্রমিত্রাগ্নিনামভিঃ।
বদন্তি বহুধা বিপ্রা ভ্রান্তোপকৃতিহেতবে ॥২৭॥
​[ব্রহ্ম মহাপুরাণ/ ১৫৮তম অধ্যায়]
✅ অর্থ : অদ্বয় এক শম্ভুই ইন্দ্র, মিত্র ও অগ্নি নামে পরিচিত। বিভ্রান্তদের (অজ্ঞদের) উপকারের নিমিত্তে বিপ্রগণ (বিদ্বানগণ) তাঁকে বহু প্রকারে বর্ণনা করেন।
“দেবানা হৃদয়েভ্যঃ” উল্লেখ করে যে রুদ্রই সমস্ত দেবগণের অন্তর্যামী। সুতরাং, এখানে রুদ্রই হলেন সেই 'একং সৎ' (এক পরম সত্য) যাকে ঋষিরা বিভিন্ন নামে ডাকেন।
কৃষ্ণ-যজুর্বেদের ​শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ - "একো হি রুদ্রো ন দ্বিতীয়ায় তস্থুঃ"।
সামবেদের ​ছান্দোগ্য উপনিষদের - "একমেবাদ্বিতীয়ম্"।
এখানে 'এক' এবং 'অদ্বিতীয়' শব্দের সরাসরি প্রয়োগ কোনো মধ্যস্থতা ছাড়াই পরম সত্তাকে নির্দেশ করছে। নিরপেক্ষবাদীরা যখন 'এক' পদটিকে একটি গুণবাচক বিমূর্ত ধারণা বলেন, তখন ছাগপশুন্যায় দ্বারা সেই সাধারণ শ্রুতিকে 'রুদ্র' নামক বিশেষ শ্রুতির মাধ্যমে সংকুচিত করা হয়। শ্রুতি প্রমাণ অনুযায়ী, রুদ্রের অদ্বিতীয়ত্ব স্বতঃসিদ্ধ।

মুক্তিনাথ ( নেপাল ) হল একটি বিষ্ণু মন্দির যা হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয়ের কাছেই পবিত্র স্থান। এটি নেপালের মুস্তাং- এর থোরং লা প...
03/06/2026

মুক্তিনাথ ( নেপাল )
হল একটি বিষ্ণু মন্দির যা হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয়ের কাছেই পবিত্র স্থান। এটি নেপালের মুস্তাং- এর থোরং লা পর্বত গিরিপথের পাদদেশে মুক্তিনাথ উপত্যকায় অবস্থিত। যা বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ উচ্চতায় থাকা মন্দিরগুলির মধ্যে একটি ।
এটি নেপালের মুস্তাং- এর থোরং লা পর্বত গিরিপথের পাদদেশে মুক্তিনাথ উপত্যকায় অবস্থিত। যা বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ উচ্চতায় থাকা মন্দিরগুলির মধ্যে একটি (3,800 মিটার)। হিন্দুধর্মে এটি 108টি দিব্য দেশমের মধ্যে একটি এবং ভারতের বাইরে অবস্থিত একমাত্র দিব্য দেশম। এটি মুক্তিক্ষেত্র নামেও পরিচিত, যার আক্ষরিক অর্থ হল 'মুক্তির ক্ষেত্র' (মোক্ষ ) এবং এটি নেপালের চর ধামের মধ্যে একটি।
শ্রীমূর্তি মাহাত্ম্যম
মুক্তিনাথ পৃথিবীর পাঁচটি উপাদান (অগ্নি, জল, আকাশ, পৃথিবী এবং বায়ু) যেখান থেকে মহাবিশ্বের সমস্ত বস্তুগত জিনিস তৈরি করা হয়, তা সংরক্ষণ করার জন্য পৃথিবীতে একটি স্থান হিসাবে সম্মানিত। আশেপাশের পৃথিবী, বায়ু এবং আকাশের পাশাপাশি, জলের ঠিক উপরে জ্বলা মাই মন্দিরে একটি ঝরনা রয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবে ঘটে যাওয়া গ্যাসের বহিঃপ্রবাহের দ্বারা জ্বালানী হয়, যা জলকে নিজেই জ্বলন্ত চেহারা দেয়।[
এই মন্দিরটি 108 দিব্য দেশমের 106তম মন্দির হিসাবে বিবেচিত এবং শ্রী বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের দ্বারা পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। শ্রী বৈষ্ণব সাহিত্যে এর প্রাচীন নাম তিরু শালিগ্রাম । এর কাছাকাছি গণ্ডকী নদী প্রবাহিত, যা বিষ্ণুর অ-নৃতাত্ত্বিক প্রতিনিধিত্ব শালিগ্রাম শিলার একমাত্র উৎস হিসাবে বিবেচিত হয়।
বৌদ্ধরা একে চুমিগ গ্যতসা বলে, যার তিব্বতি অর্থ "শত জল"। তিব্বতি বৌদ্ধদের জন্য, মুক্তিনাথ ডাকিনীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, স্কাই নর্তক নামে পরিচিত দেবী এবং 24টি তান্ত্রিক স্থানগুলির মধ্যে একটি। তারা মূর্তিকে অবলোকিতেশ্বরের প্রকাশ বলে বোঝে, যিনি সমস্ত বুদ্ধের করুণাকে মূর্ত করে তোলেন।
এই মন্দিরটি হিন্দু ঐতিহ্যের অনেক সাধুদের দ্বারা প্রশংসিত হয়। মন্দিরের গুরুত্ব বর্ণনাকারী লিপিগুলি গণ্ডকী মাহাত্ম্য সহ বিষ্ণু পুরাণে পাওয়া যায়।
কালী গণ্ডকী বরাবর মুক্তিনাথ থেকে ভাটির জলপথ হল শীল বা শালিগ্রামের উৎস যা বিষ্ণুর মন্দির স্থাপনের জন্য প্রয়োজন। এটি হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থানের অন্যতম পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।
খানে 108টি জলের ঝর্ণা রয়েছে, 108 সংখ্যাটি হিন্দু দর্শনে অত্যন্ত তাৎপর্য বহন করে। 108 নম্বরকে ঘিরে থাকা রহস্যের উদাহরণ হিসাবে, হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্র 13টি রাশি এবং নয়টি গ্রহ ( নবগ্রহ ) উল্লেখ করে মোট 108টি সংমিশ্রণ দেয়। 27টি চন্দ্র অট্টালিকা ( নক্ষত্র ) চার ভাগে বিভক্ত (বা পদ) প্রতিটিতে মোট 108টি পদের সমন্বয় রয়েছে।
মুক্তিনাথের কেন্দ্রীয় উপাসনালয়টিকে হিন্দু বৈষ্ণবদের কাছে স্বয়ম ব্যক্ত ক্ষেত্র নামে পরিচিত, যা আটটি সবচেয়ে পবিত্র মন্দিরের একটি বলে মনে করেন। অন্যরা হল শ্রীরঙ্গম, শ্রীমুষ্ণম, তিরুপতি, নৈমিষারণ্য, থোতাদ্রি, পুষ্কর এবং বদ্রীনাথ। মন্দিরটি ছোট। মূর্তিটি সোনার তৈরি এবং মানুষের আকারের।
প্রাকারম (বাইরের উঠোন) 108টি ষাঁড়ের মুখ রয়েছে, যার মাধ্যমে জল ঢেলে দেওয়া হয়। মন্দির কমপ্লেক্সের চারপাশে 108 টি পাইপে প্রবাহিত পবিত্র জল 108 শ্রী বৈষ্ণব দিব্য দেশম থেকে পবিত্র পুষ্করিণী জল (মন্দিরের ট্যাঙ্ক) নির্দেশ করে, যেখানে ভক্তরা হিমশীতল তাপমাত্রার মধ্যেও তাদের পবিত্র স্নান করে।
শ্রী বৈষ্ণব ঐতিহ্যের কাছে মুক্তিনাথ পবিত্র স্থান। বিষ্ণু ভক্তদের জন্মান্তর চক্র থেকে জীবনমুক্তি প্রদান করে, তাই তাকে মুক্তিনাথ উপাধি প্রদান করে বলে মনে করেন। নালায়রা দিব্যা প্রবন্ধম- এর সংকলনে থিরুমংগাই আলভার দ্বারা এটির প্রশংসা করা হয়েছে। মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা গণ্ডকী নদীতে শালিগ্রাম নামে এক ধরনের পাথর রয়েছে। পাথরের বিভিন্ন নিদর্শন বিষ্ণুর বিভিন্ন রূপ হিসাবে পূজা করা হয়। সাদাকে বাসুদেব, কালোকে বিষ্ণু, সবুজকে নারায়ণ, নীলকে কৃষ্ণ, সোনালিকে হলুদ ও লালকে হলুদকে নরসিংহ এবং বামনকে হলুদ হিসেবে ধরা হয়। পাথরগুলো বিভিন্ন আকারে পাওয়া যায়, যা পাঞ্চজন্য, সুদর্শন চক্র এবং বিষ্ণুর গুণাবলী প্রকাশ করে। কুলশেখর আলভার একটি স্তোত্রে মন্দিরটি 7ম-9ম শতাব্দীর বৈষ্ণব ধর্ম নালায়রা দিব্যা প্রবন্ধমে পূজিত। মন্দিরটিকে দিব্য দেশম হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে, বইটিতে উল্লেখ করা 108টি বিষ্ণু মন্দিরের মধ্যে একটি। অনেক ভক্ত এতে অবদান রেখেছেন, বিশেষত আলভার । থিরুমংগাই আলভার মুক্তিনাথে পৌঁছাতে পারেননি, তবে দেবতার প্রশংসায় নিকটতম স্থান থেকে পশুরাম গেয়েছিলেন। পেরিয়ালভার বিষ্ণুর স্তব গেয়েছিলেন "সালাগ্রামমুদাইয়া নাম্বি"।
মুক্তিনাথ মন্দিরকে একটি যাত্রার জন্য শক্তিপীঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি 107 টি সিদ্ধপীঠের একটি এবং এর নাম মহাদেবী। ................দেবীভাগবত 7.14 ।
শক্তিপীঠগুলি হল শক্তির (আদিম মহাজাগতিক শক্তি) পবিত্র আবাস, যা সতীর মৃতদেহের পতনশীল অঙ্গগুলির দ্বারা গঠিত হয়েছিল। 51টি শক্তিপীঠ সংস্কৃতের 51টি বর্ণমালার সাথে তাদের সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি শক্তিপীঠের মন্দিরে একটি শক্তি মন্দির এবং একটি ভৈরব মন্দির রয়েছে। মুক্তিনাথের শক্তিকে "গন্ডকী চণ্ডী" এবং ভৈরবকে "চক্রপানি" বলে সম্বোধন করা হয়। সেখানে সতীর ডান গাল পড়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
মুক্তিনাথ বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ধর্মীয় ও পর্যটন স্থান। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে আসে। অন্নপূর্ণা কনজারভেশন এরিয়া প্রজেক্টের জোমসোম-ভিত্তিক তথ্য কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুসারে, শুধুমাত্র 2018 সালের 9 এপ্রিল 4,557 জন দর্শনার্থী মুক্তিনাথে গিয়েছিলেন, যার মধ্যে 105 জন বিদেশী।
এসিএপি-এর তথ্য দেখায় যে মুক্তিনাথ মন্দিরে ভারতীয় পর্যটকদের সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পর্যটকরা মূলত অন্নপূর্ণা সার্কিট ট্রেকের পথে মুক্তিনাথে যান। মুক্তিনাথের পথটিও সারা বছর বাইকারদের মধ্যে জনপ্রিয়।

Address

Bahula
Durgapur
713322

Opening Hours

Monday 11am - 1pm
5pm - 7pm
Tuesday 11am - 1pm
8pm - 7pm
Wednesday 11am - 1pm
5pm - 7pm
Thursday 9am - 5pm
Friday 11am - 1pm
5pm - 7pm
Saturday 11am - 1pm
5pm - 7pm
Sunday 11am - 1pm
5pm - 7pm

Telephone

+913412668022

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sanatan Dharma Kotha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Sanatan Dharma Kotha:

Shortcuts

Share