25/05/2026
মহাবতার বাবাজী
যাঁকে কোনো ক্যামেরা কোনোদিন বন্দী করতে পারেনি, যাঁর প্রকৃত নাম, বয়স বা জন্মস্থান আজও পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বড় রহস্য।
অথচ, লাহিরী মহাশয় থেকে শুরু করে পরমহংস যোগানন্দ পর্যন্ত বিশ্বের তাবড় তাবড় আধ্যাত্মিক গুরুরা যাঁর অস্তিত্বের কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন!
তিনি আর কেউ নন—হিমালয়ের গুহায় বসবাসকারী অমর অবতার 'মহাবতার বাবাজী'।
বলা হয়, তিনি আজও সশরীরে এই পৃথিবীতে সাধারণ মানুষের আড়ালে ঘুরে বেড়ান।
আসুন জেনে নেওয়া যাক এই মহাবতারের জীবনের অবিশ্বাস্য এবং অলৌকিক রহস্য:
১. মৃত্যুর ঊর্ধ্বে এক অমর শরীর
মহাবতার বাবাজীর কোনো বৃদ্ধাবস্থা নেই। ১৮৬১ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে যে কয়েকজন উচ্চস্তরের যোগী তাঁর দর্শন পেয়েছেন, প্রত্যেকের বর্ণনা অনুযায়ী—তাঁকে দেখতে সবসময় ২৫ থেকে ৩০ বছরের এক যুবকের মতো মনে হয়। তাঁর শরীর থেকে এক অলৌকিক সোনার আলো নির্গত হয়। বিজ্ঞান যেখানে মানুষের বয়স ধরে রাখার উপায় খুঁজছে, সেখানে শত শত বছর ধরে তিনি একই রকম তরুণ শরীরে বিদ্যমান।
২. 'ক্রিয়া যোগ'-এর পুনর্জাগরণ
আজ বিশ্বজুড়ে যে 'ক্রিয়া যোগ' (Kriya Yoga) বা প্রাণায়ামের মাধ্যমে মানুষ মানসিক শান্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতি খুঁজছে, তা বহু বছর আগে পৃথিবী থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। ১৮৬১ সালে হিমালয়ের দ্রোণাগিরি পাহাড়ে লৌকিক উপায়ে আবির্ভূত হয়ে বাবাজী তাঁর প্রিয় শিষ্য লাহিরী মহাশয়কে এই গোপন যোগবিদ্যার দীক্ষা দেন এবং তা আবার সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
৩. ইচ্ছা মাত্র রূপ পরিবর্তন ও অদৃশ্য হওয়া
যাঁরা বাবাজীর দর্শন পেয়েছেন, তাঁদের বিবরণ অনুযায়ী—বাবাজী কোনো সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেন না। তিনি পলকের মধ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে পারেন (Teleportation)। তিনি চাইলে নিজের শরীরকে আলোতে রূপান্তরিত করে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারেন। তাঁর কোনো নির্দিষ্ট আশ্রম বা থাকার জায়গা নেই, তিনি কেবল গুহা থেকে গুহায় বিচরণ করেন।
শুধু প্রাচীন ভারতের যোগীরাই নন, আধুনিক বিশ্বের বড় বড় ব্যক্তিত্বরাও বাবাজীর শক্তির ভক্ত। অ্যাপল (Apple)-এর প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস যখন ভারতে এসেছিলেন, তখন তিনি মহাবতার বাবাজীর দর্শনের ছোঁয়া পান। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাঁর আইপ্যাডে (iPad) একমাত্র যে বইটি ডাউনলোড করা ছিল, সেটি হলো যোগানন্দের সেই বই—যেখানে বাবাজীর বিবরণ আছে। এমনকি দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত বাবাজীকে তাঁর আধ্যাত্মিক গুরু মানেন এবং তাঁর ওপর একটি পুরো সিনেমা ('Baba') তৈরি করেছিলেন।
রেফারেন্স: স্টিভ জবসের জীবনী (Walter Isaacson রচিত) এবং রজনীকান্তের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার।
আপনার কী মনে হয়?
হিমালয়ের গোপন কন্দরে কি আসলেই এমন কোনো অলৌকিক শক্তি আজও বাস করছে, যা আমাদের চেনা বিজ্ঞানের সমস্ত নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখায়?
হিমালয়ের অলৌকিক যোগী এবং প্রাচীন ভারতের এমন গা শিউরে ওঠা অজানা রহস্য
আপনি কি মহাবতার বাবাজীর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন?