Joi Radhamadhab mandir, Nurangi,Dumka

Joi Radhamadhab mandir, Nurangi,Dumka Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Joi Radhamadhab mandir, Nurangi,Dumka, Religious organisation, Dumka.

01/01/2024

বাংলার মাটি সংস্কৃতির ঘাঁটি। বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে আগামী ১১ ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৪, রবিবার, 'আমতা স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ'-এর উদ্যোগে হাওড়া জেলার আমতা-১ ব্লকের উদং কালীমাতা আশ্রম প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে চতুর্থ বর্ষ 'উৎকর্ষ' — 'গ্রামীণ হাওড়া অঙ্কন ও শিল্পকলা উৎসব'। অঙ্কন, সৃজনশীল হস্তশিল্প, আল্পনা, ফটোগ্রাফি, কনে সাজানো, মেহেন্দি প্রতিযোগিতার পাশাপাশি থাকছে বিভিন্ন হস্ত ও কুটিরশিল্পের রকমারি স্টল। আপনাদের সপারিবারিক উজ্জ্বল উপস্থিতিতে ও সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রাঞ্জল হয়ে হয়ে উঠুক আমাদের এই সৃজনশীল উদ্যোগ।

https://youtu.be/fWi8DBFG_wQ
08/07/2023

https://youtu.be/fWi8DBFG_wQ

ময়ূরাক্ষী নদী, যা ঝাড়খণ্ডের ত্রিকুট পাহাড় থেকে উৎপত্তি লাভ করে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলা ও মুর্শিদাবাদ জেলার ....

 #নৌরঙ্গীধামের_কাহিনি ক্ষণজন্মা পুরুষ শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের ফলে  প্রাচীন বৈষ্ণব ধর্ম তখন বাংলায় নতুন সাজে নতুন স্বা...
11/04/2022

#নৌরঙ্গীধামের_কাহিনি

ক্ষণজন্মা পুরুষ শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের ফলে প্রাচীন বৈষ্ণব ধর্ম তখন বাংলায় নতুন সাজে নতুন স্বাদে। মহাপ্রভুর ভক্তি আন্দোলন ছিল ব্যাপক ও বহুল প্রচারিত। ঈশ্বরকে আপন করতে এই আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল প্রেম ও ভালবাসা। চৈতন্যদেবের প্রেম ও ভালবাসার ধর্ম বাঙালির হৃদয়ে মন্দাকিনী ধারায় সঞ্জিবনী সুধা যুগিয়েছিল। এই মহান মানুষটি মানুষের মাঝে প্রচার করেছিলেন শ্রেণিহীন সাম্য ও ভেদহীন ভ্রাতৃত্বের কথা।আবার অন্যদিকে বাংলাতে তখন ইসলামও এগিয়ে চলেছে তাঁর কালোত্তীর্ণ আদর্শ দ্বারা।সেই আদর্শের মূল কথা আল্লাহ্ এক এবং অদ্বিতীয় আর মানুষে মানুষে কোন ভেদ নেই।শ্রীচৈতন্যের সেই ভক্তি আন্দোলন আর ইসলামের সুফিগণের বক্তব্য অনেকটাই কাছাকাছি এসে গেল।উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ উভয় সম্প্রদায়ের মানুষকে চেনার ও জানার সুযোগ পেল।গড়ে উঠলো সেতুবন্ধন। আর আমাদের বীরভূমে সেই সেতুবন্ধনকে আরো ত্বরান্বিত করলেন এক মহান রাজবংশ। সেই রাজবংশের নাম রাজনগরের পাঠান রাজবংশ। ত্রয়োদশ শতাব্দীতেই বীরভূম বিজয়ী মুসলমানদের করতলগত হলেও তখন রাজনগরে কখনো হিন্দু রাজা কখনো মুসলমান রাজা এইভাবেই চলে আসছিল।কিন্তু আমি যে রাজাদের কথা বলবো তাঁর ১৬০০ খ্রীষ্টাব্দে রাজনগরের সিংহাসনে বসছেন আর একবারে ইংরেজ শাসনকাল পর্যন্ত স্বসম্মানে বীরভূমের রাজত্ব করছেন।
আমরা জানি যে সময় বীরভূমে ভক্তি আন্দোলন স্রোতের বেগে ধাবিত তখন জেলায় পাঠান শাসন বলবৎ।আমরা জানি যে কোন যুগেই রাজ আদেশ, রাজ পৃষ্ঠপোষকতা অনিবার্য। বীরভূমের সুফীধর্মী রাজাগন মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন-আল্লাহ-ঈশ্বর একই প্রভুর ভিন্ন নাম।তাঁরা রাজত্ব বাড়াতে হিন্দু রাজাদের সাথে যুদ্ধ করেছেন কিন্তু কখনও ধর্মকে আক্রমণ করেননি।বরং রাজধর্ম তাঁদের শিখিয়েছিল মিলিয়ে দিতে। বীরভূমের মানুষকে মিলিয়ে দিতেে পেরেছিলেন তাঁরা।সেদিন বীরভূমের ভক্তি আন্দোলনের অস্তিত্ব ও উন্নতি উভয়ই প্রাণ পেয়েছিল বীরভূমের পাঠান রাজাদের দ্বারা।রাজ অনুগ্রহ, রাজ অনুকম্পা লাভ করেছিল সেদিনের বীরভূমের ভক্তি আন্দোলন। তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল বড়ই বন্ধুত্বসুলভ।পরবর্তীকালে বীরভূম গবেষকদের অনেকেই কিন্তু রাজনগর রাজাদের এই দিকটি নিয়ে রহস্যজনক ভাবে চুপচাপ। অনেকে আবার রাজনগর রাজাদের কথা বাদ দিয়েই বীরভূমের ইতিহাস লিখেছেন।তাঁরা ভুলে গিয়েছিলেন বাংলার প্রায় স্বাধীন রাজাদের মধ্যে বিষ্ণুপুরের হিন্দু রাজা আর রাজনগরের মুসলমান রাজারা ছিলেন সবচেয়ে শক্তিশালী। তাঁরা দুজনেই ছিলেন স্বাধীনচেতা। মুঘল যুগেও তাঁরা মাথা হেঁট করেননি।তাঁরা নিজেরা নবাবের সামনে হাজিরা দেননি বরং স্বাধীন রাজাদের মতো তাঁদের প্রতিনিধিরা নবাবকে রাজস্ব পৌঁছে দিতেন।বাংলার সীমান্তে এই দুই পরাক্রমশালী হিন্দু ও মুসলমান রাজা নিজেদের মধ্যে লড়াই করেননি।সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের বিরুদ্ধে দুজনেই সংগ্রাম করে পথের ভিখারি হয়েছেন কিন্তু মাথা নোয়াননি।বাঙালীর গৌরব এই রাজাদের গৌরবময় স্মৃতিকথা হারিয়ে গেল ঐতিহাসিকদের অবহেলায়।

রাজনগরের রাজাদের কথা বলতে নয়, নৌরঙ্গী ধামের কথা বলতে গিয়ে রাজনগর এসে যাচ্ছে কারণ রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় একসময় কত মন্দির কত ধাম বীরভূমে উপকৃত হচ্ছে সে বিষয়ে লেখাজোখা বড়ই কম।কত কত জমি তাঁরা স্বেচ্ছায় দান করছেন।করমুক্ত সেইসব জমির নাম শিবোত্তর,ব্রাম্ভোত্তোর,বৈষ্ণবোত্তর।ইংরেজরা যখন বীরভূমের শাসক তখন জেমস গ্রান্ট এই সব জমি দেখে আশ্চর্য হয়ে লিখছেন.. 'It would be curious to see the particulars of Baze Zamin,usually bestowed under the influence of Hindoo superstition in a Mussalman zamindari'.আসলে সত্যি আমরা আশ্চর্য হয়ে দেখি বক্রেশ্বর মন্দিরের জন্য বীরভূমের বীর রাজারা যে জমি বক্রেশ্বর মন্দিরের জন্য দিয়েছিলেন সেই জমিতো তাঁরা মন্দিরের জন্য দিচ্ছেনই বরং আরো জমি বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আসাদুজ্জামান খান ভান্ডিশ্বর মন্দিরের জন্য জমি দিচ্ছেন। শ্রীপাট মুলুকের বৈষ্ণব মন্দিরের জন্য রাজা বদিউজ্জামান খান ৩৬০ বিঘা জমি দান করছেন।আজও মুলুকের ঠাকুর পরিবার বদিউজ্জামান খানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।ময়নাডালের বৈষ্ণবদেরকে রাজা ১২০০ বিঘা জমি দান করেছিলেন।এমনকি অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দিকেই যখন সরাট দেওঘর রাজনগর পাঠান রাজাদের অধিকারে চলে আসে তখন পবিত্র শহর দেওঘরের পবিত্র বৈদ্যনাথধাম এবং মন্দিরও তাঁদের অধিকারে আসে। সেদিনও বছরে লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ হিন্দু ভক্ত এখানে আসতেন এবং মন্দিরে প্রচুর অর্থ ও সোনাদানা দিয়ে আসতেন।রাজারা মন্দিরে কোনরূপ হস্তক্ষেপ না করে তা সেখানকার পাণ্ডাদের উপরেই ছেড়ে দেন।বিনিময়ে নামমাত্র রাজস্ব নিতেন।রাজা আসাদুজ্জামান খানের রাজত্বে রাজপুরুষ আলী নকী খানের নেতৃত্বে রাজা রামজীবন রায়ের রাজধানী ঢেকা আক্রমণ হয়।সেখানে আলীনকী খান সৈন্যদের কঠোর ভাবে নির্দেশ দেন যাতে মন্দিরের কোন ক্ষতি না হয়।না এই কাহিনী শেষ হওয়ার নয়।আর দেরী না করে চলুন নৌরঙ্গী ধামে যাই।
"যদি বাসনা করেছ ওরে মন
হেরিবে রাধামাধবে চল নৌরঙ্গী ভবন
গিরি তরঙ্গিণী ময়ূরাক্ষী
তার তীরে ক্ষুদ্র সুপবিত্র গ্রাম।"
বাংলা ১২৯৫ সালে রাজনগরের বেলেড়া গ্রামের পুলিন বিহারী মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন এই গীতিকবিতা। তারপর নৌরঙ্গী ধামকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে মাসিক বসুমতী, শুকতারা, নবকল্লোল, দিদিভাই সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়।নৌরঙ্গী ধামকে নিয়ে প্রচুর লিখেছেন নৌরঙ্গী ধামের কৃতী সন্তান এবং সেবাইত বংশের গৌরব শ্রীদাম বন্দ্যোপাধ্যায়।লিখেছেন পাণ্ডব গোয়েন্দা খ্যাত ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়। বীরভূম গবেষক ডক্টর আদিত্য মুখোপাধ্যায় তাঁর রাঙামাটির গ্রাম গ্রন্থে বিষদে লিখেছেন নৌরঙ্গী ধামের কথা তবু মনে হয় এই বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্রটিকে নিয়ে আরো আলোচনা হওয়ার দরকার ছিল। সিউড়ি-দুমকা রোডের বর্ডার বাসস্ট্যান্ডে নেমে দক্ষিণে মাত্র তিন কিলোমিটার গেলেই নৌরঙ্গী ধাম।আগে ছিল বীরভূম জেলার মধ্যেই এখন ঝাড়খণ্ডে। একদম সীমান্তেই।পাশের গ্রাম বৈদ্যনাথপুর বীরভূম কিন্তু নৌরঙ্গী ধাম ঝাড়খণ্ড। সে যাই হোক।তখন এটা রাজনগর রাজাদের মহম্মদাবাদ পরগণার অধীনে ক্ষুদ্র একটি পল্লী। সেই নৌরঙ্গী গ্রাম তখন একদম ময়ূরাক্ষী নদীর তীরেই।নদীপথ পাল্টে যাওয়ায় গ্রামকে সরে আসতে হয়েছে অনেকটাই। জনশ্রুতি হুগলির ভাণ্ডারহাটীর একদল তীর্থযাত্রী বৃন্দাবন যাচ্ছেন। নৌরঙ্গী গ্রামের কাছাকাছি এসে এক ব্রাহ্মণ ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। তাঁর সহযাত্রীরা তাঁকে বললেন তাঁরা তারজন্য রানীশ্বরে অপেক্ষা করবেন।সেই ব্রাহ্মণের নাম গৌরমোহন ঠাকুর। গৌরমোহন ঠাকুর সেইসময় দেখলেন একজন মানুষ হরিনাম করতে করতে ভিক্ষা করে ফিরছেন। আলাপ করে জানা গেল সেই পরম বৈষ্ণবের নাম মাধব দাস।ময়ূরাক্ষীর তীরে পর্ণকুটিরে তিনি সাধন ভজন নিয়েই থাকেন।গৌরমোহন ঠাকুর গেলেন মাধব দাসের পর্ণকুটিরে।পথ ক্লান্ত পথিক কয়েকদিন থাকলেন মাধব দাসের কাছে।ততদিনে হুগলির তীর্থযাত্রীরা চলে গেছেন গন্তব্যে। গৌরমোহন ঠাকুর মাধব দাসকে বৃন্দাবন যাওয়ার কথা বললে মাধব দাস বললেন তিনিও যাবেন কিছুদিন পর।সেই কয়েক দিন যেন গৌরমোহন থেকে যান তাঁর আতিথ্যে।একদিন মাধব দাস বেরিয়েছেন ভিক্ষায়। সন্ধ্যার প্রাক্কালে প্রচণ্ড ঝড় আর বৃষ্টি। নৌকায় আসছেন এক যাত্রী। প্রচণ্ড ঝড়ে নৌকা টালমাটাল। কুমিরদহ গ্রামের মাঝি যাত্রীকে বললেন নৌকা চালানো ঝুঁকিপূর্ণ তাই নৌকা আর চালানো যাবে না।তার থেকে নৌকা নৌরঙ্গীর ঘাটে লাগিয়ে দেওয়া ভাল।সেখানে মাধব দাসের কুটিরে আশ্রয়ও পাওয়া যাবে।সেই জলঝড়ের রাতে পথিক আশ্রয় নিলেন মাধব দাসের কুটিরে। কিন্তু মাধব দাস জলঝড়ে ফিরতে পারেননি সেই রাতে।গৌরমোহন ঠাকুর আশ্রিত পথিককে প্রসাদ দিলেন।আগন্তুক বললেন, তিনি আসছেন সুদূর বৃন্দাবন থেকে।বৃন্দাবনে তিনি নিরাপত্তার অভাববোধ করছিলেন।ভয় তাঁর নিজের জন্য নয় ভয় তাঁর কাছে থাকা রাধামাধব বিগ্রহের জন্য। তিনি শুনেছেন নিকটস্থ কোন মুসলিম শাসক একজন ধর্মান্ধ মানুষ, তিনি নাকি বিভিন্ন মন্দিরের বিগ্রহ ভেঙে ফেলছেন তাই তিনি তাঁর রাধামাধবকে নিয়ে বাংলায় চলে এসেছেন।সকালবেলায় মাধব দাস ফিরে এলে গৌরমোহন ঠাকুর বললেন তিনি এক মাধবের জন্য রাতে অপেক্ষা করছিলেন কিন্তু সত্যিকারের রাধামাধব নিজেই এসেছেন তাঁদের দর্শন দিতে।কিংবদন্তির দেশ আমার বীরভূম। হেথা কিংবদন্তির শেষ নাই।ইতিহাসের ছাত্র হিসাবে এখানে আমার চুপচাপ থাকা ছাড়া কোন উপায় নাই। কিংবদন্তি অনুসারে সকালে সেই যাত্রী তাঁর রাধামাধবের বিগ্রহ নিয়ে চলে যাবেন কিন্তু সেই বিগ্রহকে কোনভাবেই মাটি থেকে উঠানো গেল না।শত চেষ্টাতেও আগন্তুক রাধামাধবকে তুলতে পারলেন না।গৌরমোহন ঠাকুর আর পরম বৈষ্ণব মাধব দাস আগন্তুককে বোঝালেন ঠাকুর এখানেই প্রতিষ্ঠিত হতে চান তাই আগন্তুক যেন রাধামাধবকে বৃথা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করেন।গৌরমোহন ঠাকুর মাধব দাস আর সেই আগন্তুক বিগ্রহকে নৌরঙ্গীর সেই পর্ণকুটিরে প্রতিষ্ঠা করলেন। দু'চার ঘরের ক্ষুদ্র পল্লিটি ঠাকুর প্রতিষ্ঠার পর হয়ে গেল নৌরঙ্গী ধাম।সেই আগন্তুক যাত্রী এখানে থেকে গিয়েছিলেন কিনা সে বিষয়ে ডক্টর আদিত্য মুখোপাধ্যায় কিছু বলেননি।বিশিষ্ট বীরভুমি সাহিত্যিক অমলেন্দু মিত্রও নৌরঙ্গী ধামকে নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন কিন্তু সেই আগন্তুককে নিয়ে আর আলোচনা করেননি।এমনকি সুধীর করণ মহাশয়ও নৌরঙ্গী ধামের কথা লিখলেও সেই আগন্তুক নৌরঙ্গীতে থেকে গিয়েছিলেন কিনা সেবিষয়ে নীরব। এই কৌতূহল কিন্তু আমার থেকেই গেছে।তবে গৌরমোহন ঠাকুর আর মাধব দাস রাধামাধবের সেবায় থেকে গিয়েছিলেন।আবার জনশ্রুতির উপরে ভরসা করে লিখতে হচ্ছে আরেকটি ঘটনা।রাজনগরের রাজপুরুষ আলী নকী খান বাহাদুর তখন যুবরাজ। পরগণা মহম্মদাবাদ তখন বেশিটাই জঙ্গলে পরিপূর্ণ। যুবরাজ শিকারে বেরিয়ে সেই গভীর জঙ্গলে পথ হারিয়ে ফেললেন। বিকেল গড়িয়ে ধীরে ধীরে সন্ধ্যা হয়ে গেল কিন্তু তিনি পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। দূরে দেখতে পেলেন কুটীরের আলো।সেই আলোকে নিশানা করে কুটিরের সামনে এলেন।দেখলেন সেখানে আছেন সাধক বৈষ্ণবগণ।ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর যুবরাজ তাঁদের কাছে কিছু খাদ্য পানীয়র কথা বললেন। বৈষ্ণবগণ তাঁকে বললেন দেখে মনে হয় তিনি কোন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান অথচ তাঁদের কাছে ঠাকুরের প্রসাদ ছাড়া কিছুই নেই।তিনি ঠাকুরের প্রসাদ খাবেন কিনা।যুবরাজ সেই খাবার খেতে রাজী হলে যুবরাজকে খেতে দেওয়া হয় অন্ন আর হেলেঞ্চা শাকের তরকারি। যুবরাজ তৃপ্তি করে খেয়ে বিদায় নিলেন।পরের দিন মহান পাঠান রাজপুরুষ ফিরে এলেন সেই পর্ণকুটিরে।ব্যবস্থা করলেন একটি সুন্দর রাধামাধবের মন্দির তৈরি করার।মন্দির তৈরি হয়ে গেলে তার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৫০০ বিঘা লাখেরাজ সম্পত্তি লিখে দিলেন রাধামাধবের নামে।নিচের ছবির মন্দিরটি কিন্তু আলী নকী খান বাহাদুরের তৈরী মন্দির নয়।নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে সেই চুনসুরকির সুন্দর মন্দিরটি আর সেই আমলের নৌরঙ্গী গ্রাম।নদীর গতিপথ পাল্টে যাওয়ার পর সেবাইতগন সেই বিগ্রহ নিয়ে চলে আসেন আজকের নৌরঙ্গী ধামে।সেখেনেই গড়ে তুলেন নতুন মন্দির। ইতিহাসে আমরা দেখি ইংরেজ শাসনে আলী নকী খানদের পরবর্তী প্রজন্মের করুন কাহিনি। ইংরেজদের শত্রু পাঠান রাজপরিবার ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছেন গজিয়ে উঠেছেন নতুন সামন্তরা। পাঠান রাজাদের সাধের মহম্মদাবাদ পরগণা নীলামে উঠছে তা কিনে নিচ্ছেন হেতমপুরের মহারাজা রামরঞ্জন চক্রবর্তী।তিনিই পরে এই পরগণার মালিক হন।তবে আলী নকী খানের সেই দানকরা সম্পত্তির কিছু অংশ আজও সেবাইতদের দখলে রয়েছে।বীরভূমের আধুনিক প্রজন্মের বিশিষ্ট কবি অধ্যাপক দেবগুরু বন্দ্যোপাধ্যায় রাধামাধবের সেবাইত বংশের সন্তান। তিনি হয়তো আরো অনেককিছু জানবেন।কৌতুহল থাকলে তাঁর কাছে অনেক তথ্য পেয়ে যাবেন।দিদিভাই পত্রিকার সমর্পণ সেনগুপ্তর দাদু রাগরঞ্জন সেনগুপ্ত এই আশ্রমে দীর্ঘদিন সাধন ভজন করেছিলেন শুনেছি।পঞ্চম দোলের সময় এখানে খুব ধুমধাম হয়।বহু ভক্তের সমাগম হয়।প্রচুর মানুষ প্রসাদ পেয়ে ধন্য হন।
নীলকন্ঠ মুখোপাধ্যায়ের নাম আর তাঁর কালীয়দমন পালার কথা কে না জানে।উখড়ার ধবুনির এই পালাকার জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন আমাদের বীরভূমে।তো নৌরঙ্গী ধামের পাশের গ্রাম বৈদ্যনাথপুরে শুরু হয়েছে কালীয়দমন পালা। সময়টা বাংলা ১৩৩০সাল।সেই গান তন্ময় হয়ে শুনছেন রাধামাধবের সেবাইত। গান শোনার পর সেবাইত কণ্ঠ মশাইকে বললেন নৌরঙ্গী ধামে প্রসাদের বিনিময়ে রাধামাধবকে গান শোনাতে।যিনি প্রতিটি রাতে কতটাকা পান তাঁর পালার বিনিময়ে তিনি কী প্রসাদের বিনিময়ে গান শোনান!নীলকন্ঠ মুখোপাধ্যায় না করলেন।কিন্তু একি! ভোরবেলায় দেখা গেল নৌরঙ্গী ধামের তমাল তলায় বসে নীলকন্ঠ মুখোপাধ্যায় রাধামাধবকে জাগাচ্ছেন তাঁর গানে-
"মাধব মাধব তুমি
মাধব কোথায় হে।
আমাকে আসিতে বলে
লুকালে কোথায় হে।

মাধব মাধব বলে
বসিয়া তমাল তলে
আমারে আসিতে বলে
লুকালে কোথায় হে।"
রাতেই নাকি স্বপ্নে নীলকন্ঠ মুখোপাধ্যায়কে নৌরঙ্গী ধাম আসতে বলেছিলেন মাধব নিজেই।স্বপ্নে সত্যি মাধব, কণ্ঠ মশাইকে আসতে বলেছিলেন কিনা প্রমাণ করা যাবে না।তবে এই গান ভোরে নৌরঙ্গী ধামের তমাল তলায় তিনি গেয়েছিলেন এটা প্রমাণিত।
উপরিউক্ত ঘটনাগুলোর কোনটা সত্যি কোনটা কিংবদন্তি বিচারের ভার আমার নয়।আমি ভাবছি অন্য কথা।দেশে একেক সময় একেকটি আন্দোলন দানা বাধে।যার পিছনে থাকে বহুদিনের গ্লানি। এই আন্দোলনের পিছনে সবসময় একই কারণ থাকে না।কখনো রাজনীতি -রাজ অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আবার কখনো সমাজ সংস্কারমূলক শুভ আন্দোলন হয়ে থাকে।আজকের এই সময়ে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে অগণিত আত্মা হাহাকার করছে।এই হাহাকারের বহিঃপ্রকাশ হোক এজটি শুভ আন্দোলন মধ্য দিয়ে।সেই আন্দোলনের নাম হোক সম্প্রীতির আন্দোলন। আমার প্রাণের বীরভূম হোক তার পুরোধা। যেখানে মানুষ তাঁর নিজনিজ ধর্মকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকবে কিন্তু অপর ধর্মের প্রতি থাকবে সমান সম্মান। রাজনীতি থাকবে, থাকবে লাল,সবুজ,গেরুয়া, নীল,সাদা সব রকম রঙে রঙিন রাজনীতি। কিন্ত সম্প্রীতির প্রশ্নে সকলে হয়ে যাবে ছাইরঙা। তাহলেই হয়তো রাজনগরের মহান রাজারা তাঁদের ফুলবাগানের কবরখানা থেকে,মহান সাধক মাধব দাস আর গৌরমোহন ঠাকুররা নৌরঙ্গী ধাম থেকে বলবেন হ্যাঁ এটাই আমাদের প্রকৃত বীরভূম।আর আামাদের আন্দোলনের মন্ত্র হবে একটাই।আমরা সবাই মিলে বলবো-
" মোরা অন্ধকারের যাত্রী প্রভু আলার পথ দেখাও"....

26/03/2022
24/03/2022
15/03/2022

জয় রাধামাধব🙏🙏🙏 আর কিছু দিনের অপেক্ষা জয় রাধে জয় নিতাই🙏🙏🙏 সবার মঙ্গল করো

Address

Dumka
814101

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Joi Radhamadhab mandir, Nurangi,Dumka posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share