Sree Sree Thakur Anukulchandra

Sree Sree Thakur Anukulchandra you are for the lord
not for others;
you are for the lord
and so for others !!!!!!!!!!

16/04/2025

19/05/2021

প্রশ্নঃ *নাম করার ফলে যে রােগ সারে তার কারণ কী?*

*শ্রীশ্রীঠাকুরঃ*
*"Cohesive urge-এ (সংযােজনী আকূতিতে) living s***m ও o**m (জীবন্ত শুক্রকীট ও ডিম্বাণু) মিলিত হ'য়ে zygotte (জীবনকণা) form(গঠন) ক'রে cell division (কোষবিভাজন) হ'তে থাকে। তার ফলেই গ'ড়ে ওঠে আমাদের এই শরীর। এই cohesive urge (সংযােজনী আকূতি)-ই libido(সুরত)। এই libido (সুরত)-এরই expression (অভিব্যক্তি) হ’ল vital ray (জীবনরশ্মি) বা energy (শক্তি)।Urge (আকূতি-টা যখন active (সক্রিয়) হয়, সেইটাই energy (শক্তি)। Libiodoic concentration (সুরতসম্বেগসম্পন্ন একাগ্রতা) নিয়ে নাম করলে তার থেকে vital ray (জীবনরশ্মি) বা vital energ (জীবনীয় শক্তি) emanate করে (নির্গত হয়)। রােগীর যে vital ray (জীবনরশ্মি) shattered (বিধ্বস্ত হয়েছে, ওইভাবে নাম করার ফলে তােমার ভিতর থেকে একট vital ray (জীবনরশ্মি) বিচ্ছুরিত হয়ে তাতে induced (সঞ্চালিত) হওয়ার ফলে তার curative force (রােগ আরােগ্যকারী শক্তি) অর্থাৎ vital flow (জীবন-প্রবাহ) বেড়ে যায়। তাই আরােগ্য হয়।"*

তারপর শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন— *"যার দুমুখ খােলা এমন একটা টেস্টটিউব নিয়ে জল ভ'রে বা ভাল স্পিরিট ভ'রে দুই দিকে আঙ্গুল শক্তভাবে আটকে ধ'রে খুব নাম করতে করতে আঙ্গুল যখন ডগমগ লালাভ হ'য়ে উঠবে (বাতি নিভিয়ে টর্চ জ্বেলে তার উপর আঙ্গুল চেপে দিয়ে ধরে দেখিয়ে বললেন—অনেকটা এমনি-তারা) সেই অবস্থায় হাতে ছেড়ে সেই রকম জল বা স্পিরিট খাইয়ে দিন—রােগী দেখবেন চাঙ্গা হ'য়ে যাবে। সদাচারশীল হয়ে থাকা চাই। নচেৎ হ’তে চায় না* *আধ্যাত্মিক, মানসিক, বাহ্যিক সৰ্ব্বপ্রকার সদাচার যুগপৎ পালন করতে হবে। অবশ্য এই যা’ বললাম, এর পিছনে যদি ছােটেন, এই দিকে যদি নজর বেশী যায়, তাহ'লে ঠিক হবে না।"*
(আলোচনা প্রসঙ্গে, দ্বাদশ খন্ড, ইং ০৭.০৭. ১৯৪৯)

04/02/2020

17/07/2019

বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে আগামীকাল ১৮/০৭/১৯ বৃহস্পতিবার ১ শ্রাবণ থেকে শুরু হচ্ছে পরমারাধ্যা জগজ্জননী শ্রীশ্রীবড়মার শুভ জন্মমাস উপলক্ষ্যে শ্রাবণ মাসব‍্যাপী মাতৃসম্মেলন পরিক্রমা।

17/07/2019

জনার্দ্দনদা:--- অনেকে হয়তো অন্তর্বিকাশের জন্য নাম নেয়, কিন্তু তারা পারিপার্শ্বিকের ধার ধারেনা।

শ্রীশ্রীঠাকুর:--- যাজন বাদ দিয়ে মানুষ evolve করে না (বিবর্ত্তিত হয় না)। Conflict (দ্বন্দ) না থাকলে তো প্রত্যেকেই ভাল মানুষ। কিন্তু অবস্থার মধ্যে, সংঘাত কিংবা প্র‍লোভনে প'ড়ে সে কেমন ব্যবহার করে এবং মানুষকে কেমন adjust (নিয়ন্ত্রণ) করতে পারে, সেইটের ভিতর-দিয়েই তার পরখ যে, সে কতখানি নিজেকে নিয়ন্ত্রিত করেছে। কতটা বীবর্ত্তিত হয়েছে নিজে অন্তর্জীবনে।

---- আলোচনা প্রসঙ্গ, ১৯ শ খণ্ড

16/07/2019

প্রশ্ন--কতটা ঘুমনো দরকার?

শ্রীশ্রীঠাকুর--আমি এমনও দেখেছি যে দশ মিনিট ঘুমে যেন পাঁচ ঘন্টা ঘুমের কাজ হ'য়ে যায় কোনও ক্লান্তি থাকে না-ever vitalised ( সর্বদা সঞ্জীবিত ) । অবশ্য নামধ্যান , যাজন যত বাড়ানো যায় , ততই এইরকম হয় । একদিনে এটা হয় না , তবে ইচ্ছা করলেই ধীরে-ধীরে ঘুম কমানো যায়।

প্রশ্ন--নাম কয় বার , কতক্ষন করবে ।।

শ্রীশ্রীঠাকুর--রাতে আর ভোরে , অন্তত আধঘন্টা ক'রে , আর একটু বেশী করতে পারলেই ভাল হয় ।

প্রশ্ন--এই (সৎ) নাম কি অন্য ভাষায় নকল হ'তে পারে ।

উত্তরে শ্রীশ্রীঠাকুর প্রবলভাবে অসম্মতিসূচক মাথা নাড়লেন । তারপর হেসে বললেন --- রাধা যা' সুরতও তাই । যদিও external manifestation (বাহ্যিক প্রকাশ) অনেক রকমই হ'তে পারে । কিন্তু রাধা ও সুরত এক । আর , স্বামী মানে পরম পুরুষ।

প্রশ্ন--নাম করার কেমন অভ্যাস করতে হয়?

শ্রীশ্রীঠাকুর কথাপ্রসঙ্গে বললেন --- নাম করার এমন অভ্যাস ক'রে ফেলতেব্যড হয় , যেন সর্ব্বক্ষন চলে । কথা বলছেন , তারপর হয়ত দেখলেন আবার নাম শুরু হ'লো , তার মানে কথার মধ্যেও নাম ছিল । ঘুম থেকে উঠে দেখলেন নাম হচ্ছে , তার মানে ঘুমের মধ্যেও হচ্ছিল । ঘুমের মধ্যেও নাম চলছে , তা' ঠিক পাওয়া যায় ।

প্রশ্ন--ধ্যানে কি ভাবে বসা ভাল?

শ্রীশ্রীঠাকুর --- ধ্যান করার সময় at ease ( সহজভাবে) বসত হয় , stiffness ( আড়ষ্ট শক্ত ভাব) -ও থাকবে না , এলিয়েও পড়বে না ।

উক্ত ব্যক্তি --- বেশি সময় করতে পা ধ'রে আসে ।
শ্রীশ্রীঠাকুর --- পরে সেরে যায় , শুয়ে থেকে করা যায়।

প্রশ্ন--সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরী হ'য়ে যায়। সেদিন আর ভাল ক'রে নাম ধ্যান করা হ'য়ে ওঠে না ।

শ্রীশ্রীঠাকুর --- নামধ্যান রোজ ঠিকমত করবি । ওইদিকে কমতি হ'লে জীবনের সব ক্ষেত্রেই খাঁকটি ও অসামঞ্জস্য দেখা দেবে ।... আচরণ যদি ঢিলে হয় , অজ্ঞাতসারে সেটা অনেকের মধ্যে চারিয়ে যাবে । মানুষ যদি ঠিকমতো চলে , করে , তাতে শুধু তারই ভাল হয় না , পরিবার-পরিবেশের অনেকেরই ভাল হয় তাতে । আর চলায় যদি ত্রুটি থাকে , তাতে শুধু তারই ক্ষতি হয় না , তার পরিবার-পরিবেশেরও ক্ষতি হয় তাতে ।
(আঃপ্রঃ৯,১৪,১৫,১৬,১৭,২২,দীপরক্ষী,৫)

15/07/2019

প্রশ্ন । আমাদের বর্ত্তমান সমাজে তো বহু দেবদেবীর পুজো হ'চ্ছে ---- তার ভিতর মনঃকল্পিত কালী, শিব, দুর্গা, বিষ্ণু,লক্ষী, সরস্বতী প্রভৃতিও আছেন, আবার শ্রীকৃষ্ণ , বুদ্ধ , চৈতন্য , রামকৃষ্ণদেব এঁরাও আছেন । দেবতা মানেই বা কী , আর দেবদেবী পুজো করলেই বা হয় কি ?

শ্রীশ্রীঠাকুর । যিনি service দিয়ে মানুষের বা জীবের interest-কে elevate ক'রে being ও becoming-কে accelerate করতঃ মানুষের মনে জাজ্বল্য ও দীপ্তিমান থাকেন , প্রকৃতপক্ষে তিনিই আমাদের দেবতা ---- আর বিষ্ণু , নারায়ণ , কালী , শিব, লক্ষী, সরস্বতী ইত্যাদি দেবদেবীর পুজো মানে ---- কেউ hero , কেউ manifested energy of the Almighty ---- তাঁদেরই worship করা । আর, এঁদের worship করলে আমরাও ঐ-ভাবে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত হ'য়ে সাফল্যে উপনীত হ'তে পারি ---- worship-এর গোড়ার উদ্দেশ্যই হল এই । এঁরা Almighty নয়কো , দেবতা । এঁদের ভিতর-দিয়ে আমরা এমন কি Almighty-র coast-এও উপনীত হ'তে পারি ---- যেমন যীশু বলেছেন , I am the way , the truth , the life".

প্রশ্ন । আচ্ছা , আমাদের বর্ত্তমান গুরুজনদের পুজো করলে ঐ সব অতীত ও কল্পিত দেবতা-পুজার কোন আবশ্যকতা আছে কি ?

শ্রীশ্রীঠাকুর । কেন, শাস্ত্রেই তো আছে, "সর্ব্বদেবময়ো গুরুঃ" । তাই ব'লে দুনিয়ার কোন-কিছুকেই neglect ক'রে ফেলে রেখে জানার পাল্লাকে বধির অন্ধ ক'রে রাখা কি উচিত ? দেবদেবী অথবা hero ইত্যাদির তো কথাই নাই !

( নানাপ্রসঙ্গে , চতুর্থ খন্ড )

09/07/2019

পর্ব-৫

জেনেটিক্স, ইউজেনিক্স ও শ্রীশ্রীঠাকুর :: ডাঃ অনিমেষ পাল

উদাহরণস্বরূপ, বহু বিতর্কিত একটি বিষয় “অনূলোম-প্রতিলোম” নিয়েই আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। এই বিষয়টি আজকের সমাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে। আর্য সমাজব্যবস্থার নিয়মানুসারে, মানুষকে গুণ ও কর্মের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্ৰ এই চার প্রকারের বর্ণে ভাগ করা হয়েছে। এই বিভাগ সম্পুর্ণতই সমাজ জীবনের সুন্দর ক্রমােন্নতির জন্য তৈরী করা। এই বিষয়টি কখনোই “কেউ বড়, বা কেউ ছোট্ট" এই মানসিকতার প্রতিফলনের জন্য তৈরী করা হয়নি। এক একটি বংশ, অনেক পুরুষ ধরে ক্রমাগত একই বিষয় অনুশীলনের জন্য, সেই বিষয়ে, স্বাভাবিক ভাবে পারদর্শী হয়ে ওঠে, তাই তাকে সেই ভাবে একটি বর্ণের মধ্যে গণ্য করা হয়। যেমন ব্রাহ্মণদের কাজ হলো পূজা অর্চনা করা; সমাজের কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করা। ক্ষত্রিয়দের কাজ হলো, দেশকে রক্ষা করা; অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিষয়ে, রাজনীতি পরিচালনা করা। বৈশ্যর কাজ দেশের অর্থ সম্পদ, এককথায় দেশের অর্থনীতিকে পরিচালনা করা আর শূদ্রের কাজ হলো দেশের সকলের সেবা পরিচর্য্যা করা। সহজভাবে, একটি বাণীর মধ্য দিয়ে, শ্রীশ্রীঠাকুর এই চতুবর্ণের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে গেছেন :

"শূদ্রই তো জাতির চাকা,
বৈশ্য জোগায় দেশের টাকা,
ক্ষত্রিয়েরা রাজার জাত
সবার পূরণ বিপ্র ধাত।"

এখন কোন উচ্চবর্ণের পুত্র যদি কোন নিম্নবর্ণের কন্যাকে বিবাহ করেন, তবে তাকে অনুলােম বিবাহ বলা হয়। আর যদি কোন নিম্নবর্ণের পুত্র উচ্চবর্ণের কোন কন্যার পাণিগ্রহণ করেন, তবে তাকে প্রতিলোম বিবাহ বলে। অনুলোমের সমর্থন সব শাস্ত্রেই আছে। প্রতিলোম চিরকালই কুফল প্রদায়ক৷ প্রতিলােম বিবাহ নিষিদ্ধ কেন, তার বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শ্ৰীশ্ৰীঠাকুর বলছেন, “আমার মনে হয়, স্বল্প বিবর্তিত শুক্রকীট যদি অধিকতর বিবর্তিত ডিম্বকোষ-এর উদ্গময়ক বা ফার্টিলাইজিং এজেন্ট হিসাবে কাজ করতে যায়, সেখানে জীব-বিজ্ঞান সম্মতভাবে বিধির উপর একটা অত্যাচার করা হয়৷ তাই ডিম্বকােষ সেখানে শুক্রকীটকে প্রতিরোধ করতে চায়, মিলনকালীন এই দ্বন্দের ফলে, মাতৃধাতূ ও পিতৃবীজের বৈশিষ্ট্য বিধ্বস্ত, বিকৃত ও বিপর্য্যস্ত হয়ে পড়ে। সন্তান না পায় মায়ের ভালটা, না পায় বাপের ভালটা। যে একটা কিম্ভুত-কিমাকার পদার্থে পরিণত হয়। তার প্রকৃতি হয় সাম্যহারা, দ্বন্দ্ব-প্ৰবণ, পরিধ্বংস প্রসূ। বিপর্য্যয়ী স্বভাবের দরুন যে নিজের সঙ্গেই নিজে পেরে ওঠে না। যা কিছু সুন্দর ও মহৎ, তার বিরুদ্ধেই হয় তার অভিযান। তার অন্তঃস্যুত বিলাস হয় মহতের বর্জ্য ৷ এককথায়, প্রয়াস তার হয় প্রেয় বিরােধী, অস্তিত্ব-বিলােপী। যে নীতি জাতির পক্ষে যত কল্যাণকর সেই নীতির পরিপন্থী সে ততখানি। সে যে কতখানি অব্যবস্থ, সে যে কখন কী করবে, তা’ সে নিজেই জানে না। এমন লোক আদৌ নির্ভরযোগ্য হতে পারে না, তারা বিশ্বাসঘাতক হবেই। বিরুদ্ধ সংযোগে রজােবীজের উপাদানের মধ্যে একটা বিস্ফোরণ ও ভাঙন সংঘটিত হয়, প্রতিলোম জাতকের মধ্যেও ঐ বৈশিষ্ট্য তাই ন্বভাবসিদ্ধ দেখা যায়৷ তারা যেখানে যাবে, সংহতিতে ভাঙন ধরাবেই৷ তারা যদি মহা প্রতিভাধরও হয়, তারও ফল হয়ে প্রায়শঃই বিধ্বংসী। ফলকথা, তারা অপকর্ষী, ব্যত্যয়ী চলনে না চ’লেই পারে না এবং ওতেই গৌরব বোধ করে, ঐ চলনে চলতে না পারলে অম্বস্তি বোধ করে। কিন্তু সদ্বংশজাত কোন লোক অন্যায় করলেও সাধারণতঃ তার অস্তরে সেজন্য একটা জ্বালা ও ব্যাথার কান্না লেগে থাকেই। তার পরিবর্তনও যে কোন মুহূর্তে হতে পারে। কিন্তু এদের পরিবর্তন সহজে হবার নয়। এরা সব সময় চরমে চলে। কোন সময় হয়তো অত্যন্ত বদরাগী, আবার কখনও হয়তো মাত্রাছাড়া ঠান্ডা মেজাজী। কখনও হয়তো উগ্র আসুরিক ভাবসম্পন্ন ও অতিমাত্রায় তেজী, আবার কখনও হয়তো ম্রিয়মান, বিষণ্ন ও কাপুরুষের মত ভীত ও দুর্বল। কারও কারও চরিত্রে আবার বিশেষ একটা চরম-ই প্রধান ও স্থায়ী দেখা যায় ৷ মােটপর, সাম্যসঙ্গত চলন এদের মধ্যে পাওয়াই দুর্লভ। আমার অনেক দেখা আছে। কয়েকটা মেয়ে আমার কাছে স্বীকার করেছে যে, প্ৰতিলোম কোন সংযোগ হবার সময় তাদের যেন জলে ভোবা মানুষের মত অবস্থা হয়। পূর্বপুরুষগণ একযোগে যেন ত্রাহি-ত্রাহি চিৎকার করতে থাকেন। আর্তস্বরে বলতে থাকেন-“বাচাও।' আমাদের বাচাও। আমাদের এমন করে সর্বনাশ করো না, এমন করে অধোগামী করো না। বুক ফেটে যেতে থাকে তাদের মৃত্যুযন্ত্রণার মত মনে হয়। মনে হয় “গেলাম, গেলাম।” অনেক সময় অজ্ঞাতসারে লাথি মেরে বসে পুরুষটাকে৷ এই যে লাথি মারে, যে তার সত্তা প্রতিঘাত করে ব'লে। পরে হয়তো ভোঁতা হ'য়ে যায়। কিন্তু খাঁটি জন্ম হলে প্রতিলোম সঙ্গতির বেলায় প্রথমটা সে কিছুতেই সায় দেবে না, আবার প্রতিলােম যৌন সংস্রবের ফলে প্রায়ই দেখা যায়, নাবী-পুরুষ রুগ্ণ ও বিকৃতগ্রস্ত হ’য়ে ওঠে ৷ পৃথিবীতে যদি কোন জিনিষ থাকে যা সর্ব্বৈব অকল্যাণকর, যার কোন দিক দিয়ে কােনরকম উদ্ধারণী লক্ষণ নেই সে হলো প্রতিলােম। এমনতর একটি পাপ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না৷ সর্বনাশ এর সর্ব অঙ্গে৷” (আলাচনা প্রসঙ্গে 8র্থ খন্ড, পৃ:-২৭৭)

শ্ৰীশ্ৰীঠাকুর তাঁর দিব্য দৃষ্টিতে সহজে যা দেখেছিলেন, এক ভক্তের প্রশ্নের উত্তরে, সেই দর্শনকেই কেমন সুন্দরভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরলেন।

07/07/2019

শ্রীশ্রীঠাকুর দরদভরা কণ্ঠে অভয়বাণী উচ্চারণ করলেন-- ঊষা-নিশায় মন্ত্রসাধন, চলাফেরায় জপ, যথাসময় ইষ্টনিদেশ মূর্ত্ত করাই তপ- এটুকু বজায় রাখলে অনেক-কিছু সহজ হ'য়ে আসে। বহু গোল কেটে যায়। ইষ্টধান্ধা প্রবল হলে অমঙ্গলকে মঙ্গলে নিয়ন্ত্রণ করার বুদ্ধি ও শক্তি গজায়। আর, পরিবার-পরিবেশের সবার সঙ্গে খুব ভাল ব্যবহার করতে হয়, তাদের সাধ্যমত সেবা দিতে হয়। চরিত্রের গুণে মানুষকে যে আপন ক'রে নিতে জানে, ধীরে-ধীরে তার দুঃখ ঘোচার পথে চলে।

একজন বললেন-- আমার মনের মধ্যে খুব দুশ্চিন্তা।

শ্রীশ্রীঠাকুর-- কী-জন্য দুশ্চিন্তা?

উক্ত দাদা-- শরীর ভাল না, কী করলে শরীরটা সারে, আর কী ক'রে সংসারটা চালান যায় এই সব ভাবনা।

শ্রীশ্রীঠাকুর-- প্যারীকে দেখা। শরীরটা যাতে ভালো হয় তাই কর্। শরীর এমন মজবুত করা লাগে যাতে ভূতের মত খাটতে পারিস। শরীর ভাল হ'লে মনও চাঙ্গা হয়ে উঠবে। তখন অবস্থা ও পরিস্থিতি বুঝে নিজের শক্তি-সামর্থ্য অনুযায়ী ছোটখাট একটা-কিছু নিয়ে লেগে পড়বি। নিজের প্রয়োজন তো আছেই, কিন্তু সে কথা বড় ক'রে না ভেবে ভাববি পরিবেশের কী অভাব বা প্রয়োজন তুই মেটাতে পারিস। তাতেই স্ফূর্ত্তি ক'রে লেগে যাবি। আর যা' করবি, তা' নিখুঁতভাবে করবি। তার মধ্যে যেন কোন গলদ, গাফিলতি বা গোঁজামিল না থাকে। এর ভিতর-দিয়েই পয়সা আসে, নিজের প্রয়োজন সিদ্ধ হয়। কেবলই অপরকে ভালবাসার তালে থাকবি, অপরের সুখ-সুবিধা দেখার তালে থাকবি- নিজেকে বিপন্ন না ক'রে। পরের মঙ্গল করার নেশা যদি তোমাকে পেয়ে বসে, তখন অমঙ্গল তোমার কাছ থেকে ছুটে পালাবার পথ পাবে না।

শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রেরণা-সন্দীপী, প্রাণময় অমোঘ অমিয় কথন শুনতে-শুনতে দাদাটির ব্যথাহত বিষণ্ণ মুখখানি আনন্দে উজ্জ্বল হ'য়ে উঠল।

দাদাটি বললেন-- আপনার দয়া হ'লে সব পারব।

শ্রীশ্রীঠাকুর-- পরমপিতার দয়া আছেই। জীবনটাই তাঁর দয়ায়।

আঃ প্রঃ -- ১১ খন্ড।।

Address

Dhubri

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sree Sree Thakur Anukulchandra posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share