10/11/2025
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজকে অনুসরণ - ৯ই নভেম্বর, ২০২৫
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ২০১৯ সালের ৪ঠা অক্টোবর একটি প্রবচনে বলেছেন, "শ্রীল প্রভুপাদ তিনি প্রতি মুহূর্তে প্রদর্শন করেছেন, কীভাবে তিনি তাঁর গুরুদেবের এবং কৃষ্ণের সেবা করার প্রয়াস করছিলেন।" তেমনি মহারাজ শ্রীল প্রভুপাদের একজন যোগ্য শিষ্য হিসেবে তাঁর গুরুদেবের নির্দেশ পালন করে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর করুণা বিশ্বব্যাপী প্রসারিত করে যাচ্ছেন। হাজারো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মহারাজ কৃষ্ণের সেবা মনোভাব থেকে কখনোই বিরত থাকেন না।
আজ মহারাজ প্রায় ৫০ মিনিট নিষ্ক্রিয় এবং সক্রিয় ব্যায়াম, বুকের ব্যায়াম, প্রাণায়াম, স্পিচ থেরাপি এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করেছিলেন। তিনি তাঁর সেবকের সাথে ৩০ পদক্ষেপ হেঁটেছিলেন।
তিনি কিছু সাম্প্রতিক তথ্য শুনেছেন এবং অধিকাংশই ব্যবস্থাপনাগত ইমেইলের উত্তর প্রদান করেছেন।
তিনি ইসকন চেন্নাইয়ের শ্রী শ্রী নিতাই-গৌরাঙ্গ, শ্রী শ্রী রাধা-কৃষ্ণ ললিতা-বিশাখা, শ্রী শ্রী রুক্মিণী-কৃষ্ণ সত্যভামা, শ্রী শ্রী জগন্নাথ-বলদেব-সুভদ্রা মহারাণী ও সুদর্শন চক্র এবং শ্রী শ্রী লক্ষ্মী-নৃসিংহদেবের উদ্দেশ্যে দীপ নিবেদন করেছিলেন। বিগ্রহগণের পোশাক ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও ঝলমলে রত্নখচিত। তিনি শ্রীল প্রভুপাদের উদ্দেশ্যেও দীপ নিবেদন করেছেন।
দক্ষিণ আমেরিকার কলম্বিয়ার বোগোটা থেকে ভক্ত দিয়েগো তাঁর শিক্ষাগুরু হরিনাম গৌরাঙ্গ দাস এবং ঈশা প্রিয়া দেবী দাসীর সাথে চেন্নাইতে আছে। মহারাজ তাকে জপমালা এবং তার পারমার্থিক নাম দিয়েছেন — দয়া গৌরাঙ্গ দাস।
তিনি রবিবাসরীয় প্রীতিভোজে আধ ঘণ্টা বক্তব্য রেখেছিলেন এবং তাঁর গুরুভ্রাতা শ্রীপাদ প্রভাবিষ্ণু প্রভু বাকি সময় প্রবচন প্রদান করেছেন।
মন্দির থেকে তাঁর কক্ষে ফেরার পথে, অপেক্ষারত সকল ভক্তদের তিনি আশীর্বাদ প্রদান করেছিলেন।
মহারাজ গায়ত্রী জপ করে, দুপুরের প্রসাদ গ্রহণ করেছিলেন এবং কিছু সময় বিশ্রাম নিয়েছিলেন।
সন্ধ্যা ৫টা ৩০মিনিটে তিনি বৈদিক তারামণ্ডল সমন্বিত মন্দিরের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনীর (SMOVP) অনলাইন মিটিংয়ে যোগদান করেছিলেন। প্রদর্শনীগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। মিটিংটি রাত ৭টা ৩০মিনিট পর্যন্ত চলমান ছিল।
রেলা হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট এবং ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডাঃ শ্রুতি চন্দ্রশেখরন ও তার স্বামী ডাঃ শিব প্রকাশ শ্রীনিবাসন এবং তাদের সন্তানদের নিয়ে তাঁর সাথে দেখা করতে এসেছিলেন।
ডাঃ শিব প্রকাশ একজন শিশু, কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি একটি বেসরকারী সংস্থার সদস্য তিনি বলেন যে, তারা টেলি-পরামর্শ করে এবং তাদের সাহায্য করারও প্রস্তাব দেন।
তারপর তিনি জিবিসি সম্মেলনের ইমেইলগুলি শুনেছেন এবং সেগুলির উত্তরের নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন।
রাতে প্রতিনিয়ত মহারাজ বিশ্রামের পূর্বে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যয়ন করেন। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার অধ্যয়ন অব্যাহত রেখে আজ তিনি সপ্তম অধ্যায় সম্পূর্ণ করেছেন এবং অষ্টম অধ্যায় “অক্ষরব্রহ্ম-যোগ” চতুর্থ শ্লোক পর্যন্ত অধ্যয়ন করেছিলেন।
মহারাজ এই প্রসঙ্গে বলেছেন, "এই মানবজন্মে যদি আমরা আমাদের চেতনা বিকশিত করি এবং শ্রীকৃষ্ণকে উপলব্ধি করতে পারি, সেটাই প্রকৃত পরিপূর্ণতা বলে গণ্য হয়। এমনকি যদি আমরা সম্পূর্ণভাবে শ্রীকৃষ্ণকে উপলব্ধি করতে না পারি, তবুও যদি সারাজীবন আমরা শ্রীকৃষ্ণের ধ্যানে নিবিষ্ট থাকি এবং দেহ ত্যাগের সময় শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করি, তবে পরবর্তী জন্মে আমরা শ্রীকৃষ্ণের ধামে প্রত্যাবর্তন করব। তাই সর্বদা কৃষ্ণচেতনায় নিযুক্ত থাকুন, হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করুন এবং সর্বদা শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করুন।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।"
বি. দ্র. : যেমনটা আপনারা সকলেই অবগত আছেন, এই মুহূর্তে মহারাজ শারীরিকভাবে অনেকটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তবুও তিনি নিরবিচ্ছিন্নভাবে শ্রীল প্রভুপাদের প্রতি তাঁর প্রতিজ্ঞা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। প্রতি মুহূর্তে মহারাজ তাঁর আচরণের মাধ্যমে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশ এবং শ্রীল প্রভুপাদের শিক্ষাকে আমাদের মাঝে প্রচার করে চলেছেন। তাই অনুগ্রহ করে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীল প্রভুপাদের কাছে আপনারা আন্তরিকভাবে প্রার্থনা নিবেদন করুন যাতে মহারাজ পূর্ববৎ তাঁর শক্তি-সামর্থ্য ফিরে পান এবং শ্রীল প্রভুপাদের উদ্দেশ্যে তাঁর বিভিন্ন সেবা চালিয়ে যেতে পারেন। এ লক্ষ্যে আপনারা অতিরিক্ত জপ, নৃসিংহ কবচ পাঠ, ৮ বার তুলসী পরিক্রমা করতে পারেন এবং আপনার অতিরিক্ত জপ সংখ্যা ও প্রার্থনার বিবরণ জমা দিন নিম্নের লিংকে: