24/01/2021
|| মন্দিরের জন্য অর্থদান করুন ||
👉মানুষের কর্তব্য অনেক। কিন্তু মৃত্যুর আগে এমন কর্ম করতে হয় যা সবার উপকার হয় এবং ভগবানও সন্তুষ্ট হন।
যেমন গৃহস্থদের কর্তব্য , ভগবানের মন্দির তৈরি করার জন্য এবং সারা পৃথিবী জুড়ে শ্রীমদ্ভগবদগীতা অথবা কৃষ্ণভক্তির বাণী প্রচার করার উদ্দেশ্যে অর্থ দান করা ।
✔️স্কন্দপুরানে উল্লেখ আছে,
“আরম্ভে কৃষ্ণধিষ্ণস্য সপ্তজন্মনি যৎ কৃতম।
পাপং বিলয়মাপ্নোতি নরকাদুরেৎ পিতৃন্”॥
অনুবাদ : শ্রীকৃষ্ণমন্দির নির্মাণ আরম্ভে পূর্বের সপ্তজন্ম যেসকল পাপ হয়েছে , তা বিনাশ প্রাপ্ত হয় এবং নরক হতে পিতৃপুরুষগণ উদ্ধার লাভ করেন ।
শাস্ত্রে— পুরাণ এবং অন্যান্য বৈদিক গ্রন্থে ভগবানের দিব্য কার্যকলাপের বহু বর্ণনা রয়েছে , সকলেরই কর্তব্য সেগুলি বার বার শ্রবণ করা । যেমন , আমরা যদি প্রতিদিন ভগবানের জন্ম, কর্ম,গুন ও লীলা শ্রবন করি তাহলে আমাদের মনের পুন্জিভূত পাপ ময়লা পরিস্কার হতে থাকবে। সেটিই দিব্য শাস্ত্রের গুণ । কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন এইভাবে মানুষকে পবিত্র করছে।
মন্দির স্থাপন করে কৃষ্ণকথা প্রচারের দ্বারা সমগ্র মানব সমাজের কল্যাণের জন্য গৃহস্থদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করার সুযোগ দেয়।
👉ভারতবর্ষে লক্ষ লক্ষ মন্দির রয়েছে যেগুলি সমাজের ধনী ব্যক্তিরা তৈরি করেছেন , যাঁরা চোর বলে গণ্য হয়ে দণ্ডভোগ করতে চাননি ।গীতায় উল্লেখ করা হয়েছে যে , কেউ যদি তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধন সঞ্চয় করে তা হলে সে চোর এবং প্রকৃতির নিয়মে তাকে দণ্ডভোগ করতে হবে । যে ব্যক্তি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধন সংগ্রহ করে , সে অধিক থেকে অধিকতর জড় সুখ ভোগ করার অভিলাষী হয় ।
কলিযুগে বহু কৃত্রিম আনন্দবিধান উদ্ভাবন করছে এবং যাদের টাকা রয়েছে , তারা এই সমস্ত কৃত্রিম প্রলোভনের দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে আরও ধন সঞ্চয় করার চেষ্টা করছে । এটিই আধুনিক অর্থনৈতিক উন্নতির আদর্শ । সকলেই অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত এবং সেই টাকা ব্যাঙ্কে রাখা হচ্ছে , এবং ব্যাঙ্ক আবার সেই টাকা জনসাধারণকে ধার দিচ্ছে । এই চক্রের সকলেই টাকার পিছনে ছুটছে এবং তার ফলে মানব - জীবনের আসল উদ্দেশ্য মানুষ বিস্মৃত হয়েছে ।
▪️সংক্ষেপে বলা যায় যে , এই সভ্যতায় সকলেই চোর এবং তাই দণ্ডনীয় । প্রকৃতির নিয়মে জন্ম - মৃত্যুর চক্রের মাধ্যমে তাদের দণ্ডভোগ হয় । কেউই তার জড় বাসনা চরিতার্থ করে পূর্ণ সন্তোষ সহকারে মৃত্যুবরণ করে না । কারণ তা কখনই সম্ভব নয় । তাই মৃত্যুর সময় তাদের বাসনাগুলি চরিতার্থ করতে অক্ষম হওয়ার ফলে , তারা অত্যন্ত কষ্টভোগ করে । তখন তার অতৃপ্ত আত্মা জড় বাসনা চরিতার্থ করার জন্য প্রকৃতির নিয়মে সে আর একটি শরীর প্রাপ্ত হয় , এবং এইভাবে জন্মগ্রহণ করার পর আর একটি জড় শরীর ধারণ করে তাকে স্বেচ্ছায় বার বার ত্রিতাপ দুঃখ বরণ করতে হয়।
“ তুমি যদি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্য মন্দির নির্মাণে সহায়তা করো, তাহলে তিনি তোমার জন্য বৈকুণ্ঠ জগতে একটি স্থান নির্মাণ করবেন । ”