11/09/2025
প্রশ্নঃ রাধা কথার অর্থ কি? শ্রীমতী রাধারাণী এবং শ্রীকৃষ্ণের সম্পর্ক কি?
উত্তরঃ শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত গ্রন্থে ( আদিলীলা, ৪/৮৭) বলা হয়েছে—
কৃষ্ণবাঞ্ছা-পূর্ত্তিরূপ করে আরাধনে।
অতএব 'রাধিকা' নাম পুরাণে বাখানে॥
পুরাণে বলা হয়েছে, শ্রীকৃষ্ণের বামপার্শ্ব থেকে আবির্ভূত হয়ে সহসা তাঁর শ্রীপাদপদ্ম সেবার জন্য যিনি ধাবিতা হয়ে পুষ্পচয়ন করে শ্রীকৃষ্ণের প্রথম আরাধনার বিধান করলেন, তিনিই হচ্ছেন শ্রীমতী রাধারাণী।
শ্রীমতী রাধারাণী সম্বন্ধে শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থে ( আদিলীলা, ৪/৬৯) শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন—
মহাভাবস্বরূপা শ্রীরাধা-ঠাকুরাণী।
সর্ব্বগুণখনি কৃষ্ণকান্তা-শিরোমণি॥
অর্থাৎ, "মহাভাব-স্বরূপিণী শ্রীমতী রাধারাণী হচ্ছেন সমস্ত গুণের আধার এবং শ্রীকৃষ্ণের প্রেয়সীগণের শিরোমণি।"
আবার শ্রীমদ্ভাগবতেও শ্রীমতী রাধারাণীর নামের সঙ্কেত আছেন—
অনয়ারাধিতাে ন্যূনং ভগবান্ হরিরীশ্বরঃ।
যন্নো বিহায় গােবিন্দঃ প্রীতাে যামনয়দ্রহঃ॥
"হে সহচরি, আমাদিগকে পরিত্যাগ করিয়া শ্রীকৃষ্ণ যাঁহাকে নিভৃতে লইয়া গেলেন, তিনিই ঈশ্বর হরিকে অবশ্যই অধিক আরাধনা করিয়াছেন। গূড় অর্থ এই যে, তিনি কৃষ্ণ-কান্তাগণের শিরােমণি বলিয়া তাঁহার নাম 'রাধিকা' হইয়াছে।
( শ্রীমদ্ভাগবতে, ১০/৩০/২৮ )
গোলোকে শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধা নিত্য কান্ত ও কান্তারূপে বিরাজমান। সেই কথা শ্রীব্রহ্মা ব্রহ্মসংহিতায় (৫/৩৭ শ্লোকে) বর্ণনা করেছেন—
"পরম আনন্দদায়িনী
শ্রীমতী রাধারাণীর সঙ্গে যিনি স্বীয় ধাম গোলোকে
অবস্থান করেন এবং শ্রীমতী রাধারাণীর অংশ-প্রকাশ চিন্ময় রসের আনন্দে পরিপূর্ণ ব্রজগোপীরা যাঁর নিত্য লীলাসঙ্গিনী, সেই আদিপুরুষ গোবিন্দকে আমি ভজনা করি।"
ভগবানের ভক্ত পার্ষদগণ কত সুন্দরভাবেই শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু জড়বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা সেই সব সুন্দর সরল কথাগুলি জেনেও 'সাতকাণ্ড রামায়ণ পড়ে, সীতা কার বাপ’ বলে চিন্তা করতে থাকেন। জটিল আর কুটিল মানসিকতা সম্পন্ন লোকেরাই রাধারাণীকে শ্রীকৃষ্ণের মামী বলে ব্যাখ্যা করতেই পারেন। কারণ আপন-লাম্পট্য ভাবধারা দিয়ে ভগবানের চরিত্র ব্যাখ্যা করে তারা আমোদ পেতে খুবই আগ্রহী। ষড়-গোস্বামীর গ্রন্থ অধ্যয়ন করলে তারা কখনও অনর্থক কথাগুলি বলতে পারেন না। শ্রীরাধারাণী হচ্ছেন কৃষ্ণপ্রিয়া আর শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন রাধানাথ।