শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র - অমীয় বাণী -Satsang.

  • Home
  • India
  • Deoghar
  • শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র - অমীয় বাণী -Satsang.

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র - অমীয় বাণী -Satsang. This page is providing for all, ShiShi Thakur Anukulchandra speech and behalf of Satsang Deoghar. �

31/10/2022

◾◾ || #সমবেত_প্রণাম_ও_বিনতি_প্রার্থনা || ◾◾

১৭ই জুলাই, ১৯৬৪। পরমদয়াল সকালে নিরালা-নিবেশে বসে আছেন। ৬টা বেজে ২৫ মিনিটের সময় পরমপূজ্যপাদ বড়দার উপস্থিতিতে সমবেত প্রণাম হয়ে গেল।

১৯৫৬ সালের ২১শে মে ঠাকুর-বাংলার জামতলার ঘরে (ঐ ঘরের বর্তমান নাম জামতলা শ্রীঅঙ্গন) শ্রীশ্রীঠাকুরের ষ্ট্রোক হয়। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর ফলে তাঁর শরীরের ডানদিকের স্বাভাবিক সঞ্চালন ক্ষমতা অনেকটা রহিত হয়ে যায়। কিছুদিন চিকিৎসার পর তিনি ক্রমশঃ সুস্থ হয়ে উঠতে থাকেন। কিন্তু তাঁর ডান হাতটি তখনও সম্পূর্ণ নিরাময় হয়নি। স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করা বা উঁচু-নিচু করার একটু অসুবিধা রয়েই গিয়েছিল। ঐ হাতের আঙ্গুলগুলিতে তিনি কম জোর অনুভব করতেন। আশ্রমবাসী দাদা ও মায়েরা সকাল-বিকেল-সন্ধ্যায় যার যার মত করে এসে শ্রীশ্রীঠাকুরকে প্রণাম করতেন। সমবেত প্রণামের বর্তমান রকমটা তখন ছিল না। কিন্তু যখনই কেউ এসে তাঁকে প্রণাম করতেন, ঠাকুর সাধারণতঃ তাঁর হাত দু'টি জোড়ে কপালে ঠেকিয়ে মাথা নিচু করে প্রণাম গ্রহণ করতেন (তিনি এইভাবে পরমপিতার উদ্দেশ্যে প্রণাম নিবেদন করতেন নাকি আমাদের আশীর্বাদ করতেন তা দয়াল নিজেই জানেন। আমার ধারণার বাইরে প্রণাম গ্রহণের সেই অপরূপ ভঙ্গিমার ব্যাখ্যা)। কিন্তু এভাবে বারে বারে তাঁকে তা করতে হত, ভক্তেরা প্রণাম করলেই। অসুস্থতার সময়ও (যখন ডান হাতের স্বাভাবিক নড়াচড়া ব্যাহত) এইভাবে কষ্ট করে তা তিনি করতেন। তাঁর এই শারীরিক অসুবিধার কথা চিন্তা করে, পূজনীয় বড়দা পরবর্তী সময়ে একদিন (তারিখটা স্মরণে নেই) সকালবেলা শ্রীশ্রীঠাকুরের ঘরের কাছে যাঁদের পেলেন তাঁদের সবাইকে নিয়ে---'চল্, আমরা সবাই একসাথে বাবাকে প্রণাম করি’—এই বলে শ্রীশ্রীঠাকুরকে প্রণাম করলেন। তারপর থেকে ক্রমে সকাল-সন্ধ্যা দু’বেলাতেই তাঁরা পূজ্যপাদ বড়দার সাথে সমবেত ভাবে শ্রীশ্রীঠাকুরকে প্রণাম করতে লাগলেন। তারপর বড়দা শ্রীশ্রীবড়মাকে প্রণাম করতেন। আমরা সবশেষে পূজ্যপাদ বড়দাকেও প্রণাম করতাম (প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, ঐ সময় সমবেত বিনতি-প্রার্থনা বহুদিন বন্ধ ছিল)। এভাবেই আশ্রমে সমবেত প্রণাম নিত্য-নৈমিত্তিকভাবে শুরু হল। সমবেত প্রণাম দু'তিন মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে গেলেও ঠাকুরের নিমীলিত চক্ষে দু’হাত জোড়ে মাথায় ঠেকিয়ে রাখার সময়টা কিন্তু দিনের পর দিন বাড়তেই থাকল।

কিছুদিন পর পূজ্যপাদ বড়দা ঠাকুরঘরে একদিন মায়েদের বলেন—সমবেত প্রণামের সময় শ্রীশ্রীঠাকুরের সামনে ধূপ-দীপ দিলে এবং শঙ্খে ফুঁ দিলে কেমন হয়? সুশীলামা (বিশ্বাস) সাথে সাথে বলে উঠলেন, খুব ভাল হয়। পূজ্যপাদ বড়দা তাঁকে পিতলের থালা, প্রদীপ, শঙ্খ ইত্যাদির ব্যবস্থা করে দিলেন। সেগুলি দিয়েই প্রথমদিকে ধূপ-দীপ, শঙ্খধ্বনি সহযোগে সমবেত প্রণাম হত। পরবর্তীকালে সুশীলামা ভিক্ষা করে রূপোর থালা, সোনার প্রদীপ স্বীয় প্রচেষ্টায় সংগ্রহ করেন।

আগেই বলেছি, সমবেত প্রণামের সময় শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁর হাতদু'টি জোড় করে কপালে স্পর্শ করে রাখতেন। প্রথমে তিনি ৫-৭ মিনিট ঐভাবে মাথায় দু'হাত ঠেকিয়ে রাখতেন, কোন অবলম্বন ছাড়াই। কোন কোন দিন তিনি ১০-১৫ মিনিট অবধি একইভাবে মাথায় দু'হাত জোড়ে (প্রতি-নমস্কারের ভঙ্গিতে) ঠেকিয়ে ঐভাবে থাকতেন। পরে তা বেড়ে ২০-২৫ মিনিট পর্য্যন্ত চলতে থাকে। একেকদিন ৩৫-৪০ মিনিটও পার হয়ে গেছে, এমনও দেখেছি।

সেই সময়ে কাশি এলেও তাঁর হাত দু'টি তিনি কখনাে কপাল থেকে নামাননি। কোন কোনদিন কাশি এমন হত যে প্রশ্বাস নিতেও ঠাকুরের কষ্ট হত। এইভাবে একদিন ঘড়িতে দেখলাম যে ৪২ মিনিট অতিক্রান্ত! সেই ভাব ও রূপকে বর্ণনা করা কঠিন। নীরব নিস্তব্ধ থাকত গােটা পরিবেশ। জগৎ-সংসারের মধ্যে থেকেও ঠাকুর যেন সেই সময় পরম- কারণে বিলীন। একি তাঁর নীরব ভাব-সমাধি? সেই দীর্ঘ সময় বড়দা (এবং আমরা) হাঁটু গেঁড়ে ঠাকুরের মুখােমুখি বসে, তাঁর দু’হাত (জোড়া করে) বুকে ঠেকিয়ে রাখতেন। স্বীকার করতে বাধা নেই যে সেই দীর্ঘ সময় আমরা ঐভাবে থাকতে না পেরে হাঁটু সামনের দিকে রেখে বসে পড়তাম। অথচ ঠাকুর তখনও একই ভঙ্গিমায় সমাসীন।

সমবেত-প্রণামের দরুন এই সুদীর্ঘ সময় অবধি শ্রীশ্রীঠাকুরের এইভাবে থাকার (তদুপরি ঐ সময়ে কাশি আরম্ভ হলে তাঁর যে অসহনীয় কষ্ট ও অস্বস্তি হত) শারীরিক কষ্টের কথা চিন্তা করে বড়দা ১৭ই জুলাই ১৯৬৪ সকালে ঠাকুরকে অনুরােধ করে বললেন---বাবা! আমরা সকলে মিলে বিনতি করলে কেমন হয়?

শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—ভালই হয়। করলেই হয়। সেদিন বিকেলবেলায় বড়দার উপস্থিতিতে সৎসঙ্গী দাদা এবং মায়েরা সমবেত প্রণামের পরিবর্তে সবাই মিলে বিনতি প্রার্থনা ('বার বার কঁরু বিনতি’ এবং 'বার বার কর জোড় কর’) করলেন। এর ফলে সমবেত প্রণামের দরুন ঠাকুরের দীর্ঘক্ষণ মাথায় জোড়হাত ঠেকিয়ে রাখার কষ্টকে থামানো গেল।

প্রথমদিনের (১৭ই জুলাই, ১৯৬৪) সন্ধ্যাবেলার বিনতি-প্রার্থনার পর পরই ঠাকুর সেবামাকে জিজ্ঞাসা করলেন--- 'গুরুব্রহ্মা, গুরুবিষ্ণু' করল না? সেবামা সেই কথা বড়দাকে জানালে 'গুরুব্রহ্মা, গুরুবিষ্ণু' সকাল-সন্ধ্যের বিনতি-প্রার্থনার (সকালে 'রাধাস্বামী নাম যো গাওয়ে’, 'বার বার কর জোড় কর’, সন্ধ্যায় 'বার বার কঁরু বিনতি’ এবং 'বার বার কর জোড় কর’) সাথে (শেষে) গাওয়া হতে লাগল। এভাবেই ঠাকুরের তিরােধান অবধি সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর সামনে দেওঘরে বিনতি-প্রার্থনা হত। ক্ষেত্রবিশেষে (ব্যতিক্রম হিসেবেই বলা যায়) আবাহনী সহযােগেও প্রার্থনা সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, অসুস্থতার কারণে ঠাকুর সকালবেলা বিশ্রাম নিলে বিনতি-প্রার্থনা করা হত দেরিতে। ব্যতিক্রম হিসেবে, আমি সকাল ৯টাতেও সকালের বিনতি হতে দেখেছি। মনে পড়ে, ঠাকুরের মহাপ্রয়াণের দিনও পবিত্র দাহস্থলে (দাহকার্য্যের সময়) সন্ধ্যা বিনতি-প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিরোধানের পরবর্তী সময়ে, বড়দার ইচ্ছাতে শ্রীশ্রীঠাকুর বিরচিত 'জয় রাধে রাধে' সমবেতভাবে পূর্বোক্ত বিনতি-প্রার্থনার শেষে গাওয়া হতে লাগল। ঘড়িতে মিলিয়ে দেখেছি, 'জয় রাধে রাধে'-সহ সকালের কিংবা সন্ধ্যার বিনতি-প্রার্থনা সমাধা হতে (এখন যেভাবে ঠাকুরবাড়িতে গাওয়া হয়) সময় লাগে প্রায় ১৪ মিনিট। ‘জয় রাধে রাধে' কীর্তন-সঙ্গীতে লাগে মোটামুটি ৭ মিনিট। 'বার বার কঁরু বিনতি', 'রাধাস্বামী নাম যো গাওয়ে', 'বার বার কর জোড় কর', বিনতি প্রার্থনার এই অংশগুলি আগ্রা সৎসঙ্গ থেকে (এই আগ্রা সৎসঙ্গের একদা প্রধান সন্ত-সদগুরু হুজুর মহারাজের কাছে ঠাকুরের মা, স্বয়ং মনােমােহিনী দেবী দীক্ষা নিয়েছিলেন) গৃহীত। 'গুরুব্রহ্মা, গুরুবিষ্ণু'র রচয়িতা স্বয়ং শংকরাচার্য্য। এবং বলাই বাহুল্য 'জয় রাধে রাধে' গানটি লিখেছিলেন স্বয়ং শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র, যার সুরারোপ করেছিলেন প্রখ্যাত সুরকার অপরেশ লাহিড়ী (তাঁরা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ঠাকুরের সৎমন্ত্রে দীক্ষিত ছিলেন)।

আমি যখন দেওঘর সৎসঙ্গ আশ্রমে আসি, ১৯৪৯ সালে, সেই সময় সন্ধ্যায় বিনতি প্রার্থনায় যােগদান করতাম। তখন বড়াল-বাংলার বড়দালানের ঘরের (এখন যেখানে মেমোরিয়া', সামনে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে (যা বাঁধানাে ছিল না, কোথায়ও ঘাস, কোথাও কাঁকর মাটিতে ঢাকা ছিল) ঠাকুর একটি চৌকীর ওপর শ্বেতশুভ্র বিছানায় বসে থাকতেন। আর, আমরা তাঁর মুখােমুখি বসে সমবেত সন্ধ্যা-প্রার্থনায় ভাগ নিতাম। আমরা অনেকে মাটিতে বা ঘাসের ওপরে বসে প্রার্থনা করতাম। 'আবাহনী' দিয়ে প্রার্থনা শুরু হত। প্রার্থনা শুরু হওয়ার আগে তখন ঘণ্টা বাজানাে হত, যাতে সবাই প্রার্থনাতে সময়মত এসে যােগদান করে। তারপর 'বার বার কঁরু বিনতি’ এবং 'বার বার কর জোড় কর’ অংশগুলি সমবেতভাবে গাওয়ার পর ‘হে পরমকারুণিক !’ (ঠাকুরের রচিত) সবাই মিলে হাঁটু গেড়ে বসে (কোলের উপর হাত জোড় করে) বলতাম। তারপর কেষ্টদার রচিত ‘পুরুষোত্তম বন্দনা' পাঠ হত এবং তারপর ঠাকুর বিরচিত ‘যিনি সব যাহা কিছুতেই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়া দেদীপ্যমান’ অংশটি সমবেতভাবে পাঠের সময় আমরা কখনাে দাঁড়িয়ে, কখনও হাঁটু গেঁড়ে, কখনােও বীরাসনে, কখনও সুখাসনে, কখনাে ভূমিষ্ঠ হয়ে ঠাকুরকে প্রণাম করতাম। তারপর 'গুরুব্রহ্মা, গুরুবিষ্ণু', 'পঞ্চবর্হি', 'সপ্তার্চ্চি' একসাথে বিশেষ সুরে গাইতাম (এবং বলতাম)। এভাবেই পুরাে সন্ধ্যা-প্রার্থনা সমাধা হতে মােটামুটি ২৮-৩০ মিনিট সময় লাগত।

[সংগৃহীত:- "কত কথা মনে পড়ে"
(মণিলাল চক্রবর্তী)]

31/10/2022

#ভাগ্য_কিসের_উপর_নির্ভর_করে
ভাগ্য কিন্তু করার উপর নির্ভর করে। যে পারে না, বুঝতে হবে তার করাতেই গণ্ডগোল আছে। অদৃষ্ট মানে আমার যে কৰ্ম্মের ফল পরিপার্শ্বিকে চারিয়ে গিয়ে ছড়িয়ে আছে। Principle (আদর্শ) না থাকলে করাগুলির মধ্যে বিন্যাস আসে না, শৃঙ্খলা ফুটে উঠে না, individuality (ব্যক্তিত্ব)-ই grow করে (বাড়ে) না, personality (ব্যক্তিত্ব) integrated (সংহত) হয় না, বৃত্তিই তাকে guide (চালিত) করে। বৃত্তিগুলি গোল— তাই ওদের বৃত্তি বলে, মানুষ বৃত্তির বাইরে আর কিছুই দেখতে পায় না। ওই- ই হয় তার universe (বিশ্ব), এর একটার সঙ্গে আর একটার কোন যোগ নেই। যখন যেটার মধ্যে যায় তার মধ্যেই ঢুকে প’ড়ে থাকে। কতজনেই তো কত খাটে— কিন্তু একটা চাষার ছেলে দেখতে দেখতে minister (মন্ত্রী) হ’য়ে গেল— তা' হয় কি ক’রে ? ওই টান। টানই সব। পৃথিবীতে এমন মানুষ দেখতে পাবেন না, ঠিক এ- কথা বলতে পারি না, যা’ হোক খুব কম মানুষই দেখতে পাবেন— যারা প্রকৃত বড় হয়েছে অথচ কোন superior beloved (প্রেষ্ঠ)-এর উপর active attachment (সক্রিয় অনুরাগ) নেই। আমরা history (ইতিহাস) পড়ি, কিন্তু একটা life (জীবন) -এর glowing point (দীপনকেন্দ্র) আমাদের চোখে পড়ে না— তাহ’লে দেখতে পেতাম যে, শ্রেয়ে অনুরাগ ছাড়া কেউ বড় হয়নি।

-শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
আলোচনা প্রসঙ্গেঃ ১/১৮.১০.১৯৩৯
জীবন বৃদ্ধির পথে সৎ-অন্বেষণা'র সাথে

31/10/2022

ইষ্টনিদেশ অটুট রাখিস
সংশয়ের তুই ধারিস না ধার,
বোধবিবেকের বিনায়নে
কৃতিতপে তা' করিস সুসার।
-------শ্রীশ্রীঠাকুর
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
কথাপ্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন--হিন্দুদের যতই দুরবস্থা হোক না কেন, আমার মনে হয় এদের মেরুদণ্ড এখনও নষ্ট হয়নি।ভাল-ভাল ঘরে বিয়ে-থাওয়া ও চালচলন মোটামুটি ঠিক আছে।যদিও কালের প্রভাবে কিছুটা ক্ষুণ্ন হ'য়ে থাকতে পারে।কৃষ্টিগত ভাবধারা ক্রমাগত পরিবেশন ক'রে এদের প্রবুদ্ধ ক'রে তোলা লাগে।ধর্ম্ম মানে কৃষ্টিবৈশিষ্ট্যের অনুসরণ, যা' কিনা আমাদের সত্তাকে ধ'রে রাখে।আচরণ বাদ দিয়ে ধর্ম্ম হয় না।ইষ্ট হলেন ধর্ম্মমূর্ত্তি।তাঁর উপর প্রচন্ড নেশা চাই, নিষ্ঠা চাই।ও ব্যাপারে কিছুটা গোঁড়ামি থাকা ভাল।গোঁড়ামিটাই আমাদের ধ'রে রাখে।এটা যেন আমাদের গায়ের চামড়া।চামড়া না থাকলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি খসে পড়ত।আত্মরক্ষার জন্য কিছুটা গোঁড়ামি লাগেই।আত্মিক দিক দিয়ে উদার হওয়ায় ক্ষতি নেই।কিন্তু কাঠামো শিথিল হ'লে মুশকিল।আমরা নিষ্ঠার বাঁধন ভেঙে দিয়ে যেদিকে যতখানি ঝুকব, তা' আমাদের ততখানি ক্ষতির কারণ হবে।গ্রহগুলি যেমন সূর্যের টানে বিধৃত হ'য়ে স্ব-স্ব কক্ষপথে থেকে ঘোরে আমাদের জীবনও তেমনি সুস্থিত থেকে প্রগতিপন্ন হ'য়ে চলতে পারে, যদি কিনা তা ইষ্টে বিধৃত থাকে।
(আঃপ্রঃ--১৯/৬২)

31/10/2022

শ্রীশ্রীঠাকুর-- পরমপিতার দয়া আছেই। কিন্তু যত আমরা পরমপিতার পথে চলতে পারব,সত্তাকে ধারণ ক'রে চলতে পারব,তত দয়া পাব।

উক্ত দাদা করজোড়ে বললেন-- আপনি যদি কিছু ক'রে দেন।

শ্রীশ্রীঠাকুর-- আমি তো দেখতে পাই,তিনি দয়া ক'রেই আছেন। আমরা যত তাঁ'র দিকে চলি তত বুঝতে পারি তা'। আমি কই,কৃপা কথার মানে ক'রে পাওয়া। পরমপিতা ভালবাসেনই আমাদের। তা'তে আমাদের কিছু লাভ নেই। আমরা তাঁ'কে যতখানি ভালবাসি,তাঁ'কে সেবা করি,তাঁ'র পথে চলি,তাই-ই আমাদের asset (সম্পদ)। আর,যত এমনভাবে চলব ততই তাঁ'র কৃপা করতে পারব।

উক্ত দাদা-- আমি ঠাকুরের কাছে এসেছিলাম কিছু পাওয়ার জন্য। তিনি তো দিলেন না।

শ্রীশ্রীঠাকুর-- তিনি এতই দিচ্ছেন, অসম্ভব। কতখানি যে দিচ্ছেন,ঠিক পাই না। তা'তে আমাদের ভিক্ষুক থাকতে হয় না। কিন্তু করি না যে,তাই পাইও না।

প্রশ্ন-- Concentric (কেন্দ্রায়িত) হওয়া যায় কি ক'রে?

শ্রীশ্রীঠাকুর-- Concentric (কেন্দ্রায়িত) হ'তে চাইলে তা' হওয়া যায় না। Interest (অন্তরাস) যত created (সৃষ্টি) হয়,ততই মানুষ concentric (কেন্দ্রায়িত) হয়। একটা টকি দেখলে মনে থাকে,কি একটা নভেল পড়লে মনে থাকে। কিন্তু পড়ার বই আর মনে থাকতে চায় না। তা'র মানে,ওখানে interest (অন্তরাস) গজায় নি।

প্রশ্ন-- Interest (অন্তরাস) কেমন ক'রে আসে?

শ্রীশ্রীঠাকুর-- Interest (অন্তরাস) হ'ল to be engaged lovingly (অনুরাগের সাথে কোন-কিছুতে ব‍্যাপৃত হওয়া),যেমনটা হয় একটা নভেল পড়তে যেয়ে বা একটা টকি দেখতে যেয়ে।

(ইং ৬/৮/১৯৫৭)।। দীপরক্ষী ৩য় খণ্ড।।

31/10/2022

প্রশ্ন-- ঠাকুর! অনেকে বলে,দেশের লোকের সাহস অনেক বেড়ে গেছে। আগে মানুষের এত সাহস ছিল না।

শ্রীশ্রীঠাকুর ব‍্যঙ্গের স্বরে বললেন-- বা!বা!বা! কী সাহস? কাপুরুষের যে সাহস,সেই সাহসেরই তো বাড়াবাড়ি দেখা যায়। ধর্ম্ম-কৃষ্টি মানব না,গুরু বা গুরুজনদের ধার ধারব না,স্বাধীন মত ও উদারতার নামে যা' খুশি করব,যেমন ইচ্ছা চলব-একে কি আর সাহস বলে? তাহ'লে চোর,লুচ্চা,ডাকাতের কি কম সাহস? যে- সাহস being and becoming (বাঁচাবাড়া)-এর জন্য,বৈশিষ্ট‍্য ও আভিজাত্যের উদ্বর্দ্ধনের জন্য প্রযুক্ত না হয়,সেটা আবার কী সাহস? সাহস কথাটা গাল হিসেবেও ব‍্যবহার হয়,আমি সেটা বলছি,সেটা সৎ সাহস যাকে বলে তাই। সৎ সাহস অসতের নিরাকরণ ক'রে সতের প্রতিষ্ঠা করতেই ব‍্যস্ত। সেই সাহস কি আজ দেশে আছে? তার নমুনা তো দেখতে পাই না। আমাদের যে গৌরবমণ্ডিত রূপ আমার চোখের আগে ভাসে,বাস্তবে তার চেহারা খুঁজে পাই না। আর,প্রাণটার মধ্যে কেমন যেন করতে থাকে! খুব বেশী emotional rush (ভাবের আবেগ) আসলে কথা বলতে পারি না। কথা কত বলতে ইচ্ছা হয়,বলতে পারি না,কেমন যেন বাক্ রোধ হ'য়ে আসে। মাঝে-মাঝে ভাবি-ব'লেই বা কী হবে? কে আমার মনের অবস্থা বুঝে আমার কথামত কাজ ক'রে আমাকে একটু শান্তি দেবে এবং সপরিবেশ নিজেও শান্তি পাবে? আমি যা' আগে বলেছি,তা' করলে কিছুতেই আটকাতো না।.....আগে আমার যে-ই decision (সিদ্ধান্ত) হ'তো,সঙ্গে-সঙ্গে শরীরটা এমন হ'য়ে উঠতো যে তা' না ক'রে পারতাম না। কিন্তু আমি যখন থেকে শরীরের দিক্ দিয়ে অপারগ হলাম,তোমরা কিন্তু আমার হ'য়ে করলে না। কথাগুলি নিয়তির লোলঅঙ্কে লালিত হ'চ্ছে। জ‍্যান্ত মানুষ পেলাম না। জেনে-বুঝেও চরম বিপর্য্যয় বোধহয় এড়াতে পারলাম না।

শ্রীশ্রীঠাকুরের চোখেমুখে ও কণ্ঠস্বরে গভীর বিষাদ ও নৈরাশ‍্যের ছায়া নেমে এলো। বিমর্ষ হ'য়ে ব'সে রইলেন।

কিছু সময় পরে উদ্দীপ্ত-ভঙ্গীতে বললেন-- আমি যে কৃষ্টি-প্রহরীর কথা বলেছি, ঐটে যদি ভাল ক'রে organise (সংগঠন) ক'রা যায়,তাহ'লে এখনও আশা আছে। স্বস্তিবাহিনী গ'ড়ে তুলতে হয়। তাদের কাজই হবে,সব অস্বস্তি ও অশান্তিকে নির্ব্বাপিত ক'রে দেশের-দশের স্বস্তিবিধান করা। স্বস্তিবাহিনীর জন‍্যও দরকার স্বস্তি-নায়ক। কৃষ্টিপ্রহরীর fund (তহবিল) যদি বেড়ে যায়,তা'-থেকে কলেজ,লাইব্রেরী,খবরের কাগজ,জেলায়-জেলায় ব‍্যায়ামাগার, defence- guards (রক্ষীদল) ইত্যাদি করা যায়।

আঃপ্রঃ-৭ম খণ্ড।। ইং (১৯/২/১৯৪৬)।।

31/10/2022

সকালে শ্রীশ্রীঠাকুর বড়ালের বারান্দায় উপবিষ্ট। কাল রাতে ওড়িশা থেকে দুইটি দাদা এসেছেন। তাঁরা ভাল কাজ করেন,অথচ মানুষের কাছ থেকে বেশ লাঞ্ছনা পান। এইসব কথা শ্রীশ্রীঠাকুরকে বলছিলেন।

শ্রীশ্রীঠাকুর-- যে যত বেশী করবে,মানুষ তাকে তত বেশী ভুল বুঝতে পারে। তাই,ঈশ্বরকে মানুষ গালাগালি দেয় বেশী। কারণ,তিনি আমাদের জন্য সব থেকে বেশী করেন। কিছু করতে হ'লে পরেই নিজের সাবুদ হ'য়ে থাকা লাগে এমনভাবে যে,আমি যা' করতে যাচ্ছি মানুষ যেন আমার কিছু না করতে পারে। শয়তানই হোক,পাজীই হোক,কুবুদ্ধিই হোক,সে নিজেকে ভালবাসে,বাঁচতে চায়,বাড়তে চায়। এই বাঁচার আকূতি সবার ভিতরেই আছে। যে চুরি ডাকাতি করে সেও ভাবে-ঐ চুরি-ডাকাতি তার সত্তার উপকরণ। প্রত‍্যেকেই সহজভাবে বেঁচে থাকতে চায়,এর ভিতর-দিয়ে বেড়ে উঠতে চায়। তাই,তুমি সুখে বাঁচ,বাড়। তোমাকে মানুষ প্রীতি-অবদান দিক।

ওড়িশার দাদাদের একজন-- তাহলে কীভাবে আমাদের চলতে হবে?

শ্রীশ্রীঠাকুর-- কর,খুব ক'রে যাও যা' বললাম। লোকসমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়। Be fishers of man (মানুষ-ধরা জেলে হও)। আর,তার সাথে-সাথে খুঁজে বের কর চল্লিশ জন।

ইং (৪ঠা মে,১৯৫৩)।। দীপরক্ষী-১ম খণ্ড।।

31/10/2022

মধুদা: সবার কাছে তো যাজন করার প্রয়োজন হয় না। যারা আপনার কথা জানে না, তাদের কাছেই যাজন করার দরকার।

শ্রীশ্রীঠাকুর: আমার কিন্তু তা মনে হয় না। যারা জানে তাদের পরস্পরের মধ্যেও আলাপ আলোচনা যত বেশি হয়, ততই ভালো। জানাটার শেষ নেই, যত আলাপ আলোচনা করা যায়, ততই সূক্ষ্ম বিষয় বের হতে থাকে। সৎসঙ্গীদের মধ্যেও বেফাঁস কথা, বেভুল ধারণা ও বেচাল চলনের অভাব নাই।

সূত্র আলোচনা প্রসঙ্গে চতুর্থ খণ্ড পৃঃ ১৬৯

31/10/2022

সৎসঙ্গী দাদা--অবতারের বিভিন্ন রূপ কেন? যেমন মৎস,কূর্ম ইত্যাদি।
শ্রীশ্রীঠাকুর--যখন যে রুপে প্রয়োজন,পরিবেশ যখন যেমন,তখন সেই আকারে আসেন।কিন্তু যিনিই আসুন,দয়ালের বার্তা নিয়ে আসেন সবাই।তিনি এক, আর চিরদিন এক কথাই কন--নানা রকমে।মৎস-অবতারে মৎস্যের মত ক'রে ব'লে গেছেন সেই কথা।যখন যেমন, তখন তেমন।তাঁর চিরকালের কথা হ'লো--উৎসমুখীনতার কথা,ভালবাসার কথা, সেবার কথা,আত্মনিয়ন্ত্রণের কথা,সপরিবেশ সওাসম্বর্ধনার কথা।

সৎসঙ্গী দাদা--কাল আর দয়াল আলাদা কেন?আগের সব নাকি কালের অবতার?
শ্রীশ্রীঠাকুর--কাল এসেছে কল-ধাতু থেকে, তার মানে গতি।আর আছে সৎ, যার মূলে আছে অস-ধাতু অর্থাৎ বিদ্যমানতা।সৎ, সত্তা, স্থিতি, অস্তি--একই ব্যাপার।স্থিতি না থাকলে গতি থাকে না।যে অবতারই হউন সতে স্থিতি চাই, নচেৎ সুষ্ঠু গতি হয় না।স্থিতির কোলে আসীন হ'য়ে তাঁরা গতির রাজ্যে বিচরণ করেন--গতিকে স্থিতিমুখী,কারণমুখী, দয়ালমুখী করার জন্য।যে গতি সুকেন্দ্রিক নয়, তাই কাল অর্থাৎ প্রবৃত্তি।তা' আমাদের বদ্ধ করে।যে গতি সদগুরুতে কেন্দ্রায়িত তা কিন্তু কাল নয়।তা' আমাদের মুক্তির সাথীয়া।

সৎসঙ্গী দাদা--শ্রীকৃষ্ণ নিজে বলেছেন, তিনি স্বয়ং কাল।
শ্রীশ্রীঠাকুর--অর্থাৎ আমিই কাল হয়েছি।শ্রীকৃষ্ণের স্থিতি কিন্তু সৎপুরুষে, তিনি স্বয়ং সৎপুরুষ,তিনিই নিত্যসত্তা।গতির ভিতর দিয়ে তাঁর নানা পরিণতি হয়েছে।সংবাদ দিয়ে কালের অস্তিত্ব নেই।কাউকে ফেললে হয় না।শ্রীকৃষ্ণই সেই যুগের সন্ত।রামচন্দ্রের যুগে রামচন্দ্রই সন্তু।সন্তমতে আসল যারা কেউ বাদ যায় না।রাধা-শব্দের প্রবর্তক স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ।সেইজন্য তাঁর হাতে বাঁশী দেয়--যা' কিনা অন্তরের সুরের বাইরের রুপ।সন্তমতে কোন অবতারই বাদ পড়েন না।তাঁদের কথা না থাকলে আমরা সন্তমত বুঝতে পারতাম না।যেমন বলেছেন আমি কাল, তেমনি বলেছেন, গাছের মধ্যে আমি অশ্বথ,সাপের মধ্যে আমি সর্পরাজ বাসুকী।আরো কত কী!যা'--কিছু সৃষ্টি হয়েছে সবই তিনি।তিনি বলেছেন, যখনই ধর্মের গ্লানি হয়, তখনই তিনি জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর কাজই ওই।শব্দতত্ত্বের মূল যা'--তখন থেকেই দিতে আরম্ভ করেছেন শ্রীকৃষ্ণ।বলেছেন, শব্দের মধ্যে আমি একাক্ষর প্রণব।অবশ্য রামচন্দ্রের সময় থেকেই পাওয়া যায়। (আঃপ্রঃ--১৫/১৯৯-২০০)

31/10/2022

#ধর্মের_প্রয়োজনীয়তা
ধর্ম্ম যদি হয় সপরিবেশ বাঁচাবাড়া, তাহ'লে বাঁচাবাড়ার জন্য যেসব কর্ম্মের প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা তো আপনাকে করতেই হবে। সকলকে দিয়ে সব কাজ হয় না, যার যেমন বৈশিষ্ট্য ও সংস্কার, সে তেমনতর কাজ পারে ভাল। তাই প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্যানুযায়ী কাজের ব্যবস্থা রাখতে হয়। কাজগুলি যত সুষ্ঠু, দক্ষ ও ক্ষিপ্রভাবে করতে শেখে মানুষ, তত তার ability (যোগ্যতা) ও বাড়ে, character (চরিত্র) ও adjusted (নিয়ন্ত্রিত) হয়, আবার environment (পরিবেশ) -এরও service (সেবা) হয় তাকে দিয়ে। তাহলেই দেখুন এতরকমের কর্ম্মপ্রতিষ্ঠানের কেন প্রয়োজন। বাঁচতে যদি চান, তবে ধর্ম্মকে মানতেই হবে। শুধু মানা নয়, আচরণ করতে হবে।

-শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
আলোচনা প্রসঙ্গে, ৪/১৩.৯.১৯৪২

31/10/2022

মানুষ প্রকৃত মানুষ হয় না কেন
***************************

একজন বহিরাগত ভদ্রলোক জিজ্ঞাসা করলেন ---- অনেক শিক্ষায় শিক্ষিত হ'য়েও মানুষ প্রকৃত মানুষ হয় না কেন ?

শ্রীশ্রীঠাকুর ---- আবার এমন আছে ----- একেবারে মূর্খ, নাম লিখতে পারে না, সে হয়তো world renowned greatman (জগৎদ্বিখ্যাত মহৎ ব্যক্তি) হ'য়ে গেল। আমরা অনেকে বহুবিধ literation (পুঁথিগত বিদ্যা) লাভ করা সত্ত্বেও আমাদের libido (সুরত) হয়তো এত strong (শক্তিমান) নয়, যার ফলে একজন living Idal (জীবন্ত আদর্শ)-কে fulfil (পরিপূরণ) করতে গিয়ে আমাদের complex (প্রবৃত্তি)-গুলি adjusted ও integrated (নিয়ন্ত্রিত ও সংহত) হ'য়ে ওঠে। প্রকৃত মানুষ হওয়া মানেই আদর্শনিষ্ঠায় এতখানি দৃঢ় হওয়া, যাতে প্রবৃত্তির উপর আধিপত্য আসে এবং গোটা ব্যক্তিত্ব নিয়ে পরিবেশের সত্তাপালী সেবায় রত থেকে চলা যায়। লাখজানাওয়ালা মানুষও এ কাম করতে পারে না, আবার কা'রও libido-র urge (সুরত সম্বেগ) rightly ligared (বিহিতভাবে যুক্ত) হ'লে, সে কেতাবী বিদ্যার ধার না ধেরেও অনেক কিছু পারে। হিন্দুঘরে পাঁচ বছর বয়সে গুরুকরণের কথা আছে। উন্মেষ ঐ নিয়েই। আলোক যেমন সূর্যকে নিয়ে ওঠে ------- তারই অচ্ছেদ্য অংশস্বরূপ হ'য়ে, ------ এও তেমনি। গুরুনিষ্ঠাই জ্ঞানে গজিয়ে ওঠে। ও ছাড়া জ্ঞান পয়দাই হয় না বাবা। আগড়ম- বাগড়ম যতই কর। ফলকথা, আমাদের শিখতে হবে তাই, আয়ত্ত করতে হবে সেই স্বভাব, চালচলন, কর্ম্ম, কথা, যাতে আমরা সপারিপার্শ্বিক বেড়ে উঠি। একে বলে ব্রহ্মচর্য্য। বিভিন্ন ভাষায় একে বিভিন্ন রকমে বলে। সার্থক free will (স্বাধীন ইচ্ছা) যা' complex (প্রবৃত্তি)- এর দ্বারা fettered (আবদ্ধ) নয়, তারও জাগরণ হয় ওর ভিতর দিয়ে। Free (ফ্রি)- এর মধ্যে 'প্রী' অর্থাৎ প্রীতকরণ আছে। যখন প্রেষ্ঠের প্রীতিসাধনে ব্যাপৃত থাকি আমরা, তখনই আমরা স্বাধীন বা মুক্ত, আর প্রবৃত্তির খেয়ালে চলি যখন আমরা, তখনই আমরা পরাধীন বা বদ্ধ।

[ আলোচনা-প্রসঙ্গে, ৮/১৪.১০.১৯৪৬]

Address

Thakur Bari, Satsang
Deoghar
814112

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র - অমীয় বাণী -Satsang. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র - অমীয় বাণী -Satsang.:

Share