Voice of Hindustan हिंदुस्तान की आवाज

  • Home
  • India
  • Delhi
  • Voice of Hindustan हिंदुस्तान की आवाज

Voice of Hindustan हिंदुस्तान की आवाज Rights of Hindu Community in all over world The vast majority of Hindus, approximately 966 million, live in India, according to India's 2011 census.

Hindu (About this sound pronunciation (help·info)) refers to any person who regards themselves as culturally, ethnically, or religiously adhering to aspects of Hinduism. It has historically been used as a geographical, cultural, and later religious identifier for people indigenous to South Asia. https://en.wikipedia.org/wiki/Hindu
At more than 1.03 billion, Hindus are the world's third largest gro

up after Christians and Muslims. After India, the next 9 countries with the largest Hindu populations are, in decreasing order: Nepal, Bangladesh, Indonesia, Pakistan, Sri Lanka, United States, Malaysia, United Kingdom and Myanmar.These together accounted for 99% of the world's Hindu population, and the remaining nations of the world together had about 6 million Hindus in 2010.

10/06/2022

পৃথিবীর সবথেকে বীর জাতি হিন্দু ১৩০০ বছর ধরে বীর যোদ্ধা হিন্দুরা নিজেদের অস্তিত্ব ও রাষ্ট্র রক্ষা করে চলেছে যা অন্যেরা পারেনি।

হিন্দু জাতির বেশিরভাগ প্রধান প্রধান ধর্মস্থান ও মন্দির আজকে ধ্বংসপ্রাপ্ত অথবা বিধর্মীদের দখলে:---1) কৈলাশ মানসরোবর - চীন...
25/05/2022

হিন্দু জাতির বেশিরভাগ প্রধান প্রধান ধর্মস্থান ও মন্দির আজকে ধ্বংসপ্রাপ্ত অথবা বিধর্মীদের দখলে:---

1) কৈলাশ মানসরোবর - চীনের দখলে।
2) মক্কেশ্বর মহাদেব (চতুর্দশ জ্যোতির্লিঙ্গ, বর্তমান মক্কা) - আরবের নেড়েদের দখলে।
3) পশুপতিনাথ মন্দির (ত্রয়োদশ জ্যোতির্লিঙ্গ, সমস্ত জ্যোতির্লিঙ্গের হেড) - নেপালের দখলে।
4) বিশ্বেশ্বর মহাদেব (কাশি বিশ্বনাথ বা জ্ঞানভাপী, দ্বাদশ এবং ভারতের প্রধান জ্যোতির্লিঙ্গ, বর্তমানে জ্ঞানভাপী মসজিদ) - নেড়েদের দখলে।
5) কেশবদেব মন্দির মথুরা (বর্তমানে শাহী ঈদগাহ) - নেড়েদের দখলে।
6) অটালাদেব মন্দির জৈনপুর (বর্তমানে অটালা মসজিদ) - নেড়েদের দখলে।
7) রুদ্রা মহালয়া গুজরাট (বর্তমানে জামে মসজিদ) - নেড়েদের দখলে।
8) ভদ্রকালী মন্দির গুজরাট (বর্তমানে আমেদাবাদ জামে মসজিদ) - নেড়েদের দখলে।
9) বিজয়া মন্দির মধ্যপ্রদেশ (বর্তমানে বিজামন্ডল মসজিদ) - নেড়েদের দখলে।
10) দিল্লীর ২৭ টি জৈন মন্দির (বর্তমানে কুবতুল ইসলাম মসজিদ) - নেড়েদের দখলে।
11) মার্তন্ড সূর্য্য মন্দির কাশ্মীর (বর্তমানে শয়তান কি গুহা) - নেড়েদের দখলে।
12) মধ্যেরা সূর্য্য মন্দির (সমস্ত দেবদেবী কয়েট টন সোনা দিয়ে নির্মিত ছিল) - আলাউদ্দিন খলজি সমস্ত সোনা লুট করে ধ্বংস করেন।
13) সোমনাথ মন্দির গুজরাট - সুলতান মাহমুদ ২৭ বার লুট করেন ও ধ্বংস করেন, পরে পুনঃনির্মাণ করা হয়।
14) শ্রীকৃষ্ণ জন্মভুমি মথুরা (বর্তমানে মসজিদ) - নেড়েদের দখলে।
15) হাম্ফি মন্দির বিজয়নগর - নেড়েদের দ্বারা ৩৯ টি মন্দির সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত।
16) আদিনাথ মন্দির (আদিনা মসজিদ) - নেড়েদের দখলে।
17) তেজো মহালয়া (তাজমহল) - নেড়েদের দখলে।
18) আসল মীনাক্ষী মন্দির - নেড়েদের দ্বারা সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত, পরে পার্শ্ববর্তী স্থানে পুনঃনির্মাণ করা হয়।
19) আসল তিরুপতি মন্দির - নেড়েদের দ্বারা সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত, পরে পুনঃনির্মাণ করা হয়।
20) খজুরাহর চান্দেল বংশীয় ৮৪ টি মন্দির (বর্তমানে ১০ টি ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় পড়ে আছে) - ৭৪ টি মুসলিম শাসকদের দ্বারা সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত।
21) পুরীর জগন্নাথ মন্দির - নেড়েদের দ্বারা ৯ বার আক্রমণ, লুণ্ঠণ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত, পরে সংস্কার করা হয়।
22) পুরীর লিঙ্গরাজ মন্দির - নেড়েদের দ্বারা ৭ বার আক্রমণ, লুণ্ঠণ ও আংশিক ধ্বংসপ্রাপ্ত, পরে সংস্কার করা হয়।
23) কেদারনাথ মন্দির - নেড়েদের দ্বারা ৭/৮ বার আক্রমণ ও লুণ্ঠণ।
24) জম্মুর বৈষ্ণবী মাতা মন্দির - নেড়েদের দ্বারা প্রায় ৩০ বার আক্রমণ, লুণ্ঠণ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত, পরে সংস্কার করা হয়।
25) ভীমবেটকার মন্দির - নেড়েদের দ্বারা ৩ বার আক্রমণ, লুণ্ঠণ ও আংশিক ধ্বংসপ্রাপ্ত।
26) দ্বারকাধীশ মন্দির গুজরাট - নেড়েদের দ্বারা ১০ বার আক্রমণ, লুণ্ঠণ ও ধ্বংস, পরে পুনঃনির্মাণ করা হয়।
27) কপিলেশ্বর মন্দির উত্তরাখন্ড - নেড়েদের দ্বারা সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত।
28) লেপাক্ষী মন্দির অন্দ্রপ্রদেশ - নেড়েদের দ্বারা কয়েকবার আক্রমণ, লুণ্ঠণ ও অধিকাংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত।
29) বরবুদুরের বৃহত্তম বৌদ্ধ মন্দির - ধ্বংসকারী জাভার (বর্তমান ইন্দোনেশিয়ার) মুসলিম শাসক।

30) হিংলাজ মাতা মন্দির - পাকিস্তানের দখলে।
31) বিন্ধ্যাচল মাতার মন্দির - পাকিস্তানের দখলে।
32) মনসেহরা মহাদেব মন্দির - পাকিস্তানের দখলে।
33) শিয়ালকোট জগন্নাথ মন্দির - পাকিস্তানের দখলে।
34) পৃথিবীর একমাত্র বরুণদেব মন্দির - পাকিস্তানের দখলে।
35) কাটাসরাজ মন্দির সমষ্টি (ভগবান শিবের অশ্রু থেকে নির্মিত কাটাসরাজ হ্রদ রয়েছে এখানে, পাণ্ডবরা এখানে ১২ বছর বনবাস করেছিল এবং এই হ্রদের তীরেই যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে ধর্মরাজের সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং ধর্মরাজ চার পান্ডবের প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছিল) - পাকিস্তানের দখলে।
36) পঞ্চমুখী হনুমান মন্দির (বিশেষ ঐশ্বরিক ক্ষমতা রয়েছে এবং পঞ্চমুখী হনুমান মূর্তি রয়েছে যেটা মানব নির্মিত নয়) - পাকিস্তানের দখলে।
37) কালকা দেবী মন্দির - পাকিস্তানের দখলে।
38) শ্রী নাভাল নারায়ন মন্দির - পাকিস্তানের দখলে।
39) পেশোয়ার গোরক্ষনাথ মন্দির - পাকিস্তানের দখলে।
40) মূলতানের সূর্য্য মন্দির - পাকিস্তানের দখলে।
41) শ্রী স্বামী নারায়ণ মন্দির - পাকিস্তানের দখলে।
42) ঢাকেশ্বরী মন্দির - বাংলাদেশের দখলে।
43) গুরুনানকের জন্মস্থান গুরুগ্রন্থ সাহেব - পাকিস্তানের দখলে।
44) মহাবীরের জন্মস্থান - নেড়েদের দখলে।
45) গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান - নেপালের দখলে।
46) নালন্দা মহাবিহার - নেড়েদের দ্বারা সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত।
47) তক্ষশীলা মহাবিহার - নেড়েদের দ্বারা সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত।
48) আসল বুদ্ধগয়া - নেড়েদের দখলে।
49) মাতা সীতার জন্মভূমি - নেপালের দখলে।
50) রামের জন্মভূমি - নেড়েদের দখলে ছিল সবেমাত্র মুক্তি পেয়েছে।
51) রাজা বিক্রমাদিত্যের বিষ্ণুস্তম্ভ (কুতুবমিনার) - নেড়েদের দখলে।
52) রাজা কৃষ্ণদেব রায়ের গোলকুন্ডা দুর্গ (বর্তমানে কুতুবশাহী দুর্গ) - নেড়েদের স্থাপত্য হিসাবে পরিচিত।
53) রাজা অঙ্গন পালের নির্মিত "লাল কোট" (বর্তমানে লালকেল্লা) - নেড়েদের স্থাপত্য হিসাবে পরিচিত।
54) রাজকুমারী হরকা বাঈ এর হাওয়া মহল (কনভার্ট করে বুলন্দ দরওয়াজা ও ফতেপুর সিক্রী নাম দেওয়া হয়) - আকবর দখল করেছিল, বর্তমানে ন্যাশনাল হেরিটেজ।
55) কাশ্মীরের ব্রহ্মদেব মন্দির - নেড়েদের দখলে।
56) বলভীর মহাবিহার - নেড়েদের দখলে।
57) তাঞ্জাভুরের মন্দির - নেড়েদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত।
58) রাজরাজেশ্বর মন্দির - নেড়েদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত।
59) অজন্তা - ইলোরা - নেড়েদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত।
60) মদনমোহন মন্দির - নেড়েদের দ্বারা সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত।
61) ওঁঁকারেস্বর মন্দির মধ্যপ্রদেশ - নেড়েদের দ্বারা আক্রমণ, লুণ্ঠণ ও আংশিক ধ্বংসপ্রাপ্ত।
62) মহাকালেশ্বর মন্দির উজ্জয়িনী - নেড়েদের দ্বারা কয়েকবার ধ্বংসপ্রাপ্ত, পরে সংস্কার করা হয়।
63) ত্রম্বকেশ্বর মন্দির মহারাষ্ট্র- নেড়েদের দ্বারা দুবার ধ্বংসপ্রাপ্ত, পরে সংস্কার করা হয়।
64) রাজস্থানের পুষ্কর মন্দির - নেড়েদের দ্বারা কয়েকবার আক্রমণ লুণ্ঠণ, ধ্বংস ও হ্রদের জল অপবিত্র করা।
65) রামেশ্বরম মন্দির - নেড়েদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত, পরে পুনঃনির্মাণ করা হয়।

উপরে যে তালিকা দেওয়া হলো সেটা হিমশৈলের চূড়ার একটি বিন্দু মাত্র।
৯৯৭ খ্রী থেকে ১৭৫৭ খ্রী পর্যন্ত কয়েক হাজার বিখ্যাত বিখ্যাত হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন মন্দির ও স্থাপত্য এবং প্রায় দু-লক্ষের বেশি ছোটবড় মন্দির নির্বিচারে ধ্বংস করা হয়েছে।

ধ্বংস করার সময় মূল্যবান সোনাদানা, মনিমুক্তা, হীরে জহরাত ইত্যাদি রত্নে পরিপূর্ণ মন্দিরগুলিকে অবাধে লুঠ করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে কয়েক হাজার মন্দিরকে ধ্বংস করার পরে মসজিদ, মাজার, ঈদগাহ কিম্বা বড়বড় ইসলামিক স্থাপত্যে কনভার্ট করা হয়েছে।

যেগুলি কনভার্ট করা হয়নি সেগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে পাথরের ঢিবিতে পরিণত হয়েছে।
অনেক মন্দিরকে বারবার করে আক্রমণ, লুণ্ঠণ ও ধ্বংস করা হয়েছে; যেমন সোমনাথ মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, তাঞ্জাভুর মন্দির ইত্যাদি।
এমনকি ১৯৪৭ স্বাধীনতার পরেও পাকিস্তান বাংলাদেশ জুড়ে বহু হিন্দু মন্দিরকে ধ্বংস করে মসজিদে কনভার্ট করা হয়েছে।

23/10/2021

"নবী মোহাম্মদ (সঃ)'র মাথার চুল চুরি যাওয়া নিয়ে হিন্দু- মুসলমান ভয়াবহ দাঙ্গার ইতিহাস "

১৯৬৩ সালের ২৭ ডিসেম্বরে ভারতের
শ্রীনগরে অবস্থিত হজরতবাল দরগাশরীফে সংরক্ষিত হজরত মুহাম্মদ -এর সংরক্ষিত মাথার চুল চুরি হয়ে যায়। এজন্য ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে ব্যাপক বিক্ষোভ সংগঠিত হয়। আব্দুল হাই নামে ইসলামিক বোর্ডের উপদেষ্টা কমিটির একজন সদস্য পূর্ব-পাকিস্তানের সকল হিন্দু এবং অমুসলিমদের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দেয়। [৩] ইসলামাবাদে ফেরার প্রাক্বালে ঢাকা বিমানবন্দরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান ঘোষণা করেন যে, হজরতবাল ঘটনার কারণে পাকিস্তানের মুসলিমরা কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখালে তার কোন দায় নেই। [১] পাকিস্তান কনভেনশন মুসলিম লীগ ১৯৬৪ সালের ৩ জানুয়ারী কে ‘কাশ্মীর দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। [৪] ১৯৬৪ সালের ৪ জানুয়ারিতে হারিয়ে যাওয়া চুল খুঁজে পাওয়া গেলেও পরেরদিনই পাকিস্তান রেডিও থেকে ওই ঘটনাকে মিথ্যা বলে প্রচার করা হয়। [২]

হত্যাযজ্ঞ খুলনায়ঃ

পাকিস্তানের তৎকালীন কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী আব্দুস সবুর খান ১৯৬০ সালে খুলনা জেলার মাটিখালীর একজন সম্ভ্রান্ত হিন্দু ভূমিধ্যিকারী রূপচাঁদ বিশ্বাসের ৩০ বিঘা জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয় এবং সেখানে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ করে। [৫] রূপচাঁদ বিশ্বাস সাহসের সাথে আব্দুস সবুর খানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সবুর খান পরাজিত হয় এবং আদালত তাকে ১,৩৫,০০০ রুপি পরিশোধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সবুর খান বিচারালয়ের বাইরে এই দখলবাজির মীমাংসা করতে চাইলেও রূপচাঁদ তা দৃঢ় ভাবে প্রত্যাখান করেন। [৫] এর মাঝেই মজিদ মিয়াঁ নামে সবুর খানের মনোনীত প্রার্থী জেলা পরিষদ নির্বাচনে শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়। [৬] সবুর খান ও চামকুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহ তাদের দলের অন্যান্য সদস্যরা এই পরাজয়ের কারণ হিসেবে হিন্দুদেরকে দায়ী করে এবং হিন্দুদের প্রতি হুমকি,ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতে শুরু করে। এই নাজুক অবস্থার মধ্যেই হজরতবাল ঘটনার গুজব ছড়ানো হয়। সবুর খান খুলনায় হিন্দু নিকেশের জন্য এই সুযোগটি দ্রুত লুফে নেয়।সবুর খান ,খুলনায় বাঙ্গালী হিন্দু নিধনের মূল উস্কানিদাতা।

১৯৬৪ সালের ২ জানুয়ারি তারিখে হজরতবাল ঘটনার প্রেক্ষিতে মুসলিমরা হিন্দুদেরকে পায়ে জুতো পরতে, মাথায় ছাতা ব্যবহার করতে কিংবা রিকশায় চড়তে বাধা দেয়। মধ্যাহ্নে মুসলিমরা সমগ্র খুলনাব্যাপী মিছিল বের করে এবং মিছিল থেকে হুঙ্কার আসতে থাকে, ‘হিন্দুদেরকে হত্যা কর’। [৭] বিকাল চারটার দিকে খুলনায় হিন্দু নিধন শুরু হয়। [৮] টানা চার ঘণ্টা এই বীভৎস ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির পর রাত আটটায় সান্ধ্য আইন জারি করা হয়। [৮] এই তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই পাকিস্তান প্রাদেশিক মুসলিমলীগ ৩ জানুয়ারিকে ‘কাশ্মীর দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। খুলনায় সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করে পরিস্থিতিকে আরও বিভীষিকাময় ও সন্ত্রস্ত করে তোলার প্রয়াস চালানো হয়। খুলনার এক প্রান্তে দৌলতপুর শিল্প এলাকায় এক বিশাল জনসভায় আব্দুস সবুর খান বক্তব্য প্রদান করে। হাজার হাজার উগ্র মুসলিম বিশেষ করে বিহারীরা ভয়ঙ্কর সব মারণাস্ত্র হাতে নিয়ে এই উস্কানিমূলক বক্তব্য শ্রবণ করে। সবুর খান এই সুযোগে হিন্দু বিদ্বেষী এবং ভারত বিরোধী জ্বালাময়ী ভাষণ প্রদান করে।তৎক্ষণাৎ সেই সমাবেশ থেকে প্রায় ২০,০০০ মুসলিম জনতা সেনহাটি ( দিঘলিয়া উপজেলা), মহেশ্বরপাশা, পাবলা,চন্দনীমহল, দৌলতপুরসহ আশেপাশের হিন্দুপ্রধান জনবসতি গুলোর উপর তীব্র আক্রোশে আক্রমণ শুরু করে।সেখানকার হিন্দুদের বাড়ি-ঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মস্থান লুট ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে তারা।অনেক হিন্দুকে নির্মম ভাবে হত্যা করে মুসলিমরা।এদের মধ্যে একটি দল সড়ক ও রেলপথ ধ্বংস করতে করতে সন্ধ্যায় খুলনা শহরে উপস্থিত হয়।পরবর্তী চার দিন খুলনার হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর লাগামহীন হত্যা,ধর্ষণ,অপহরণ, লুণ্ঠন, ধ্বংসের এক বন্য বীভৎসতা চলে। খুলনা শিপইয়ার্ড , দাদা কোম্পানি,ইস্পাহানী কোম্পানি,কাটা কোম্পানি, সোলম্যান কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার মুসলিম শ্রমিকরা হিন্দুদের উপর এই জঘন্য,অমানবিক জিঘাংসাবৃত্তি চরিতার্থ করে।লোপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এদেরকে মারণাস্ত্র সরবারহ করে এই পাশবিক হিন্দু নিধনকে উৎসাহিত করে।খুলনা লঞ্চঘাটে কমপক্ষে ২০০-৩০০ হিন্দুকে নির্মমভাবে হত্যা করে মুসলিম হত্যাকারীরা। [৯] খুলনা থেকে চালনা পর্যন্ত রাস্তার দু’দিকে থাকা প্রতিটি হিন্দু জনপদ,গ্রাম ধ্বংস করে দেয় মুসলিমরা। [১০] ৪ জানুয়ারি মোংলায় হিন্দু হত্যাযজ্ঞের বিস্তার লাভ করে। [৭]

মোংলা বন্দরে ৩০০ হিন্দুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। [১০]।বাগেরহাটের রামপালে আব্দুস সবুর খান আরও তিনটি জনসভা করে। সেখানে পূর্ব-পাকিস্তানে চলমান প্রলয়ঙ্কারী হিন্দু নিধনের বিশদ বর্ণনা সংবলিত প্রচারপত্র বিলি করতে শুরু করে মুসলিমরা। বাঙ্গালী হিন্দুদেরকে অবিলম্বে পাকিস্তান ত্যাগের জন্য হুমকি প্রদান করে তারা। [১১] লোপপুর বাজারে আব্দুস সবুর খান অন্য একটি জনসভায় সদর্পে ঘোষণা করে, সে হিন্দুদের পৃষ্ঠদেশ থেকে চামড়া তুলে পায়ের জুতো তৈরি করবে। হিন্দুদের উপর মাত্রা ছাড়া গণহত্যার ভিত রচনা করে সবুর খান তার ভ্রাতুষ্পুত্রীর বিয়ের জন্য এক রাজকীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করে। ফলে একদিকে দিন দিন গণহত্যার তীব্রতা বাড়তে থাকে অন্যদিকে বিয়ের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয় পূর্ব-পাকিস্তানের কুখ্যাত গভর্নর আব্দুল মোনায়েম খান , ভূতপূর্ব পূর্ব-পাকিস্তান আইনপরিষদের সদস্য এবং তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য কাজী আব্দুল কাদের। খুলনার বিখ্যাত আইনজীবী অরবিন্দ ভট্টাচার্য এই নৃশংস হিন্দু হত্যাবন্ধের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তাকে অনুরোধ করেন। কিন্তু সবুর খান তার ভ্রাতুষ্পুত্রীর বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যস্ততা দেখিয়ে কোনরূপ ব্যবস্থা অপারগতা প্রকাশ করে। [১২]

ঢাকাঃ

ঢাকার লালবাগে অবস্থিত বিখ্যাত ঢাকেশ্বরী মন্দিরে উন্মত্ত মুসলিম জনতা হামলা করে
জানুয়ারি মাসের ১৩ তারিখে ঢাকা স্টেডিয়ামে হজরতবাল ঘটনার প্রেক্ষিতে মুসলিমরা একটি জনসভা আয়োজন করে। [১৩] জানুয়ারির ১৪ ও ১৫ তারিখে চট্টগ্রাম ও সিরাজগঞ্জ থেকে আগত ঢাকাগামী ট্রেনের হিন্দু যাত্রীদেরকে টঙ্গী ও তেজগাঁও নেমে যেতে বলে মুসলিম গুণ্ডারা।যে সকল হিন্দু ট্রেন থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানায় তাদেরকে সেখানেই গলা কেটে হত্যা করে তারা। [১৪][১৫] জানুয়ারির ১৫ তারিখে একদল হিংস্র মুসলিম জনতা ২০, নবাবপুর রোডের পুরোহিতের বাড়িতে ঢুকে রাধা-কৃষ্ণ মন্দির ধ্বংস করে এবং পুরোহিতের গলা কেটে মুণ্ডচ্ছেদ করে। বাড়ির আরও চারজন পুরুষ সদস্যকেও একইভাবে হত্যা করে উল্লাস করে তারা।
[১৬] নবাবপুরের বিখ্যাত দাস স্টুডিও লুটপাট করে তারা এবং আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ভস্মে পরিণত করে। ১৫ জানুয়ারি রাতে নগরখানপুরের প্রত্যেকটি হিন্দু বাড়িতে একই ভাবে আক্রমণ করে মুসলিমরা এবং লুটপাট-রাহাজানি শেষে ধ্বংস করে দেয় সেগুলো। [১৭] ১৫ জানুয়ারি প্রকাশ্য দিবালোকে টিকাটুলির রামকৃষ্ণ মিশন আক্রমণ করে মুসলিমরা। পূর্ববঙ্গের রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান কার্যালয় এই মঠের তিনটি ভবন, সাতটি আধাপাকা বাড়ি, একটি মন্দির, একটি দাতব্য চিকিৎসালয়, একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, একটি সুখ্যাত ছাত্রাবাস সম্পূর্ণ রূপে ধুলিস্যাত হয় সহিংস মুসলিম জনতার হিংস্রতায়। [১৮] সেখানে দু’জনকে হত্যা করে তারা।[১৯]

হজরতবাল ঘটনার গুজব ছড়ানোর পর থেকেই
পূর্ব-পাকিস্তান প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু ছাত্রাবাসের উপর পাথর নিক্ষেপ করে মুসলিমরা তাদের প্রচণ্ড আক্রোশের প্রকাশ করত। [২০]
জামাত-ই-ইসলামের অনুগত মুসলিম শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে হিন্দু শিক্ষার্থীদেরকে ভারতীয় অনুচর আখ্যা দিয়ে সাধারণ মুসলিমদের মাঝে ঘৃণার চাষ শুরু করে। জানুয়ারির ১৬ তারিখে সেন্ট্রাল ব্যাংকে কর্মরত কৃষ্ণ দে, ইউনাইটেড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যাংকে কর্মরত প্রাণ কুমার দে, বরদা ব্যাংকে কর্মরত আরও একজন হিন্দু কর্মকর্তা ব্যাংক চত্বরে দুই দিন লুকিয়ে থাকার পর গাড়িতে করে পালানোর সময় মুসলিমরা তাদের গাড়ি থামিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে। [১৬] এফ.এম.ই. স্কুল, পাবলিক লাইব্রেরী ,বিবেকানন্দ ফিজিক্যাল ক্লাব, হিরালাল লহিয়া চ্যারিটেবল হসপিটাল সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান মুসলিমরা আগুনে পুড়িয়ে ছাই বানিয়ে দেয়। [২১] সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ট্রাকে ভরে ভরে মৃতদেহগুলো হাসপাতালে নিয়ে আসে তারা এবং সেগুলো সেখান থেকেই সরাসরি নিয়ে মাটি চাপা দেয়া হয়।এভাবে শতশত হিন্দুর মৃতদেহ সেনাবাহিনী গুম করে ফেলে।এমনকি যে সকল মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়েছিল সেগুলোকেও তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে গুম করে ফেলে তারা। [২২]

রায়েরবাজারের হিন্দু মৃৎশিল্পীদের উপর হামলে পড়ে হাজারীবাগ চামড়া কারখানার নোয়াখালীর মুসলিম শ্রমিকরা এবং মুহাম্মদপুরের বিহারী মুসলিমরা। [২৩] রায়েরবাজারের প্রতিটি বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয় উন্মত্ত মুসলিমরা।কমপক্ষে ৯৬ জন হিন্দুকে সে সময়ে পাশবিক উপায়ে হত্যা করে তারা।[২৩] অনেক হিন্দু মহিলাকে নিষ্ঠুরভাবে ধর্ষণ করে এবং অসহায় হিন্দু বালিকাদের অপহরণ করে মুসলিমরা। [২৩] সমগ্র জনপদের বাঙ্গালী হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর জাতিগত নির্মূলীকরণ অভিযান চালানোর পরে ঐ এলাকার নাম পরিবর্তন করে জাফরাবাদ রাখা হয়। [২৪] ঈশ্বর দাস লেনের নামকরা হিন্দু ছাত্রাবাস ‘বাণী ভবন’ লুটপাটের পর সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে ফেলা হয়।আবাসিক ছাত্ররা নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে পালিয়ে জীবন রক্ষা করে। [১৯] মেয়েদের বিখ্যাত একটি শিক্ষাঙ্গন 'নারী শিক্ষা মন্দির' আক্রমণ করে মুসলিমরা।বিদ্যালয়ের প্রধান কেরানী অবনী গুহরায়কে হত্যা করা হয় এবং জ্যেষ্ঠ শিক্ষক যোগজীবন বসুকে কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। [১৯] বিভিন্ন এলাকা যেমন টিকাটুলি, ওয়ারীর দেয়াল গুলোতে মুসলিমরা বিভিন্ন হিন্দু বিদ্বেষপূর্ণ স্লোগান যেমন ‘হিন্দুদেরকে হত্যা কর, হিন্দু মারোয়াড়ীদের হত্যা কর’ লিখে রাখত। [২৫] ১৮ জানুয়ারি পূর্ব-পাকিস্তান সরকার রাত ৮ টা পর্যন্ত
সান্ধ্য আইন জারি করে। ১৯ জানুয়ারি থেকে সেটি বাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টা করা হয়।[২৬]

ঢাকার চারপাশের শতশত হিন্দু বসতির গ্রাম আগুনে জ্বালিয়ে ভস্মে পরিণত করে দেয় মুসলিমরা।[১৬] ১৮ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিবেদন করে, পুরনো ঢাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ৯৫ শতাংশ বাড়ি-ঘর ধ্বংস করে দিয়েছে মুসলিমরা। [২৭] শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই ১,০০,০০০ হিন্দু আশ্রয়স্থল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে ঠাই নিয়েছে।২৩ জানুয়ারি দ্য হিন্দু প্রতিবেদন করে,পাকিস্তানের সরকারী হিসেবেই ঢাকা শহরে ১০০০ এর উপর হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে গত এক সপ্তাহে। [২৮] যদিও একজন অ্যামেরিকান শান্তিরক্ষী সেনাবাহিনীর নার্স বিবৃতি দেন,শুধুমাত্র ২১ জানুয়ারিতেই তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কমপক্ষে ৬০০ মৃতদেহ দেখতে পান। [২৮]

নারায়ণগঞ্জঃ

আদমজী গ্রুপের ব্যবস্থাপক জনাব করিম ১৩ এবং ১৪ জানুয়ারি আদমজী পাট কলে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে এবং পরিকল্পিত ভাবে গুজব ছড়িয়ে দেয় যে,কোলকাতায় তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। [২১] ১৩ জানুয়ারি রাতে আদমজী পাট কলের মুসলিম শ্রমিকরা আশেপাশের যে কোয়ার্টার গুলোতে হিন্দুরা বসবাস করত সেগুলোতে আক্রমণ করে।বিশেষ করে দুই নং ঢাকেশ্বরী কটন মিলের হিন্দু শ্রমকিদের বাসস্থান গুলো এই ঘৃণ্য আক্রমণের শিকার হয় এবং সে গুলোকে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলা হয়।দুই নং ঢাকেশ্বরী কটন মিলে উন্মত্ত মুসলিমদের সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে মিলের ব্যবস্থাপক সত্যেন রায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুনীল বসুকে রাত তিনটার সময় অবগত করেন এবং অনতিবিলম্বে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলেন। [২৯] ভোর পাঁচটার দিকে আদমজী পাট কলের ২০,০০০ অস্ত্রধারী উন্মত্ত মুসলিম শ্রমিক ২নং ঢাকেশ্বরী কটন মিলে হামলে পড়ে এবং সেখানে হিন্দুদের উপর বিরামহীন হত্যা,লুটপাট,অপহরণ,ধর্ষণ চালায় ।[৩০] ৭০০এরও বেশি হিন্দু হতভাগ্য আবালাবৃদ্ধবণিতাকে নির্মম ভাবে হত্যা করে।শতশত হিন্দু মহিলাকে নিষ্ঠুর উপায়ে ধর্ষণ করে বিজয়োল্লাস করে। [৩০] সকাল সাতটার দিকে প্রায় ২,০০০-৩,০০০ হিন্দু নর-নারী লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিল চত্বরে এসে জড় হয়। মিলের সকল কার্যক্রম বন্ধ ছিল এবং আশ্রয়প্রার্থীরা মিলের গেটের বাইরে জড় হতে থাকে।সকাল ৯টায় মিলের গেট উন্মুক্ত হলে কমপক্ষে ১০,০০০ হিন্দু মিল চত্বরের মধ্যে আশ্রয় পায়।কিছুক্ষনের মাঝেই মারাত্মক প্রাণঘাতী অস্ত্র হাতে ২,০০০ উন্মত্ত মুসলিম ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র অসহায় হিন্দুদের উপরে।সেখানে ৩ জন ভাগ্যহত হিন্দু নির্মম ভাবে নিহত হয় এবং আর ১২ জনের বেশি আহত হয়।
[২৯]

মিলের অভ্যন্তরে আশ্রয় নেয়া কেদারনাথ ঘোষ নামে এক ব্যক্তির বাড়িঘর লুটপাট করে মুসলিমরা।[১৭] বিকেল চারটার দিকে মাত্র ২০ জন পুলিশ এসে সেখানে উপস্থিত হয়।আধা ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের সামনেই আবার মুসলিমরা হামলে পরে অসহায় হিন্দুদের উপর।সেখানে একজন হিন্দুকে আবারো হত্যা করা হয়।সন্ধ্যার মধ্যেই ২৫,০০০ এরও বেশি হিন্দু লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিল চত্বরে জীবন বাঁচাতে জমায়েত হয়।এ সকল আর্ত হিন্দু ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা চারদিন একবিন্দু জলও কোন জায়গা থেকে সাহায্য পায়নি।ফলে চার দিন তাদেরকে খাদ্য-পানীয় বিহীন অবস্থায় কাটাতে হয় । [২১] নারায়ণগঞ্জের হিন্দুদের উপর মুসলিমদের চালানো নারকীয় বীভৎস গণহত্যা, ধর্ষণ,অপহরণ,নির্যাতন,লুটপাটের
আলোকচিত্র সংগ্রহের জন্য নটরডেম কলেজের অধ্যাপক রিচার্ড নোভাক আসেন।কিন্তু তাকে আদর্শ কটন মিলের নিকটে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে মুসলিমরা। [৩১]

১৪ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের নামকরা ব্যবসায়ী গোষ্ঠবিহারী সাহাকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর তার বিখ্যাত ‘সত্যসাধন ছাপাখানা’ লুটপাট করে আগুনে পুড়িয়ে দেয় মুসলিমরা। [১৬] পঞ্চসার গ্রামের (বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলায় ) দুটি দুগ্ধপোশ্য শিশু সন্তান সহ রেনুবালা পাইন নামক এক গৃহবধূকে নিষ্ঠুর উপায়ে হত্যা করে তারা। একই গ্রামের শোভারানী বসু ও তার দু’কন্যাকে পৈশাচিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। [১৬] নরসিংদীর (তৎকালীন নারায়ণগঞ্জের অন্তর্গত) গ্রামে গ্রামে হত্যা,ধর্ষণ,লুটপাট আর অগ্নিসংযোগ করে মুসলিমরা।কমপক্ষে ৩৫০ টি হিন্দু বাড়ি পুড়িয়ে দেয় তারা।বিমলা সুন্দরী পাল নামের এক মহিলাকে ধরে নিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে তারা।
[৩২] মইমান ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি বরদা প্রসাদ রায় এবং তার পরিবারের ১৬ জন সদস্যকে নির্মম ভাবে হত্যা করে উন্মত্ত মুসলিমরা।[২২] মুরাপাড়ার প্রত্যেকটি হিন্দু বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে ছাই বানানো হয়।১৭ জন হিন্দু মহিলাকে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে ফেলে বীভৎসভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে তারা।[৩২] ভুতলা গ্রামে ২৫০ জন হিন্দু নরনারীকে হত্যা করা হয় এবং অনেককে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে নিষ্ঠুর উপায়ে হত্যা করা হয়। [৩৩]

১৭ ফেব্রুয়ারি,নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের
গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৬২৩ জন হিন্দুকে নির্মমভাবে হত্যা করে মুসলিমরা। নরসিংদীর (তৎকালীন নারায়ণগঞ্জের অন্তর্গত) ঘোষপাড়ার হারান ঘোষের বাড়িটি লুটপাট করে পুড়িয়ে দেয় মুসলিম গুন্ডারা।তারা ঘোষপাড়া, মুদকপাড়া (কুরিপাড়া), বাউলপাড়া, পাইত্তালপাড়ার প্রত্যেকটি হিন্দু বাড়িতে আক্রমণ ও লুটপাট করে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়।এই সকল আক্রান্ত হাজার হাজার হিন্দু নরসিংদী কলেজ ভবনে আশ্রয় গ্রহণ করে। শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ সাব-ডিভিশনে ৩,৫০০ এরও বেশি হিন্দুকে হত্যা করে মুসলিমরা। [১৮] কমপক্ষে ৩০০ হিন্দু নারীকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করে তারা।এছাড়া ৩১,০০০ বাড়ি-ঘর লুটপাট ও ভাংচুর করে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।ফলশ্রুতিতে ১৫১ টি গ্রামের ৮০,০০০ হিন্দু আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। [১৮]

রাজশাহীঃ

তৎকালীন রাজশাহী জেলার নওগাঁর নিকটে অবস্থিত মইনাম গ্রামের সকল হিন্দু গ্রামবাসীকে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হয়;শুধুমাত্র দুটি নাবালিকাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়। [২০] দুরুশা নামক স্থানের সাঁওতাল আদিবাসী সম্প্রদায়ও হিন্দু বিরোধী এই পাশবিক হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়। [৩৪]

সিলেটঃ

সিলেটে রমযান মাসে হিন্দুসম্প্রদায়ের সকল দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়। কীর্তনসহ অন্যান্য ধর্মানুষ্ঠান নিশিদ্ধ করে দেয় বিরামহীন হিংসার প্রকাশ ঘটায় মুসলিমরা। [১০] সিলেটের ৩৫ টি চা বাগানের সকল হিন্দু শ্রমিকদেরকে ইসলাম গ্রহণের জন্য হুমকি দেয়া হয়।তাদেরকে গো-মাংস ভক্ষনে বাধ্য করা হয়।বাসুদেব শর্মা নামে একজন অত্যন্ত সজ্জন হিন্দু গুরু ছিলেন,যিনি সেখানকার হাজার হাজার হিন্দু শ্রমিকদের নিকট অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। ঈদ-উল-ফিতরের দিনে নিরীহ এই মানুষটিকে মুসলিমরা জোর করে গো-মাংস ভক্ষণে বাধ্য করে। [২২]

ময়মনসিংহঃ

তৎকালীন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার
নালিতাবাড়ী , কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ,
হালুয়াঘাট , শ্রীবরদী এলাকায় বসবাসকারী আদিবাসী গারো এবং হাজং জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করা হয়।ফলে তাদের অনেকেই হাজার হাজার বছর ধরে আঁকড়ে থাকা স্বভূমি ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। [৩৫]হিন্দুজনগোষ্ঠীর উপর দমনমূলক ব্যবস্থা।

গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধঃ

পাকিস্তানে গণমাধ্যমের উপর সর্বোচ্চ বিধিনিষেধ আরোপ করে সম্পূর্ণভাবে কণ্ঠরোধ করা হয়। আলোকচিত্র ধারণ করাও নিষিদ্ধ করা হয়। [৩৬] দৈনিক ইত্তেফাক ও পাকিস্তান অবজারভার পত্রিকায় কিছু সত্য ঘটনা প্রকাশের জন্য সেগুলোর উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।এর প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানের পাঁচটি দৈনিক পত্রিকা তাদের ছাপানো বন্ধ করে দেয়। [১৬] আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে,শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই ১,০০০ এর উপর নিরীহ হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। এ রিপোর্ট প্রকাশের পরে পাকিস্তান সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে। [১৪]

বাঙ্গালী হিন্দুদের পূর্ববঙ্গ ত্যাগঃ

কলকাতার উদ্দ্যেশ্যে যাত্রাপথে পূর্ববঙ্গের হতভাগ্য হিন্দু শরণার্থী হাজার হাজার হতভাগ্য অসহায় শরণার্থীর ঢেউ আছড়ে পরে প্রতিবেশী ভারতের উপরে।প্রতিদিনই ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ আর্ত হিন্দু সর্বস্ব ত্যাগ করে প্রাণ বাঁচানোর জন্য দেশান্তরী হবার উদ্দ্যেশ্যে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে জড় হত।কিন্তু মাত্র ৩০০-৪০০ ভাগ্যবান হিন্দুই ভারতে প্রবেশের অনুমতি লাভে সমর্থ হত। [৩৭] অন্তহীন দেশান্তরের কারণে পূর্ব-পাকিস্তানের একমাত্র হিন্দু গরিষ্ঠ জেলা খুলনাও মুসলিম গরিষ্ঠ জেলাতে রূপান্তরিত হয়। [৯] পূর্ব-পাকিস্তানের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ছিটমহল গুলোতে পাকিস্তান রাইফেলস বাহিনীর অকথ্য নির্যাতনের ফলে বিশাল পরিমানে হিন্দু শরণার্থী ভারতের জলপাইগুড়িতে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়। [১০] ২মার্চ ' দ্যা গ্লোব এ্যান্ড মেইল '(The Globe and Mail) তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে,ঢাকার হাজার হাজার নিরুপায় হিন্দু ভারতে যাবার জন্য তীর্থের কাকের মত অপেক্ষা করছে। [৩৮] ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এক হিসাব থেকে জানা যায়,শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই কমপক্ষে ১,৩৫,০০০ হিন্দু শরণার্থী প্রবেশ করেছে।[৩৯] এই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে নারায়ণগঞ্জের পানাম নগরের সকল হিন্দু পালিয়ে ভারতে চলে যায়। [৪০]

আদিবাসীদের উচ্ছেদ ভারতের আসামের গারো পাহাড়ে আশ্রয় নেয়া পূর্ব-বঙ্গের গারো আদিবাসী সম্প্রদায় গণহত্যা শুরুর দেড় মাসের মধ্যে পূর্ববঙ্গ থেকে ৭৫,০০০এর বেশি পীড়িত সর্বহারা শরণার্থী ভারতের আসামে জীবন বাঁচানোর তাগিদে আশ্রয় নেয় যাদের মধ্যে ৩৫,০০০ বেশি ছিল খৃস্টান ধর্মাবলম্বী। ময়মনসিংহের গারো, হাজং , ডালুস সহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জাতি সমূহ সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় আসামের গারো পাহাড়ে (বর্তমানে মেঘালয়ে) আশ্রয় নিয়ে জীবন রক্ষা করে। [৪১] দি অবজার্ভারের প্রতিবেদন অনুসারে গারো পাহাড়ের তুরা নামক স্থানে ৫০,০০০ হাজার আর্ত শরণার্থীকে ঠাই দেবার লক্ষ্যে আসাম সরকার ১২ টি শিবির স্থাপন করে। [৪১] ভারতের উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী লক্ষ্মী মেনন লোকসভায় একটি বিবৃতিতে বলেন,ময়মনসিংহ থেকে প্রায় ১,০০০ শরণার্থীর একটি দল সীমান্ত অতিক্রম করার সময় পাকিস্তান রাইফেলস তাদের উপর অমানবিক ঘৃণ্য উপায়ে নির্বিচারে গুলি করে। [৪২] ২৮ মার্চের মধ্যেই শুধুমাত্র ময়মনসিংহ থেকে ৭৮,০০০ আর্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় বর্তমান ভারতের মেঘালয়ে আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। [৩৯]

পীড়িত ক্ষুদ্র খৃস্টান নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর দেশত্যাগে বাধ্য হয়ে ভারতে গমন সে সময়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ছিল। [৩৯]
খৃস্টান আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উপর মুসলিমদের অমানবিক নিষ্ঠুর অত্যাচারের বৈশ্বিক ফলাফল অনুধাবন করতে পেরেছিল পাকিস্তান সরকার । এজন্য পাকিস্তান সরকার আদিবাসীদেরকে স্বভূমিতে ফিরে আসতে অনুরোধ জানায়।ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে। ঢাকার
আর্চবিশপ রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং খ্রৃস্টান আদিবাসী শরণার্থীদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে অনুরোধ করেন। [৩৯] ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পাকিস্তান সরকার ও ঢাকার আর্চবিশপের এই আবেদন খৃস্টান শরণার্থীদের কাছে পৌঁছে দেয় এবং তাদেরকে বিনা খরচে সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু খৃস্টান আদিবাসী সম্প্রদায় পাকিস্তান সরকার ও আর্চবিশপের অনুরোধ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে এবং পূর্ব-পাকিস্তানে ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়।[৩৯]

ভারত সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসনঃ

হতভাগ্য, অসহায়, বাস্তুচ্যুত আশ্রয়প্রার্থীদেরকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ,আসাম ও ত্রিপুরাতে স্থাপন করা অস্থায়ী শিবিরে ত্রান সাহায্য দেয়া হয়। পরবর্তীতে রিফিউজিদেরকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পুনর্বাসিত করা হয়।শিলচরে প্রায় ৬,০০০ চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষকে আশ্রয় দেয়া হয়। [১৫]গারোপাহাড়ি অঞ্চলের তুরা নামক স্থানে স্থাপিত ১২ টি অস্থায়ী শিবিরে ৫০,০০০ গারো ও অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মাথা গোজার ঠাঁই মেলে।[৪৩]

পূর্ব-পাকিস্তানে ত্রাণ বিতরণঃ

১৫ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে ঢাকার
সূত্রাপুরের হেমন্দ্র দাস রোডের স্বদেশ নাগের বাড়িতে আশেপাশের ৩০০ জন উদ্বাস্তু হিন্দু তাদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যাসহ আশ্রয়ের জন্য হাজির হয়। স্বদেশ নাগ তাদের জন্য ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করেছিলেন। পরেরদিন পূর্ব-পাকিস্তান সরকার ঢাকার বিভিন্ন গোলযোগপূর্ণ এলাকা থেকে অসহায় হিন্দুদেরকে ট্রাকে করে ঢাকা কোর্ট চত্বরে নিয়ে আসতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই কোর্ট প্রাঙ্গনে আর তিল ধারনেও ঠাই ছিল না। ১৭ জানুয়ারিতে কর্তৃপক্ষ সর্বহারা উদ্বাস্তু রিফুউজি হিন্দুদেরকে জগন্নাথ কলেজ চত্বরে অপসারিত করতে শুরু করে। জগন্নাথ কলেজ প্রাঙ্গনে প্রায় ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ হিন্দু তাদের আবাস ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেখানে শৌচাগারের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়। ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই আশ্রয়কেন্দ্রটি রীতিমত অস্বাস্থ্যকর একটি নরকতুল্য স্থানে পরিণত হয়েছিল।
[৪৪]

নিকটস্থ তাঁতিবাজার ও শাঁখারীবাজারের হিন্দুরা এই সব নিদারুন বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত রিফিউজিদেরকে দু’দিন খিচুড়ি খেতে দেয়ার ব্যবস্থা করেছিল। [৪৪] ঢাকাতে ২৫ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল [৪৫] যার মাঝে একটি মাত্র কেন্দ্র পরিচালিত হত সরকারের সহায়তায়। বাকি একটিরও দায়িত্ব নিতে পূর্ব-পাকিস্তান সরকার অস্বীকার করে এবং সেগুলো বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন ও হিন্দু ব্যক্তির সাহায্যে পরিচালিত হত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
জগন্নাথ হলের আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৮০০ সম্বলহীন হতভাগ্য হিন্দু রিফিউজির সাথে দুই জন হিন্দু আইনপ্রনেতা জনপ্রতিনিধিও আশ্রয় নিয়েছিলেন।[৪৬] বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুসারে জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকার ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫০,০০০-৮০,০০০ বাস্তুচ্যুত হিন্দু ঠাঁই পেয়েছিল।[৪৭]
হিন্দুদের উপর মুসলিমদের বর্বর নির্যাতন সেখানকার প্রকৃত শিক্ষিত মুসলিমদের মনে সীমাহীন লজ্জা ও গ্লানির সূত্রপাত করেছিল। [৪৭]

এসময়ে সেখানকার কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেমন আতাউর রহমান খান , শেখ মুজিবুর রহমান , মামুদ আলী, জিল্লুর হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। [৪৪]
সাহিত্য ও অন্যান্য সৃজনশীল মাধ্যমে গণহত্যার

চিত্রায়নঃ
১৯৮৮ সালে বিখ্যাত লেখক অমিতাভ ঘোষের লেখা সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার প্রাপ্ত ইংরেজি উপন্যাস 'দ্যা শ্যাডো লাইন্স' (The Shadow Lines)'র অন্তর্নিহিত বিষয় ছিল ১৯৬৪ সালের গণহত্যা। এরকম আরেকটি বই শুভশ্রী ঘোষের লেখা 'এ্যাক্রস বর্ডারস'(Across Borders)। ১৯৬৪ সালের গণহত্যায় হিন্দুদের পাশাপাশি পূর্ববঙ্গের অনেক নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী অত্যাচারের শিকার হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। এমনই এক আদিবাসী সম্প্রদায় ছিল গারো জনগোষ্ঠী। এই ঘটনাকে উপজীব্য করে উমাকান্ত শর্মা ১৯৬৫ সালে অহমিয়া ভাষায় 'ছিমছাঙ্গার দুটো পাড়' নামে একটি উপন্যাস লেখেন। এই গন্যহত্যার ফলে সৃষ্ট হিন্দুদের দেশত্যাগের বিষয়বস্তু নিয়ে বিখ্যাত বাংলাদেশি চলচ্চিত্রকার তানভীর মোকাম্মেল ' চিত্রা নদীর পারে' নামে একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন ১৯৯৯ সালে।[৪৮]

*** উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া।
তথ্যসূত্রঃ

1. ↑ ক খ Baidya, Kalidas (2005). Bangalir Muktiyuddhe Antaraler Sheikh Mujib. Kolkata: Shankar Karmakar. p. 84.
2. ↑ ক খ Mukhopadhyay, Kali Prasad (2007). Partition, Bengal and After: The Great Tragedy of India. New Delhi: Reference Press. p. 48.
আইএসবিএন ৮১-৮৪০৫-০৩৪-৮ .
3. ↑ Bhattacharyya, S.K. (1987). Genocide in East Pakistan/Bangladesh. Houston: A. Ghosh (Publisher). p. 89.
আইএসবিএন ০-৯৬১১৬১৪-৩-৪ .
4. ↑ Trivedi, Rabindranath (২৩ জুলাই ২০০৭)।
"The Legacy of the plight of Hindus in Bangladesh - Part-VII: Bengali Muslims Fight Communalism in 1964" । Asian Tribune । World Institute for Asian Studies।
12 (492)। ৩১ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৩।
5. ↑ ক খ Mukhopadhyay, Kali Prasad (2007). Partition, Bengal and After: The Great Tragedy of India. New Delhi: Reference Press. p. 53.
আইএসবিএন ৮১-৮৪০৫-০৩৪-৮ .
6. ↑ Mukhopadhyay, Kali Prasad (2007). Partition, Bengal and After: The Great Tragedy of India. New Delhi: Reference Press. p. 52.
আইএসবিএন ৮১-৮৪০৫-০৩৪-৮ .
7. ↑ ক খ Mukhopadhyay, Kali Prasad (2007). Partition, Bengal and After: The Great Tragedy of India. New Delhi: Reference Press. p. 56.
আইএসবিএন ৮১-৮৪০৫-০৩৪-৮ .
8. ↑ ক খ Mukhopadhyay, Kali Prasad (2007). Partition, Bengal and After: The Great Tragedy of India. New Delhi: Reference Press. p. 58.
আইএসবিএন ৮১-৮৪০৫-০৩৪-৮ .
9. ↑ ক খ Ghosh Dastidar, Sachi (2008). Empire's Last Casualty: Indian Subcontinent's

আমি সংশোধন করছি আর আপনি? ওঁ তৎ সৎ
17/09/2021

আমি সংশোধন করছি আর আপনি?
ওঁ তৎ সৎ

আমি রিয়া চক্রবর্তী বলছি সব ধর্ম সমান নয়। ভুল শিক্ষা দিলে সারা জীবনের জন্য কাঁদবেন।আমি রিয়া চক্রবর্তী। আমার বাবা ছিলেন...
13/07/2021

আমি রিয়া চক্রবর্তী বলছি সব ধর্ম সমান নয়। ভুল শিক্ষা দিলে সারা জীবনের জন্য কাঁদবেন।
আমি রিয়া চক্রবর্তী। আমার বাবা ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারের ছেলে ।তার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি সেক্যুলার মনের মানুষ এবং সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই এই নীতিটি মনেপ্রাণে সারা জীবন ধারণ করে চলত। আমার মা ছিলেন মুসলিম পরিবারের মেয়ে। তারা ইসলামের সব নিয়ম-কানুন কঠোর ভাবে পালন করত।

এজন্য আমার মা বাইরে বের হলে বোরখা পরতো। আমার বাবা মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ভার্সিটিতে পড়ার সময় আমার মা আমার বাবার প্রেমে পড়ে যান। যেহেতু দুইজন দুই ধর্মের সেজন্য তাদের বিয়েতে অনেক সমস্যা হবে ,তাই আমার বাবা এবং মা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে।
এটা বাংলাদেশের ঘটনা তাই আমার মায়ের পরিবার থেকে অনেক হুমকি আসতে থাকে আমার মা কে হত্যা করার জন্য।আমার বাবা আমার মা কে বিয়ে করলেও ধর্ম পরিবর্তন করাননি। আমার বাবা ভেবে পায়না আমার মায়ের বাবারা তাকে কেন হত্যা করতে চায় ??

তখন আমার মা বাবাকে বলেন যারা ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে তাদেরকে বলে মুরতাদ । আর মুরতাদকে হত্যা করার বিধান কোরআনে রয়েছে। বাবা এত কিছু বুঝতো না। তারা কয়েক মাস গোপনে থাকার পর নিজের বাড়িতে এসে বসবাস করতে লাগলো। এভাবে আমার জন্ম হলো।

আমি যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি তখন আমার মা মারা যান। আমার বাবা এরপর আর বিয়ে করেননি । আমার বাবা আমাকে শিক্ষা দিত যে মা মনে রাখবি, “ধর্ম মানুষের জন্য সৃষ্টি হয়েছে ধর্মের জন্য মানুষ সৃষ্টি হয়নি” ” তাই সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই” ” সব ধর্মই সমান” ইসলাম ধর্ম আর সনাতন ধর্ম একই কথা বলে।

কলেজে পড়ার সময় আমার এক মুসলিম বন্ধু আমাকে প্রেমের অফার দেয়। যেহেতু আমি এই শিক্ষা পেয়েছি যে ধর্ম কোনো বিষয় নয় তাই তার অফার গ্রহণ করি এবং একদিন বিয়ে করতে কাজী অফিসে যাই। বিয়ের সময় রিয়াজ বলল,” তোমার ধর্ম পরিবর্তন করতে হবে। রিয়া চক্রবর্তী থেকে রিয়া ইসলাম হবে। আমি বললাম,” তুমি না বলেছিলে ধর্ম কোন বিষয় না??

বিয়ের পর তুমি তোমার ধর্ম নিয়ে থাকবে আমি আমার ধর্ম নিয়ে থাকবো। তাহলে কেন এখন ধর্ম পরিবর্তন করতে হবে?? তবে আজ কেন এসব বলছ?? আরে !!! এটাতো কেবল কাগজে পরিবর্তন করছি।আমি বললাম আমার মা ধর্ম পরিবর্তন করে নি তারপরও তাদের কি করে বিয়ে হল?? সে বলল ইসলাম ধর্মে সমধর্ম ছাড়া বিয়ে হয় না । বিয়ের পর তো তুমি তোমার ধর্ম পালন করবে আর আমি আমার ধর্ম পালন করব।

কাজী আমাকে প্রশ্ন করলেন যে বিয়ের কাবিননামা কত টাকা লিখবো? আমি বললাম আমার কাছে রিয়াজই সব ,কাবিন নামা লেখার কোন প্রয়োজন নেই। সেজন্য 5000 টাকার কাবিন নামায় আমার বিয়ে হয়ে গেল। বিয়ের পর আমার শ্বশুর বাড়ির লোক খুব আদর যত্ন করলো। তারা বলল তুমি অনেক ভাগ্যবান যে শান্তির ধর্মে আসলে।

জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে গেছো। যদি সারা জীবন মুশরিক(যারা প্রতিমা পুজা করে তাদেরকে আরবীতে মুশরিক বলে) থাকতে তাহলে মরার পর দোযখের আগুনে পুড়ে মরতে। আর তোর বাবাকেও এই ধর্মে আসতে বল তা নাহলে তোর বাবা মরার পর দোযখের আগুনে পুড়ে মরবে। আমি ভয়ে কিছুই বলতে পারতাম না। তারা আমাকে বোরখা পরতে বাধ্য করায়।

কালেমা, কোরআন পরতে শেখায়। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরতে বাধ্য করতো ।অথচ আমি কোনোদিন বেদ, গীতা পড়িনি ।কেউ আমাকে বাধ্যও করেনি।আমার জীবন টাকে তারা দুর্বিষহ করে তুলেছিল। ওদের ধরাবাঁধা ধর্মীয় নিয়ম কানুন পালন করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছি। এভাবে আমি এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিলাম।

এক সন্তান জন্ম দেওয়ার পরে তাদের ব্যবহার ,আচার-আচরণ সব পাল্টে গেল। আমাকে আর আমার স্বামী দেখতে পায় না। নির্যাতন করতে থাকে। একদিন বলে সে আমাকে তালাক দিয়ে আরেকটি বিয়ে করবে। আমি বললাম,”আমাকে যদি দূরে ঠেলে দিবে তাহলে আমাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন কেন”?? সে বলল একজন হিন্দু মেয়েকে ইসলাম ধর্মে কনভার্ট করতে পারলে আমি সহ আমার পরিবার জান্নাতবাসী হবো।
সেজন্য তোমাকে ফুসলিয়ে বিয়ে করেছি। আমি বললাম, তাহলে তোমার ভালোবাসা?? আরে!!! ওসব তো আমাদের অভিনয় । মালাউনের (যারা আল্লাহকে মানে না তাদেরকে মুসলিমরা অভিশপ্ত বলে,আর অভিশপ্ত শব্দের আরবী শব্দ মালাউন) বাচ্চাদের আমরা এভাবে ধর্মান্তরিত করি ভোগ করার জন্য আর বেহেশতের টিকিট পাওয়ার জন্য।

ভোগ করার কিছু বছর পর রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিই।দূর হয়ে যা আমার চোখের সামনে থেকে মালাউনের বাচ্চা। আর এই ধর 5000 টাকা, তোর ইজ্জত এর দাম। আমি বললাম আমার ইজ্জতের দাম মাত্র ৫০০০ টাকা?? সে বলল,” কাবিননামায় তোর ৫ হাজার টাকা লেখা আছে তাই 5000 টাকা ফেরত দিলাম। আমি প্রশ্ন করলাম, ‘তাহলে কাবিননামা মানে একজন মেয়ের ইজ্জত এর দাম’?? সে উত্তর দিল হ্যাঁ।

আমি বাবার কাছে ফিরে এলাম। বাবাকে প্রশ্ন করলাম, বাবা তুমি বলেছিলে, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। তাহলে কেন আমার স্বামী ধর্মের জন্য আমাকে ত্যাগ করল??

তুমি আমাকে শিখিয়ে ছিলে মানুষের জন্য ধর্ম সৃষ্টি হয়েছে ধর্মের জন্য মানুষ সৃষ্টি হয় নি।তাহলে কেন আমার স্বামী এবং তার পরিবার জান্নাত যাওয়ার লোভে আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আমার সবকিছু লুটে নিয়ে আমাকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিল?? বাবা সেদিন কোন উত্তর দিতে পারল না।


কোরআন, হাদীস পড়ার কিছুদিন পর বাবা আমাকে বলল, “আমি যা বলেছি তা ঠিকই বলেছি কিন্তু একটা কথা বলতে ভুলে গেছি,তা হল “লোভে পাপ পাপে মৃত্যু” ইসলাম ধর্মে জিহাদ(অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ) করার জন্য 72 হুরের(মরার পর বেহেশতে সেক্স করার জন্য পরীর মত সুন্দরী ৭২জন কুমারী মেয়ে) লোভ, একজন হিন্দু মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ইসলাম ধর্মে কনভার্ট করতে পারলে জান্নাতবাসি হওয়ার লোভ, মিথ্যা শান্তির বাণী শুনিয়ে ধর্মান্তর করতে পারলে ছওয়াবের লোভ।

এই ধর্মে এত লোভ দেখানো হয়েছে যা একজন মানুষের মনুষ্যত্বের মৃত্যু হয়। ক্যান্সারের মতো সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে । আর মৃত্যু অবধি তা দূর করা সম্ভব হয় না। যখন এই রোগ কোন মানুষের মধ্যে প্রবেশ করে তখন সে আর মানুষ থাকে না অমানুষ হয়ে যায় ।

আর অমানুষ কখনো ধর্মের উপর সত্য নয়। আমি যে তোমাকে ভুল শিক্ষা দিয়েছি তা তুমি তোমার মেয়েকে দিও না। আমার বাবা আমার কষ্টে কষ্ট পেয়ে কয়েক বছরের মধ্যে মারা যায় ।

আমার মেয়ে আজ ক্লাস সিক্সে পড়ে। তাকে শিক্ষা দিয়েছি, সব ধর্ম সমান নয়। কিছু ধর্ম আছে যা মানুষকে অমানুষ করে তোলে। তারা ভালো মানুষের মুখোশ পরে থাকে।

তারা তোমাকে শান্তির বাণী শোনাবে, উদারতার কথা শুনাবে কিন্তু ভুলেও তুমি সেদিকে পা বাড়াবে না। কারণ তুমি তাদের কাছে ভোগ্যপণ্য এবং বেহেশতের টিকিট মাত্র। যখন তোমাকে ভোগ করা শেষ হবে তখনই তারা তোমাকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে


আমি আমার সন্তানকে লাভ জিহাদ সম্পর্কে সচেতন করেছি আপনারা আপনার সন্তানদের সচেতন করেছেন তো?? আমার বাবা আমাকে যে ভুল শিক্ষা দিয়েছিল আশা করি আপনারা আপনার সন্তানদের সেই ভুল শিক্ষা দিয়ে সারা জীবনের জন্য কাঁদবেন না, আপনার সন্তানকেও কাঁদাবেন না।

রিয়া চক্রবর্তী
ঢাকা- বাংলাদেশ।

Address

Delhi University
Delhi

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Voice of Hindustan हिंदुस्तान की आवाज posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Voice of Hindustan हिंदुस्तान की आवाज:

Share