Radha Madan Mohan Jiu,Narajole,India

Radha Madan Mohan Jiu,Narajole,India Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Radha Madan Mohan Jiu,Narajole,India, Convent and monastery, Bhaktibhavan, Narajole, Paschim Medinipur, Daspur.

'      ╔════ஜ۩۞۩ஜ════╗       ❣        *"রাসযাত্রা"*          ❣       ╚════ஜ۩۞۩ஜ════╝ ✧═══════•❁❀❁•═══════✧       *আগামী ...
13/11/2024

' ╔════ஜ۩۞۩ஜ════╗
❣ *"রাসযাত্রা"* ❣
╚════ஜ۩۞۩ஜ════╝
✧═══════•❁❀❁•═══════✧
*আগামী ১৫ নভেম্বর, ২০২৪*২৯শে কার্তিক ১৪৩১ বঙ্গাব্দ*
*শুক্রবার, রাস পূর্ণিমা*

*পর্ব : ─ ০১*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°
আগামী পূর্ণিমায় অনুষ্ঠিত হবে রাসযাত্রা। অনেক হিন্দু বিদ্বেষী রাসলীলা সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
──তাই রাসলীলার প্রকৃত অর্থ বোঝার জন্য অনুগ্রহ রাসযাত্রার প্রতিটি পর্ব পড়ুন।
─⊱━━━⊱♦️✥♦️⊰━━━⊰─
🍃🌸🍃 শারদ পূর্ণিমা তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রাসলীলা করেছিলেন।
*✳️ “রাস” শব্দের অর্থ কি ?*
রাস’ এসেছে ‘রস’ থেকে। ‘রস’ মানে আনন্দ, দিব্য অনুভূতি, দিব্য প্রেম। ‘লীলা’ অর্থ নৃত্য।
শারদ পূর্ণিমা তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নানা রকম পুস্পে বিশেষত সুগন্ধযুক্ত মল্লিকা পুস্প দ্বারা সজ্জিত হলেন।
অপরদিকে নিস্কাম গোপিনীগণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে পতি রূপে প্রাপ্তি করবার জন্য কাত্যায়নী দেবীর ব্রত করেছিলেন।
ভগবান কৃষ্ণ যখন রাস অনুষ্ঠান করেন তখন তাঁর বয়স ছিলো ৮ বছর। জড় জগতের যে যুবক যুবতীরা নৃত্য করে তাঁর সাথে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই দিব্যলীলার আকাশ পাতাল তফাৎ ।
ভগবানের দিব্যলীলা আধ্যাত্মিকতায় পূর্ণ, অপরদিকে জড় জগতের যুবক - যুবতীদের সেই নৃত্য কাম জড়তায় পূর্ণ।
ভগবানের মায়াশক্তি মহামায়ার প্রভাবে জড় জগতের যুবকযুবতীরা স্বেচ্ছাচারিতায় নিমগ্ন হয়ে অবশেষে মহাদুঃখে পতিত হয়। তাই শাস্ত্রের মত রাসলীলার অনুকরণ কদাপি এমনকি স্বপ্নেও করা উচিৎ না।
·٠•●⊰🔴✦🔴⊱●•٠·
✳️ শাস্ত্রে গোপিনীদের কৃষ্ণপ্রেমকে নিস্কাম ও বাসনাবিহীন বলা হয়েছে । শারদ পূর্ণিমা তিথিতে তাঁরা ভগবানের বংশীধবনি শ্রবন করে ছুটে এসেছিলেন। সেই সময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এক থেকে বহু হন যোগমায়া দেবীকে আশ্রয় করে।
·٠•●⊰🔴✦🔴⊱●•٠·
শ্রীমদ্ভাভগবতে এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে-
“ভগবানপি তা রাত্রীঃ শারদোৎফুল্লমল্লিকাঃ।
বীক্ষ্য রন্তুং মনশ্চক্রে যোগমায়ামুপাশ্রিতঃ।।
‌ ──‌(১০/২৯/১ )
*✴️অর্থ :-* তিনি প্রেমবতী গোপবালাগণের মধুর রস আস্বাদনে প্রবৃত্ত হইয়া যোগমায়া শক্তির পূর্ণ বিকাশ করলেন।
·٠•●⊰🔴✦🔴⊱●•٠·
যোগমায়া দেবী ভক্ত- ভগবানের মধ্যে দিব্যলীলার স্ফুরন ঘটান। সমস্ত গোপিণীগণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে চেয়েছিলেন বলে ভগবান নিজে বহু হয়ে রাসনৃত্যের অনুষ্ঠান করেন। এই রাসনৃত্যে কোনো রকম জাগতিক কামনা বাসনা ছিলো না। গোপিণীগণ দিব্য মাধুর্য ভাবের সাধিকা ছিলেন।
·٠•●⊰🔴✦🔴⊱●•٠·
*✳️ শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী মহাশয় এই প্রসঙ্গে “চৈতন্যচরিতামৃতে” বলেছেন-*
আত্মেন্দ্রিয়প্রীতি বাঞ্ছা- তারে বলি ‘কাম’।
কৃষ্ণেন্দ্রিয়প্রীতি- ইচ্ছা ধরে ‘প্রেম’ নাম।।
*✴️ অর্থ :-* নিজেদের ইন্দ্রিয়সুখের জন্য যে বাসনা তা “কাম”। আর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রসন্নতা বিধানের জন্য পূজা, অর্চনা, সাধনা ইত্যাদি ভক্তিমার্গ “প্রেম” নামে খ্যাত।
🌸🌿 গোপিনীগণ এই “প্রেম” সাধনার মাধ্যমেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে প্রাপ্তি করেছিলেন। মহারাসে জীবাত্মা আর পরমাত্মার মিলন ঘটেছিলো । শ্রীকৃষ্ণ হলেন পূর্ণব্রহ্ম পরমাত্মা আর গোপিনীগণ জীবাত্মা । জীবাত্মা যখন পরমাত্মায় মিশে যায় তখন সেটাই হয় “মহারাস” । এইসব জটিল তত্ত্বের সাক্ষাৎ প্রতিভূ হোলো ভগবান শ্রীকৃষ্ণের “রাসলীলা”।
·٠•●⊰🔴✦🔴⊱●•٠·
তত্রাতিশুশুভে তাভিভগবান্ দেবকীসুতঃ।
মধে মণীনাং হৈমানাং মহামারকতো যথা ।।
──‌ ( শ্রীমদ্ভাগবত )
*✴️শুকদেব গোস্বামী , মহারাজ পরিক্ষিৎ কে বললেন-* “যে মণি গুলির রং সোনার মতো সে গুলিতে মাঝে মাঝে নীল রং এর মরকত মণি বসালে যেমন শোভা হয়, তেমনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাদের অর্থাৎ গোপীদের সঙ্গে সেখানে অতিশয় শোভা পেতে লাগলেন।”
─⊱━━━⊱♦️✥♦️⊰━━━⊰─
*পরবর্তী পোস্ট*
*০২ নং পর্ব ﹏﹏✍️*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌸জয় শ্রীরাধা গোবিন্দ🌸*
●●●●●●●●●●●●●
┈┉━❀❈🙏🏻❈❀━┉┈
✧═══════•❁❀❁•═══════✧
┄❈❥ًً❀──●❀🌹🍒🌻
"হরে"কৃষ্ণ"হরে"কৃষ্ণ"
"কৃষ্ণ"কৃষ্ণ"হরে"হরে।"
"হরে"রাম"হরে"রাম"
"রাম"রাম"হরে"হরে।।"
┄❈❥ًً❀──●❀🌹🍒🌻
╲\ | / /╭━━ " ҉♥️" ҉-━━╮╲\ | / /
" ҉♥️" ҉ *কৃষ্ণময় জীবন* " ҉♥️" ҉-
╱/ | \╲╰━━ " ҉♥️" ҉-"━━╯╱/| \╲

ধারাবাহিক "আমার গৌরাঙ্গসুন্দর ",পর্ব-১৪৮,প্রসঙ্গ-পানিহাটির দধিচিড়া মহোৎসব লীলা! আগামীকাল বৃহস্পতিবার( ২০/০৬/২০২৪)  পানিহ...
19/06/2024

ধারাবাহিক "আমার গৌরাঙ্গসুন্দর ",পর্ব-১৪৮,প্রসঙ্গ-পানিহাটির দধিচিড়া মহোৎসব লীলা!
আগামীকাল বৃহস্পতিবার( ২০/০৬/২০২৪) পানিহাটির দধিচিড়া মহোৎসব লীলা!

দধিচিড়া মহোৎসব সম্পর্কে বিস্তারিতঃ

শ্ৰীরঘুনাথ দাস গোস্বামী হুগলী জেলার অন্তৰ্গত শ্ৰীকৃষ্ণপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

পিতার নাম শ্ৰীগোবৰ্দ্ধন দাস ।

জ্যেঠার নাম — শ্ৰীহরিণ্যঔম দাস ।

তারা কায়স্থ কুলোদ্ভুত সম্ৰান্ত ধনাঢ্য ভূম্যধিকারী জমিদার ছিলেন । তাদের রাজপ্রদত্ত উপাধি ছিল "মজুমদার'’ ।

৫০০ বছর আগে বিশ লক্ষ মুদ্ৰা তাদের বাৎসরিক আয় ছিল ।

শ্ৰীরঘুনাথ শৈশবে পুরোহিত আচাৰ্য্য শ্ৰীবলরাম দাসের গৃহে অধ্যয়ন করতেন ।

শ্ৰীবলরাম দাস শ্ৰীহরিদাস ঠাকুরের কৃপা পাত্ৰ ও শিষ্য ছিলেন ।

শ্ৰীহরিদাস ঠাকুর মাঝে মাঝে তার গৃহে শুভাগমন করতেন ।

এসময় শ্রীরঘুনাথ শ্ৰীহরিদাস ঠাকুরের মুখে কৃষ্ণের কৃপা প্ৰাপ্তি ও চৈতন্য মহাপ্রভুর তত্ত্ব উপদেশ প্রভৃতি শ্রবণের সৌভাগ্য লাভ করেন ।

শ্ৰীরঘুনাথ দাস হিরণ্য - গোবৰ্দ্ধানের একমাত্ৰ পুত্র ছিলেন ।

তার আদর যত্নের সীমা ছিল না।

রাজপুত্রের ন্যায় প্রতিপালিত হতেন। কিন্তু শ্রীহরিদাস ঠাকুরের মত সৎসঙ্গ প্ৰভাবে অল্পবয়সে সংসারের অনিত্যতা উপলব্ধি করতে পারলেন ।

এ সংসারের ধন ,জন , পিতা - মাতা ও স্বজনাদির প্রতি অনাসক্তি ভাবের উদয় হল ।

ক্ৰমে ভক্ত পরম্পরায় শ্ৰীগৌর - নিত্যানন্দের মহিমা শ্ৰবণ - পূৰ্ব্বক তাদের শ্ৰীচরণ দৰ্শন করবার জন্য উৎকণ্ঠাযুক্ত হয়ে পড়লেন ।

অতঃপর তিনি যখন শুনলেন শ্ৰীচৈতন্য মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্ৰহণ করে নদীয়া থেকে চির বিদায় নিয়ে চলেছেন দেশান্তরে তখন তিনি পাগল প্ৰায় হয়ে ছুটে এলেন শান্তিপুরে শ্ৰীঅদ্বৈত আচাৰ্য্যর গৃহে ।

সেখানে শ্ৰীগৌরসুন্দরের শ্ৰীচরণ দৰ্শন লাভ করলেন ।

লুটিয়ে পড়লেন শ্ৰীীরঘুনাথ প্রভুর শ্ৰীচরণ যুগলে ।

প্ৰভু দেখে বুঝতে পেরেছেন এ তার নিত্যপ্রিয়জন ।

আনন্দে শ্ৰীরঘুনাথকে দৃঢ় আলিঙ্গন করলেন ।

শ্ৰী রঘুনাথ কাঁদতে কাঁদতে বললেন আপনার সঙ্গে আমিও যাব ।

তখন মহাপ্ৰভু বললেন,
''মৰ্কট বৈরাগ্য না কর লোক দেখাএা ।

যথাযোগ্য বিষয় ভুঞ্জ অনাসক্ত হঞা।

অন্তরে নিষ্ঠা কর , বাহ্য লোক ব্যবহার।

অচিরাৎ কৃষ্ণ তোমায় করিবে উদ্ধার।

এত কহি ’ মহাপ্ৰভু তারে বিদায় দিল।

ঘরে আসি ’ মহাপ্রভুর শিক্ষা আচরিল''।।

— ( চৈঃচঃ মধ্যঃ)

মহাপ্ৰভুর — এ আদেশ শুনে শ্ৰীরঘুনাথ ঘরে ফিরে গেলেন এবং বিষয়ী প্ৰায় অবস্থান করে সংসারে কাৰ্য্য করতে লাগলেন ।

ইহাতে পিতা - মাতা অতিশয় সুখী হলেন।

যাতে তাদের পুত্র গৃহে থাকে সেইজন্য শ্রীরঘুনাথকে এক জমিদারের অপ্সরা ন্যায় কন্যার সহিত বিবাহ দিলেন।

এক বছর না যেতেই আবার সে সংসার থেকে পালাবার উদ্যত হল।

কিন্তু শ্রীগোবর্ধন দাস (মজুমদার)অনেক পাহারাদার রাখলেন যেন শ্রী রঘুনাথ পালাতে না পারে।

একদিন শ্ৰীরঘুনাথ চিন্তা করলেন , করুণাময় শ্ৰীনিত্যানন্দ প্রভুর কৃপা ছাড়া বোধ হয় শ্ৰীগৌরসুন্দরের কৃপা পাওয়া যাবে না ।

আগে তার শ্ৰীচরণ একবার দৰ্শন করি ।

শ্ৰীরঘুনাথ একদিন বাপ - মাকে বললেন — আমি পানিহাটিতে শ্ৰীরাঘব পণ্ডিতের ঘরে কীৰ্ত্তন - মহোৎসব দৰ্শন করতে যাব ।

এবার বাপ - মা বাধা দিলেন না , যাবার অনুমতি দিলেন ।

তার নিরাপত্তার জন্য সঙ্গে কয়েকজন ভৃত্য দিলেন ও অৰ্থ - কড়ি দিলেন ।

গঙ্গার পাড় পানিহাটি স্থান শ্ৰীনিত্যানন্দ প্রভুর প্রভাবে আনন্দময় ।

গৃহে গৃহে শ্ৰীহরিসংকীৰ্ত্তন মহোৎসব ।

শ্ৰীরঘুনাথ দাস পানিহাটিতে এসে পরম সুখী হলেন ।

ক্ৰমে তিনি গঙ্গাতটে যেখানে ভক্তসঙ্গে শ্ৰীনিতানন্দ প্ৰভুবসে আছেন সে স্থানে উপস্থিত হলেন।

অদূর থেকে শ্ৰীরঘুনাথ দেখলেন , গঙ্গাতট আলোকিত করে একটা বৃক্ষমূলে ভক্তগণ সঙ্গে শ্ৰীনিত্যানন্দ প্ৰভু বসে আছেন ।

শ্ৰীরঘুনাথ দেখেই দূর থেকে সাষ্টাঙ্গে দণ্ডবৎ হয়ে পড়লেন ।

শ্রীহিরন্য-গোবর্ধন প্ৰসিদ্ধ জমিদার ।

সৰ্ব্বত্র তাদের খ্যাতি ।

তারা ব্ৰাহ্মণ - বৈষ্ণবের সেবা - পরায়ণ ।
নবদ্বীপ- শান্তিপুরাদি-নিবাসী পণ্ডিতগণেকে বহু অৰ্থ - কড়ি দানাদি করে সাহায্য করেন।

তাদের পুত্ৰ শ্ৰীরঘুনাথ দাস এসেছেন সৰ্ব্বত্ৰ সাড়া পড়ে গেল ।

শ্ৰীরঘুনাথ দাসের কথা ভক্তগণ শ্ৰীনিত্যানন্দ প্রভুর শ্ৰীচরণে নিবেদন করলেন ।

শ্রীনিত্যানন্দপ্ৰভু রঘুনাথ দাসের নাম শুনেই বললেন — ''রে রে চোরা ।

আয় তোকে আজ দণ্ড দিব''।

ভক্তগণ শ্ৰীরঘুনাথ দাসকে শ্ৰীনিতানন্দ প্রভুর শ্ৰীচরণে নিয়ে এলেন ।

শ্ৰীচরণ মূলে রঘুনাথ দাস লুটিয়ে পড়লেন ।

করুণাময় নিত্যানন্দ অভয়চরণ তার শিরে ধারণ করলেন , শ্ৰীরঘুনাথের সেই শ্ৰীচরণ - স্পৰ্শমাত্ৰ যেন সব বন্ধন কেটে গেল ।

সহাস্য বদনে শ্ৰীনিতানন্দ প্ৰভু বলতে লাগলেন — ''তুমি আমার ভক্তগণকে চিড়া - দধি ভোজন করাও । এ তোমার দণ্ড''।

একথা শুনে শ্ৰীরঘুনাথের আনন্দের সীমা রইল না ।

তখনই দই-চিড়া মহোৎসবের আয়োজন আরম্ভ হল ।

চারিদিকে লোক প্রেরণ করে দই - চিড়া আনতে লাগলেন ।

উৎসবের নাম শুনে পসারিগণ দই চিড়া পাকাকলাদি নিয়ে পসার বসাল ।

শ্ৰীরঘুনাথ দাস মুল্য দিয়ে সমস্ত দ্রব্য খরিদপূৰ্ব্বক নিতে লাগলেন ।

এদিকে গ্ৰাম গ্ৰামান্তর থেকে ভক্তগণ সজন ব্ৰাহ্মণগণ আসতে লাগলেন ।

বড় বড় মৃৎকুণ্ডিকার মধ্যে পাঁচ-সাত জন ব্ৰাহ্মণ চিড়া ভিজাতে লাগলেন ।

একজন ভক্ত শ্ৰীনিত্যানন্দ ও শ্ৰীগৌরাঙ্গ মহাপ্ৰভুর জন্য চিড়া ভিজাতে লাগলেন ।

অৰ্দ্ধেক চিড়া দই কলাদিয়ে , আর অৰ্দ্ধেক ঘন দুধ , চিনি চাপা কলা দিয়ে মাখতে লাগলেন ।

অনন্তর শ্ৰীনিত্যানন্দ প্ৰভু বৃক্ষমূলে পিণ্ডার উপর উপবেশন করলেন ।

তখন তার সামনে চিড়া-দইপূৰ্ণ সাতটা মৃৎকুণ্ডিকা রাখা হল ।

শ্ৰীনিতানন্দ প্রভুর চারিপার্শ্বে রামদাস , সুন্দরানন্দদাস , গদাধর , শ্ৰীমুরারি , কমলাকর , শ্ৰীপুরন্দর , ধনঞ্জয় , শ্ৰীজগদীশ , শ্ৰীপরমেশ্বর দাস , মহেশ পণ্ডিত , শ্ৰীগৌরীদাস , হোড়কৃষ্ণ দাস , ও উদ্ধারণ দত্ত ঠাকুর প্রভৃতি ভক্তগণ উপবেশন করলেন ।

নীচে বসলেন অভ্যাগত পণ্ডিত ভট্টাচাৰ্য্যগণ ।

গঙ্গাতটে স্থান না পেয়ে কেহ কেহ গঙ্গায় নেমে চিড়া - দই নিচ্ছেন ।

সেদিন শ্ৰীরাঘব পণ্ডিতের ঘরে শ্ৰীনিতানন্দ প্রভুর আমন্ত্ৰণ ছিল।

বিলম্ব দেখে শ্ৰীরাঘব পণ্ডিত স্বয়ং এলেন ।

দেখলেন — বিরাট মহোৎসবের ঘটা ঠিক যেন সখাগণের সঙ্গে শ্ৰীকৃষ্ণের বন্য- ভোজন লীলা ।

শ্ৰীনিতানন্দ প্ৰভু বললেন — রাঘব ! তোমার ঘরের প্রসাদ রাত্ৰে গ্ৰহণ করব ।

এখন রঘুনাথ দাসের উৎসব হউক ।

তুমিও বসো ।

এ বলে তাঁকে নিকট বসালেন এবং দই চিড়া ও দুধ - চিড়াপূৰ্ণ দুটা মৃৎকুণ্ডিকা এনে দিলেন ।

সকলের চিড়া দেওয়া শেষ হলে শ্ৰীনিতানন্দ প্ৰভু শ্রী গৌরাঙ্গসুন্দর মহাপ্রভুর ধ্যানে বসলেন ।

অন্তৰ্য্যামী শ্ৰীগৌরসুন্দর তার ধ্যানে জানতে পেরে তথায় স্বদেহে এলেন।

“মহাপ্ৰভু আইল দেখি নিতাই উঠিলা, তারে লঞা সবার চিড়া দেখিতে লাগিলা''।

( চৈঃচঃ অন্ত্যলীলা )

শ্ৰীনিতানন্দ প্ৰভু হাস্য করতে করতে সবাকার হোলনা থেকে এক এক গ্ৰাস নিয়ে মহাপ্ৰভুর মুখে দিতে লাগলেন ।

এইরুপ লীলাপূৰ্ব্বক শ্ৰীনিতানন্দ প্ৰভু কিছুক্ষণ ভ্ৰমণ করতে লাগলেন ।

তারপর নিজ আসনে তিনি বসলেন ও ভক্তগণকে ভোজন করতে আদেশ দিলেন।

হাজার হাজার ভক্তগনের মহাস্বরে ''হরি ’ হরি'' ধ্বনিতে দশদিক মুখরিত করতে লাগলেন ।

শ্ৰীনিতানন্দ প্ৰভু ভোজন করছেন না দেখে কেহই ভোজন করছেন না ।

ভক্তগণ অগ্ৰে শ্ৰীনিত্যানন্দ প্ৰভুকে ভোজন করবার প্রার্থনা জানালেন , শ্ৰীনিতানন্দ প্ৰভু ভোজন আরম্ভ করলেন ।

সমস্ত ভক্তগণ আনন্দভরে ভোজন করতে লাগলেন ।

সকলের পুলিন ভোজনের কথা মনে হতে লাগল ।

ভোজন শেষ হলে শ্ৰীনিত্যানন্দ প্ৰভু শ্ৰীরঘুনাথ দাসকে ডেকে অবশেষ প্ৰদান করলেন ।

এবার শ্ৰীরঘুনাথ দাস শ্ৰীনিতানন্দ কৃপা - প্ৰসাদে শ্ৰীগৌরসুন্দরের কৃপা পাবেন এবিষয়ে নিঃসন্দেহ হলেন ।

তারপর শ্ৰীনিত্যনন্দ প্ৰভু তার শিরে হাত দিয়ে আশীর্বাদ করলেন, ''অচিরাৎ প্ৰভু তোমাকে কৃপা করবেন ”।

অতঃপর শ্ৰীরঘুনাথ দাস প্ৰভু ভক্তগণের সেবাৰ্থে কিছু কিছু মুদ্ৰাদি দিয়ে গৃহে যাবার জন্য বিদায় চাইলেন ।

ভক্তগণ সকলেই কৃপা আশীৰ্ব্বাদ করলেন ।

শ্ৰীরঘুনাথ এরপরে গৃহে ফিরে এলেন ।

শ্ৰীরঘুনাথকে দেখে পিতা মাতা সুখী হলেন ।

এইভাবে পানিহাটির উৎসব করে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আদেশমত শ্ৰীরঘুনাথ বাহ্য ব্যবহার ঠিকমত করতে লাগলেন।।

এই দধিচিড়া মহোৎসবে যারা অংশ গ্রহন করবেন অর্থ বা যা পারেন মন্দিরে বা বাসায় জিনিস দ্রব্যাদী ক্রয় করে নিয়ে যেতে পারেন।তারা সকলে যারা প্রসাদ পাবেন বা পরিবেশন বা সাহায্য করবেন সকলে রঘুনাথ দাস, নিতানন্দ প্রভু ও শ্রী গৌরাঙ্গসুন্দর মহাপ্রভুর কৃপা লাভ করবেন।

শ্রী শচীনন্দন ভগবান শ্রী গৌরাঙ্গসুন্দর কি জয়, অখন্ড গুরু-তত্ত্ব শ্রী নিত্যানন্দ প্রভু কি জয় ! শ্রীগৌর-নিত্যানন্দ প্রভুর কৃপা প্রাপ্ত শ্রী রঘুনাথ দাশ গোস্বামী ঠাকুর কি জয় পানিহাটির চিড়া দহি মহোৎসব কি জয় ! শ্রী পানিহাটি ধামবাসী ভক্তবৃন্দ কি জয়। শ্রীল প্রভুপাদ কি জয়!
ক্রমশ্য.....

ধারাবাহিক "আমার গৌরাঙ্গসুন্দর" ,পর্ব-১৪৭, প্রসঙ্গ- শ্রীশ্রীরামানন্দ রায় ও শ্রীরামানন্দ রায়-এর সংবাদ l  আজ শ্রীরামানন্দ ...
28/05/2024

ধারাবাহিক "আমার গৌরাঙ্গসুন্দর" ,পর্ব-১৪৭, প্রসঙ্গ- শ্রীশ্রীরামানন্দ রায় ও শ্রীরামানন্দ রায়-এর সংবাদ l

আজ শ্রীরামানন্দ রায়ের তিরোভাব তিথি এবং
শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত জয়ন্তী তিথি l

রাজা শ্রীপ্রতাপরুদ্রের অধীন পূর্ব ও পশ্চিম গোদাবরীর বিশ্বস্ত শাসন কর্ত্রার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন শ্রীরামানন্দ রায়। মহাপ্রভু যখন দক্ষিণ দেশে যাত্রা করেন, শ্রীসার্ব্বভৌম পণ্ডিত তাকে বিশেষ অনুরোধ করেন তিনি যেন শ্রীরামানন্দ রায়ের সঙ্গে মিলিত হন। “তোমার সঙ্গে যোগ্য তেঁহো একজন। পৃথিবীতে রসিক ভক্ত নাহি তার সম।।"(চৈঃ মধ্যঃ ৭ /৬৪) হে প্রভো পৃথিবী তলে আপনার সঙ্গ যোগ্য এক শ্রীরামানন্দ রায় ছাড়া আর কাকেও দেখছি না। আমার বিশেষ অনুরোধ আপনি তাঁর সঙ্গে মিলিত হবেন। তাঁকে বিষয়ী শূদ্র বলে যেন উপেক্ষা না করেন। পান্ডিত্য ও ভক্তিরস দু'টারই তিনি প্রকৃত অধিকারী, তাকে সম্ভাষণ করলেই ইহা উপলব্ধি করতে পারবেন।

শ্রীমহাপ্রভু দক্ষিণ দেশ অভিমুখে যাত্রা করে নাম প্রেম বিতরণ করতে করতে এলেন পশ্চিম গোদাবরীর তীরে। পণ্ডিত সাৰ্ব্বভৌমের অনুরোধ অনুযায়ী শ্রীরামানন্দ রায়ের সঙ্গে মিলিত হবার ইচ্ছা মহাপ্রভুর মনে সদা জাগছিল।

শ্রীমহাপ্রভু গোদাবরীর মনোহর তটে এক বৃক্ষমূলে বসে আছেন। তাঁর অম্ল কান্তিতে চতুর্দিক যেন আলোকিত হচ্ছিল। এমন সময় অনতিদূরে রাজপথ দিয়ে স্নান করতে যাচ্ছেন শ্রীরামানন্দ রায়। সঙ্গে বৈদিক ব্রাহ্মণগণ ও বিবিধবা বাজনা। শ্রীরামানন্দ রায় দুর থেকে বৃক্ষমূলে উপবিষ্ট দিব্য কান্তিযুক্ত সন্ন্যাসীবরকে একদৃষ্টে দর্শন করতে লাগলেন। বৈদিক বিধানে গোদাবরীতে স্নানাদি সেরে, শ্রীরামানন্দ রায় এলেন সন্ন্যাসীর শ্রীচরণ-দর্শনে। দিব্য সন্ন্যাসী দর্শনে শ্রীরামানন্দের মনে যে কত ভাবোদয় হচ্ছিল তা বলে শেষ করা যায়। না। মহাপ্রভুও তাঁকে অপলক নেত্রে দেখতে লাগলেন। নয়নে নয়নে হল মিলন। তারপর শ্রীরামানন্দ পালকি থেকে নেমে শ্রীমহাপ্রভুর চরণে দন্ডবৎ করলেন। মহাপ্রভু তাঁকে আলিঙ্গন করার জন্য উদ্গ্রীব হলেন; কিন্তু বহিরঙ্গ লোক দেখে ধৈর্য ধারণ করলেন। মহাপ্রভু রামানন্দ রায়কে ভূমি থেকে তুলে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি রাম রায়? হাঁ প্রভো! সেই শূদ্রাধম। মহাপ্রভু গাঢ় আলিঙ্গন করলেন। বললেন—আমার এতদূরে আসবার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হল।

হাঁ প্রভো ! এ অধম শূদ্রের প্রতি এত দয়া কেন?

পুরীতে পন্ডিত সাৰ্ব্বভৌমের নিকট তোমার মহিমা শুনেছি। তোমার মত রসিক ভক্ত দ্বিতীয় নাই, সাৰ্ব্বভৌম বলেছেন।

সাৰ্ব্বভৌম পন্ডিত আমায় এত কৃপা করলেন কেন? বোধহয় আপনি তাকে কৃতৰ্ক গর্ত্ত থেকে উদ্ধার করে প্রেমরস সুধা পান করিয়েছেন। বাহ্যতঃ তিনি আমাকে ঘৃণা করেন, কিন্তু অন্তরে স্নেহশীল। এ আপনার কৃপার নিদর্শন। রামানন্দ রায় আবার প্রভুর চরণ ধারণ করলেন, প্রভু আলিঙ্গন করলেন। দুজনার ভাবের অবধি নাই, উভয়ের অঙ্গে অষ্ট সাত্ত্বিক বিকার সমূহ প্রকাশ পেতে লাগল। বৈদিক ব্রাহ্মণগণ অবাক হয়ে চেয়ে রইলেন! শূদ্র রাজাকে স্পর্শ করে এ সন্ন্যাসী এত প্রেম যুক্ত হয়ে পড়লেন কেন? বাহ্যতঃ শ্রীরামানন্দ রায়কে কেহ চিনতে পারত না। ব্রাহ্মণগণের মন জেনে মহাপ্রভু ধৈর্য্য ধারণ করলেন। রামানন্দ রায় বললেন – হে করুণাময় প্রভো! যদি অধমকে কৃপা করবার জন্য আগমন করে থাকেন, আট দশ দিন এখানে অবস্থান করে এ দীনকে উদ্ধার করুন। মহাপ্রভু বললেন—সাৰ্ব্বভৌম বিশেষ সঙ্গ করবার জন্য বলেছিলেন। তোমাকে দেখে আমার যাবতীয় আকাঙ্খা পূণ হল। এমন সময় একজন ব্রাহ্মণ মহাপ্রভুকে মধ্যাহ্ন ভোজনের জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। মহাপ্রভু রামানন্দ রায়কে পুনর্ব্বার মিলবার জন্য বলে ব্রাহ্মণের গৃহে এলেন।

শ্রীরামানন্দ রায় হলেন শ্রীভবানন্দ রায়ের পুত্র। ভবানন্দ পূর্ব্বে পাণ্ডুরাজ ছিলেন। তাঁর পাঁচ পুত্র পঞ্চ পান্ডব। রামানন্দ, গোপীনাথ, কলানিধি, সুধানিধি ও বাণীনাথ। ভবানন্দ রায় এ পাঁচ পুত্রকে মহাপ্রভুর শ্রীচরণে সমর্পণ করেছিলেন। ভবানন্দ রায়ের পত্নী কুন্তী দেবী ছিলেন।

শ্রীমহাপ্রভু অপরাহ্ন স্নানাদি সেরে গোদাবরী তটে সে বৃক্ষ মুলে যখন উপবেশন করলেন, শ্রীরামানন্দ রায় এক ভৃত্য সঙ্গে মহাপ্রভুর শ্রীচরণ সন্নিধানে এলেন। রামানন্দ রায় দন্ডবৎ করতেই মহাপ্রভু উঠে তাঁকে গাঢ় আলিঙ্গন করলেন ও ধরে বসালেন। অনন্তর দুজনে প্রেমানন্দে মত্ত হয়ে কৃষ্ণকথা আলাপ করতে লাগলেন। মহাপ্রভু প্রশ্ন করতে লাগলেন, শ্রীরামানন্দ রায় উত্তর দিতে লাগলেন।

শ্রীরামানন্দ রায় সাধ্য তত্ত্বের উত্তরে—প্রথমতঃ বর্ণাশ্রম ধর্ম উল্লেখ করে, পরপর কর্মার্পণ, নিষ্কাম কর্ম, জ্ঞানমিশ্রা, জ্ঞানশূন্যা ও শুদ্ধাভক্তির কথা বললেন। মহাপ্রভু পূর্ব্বোক্ত কোনটিকেই সাধ্যসার বলে স্বীকার করলেন না। অতঃপর শ্রীরামানন্দ রায় শুদ্ধ কৃষ্ণরতি দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য ও মধুর রতির কথা বললেন। মহাপ্রভু বললেন—আরও বল। শ্রীরামানন্দ রায় মধুর রতিতে ব্রজগোপীদের কথা বলে তাঁদের মধ্যে শ্রীরাধা ঠাকুরাণীর অসাধারণ ভাবের কথা বললেন। তখন মহাপ্রভু বললেন—ইহা সাধ্যসার। আর কিছু বল,—শ্রীরামানন্দ রায় বলতে লাগলেন—শ্রীরাধাই কৃষ্ণপ্রেমকল্পলতিকা স্বরূপিণী এবং সখিগণ সে লতার পল্লব পুষ্প পত্রাদি স্বরূপ। শ্রীকৃষ্ণ রসরাজ, শ্রীরাধা মহাভাব-স্বরূপিণী। রসরাজ ও মহাভাব মিলিত অবতার যিনি ছলপূর্ব্বক আমাকে নাচাচ্ছেন। মহাপ্রভু উঠে রামানন্দের মুখে হস্ত চাপা দিয়ে আর বলতে নিষেধ করলেন। বললেন যথেষ্ট, আর বলতে হবে না। এ রাত্রির মত কথোপকথন শেষ করে দু’জন শয়ন করতে গেলেন।

পরদিবস সন্ধ্যাকালে পুনঃ শ্রীরামানন্দ রায় শ্রীমহাপ্রভুর চরণ-প্রান্তে এলেন ও দন্ডবৎ করলেন। মহাপ্রভু উঠে গাঢ় প্রণয়সহ আলিঙ্গন করলেন। তারপর কথা আরম্ভ করলেন।

মহাপ্রভু প্রশ্ন করতে লাগলেন এবং রামানন্দ রায় তার উত্তর দিতে লাগলেন।

প্রঃ। বিদ্যামধ্যে কোন্ বিদ্যা শ্রেষ্ঠ?
উঃ। কৃষ্ণ-ভক্তি বিদ্যাই সৰ্ব্বশ্রেষ্ঠ।
প্রঃ। জীবের কীৰ্ত্তি কি?
উঃ। শ্রীকৃষ্ণদাস পদবীই সৰ্ব্বশ্রেষ্ঠকীৰ্ত্তি।
প্রঃ।জীবের পরম ধর্ম কি?
উঃ।শ্রীরাধাগোবিন্দের প্রেমই পরম ধর্ম।
প্রঃ।জীবের সর্ব্বাপেক্ষা দুঃখ কি?
উঃ।কৃষ্ণ ভক্তের বিরহ দুঃখ।
প্রঃ।জীবের মধ্যে সর্ব্বশ্রেষ্ঠ মুক্ত কে?
উঃ।কৃষ্ণ-প্রেমিকই মুক্ত শিরোমণি।
প্রঃ।গানের মধ্যে কোন্ গান শ্রেষ্ঠ?
উঃ।রাধাগোবিন্দের লীলা গান।
প্রঃ।জীবের সর্ব্বশ্রেষ্ঠ মঙ্গল কি?
উঃ।কৃষ্ণ ভক্তের সঙ্গ।
প্রঃ।একমাত্র স্মরণীয় কি?
উঃ।কৃষ্ণের নাম, রূপ, গুণাদি।
প্রঃ।জীবের একমাত্র ধ্যেয় কি?
উঃ।শ্রীরাধাগোবিন্দের পাদপদ্ম।
প্রঃ।জীবের শ্রেষ্ঠ বাসস্থান কি?
উঃ।শ্রীকৃষ্ণ লীলাক্ষেত্র।
প্রঃ।জীবের শ্রেষ্ঠ শ্রবণের বিষয় কি?
উঃ। শ্রীরাধা গোবিন্দের প্রেম লীলা।
প্রঃ।জীবের একমাত্র কীৰ্ত্তনীয় কি?
উঃ। শ্রীরাধা গোবিন্দ নাম।
প্রঃ।বুভুক্ষু ও মুমুক্ষুর গতি কি?
উঃ। স্থাবর দেহ ও দেব দেহ।
প্রঃ।জ্ঞানী ও ভক্তের বৈশিষ্ট্য কি?
উঃ। অরসজ্ঞ কাক জ্ঞান-নিম্ব ফল খায়, রসজ্ঞ কোকিল (ভক্ত) প্রেমাম্র -মুকুল রস পান করে।

অতঃপর মহাপ্রভু রামানন্দ রায়কে রসরাজ ও মহাভাব মিলিত স্বরূপ দেখালেন। তদ্দর্শনে রামানন্দ রায় মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরে জ্ঞান পেয়ে বিবিধ স্তব স্তুতি করতে লাগলেন। মহাপ্রভু রামানন্দ রায়কে এ সব রূপের কথা গোপন রাখতে বললেন। মহাপ্রভু বিদায় চাইলেন—–রামানন্দ রায় কেঁদে চরণ তলে লুটিয়ে পড়ে বলতে লাগলেন— তুমি স্বতন্ত্র ঈশ্বর, তোমার লীলা কে বুঝতে পারে? একমাত্র প্রার্থনা দাসের দাস করে শ্রীচরণ সেবার সুযোগ প্রদান কর। মহাপ্রভু বললেন—তুমি বিষয় ত্যাগ করে। নীলাচলে এস, তথায় দুজনে নিরন্তর কৃষ্ণ-কথা রসে দিন কাটাব। এ বলে মহাপ্রভু দক্ষিণ দেশের তীর্থ ভ্রমণে বের হলেন।
মহাপ্রভু তীর্থ ভ্রমণ করে পুরীতে ফিরে এলেন। এদিকে শ্রীরামানন্দ রায় ও রাজা প্রতাপরুদ্রের অনুমতি নিয়ে পুরী চলে এলেন।

শ্রীরামানন্দ রায়ের প্রধান মিত্র শ্রীস্বরূপ দামোদর প্রভু। শ্রীরামানন্দ রায় কৃষ্ণলীলা নাটক লিখে, দেবদাসীদের দ্বারা তা শ্রীজগন্নাথদেবের সম্মুখে অভিনয় করাতেন। মহাপ্রভু রামানন্দ সম্বন্ধে বলেছেন যোগীদিগের মন প্রকৃতির মূর্ত্তি দর্শনে বিচলিত হতে পারে; কিন্তু সাক্ষাৎ দেবদাসী স্পর্শে রামরায়ের মন টলে না। শ্রীরামানন্দ রায় ও শ্রীস্বরূপ দামোদর প্রভুর অন্ত্যলীলার সাথী।

রামানন্দের কৃষ্ণকথা স্বরূপের গান।
বিরহ-বেদনায় প্রভুর রাখয়ে পরাণ।।
(চৈঃ চঃ অন্ত্যঃ ৬।৬)

মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের পর শ্রীরামানন্দ রায় অপ্রকট হন।

হেনকালে প্রভুর অদর্শনের কথা শুনি।
অঙ্গ আছাড়িয়া রাজা লুটায় ধরণী।।
শিরে করাঘাত করি হৈল অচেতন।
রায় রামানন্দ মাত্র রাখিল জীবন।। — (ভঃ রঃ ৩।২১৮)
ক্রমশঃ...

ধারাবাহিক "আমার গৌরাঙ্গসুন্দর ", পর্ব-১৪৪, প্রসঙ্গ : শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রাকৃত লীলাবিলাস lসমস্ত শাস্ত্র অনুসারে, শ্র...
26/03/2024

ধারাবাহিক "আমার গৌরাঙ্গসুন্দর ", পর্ব-১৪৪, প্রসঙ্গ : শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রাকৃত লীলাবিলাস l

সমস্ত শাস্ত্র অনুসারে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হলেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং।আর শ্রীমতি রাধারাণী হলেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং।যদিও তারা একজন, তথাপি ভিন্ন দেহে সর্বদা চিন্ময় জগতের সর্বোচ্চ লোক গোলক বৃন্দাবনে নিত্য বিরাজমান।

গোলক বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের ভাবটি হল পরমেশ্বর ভাব।আর শ্রীমতি রাধারাণীর ভাবটি হল সেবক বা ভক্ত ভাব।শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত, আদি ৪ /১২১-২৭৭,১৩/৮০ নং শ্লোক অনুযায়ী, "আমাদের ব্রহ্মান্ডে যখন দ্বাপর যুগ অতিক্রান্ত হয়ে কলিযুগের শুরু হবে, এমন এক সন্ধিক্ষণে চিন্ময় জগতের গোলক বৃন্দাবনে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চিন্তা করলেন "শ্রীমতি রাধারাণী আমার ভক্তভাবে অনন্ত সুখ প্রাপ্ত হন,যা আমার পক্ষে লাভ করা অতীব দুর্লভ।আমি সে তত্ত্বটি জানার জন্য মত্যলোকে রাধারানীর ভাব নিয়ে আবির্ভূত হব।তখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভক্ত যে ভক্তি করে, তা আমি লীলা আচরনের মাধ্যমে জগৎবাসীকে শিক্ষা দিব।উপরোক্ত এ উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করার জন্য গোলকবিহারী ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রুপে নদীয়া বা নবদ্বীপের মায়াপুরে পিতা জগন্নাথ মিশ্র থেকে মাতা শচীদেবীর গর্ভে ১৪০৬ শকাব্দের মাঘ মাসে প্রবিষ্ট হন।"

শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত,আদি.১৩/২০-২১,৭২,৮৯, ৯০ নং শ্লোক অনুযায়ী "১৪০৭ শকাব্দে অথাৎ ৮৯১ বঙ্গাব্দে, ইংরেজি ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি দোলপূর্ণিমা, সিংহ রাশি,সিংহ লগ্নে ফাল্গুন মাসের পূর্নিমা তিথি সন্ধ্যা বেলায় চন্দ্রগ্রহণ উপলক্ষে নবদ্বীপ বাসীগণ হরি হরি এরুপ ধ্বনী মুখ দিয়ে উচ্চস্বরে উচ্চারন করছিলেন, আর মায়েরা হরিধ্বনির সাথে উলুধ্বনী দিচ্ছিলেন,তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রুপে শচীদেবীর গর্ভ থেকে আবির্ভূত হন।"

💥 " নদীয়া - উদয়গিরি, পূর্ণচন্দ্র গৌরহরি।
কৃপা করি' হইল উদয়।
পাপ-তম হৈল নাশ, ত্রিজগতের উল্লাস
জগভরি' হরি হরিধ্বনি হয়।।"
- শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতঃ আদি.১৩/৯৮

পুরান শাস্ত্রের বিভিন্ন পুরানে শ্রীকৃষ্ণ যে কলিযুগে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রুপে আবির্ভুত হবেন তার ভবিষ্যৎ বাণী করা হয়েছে।এ সম্পর্কে বায়ু পুরান এবং শ্রীমদ্ভাগবত পুরান শাস্ত্রে বলা হয়েছে..

💥"দিবিজা ভুবি জায়ধ্বং জায়ধ্বং ভক্তরূপিণঃ।
কলৌ সঙ্কীর্তনারম্ভে ভবিষ্যামি শচীসুতঃ।।
কৃতে জপৈ মম প্রীতি স্ত্রেতায়াং হোম-কর্মভিঃ ।
দ্বাপরে পরিচর্য্যাভিঃ কলৌ সংকীর্ত্তনৈরপি ॥"

অনুবাদ:" হে দেবগণ, তোমরা সকলে ভক্তরূপ ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়ে হরিনাম সঙ্কীর্তন আরম্ভ করো। তোমাদের সঙ্কীর্তনে আমি শচীগর্ভ হতে জন্মগ্রহণ করবো। সত্যযুগে জপ-ধ্যান, ত্রেতাযুগে হোম, দ্বাপর যুগে পূজাদি এবং কলিযুগে সংকীর্তনের দ্বারাই আমি প্রীত হই।"

-বায়ুপুরাণঃশেষখন্ডঃঅধ্যায় ১৪, শ্লোক ২৮-২৯

💥 "কৃষ্ণবর্নং ত্বিষা কৃষ্ণং সাঙ্গোপাঙ্গাস্ত্রপাষর্দম।
যজ্ঞৈঃ সঙ্কীতর্নপ্রায়ৈযজন্তি হি সুমেধস।।"

অনুবাদঃ কলিযুগে সুমেধাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ অবিরাম কৃষ্ণ কীর্তনকারী ভগবানের অবতারকে আরাধনা করার জন্য সংকীর্তন যজ্ঞের অনুষ্ঠান করেন, যদিও তার গায়ের বর্ণ অকৃষ্ণ তবুও তিনি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। তিনি সাঙ্গ ,উপাঙ্গ , অস্ত্র ( হরিনাম) এবং অন্তরঙ্গ পার্ষদ পরিবৃত থাকবেন।

- শ্রীমদ্ভাগবত পুরান ১১/৫/৩২

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রাকৃত লীলাবিলাসের উজ্বল বর্ণনা পাওয়া যায় শ্রীচৈতন্য ভাগবত এবং শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত গ্রন্থে। ইসকন কতৃর্ক প্রকাশিত শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতের আদি লীলার 'প্রকাশকের নিবেদন' নামক অনুচ্ছেদ এবং শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, আদি.১৩/৪৬,৪৭ শ্লোক অনুযায়ী, " শ্রীচৈতন্য ভাগবত এবং শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত এ দুটি গ্রন্থের মূল ভিত্তি হল সংস্কৃত ভাষায় লিখিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর দুই অন্তরঙ্গ পার্ষদ স্বরুপ দামোদর গৌস্বামীর কড়চা এবং মুরারী গুপ্তের কড়চা থেকে।"

💥" দামোদর- স্বরুপ,আর গুপ্ত মুরারি।
মুখ্যমুখ্যলীলা সূত্রে লিখিয়াছে বিচারি।।
সেই অনুসারে লিখি লীলা- সূত্রগণ।
বিস্তারি' বর্ণিয়াছেন তাহা দাস - বৃন্দাবন।।"

-শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, আদি.১৩/৪৬,৪৭

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অন্তরঙ্গ পার্ষদ নিত্যানন্দ প্রভুর শিষ্য হলেন শ্রীল বৃন্দাবন দাস ঠাকুর। তিনি শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর আজ্ঞায় শ্রীচৈতন্য ভাগবত গ্রন্থ প্রণয়ন করেন।এ গ্রন্থে গ্রন্থাকার নিজেই সে কথা বর্ণনা করেন।

💥 অন্তর্যামী নিত্যানন্দ বলিলা কৌতুকে।
চৈতন্যচরিত্র কিছু লিখিতে পুস্তকে।।"

- শ্রীচৈতন্য ভাগবতঃ আদি.১/৮০

আর শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, আদি.৮/৪৭-৭৭ নং শ্লোকের বর্ণনা অনুসারে, " শ্রীল বৃন্দাবন দাস ঠাকুর, যিনি নিত্যানন্দ প্রভুর আজ্ঞায় শ্রীচৈতন্য ভাগবত রচনা করেন,তিনি গ্রন্থটি বৃহৎ হবে, সে ভয়ে বহুবিধ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা লিপিবদ্ধ না করে গ্রন্থের বিশ্রাম দেন।সে কারনে বৃন্দাবনবাসীগন কৃষ্ণদাস কবিরাজ গৌস্বামীকে অনুরোধ করেন,শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর যেসমস্ত লীলা বৃন্দাবন দাস ঠাকুর তার রচিত শ্রীচৈতন্য ভাগবতে আলোচনা করেন নি,তা যেন তিনি লিপিবদ্ধ করেন,যাতে করে তারা তা পাঠ করতে পারেন।বৃন্দাবনবাসীদের সে আজ্ঞাকে মস্তকে ধারন করে শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গৌস্বামী বৃন্দাবনে অবস্থিত শ্রীমদনগোপালের মন্দিরে গমন করে শ্রীমদনগোপাল বিগ্রহকে দর্শন করে, স্তবস্তুতি সহকারে তার আদেশ প্রাপ্ত হওয়ার জন্য তার কাছে আজ্ঞা প্রার্থনা করেন।সে সময় শ্রীগোবিন্দদেবের শ্রীবিগ্রহ থেকে মালা খসে পড়ে।তখন সেখানে উপস্থিত সমস্ত বৈষ্ণবগণ উচ্চৈঃস্বরে বলে উঠলেন "হরিবোল! হরিবোল!হরিবোল। তখন পূজারী গোসাঞি দাস সে মালাটি এনে শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গৌস্বামীর গলায় পড়িয়ে দিলেন।এরপর শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী গোবিন্দদেবের আজ্ঞা প্রাপ্ত হয়ে শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থ লিপিবদ্ধ করতে শুরু করেন।"...হরে কৃষ্ণ
ক্রমশঃ...

ধারাবাহিক "আমার গৌরাঙ্গসুন্দর",পর্ব ১৪৩,প্রসঙ্গে- শ্রীশ্রীগৌর পূর্ণিমা ও দোলপূর্ণিমা মহোৎসব lআজ ২৫শে মার্চ-২০২৪ খ্রীস্টা...
25/03/2024

ধারাবাহিক "আমার গৌরাঙ্গসুন্দর",পর্ব ১৪৩,প্রসঙ্গে- শ্রীশ্রীগৌর পূর্ণিমা ও দোলপূর্ণিমা মহোৎসব l

আজ ২৫শে মার্চ-২০২৪ খ্রীস্টাব্দ, ১০ চৈত্র ১৪৩০ বাঙ্গাব্দ সোমবার,
শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর হলেন বিশেষ করে এই
কলিযুগের কলিহত পতিত জীবের উদ্ধারকর্তা এবং কৃষ্ণপ্রেম প্রদাতা l

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর" ৫৩৮ তম বার্ষিক শুভ আবির্ভাব তিথি এবং দোলপূর্ণিমা উৎসব l

২৬ মার্চ মঙ্গলবার ২০২৪ খ্রীস্টাব্দ হোলি উৎসব।
পূর্ণিমা তিথি শুরু :- ২৪ মার্চ সকাল ৯ টা ৫৪ মিনিট থেকে ।
পূর্ণিমা তিথি শেষ :- ২৫ মার্চ দুপুর ১২ টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত।

উক্ত গৌর পূণির্মার শুভ তিথিতে চন্দ্রোদয় পযর্ন্ত উপবাস থেকে অভিষেক পালনীয়।

শাস্ত্র মতে ফাল্গুন পূর্ণিমা তিথিতে হোলিকা দহন করা হয়। তার পরের দিন অর্থাৎ প্রতিপদ তিথিতে হোলি খেলা হয়। এবার ২৪ মার্চ সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে। যা সমাপ্ত হবে পরের দিন ২৫ মার্চ দুপুর ১২টা ২৯ মিনিটে।

শাস্ত্র মতে দুই দিন পূর্ণিমা তিথি থাকলে প্রথম দিন যদি প্রদোষ কালে ভদ্রা মুক্ত সময়ে পূর্ণিমা পাওয়া যায়, তা হলে সে দিন হোলিকা দহন করা হয়। তার পরের দিন ২৫ মার্চ হোলি খেলা হয়। পশ্চিমবঙ্গে ফাল্গুন চতুর্দশী তিথিতে ন্যাড়া পোড়ানো ও পূর্ণিমার দিনে দোল খেলা হয়। কিন্তু তিথি গোলযোগের কারণে উদয়া তিথি মেনে ভারতের অন্যান্য অংশের মতো ২৫ তারিখই দোল উৎসব পালিত হবে এবং ন্যাড়া পোড়ানো হবে ২৪ মার্চ।
আর এবছর হোলি উৎসব পড়েছে ২৬ মার্চ।

এদিকে, হোলির সময় ফাল্গুন পূর্ণিমায় হবে চন্দ্রগ্রহণ। চন্দ্রগ্রহণের উপচ্ছায়া সকাল ১০ টা ২৪ মিনিটে শুরু হবে। আর তা শেষ হবে দুপুর ৩.০১ মিনিটে। সেই দিন চন্দ্রোদয় হবে সন্ধ্যে ৬ টা ৪৪ মিনিটে। ফলে ২৫ মার্চ দোল উৎসবের পাশাপাশি রয়েছে চন্দ্রগ্রহণ।

কৃপা পূর্বক সকলেই এই ব্রত পালন করুন এবং অন্যকে উৎসাহিত করুন,এবং মহাপ্রভুর অশেষ কৃপাশিষ লাভ করে এই দুর্লব মনুষ্যজন্ম সার্থক করুন হরিনামকে আশ্রয় করে।

দোলযাত্রা
দোলযাত্রা একটি বৈষ্ণব উৎসব। দোল উৎসবের সঙ্গে ফাল্গুনী পূর্ণিমায় আবার চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাৰ তীথি তাই একে গৌরপূর্ণিমা বলা হয়।

বহির্বঙ্গে পালিত হোলি উৎসব টির সঙ্গে দোলযাত্রা উৎসব টি সম্পর্ক যুক্ত। এই উৎসবের অপর নাম বসন্তোৎসব।

ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দোলযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

দোল পূর্ণিমা সনাতন ধর্মাবলম্বী দের কাছে একটি অতি আনন্দের উৎসব। এই উৎসব টি স্থানভেদে হোলি উৎসব, দোল পূর্ণিমা উৎসব বা গৌর পূণির্মা উৎসব হিসেবে পালিত হয়। তবে হোলি ও গৌর পূর্ণিমা একই দিনে পালিত হলেও উৎসব দুটি মূলত আলাদা।

বর্তমানে হোলি উৎসবটি সারা পৃথিবী জুড়েই সনাতনীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। আনুমানিক ৫৫০০ বছর আগে ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে ব্রজবাসী গণ তাদের প্রাণ প্রিয় পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ ও রাধা রাণীকে বৃন্দাবনে একত্রে পেয়ে সীমা হীন আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে একটি উৎসবের আয়োজন করেন। সেই উৎসবে তারা রাধারাণী ও শ্রীকৃষ্ণ কে ফুলের দোলনাতে বসিয়ে মহানন্দে দোল দেন এবং সেই আনন্দ বহু গুনে বর্ধিত হলে তারা রাধা-কৃষ্ণের চরণে বিভিন্ন বর্ণের আবির ঢেলে প্রেমানন্দের বহিঃপ্রকাশ করেন। সেই স্মৃতিকে স্মরণ করে আজও ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে রঙ্গের উৎসব হিসেবে পালিত হচ্ছে।
সেই লীলা থেকেই দোল বা হোলি খেলার উৎপত্তি হয়।

দোলযাত্রার দিন সকালে তাই রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহ আবির ও গুলালে স্নাত করে দোলায় চড়িয়ে কীর্তন সহকারে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর ভক্তেরা আবির ও গুলাল নিয়ে পরস্পর রং খেলেন। দোলযাত্রা উৎসবের দিন সকাল থেকেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে আবির, গুলাল ও বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মত্ত হয়।

এছাড়াও কথিত আছে- অত্যাচারী দৈত্যরাজা হিরণ্যকশিপুর দানবী বোন হোরিকা বা হোলিকাকে এই দিনে হত্যা করা হয়েছিল। তাই অশুভনাশের আনন্দে ব্রজবাসীগণ আনন্দ উৎসব হিসেবে এই দিনটি পালন করেন।

💜 আজ আমাদের সবার প্রেমের ঠাকুর শ্রী গৌরাঙ্গসুন্দর অর্থাৎ চৈতন্য মহাপ্রভুর আর্বিভাব তিথি 💜

এবার আসি গৌর পূর্নিমার কথায়। শ্রী গৌর সুন্দর হলেন কলি যুগের সাক্ষাৎ রাধা ও শ্রী কৃষ্ণ মিলিত তনু । কলির অধঃপতিত জীবদের করুনা করতে তিনি আবির্ভূত হলেন শ্রীধাম নবদ্বীপে আজ থেকে ৫৩৭ বছর পূর্বে, ভারতের পশ্চিম বাংলার নদীয়া জেলায় নবদ্বীপের মায়াপুরে ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দ, বাংলা ৮৯১ সালের ২৩ শে ফাল্গুন দোলপূর্ণিমা তিথিতে সন্ধ্যা বেলার পূণ্যলগ্নে চন্দ্রগ্রহণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রী জগন্নাথ মিশ্রের বাড়িতে প্রকট হোন l
এ যেন আনন্দ উৎসবে এক নতুন মাত্রা যোগ করলেন। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয়টি হচ্ছে ঐদিন সন্ধ্যায় মহাপ্রভুর আবির্ভাবের সময় হঠাৎ করে চন্দ্র গ্রহণ শুরু হয়ে যায়। অর্থাৎ পূর্ণিমার মাঝে চন্দ্র গ্রহণ। যাকে বলা হয় eclipse of full moon যা জোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল একটি সন্ধিক্ষণ। শত বছরে এক দুইবার খুবই অল্প সময়ের জন্য এই সন্ধিক্ষণ গুলো আসে। তাই আমাদের সবার প্রেমের ঠাকুর শ্রী গৌরাঙ্গসুন্দর অর্থাৎ চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মের এই রহস্যময় সময়েই দিক বিদিক আলো করে উলুধ্বনি , হরি বোল ও হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র উচ্চারণ আর শঙ্খনাদের গর্জনে শচীমাতা আর পিতা জগন্নাথ মিশ্রের ঘরে আবির্ভূত হলেন আমাদের সবার প্রেমের ঠাকুর শ্রী গৌরাঙ্গসুন্দর অর্থাৎ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ।

চৈতন্যের জন্মযাত্রা ফাল্গুনী পূর্ণিমা l
ব্রহ্মাদি এই তিথির করে আরাধনা ll
পরম পবিত্র তিথি ভক্তি স্বরপেনি l
যহি অবতীর্ণ হইলেন দ্বিজমনি ll
(শ্রী শ্রী চৈতন্য চরিতামৃত)
তাই এই অতি পবিত্র তিথি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও অত্যন্তিক মঙ্গলের দিন । এই দিনই সকল কৃষ্ণভক্ত মানুষের নয়নের মনি শচীনন্দন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি।
সে কারনেই আজকের এই পূন্য তিথিটি সকল বৈষ্ণব তথা সকল কৃষ্ণ ভক্ত মানুষদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন।

ভক্তদের হৃদয়ে চৈতন্যদেব- নিমাই, গৌরাঙ্গ, গৌররায়, গোরা, গৌর, গৌরহরি, শচীনন্দন প্রভৃতি নামে পরিচিত।
কলিযুগে বিপ্ররূপে ধরি পীতবর্ণ l
বুঝাবারে বেদগোপ্প্য সংকীর্তন ধর্ম ll
কলিযুগে সর্ব ধর্ম হরি সংকীর্তন l
সর্বপ্রকাশলেন চৈতন্য নারায়ণ ll
কলিযুগে সংকীর্তন ধর্মপালিবারে l
অবতীর্ণ হইল প্রভু সপরিকরে ll (শ্রী শ্রী চৈতন্য চরিতামৃত)

শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু কৃত
সংস্কৃত ভাষায় শিক্ষাষ্টক নামক প্রসিদ্ধ স্তোত্র যা
সমস্ত বেদ ,বেদান্ত ,উপনিষদ,পুরাণের নির্যাস তা শুদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম l শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রের দ্বারা সারা বিশ্ব জগতে অশেষ কৃপা বর্ষণ করলেন l
‘কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ং’, অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণই পরমেশ্বর ভগবান স্বয়ং, অনন্ত কোটি বিশ্ব ব্রহ্মান্ড যার ইচ্ছায় সৃষ্টি হয়েছে, প্রতিপালিত হচ্ছে। ‘গোবিন্দং আদি পুরুষং’- অর্থাৎ বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের আদি পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর পূর্বে কোন কিছুই ছিল না। এই কলিযুগে হতভাগ্য জীবদেরকে উদ্ধার করে ভগবদ্ধামে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য শ্রীকৃষ্ণ পরমেশ্বর ভগবান স্বয়ং ভক্তবেশ ধারণ করে মহাপ্রভু শ্রীচৈতণ্য রূপে আবির্ভুত হয়েছেন। শ্রীচৈতণ্য মহাপ্রভুই যে শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং তা শাস্ত্রে বহু প্রমাণ আছে।

🌿 শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র যে শচীসূতরূপে অবতীর্ণ হবেন তা ভবিষ্যৎ পুরাণেও উল্লেখ আছে-

অজায়ধ্বমজায়ধ্বজয়ধ্বং ন সংশয়ঃ।
কলৌ সংকীর্তনারম্ভে ভবিষ্যামি শচীসুতঃ।

কলিযুগ সংকীর্তন আরম্ভে আমি শচীসূতরূপে জন্মগ্রহণ করব, জন্মগ্রহণ করব, জন্মগ্রহণ করব, কলিাগে যা ধর্মনামের পাচার।

সেই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

🌿 সামবেদে বলা আছে,
‘তথাহং কৃতসন্ন্যাসো ভূগীর্বাণোহবতরিষ্যে,
তীরেহলকানন্দায়াঃ পুনঃ পুনরীশ্বরপ্রার্থিতঃ সপরিবারো, নিরালম্বো নির্ধূতঃ কলিকল্মষ-কবলিত-জনাবলম্বনায়’।

অর্থাৎ আমি সন্ন্যাস গ্রহণ করিয়া, পুনঃপুনঃ ঈশ্বর শ্রীঅদ্বৈত- প্রবর্তিত হইয়া, ভূদেবতা ব্রাহ্মণরূপে, অন্যাশ্রয় নিরপেক্ষ এবং অবিচলিতভাবে কলি-কলুষ-কবলিত জীবের উদ্ধারার্থ সপরিকর অলকানন্দার তীরে অবতীর্ণ হইব।

🌿 মার্কন্ডেয় পুরাণে-
গোলোকঞ্চ পরিত্যজ্য লোকানাং ত্রাণকারণাৎ।
কলৌ গৌরাঙ্গরূপেণ লীলা-লাবণ্য-বিগ্রহঃ।।

অর্থাৎ শ্রীভগবান লোকসমূহের ত্রাণের নিমিত্ত গোলোক পর্যন্ত পরিত্যাগ করিয়া কলিতে গৌরাঙ্গরূপে লীলা-বিগ্রহধারী করিবেন।

🌿 বরাহপুরাণে-
কলেঃ প্রথমসন্ধ্যায়াং লক্ষ্মীকান্তো ভবিষ্যতি।
ব্রহ্মরূপং সমাশ্রিত্য সম্ভবামি যুগে যুগে।।

অর্থাৎ কলির প্রথম সন্ধ্যায় লক্ষ্মীকান্ত ব্রাহ্মণরূপ আশ্রয় করিয়া আবির্ভূত হইবেন। শ্রীভগবান বললেন, আমি যুগে যুগে আবির্ভূত হই।

গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতানুসারে, ভাগবত পুরাণের শেষের দিকের শ্লোকগুলিতে রাধারানির ভাবকান তি সংবলিত শ্রীকৃষ্ণের চৈতন্য রূপে অবতার গ্রহণের কথা বর্ণিত হয়েছে।

“ভগবান তপ্তকাঞ্চনের মতো অঙ্গকান্তি ধারণ করে (গৌরসুন্দর রূপে) অবতীর্ণ হবেন। তাঁর সুন্দর রূপ তপ্ত কাঞ্চনের মতো এবং চন্দনে চর্চিত। তিনি সন্ন্যাস-আশ্রম অবলম্বন করে কঠোরভাবে আত্মসংযমী হবেন এবং মায়াবাদী সন্ন্যাসীদের মতো নির্বিশেষ বাদী না হয়ে তিনি ভগবৎ-ভক্তিতে নিষ্ঠাপরায়ণ হবেন এবং সংকীর্তন আন্দোলনের সূচনা করবেন।"

পরে সার্বভৌম ভট্টাচার্য মহাপ্রভুকে সাতদিন ধরে বেদান্ত-দর্শন শ্রব করিয়েছিলেন। মহাপ্রভু তার ভ্রান্ত নির্বিশেষপর মায়াবাদী ব্যাখ্যা খণ্ডন করে বেদান্তের নির্ভুল সবিশেষ তত্ত ব্যাখ্যা করলেন এবং পরিশেষে তাঁকে ষড়ভুজরূপে দর্শন দান করে এক মহান ভক্তরূপে পরিণত করলেন।

সার্বভৌম ভট্টাচার্য মহাপ্রভুর কৃপা প্রাপ্ত হয়ে তাঁকে একশো শ্লোকদ্বারা বন্দনা করেছিলেন।
সার্বভৌম ভট্টাচার্যের মতো অনেকেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুই যে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তা জানতে পারেননি। কারণ ভগবানের কৃপা ছাড়া ভগবানকে জানা যায় না।

🌿 শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র যে শচীসূতরূপে অবতীর্ণ হবেন তা ভবিষ্যৎ পুরাণেও উল্লেখ আছে-

অজায়ধ্বমজায়ধ্বজয়ধ্বং ন সংশয়ঃ।
কলৌ সংকীর্তনারম্ভে ভবিষ্যামি শচীসুতঃ।

কলিযুগ সংকীর্তন আরম্ভে আমি শচীসূতরূপে জন্মগ্রহণ করব, জন্মগ্রহণ করব, জন্মগ্রহণ করব, কলিাগে যা ধর্মনামের পাচার।

সেই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

🌿 শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে (আদি ৩/৪০ ) উল্লেখ আছে...

কলিযুগে যুগধর্মনামের প্রচার।
তথি লাগি' পীতবর্ণ চৈতন্যাবতার।।

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যখনই অবতীর্ণ হন, তখনই তিনি নবদ্বীপের অন্তদ্বীপে অন্তর্গত এই শ্ৰীধাম মায়াপুরে শচীমায়ের গর্ভে অবতীর্ণ হন।

তবে শ্রীকৃষ্ণের মতো তিনিও প্রতি কলিযুগে অবতীর্ণ হন না।

তিনি ব্রহ্মার দিবসে অর্থাৎ এক হাজার চতুর্যুগের মধ্যে একবার মাত্র অবতীর্ণ হন।

সেই সম্বন্ধে শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃতে (আদি ৩/১০) উল্লেখ করা হয়েছে-

অষ্টাবিংশ চতুর্যুগে দ্বাপরের শেষে।
ব্রজের সহিত হয় কৃষ্ণের প্রকাশে।।

”বৈবস্বত মন্বন্তরের অষ্টাবিংশ চতুর্যুগের দ্বাপরের শেষভাগে কৃষ্ণ নিজে ব্রজতত্তের সমস্ত উপকরণ সহ প্রকাশ পান।"

সেই প্রকার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুও দ্বাপরের পরেই কলিতেই অবতীর্ণ হন। তিনি এসে কি করেন? অনর্পিত বস্তু প্রদান করেন, যা ভগবানের অন্য কোন অবতার ইতিপূর্বে প্রদান করেননি। চৈতন্য মহাপ্রভুর পূর্বাশ্রমের নাম গৌরাঙ্গ বা নিমাই। তাঁর গাত্রবর্ণ স্বর্ণালি আভাযুক্ত ছিল বলে তাঁকে গৌরাঙ্গ বা গৌর নামে অভিহিত করা হত।

অন্যদিকে নিম বৃক্ষের নিচে জন্ম বলে তাঁর নামকরণ হয়েছিল নিমাই।

ষোড়শ শতাব্দীতে চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনী সাহিত্য বাংলা সন্তজীবনী ধারায় এক নতুন বৈপ্লবিক
যুগের সূচনা ঘটিয়েছিল। সেযুগে একাধিক কবি চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনী অবলম্বনে কাব্য রচনা করে গিয়েছেন। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীরচৈতন্য চরিতামৃত, বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের চৈতন্য ভাগবত, এবং লোচন দাস ঠাকুরের চৈতন্যমঙ্গল l

যুগ ধর্ম হরিনাম সংকীর্তন প্রবর্তক এবং হরিনাম মহামন্ত্র দাতা শ্রী আমাদের গৌরাঙ্গসুন্দর চৈতন্য মহাপ্রভু ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি দোলপূর্ণিমার রাত্রে চন্দ্রগ্রহণের সময় নদিয়ার অন্তর্ভুক্ত মায়াপুরে অতি উচ্চ ব্রাহ্মন পরিবারে আবির্ভূত হন। তাঁর পিতা-মাতা ছিলেন অধুনা পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার অন্তর্গত নবদ্বীপের অধিবাসী জগন্নাথ মিশ্র ও শচী দেবী। গৌরাঙ্গসুন্দর চৈতন্য মহাপ্রভু পূর্বপুরুষেরা ছিলেন ওড়িশার জাজপুরের আদি বাসিন্দা। তাঁর পিতামহ মধুকর মিশ্র ওড়িশা থেকে বাংলায় এসে বসতি স্থাপন করেন। গৌরাঙ্গসুন্দর চৈতন্য মহাপ্রভুর পিতৃদত্ত নাম ছিল বিশ্বম্ভর মিশ্র। প্রথম যৌবনে তিনি ছিলেন স্বনামধন্য পণ্ডিত। তর্কশাস্ত্রে নবদ্বীপের নিমাই পণ্ডিতের খ্যাতি ছিল অবিসংবাদিত l
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর ভবিষ্যৎবাণী :-
পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম l
সর্বত্র প্রচার হইবে মোর নাম ll

এই ভবিষ্যৎবাণীকে বর্তমান গৌড়ীয় বৈষ্ণব জগতের আচার্য ভাস্কর ও সমগ্র জগতের
শ্রী চৈতন্য মঠ গৌড়ীয় মঠের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য সিংহ গুরু শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর জগত গুরু প্রভুপাদ তার সমস্ত শিষ্য বর্গের দ্বারা বাস্তবায়িত করেছেন l এবং তার সমস্ত শিষ্য বর্গের মধ্যে অন্যতম হলেন ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য এবং সারা বিশ্বব্যাপী গৌরবানী প্রচারক
শ্রীল অভয়চরণাবৃন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ l অতএব শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর চৈতন্য মহাপ্রভুকে সঠিকভাবে বুঝতে গেলে ও তাঁর কৃপা পেতে হলে তারই কৃপাধন্য সমস্ত গৌড়ীয় গুরুবর্গ বা আচার্য বর্গের থেকে সঠিকভাবে আচারিত এবং অপ্রচারিত কথা শ্রবণ করতে হবে l
ও তাদের সেবা করতে হবে l
চৈতন্য সিংহের নবদ্বীপে অবতার l
সিংহগ্রীব,সিংহ বীর্য , সিংহের হুংকার ll
সেই সিংহ বসুক জীবের হৃদয় কি কন্দরে l
কল্মষ-দ্বীরোদ নাশে যাহার হুংকারে ll
(শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত)
আসুন আমরা সবাই মিলেমিশে বলি --
জয় শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ l
সবাই এই মহামন্ত্র জপ ও কীর্তন করি --
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ll
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ll
জয় পতিতপাবন শচীনন্দন ও জগন্নাথসূতো গৌরাঙ্গসুন্দর ভগবান কি! হরে কৃষ্ণ!
ক্রমশঃ...

Address

Bhaktibhavan, Narajole, Paschim Medinipur
Daspur
721211

Telephone

+918420904322

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Radha Madan Mohan Jiu,Narajole,India posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share