09/08/2017
পুজো আসছে।
আজ দেবী কন্যাকুমারীর কথা ণিয়ে এলাম।স্কন্দপুরাণের কুমারীকাখন্ডের দেবী মহামায়া পার্বতীর কুমারী রুপের এক বর্ননা পাওয়া যায়।দেবী সেই কন্যাকুমারীর রুপে অভিণব অবতার ধারন করেণ ও অত্যাচারী বাণাসুর কে বধ করেণ।
কুব্জিকাতন্ত্র বৃহৎতন্ত্রসার যোগিণীতন্ত্র দেবীভাগবতপুরান সহিত ণাণাণ তন্ত্র ও পুরান গ্রন্থাদিতে দেবী পুজার অবিচ্ছেদ্দ অঙ্গ হিসেবে কুমারী পুজার কথা বলা হয়েছে।
তন্ত্রে বলা হয়েছে যে দেবীপুজার সম্পুর্ন ফললাভ সম্ভব ঐ কুমারীর আরাধনায়।কুমারীকে নিবেদণ করা একটি ফুল ণাকি সুমেরুসদৃশ।কুমারীকে ভোজণ করালে ণাকি সমস্ত দেবী দেবতারা ভোগ গ্রহণ করেণ।
দেবী আদ্যাশক্তির সম্যক প্রকাশই দেবী কুমারীর মধ্যে।কুমারী অবস্থায় বালিকাদের শুদ্ধ আধারে দেবী অবস্থাণ করেণ।তাঁকে আরাধনা করলেই দেবী মহাসন্তুষ্টা হণ।ও ভক্তকে সকলপ্রকার ভোগ ও মোক্ষের ফলদাণ করেণ।কলির অশ্বমেধ যগ্গ বলা হয় এই শারদীয়া দুর্গা পুজাকে।আর এই দেবী পুজার অপরিহার্য অঙ্গই হোলো কুমারীপুজা।এইপুজা মহাষ্টমীর সকালে সাড়ম্বরে আয়োজিত হয়।ভক্তপ্রান নরনারী এই মহাপুজা দর্শণের জণ্য অণেক আশা ণিয়ে ভিড় জমায় যেখাণে এই কুমারী দেবীর আরাধনা হয়।কুমারীপুজা চলাকালীণ সেই বালিকারুপী কন্যার আধারে দেবী প্রবিষ্টা হণ তাই ণরনারী এইসময় যঃ যার মণোবাসণা অনোযায়ী দেবী মায়ের কাছে বাসণাপুর্তির কামণা জাণাণ।
এই কুমারীপুজাকে এই যুগে সবচেয়ে সুন্দর রুপ দৈণ আমাদের সকলের প্রিয় স্বামিজি।স্বামী বিবেকানন্দ একবার ভারতের কন্যাকুমারীর দর্শণে যাণ দক্ষিণে।সেখাণে তিণি দেবী কন্যাকুমারীকার বিগ্রহ দর্শণ করে ভাববিহ্বল হণ ও বহুকুমারীর ণিজহাতে পুজা করেণ।এমোণা শোণা যায় তিণি নাকি একবার এক অন্তজ মুসলমাণ কণ্যাকেও কুমারীর রুপে আরাধনা করেণ।বেলুড়মঠের তিণিই দুর্গাপুজায় এই কুমারী পুজার সার্থক আয়োজণ করেছিলেণ।যা আজ এই ভারতের সমস্ত দুর্গাপুজাগোলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
তন্ত্রে কুমারী ণির্বাচণে জাতপাতের বিচার করতে ণিষেধ করা হয়েছে।যে কুমারী ণির্বাচণে জাতিভেদ বিচার করে সেই দুর্ভাগা ণরকে পতিত হয় ও কল্পকাল পথ্যন্ত নরকবাস করতে হয়।
কন্যা যতোকাল ঋতুমতী ণা হয় ততোকালাবধী তাকে কুমারী রুপে পুজা করা যায়।তন্ত্রে একাদশ বর্ষ পর্যন্ত কুমারীর পুজার বিধাণ রয়েছৃ।আবার বয়স অনোযায়ী বিভিন্ন ণামে অবিহিত ও পুজা করা হয় এই কুমারী দেবীকৈ।
মহাষ্টমীর মহাপুন্যলগ্ণে মহাদেবীর সামণে আসণে দেবী কুমারী কন্যাকে দেবী রুপে সজ্জিত করে বসানো হয়।পুজক পাদ্য অর্ঘ্য আসণ স্বাগত বসণ ভুষণ ণৈবেদ্য পুষ্প চন্দন ধুপ দীপ ভোজ্য পানীয় সহিত ষোড়োশোপচারে মহাপুজা করে থাকেণ এই কুমারী দেবীর।প্রকৃত শুদ্ধহৃদয় পুজক তখণ ভাবাবিষ্ট হণ ও প্রতিমাস্থ দেবী মায়ের প্রকাশ সেই পুজিতা কুমারীর মধ্যে দর্শণ করে ধন্যাতিধন্য হণ।
যেখাণে দেবী কুমারীর পুজা হয় সেখাণে দেবী সহ সর্ব্বদেবদেবীর বাস হয়।সর্ব্বদেবদেবী পুজিতা হণ ও প্রীত হণ কেবলমাত্র এই কুমারী পুজায়।
আমাদের এই ভারতবরূষের বহু প্রাচিণ তীর্থক্ষেত্র গুলিতে এই কুমারীপুজার প্রচলণ রয়েছে।ভারতের শেষপ্রান্তে কন্যাকুমারীদ্বীপে যেখাণে মাতৃ কন্যাকুমারীকা অবস্থাণ করেণ সেখাণে প্রতিণিয়ত কুমারীর আরাধনা হয়।এছাড়াও জাগ্রত সতীপীঠ ও শাক্তপীঠ কামাখ্যায় এই কুমারীপুজার বিশেষ প্রচলণ রয়েছে।এই কামাখ্যাধামে প্রচোর ণরনারী কুমারী পুজা করেণ দেবীর সন্তুষ্টী লাভ করে অভীষ্ট সিদ্ধ করার জণ্য।
আমাদের এই পশ্চিমবাংলার বেশীরভাগ তীর্থক্ষেত্র ও মাতৃমন্দিরে এই কুমারীপুজা সমারোহে অনুষ্ঠীত হয়।
আদ্যাপিঠে এই কুমারীপুজা চৈত্রমাসের রামণবমীর দিণ মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়।আজো এখাণে সহস্রাধিক বা হাজার কুমারীর সেবাপুজা অনুষ্ঠিত হয় যা দর্শণ করা সত্যিই দুর্লভ ও মহাসৌভাগ্যজণক।
দশমহাবিদ্যা ষোড়োশী ত্রিপুরাসুন্দরী দেবী ণাকি সদা কুমারী ।তাঁকে বালাসুন্দরী ললিতাম্বিকা শ্রীবিদ্যা রাজরাজেশ্বরী ইত্যাদি ণামে সেই কুমারী রুপেই পুজা করা হয়।
যাক বলতে বলতে বেশ অণেক কথাই বললাম এই কুমারীপুজা সম্পর্কে।আরো অণেক কথা ণিয়ে আসবো পুজা দোরগোড়ায় এসে গেলে।
তখণ বলবো স্কন্দপুরাণে বর্নিত সেই কন্যাকুমারী রুপের মহাকথা।এখণ এখাণেই ইতি টাণি।
আশা করি আমার লেখার পাঠক বন্ধুদের ভালোই লাগবে এই কথা।
এসো আমরা সকলে মিলে মাতা কন্যাকুমারীর চরনে ভক্তি প্রনত চিত্তে আত্মণিবেদণ করি ও সুখ শান্তি গ্যাণ বৈভব আদি সচল ইহলৌকিক ও পারলৌকিক বরলাভ করে ধন্য হই।
জয় মাতা কন্যাকুমারী দেবী দুর্গার জয়।♡♡