29/08/2026
রানাঘাটের রণা ডাকাত ও সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির এর গল্প :-
-----------------------------------------------------------------------------------
▪️আজ থেকে পাঁচশো কি ছ'শো বছর আগেকার কথা। আজ বাংলার নদীয়ার যে অঞ্চলটাকে সবাই রানাঘাট বলে চেনে, সেই সময় এই জায়গার নাম ছিলো ব্রহ্মডাঙা।
তবে সেই ব্রহ্মডাঙার নাম কিকরে রানাঘাট হল, তা জানতে নিশ্চয়ই কৌতূহল হচ্ছে। বলছি সে গল্প। তখনকার ব্রহ্মডাঙা ছিলো বন জঙ্গলে পরিপূর্ণ এক এলাকা৷ লোকবসতি প্রায় নেই বললেই চলে। আর এই ব্রহ্মডাঙ্গার পশ্চিম দিক দিয়ে আজও বয়ে চলেছে চূর্নি নদী।
▪️বাংলাদেশের কুষ্ঠিয়া জেলায় পদ্মা নদী থেকে মাথাভাঙা নদী উৎপন্ন হয়ে নদীয়া জেলার মাজদিয়াতে এসে দুভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একটি শাখার নাম হয়েছে ইচ্ছামতী নদী। আরেকটি শাখা চূর্নী নদী নাম নিয়ে হাঁসখালি, বীরনগর, আড়ংঘাটা, রানাঘাট হয়ে ভাগীরথী নদীতে গিয়ে মিশেছে। এই নদীর মাধ্যমে কলকাতা থেকে নদীয়া জেলার বিভিন্ন জায়গা ছাড়াও বাংলাদেশের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ছিলো। ফলে এই নদী দিয়ে বড়ো পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী নৌকো চলাচল করতো, কিন্তু দলবেঁধে। কারণ ডাকাত ও জলদস্যুদের ভয়ে। সেইসময় এই ব্রহ্মডাঙ্গায় ছিলো এক ভয়ংকর ডাকাতের ডেরা। নাম তার রণা বা রাণা ডাকাত।
ভালো নাম ছিলো রণজিৎ বিশ্বাস। চাষীর ছেলে। অভাবের সংসারে দুবেলা আহার জুটতো না। দিন কাটতো খুব কষ্টে। তাই বড়লোকদের বিলাসবহুল জীবন যাপন দেখে তার খুব রাগ হতো। মনে মনে তাদের প্রতি একটা বিতৃষ্ণা, ঘৃণা জন্মায়। তার মনে হয় গরীবের টাকাতেই তারা বড়লোকগিরি করে। তাই এই তীব্র ঘৃণা আর বিদ্বেষ থেকে পরবর্তী কালে সে হয়ে উঠেছিলো এক দুর্ধর্ষ ডাকাত। তার ভয়ে তখনকার নদীয়া ও তার পার্শ্ববর্তী বিশাল এলাকার মানুষজন ভয়ে কাঁপতো। রণ ছিলো সুদখোর মহাজন ও অত্যাচারী জমিদারদের কাছে আতঙ্কস্বরূপ। শোনা যায় বীরনগরের জমিদার হরিনারায়ণের সাথে ছিলো তার চরম শত্রুতা। একবার রণা ডাকাত নাকি দুর্গাপুজোর সময় তার দলবল নিয়ে গিয়ে তার দুর্গামূর্তি তুলে নিয়ে এসেছিলো। এমনই ছিলো তার প্রতাপ।
▪️এছাড়া চূর্নী নদী দিয়ে পণ্যবাহী বা যাত্রীবাহী নৌকোতে ডাকাতি করা বা আশেপাশের বিত্তবান মানুষের বাড়িতে ডাকাতি করাই ছিলো তার কাজ। জঙ্গলের মধ্যে গাছের ওপর মাচা বেঁধে রণা ডাকাতের লোকজন সেখান থেকে নজরদারি চালাতো চূর্নী নদীর ওপর। তাছাড়া রণপার সাহায্যেই রণা বা রাণার ডাকাতদল এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় খুব দ্রুত চলাফেরা করতে পারতো। কারো কারো মতে রণপা চড়ে ডাকাতি করতে যেতো বলেই নাকি তার নাম রণা বা রাণা ডাকাত হয়েছিলো। এসবই শোনা কথা। রণা ডাকাতকে নিয়ে এইরকম অনেক কথা রানাঘাট তথা নদীয়ার মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
তবে রণা বা রাণা ডাকাত এমনিতে ভয়ংকর হলে কি হবে সে ছিলো ধনীর শত্রু আর গরীবের বন্ধু। তার প্রাণে দয়া মায়ার অভাব ছিলো না। সে যে কত গরীব মানুষের উপকার করেছে তার ইয়ত্তা নেই। গরীব মানুষের কাছে সে ছিলো ভগবান তুল্য।
▪️কারো কারো মতে এই রণা বা রাণা ডাকাতের নামেই এই জায়গার নাম হয় রণার ঘাট, রানার ঘাট, পরবর্তীতে রানাঘাট। এখানে আরেকটা কথা বলে রাখি,
কারো মতে নদীয়ার রাজবাড়ীর কোনো রানীর বাপের বাড়ী ছিলো এই রানাঘাটের নোকারিতে। তো রানী যখন বাপের বাড়িতে আসতেন তখন চূর্নী নদীর এই অঞ্চলের কোনো ঘাটে স্নান করতেন। সেই থেকে রানীর স্নানের ঘাট যা ক্রমশ পরবর্তীতে রাণির ঘাট, অপভ্রংশ হয়ে রানাঘাট নামে পরিচিতি লাভ করে।
▪️যাইহোক আমরা ফিরে যাই রণা বা রাণা ডাকাতের কথায়। বাংলার আরও অন্যান্য ডাকাতদের মতন সেও ছিলো কালীভক্ত। ওই ব্রহ্মডাঙ্গা জঙ্গলে তার ডেরার মধ্যে সে পর্নকুটিরে মা কালীর পুজো করতো। এবং আমরা যেরকম গল্প ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, যে, ডাকাতি করতে যাবার আগে সব ডাকাতরাই যেমন মায়ের পুজো করে তবে ডাকাতি করতে যেতো। রণা বা রাণা ডাকাতও তার ব্যতিক্রম ছিলো না। পুজোতে পশুবলি থেকে নরবলি পর্যন্ত দিতো।
মন্দিরের বর্তমান পূজারী পলিন গাঙ্গুলী মহাশয়ের সাথে কথা হচ্ছিলো। তাঁর কাছ থেকেই অনেক তথ্য পেলাম। রণা বা রাণা ডাকাতের পর থেকেই এই গাঙ্গুলী পরিবারই বংশ পরম্পরায় মায়ের পুজো করে আসছেন। তাঁকে তাঁর বয়স জিজ্ঞাসা করাতে বললেন, আমার বয়স ৬২ বছর, এবার বুঝে নিন। আলাদা করে বোঝার কিছু ছিলো না। ওনার বক্তব্যেই বুঝে গেলাম যা বোঝার।
▪️ওনার মুখ থেকে শুনলাম ওনাদের পূর্বপুরুষ কোনো এক মহিলা এই রণা বা রাণা ডাকাতের মন্দিরে পুজো দিতে আসতেন, তাঁর মায়ের প্রতি ভক্তি দেখে রণা ডাকাতের ভালো লেগে যায় তখন রণা ডাকাত তাদের পরিবারের হাতে পুজোর ভার সমর্পণ করে এই স্থান ত্যাগ করে চলে যায়। ( যদি পলিনবাবুর কথা সত্যি বলে ধরে নিই, তাহলে এমনও হতে পারে তখন রণা ডাকাত বৃদ্ধ হয়ে পড়েছে, ডাকাতি করার মতন মন বা শরীর তখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তাই সে তাঁর পরম আপন মায়ের পুজোর ভার তার মতে যোগ্য লোকের হাতে তুলে দিতে পেরে নিশ্চিন্ত মনে ডাকাতি ছেড়ে, এই স্থান ছেড়ে চলে গেছে অন্য জায়গায়। যেখানে সে অন্য মানুষ হিসেবে বাঁঁচবে। অন্য পরিচয়ে বাঁঁচবে। তবে এটা আমার কল্পনা মাত্র। )
▪️অন্য একটা মতে, রণা ডাকাত তার ছোটো বোন নয়নতারার কাছে ভাইফোঁটার দিন ফোঁটা নিতে গিয়েছিলো কুমুলিয়া গ্রামে। রণা ডাকাতের শত্রুর অভাব ছিলো না। তার শত্রুপক্ষের কাছে সে খবর পৌঁছে যায়। তারা ঘিরে ধরে তার বোনের বাড়ি। তাদের গুলিতেই মারা যায় রণা ডাকাত।
পূজারী পলিন বাবু বলছিলেন তাঁর হিসেব অনুযায়ী এই পুজো তাদের হাতেই আছে ৪৯৫ বছর৷ এই সিদ্ধেশ্বরী মা এতটাই জাগ্রত এতোই তার মহিমা যে শুধুমাত্র স্থানীয় মানুষজন নন, বহু দূরদূরান্ত থেকে মানুষেরা আসেন পুজো দিতে, কেউ সাধারণ পুজো দিতে,কেউ মানত করতে আবার কেউবা মানত পূরণ হলে পুজো দিতে আসেন।
আমি যখন পলিন বাবুর সাথে কথা বলছিলাম, তখন এক অল্পবয়সী মহিলা, বছর ত্রিশের নীচেই হবে তার বয়স, তিনি মন্দিরে পুজো দিতে এসে মাকে সোনার চেন দিলেন।
কারণ জিজ্ঞাসা করায় বললেন, না আমার কোনো মানত ছিলো না। আমার বিয়ে হয়েছে, সন্তানের মা হয়েছি, সম্প্রতি আমরা একটা জমি কিনেছি, কিছুদিনের মধ্যেই বাড়ির কাজ শুরু করার ইচ্ছে আছে, তাই মাকে দিলাম৷ মা আমাদের এত মনোবাঞ্ছা পূরণ করেছেন, এই ইচ্ছেটাও মা নিশ্চয়ই আমাদের পূরণ করবেন৷ বুঝতে পারলাম, এনাদের মায়ের প্রতি কতটা ভক্তি, কতটা বিশ্বাস আর কতটা আস্থা আছে। ইনি তো একটা উদাহরণ মাত্র। এইরকম কতশত মানুষজন আছেন৷
▪️পলিন বাবু বলছিলেন, আগে এই মূর্তি ছিলো মাটির। পরবর্তী কালে তাদের এক পূর্বপুরুষের গুরুদেব বালানন্দ ব্রহ্মচারীর পরামর্শে কাশী থেকে কষ্টিপাথরের এই মূর্তি তৈরি করে আনা হয়। তারপর থেকে এই মূর্তিতেই পুজো হচ্ছে।
আগে মায়ের পুজোতে বলি হতো। প্রায় পঞ্চাশ, ষাটটার মতো পাঁঠা বলি হতো। প্রতি অমাবস্যায় তো বলি হতোই এমনকি শনি, মঙ্গলবারেও বলি হতো তাও পাঁচ সাতটা করে । কিন্তু একটা ঘটনার পর বলি বন্ধ হয়ে গেছে।
▪️পলিনবাবু বলছিলেন, এই মন্দিরে প্রতি বছর বাসন্তি পুজো হয়। সেই বাসন্তী পুজোতে আখ, চালকুমড়ো ইত্যাদি বলি হতো। ১৯৯৭ সালে পুজোর দিন বলি দিতে গিয়ে দেখা যায়, যে, বলির জন্য যে যে ফল আলাদা করে রাখা হয়েছিলো সব কালো হয়ে গেছে, অর্থাৎ সব ফল পচে গেছে। পচা ফল তো আর বলি দেওয়া যায় না। ধরে নেওয়া হলো যে, মা বলি চাইছেন না। নাহলে টাটকা ফল এভাবে হঠাৎ করে সব পচে যাবে। একটা অশুভ ঈঙ্গিত পাওয়া গেলো। সবার মনেই কু গাইতে লাগলো। মা নিজেই যখন আর বলি চাইছেন না, তখন আর কেন বলিপ্রথা থাকবে। তাই সেই বছর থেকেই সমস্তরকম বলি বন্ধ হয়ে গেলো।
রণা ডাকাতের পূজিতা মা কালীই এখন মা সিদ্ধেশ্বরী রূপে পূজিতা হচ্ছেন। তবে সে মূর্তি দিয়ে পুজো করতো নাকি মা'কে অন্য কোনো রূপে পুজো করতো তাই নিয়ে বিতর্ক আছে।
▪️আর এই মন্দির প্রতিষ্ঠার তারিখ যেটা জানালেন পলিনবাবু, তা হলো, ১৩ ই ফেব্রুয়ারী, মাঘ মাসের সংক্রান্তির দিন। ওই দিন বিশেষ পুজো হয়। এছাড়া নিত্যপুজো ছাড়াও শনি ও মঙ্গলবারে এবং প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পুজো হয়। বর্তমানে শ্বেতপাথরের দুই ধাপ বিশিষ্ট, পাঁচ কোণযুক্ত পঞ্চমুণ্ডীর আসনের ওপর দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠিতা। মায়ের মূর্তি কষ্টিপাথরের হলেও, মহাদেবের মূর্তি শ্বেতপাথরের। প্রতি বছর দেবীর অঙ্গরাগ হয়। দেবীর নাম সিদ্ধেশ্বরী হলেও দেবী এখানে দক্ষিণাকালী রূপে পূজিত হন। দেবী মুণ্ডমালিনী। দেবীর বাঁহাতে ইস্পাতের খড়গ, নীচের হাতে নরমুণ্ড। ডান হাতে বরাভয়ের মুদ্রা, নীচের হাতে রক্তপদ্ম। মূর্তির উচ্চতা প্রায় তিন ফুটের মতো হবে। দেবী এখানে যেমন একদিকে শান্ত আবার অন্যদিকে ভয়ংকরী।
▪️মাকে ফলমূল দিয়ে তো পুজো দেওয়া হয়ই তার সাথে দুবেলা ভোগ দেওয়া হয় সাধারণ দিনে। বিশেষ বিশেষ দিনে, তিন বার ভোগ দেওয়া হয়। মা'কে আমিষ ভোগও দেওয়া হয়ে থাকে। এই যেমন আমি যেদিন গিয়েছিলাম কালীপুজোর দিন, সেদিন মা'কে তিনবার ভোগ দেওয়া হবে।
একটা মতে, বোনের বাড়িতে রণা ডাকাতের মৃত্যুর পর তার ডাকাতদল ভেঙে যায়, এবং তার পূজিতা মায়ের মূর্তি অনাদরে অবহেলায় এই জঙ্গলের মধ্যেই পড়ে থাকে। পরবর্তী কালে কোনো এক সময়ে নদীয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র স্বপ্নাদেশ পান যে, রানাঘাটের এই অঞ্চলে, জঙ্গলের মধ্যে মা অনাদৃত, অবহেলিত হয়ে পড়ে রয়েছেন। তিনি যেনো তাকে উদ্ধার করে তার পুজোর ব্যবস্থা করেন। স্বপ্নাদেশ পেয়ে কৃষ্ণচন্দ্র এখানে এসে মা'কে উদ্ধার করে, আজ যেখানে মায়ের মন্দির, সেই জায়গাটাকে পরিষ্কার করে, সেখানেই মাটির ঘরে মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। এবং স্বপ্নাদেশ পেয়ে কৃষ্ণনগর থেকে এক ব্রাহ্মণ পরিবারকে নিয়ে এসে মায়ের পুজোয় নিয়োজিত করেন। এবং মায়ের নিত্যপুজোর জন্য বেশ কিছু জমি দেবোত্তর সম্পত্তি করে দেন।
পলিন বাবু বলছিলেন, মায়ের মূর্তি এক সময়ে মাটির ছিলো, পরবর্তীতে মূর্তি জীর্ণ হয়ে পড়ায় মূর্তি বদলাতে হয়েছিলো। সে গল্প আগে বলেছি।
▪️তবে আর একটি মতে ব্রিটিশ শাসনকালে এক সাহেব রাত্রিকালে প্রাণভয়ে মন্দিরে প্রবেশ করে নিজেকে বাঁচিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি মা'কে স্পর্শ করে ফেলায় মূর্তি অশুচি বা অশুদ্ধ হয়ে যায়। তখন পূজারীগণ মায়ের ওই মূর্তিকে শুধু পুজো করতে অসম্মত হন তাই নয়, তারা মায়ের মূর্তিকে চূর্নী নদীর জলে বিসর্জন দেন, এবং মাটির মন্দিরটিও ভেঙে ফেলেন।
▪️এরপরে পূজারীদের চেষ্টায় স্থানীয় জমিদার পাল চৌধুরী বংশের এক কর্তা এবং স্থানীয় আরও দু একজন সম্ভ্রান্ত মানুষের সহযোগিতায় কাশী থেকে কষ্টিপাথরের মূর্তি ( যে মূর্তি এখন মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত) এনে, আজ যেখানে সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দির রয়েছে ঠিক সেখানেই চাঁদনি আকৃতির মন্দির নির্মান করে দেন। সেই থেকে মা যেহেতু সিদ্ধিদাত্রী তাই মায়ের নাম সিদ্ধেশ্বরী হয়ে যায়। এছাড়া মায়ের মন্দিরের ভেতরে তারের জালিতে প্রচুর প্ল্যাস্টিকের টুকরো সুতো দিয়ে বাঁধা রয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে মায়ের কাছে মনস্কামনা করেই এই সুতো বাঁধা রয়েছে।
▪️পরবর্তী কালে মায়ের মন্দিরের গায়েই মহাদেবের মন্দির এবং মায়ের গর্ভগৃহের সামনে নাটমন্দির নির্মিত হয়। শোনা যায় নাটমন্দির তৈরির সময় ওখানে একটি বিশাল বট গাছ ছিলো। কারো মতে ওই বটগাছের তলাতেই রণা ডাকাত মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করতো। তাই ভয়ে কেই ওই গাছ কাটতে সাহস পাচ্ছিলো না। আবার গাছটি না কাটলে নাটমন্দিরও তৈরি করা যাচ্ছে না। উভয়সংকট। সে সময় স্থানীয় একব্যক্তি সাহস করে গাছটি কাটতে এগিয়ে আসেন। তিনি ছিলেন নিঃ সন্তান এবং খুব সাধারণ ঘরের মানুষ। তিনি গাছটি কাটার পরে তৈরি হয় নাটমন্দির। এবং কি আশ্চর্য এরপরই মানুষটির ভাগ্য খুলে যায়। প্রচুর ধন সম্পত্তির মালিক হন। এবং একাধিক পুত্র সন্তানের জনক হন। এইরকমই সব নানা কিংবদন্তী জড়িয়ে আছে এই মন্দিরের সাথে। তাই সাধারণ মানুষের কাছে সিদ্ধেশ্বরী মা অত্যন্ত জাগ্রত।। মায়ের মহিমা অপার।
▪️মানুষের দানে মন্দিরের পুজোর কাজ অতিবাহিত হলেও সরকার থেকে কিছু সাহায্য করা হয়ে থাকে।
মায়ের মন্দির একেবারে সাদামাটা। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই যে ভেতরে রানাঘাটের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সিদ্ধেশ্বরী বিরাজমান। বর্তমানে মায়ের মন্দিরের সামনে অর্থাৎ দক্ষিন দিক এবং পূর্ব দিকে রাস্তা থাকলেও মায়ের মন্দিরের তিনদিকেই রয়েছে বাড়িঘর, একেবারে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে। যা খুব বিসদৃশ লাগে৷ মন্দিরের চারপাশটা খোলামেলা হলে ভালো লাগতো। বাইরের দিকে রাস্তার ধারে একটা পুজোর উপকরণের দোকান আছে। একমাত্র ওই দোকানটা দেখলেই বোঝা যায় ভেতরে কোনো মন্দির আছে। রণা ডাকাতের নাম এবং সিদ্ধেশ্বরী মায়ের এতই মাহাত্ম্য যে, আজও রণা ডাকাত, সিদ্ধেশ্বরী মাতা এবং রানাঘাটের নাম একসাথে পাশাপাশি লোকের মুখে মুখে ফেরে।
🔸🔸 ব্যক্তিগত উপলব্ধি এবং ঋণ স্বীকার :- শ্রী সমীরণ চন্দ্র বণিক মহাশয়।
💫 টিম কালীকথা। KALI KATHA 💫