মাতৃশক্তি - MATRI SOKTI

মাতৃশক্তি - MATRI SOKTI Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from মাতৃশক্তি - MATRI SOKTI, samabaya nagore, Chinsurah.
(2)

বাংলার সনাতন শক্তিক্ষেত্র এবং কালীক্ষেত্র সম্পর্কে সঠিক দিশা দেখানো আমাদের উদ্দেশ্য।
তাই বাংলার সনাতন কালীক্ষেত্র সম্পর্কে জানতে আমাদের পেজ এবং গ্রূপ লাইক ও ফলো করুন।

বিনীত :-
মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI
পেজ অ্যাডমিন

বাংলার কালী মন্দিরে ফিরিঙ্গি কালচার /কোলকাতার ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি :- একটি প্রতিবেদন ‘ভজন পুজন জানিনে মা জেতেতে ফিরিঙ্গিযদি...
23/08/2026

বাংলার কালী মন্দিরে ফিরিঙ্গি কালচার /কোলকাতার ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি :- একটি প্রতিবেদন

‘ভজন পুজন জানিনে মা জেতেতে ফিরিঙ্গি
যদি দয়া করে তারো মোরে এ ভবে মাতঙ্গী।’

🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁

সে অনেককাল আগের কথা । গঙ্গা তখন বয়ে চলতো আজকের সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের ওপর দিয়ে । গঙ্গার পাশেই গা ছমছমে গভীর অরণ্য, রাতে তো দূর দিনেরবেলাতেও যেতে ভয় পেত মানুষ। জঙ্গলের মধ্যে এক মহাশ্মশান আর সেখানেই ছোট্ট এক চালাঘর। চালাঘরেই শিবলিঙ্গের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন দেবী কালিকা। শ্মশানকালী হলেও দেবীর নাম সিদ্ধেশ্বরী।
মন্দিরের সামনে ফলকে লেখা
“ওঁ শ্রীশ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালীমাতা ঠাকুরানী,
স্থাপিত ৯০৫ সাল ।‌🥀🥀

কালের বিবর্তনে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ছেড়ে গঙ্গা গেল সরে। জব চার্নক সাহেব তিনটে গ্রাম বড়িশার সাবর্ণ চৌধুরীদের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে গোড়াপত্তন করেন কোলকাতা নগরীর। ধীরে ধীরে বাড়তে লাগলো জনসংখ্যা, শহরের বুকে চিরে চলতে শুরু করলো বিভিন্ন যানবাহন । এখানে ওখানে গড়ে উঠল বসতি, বাড়তে লাগল ইউরোপীয়ান বা ফিরিঙ্গিদের বসবাস।

১৯শতকের প্রথম দিকে বাংলাতে আসেন পর্তুগীজ নাগরিক হ্যান্সম্যান এন্টনি । প্রথমদিকে ফরাসডাঙ্গায় (চন্দননগর) থাকলেও পরে কলকাতায় চলে আসেন । শুরু হয় বাংলা কবিগানের সাথে পরিচয় ও ভালোবাসা । একসময় নিজেই গান বেঁধে গাইতে শুরু করেন । পরিচিতি পান এন্টনি কবিয়াল বা ফিরিঙ্গী নামে ।

ভালবেসে গান গাইতেন জাতি ধর্ম বর্ণের ওপরে উঠে, তার গানে মানুষ ও মানবতার কথা পাওয়া যায়। পরবর্তী কালে সৌদামিনী নামে এক ব্রাহ্মণ কন্যাকে সতীদাহের হাত থেকে বাঁচিয়ে বিয়ে করেন এবং পাকাপাকি ভাবে এখানেই থেকে যান ।প্রায়ই আসতেন তিনি এই শ্মশানের চালাঘরে। প্রাণ উজাড় করে শ্যামা মাকে শোনাতেন তার রচিত গান ।
‘ধীরে ধীরে একসময় এই মন্দির লোকমুখে হয়ে উঠল ফিরিঙ্গি কালীর মন্দির । 🌺🌺

জানা যায়, ১৮২০ থেকে ১৮৮০সাল পর্যন্ত এই মন্দিরের পুজারি ছিলেন শ্রীমন্ত পন্ডিত। তিনি নিঃসন্তান হওয়ায় ১৮৮০ সালে শশিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৬০ টাকায় দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে মন্দিরটি বিক্রি করে দেন। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার এখনও মন্দিরের সেবায়েত।

কালীমন্দির ও দেবীমূর্তি সর্বপ্রথম কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা জানা যায়না, তবে ছেচল্লিশের দাঙ্গায় পুরানোটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে নতুন মূর্তি স্থাপনা করা হয় । সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতার বিগ্রহটি সবসনা ত্রিনয়নী এবং সুদর্শনা। মন্দির সংলগ্ন শিবের মন্দিরটি আটচালা। কালী মূর্তি ছাড়াও আছে শীতলা, মনসা, দুর্গা, শিব ও নারায়ণের মূর্তি। প্রতি অমাবস্যায় কালীপূজা ও প্রতি পূর্ণিমায় সত্যনারায়ণ পূজা হয় ।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন কোন মন্দিরের কথা বললাম...........

অনাড়ম্বর মন্দিরটি আজও দাঁড়িয়ে আছে কলকাতার ২৪৪, বিপিন বিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিটে , জনপ্রিয়তার নিরিখে যার স্থান কালিঘাটের পরেই! মাকে দেখতে অগণিত পুণ্যার্থী প্রতিদিন ভিড় জমান বৌবাজারের ফিরিঙ্গি কালীমন্দিরে।
🌺 🌸 ‌🌹 🌹 🌹 জয় মা 🌹 🌹 🌹 🌸 🌺


©® কপিরাইট এবং ✍️ টিম কালীকথা। KALI KATHA

🔸 অনলাইন ডিজিটাল প্লাটফর্ম :- টিম মাতৃশক্তি - MATRI SOKTI

সোনামুখী বাঁকুড়ার "মাই তো কালী" র কথা :-**************************************সময়টা ১৭৪২  সাল ৷ বাংলা তখন বর্গীদের আক্রম...
21/08/2026

সোনামুখী বাঁকুড়ার "মাই তো কালী" র কথা :-
**************************************

সময়টা ১৭৪২ সাল ৷ বাংলা তখন বর্গীদের আক্রমণে তটস্থ। সর্বত্র এক অরাজকতা। এমনি এক সময়ে লুঠপাট চালানোর উদ্দেশ্য মারাঠা সেনাপতি ভাস্কর পণ্ডিতের নেতৃত্বে বর্গীদের একটা দল বাঁকুড়ার সোনামুখীতে আসে । উচ্চস্বরে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে "হর হর বোম বোম" করতে করতে সোনামুখীর রাণীবাজারে মা কালীর মন্দিরের সামনে এসে তারা জড়ো হয়। অঞ্চলের পুরুষ মহিলা নির্বিশেষে সকলে বর্গীদের ভয়ে নিজের নিজের ঘরের দুয়ার বন্ধ করে ভয়ে সিটিয়ে রয়েছেন।

সোনামুখী শহর সেই সময় ঘন জঙ্গল ও আগাছায় পরিপূর্ণ ছিল ৷ গাছপালা ঘেরা এই জায়গাতেই তখন বিরাজ করতেন মা কালী । দিনের বেলাতেই অনেকে মন্দিরের সামনে আসতেও সাহস করতেন না।

সবে সন্ধ্যা হয়েছে l এলাকারই এক বৃদ্ধ তখন দেবী মন্দিরে আলো দেবার জন্য একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে মন্দিরে মায়ের ঘটের কাছে রেখে বলিস্থানে হাড়িকাঠে সাষ্টাঙ্গে প্রণামরত হন।

তাই দেখে ভাস্কর পণ্ডিত তাচ্ছিল্যের সাথে একটি খাঁড়া তুলে প্রণামরত বৃদ্ধকে বলি দিতে উদ্যত হন l কিন্তু খাঁড়া আর নিচে নামে না, যেন পিছন থেকে কেউ টেনে ধরে রেখেছে l তাই তিনি তাঁর সঙ্গীদের বললেন, “ তোমরা আমার খাঁড়া পিছনে টেনে রেখেছ কেন ?” উত্তরে বর্গীদল বললো, “কেউই পিছন থেকে খাঁড়া টেনে রাখেনি ”

এরপরই ভাস্কর পণ্ডিতের সামনের সবকিছুই অন্ধকার হয়ে গেলো l তখন সেনাপতি বললেন, “মন্দিরে প্রদীপটি এখনও জ্বলছে কিনা, আর যে বুড়ো প্রণাম করছিল তিনি এখনও আছেন কিনা ?” তারা বলল, 'প্রদীপ ঠিকই জ্বলছে এবং বুড়ো এখানেই আছে।'

একথা শোনার পর ভাস্কর পণ্ডিত পাগলের মতো চিৎকার করে বলে উঠলেন "আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা কেন? আমি কি অন্ধ হয়ে গেলাম। কোন্ দৈবশক্তিতে আমার খাঁড়া আটকে আছে যে আমি খাঁড়া নামাতে পারছিনা ? ভাস্কর পণ্ডিত তখন ওই অবস্থাতেই বৃদ্ধের কাছে অনুরোধ করলেন তার পূর্ব্বাবস্থা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ।”

ইতিমধ্যে ঐ বৃদ্ধ প্রণাম শেষ করে উঠে এসে সব ব্যাপার শুনে মন্দিরে মায়ের ঘট থেকে জল এনে ওই জল ভাস্কর পণ্ডিতের চোখে এবং সর্বাঙ্গে ছিটিয়ে দিলেন। মুহুর্তে তার চোখের দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেলেন এবং তিনি খাঁড়া নামাতেও সক্ষম হলেন।

দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়ে ভাস্কর পণ্ডিত ওই বৃদ্ধকে বললেন, এখানে কোন জাগ্রত দেবদেবী আছে কিনা ? বৃদ্ধ উত্তর দিলেন মা কালী আছেন। এই শুনে ভাস্কর পণ্ডিত হিন্দিতে বলে উঠলেন,

'মায়ী-ত কালী হ্যায়।'

এই কথা বলে তিনি তাদের দলের সমস্ত খাঁড়া মন্দিরে দান করে বললেন, এরপর তোমরা এই খাঁড়াতেই বলিদান করবে l আমরা আর এখানে লুটপাট করবো না। আমরা কাটোয়া চললাম । এই বলে বাজনা বাজাতে বাজাতে সমবেত স্বরে

"মায়ী-ত কালী হ্যায়, মায়ী-ত কালী হ্যায়”

নামে মায়ের নামকীর্তন করতে করতে সোনামুখী ছেড়ে চলে যায়। এবং এই ঘটনার পরেই ‘মায়ী-ত-কালী’ থেকে ধীরে ধীরে ‘মা-ই-ত-কালী' নামের মাহাত্ম্য সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

মা এখানে খুবই জাগ্রত l এলাকার মানুষের মুখে মায়ের বহু অলৌকিক ঘটনার কথা শোনা যায় l

জয় মা।।

জয় মাই তো কালী।।

🔸 অনলাইন ডিজিটাল প্লাটফর্ম :- টিম মাতৃশক্তি - MATRI SOKTI

দেবীর ৫১ শক্তিপিঠের মধ্যে অন্যতম  #হিংলাজ_মাতার মন্দির, যেটি পাকিস্তানে অবস্থিত l স্বয়ং রামচন্দ্র তার পাপস্খালন এর জন্যে...
21/08/2026

দেবীর ৫১ শক্তিপিঠের মধ্যে অন্যতম #হিংলাজ_মাতার মন্দির, যেটি পাকিস্তানে অবস্থিত l স্বয়ং রামচন্দ্র তার পাপস্খালন এর জন্যে তপস্যা করেছিলেন এখানে :-

পাকিস্তানের করাচি থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে, উত্তর-পূর্ব দিকে বালুচিস্তান প্রদেশের মকরান মরুভূমির উপর অবস্থিত এই তীর্থক্ষেত্র। দেবী এখানে হিন্দু মুসলমান উভয়ের কাছেই পুজিত হন l ভক্তদের বিশ্বাস, কেউ যতই পাপ করে থাকুক না কেন, এমনকী পূর্ব জন্মের কোনও পাপ থাকলেও, এই মহাশক্তিস্থলে এলে সব পাপই বিলীন হয়ে যায়।

হিন্দুদের কাছে দেবী পরিচিত

"মাতা হিংলাজ"

নামে আর স্থানীয় মুসলমানদের কাছে ইনি

"নানি মা"

অথচ ১৯৬০-এর আগে পর্যন্ত হিংলাজ তীর্থ অনেক বাঙালির কাছেই ছিল অচেনা। ১৯৫৯-এ বেশিরভাগ বাঙালি হিংলাজ তীর্থ সম্পর্কে জানতে পারলো উত্তমকুমার-বিকাশ রায়ের ছবির হাত ধরে - "মরুতীর্থ হিংলাজ" । এই মন্দিরের নামেই গোটা গ্রামের নাম হিংলাজ।

পুরাণ মতে বালুচিস্তানের হিঙ্গোল নদীর তীরে চন্দ্রকূট পর্বতে পড়েছিল সতীর মাথার পেছনের অংশ ব্রহ্মরন্ধ্র। সেই ব্রহ্মরন্ধ্রই হিংলাজ মাতা শিলা রূপে এখানে প্রতিষ্ঠিত। যেহেতু মা এখানে রক্তবর্ণা তাই হিঙ্গুলা অর্থাৎ রক্তবর্ণা রঙের জন্যই মায়ের নাম হিংলাজ মাতা l মা এখানে কোট্টারি রূপে পূজিতা। তাঁর ভৈরব ভীমলোচন হিসেবে তাঁর সঙ্গেই দণ্ডায়মান।

সঙ্কীর্ণ গিরিখাত, তার মাঝে একটি গুহা। আর সেই গুহাই মহাশক্তিস্থল। মন্দিরের কাছে আছে একটি কুণ্ড। সেই কুণ্ড ঘিরেও রয়েছে নানা বিশ্বাস। বলা হয়, কুণ্ডের মধ্যে অবিরাম ফুটতে থাকে কাদা মাটি । সেই ফুটন্ত কুণ্ডের কাছে এসে অন্তর থেকে নিজের পাপের কথা বললে নাকি দেবী মাফ করে দেন। মুছে যায় গ্লানি। ঘটে পাপমুক্তি।

কথিত আছে, রাবণ যেহেতু ব্রাহ্মণ ছিলেন, তাই রাবণ বধের পর এই হিংলাজে এসেই দীর্ঘদিন ধরে তপস্যা করে পাপস্খালন করেছিলেন স্বয়ং রামচন্দ্র। এতটাই মাহাত্ম্য হিংলাজের।

হিন্দু ও মুসলিম উভয়ের দ্বারাই পূজিতা হন দেবী l
প্রতি বছর এপ্রিলে হিংলাজে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। যাতে হিন্দু-মুসলমান, সকলেই সামিল হন l

হিন্দু দের কাছে তখন এই তীর্থযাত্রা

"মরুতীর্থ হিংলাজ"

আর মুসলিমদের কাছে

"নানী কি হজ"

নামে পরিচিত l রীতি অনুযায়ী, নৈবেদ্য হিসেবে ৩টি করে নারকেল দেন সব ভক্ত। প্রসাদ হিসাবেও দেওয়া হয় শুকনো নারকেল l

মায়ের মন্দিরে গুড়ি দিয়ে ঢুকে, পশ্চাতের শুঁড়ি পথ বেয়ে মায়ের আশীর্বাদ এবং প্রসাদী নারকেল নিয়ে বেরিয়ে আসেন যিনি, তাঁর একটাই পরিচয় তিনি সন্তান। হিংলাজ মায়ের কাছে পরিচয় সবাই তাঁর সন্তান।

🔸 ✍️ Moumita Saha র এর টাইম লাইন সৌজন্যে।

🔸 ছবি :- পিন্টারেস্ট






🔸 টিম মাতৃশক্তি - MATRI SOKTI

বাংলার কালী মন্দিরে ফিরিঙ্গি কালচার /কোলকাতার ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি :- একটি প্রতিবেদন ‘ভজন পুজন জানিনে মা জেতেতে ফিরিঙ্গিযদি...
21/08/2026

বাংলার কালী মন্দিরে ফিরিঙ্গি কালচার /কোলকাতার ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি :- একটি প্রতিবেদন

‘ভজন পুজন জানিনে মা জেতেতে ফিরিঙ্গি
যদি দয়া করে তারো মোরে এ ভবে মাতঙ্গী।’

🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁

সে অনেককাল আগের কথা । গঙ্গা তখন বয়ে চলতো আজকের সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের ওপর দিয়ে । গঙ্গার পাশেই গা ছমছমে গভীর অরণ্য, রাতে তো দূর দিনেরবেলাতেও যেতে ভয় পেত মানুষ। জঙ্গলের মধ্যে এক মহাশ্মশান আর সেখানেই ছোট্ট এক চালাঘর। চালাঘরেই শিবলিঙ্গের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন দেবী কালিকা। শ্মশানকালী হলেও দেবীর নাম সিদ্ধেশ্বরী।
মন্দিরের সামনে ফলকে লেখা
“ওঁ শ্রীশ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালীমাতা ঠাকুরানী,
স্থাপিত ৯০৫ সাল ।‌🥀🥀

কালের বিবর্তনে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ছেড়ে গঙ্গা গেল সরে। জব চার্নক সাহেব তিনটে গ্রাম বড়িশার সাবর্ণ চৌধুরীদের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে গোড়াপত্তন করেন কোলকাতা নগরীর। ধীরে ধীরে বাড়তে লাগলো জনসংখ্যা, শহরের বুকে চিরে চলতে শুরু করলো বিভিন্ন যানবাহন । এখানে ওখানে গড়ে উঠল বসতি, বাড়তে লাগল ইউরোপীয়ান বা ফিরিঙ্গিদের বসবাস।

১৯শতকের প্রথম দিকে বাংলাতে আসেন পর্তুগীজ নাগরিক হ্যান্সম্যান এন্টনি । প্রথমদিকে ফরাসডাঙ্গায় (চন্দননগর) থাকলেও পরে কলকাতায় চলে আসেন । শুরু হয় বাংলা কবিগানের সাথে পরিচয় ও ভালোবাসা । একসময় নিজেই গান বেঁধে গাইতে শুরু করেন । পরিচিতি পান এন্টনি কবিয়াল বা ফিরিঙ্গী নামে ।

ভালবেসে গান গাইতেন জাতি ধর্ম বর্ণের ওপরে উঠে, তার গানে মানুষ ও মানবতার কথা পাওয়া যায়। পরবর্তী কালে সৌদামিনী নামে এক ব্রাহ্মণ কন্যাকে সতীদাহের হাত থেকে বাঁচিয়ে বিয়ে করেন এবং পাকাপাকি ভাবে এখানেই থেকে যান ।প্রায়ই আসতেন তিনি এই শ্মশানের চালাঘরে। প্রাণ উজাড় করে শ্যামা মাকে শোনাতেন তার রচিত গান ।
‘ধীরে ধীরে একসময় এই মন্দির লোকমুখে হয়ে উঠল ফিরিঙ্গি কালীর মন্দির । 🌺🌺

জানা যায়, ১৮২০ থেকে ১৮৮০সাল পর্যন্ত এই মন্দিরের পুজারি ছিলেন শ্রীমন্ত পন্ডিত। তিনি নিঃসন্তান হওয়ায় ১৮৮০ সালে শশিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৬০ টাকায় দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে মন্দিরটি বিক্রি করে দেন। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার এখনও মন্দিরের সেবায়েত।

কালীমন্দির ও দেবীমূর্তি সর্বপ্রথম কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা জানা যায়না, তবে ছেচল্লিশের দাঙ্গায় পুরানোটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে নতুন মূর্তি স্থাপনা করা হয় । সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতার বিগ্রহটি সবসনা ত্রিনয়নী এবং সুদর্শনা। মন্দির সংলগ্ন শিবের মন্দিরটি আটচালা। কালী মূর্তি ছাড়াও আছে শীতলা, মনসা, দুর্গা, শিব ও নারায়ণের মূর্তি। প্রতি অমাবস্যায় কালীপূজা ও প্রতি পূর্ণিমায় সত্যনারায়ণ পূজা হয় ।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন কোন মন্দিরের কথা বললাম...........

অনাড়ম্বর মন্দিরটি আজও দাঁড়িয়ে আছে কলকাতার ২৪৪, বিপিন বিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিটে , জনপ্রিয়তার নিরিখে যার স্থান কালিঘাটের পরেই! মাকে দেখতে অগণিত পুণ্যার্থী প্রতিদিন ভিড় জমান বৌবাজারের ফিরিঙ্গি কালীমন্দিরে।
🌺 🌸 ‌🌹 🌹 🌹 জয় মা 🌹 🌹 🌹 🌸 🌺

লেখা✍🏻- © স্বপন সেন ‌

🔸 অনলাইন ডিজিটাল প্লাটফর্ম :- মাতৃশক্তি - MATRI SOKTI

.                     || দেবী ভুবনেশ্বরীর পরিচয় ||                  #দেবীভুবনেশ্বরী  #দশমহাবিদ্যা দশমহাবিদ্যার চতুর্থ রূ...
12/08/2026

. || দেবী ভুবনেশ্বরীর পরিচয় ||
#দেবীভুবনেশ্বরী #দশমহাবিদ্যা

দশমহাবিদ্যার চতুর্থ রূপ হলেন দেবী ভুবনেশ্বরী। ভুবন অর্থাৎ পৃথিবীর যাবতীয় পার্থিব জিনিসের যে শক্তি, তা হলেন তিনি। দান, ধ্যান, জীবে দয়া প্রভৃতি শুভকর্মের যে শক্তি, তা মাতা ভুবনেশ্বরীর অধীন। মা ত্রিনয়নী, মস্তকে চন্দ্র, স্তন হতে স্নেহসুধা ক্ষরিত হচ্ছে প্রতিক্ষণ। চারি হস্তে বর, অভয়, পাশ, অঙ্কুশ ধারণ করে আছেন।

ত্রিপুটা, জয়দুর্গা, বনদুর্গা, কাত্যায়নী, মহিষগ্নী, দুর্গা, শূলিনী, মেধা, রাধা ইত্যাদি বিবিধ নামে তাঁর প্রকাশ। শ্রী শ্রী চণ্ডীর একাদশ অধ্যায়ে ভুবনেশ্বরীর রূপের বর্ণনা করা হয়েছে। দেবী ভাগবতের কাহিনি অনুসারে দুর্গম নামক অসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দেবতা ও ব্রাহ্মণরা একত্র দেবোর হয়ে হিমালয়ে উপস্থিত হয়ে দেবী ভুবনেশ্বরীর আরাধনা করেন। তাঁদের আরাধনায় তুষ্টা হয়ে দেবী ভুবনেশ্বরী আবির্ভূতা হন। তাঁর হাতে ছিল বাণ, পদ্মফুল ও শাক। তাঁর চক্ষু থেকে সহস্র ধারা নির্গত হয়ে নদ-নদী, সমুদ্র ও সকল জলাশয়কে জলে পূর্ণ করে এবং ওষধি লতাবৃক্ষকে সাজ্ঞীবিত করে। শাক ও ফলমূল দিয়ে প্রানীকূলকে রক্ষা করার জন্য তাঁর নাম হয় 'শাকম্ভরী' বা 'শতাক্ষী'। ইনি দুর্গম নামক অসুরকে বধ করে তার দ্বারা অপহৃত বেদগ্রন্থ দেবতাদের ফিরিয়ে দেন। দেবী ভুবনেশ্বরীর উপাসনা পুত্রলাভের জন্য বিশেষ ফলপ্রদ।

সম্প্রতি চন্দননগরের ভুবনেশ্বরীতলায় মা ভুবনেশ্বরীর বার্ষিক পুজো দর্শনের সৌভাগ্য হল। এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু দেবীর আরাধনায় নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় ২৫০ বছরের এক দীর্ঘ ঐতিহ্য। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, একসময় স্নানযাত্রার দিন এই পুজোর সূচনা হতো। পরবর্তীকালে তিথির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রথযাত্রার দিন থেকে পুজো শুরু হওয়ার রীতি চালু হয়েছে। সেই ঐতিহ্য আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে চলেছেন স্থানীয় মানুষ।

এই বছর ১৬ জুলাই, রথযাত্রার দিন মায়ের পুজোর সূচনা হয়েছে এবং পুজো চলবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ১৬ আগস্ট, রবিবার, শোভাযাত্রা সহযোগে হবে মায়ের মূর্তির নিরঞ্জন। দেড় মাসব্যাপী এই দীর্ঘ আরাধনা তাই শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি চন্দননগরের লোকঐতিহ্য, ভক্তি, সংস্কৃতি ও বহু প্রজন্মের স্মৃতির এক জীবন্ত ধারাবাহিকতা।

মা ভুবনেশ্বরীর চরণে প্রার্থনা—
সকলের জীবন ভরে উঠুক শান্তি, মঙ্গল, করুণা ও শুভশক্তিতে। 🙏🌺

আপনাদের মধ্যে কেউ কি এই ঐতিহ্যবাহী পুজোতে গিয়েছেন? অভিজ্ঞতা থাকলে অবশ্যই জানাবেন।

#ভুবনেশ্বরী #ভুবনেশ্বরীতলা #চন্দননগর #দশমহাবিদ্যা #শাক্তধর্ম #বাংলারঐতিহ্য #প্রাচীনপুজো #ভক্তি #বাংলারসংস্কৃতি

মায়ের নাম শীতলা। মায়ের নাম স্মরণ করলেই রোগ এর নাশ হয় :-***********মূলত শীতলা অষ্টমী, বা দোল পূর্ণিমার পরের অষ্টমী তিথিকে...
07/08/2026

মায়ের নাম শীতলা। মায়ের নাম স্মরণ করলেই রোগ এর নাশ হয় :-

***********

মূলত শীতলা অষ্টমী, বা দোল পূর্ণিমার পরের অষ্টমী তিথিকে শীতলাষ্টমী বলা হয়। এদিন মা শীতলার পূজা হয়ে থাকে শীতল নৈবেদ্যাদি দিয়ে। এদিন বাড়িতে অরন্ধন এবং গৃহবাসীরা মায়ের মন্দিরে গিয়ে ঠান্ডা লুচির প্রসাদ দিয়ে খায় আর পূজা দিয়ে আসে মায়ের চরণে যাতে তারা বসন্ত রোগের আক্রান্ত থেকে যেন রক্ষা পায়। মায়ের কাছে আয়ু, আরোগ্য, বল, যশ প্রার্থনা করে।

দেবী বসন্ত রোগের জ্বালা নিবারণ করে শীতল করেন বলে শীতলা নামে পরিচিত হয়েছেন। বসন্ত ও চর্মরোগ থেকে পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে শীতলা পূজা করা হয়। দেবী শীতলাকে স্বাস্থ্যবিধি পালন বা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দেবী বলা হয়। শীতলা পূজার মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্য বিধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন হয়ে থাকি।

দেবী শীতলাকে ঠাকুরানি জাগরাণী, করুণাময়ী, দয়াময়ী প্ৰভৃতি নামে অভিহিত করা হয়। দেবী শীতলা কুমারী, মাথায় কূলাকৃতির মুকুট এবং গর্দভের উপর উপবিষ্ট। গর্দভ দেবীর বাহন। দেবী শীতলা শ্বেতবর্ণা ও দুহাত বিশিষ্ট। দেবীর দুহাতে রয়েছে পূর্ণকুম্ভ ও সম্মার্জনীধারণী। সম্মার্জনীয় মাধ্যমে তিনি অমৃতময় শীতল জল ছিটিয়ে রোগ, তাপ, শোক দূর করেন। কখনো কখনো তিনি নিমের পাতা বহন করে থাকেন। নিম রোগ প্ৰতিরোধকারী উদ্ভিদ।

গাধা বা গদর্ভ হল মায়ের বাহন। স্ত্রী গদর্ভ এর দুগ্ধ বসন্ত রোগের প্রতিষেধক। কবিরাজী চিকিৎসায় গর্দভীর দুধ দিয়ে বসন্ত রোগের প্রতিষেধক বানানো হয়। মা শীতলা দয়াময়ী দেবী। তিনি জগতের মা। সকলের মা। মা তার সন্তানের রোগ দূর করেন। মা শীতলার হাতে ঝাঁটা থাকে। যা অপবিত্র জিনিস ঝেড়ে দূর করে, যেমন আমরা ঝাঁটা দিয়ে ময়লা ঝাড়ি। মায়ের হাতে থাকে কলস। যাঁর শীতলতা আমাদের মাতৃ স্নেহ প্রদান করে।

🔸 মা শীতলার ধ্যানমন্ত্র —

ॐ নমামি শীতলাং দেবীং রাসভস্থাং দিগম্বরীম্।
মার্জন্যা পূর্ণকুম্ভামমৃতময় জলং তাপশান্ত্যৈ ক্ষিপন্তীম্॥
দিগবস্ত্রাং মূধ্নি শূর্পাং কণকমণিগণৈর্ভূষিতাঙ্গীং ত্রিনেত্রাম্।
বিস্ফোটাদ্যুগ্রতাপ প্রশমনকরীং শীতলাং তাং ভজামি॥

🔸 মা শীতলার প্রণাম মন্ত্র —

ॐ নমামি শীতলাং দেবীং রাসভস্থাং দিগম্বরীম্।
মার্জনীকলসোপেতাং শূর্পালঙ্কৃতমস্তকাম্॥
শীতলে ত্বং জগম্মাতঃ শীতলে ত্বং জগৎপিতা।
শীতলে ত্বং জগদ্ধাত্রী শীতলায়ৈ নমো নমঃ॥


জয় মা শীতলা


✍️ : #সংগৃহীত

📸 :- শ্রী সেন মহাশয় এর সৌজন্যে

💫 টিম মাতৃশক্তি - MATRI SOKTI

হুগলী জেলার সিনেট গ্রামের দ্বারবাসিনী মনসা মাতার মন্দির :-হুগলী জেলার সিনেট গ্রামের অত্যন্ত জাগ্রত মা  দ্বারবাসিনী বিষহর...
03/08/2026

হুগলী জেলার সিনেট গ্রামের দ্বারবাসিনী মনসা মাতার মন্দির :-

হুগলী জেলার সিনেট গ্রামের অত্যন্ত জাগ্রত মা দ্বারবাসিনী বিষহরি বা মনসা মাতার মন্দির দর্শনের সৌভাগ্য সত্যি মনে অনাবিল এক আনন্দ এবং তৃপ্তি এনে দেয় ।

দেবী মনসা এখানে দ্বিভূজা, রক্তবর্ণা ও নাগযজ্ঞোপবীত পরিহিতা। মায়ের দক্ষিণহস্তে অভয়মুদ্রা ও বামহস্তে বরমুদ্রা ধারণ করে আছেন । দেবীর দুপাশে দুই সহচরী নেতা ও সুগন্ধা অবস্থান করছেন। এছাড়াও রয়েছেন মহাদেব ও বিরূপাক্ষ ভৈরব। প্রতিবছর আষাঢ় মাসে মায়ের বাৎসরিক পূজো অনুষ্ঠিত হয় এবং মনসা পূজোর দিনেও অত্যন্ত সমারোহের সাথে দেবীর পূজো অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা এবং বিকেল ৫ টা থেকে ৭ সন্ধ্যা টা পর্যন্ত মায়ের মন্দির খোলা থাকে। সিনেট গ্রামের বিশালাক্ষী দর্শনে এলে অবশ্যই মা মনসা কে দর্শন করে মায়ের আশীর্বাদ নিতে ভুলবেন না।।

#পথনির্দেশ- সিনেট থেকে টোটোতে করে সহজেই পৌঁছনো যাবে মায়ের এই মন্দিরে। ইছেড়া ব্যান্ডেল বা চুঁচুড়া স্টেশন থেকে টোটো ধরে সহজেই আসা যায় মায়ের মন্দিরে।।

জয় মা বিষহরি মনসা 🙏🌺🌺🙏🐚

💫 ছবিঋণ :- Koushick Banerjee দাদা

💫 ✍️ তথ্যঋণ এবং মায়ের কথায়
©️®️Surajit Rythemic Das দাদা

💫 টিম মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI

মৃত্যু নাশিনী কালী, কাঁটাগঞ্জ, কল্যাণী, নদীয়া।*****************************************কল্যাণীর কাটাগঞ্জ এলাকার বুড়ি ব...
03/08/2026

মৃত্যু নাশিনী কালী, কাঁটাগঞ্জ, কল্যাণী, নদীয়া।

*****************************************

কল্যাণীর কাটাগঞ্জ এলাকার বুড়ি বটতলায় আছে এই মন্দির। কথিত আছে, বহু বছর আগে এক রাজপরিবারের বধূ সংসার ত্যাগ করে ঈশ্বর আরাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি যখন ভাগীরথীর তীরে বসে ছিলেন, তখন তিনি গঙ্গায় একটি দেবীর ঘট ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। স্বপ্নাদেশে তিনি সেই ঘটটি সংগ্রহ করেন এবং একটি বটগাছের নিচে প্রতিষ্ঠা করে সাধনা শুরু করেন। পরবর্তীতে সেই সাধনক্ষেত্রই আজকের মৃত্যুনাশিনী কালী মন্দিরে পরিণত হয়েছে।

১৯৫০ সালে মন্দিরটি বর্তমান রূপ পায়। ১৯৫০ সালে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হলেও মনে হয় তার আগেই মায়ের পুজো শুরু হয়েছিল। আর জনমত, মা মৃত্যুনাশিনী কালীর সাধিকার সাধনাক্ষেত্র থেকেই এই নাম এসেছে।

মা মৃত্যুনাশিনী কালীর সাধিকা, দেহ রেখেছেন আনুমানিক তিরিশ চল্লিশ বছর আগে। তাঁরা দেহ সমাধিস্থ করা হয় মন্দিরের পাশে, তবে ওঁর সুপ্ত ইচ্ছা ছিল মায়ের বেদির নীচে তাঁকে সমাধিত করা হোক, যাই হোক কোনো কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। সাধিকা মায়ের বিয়ে হয়েছিল রাজপরিবারে, মায়ের স্বামীর নাম ছিল মাধবানন্দ ব্রহ্মচারী, ব্রহ্মচারী হওয়ার জন্য তিনি বিয়ের পর দিবসেই গৃহত্যাগী হন ব্রহ্মচর্য পালনের জন্য। স্বামীর মত ও পথ তাঁর সহধর্মিণীর পছন্দ হয়, তৎকালীন সমাজব্যবস্থা উপেক্ষা করে তিনি গৃহত্যাগ করেন। তারপর ভাগীরথীর পাড়ে এসে বসে ছিলেন, তখন এই অঞ্চল নিয়ে ভাগীরথীর বা গঙ্গা প্রবহমান ছিল; কালের নিয়মে তা পথ পরিবর্তন করেছে, আর এই নদীপথ ধরেই মহাপ্রভু নবদ্বীপ ধাম থেকে নীলাচলের পথের যাত্রা করেছিলেন।

ভাগীরথীর পাড়ে বসে থাকার সময় উনি একটি ভাসমান মায়ের ঘট দেখতে পান। লোকমুখে প্রচলিত এর পর মাতৃ আদেশে ঘটটি জল থেকে তুলে এনে পার্শ্ববর্তী বট গাছের তলায় খোলা আকাশের নীচে বসে মাতৃআরাধনা শুরু করেন। যদিও তখন এই বটগাছটি অত বড়ো ছিল না। এর পর সাধনায় সিদ্ধি লাভ করেন তারপর স্বপ্নাদেশে মায়ের মূর্তির বর্ণনা পেয়ে মূর্তি তৈরি করে মায়ের পুজো-অর্চনা শুরু করেন। মৃন্ময়ী মূর্তি প্রতি বছর অঙ্গরাগ করা হয়, কিন্তু মায়ের মূর্তিতে কোনো প্রকার ক্ষত দেখা দিলে তা পরিবর্তন করার আদেশ রয়েছে।

পরবর্তীতে এরপর একটু একটু করে বসতি স্থাপন শুরু হয়, যেহেতু উনি একজন মহিলা সাধিকা ছিলেন তার জন্য ওনাকে অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছে। খোলা আকাশের নীচে মাতৃসাধনা অসুবিধার জন্য প্রথমে খড়ের ঘরের ছাউনি দিয়ে ছোট্ট একটি মন্দির মায়ের জন্য গড়েছিলেন, কিন্তু কিছু দুষ্টু লোকের জন্য তাও আগুনে পুড়ে যায়, পুনরায় তিনি মাটি দিয়ে আর একটি ঘর তৈরি করে তাতে মাতৃআরাধনা করা শুরু করেন। তিনি মাকে আপন মেয়ে মনে করতেন এবং বেটি বলে ডাকতেন।

আরও একটি আশ্চর্য ব্যাপার, বৎসরান্তে একবার অর্থাৎ মাঘী পূর্ণিমার দিন মাতৃসাধিকা স্নান করতেন। মায়ের অলৌকিক ঘটনার মধ্যে অসুস্থ রোগী সুস্থ হওয়া, কোনো রোগী মন্দিরে এলে রোগ থেকে মুক্তি লাভ এছাড়া চাকরি হওয়া, নিঃসন্তানের সন্তানলাভ ইত্যাদি। আরও কিছু অলৌকিক কাহিনি ঘটেছিল, এই মাতৃমন্দিরে একবার মাঘী পূর্ণিমার দিন ভোগ রন্ধনের জন্য জ্বালানি কাঠের অমিল হয়, ঠিক সেই সময় সাধিকা মা বলেন যে বট গাছের ডাল জ্বালানি হিসাবে পেতে, কিন্তু বটবৃক্ষে কোনো শুকনো ডাল না থাকার জন্য সবাই আশ্চর্য হয়। পরে অবশ্য বৃক্ষের ওপর উঠলে সবুজ বৃক্ষের মধ্যেই শুকনো ডাল পরিলক্ষিত হয়।

একবার বালক সেবার জন্য একটুও খাদ্যসামগ্রী জোগাড় হয়নি, তখন মায়ের আদেশে খালি হাঁড়িতে জল ফোটাতে দিলে কিছুক্ষণ পর দেখা যায় চাল-ডাল ফুটছে ইত্যাদি নানা অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী এই মন্দির। প্রতিবছর মাঘীপূর্ণিমার দিন মায়ের এই মন্দিরের বাৎসরিক পূজো অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। মায়ের এই মন্দিরে অনেকের রোগমুক্তি ঘটেছে,বেকার ব্যক্তির কর্মসংস্থানও ঘটেছে।

এখানে মা কালীর রুপ ভিন্ন। দেবী এখানে তিন মুখ বিশিষ্ট, গায়ের রং শুভ্রবর্ণ, ষড়ভূজা। ডানদিকের উপরের হাতে আছে তরবারি। বামদিকের উপরের হাতে আছে খড়গ। মাঝখানের হাতে আছে একটি কাটা মুন্ডু। বাকি তিনটি আছে অভয়মুদ্রা ও বরমুদ্রা। দেবী এখানে শাড়ী পরিহিতা শাড়িটি মাটির হতে পারে। দেবীর দুই পা শিবের উপর। শিবের গায়ে রয়েছে একটি গোখরো সাপ। দেবীর বামে একটি নীল রঙের ভৈরবে মুর্তি বিদ্যমান। তাঁর মাথার উপর ফনা। এখানে শিয়াল অনুপস্থিত। মাকালীর মুর্তির সামনে আছে একটি নারায়ণ শিলা ও একটি বাদামি রঙের একরঙা গনেশ মুর্তি।

কিংবদন্তী অকালমৃত্যু রোধে দেবীকে পূজো করা হয়। দেবীর উপাসনাতে সাধকের অকালমৃত্যু জনিত ভয় নাশ হয়। দেবীর পূজো পদ্ধতি গুরূমুখী এবং সম্পূর্ণ তান্ত্রিক উপাচারে দেবী পূজিতা হন।

#সংগৃহীত:- লিখনে ✍️ আচার্য্য শঙ্খ

🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸

💫 অনলাইন ডিজিটাল প্লাটফর্ম :- টিম মাতৃশক্তি - MATRI SOKTI

 #লৌকিক_দেবী_ঘাগরবুড়ি ঘাগরবুড়ির চণ্ডীমন্দির যে শুধু অতি প্রাচীন তাই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক অলৌকিক উপাখ্যান এবং কিংব...
31/07/2026

#লৌকিক_দেবী_ঘাগরবুড়ি

ঘাগরবুড়ির চণ্ডীমন্দির যে শুধু অতি প্রাচীন তাই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক অলৌকিক উপাখ্যান এবং কিংবদন্তি

*********

সে আজ প্রায় ৫০০ বছর আগেকার কথা। আজকের আসানসোল মহানগর তখন ধূ ধূ করা মাঠ এবং আসান গাছের জঙ্গল (আসান হচ্ছে এক ধরনের বৃহৎ উদ্ভিদ, যার ছাল ফুটো করলে বেরোয় প্রচুর সুমিষ্ট পেয় জল আর সল হচ্ছে রাঢ় বাংলার ডাঙ্গাল জমি। তবে দুঃখের বিষয়, এখন আর আসানসোলে আসান গাছ দেখা যায় না, যদিও তামিলনাড়ু ও দক্ষিণ ভারতে পাওয়া যায়।)

জনমানবহীন প্রান্তরে এক-আধটি বাড়ি, দু-তিনটি বাড়ি নিয়ে একেকটি ক্ষুদ্র গ্রাম। এই ছন্নছাড়া গ্রামগুলোতে যজমানি করতেন এক গরীব ব্রাহ্মণ - কাঙালীচরণ চক্রবর্তী। প্রতিদিন তখনকার নুনিয়া নদী(আজকের শীর্ণকায়, খাল সদৃশ, নুনিয়া নয়) পেরিয়ে ওধারের গ্রামগুলিতে যেতেন পুজো অর্চনা করতে, আবার পদব্রজে নদী পেরিয়ে ফিরে আসতেন নিজ বাটিতে। এইভাবেই বহুকষ্টে দিন গুজরান করতেন। কিন্তু তবুও তো সংসার চলে না। এরকমই এক শীতের দিনে - দিনটি ছিল ১লা মাঘ, যজমানের ঘরে পুজো করে সেদিন কিছুই পাওয়া যায়নি। নুনিয়া নদী পেরিয়ে এসে ক্ষুধা তৃষ্ণায় ক্লান্ত কাঙালীচরণ এক গাছতলার শীতল ছায়ার নীচে শুয়ে পড়লেন। কাতর ভাবে ডাকতে লাগলেন মা চণ্ডীকে।

কাঁদতে কাঁদতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ কীসের আওয়াজে ধড়মড়িয়ে উঠে বসলেন। এই জনহীন প্রান্তরে কে যেন লাঠি ঠুক ঠুক করে আসছে না? বুঝতেই পারেননি যে এত বেলা হয়ে গেছে। যখন জেগে ছিলেন তখন সূর্যদেব মাথার ওপরে ছিলেন, আর এখন প্রায় অস্তাচলে। কিন্তু বাঁশের লাঠির ঠুক ঠুক ছাড়া তো আর কোনো শব্দও শোনা যাচ্ছে না। নুনিয়া নদীর গর্জনও থেমে গেল কী করে, আশ্চর্য!

একি ! দিনের আলো তো এখনও আছে, অথচ কিছুটা জায়গা একদম অন্ধকার কেন? তবুও তো সেই অন্ধকারের মধ্যে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে - এক ঘাগরা পরিহিত বুড়ি ঠুক ঠুক করতে করতে বাঁশের লাঠি নিয়ে উনার দিকেই তো এগিয়ে আসছেন। সেই বুড়ি কিছু না বলে কাঙালীচরণের সামনে এসে দাঁড়ালেন। কাঙালীচরণের চোখ যেন ঝলসে গেল, সারা শরীর দিয়ে যেন বিদ্যুৎ ঝলক বয়ে গেল। ব্যস, আর কিছু মনে নেই। ঘুমের অতলে ডুবে গেলেন। ঘুমের মধ্যেই দেখলেন সেই বুড়িকে আবার। পরিষ্কার শুনতে পেলেন – ‘তোর আর উঞ্চবৃত্তির দরকার নেই, তোর কোলেই দেখবি তিনটি ছোট পাথরের ঢিবি রেখে এসেছি। মাঝখানে আমি - মা ঘাগরবুড়ি, আমার বাঁয়ে মা অন্নপূর্ণা, ডাইনে পঞ্চানন মহাদেব। এইখানেই মন্দির প্রতিষ্ঠা কর, আর কোথাও যেতে হবে না।’

মা ঘাগরবুড়ির আদেশে মন্দির প্রতিষ্ঠা হয় ১৬২০ সালে।এই পাথরের ঢিবিগুলিকেই ফুল এবং রুপোর গয়নায় সাজানো হয়।আর সেই ১৬২০ সালের ১লা মাঘকে স্মরণ করে প্রতি বছর মন্দিরের সামনের মাঠে বসে ঘাগরবুড়ি চণ্ডীমাতার মেলা। আসানসোল মহকুমা যেমন কয়লা ও ইস্পাত শিল্পের জন্য বিখ্যাত তেমনি বিভিন্ন জাগ্রত দেব-দেবীর আর্শীবাদ পুষ্ট ও মহিমা মন্ডিত। আসানসোল শহরের উত্তরে ক্লেদবাহী শীর্ণকায় নুনীয়া নদীর তীরে অধিষ্টিতা রাঢ় বাংলার জাগ্রত দেবী মা শ্রীশ্রী ঘাঘর বুড়ি।

সবই তো হলো! কিন্তু কে এই ঘাঘর বুড়ি? কি ভাবে এখানে প্রতিষ্ঠিতা হলেন? ইতিহাস বলছে কাশিপুর মহারাজার রাজ্য সীমানা ছিল আসানসোল পর্য়ন্ত। জমি জমার পুরানো রেকর্ড থেকে (সি এস) দেখা যায় তদনীন্তন কাশীপুর মহারাজের নাম।

প্রমান্য তথ্য থেকে জানা যায় বহু প্রাচীন কাল থেকে চলছে অনাচ্ছাদিত মন্দিরে, গাছ তলায় পুজা হয়ে আসছে মা ঘাঘর বুড়ির। (বর্তামানে নির্মিত মনোরম মন্দির)। ইনি দেবী শ্রীশ্রী চন্ডী। কোন মূর্তি নেই। শুধু তিনটি শীলা। ঘাঘর শব্দের অর্থ হল – ঝাঁজ বাদ্য ও ঘুঙুর। পুরানে দেব-দেবীর বিভিন্ন পুজা পদ্ধতির উল্লেখ আছে- তার মধ্যে নৃত্য গীত-বাদ্য সহকারে বহু দেবীর পূজার প্রচলন ছিল।

মায়ের মন্দির সংলগ্ন এলাকাটি আদিবাসী অধ্যুষিত। অতীতে যে মায়ের পূজা নৃত্য-গীত-বাদ্য সহকারে হত সেবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। ঘাঘর শব্দের আরেকটি অর্থ হল নদী। নুনীয়া নদীর দক্ষিন তীরে মায়ের মন্দির- এমনও হতে পারে- যে এই জন্যই দেবী চন্ডীর এখানে নাম হয়েছিল ” ঘাঘর বুড়ি”।

🔸 তথ্যসহায়তা : পেজ 'মাতৃশক্তি' এবং Durgapur City. Com

✍️ সংকলন, সম্পাদনা :- ©® লেখক সেন মহাশয়







💫 অনলাইন ডিজিটাল প্লাটফর্ম :- টিম মাতৃশক্তি - MATRI SOKTI

🌺জোড়াসাঁকো কালীবাড়ি🌺******************************************জোড়াসাঁকো—আজ যেখানে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মানুষের ভিড়ে সরগরম, ...
30/07/2026

🌺জোড়াসাঁকো কালীবাড়ি🌺

******************************************

জোড়াসাঁকো—আজ যেখানে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মানুষের ভিড়ে সরগরম, একসময় তা ছিল অরণ্যে ঘেরা এক নির্জন ভূমি। তখন যাতায়াতের ভরসা ছিল মাত্র দুটি কাঠের সাঁকো। চিৎপুরের পুরনো এই পথ কাশীপুর হয়ে সোজা গিয়ে মিলত কালীঘাটে। কিন্তু সেই পথে ছিল ভয় আর সন্ত্রাসের ছায়া—ডাকাতদের আনাগোনা প্রবল, আর তাঁদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল মা কালীর পূজা। সেই সময়, এক বিশাল বটবৃক্ষের ছায়াতলে, আজকের ভবতারিণী মা বিরাজ করতেন—যাঁকে আরাধনা করত ওই ডাকাতরাই।

একদিন ধর্মপ্রাণ শ্রীধর ভট্টাচার্য কালীঘাটের পথে রওনা দিলেন, মা-কে দর্শনের উদ্দেশ্যে। ঝুঁকিপূর্ণ পথের কথা জানলেও সংকল্পে টলেননি। আশঙ্কা সত্যি হল—পথে তিনি ডাকাতদের হাতে ধরা পড়লেন। কিন্তু সেদিন মা কালী যেন নিজেই রক্ষা করলেন তাঁকে। প্রাণহানি তো দূরের কথা, ডাকাতদের অপ্রত্যাশিত সৌজন্য দেখে বিস্মিত হলেন শ্রীধর। ডাকাত সর্দার জানালেন—পূর্বরাতে মা ভবতারিণী স্বপ্নে এসে বলেছেন, “তোর বয়স হয়েছে, এবার আমার সেবা এক ব্রাহ্মণের হাতে ছেড়ে দে। কাল এই পথে যে ব্রাহ্মণ কালীঘাট যাবে, তার হাতে আমার পূজোর দায়িত্ব দে।”

মায়ের আদেশ মান্য করে ডাকাত সর্দার সেই মুহূর্তে শ্রীধরের হাতে পুজোর ভার অর্পণ করলেন। আর দেরি না করে শ্রীধর বটগাছতলেই প্রতিষ্ঠা করলেন মা ভবতারিণীকে। সেদিন থেকে যে পূজা শুরু হয়েছিল, তা আজও বংশ পরম্পরায় শ্রীধর ভট্টাচার্যের উত্তরপুরুষেরা ভক্তি আর নিষ্ঠায় পালন করে আসছেন।

মন্দিরটি কালীকৃষ্ণ স্ট্রিট ও রবীন্দ্র সরণির সংযোগস্থলে একেবারে রাস্তার ওপর অবস্থিত। গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশন থেকে ১০ মিনিটের হাঁটা পথ।

তথ্যঋণ-সমূদ্র বসু

#কালীকথা
#কালীক্ষেত্রকলকাতা
#ঠনঠনিয়াকালীবাড়ি
#ব্যতিক্রমীপুজো

Address

Samabaya Nagore
Chinsurah

Telephone

+917595930426

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মাতৃশক্তি - MATRI SOKTI posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share