মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI

মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI, Hindu temple, samabaya nagore, Chinsurah.
(2)

বাংলার সনাতন শক্তিক্ষেত্র এবং কালীক্ষেত্র সম্পর্কে সঠিক দিশা দেখানো আমাদের উদ্দেশ্য।
তাই বাংলার সনাতন কালীক্ষেত্র সম্পর্কে জানতে আমাদের পেজ এবং গ্রূপ লাইক ও ফলো করুন।

বিনীত :-
মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI
পেজ অ্যাডমিন

আজ বুদ্ধপূর্ণিমা। শ্রী শ্রী গন্ধেশ্বরী মাতার বাৎসরিক পূজা। এই বিশেষ দিনে আজকের বিশেষ প্রতিবেদন :-***********************...
01/05/2026

আজ বুদ্ধপূর্ণিমা। শ্রী শ্রী গন্ধেশ্বরী মাতার বাৎসরিক পূজা। এই বিশেষ দিনে আজকের বিশেষ প্রতিবেদন :-
**********************************************

দেবী গন্ধেশ্বরী আদিপরাশক্তি মা মহামায়া দুর্গার-ই এক রূপ বিশেষ। চতুর্ভূজা এই দেবী গন্ধেশ্বরীর ধ্যান মন্ত্রে বলা হয়েছে -

'দুর্গা দুর্গতিহারিণী ভবতু নঃ।'

অর্থাৎ , 'হে দেবী, আপনি আমাদের নিকট দুর্গতিহারিণী দুর্গাস্বরূপা। দুর্গতিহারিণী দুর্গা রূপে আপনি আমাদের দুঃখ বিনাশ করুন।'

দেবী দুর্গা ও গন্ধেশ্বরী উভয়েই সিংহবাহিনী ও অসুরমর্দিনী। দেবী গন্ধেশ্বরীর ধ্যানমন্ত্র অনুযায়ী তিনি সিংহারূঢ়া, ললাটে চন্দ্রকলাশোভিতা , মরকত মণিতুল্য প্রভাময়ী, চারি হস্তে শঙ্খ, চক্র, ধনুর্বাণ ধারিনী, ত্রিনয়না, কেয়ূর- রত্নহার- বলয় – শব্দায়মান চন্দ্রহার ও নূপুর পরিহিতা। তিনি উজ্জ্বল কর্ণকুণ্ডল ধারিনী। এই দেবী আমাদের সমস্ত রকম দুর্গতি নাশ করেন।

মা গন্ধেশ্বরী মূলতঃ বৈশ্য বণিক শ্রেনীর দ্বারা আরাধিতা। গন্ধবণিকগণ এই দেবীর পূজা প্রচলন করেন। বৈশাখী পূর্ণিমাতে বাণিজ্যে শ্রীবৃদ্ধির জন্য বৈশ্য বণিক সম্প্রদায় এই দেবীর আরাধনা করেন।গন্ধবণিক সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা আজকের এই পুজোর দিনে তাঁদের হিসাব খাতা এবং ওজন পরিমাপের যন্ত্র দেবী গন্ধেশ্বরীর সামনে সাজিয়ে রাখেন। দেবী গন্ধেশ্বরীর আশীর্বাদ নিয়েই সারা বছরের ব্যবসার শ্রী ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয় এই দিনে।

❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤

গন্ধবণিক হল মূলত বাঙালি হিন্দু বণিক সম্প্রদায় যারা মূলত গন্ধ দ্রব্যের ব্যবসা করে থাকেন। গন্ধ দ্রব্য যেমন বিভিন্ন সুগন্ধি প্রসাধনী, সুগন্ধি ধূপ, চন্দন, সুগন্ধি মশলা ইত্যাদি। চৈনিক পর্যটক ফা-হিয়েন গন্ধবণিক সম্প্রদায়কে হিন্দু বণিক সম্প্রদায় বলেই উল্লেখ করেন। এই গন্ধবণিক সম্প্রদায়ের কূলদেবী হলেন দেবী গন্ধেশ্বরী। প্রতিবছর বৈশাখী পূর্ণিমাতে গন্ধবণিকেরা মা গন্ধেশ্বরী দেবীর পূজো করেন। দেবী গন্ধেশ্বরী মাতৃশক্তির প্রতীক। গন্ধবণিকরা প্রথমে শৈবধর্মের উপাসক অর্থাৎ শিবের উপাসক হলেও পরবর্তী কালে তাঁরা শক্তির উপাসক হয়ে ওঠে।

প্রাচীনকালে এই বণিকরা ময়ূরপঙ্খী নৌকা ভাসিয়ে বাণিজ্যে যেতেন। পথে যেমন ঝড়, বৃষ্টি, বন্যা ইত্যাদির আশঙ্কা ছিল তেমনই ডাকাত ও বন্য জীবজন্তুর ভয়ও ছিল। এই সব রকমের বিপদ আপদ থেকে দেবী গন্ধেশ্বরী তাঁদের রক্ষা করবেন - তাঁদের এই বিশ্বাস থেকেই শুরু হয় মা গন্ধেশ্বরীর পুজো। সমস্ত ভয়, সমস্ত দুর্গতি থেকে রক্ষা করেন মা দুর্গতিনাশিণী, ভয়হারিনী অভয়া মা গন্ধেশ্বরী। তাই বণিক শ্রেনী এই দেবীর আরাধনা করেন। 'গন্ধাসুর' নামক এক ডাকাত এর হাতে বণিকেরা প্রায়শঃই তাঁদের ধন সম্পত্তি হারাতেন। পরবর্তী কালে বণিক শ্রেনীগন মা গন্ধেশ্বরীর পূজার প্রচলন করেন। মা গন্ধেশ্বরী এই ডাকাতকে বধ করেন, ফলে বণিকেরা নির্ভয়ে তাঁদের বাণিজ্য যাত্রা করতে পারতেন। মা গন্ধেশ্বরীর পূজা প্রচলনের পেছনে এমনই একটি লৌকিক কাহিনীর জনশ্রুতি আছে। দেবী নানান অলঙ্কার ধারন করেন- যা এই বাণিজ্য মারফৎ উৎকর্ষতা বা শ্রীবৃদ্ধির প্রতীক। দেবী মরকতবর্ণা। তপ্তকাঞ্চন ও মরকতের বর্ণ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ বাণিজ্য দ্বারা বণিক শ্রেনীর উন্নতি তথা অর্থ-সম্পত্তি প্রাপ্তির প্রতীক। দেবী মহাশক্তিধারিণী তাই বলশালী সিংহ দেবীর বাহন।

🌼❤🌼❤🌼❤🌼❤🌼❤🌼❤🌼❤🌼❤🌼❤

গন্ধকে বলা হয় পঞ্চভূতের ক্ষিতি তত্ত্বের সমষ্টিগত রূপ বা পৃথিবী। গন্ধেশ্বরী মাতা ও পৃথিবী মাতা একই। গন্ধের যিনি ঈশ্বরী তিনিই 'গন্ধেশ্বরী'। গন্ধ হল পৃথিবীর একটি গুণ।

১)ব্যোম তত্ত্বে হল শুধু শব্দ।

২) মরুৎ তত্ত্বে হল শব্দ+স্পর্শ।

৩) তেজঃতত্ত্বে হল শব্দ+ স্পর্শ +রূপ।

৪) অপঃতত্ত্বে হল শব্দ+স্পর্শ +রূপ+রস।

৫) ক্ষিতিতত্ত্বে হল শব্দ+স্পর্শ +রূপ+রস+গন্ধ।

অর্থাৎ,পঞ্চভূতের পূজা করাই হল দেবী গন্ধেশ্বরীর আরাধনা।

পৃথিবীতে বণিক সমাজ এই পঞ্চভূতের পণ্যরূপ নিয়েই ব্যবসা বাণিজ্য করেন। এই বাণিজ্য করার সময় ভুল বশত যদি কোনো পাপ কর্ম করে ফেলা হয়, তবে সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা হয়ে যায় এই গন্ধেশ্বরী পূজার মাধ্যমে। গন্ধবণিক সমাজে অনেক সেবামূলক কর্মযজ্ঞ আছে।

🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸

শ্রী শ্রী চণ্ডী তে আদিশক্তি পরমেশ্বরী দেবীগনে পরিবৃত হয়ে যখন শুম্ভ-নিশুম্ভ অসুরের সাথে যুদ্ধ করছিলেন,তখন শুম্ভ দেবীকে ক্রুদ্ধ হয়ে বলে,
"হে অহঙ্কারী ! তুমি অন্য দেবীদের সাহায্য নিয়ে যুদ্ধ করে চলেছ। অতি মানিনী হয়ো না।"

তা শুনে মা মহাশক্তি বললেন,
"একৈ বাহং জগত অত্র দ্বিতীয়া কা মমাপরা।" -

আমি ছাড়া এ জগতে দ্বিতীয় কে আছে ? দেখো এরা সবাই আমার শক্তিমাত্র। তাই এরা সবাই আমার মধ্যে লীন হচ্ছে। এরপর সকল দেবী মূল আদি শক্তির মধ্যে বিলীন হলেন।

শাক্তমতে এর তাৎপর্য হল এই যে , ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রতীয় মান হলেও তত্ত্বতঃ সব কিছুই মহাশক্তির বহিঃপ্রকাশ। আরও একটি তথ্য পাই যে, সকল দেবীই এক ও অভিন্ন মা মহাশক্তি হতে সৃষ্ট, নির্গত হয়েছেন।

মনসা, চণ্ডী, ষষ্ঠী, শীতলা , বনদুর্গা , বহুচেরা, মহগ্রতারা, প্রজ্ঞা পারমিতা সহ ভারত ও অভারতীয় পূজিত বা অধুনা বিস্মৃত দেবীকুল এক ও অভিন্ন আদিশক্তি থেকেই জাত হয়েছেন।

দেবী গন্ধেশ্বরীও তার ব্যতিক্রম নন। সিংহবাহিনী , ত্রিনয়নী, চতুর্ভুজা , শঙ্খ ,চক্র , ধনুর্বাণ ধারিণী - এই দেবী বণিক কুলের কুলদেবী।

হিন্দু-বৌদ্ধ নির্বিশেষে তাঁর পূজা এককালে বঙ্গীয় বণিক দের নানা শাখায় অনুষ্ঠিত হত বৈশাখ মাসের বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন। বাংলাদেশের পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে অন্যান্য হিন্দু দেব দেবীর সাথে দেবী গন্ধেশ্বরীরও একটি মূর্তি আছে।

🌸❤🌸❤🌸❤🌸❤🌸❤🌸❤🌸❤🌸❤🌸❤

🌼 মা গন্ধেশ্বরীর ধ্যানঃ-

"ওঁ সিংহস্থা শশিশেখরা মরকতপ্রেক্ষা চতুর্ভির্ভুজৈ।
শঙ্খং চক্র- ধনুঃশরাংশ্চ দধতী নেত্রৈস্ত্রিভিঃ শোভিতা ।।
আমুক্তাঙ্গদহার- কঙ্কণরণৎ- কাঞ্চীক্কণন্নূপুরা ।
দুর্গা দুর্গতিহারিণী ভবতু নো রত্নোল্লসৎকুন্ডলা ।।"

🌼 মন্ত্রঃ- ওঁ মায়া বীজ দুর্গাবীজ দুর্গায়ৈ নমঃ।

মা দুর্গারই ভিন্ন রূপের প্রকাশ করলেন এই দেবী গন্ধেশ্বরী। ইনি ধন-সম্পদ রক্ষা করেন। মা লক্ষ্মী আমাদের ধন- সম্পত্তি- ঐশ্বর্য প্রদান করেন। কিন্তু সেই ধন- ঐশ্বর্য রক্ষা করতে হবে। তাই মা মহামায়া দেবী গন্ধেশ্বরী রূপে প্রকট হয়েছেন। ধন যিনি প্রদান করেন, ধনের রক্ষাও তিনিই করেন। দেবী গন্ধেশ্বরী বৈশ্য বণিকদের পূজিতা। কারন বণিকরাই মূলত ব্যবসা বানিজ্য করেন।

❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤

🌼 পৌরাণিকী :-

"প্রতিবৎসর বৈশাখী পূর্ণিমাতে প্রত্যেক গন্ধবণিকের গৃহে শ্ৰীশ্ৰীগন্ধেশ্বরী দেবীর পূজা হইয়া থাকে।

এই গন্ধেশ্বরী দেবী সাক্ষাৎ ভগবতী দুর্গা। চতুর্ভূজা, সিংহবাহিনী মূৰ্তিতে তিনি গন্ধেশ্বরী দেবী রূপে আবিভূর্তা হইয়া গন্ধাসুরকে বধ করেন। সেই কারণে এই দেবীর নাম গন্ধেশ্বরী হয়।

সুভূতির ঔরসে ও তপতী-নাম্নী রাক্ষসীর গর্ভে 'গন্ধাসুর' মহাদেবের বরে ত্রিভুবনবিজয়ী ও মহাবলশালী হইয়া জন্মগ্রহণ করেন। সুভূতি বৈশ্যকন্যা সুরূপাকে হরণ করিতে গিয়া বৈশ্যগণ কর্তৃক অপমানিত, তিরস্কৃত ও হৃতসৰ্ব্বস্ব হয় । পিতার সেই অপমানের প্রতিশোধ লইবার জন্য গন্ধাসুর বৈশ্যবংশ ধ্বংস করিতে প্রবৃত্ত হয়। তাঁহার অনুচরগণ একদিন সুবর্ণবট নামক এক বৈশ্যকে বধ করিলে, তাঁহার পূর্ণগর্ভা পত্নী চন্দ্রাবতী গর্ভস্থ শিশুকে রক্ষা করিবার নিমিত্ত অরণ্যে প্রবেশ করেন। পথশ্রমে ক্লান্ত হইয়া তিনি অরণ্য-মধ্যে একটি কন্যা প্রসব করিয়া মৃত্যু মুখে পতিত হন। সৰ্ব্বজ্ঞ মহর্ষি কশ্যপ ধ্যানযোগে চন্দ্রাবতীর গর্ভে দেবী বসুন্ধরার অংশাবতার জন্মগ্রহণ করিয়াছেন অবগত হইয়া তাঁহাকে স্বকীয় আশ্রমে আনয়নপূর্ব্বক কন্যানিৰ্ব্বিশেষে প্রতিপালন করিতে লাগিলেন। গুণজ্ঞ মহর্ষি সেই দিব্য সৌরভময়ী কন্যার নাম রাখিলেন- "গন্ধবতী"।

“যৌবনোন্মুখী গন্ধবতী পিতার নিধন ও অরণ্য মধ্যে মাতার শোচনীয় মৃত্যুর কারণ অসুরগণের বিনাশকামনায় মহামায়ার তপস্যায় প্রবৃত্ত
হইলেন।”

গন্ধাসুর গন্ধবতীর অলৌকিক রূপ লাবণ্যের কথা জানিয়া গন্ধবতীকে লাভ করিবার নিমিত্ত সসৈন্যে তাঁহার আশ্রমে উপনীত হইল। কিন্তু অসুরের চাটুবাদ বা ভীতিপ্রদর্শনে সেই তপোনিমগ্না গন্ধবতীর ধ্যানভঙ্গ হইল না। তখন ক্রুদ্ধ অসুর সবলে গন্ধবতীর কেশাকর্ষণ করিল, কিন্তু অসুরতেজ পরাভূত হইল, গন্ধাসুর সেই তপ:কৃশা পঞ্চমবর্ষীয়া বালিকাকে যোগাসন হইতে বিচলিত করিতে পারিল না।

“গন্ধবতী বিচলিত হইলেন না বটে, কিন্তু তদীয় হোমকুণ্ডস্থ বহ্নিরাশি বিচলিত হইল। সহসা সেই বিচলিত বহ্নিরাশি হইতে এক দিব্য তেজ সমুত্থিত হইয়া সমস্ত তপোবনকে দুর্ণিরীক্ষ্য প্রতাপপুঞ্জে উদ্ভাসিত করিল। অসুরপতি বিস্মিত ভীত ও মুগ্ধপ্রায় হইয়া সভয়ে কেশমুষ্টি পরিত্যাগ করিয়া বিদ্যুৎবেগে সুদূরে গিয়া দণ্ডায়মান হইল :

অত্যুৎকট জ্যোতির প্রভাবে সসৈন্যে অসুররাজ ক্ষণকালের জন্য অন্ধীভূত হইলেন। অনন্তর দৃষ্টি প্রসন্ন হইলে দেখিলেন বিদ্যুৎ-তুল্য প্রতাপময়ী সিংহবাহিনী চতুর্ভূজা এক নারীমূৰ্তি হোমকুণ্ড-সমীপে গন্ধবতীর পুরোভাগে দন্ডায়মান রহিয়াছেন। আর গন্ধবতী স্বকীয় গলদেশে উত্তরীয়-বল্কল অৰ্পণ করিয়া আনতনয়নে সেই দেবদুর্লভ শ্রীপাদপদ্মের অপূৰ্ব্ব সৌন্দৰ্য্যরাশি দর্শন করিতেছেন।”

অসুর তৎক্ষণাৎ দেবীর সহিত যুদ্ধে প্রবৃত্ত হইল। ঘোরতর যুদ্ধের পর দেবী শূলাঘাতে অসুরের প্রাণ বিনাশ করিলেন ও তাহার প্রকাণ্ড দেহ সমুদ্ৰ-মধ্যে নিক্ষেপ করিলেন। দেবীর ইচ্ছায় সেই দেহ গন্ধদ্রব্যের আকর-ভূমি গন্ধদ্বীপরূপে পরিণত
হইল।

অনন্তর ভগবান ব্রহ্মা, বিষ্ণু প্রভৃতি দেবগণের সহিত মিলিত হইয়া দেবীর যথাবিধি পূজা করিলেন। গন্ধাসুর-নাশিনী দেবী "গন্ধেশ্বরী" নামে ত্রিভুবনে বিখ্যাত হইলেন। বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে ভগবতী গন্ধেশ্বরী মূৰ্তিতে প্রকাশিত হইয়া গন্ধাসুরকে বিনাশ করিয়াছিলেন। সেই হেতু গন্ধবণিকগণ অদ্যপি বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে দেবী গন্ধেশ্বরীর পূজা করিয়া থাকেন।"
– ( মহানন্দীশ্বর পুরাণ )

🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼

গন্ধেশ্বরী দেবীর আরোও একটি উপাখ্যান আছে, তাঁহা ভবপুরাণে দেখিতে পাওয়া যায়। তাঁহাতে গন্ধবতীর কোনোও উল্লেখ নাই এবং গন্ধাসুরের বধের কারণও অন্যরূপে বর্ণিত আছে। সেই উপাখ্যান-ভাগ এইরূপ :-

“গন্ধাসুর নারদের মুখে দেবীর অলৌকিক রূপ লাবণ্যের কথা শ্রবণ করিয়া মোহিত হয়ে পড়েন এবং উহাকে পত্নীরূপে লাভের আশা করিয়া আশুতোষের কৃপাপ্রার্থী হইয়া কঠোর তপস্যা আরম্ভ করেন। ভগবান প্রসন্ন হইলে, গন্ধাসুর শিবস্বারূপ্য-বর প্রার্থনা করে। আশুতোষ অসুর-রাজের অভিলষিত বরই অর্পণ করিলেন । অসুর বরপ্রাপ্তিমাত্র রজতগিরিনিভ চারুচন্দ্রাবতংশ দিব্য শৈব মূৰ্তি পরিগ্রহ করিলেন। কিন্তু প্রকৃতিতে সেই অসুর-ভাবই অক্ষুণ্ণ রহিল। তখন অসুর মহাদেবের পরোক্ষে কৈলাসে গমন পূৰ্ব্বক দাক্ষায়ণীকে প্রার্থনা করিল। দেবী অসুরের দুরাশা দেখিয়া মনে মনে হাস্য করিয়া যুদ্ধে তাঁহার প্রাণ বিনাশ করিলেন। দেবীর ইচ্ছায় গন্ধাসুরের দেহ গন্ধমাদন পৰ্বতরূপে পরিণত হইল। দানবের ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ হইতে ভিন্ন ভিন্ন গন্ধদ্রব্যের উৎপত্তি হইয়াছিল। অনন্তর দেবগণ কর্তৃক দেবী পূজিত হইয়া "গন্ধেশ্বরী" নামে বিখ্যাত হইলেন।”

❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤

অপর একটি পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, তারকাসুরের বধের নিমিত্ত হরগৌরীর বিবাহের প্রয়োজন হইলে, তারকাসুর মায়াবলে সমস্ত গন্ধ-দ্রব্য অপহরণ করেন । ভগবান শিব তখন দেশদাস, শঙ্খভূতি ও বিষটগুপ্ত - এই গন্ধবণিক সহোদর ভ্রাতাদিগকে গন্ধদ্রব্য-সংগ্রহের জন্য আদেশ করেন। সত্ৰীশ আশ্রমের আদিপুরুষ বিষটগুপ্ত পরম শিবভক্ত ছিলেন। নারদের উপদেশে তিনি ভগবতী গন্ধেশ্বরীর পূজা করিলে, দেবী তাঁহার প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন পূর্বক তাহাকে দর্শন দেন ও অপহৃত গন্ধদ্রব্যগুলি দেখাইয়া দেন । বিষটগুপ্ত দেবী গন্ধেশ্বরীর দর্শন লাভ করিয়া তাঁহার স্তোত্র পাঠ করেন।"
-----(গন্ধবণিক, বৈশাখ,সংখ্যা তৃতীয়, কষ্টিপাথর)

🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼

বর্তমানে এই গন্ধেশ্বরী মাতার পূজা হয় ভক্তের মনে শক্তি জোগানোর জন্য যাতে বাণিজ্য বুদ্ধি বৃদ্ধি পায়, প্রধানত ক্রয়-বিক্রয় বাড়ে এবং আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি পায়, তার সাথে চাহিদা ও সরবরাহের সামঞ্জস্যও ঠিকঠাক থাকে। সঞ্চয় এবং ব্যয়- এর সামঞ্জস্য যাতে বজায় থাকে এবং
ব্যবসায়িক শুভবুদ্ধির যেন উদয় হয়।

🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼

🌼 দেবী গন্ধেশ্বরীর মন্দির,গন্ধেশ্বরী ঘাট, বাঁশবেড়িয়া, হুগলি,পশ্চিমবঙ্গ:-

গঙ্গার পাড়ে কয়েকশো বছরের পুরনো এই শহরের প্রাচীন নাম অবশ্য বংশবাটী। খামারপাড়া, শিবপুর, বাঁশবেড়িয়া এবং ত্রিবেণি এই চার অঞ্চল নিয়ে গড়ে ওঠে এই শহর। চুঁচুড়া, চন্দননগর, বলাগড়, গুপ্তিপাড়া, পাণ্ডুয়া, পোলবা ছাড়াও বর্ধমান এবং গঙ্গার উল্টোদিকে নদিয়া, কল্যাণী, কাঁচরাপাড়া এবং হালিশহর থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন এই দেবী গন্ধেশ্বরীর মন্দির দর্শনের জন্য। ব্যান্ডেল থেকে ৪ কিমি দূরের বাঁশবেড়িয়ায় আসা যায় ট্রেনে। হাওড়া থেকে সোজা ট্রেনে করেই আসা যায় বাঁশবেড়িয়ায়। ট্রেনে চুঁচুড়ায় এসে সেখান থেকেও বাসে বা মিনিবাসে আসা যায় এখানে। শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে নৈহাটি এসে গঙ্গা পেরিয়ে চুঁচুড়া হয়েও আসা যায়। থাকার জন্য বাঁশবেড়িয়া পুরসভার অতিথিশালাও আছে।

দেবী গন্ধেশ্বরীর পূজার দ্রব্য – প্রতিমা, পুরোহিত বরণ ১, সিন্দুর, পঞ্চগুঁড়ি ,পঞ্চগব্য, পঞ্চশস্য, পঞ্চরত্ন, পঞ্চপল্লব, ঘট ১, কুন্ডহাঁড়ি ১,তেকাঠা ১, দর্পণ, অধিবাসের ডালা, তীর ৪, সশীষ ডাব ১, একসরা আতপ তন্ডুল, তিল, হরিতকী, পুষ্প ৮, কুচা নৈবেদ্য ১, পুষ্পমাল্য, বিল্ল্বপত্রমাল্য, গন্ধেশ্বরীর শাটী ১, শিবের ধুতি ১, নারায়ণের ধুতি ১,অসুরের ধুতি ১, জয়ার শাটী ১, চণ্ডীর শাটী ১, বিজয়ার শাটী ১, লক্ষীর শাটী ১, চাঁদমালা ১, উপকরণাদি, মিষ্টান্ন, ঘটি ১, শঙ্খ, সিন্দুরচুবড়ি ১, ভোগের দ্রব্যাদি, বালি, কাষ্ঠ, ঘৃত ১ পোয়া, হোমের বিল্ল্বপত্র ২৮, পানের মশলা, পূর্ণপাত্র ১, আরতি, দক্ষিণা।

🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼

"গন্ধেশ্বরী নমস্তুভ্যং ভক্তাভীষ্টপ্রদায়িনী ।
নমস্তুভ্যং জগন্মাতঃ ভোগাপবর্গসাধিকে ।।"

🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼

©® কপিরাইট :- টিম মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI, পোস্ট টি গতবছর গন্ধেশ্বরী পুজো উপলক্ষে পেজে প্রকাশিত হয়েছিল। আজ গন্ধেশ্বরী পুজো উপলক্ষে পুনঃপ্রকাশিত হলো আরো একবার [ভাল লাগলে শেয়ার করুন, দয়া করে কপি পেস্ট করবেন না]


⚜️ চিত্রঋণ:- শ্রী কৌশিক বন্দোপাধ্যায় [ছবিতে দর্শন করুন উত্তর কলকাতার ঠনঠনিয়া অঞ্চলের মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটে অবস্থিত গন্ধেশ্বরী মন্দির এর মা গন্ধেশ্বরী বিগ্রহকে। জয় মা গন্ধেশ্বরী]

⚜️ কপিরাইট ✍️ :- টিম মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI

তারাপীঠের সচল শিব শ্রীবামার মহাতীর্থ কালীঘাট এর কালিকা দর্শন :-************🌸                 জগদীশ্বরী উগ্রতারিণীর আদরের...
30/04/2026

তারাপীঠের সচল শিব শ্রীবামার মহাতীর্থ কালীঘাট এর কালিকা দর্শন :-
************

🌸 জগদীশ্বরী উগ্রতারিণীর আদরের ধন শ্রীবামাচরণ।মহাপীঠ তারাপীঠ থেকে যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের অনুরোধে এসেছেন মহানগরী কলকাতায়,এবং অবস্থান করছেন যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের মরকতকুঞ্জে।তারাপীঠ ভৈরবকে দেখতে শয়ে শয়ে মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে,এসব দেখে তাঁর মন অস্থির হয়ে উঠেছে।শ্মশান প্রেমিক ভৈরবাবধূতের এই জনবহুল মহানগরী,প্রাসাদ এসব কিছুই ভালো লাগছে না,তারাপীঠে ফিরে যাওয়ার জন্য তিনি অস্থির হয়ে উঠলেন শিশুর ন্যায়।

🌸 এই প্রসঙ্গে উত্তরকালে,তিনি তাঁর জনৈক মন্ত্রশিষ্যকে বলেছিলেন,"বাবা!তুমাদের কলকেতা সাহেব বাবাদের বুজরুকি,আগুনে জাহাজ,আগুনে গাড়ী,কত লোক,কত টাকা,কত বাড়ী কিন্তু তারামা তথাই নাই"।

🌸 যাইহোক,যে কাজের জন্য তিনি এসেছেন সেই কাজ শেষ এবার তিনি তারামায়ের রাজ্যে ফিরে যেতে পারলেই বাঁচেন।কিন্তু বামকে ছাড়তে নারাজ মহারাজা,তিনি বাবাকে সিদ্ধপীঠ কালীঘাটে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেন।মাতৃদর্শনের লোভে শিশুর মতোই সব ভুলে গেলেন আত্মভোলা ক্ষ্যাপাবাবা।আগে থেকেই কালীঘাট দর্শনের সমস্তরকম ব্যবস্থাপনা করে রাখলেন মহারাজ।

🌸 পরদিন সকালে তাঁরা ঘোড়ার গাড়িতে চেপে চলেছেন মহাতীর্থ কালীঘাটের উদ্দেশ্য,বামাক্ষ্যাপা বাবা জুড়িগাড়িতে চেপে কলকাতার পথ ঘাট,ঘরবাড়ী,গাড়ি ইত্যাদি দেখে শিশুর ন্যায় আনন্দ করছেন আর মহারাজকে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন করে চলেছেন।তিনিও সশ্রদ্ধচিত্তে যথাসাধ্য উত্তর দিচ্ছেন।তারাপ্রেমাবতার শ্রীবাম এখন কালীপ্রেমে উচ্ছ্বসিত।যথাসময়ে তাঁরা এসে পৌঁছলেন বঙ্গেদেশের কালীক্ষেত্র তথা বঙ্গেশ্বরী শ্রীমদ্দক্ষিণাকালিকার শ্রীপদপ্রান্তে।সত্যযুগে এই মহাপীঠে ভগবতী সতীদেবীর দক্ষিণ চরণের চারটি পদাঙ্গুলি পতিত হয়েছিল।এই মহাপবিত্র স্থলে মহাদেবী সদাজাগ্রতা পরমেশ্বরী দক্ষিণাকালী তন্ত্রান্তরে গুহ্যকালী রূপে এবং ভগবান শঙ্কর নকুলেশ্বর ভৈরব রূপে নিত্য বিরাজিত।এই পীঠ ব্রহ্মানন্দ গিরি,আত্মারাম ব্রহ্মচারী,শ্রীশ্রীলোকনাথ বাবা,শ্রীরামকৃষ্ণদেব,মহাত্মা বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী,শ্রীমৎ রামঠাকুর,যোগীরাজ রামনাথ অঘোরীবাবা প্রমুখ সিদ্ধ মহাপুরুষদের সাধনা এবং পদধূলিতে ধন্য হয়েছে।

🌸 যাইহোক,শ্রীবামদেব মহেশ্বরকে দেখতে তৎকালীন মায়ের সেবায়েত তথা হালদার বংশের সকলেই সপরিবারে উপস্থিত।তাঁরা সকলেই প্রণামাদি করলেন,তীর্থযাত্রীরাও বামের দর্শনের জন্য উদগ্রীব।মন্দিরের গর্ভগৃহে সাধারণের প্রবেশ তখন নিষেধ,তাই চারিদিক জনতা শূন্য।কিন্তু মায়ের কাছে সকল সন্তানের সমান অধিকার রয়েছে এই তত্ত্ব বোঝাতেই বাবা জানালেন,যে তিনি সকল সন্তানদের সাথেই মাতৃদর্শন করবেন। তাঁর আদেশে যথারীতি সকলের জন্য মাতৃদর্শন অব্যাহত রইলো।বামাক্ষ্যাপা বাবা গর্ভগৃহে এসে দাঁড়ালেন মায়ের সামনে।তাঁর তারাগ্রামের জয় জয় তারা নাদধ্বনিতে কালীর মন্দির প্রকম্পিত হলো।অপলক দৃষ্টিতে তিনি মাকে দেখছেন,হৃদয়সমুদ্রে ভক্তিলহরী উতলে উঠেছে।আরক্তিম নয়নদ্বয়ে বইছে পরমানন্দের অমৃতধারা,ভাবস্থ অবস্থায় শুরু হলো বাবার দিব্যাচারে মায়ের পূজা।মায়ের চিরন্তন ক্ষ্যাপাছেলে বামদেব ভাবাবিষ্ট হয়ে বলে উঠলেন"এই যে আমার কালী মা,আহা রূপের কি ছটা,মাথায় আবার মোহিনী জটা,যেমনি লকলকে জিভ,তেমনি টানা টানা চোখ জ্বলজ্বল করছে।তুই কাদের মেঁয়্যা বটিস?চল তুকে তারামার কাছে কোলে করে লিয়ে যাই।তুই যাবি তো?বেশ বেশ তবে চল ক্যানে"।আত্মবিস্মৃত বামদেব মা মা বলে স্নেহবাৎসল্যে ত্রিলোকজননী মা কালীর পাষাণময়ী শ্রীবিগ্রহকে কোলে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করতেই বাধা দিল সেবাইতরা।স্পর্শ করতে দিলেন না নিত্যশুদ্ধ-বুদ্ধ মুক্ত চৈতন্যরূপিণী পরব্রহ্মময়ী মা কালীর বিগ্রহ।কারণ সেসময়ের নিয়ম ছিল সেবাইত ভিন্ন আর কেউই ব্রহ্মচৈতন্য স্বরূপা মা দক্ষিণাকালীর বিগ্রহ স্পর্শ করতে পারবে না।তাঁরা দিব্যাচারী অবধূতের অন্তরের ভাব বুঝতে অক্ষম।

🌸 সহসা!বামাক্ষ্যাপা বাবার দিব্যদৃষ্টিতে মায়ের সেই স্নেহময়ী রূপ ও ভাব মিলিয়ে গেল।বহির্নয়নে তাঁর ভেসে উঠলো মায়ের বিকট রূপ ও কঠিন মুখমন্ডল বিচ্ছেদ হলো তাঁর দিব্যভাবের।এবার ভৈরব বামদেব বাবা ভীষণ ক্রোধিত হয়ে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে বলতে লাগলেন"চাই না তোদের রাক্ষুসী কালীকে,যেমন কেলে রূপ তেমনি লকলকে জিভ যেন গিলতে আসছে।আহা,আমার তারামার যেমন ছোট্ট জিভ তেমন রূপের ছটা,মাথায় আবার মোহিনী জটা,পা দুখানি খুরখুরে।চাই না তোদের রাক্ষুসী জিভে কেলা মুন্ডমালীকে।আমার তারামাই ভালো।তুই পেঁচি দরকার নাই তুর যেয়ে"।মুহুর্তের মধ্যে মন্দিরের পরিবেশ গম্ভীর হয়ে উঠলো।উপস্থিত সকলেই ভীত ও সন্ত্রস্ত,উপস্থিত হালদারেরা তথাকথিত সেবাইতদের ভৎর্সনা করলেন,সেবাইতরাও নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে বাবার চরণে ক্ষমা চাইলেন ও মাকে স্পর্শ করার অনুরোধ করলেন।কিন্তু নিরভিমানের যত অভিমান তো তাঁর চিরন্তনী মায়েরই উপর।কারণ অন্তর্যামী যে জানেন যে মা-ই বাধা দিয়েছেন ওদের মাধ্যমে।তাই তিনি আর মাতৃমূর্তি স্পর্শ না করেই ধীর,স্থির,অচঞ্চল,শান্ত পদক্ষেপে মন্দির থেকে বেরিয়ে এলেন।

🌸 তারপরে পীঠভৈরব শ্রীনকুলেশ্বর মহাদেবকে দর্শন ও স্বহস্তে অভিষেক,পূজাদি করে বিশেষ আনন্দিত হলেন।নকুলেশ্বর শিবমন্দিরে অবস্থান রত সাধক বিপিন ব্রহ্মচারীকে তিনি অধ্যাত্মপথের কিছু নিগূঢ় উপদেশ দিয়ে তাঁকে কৃপা করেন এবং কেওড়াতলা শ্মশানে কিছুসময় অতিবাহিত করে আবার সদলবলে ফিরে এলেন রাজা যতীন্দ্রমোহনের মরকতকুঞ্জে।এভাবেই সেদিন সাঙ্গ হলো তারামায়ের ক্ষ্যাপাছেলের কালীঘাটের কালী দর্শন।উপরোক্ত তথ্যপূর্ণ ঘটনাটি কালীঘাটের মায়ের তৎকালীন প্রবীন সেবাইত কানাই হালদার মহাশয় এবং গ্রহরাজ মন্দিরের প্রবীণ সেবাইত পঞ্চানন ঠাকুর ১৯৭৪ সালের ১১সেপ্টেম্বর মহাসাধক শ্রীবিপুলকুমার গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয়কে বলেছিলেন।


🔸 তথ্যসূত্র- বিশিষ্ট লেখক শ্রী বিপুল কুমার গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয় প্রনিত "মহাপীঠ তারাপীঠ" গ্রন্থ।

🔸 সৌজন্যে :- #দশমহাবিদ্যা পেজ।

🔸 ছবিঋণ :- Writesh Karan

🔸 অনলাইন ডিজিটাল প্লাটফর্ম :- টিম মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI

তাঁরামায়ের পাগল ছেলে শ্রীবামের পোস্তের বড়া খাওয়া-------তারাপুরের বুকে বর্ষা নেমেছে,কয়েকদিন ধরেই প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে।...
30/04/2026

তাঁরামায়ের পাগল ছেলে শ্রীবামের পোস্তের বড়া খাওয়া-------

তারাপুরের বুকে বর্ষা নেমেছে,কয়েকদিন ধরেই প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে।মাঠ ঘাট সব জলে একাকার,আত্মভোলা শিবকল্প মহাপুরুষ বামদেব তাঁর সর্বস্বময়ী তারামায়ের এই প্রাকৃতিক লীলা দেখছেন নিজ আশ্রমে বসে।তারামার ভাবে তিনি বিভোর হয়ে রয়েছেন।

হঠাৎ,সেই সময় তারামন্দিরের এক পাণ্ডা এসে বামদেবকে বললেন"ক্ষ্যাপাবাবা পোস্তের বড়া খাবে?"পোস্তের বড়া বামদেবের ভীষণ প্রিয় তার ওপরে বৃষ্টির দিন,তাই সহজেই তিনি রাজী হয়ে গেলেন,এবং শিশুর মতো উত্তর দিলেন"হ,খাবো বাবা।

"বড়ার লেগে আটআনা পয়সা দাও ক্যানে,বড়া লিয়ে আসছি"বললেন সুযোগ সন্ধানী সেই পাণ্ডাটি।
ক্ষ্যাপাবাবার আশ্রমের মধ্যে একটি লোহার সিন্ধুকের পাশে মাটির হাঁড়িতে পাঁচ সাত টাকার মতো খুচরো টাকাপয়সা সবসময় থাকে,আর প্রণামী বাবদ বেশী টাকাপয়সা লোহার সিন্ধুকে থাকে।তার চাবি কখনো বামদেব নিজের কাছে রাখেন কখনো থাকে পাণ্ডাদের কাছে।এই চাবি পাওয়ার জন্য পাণ্ডাদের মধ্যে প্রতিযোগীতা চলে।সর্বজ্ঞ শ্রীবাম সবই জানেন তাই যে পাণ্ডার অভাব বেশী তাঁকেই চাবি রাখতে দেন,তখন সে পাণ্ডা বামদেবের ওপর খুব খুশি হন আর অন্য পাণ্ডাগণ বামদেবকে রেগে গিয়ে গালাগালি দিতে থাকে।আবার কিছুদিন পরে সেই পাণ্ডার আর্থিক উন্নতি হবার পর একটা ছুতো করে শ্রীবাম সেই স্বচ্ছল পাণ্ডার থেকে চাবিটি নিয়ে অপর অভাবী পাণ্ডাকে চাবিটি দেন।তখন সেই স্বচ্ছল পাণ্ডাটি বাবাকে অকথ্য গালিগালাজ করতে থাকে।দিনের পর দিন এইভাবেই চলতে থাকে কিন্তু পরমপুরুষ শ্রীবামদেব এসব গ্রাহ্যই করেন না।সেই বিষয়ী পাণ্ডারা এতটাই হতভাগ্য যে তাঁরা শিবস্বরূপ শ্রীবামের কাছে আধ্যাত্মিক ঐশ্বর্য্য না নিয়ে তাঁকে ঠকিয়ে ভক্তশিষ্যদের প্রণামী তথা তুচ্ছ জাগতিক ঐশ্বর্য্য নিতে চায়।

শিবাবতার বামদেব হলেন কল্পতরু তাই যে যা চান,তাঁকে কৃপা করে তাই দেন।যাইহোক,পোস্তের বড়ার জন্য জনৈক সেবায়েতটি আটআনা চাওয়ায় ক্ষ্যাপাবাবা ঘরের ভেতর সেই হাঁড়ির দিকে দেখিয়ে বললেন"ওখান থেকে লিয়ে যাও বাবা।"সেই পাণ্ডাটি খুশি মনে তাঁর যা দরকার অর্থাৎ ইচ্ছেমতো টাকা পয়সা নিয়ে চলে গেলেন।অথচ সর্বত্যাগী বামদেব তাঁর দিকে একবার ফিরেও দেখলেন না সে কত টাকা নিয়ে গেল।কিছুক্ষণ পর সে এসে মোট চারটি পোস্তের বড়া এনে দিলেন।লীলাময় বামদেবত সেটিই তারামাকে নিবেদন করে সানন্দে খেতে লাগলেন।সেই সময় পোস্তের সের ছিল দশপয়সা(দু'আনা পয়সা)তাই আটআনায়(বত্রিশ পয়সায়)প্রায় সোয়া তিনসের পোস্ত হয় এবং সেই পোস্ততে যে কত বড়া হবে তার অনুমান সহজেই করা যায়।কিন্তু জনৈক পাণ্ডা চারটি পোস্তর বড়া দিয়েই তাঁর কর্তব্য সারলো।অন্তর্যামী বামদেব সব জেনে বুঝেও আকাশের মতো উদার করুণা নিয়ে তাঁকে হাসিমুখে ক্ষমা করলেন।

পরমপুরুষ শ্রীবামকে অনেকেই এভাবে ঠকিয়েছেন,এমনকি দৈহিক ও মানসিক অত্যাচার অব্দি করেছেন।কিন্তু কৃপাময় বামদেব তাঁদের বারবার ক্ষমা করে গেছেন।কারণ তিনি ক্ষমা না করলে যে এঁদের গতি নেই।সেজন্য পরবর্তীতে বামাক্ষ্যাপা বাবার মহাপ্রয়াণের পরে অনেকেই অনুশোচনায় চোখের জলও ফেলেছেন।উপরোক্ত ঘটনাটি ১৩৮০ সালের ২৩শে ফাল্গুন বৃহস্পতিবার বামদেবের কৃপাধন্য শিষ্য তথা নিত্য সেবক শ্রীনগেন্দ্রনাথ বাগচী(নগেন দাদু)তারাপীঠে স্বমুখে মহাসাধক শ্রীবিপুলকুমার গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয়কে বলেছিলেন।

*************************************************


🔸 সোর্স - বিপুল কুমার গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয় এর "মহাপীঠ তারাপীঠ" গ্রন্থ।

🔸 পোস্ট কপিরাইট ✍️📸 ©® দশমহাবিদ্যা ফেসবুক পেজ

*************************************************

🔸 টিম মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI

 াত্র_১০_টা_দিনের_অপেক্ষা !!!আর তারপরেই  #প্রাণের_শহর_কোন্নগর এ আসছেন  #রাজরানী_শকুনতলা[ এই পুজো মাত্র এক রাতের। সূর্যের...
30/04/2026

াত্র_১০_টা_দিনের_অপেক্ষা !!!

আর তারপরেই #প্রাণের_শহর_কোন্নগর এ আসছেন #রাজরানী_শকুনতলা

[ এই পুজো মাত্র এক রাতের। সূর্যের মুখ দেখেন না মা শকুনতলা, তাই সূর্যাস্তের পর মাকে মূল গর্ভগৃহে আনা হয়, এবং সূর্যদয়ের আগেই মা চলে যান কৈলাসে। আবারো ফিরে এসেছে এক রাতের সেই পুজোর মুহূর্ত। এক ঝলকে দেখে নিন মায়ের প্রস্তুতি থেকে বিসর্জন এর কিছু খন্ডচিত্র ]

ছবিগুলো : ২০২৪ সনের

সমস্ত ছবির কপিরাইট ®® সান্তনু দা Santanu Boral

এখন শুধু কটা দিন অপেক্ষার পালা....

মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI

আজ অমানিশায় মায়ের মহাপুজো,আজ মঙ্গলবার  হরিণডাঙ্গা রক্ষাকালী মায়ের বাৎসরিক পুজো :-***************************************...
28/04/2026

আজ অমানিশায় মায়ের মহাপুজো,আজ মঙ্গলবার হরিণডাঙ্গা রক্ষাকালী মায়ের বাৎসরিক পুজো :-
*************************************************

🌸 ডায়মণ্ড হারবার শহরের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত "হরিণডাঙার রক্ষাকালী পুজো" শুধুমাত্র ডায়মণ্ড হারবার শহরেরই নয়, সমগ্র দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সবচেয়ে বড়ো ও সবচেয়ে ঐতিহ্যশালী রক্ষাকালী পুজো। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাইরেও এই পূজার যথেষ্ঠ পরিচিতি ও সুনাম আছে। স্বর্ণালংকারে ভূষিতা ঘন কৃষ্ণবর্ণা বরাভয়দাত্রী দ্বিভুজা দেবীমূর্তি অতীব জাগ্রতা বলে কথিত। তাই অত্যন্ত নিষ্ঠাভরে প্রচুর পশুবলি সহ এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শুধু হরিণডাঙাই নয়, সমগ্র ডায়মণ্ড হারবার শহরের বহু মানুষ এই পুজাকে কেন্দ্র করে আনন্দে মেতে ওঠেন। দূরদূরান্ত থেকেও বহু মানুষের আগমন ঘটে এখানে। ©® সেন মহাশয়

🌸 নীলরতন মণ্ডলের লেখা 'ডায়মণ্ড হারবারের আঞ্চলিক ইতিহাস' বইটির ৮৯ ও ৯০ পৃষ্ঠায় পাওয়া যায় হরিণডাঙার এই সুপ্রাচীন রক্ষাকালী পূজার এক চমকপ্রদ ইতিহাস। নিম্নে তা বর্ণনা করা হল... ©® সেন মহাশয়

'রাসেল সাহেবের বর্ণনা থেকে জানা যায়, ১৭৩৭ সালের ৩০শে ডিসেম্বর এই ডায়মণ্ড হারবার শহরের ওপর দিয়ে এক প্রবল বন্যা আর ঝড় বয়ে যায়। ঝড়টা প্রথমে শুরু হয় বঙ্গোপসাগর থেকে। ঝড়ের গতি ছিল যেমন প্রবল তেমনই ছিল তার সঙ্গে জলের পাল্লাও। পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে নদীর জল ১৫ ইঞ্চি বেড়ে যায়। ঝড়টা সমুদ্র থেকে উঠে ৬০ লিগ পর্যন্ত দূরবর্তী স্থানে প্রবাহিত হয়। এর সঙ্গে আবার ভূমিকম্পও ছিল। প্রায় ২০ হাজার জাহাজ, বোট, জেলেডিঙি, নৌকা, ভড়, ইত্যাদি নষ্ট হয়ে যায় এই দুর্যোগে। বহু সংখ্যক পাখির ও গৃহপালিত জন্তর মৃতদেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। দেশে এই দুর্যোগের পর মহামারি দেখা দেয়। তখন এইরকম মহামারির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আর গ্রামের মঙ্গলের জন্য রক্ষাকালীর পূজার প্রচলন হয় এখানে। সেই সময় থেকে আজও রক্ষাকালীর পূজার প্রচলন আছে (লোককথা)। ©® সেন মহাশয়

🌸 কোন্নগর শকুনতলা কালীপুজোর মতোই এক রাত্রের এই পূজায় প্রচুর পশুবলি হয়। আর সারারাত ধরে চলে বিভিন্ন শব্দবাজির খেলা। একদিনের এই পূজার আনন্দে মেতে ওঠে সারা গ্রাম। এই পূজার মতো এত মানুষের সমাগম আর অন্য কোনো আশেপাশের গ্রামে হয় না।' ©® সেন মহাশয়

🔸 #পথনির্দেশ- কলকাতা থেকে ডায়মন্ডহারবার গামী বাসে উঠে আমতলা পেরিয়ে ফতেপুর স্টপেজে নেমে টোটো করে হরিণডাঙা।

🔸 পুজোর সময়- বৈশাখ মাসের নির্দিষ্ট একটি শনি অথবা মঙ্গলবার [এই বছর আজ মঙ্গলবার ২৮/০৪/২৬ মায়ের মহাপুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে মহাসমারহের সাথে]

✍️ তথ্যকৃতজ্ঞতা :- ড. সমুদ্র বসু।

📸 এই বছরের মায়ের ছবি হরিণডাঙ্গা শ্রী শ্রী ঁরক্ষা কালী পূজা অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রূপের সৌজন্যে।

সংকলন ও সম্পাদনা :- লেখক

©® কপিরাইট :- সেন মহাশয়

🔸 অনলাইন ডিজিটাল প্লাটফর্ম :- টিম মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI

সম্প্রতি আমাদের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্রমোদীজী তাঁর উত্তরবঙ্গ সফরে এসে 'হ্যান্টা কালী' এবং 'মনোস্কামনা কালী' র কথা উল্লেখ...
26/04/2026

সম্প্রতি আমাদের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্রমোদীজী তাঁর উত্তরবঙ্গ সফরে এসে 'হ্যান্টা কালী' এবং 'মনোস্কামনা কালী' র কথা উল্লেখ করেছেন এবং তার পরেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এই দুই মায়ের সম্পর্কে জোড় চর্চা শুরু হয়েছে। কে এই হ্যান্টা কালী এবং মনোস্কামনা কালী। আসুন উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি :-
*************************************************

🌸 মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যেই পড়ে হ্যান্টা কালীর মন্দির। প্রধানমন্ত্রীর মুখে মালদহের এই প্রাচীন মন্দিরের কথা শুনে খুশি ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অশোক সাহা। তিনি আবার একথাও জানিয়েছেন যে, প্রাচীন এই মন্দিরের সঙ্গে বহু মানুষের আস্থা জড়িয়ে আছে। এমনকী দেশে বা দেশের বাইরেও এই মন্দিরের পরিচিতি রয়েছে।

🌸 "জয় মা মনষ্কামনা, জয় মা হ্যান্টা কালী", , গত শনিবার বঙ্গ সফরে এই দুটি নাম বলেই বক্তব্য শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, আদৌ হ্যান্টা কালী নামে কেউ আছেন? নাকি উচ্চারনে ভুল করে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী? বিরোধী দল তৃণমূলের কিছু সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলেও এই চর্চা হতে দেখা যায়। হ্যান্টা কালীর অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলে তৃণমূল।

🌸 সেদিন মালদহের বুকে দাঁড়িয়ে হ্যান্টা কালীর নাম নিয়েছিলেন মোদী। মালদহে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, কয়েক’শ বছর আগের এক মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত কালীর নামই হ্যান্টা কালী। রয়েছে মা মনষ্কামনার মন্দিরও। দুটি মন্দিরই ৩০০ থেকে ৩৫০ বছরেরও বেশি পুরনো। হ্যান্টা কালী মন্দির এতটাই প্রাচীন যে তার শুরুর সময়কালও অনেকের জানা নেই। দেশ যে বছর স্বাধীন হয়, সেই ১৯৪৭ সালে নতুন করে মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু হয়।

🌸 তার আগে মালদহের চাঁচলের রাজা শরৎচন্দ্র এই পুজোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যেই পড়ে হ্যান্টা কালীর মন্দির। প্রধানমন্ত্রীর মুখে মালদহের এই প্রাচীন মন্দিরের কথা শুনে খুশি ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অশোক সাহা। তিনি আবার একথাও জানিয়েছেন যে, প্রাচীন এই মন্দিরের সঙ্গে বহু মানুষের আস্থা জড়িয়ে আছে। এমনকী দেশে বা দেশের বাইরেও এই মন্দিরের পরিচিতি রয়েছে।

🌸 বিজেপি শিবিরও বলছে, এই দুই মন্দিরের ইতিহাস অনেক প্রাচীন। বিজেপি নেতা জানান, এই হ্যান্টা কালীর মন্দিরের মধ্যে দিয়ে আগে সুড়ঙ্গপথ ছিল। পাশে বইত মহানন্দা। তারপাশে ঘন জঙ্গল। যাতায়াত করত ডাকাতরা। সেই সময়ই পুজো শুরু হয়, যা আজ এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। হ্যান্টা কালী মন্দিরের জন্য জায়গাটির নাম হ্যান্টা কালী মোড়। অন্যদিকে মনষ্কামনা মন্দিরের নামে রয়েছে মনষ্কামনা রোড।

🔸 প্রধানমন্ত্রীর মুখে উচ্চারিত এই দুই মায়ের সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য :-

১। হ্যান্টা কালী, ইংরেজবাজার, মালদা

💮 ন্যাশনাল হাইওয়ে-৩৪ এর উপর মালদা মেডিক্যাল কলেজের পাশে অবস্থিত দেবী হ্যান্টা কালীর মন্দির শহরের অন্যতম জনপ্রিয় মন্দির। এই মন্দির ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। মন্দিরে আধুনিকতার ছাপ দেখা যায়। দেবীর বিগ্রহ পিতলের, অন্তত পাঁচ ফুটের। দেবী চতুর্ভুজা, বেনারসি পরিহিতা। উপরের বাম হাতে খড়া, নিচের বাম হাতে কাটা মুণ্ডু; আর উপরের ডান হাত অভয় মুদ্রায়, নিচের ডান হাত বর মুদ্রায় শোভিত। দেবীর স্বর্ণমুকুট এবং স্বর্ণালঙ্কার বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মন্দিরের ভিতরে বেশ বড় একটি শিব মন্দিরও আছে। এছাড়া ভগবান রাধাকৃষ্ণ, রামসীতা, কালভৈরব, লক্ষ্মী-নারায়ণ ইত্যাদির বিগ্রহ আছে। প্রতি অমাবস্যায় দেবীর পুজো এবং অন্নকূট ভোগ নিবেদিত হয়। এছাড়াও নিষ্ঠা সহকারে হয় দেবীর বাৎসরিক পুজো উৎসব।

২। মনস্কামনা কালী, ইংরেজবাজার, মালদা

💮 মালদা স্টেশন থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বে শহরের প্রাণকেন্দ্র মনস্কামনা রোডে এই মন্দিরের অবস্থান। মন্দিরের নামানুযায়ী রাস্তার নামকরণ। আজ থেকে প্রায় তিনশো বছর আগে স্বাভাবিকভাবেই এই অঞ্চল ছিল জঙ্গলাকীর্ণ। কথিত, সেই সময় সিদ্ধায়ু পুরুষ তৈমুর লং স্বামী মনোস্কামনা মন্দির প্রাঙ্গণে ধ্যান করে দেবীর চণ্ডীরূপের দর্শন পেয়েছিলেন।

💮 পঞ্চরত্ব টেরাকোটা মন্দিরের আদলের গৌড়ীয় ইটের তৈরি এই মন্দির সেই সময়ের জমিদার তথা রাজার পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত। তবে সংস্কার পরবর্তীতে মন্দিরটির রূপ কিছুটা পরিবর্তিত। মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী আরাধ্যা দেবী এখানে যেন কালীঘাটের দেবীর ক্ষুদ্র প্রতিরূপ। কষ্টিপাথরের বিগ্রহের উচ্চতা আনুমানিক দুই ফুট। তবে বিগ্রহের পদতলে ভগবান মহাদেব অনুপস্থিত। দেবীর দুই পাশে আছে দুই খড়গ। পাশাপাশি মন্দিরের ভিতরে শিবলিঙ্গ রয়েছে।

💮 প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই মন্দিরের পাশের প্রাচীন মন্দিরটির উল্লেখ আছে মালদহ পুরাকীর্তি গ্রন্থে। সেখানে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, 'কথিত যে স্বর্ণাম গিরি এখানে একটি মন্দির ১২৪৫ বঙ্গাব্দে স্থাপন করেন'। বিশ্বম্ভর গিরি এখানে সাধনা করেছিলেন। শঙ্করাচার্য প্রবর্তিত দশনামী সম্প্রদায়ের গিরি সম্প্রদায় ভুক্ত সন্ন্যাসী ছিলেন উল্লিখিত ব্যক্তিরা।

💮 এছাড়া এই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ভগবান মনসা ও শিব ঠাকুরের মন্দির। কথিত, এখানে একটি সুড়ঙ্গ পুকুর পর্যন্ত গেছে। মন্দিরের ভিতর ভোগরান্নার ঘর আর অফিস ঘর আছে। দেবীর উদ্দেশ্যে, ভক্তরা মন্দিরের সামনে পাঁঠাবলি দিয়ে থাকে। জাগ্রত দেবী ভক্তদের করা মানত পূরণ করেন, তাই তিনি দেবী মনস্কামনা। ২০২৪ এর ডিসেম্বরে মালদার এই দেবী দর্শন করে আমার কালী পরিক্রমা শুরু হয়েছিল।

[ভাল লাগলে শেয়ার করে অন্যদের জানিয়ে দিন]

🔸 তথ্যসূত্র :-

TV9 বাংলা পোর্টাল
এবং
লেখক সমুদ্র বসুর আর্টিকেল।

🔸 ছবিপরিচিতি :-

ছবি : ০১ এবং ০২ :- হ্যান্টা কালী

ছবি : ০৩ এবং ০৪ :- মনোস্কামনা কালী

সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটির কপিরাইট ©® ✍️ লেখক শ্রী সেন মহাশয়। ওঁনার ফেসবুক প্রোফাইল সৌজন্যে প্রাপ্ত।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার :- সেন মহাশয়

💫 অনলাইন ডিজিটাল প্লাটফর্ম :- টিম মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI

রণবেশে হেসে হেসে ওই বামা এসেছেকরে অসি পদে শশী কী রূপসী সেজেছে...🌺।। বামা কালী ।।এখানে কোনো বৈদ্যুতিক আলো জ্বলে না, অন্ধক...
26/04/2026

রণবেশে হেসে হেসে ওই বামা এসেছে
করে অসি পদে শশী কী রূপসী সেজেছে...🌺

।। বামা কালী ।।
এখানে কোনো বৈদ্যুতিক আলো জ্বলে না, অন্ধকারে মোমবাতি জ্বলে সারা রাত, ওই গা ছমছমে পরিবেশে গায়ে কাঁটা দিতে বাধ্য।

শান্তিপুর, ২০২৫

©® সহেলি বিশ্বাস

মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI

 #বইকথা বঙ্গদেশে কালীকে নিয়ে ছড়িয়ে আছে হাজারো মাহাত্ম্য!বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত প্রাচীন কালীমন্দির গুলির ইতিহ...
25/04/2026

#বইকথা

বঙ্গদেশে কালীকে নিয়ে ছড়িয়ে আছে হাজারো মাহাত্ম্য!বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত প্রাচীন কালীমন্দির গুলির ইতিহাস পড়লে আজও সবাই রোমাঞ্চিত হয়।হাওড়া জেলার বর্ধিষ্ণু জনপদ পাঁতিহাল গ্ৰামে আছে তেমনিই এক কালীমন্দির।যে মন্দিরের ইতিহাস,দেবী মাহাত্ম্য,জনশ্রুতি ছড়িয়ে আছে দিকে দিকে।পাঁতিহাল গ্ৰামের মণ্ডলাকালী মন্দির,বাংলার অন্যতম ব্যতিক্রমী কালী।এই মন্দিরের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস ও দেবীর মাহাত্ম্যের কথা লিখেছেন এই সময়ের জনপ্রিয় তরুণ লেখক শ্রী শুদ্ধশীল ঘোষ মহাশয় । মাতৃ কথা সম্বলিত এই বই সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ করুন নিচের দেওয়া ঠিকানায় :-


বই : "মণ্ডলাকালীর ইতিবৃত্ত"

লেখক : শুদ্ধশীল ঘোষ Suddhasil Ghosh

প্রকাশক : উদয়ন পাবলিকেশন্স

মুদ্রিত মূল্য : ১৫০ টাকা

[ঘরে বসে বইটি সংগ্ৰহের জন্য যোগাযোগ করুন 7797002879 (শুধুমাত্র wattasap) নম্বরে।]

আনন্দময়ী কালী, রায়চৌধুরী জমিদারবাড়ি, বারুইপুর---------------------------------------------------------------------------...
25/04/2026

আনন্দময়ী কালী, রায়চৌধুরী জমিদারবাড়ি, বারুইপুর
------------------------------------------------------------------------------

কয়েকশো বছর আগের কথা। জমিদার রাজবল্লভ রায়চৌধুরী পেঁচাকুলি পরগনায় গিয়েছেন কাজে। জমিদার বাড়ি রাজবল্লভ ভবনে তখন কোনও পুরুষ নেই। সে খবর পেল ডাকাতরা। রাতে ডাকাত পড়ল জমিদার বাড়িতে। এই পরিবারের আরাধ্য দেবী মা আনন্দময়ী। ভক্তের ধনসম্পত্তি রক্ষা করতে ডাকাতদের সামনে কালী স্বয়ং এসে দাঁড়ালেন খড়্গ হাতে। চলে দিতে নির্দেশ দিলেন। কিন্তু রাতের অন্ধকারে দেবীকে চিনতে ভুল করলেন ডাকাতরা। দরজা ভেঙে লুঠতরাজ আরম্ভ করল তারা। তখন কালী নিজে হাতে গোটা ডাকাতদলকে হত্যা করেন। তারপর রাজবল্লভের স্বপ্নে এসে নিহত ডাকাতদের হাড়িকাঠের নীচে সমাধি দিতে নির্দেশ দেন। আর বলেন, রাজবল্লভ ভবনের সমস্ত দরজা খোলা রাখতে। আর কেউ কোনওদিন এ বাড়ির অনিষ্ট করতে পারবে না এটাও জানালেন। সেই থেকে রাজবল্লভ ভবনের সদর দরজা, খিড়কি সব সময় খোলা থাকে।

জমিদার রাজবল্লভ বারুইপুর রাস মাঠের উত্তর দিকে প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। এই ভবনের নাম দেন রাজবল্লভ ভবন। সোনারপুরের রাজপুর থেকে বারুইপুরে চলে আসার সময় ঠাকুর আনন্দময়ী ও কৃষ্ণকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। রাধাকে রেখে আসেন রাজপুরেই। পরবর্তীকালে সাধক আনন্দ গিরি আনন্দময়ীকে ভবনের মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দিরের পঞ্চমুণ্ডি আসনে বসে আনন্দ গিরি সাধন ভজন করতেন। আনন্দময়ী আসলে দক্ষিণাকালীর মূর্তি। এই পরিবারে প্রতি অমাবস্যায় ছাগ
বলি দেওয়ার রীতি।

মা খুব জাগ্রত। তন্ত্রের গুপ্ত মতে পুজো হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায় এই পুজো খুব কঠিন। যে পূজারি পুজো করেন তিনি নিজের বুক চিরে রক্ত দান করেন মাকে। সেই রক্ত ছাড়া পুজো সম্পূর্ণ হয় না। তারপরই মা সন্তুষ্ট হয়ে পুজো গ্রহণ করেন। জানা যায়, পুজোয় ছাগ মাংস, মদ, ওই রক্ত নিবেদন করার রীতি। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলে পুজো। ভাত, ডাল, ছ’রকমের ভাজা নিবেদন করা হয়। পুজো দেখতে ও মহাভোগ খেতে দূরদুরান্ত থেকে ভক্তরা ভিড় করেন।

💫 লেখা- সংগৃহীত।

💫 ছবিঋণ :- ড. সমুদ্র বসু।

💫 অনলাইন ডিজিটাল প্লাটফর্ম :- টিম মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI

Address

Samabaya Nagore
Chinsurah

Telephone

+917595930426

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মাতৃশক্তি। MATRI SOKTI posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category